• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • তিনদুয়ারী

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৫ মে ২০১৬ | ৫২১ বার পঠিত
  • বছর ছয়েক আগে ‘কৌরব’ পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি ‘যৌথকবিতা’ সংখ্যা প্রকাশ করা হবে ঠিক করা হয় এবং সেই সংখ্যায় লেখার জন্য আমিও ঘটনাচক্রে আমন্ত্রণ পাই। যৌথ কবিতা অর্থে, এক বা একাধিক কবি মিলে কোন এক কবিতা লেখা। যৌথ-কবিতা ব্যাপারটা খুব যুগান্তকারী কিছু না হলেও, নিদারুণ চর্চিতও নয় বাজারে। বিদেশী তাও কিছু কাজ হয়ে থাকলেও বাংলা কবিতায় আমার জানা মতে খুব একটা বিশাল কিছু চর্চা হয় নি। তো সেই অনুরোধ পেয়ে আমার এক প্রফেসরের কথা মনে পড়ে গেল – কারণ আমি ভাবতাম, প্রফেসরের সেই ব্যাখ্যার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভারতীয় হিসাবে ‘যৌথ’ ব্যাপারে ইতস্তত করা। আর বাংলাতে তো পরিষ্কার বারণই করে দেওয়া আছে ‘বিয়ে’ আর ‘ব্যবসা’ যৌথ ভাবে না করার!

    আমার সেই প্রফেসর প্রায়ই বলতেন আমরা ভারতীয়রা ভালো অর্কেষ্টা-য় সিদ্ধিলাভ করি নি - কারণ আমরা একসাথে কাজ করতে পারি না , বিশেষতঃ সেটা যদি আবার কোন প্রকার শিল্প সর্ম্পকিত ব্যাপার হয় । আমাদের উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পীরা সবাই প্রায় তাই একক ভাবেই বিখ্যাত - বড়জোর যুগলবন্দী , তাও অন্য বাদ্যযন্ত্রীর সাথে ! কত ইগো , কত ঘরাণার লড়াই !

    তবে সংগীত শিল্পেরর সাথে সাহিত্যের একটা মৌলিক পার্থক্যতো আছেই। এই যৌথ কবিতা লেখার প্রয়াসটা আমার ওই যুগল সংগীত পরিবেশনের কথাটাই মনে করাচ্ছে ! অথচ এটা তো নতুন কিছু নয় - আমরা বাঙালী ছেলেরা গোঁফ গজানোর বয়স থেকেই অন্ততঃ খেলার ছলেও কবিতা নিয়ে নাড়াচাড়া করি - এবং অনেক সময় স্কুল জীবনে বন্ধুরা মিলে কবিতা লিখে কোন স্পেশাল কাউকে ইমপ্রেশ করার চেষ্টা । আর আমাদের চর্যাপদ , মঙ্গলকাব্যের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম ! তাহলে এই প্রচেষ্টা কতটা আলাদা হবে ?

    এই সব ভাবছিলাম – আবার ভাবতে ভাবতে কিছু প্রশ্নও মনের মধ্যে এল - প্রথম প্রশ্ন কার সাথে লিখব ? চেনা কবি যদিও আশে পাশে আছে, কিন্তু বড় প্রশ্ন হল লেখার স্টাইল , ভাষা ব্যবহার পদ্ধতি যদি এক না হয় তাহলে তো যৌথ কবিতা পড়তে গিয়ে হোঁচট খেতে হবে - কবিতার ফ্লেভারটাই আসবে না ! চেনা গন্ডির মধ্যে দুই জন কবির কথা মনে পড়ল – একজন অর্ঘ্য (মেসবা আলম অর্ঘ্য) এবং অন্যজন অরিন্দমদা (অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়)। মজার কথা হল এদের সাথে আমার মুখোমুখি আলাপ নেই – কিন্তু এই নেটজগতের মাধ্যমে আলাপ সে প্রায় ১৫-১৬ বছর। অর্ঘ্য আদপে বাংলাদেশের ছেলে, কানাডায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা করে এখন সেখানেই চাকুরী করে স্থিত। ঢাকা কবিমহলে নতুন ধারার কবিতা লেখায় চেনা নাম এবং তিনটি কবিতার বইও বেরিয়ে গ্যাছে। এদিকে আরিন্দমদা আবার আমার বি ই কলেজের সিনিয়ার দাদা – চাকুরী সূত্রে বম্বে নিবাসী, পরবাস পত্রিকায় প্রায় নিয়মিত লিখে থাকে।
    অর্ঘ্য ও অরিন্দমদার সাথে লিখতে গিয়ে দুই একটা প্রশ্ন প্রথমে বাধার মত মনে হয়েছিল। আমাদের সবার লেখাই এক-দু বার করে কৌরবে প্রকাশিত হয়েছে । তাহলে কি আমরা সবাই কৌরব ঘরাণার - এবং তার জন্য কি আমাদের কবিতা সম্পর্কিত ভাবনা সমগোত্রীয়? এমনটা না হবার সম্ভবনাই বেশী – যেটা আমাদের মধ্যে কমন সেটা হল নতুনের পরীক্ষায় বিশ্বাস করা । আমি অরিন্দমদাকে এবং অর্ঘ্যকে ব্যাপারটা জানালাম – অর্ঘ্য অরিন্দমদার সাথে সরাসরি পরিচিত নয়। তাই আমাকেই মধ্যস্থতা করতে হবে ঠিক হল এবং আমরা চ্যালেঞ্জটা নিয়েই নিলাম – যে দেখাই যাক না কি হয় , লাইন বা স্ট্যাঞ্জা লেভেল সব পরের কথা !

    দ্বিতীয় প্রশ্নও স্বভাবিক ভাবে এলো - কি বিষয়ে লেখা হবে ? আমাদের তিন জনের কবিতা লেখার স্টাইল-ও কিন্তু অনেকটা আলাদা । অরিন্দমদা নিজে তালিম প্রাপ্ত গায়ক বলেই হয়ত ওর অনেক কবিতায় আমি যেন অর্ন্তনিহিত সুর-মুর্চ্ছনা শুনতে পেয়েছি – অনেক সময় ওর কবিতায় গানের সরাসরি উল্লেখও এসেছে । আবার অনেক সময় বিভিন্ন অপ্রচলিত বা স্থানীয় শব্দও কবিতায় সুন্দর ভাবে এনেছে । অন্যদিকে অর্ঘ্যর কবিতায় দূরহ শব্দের ব্যবহার কম । নিত্যব্যবহার্য শব্দ দিয়েই কেমন একটা অন্য জগতের সৃষ্টি করে ফেলা যায় , কেমন একটা আচ্ছন্নতা – সেটা অর্ঘ্যর কবিতায় প্রবল ভাবেই বর্তমান । আমার আর অর্ঘ্যর একটা বিষয়ে মিল আছে – সেটা হল পারিপার্শিক কে কেমন ভাবে দেখছি বা আমি নিজে তার সাথে কেমন ভাবে জড়িয়ে গেছি সেই গুলো কবিতায় নিয়ে আসা । অরিন্দমদাও এই ব্যাপারটা ওর মত করে ওর কবিতায় অনেকবার নিয়ে এসেছে । তো মনে হল এই আমাদের কমন পয়েন্টাই তাহলে এক্সপ্লোর করা যাক না !

    আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম যে আমরা চেষ্টা করব একটা নির্দিষ্ট সময়কে তিনজন তিন শহর থেকে কেমনভাবে দেখছি সেটা কবিতায় ধরার । একটা ভারতীয় শহর (বোম্বে) , একটা ইউরোপের (আমষ্টারডাম) আর অন্যটা কানাডার (অটোয়া) । ঠিক হল আমরা কিছুটা করে লেখা হলে শেয়ার করব এবং কিভাবে ইন্টারউইভ করব সেটা নিয়ে কথা হবে। আমি জানুয়ারী মাসের এক বিকেল-সন্ধে দিয়ে শুরু করলাম আমষ্টারডাম শহর নিয়েঃ

    “ফেরীঘাট পেরিয়ে ট্রাম লাইন ছুঁয়ে ফেলি অভ্যাসমত
    কখনও দেখা হওয়া অফিস শেষের চুমকি বসানো লালব্যাগ
    বা খয়েরী দস্তানা সরিয়ে শুভসন্ধ্যার চাপল্যে সাইকেল স্ট্যান্ড

    এরপর ফুটবল শেষে নিয়মিত বার সেই
    কৃষ্ণাঙ্গী সাজিয়ে যায় শীতল কাঠের টেবিলে ফেনাভ বিয়ার
    আমাদের আঙুলগুলি হিম সরিয়ে ছুঁতে চায় যেন
    বিগত বছরে কিংবা তারো আগে যখন একুশ ছিল
    আমি দেখি, কিছু লুব্ধ ষাট দ্যাখে কালো ফিতের ফাঁকে মোহময় মেদুরতা
    খালি গ্লাসের ফেরতে আরো পরে দেওয়া যায় সামাজিক চুম্বন”

    ওদিকে অরিন্দমদা বিকেলের বোম্বে দেখছে এই ভাবেঃ

    “সাড়ে চারটে
    ষ্ট্রবেরী-স্কুলবাসের রাস্তায়, চাবিওয়ালারা
    রৌদ্রে দেয়, এ্যাসফল্টে অসুখী-মুখের শব্দছক।
    কত তালা খোলা হয় পৃথিবীতে প্রতিদিন,
    তার পরিসংখ্যান কে দেবে ?

    সাড়ে পাঁচটা
    শ্রীমন্ত কি দেখছিল সেই জানে,
    মঙ্গলকাব্যের যুগে কলসেন্টার ছিল ?
    দশতলার থেকে,শান্ত ল্যাব্রাডর আত্মাগুলি, দেখা যায়,
    শরণ্যে, আতিথ্যে নত পারকিং। খঞ্জ সিগন্যাল ,অনড় ট্রাফিক
    সমস্ত অগ্রাহ্য করা ধোঁয়ারিং ,মেয়েটিকে দেখেছ কি আগে ?”

    অর্ঘ্যের কাছে অটোয়ার সন্ধ্যে এমন ভাবে ধরা দিচ্ছেঃ

    “চীনা ভাষা চিনা নাই আমার বাগানে ,
    পাখির ডাকের মতো লাগে
    ভান করি তবু কল্পণা করি সারা ক্ষণ -
    যেন চাতক পাখি চীনা

    নিহিত অপিনিহিতি নেহাত
    ঘর নাই -
    তাই ঢুকি এঘরে ওঘরে

    চীনা অক্ষর ছাদের নীচে ছড়িয়ে বসে ভাবি
    গান এরকমই !

    আমার কন্ঠে এক চাতক পাখি ডাকে

    ভারতীয় কালো শশী যখন ঝুঁকেছে
    ওলোন্দাজ কালো শশী যখন আমার পূর্ণিমা”।

    কিন্তু এই ভাবে শুধু লিখে গেলেই তো হবে না! লেখার পর সেটা ইন্টারুইভ ট্রায়ালও তো দিতে হবে! কারণ মূল কবিতা তো হবে একটাই আর সেখানে না আমরা আলাদা করে লিখব শহরের নাম বা লেখকের নাম! নিরবিচ্ছিন্ন এক কবিতা চাইছিলাম -

    এইভাবেই শেয়ার করা চলতে থাকল এবং তার সাথে বিভিন্ন ইন্টারউইভ ট্রায়ালও । দেখা গেল আমাদের প্রথম দিকের যে কনশার্নগুলি ছিল – সেটা অনেকটাই অমূলক । আমরা আমাদের লেখায় যেই স্থান থেকে লিখছি সেখানকার রেফারেন্স ঢোকাতে লাগলাম । তার থেকেও যেটা ইন্টারেষ্টিং সেটা হল আমরা একজনের লেখা থেকে কিছু কি-ওয়ার্ড সংগ্রহ করে সেটা নিজের মত করে এক্সপ্যান্ড করার চেষ্টা করলাম ।

    এইভাবেই আমরা লেখার চেষ্টা করছি । নীচে পুরোটাই দিলাম – বছর ছয়েক আগে কৌরবে প্রকাশিত হয়েছিল এই যৌথ কবিতা। জানিনা পাঠকদের কেমন লাগবে, তবে আমরা তিনজনই বিষয়টা উপভোগ করেছি । জায়গা সীমিত তাই কোন একসময় তো থামতেই হবে – না হলে ইচ্ছে ছিল, বেশ তো লাগছে - না হয় লিখেই চলি :)

    তিনদুয়ারী



    ফেরীঘাট পেরিয়ে ট্রাম লাইন ছুঁয়ে ফেলি অভ্যাসমত
    কখনও দেখা হওয়া অফিস শেষের চুমকি বসানো লালব্যাগ
    বা খয়েরী দস্তানা সরিয়ে শুভসন্ধ্যার চাপল্যে সাইকেল স্ট্যান্ড
    থেকে ব্লন্ড , আরো কত ক্যাথরিন
    আবার দেখা হবে কাল ট্রেডমিলে হয়ত বা বিকেলবেলা

    সাড়ে চারটে
    ষ্ট্রবেরী-স্কুলবাসের রাস্তায়,চাবিওয়ালারা
    রৌদ্রে দেয়, এ্যাসফল্টে অসুখী-মুখের শব্দছক।
    কত তালা খোলা হয় পৃথিবীতে প্রতিদিন,
    তার পরিসংখ্যান কে দেবে ?

    সাড়ে পাঁচটা
    শ্রীমন্ত কি দেখছিল সেই জানে ,
    মঙ্গলকাব্যের যুগে কলসেন্টার ছিল ?
    দশতলার থেকে ,শান্ত ল্যাব্রাডর আত্মাগুলি,দেখা যায়,
    শরণ্যে, আতিথ্যে নত পারকিং। খঞ্জ সিগন্যাল ,অনড় ট্রাফিক
    সমস্ত অগ্রাহ্য করা ধোঁয়ারিং ,মেয়েটিকে দেখেছ কি আগে ?

    আমার চারিদিকে আর্দ্র চরিত্রে
    মহাভারতীয় উপাখ্যান খুব সহজেই রচিত হয়ে যায় ওদেরও অজান্তে
    দ্রৌপদীর শরীরে জড়ানো ফার কোট কাঁচের ভিতর থেকে
    উষ্ণতার বিতরণে রাতের সঙ্গী চিনে নেয় কিংবা দুপুরের রোদে
    প্রশ্ন না জানেও মিলিত হওয়া যায় নিয়মিত ব্যবধানে দরজার সয়ম্বরে
    জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে আসে সূর্য কখনও কখনও
    তবে কোন নায়কের জন্ম হয় না এবং প্রথাগত সান্ধ্যভ্রমণে
    কুকুরও ক্রমশঃ বর্ণবিদ্বেষী হয়ে যায়

    সাতটা ,
    বড়-বড় ভলভো মাছগুলি উগরে দেবে পরীদের,
    অন্ধকার পথে,ততোধিক
    উষ্ণ, সানদ্র ,অন্ধকার গহ্বরের থেকে ,
    রিভার্সে কমলেকামিনী ,শো-টাইম ।

    এরপর ফুটবল শেষে নিয়মিত বার সেই
    কৃষ্ণাঙ্গী সাজিয়ে যায় শীতল কাঠের টেবিলে ফেনাভ বিয়ার
    আমাদের আঙুলগুলি হিম সরিয়ে ছুঁতে চায় যেন
    বিগত বছরে কিংবা তারো আগে যখন একুশ ছিল
    আমি দেখি , কিছু লুব্ধ ষাট দ্যাখে কালো ফিতের ফাঁকে মোহময় মেদুরতা
    খালি গ্লাসের ফেরতে আরো পরে দেওয়া যায় সামাজিক চুম্বন
    আমরা সকলেই জানি শেষ বিয়ারের অপেক্ষায় তাই
    মুখ্য ও গৌণ উদ্দেশ্যরা স্থান বদলাবদলি করলে
    শীতল কাঠের টেবিল ক্রমশঃ উষ্ণ হয়ে ওঠে



    চীনা ভাষা চিনা নাই আমার বাগানে ,
    পাখির ডাকের মতো লাগে
    ভান করি তবু কল্পণা করি সারা ক্ষণ -
    যেন চাতক পাখি চীনা
    নিহিত অপিনিহিতি নেহাত
    ঘর নাই -
    তাই ঢুকি এঘরে ওঘরে
    চীনা অক্ষর ছাদের নীচে ছড়িয়ে বসে ভাবি
    গান এরকমই !

    আমার চীনা ভালোবাসা ভিভিয়ান
    ফিরে গ্যাছে উত্তরে - অনেক দিনের শীতে আলাপ হয়ে যায়
    ম্যেসেঞ্জারে - ভালো আছে আপাত নতুন শহরে
    নতুন উইকএন্ডের সঙ্গী , এবার কি তবে নোঙরের পালা !
    সেই আমাদের সৈকত , কাঠের সিঁড়িতে ভিজে ঠোঁট
    অ্যালবাম থেকে ধূলো সরে গেলে সবুজ টবেতে রাখা ক্যাকটাস
    নিয়মিত সংশ্লেষ পেতে চায়

    তার ঠোঁটে সারল্য আর তারপর রোদ্দুর উঠেছে
    বৃষ্টি শেষে দেখিরঙীন জামার দোকানে
    আমি দেখতে থাকি আকিঁবুকি , কিছু ছড়ানো পেনসিল্‌
    সাদা কালো স্কেচে ওই চার্চের ঘড়িতে কেমন জড়ানো সময়
    ভারতীয় কালো শশী যখন ঝুঁকেছে
    ওলোন্দাজ কালো শশী যখন আমার পূর্ণিমা

    শুনবো না আর ভ্রষ্ট গীর্জার উলুধ্বনি ,
    সতীত্বের কোমর বন্ধনি,তত প্রাসঙ্গিক নয়,
    আমরা আজকাল সহজেই ,একে অন্যের মধ্যে ঢুকে যাই,
    জামরঙ-ভরা বাটি ,নতজানু অক্ষর-প্রয়াসী, কালোশশী বনে
    ভারতবর্ষের রোদ মুঠো করে বসতে গিয়ে,কতবার বিপন্ন তরুণী
    চাবিওয়ালারা ,শুধু সকালের দিকে বসে ।

    সেই দোকানী , সেই চাবিওয়ালা শুধু রোদ্দুর মাখায় না
    স্কোয়ারে ভেসে আসা পায়রার দল কতই তো রক্তাভ হাত

  • থেকে দানা নিয়ে যায় - চাবিওয়ালা দ্যাখে ম্যাগাজিন সরিয়ে
    কিরণ এসেছে কখন তারই দোরগোড়ায়
    এখানে তবু পরী নামে না
    তাদেরই বসতি যেখানে কার্ণিশোপরে লাল আলো
    নিভে আসে ভোরবেলা , ক্লান্ত পালকের দল পাখি চায়
    দ্যাখো চেয়ে - কতই তো ব্যবহৃত হাত ব্রেকফাষ্ট সারে

    ক্যানেলের ধারে কেউ গড়েনি কলসেন্টার
    কাঠের বর্গা উঁচু সিলিংয়ের সাথে কিছু নাবিক
    কিছুটা শত বছরের আগে ওজনঘর কাঁচের জানালায়
    পরীদের ছায়া দ্যাখে - বসতি এবং সময় থমকায়
    দোকানী বদলে গ্যাছে চাবিওয়ালা জানে
    কিরণের সাথে তার আলাপ অনেকদিনের



    আমার বাড়ি ফেরা সেই পথে
    অগোছাল সেই পথে - বৃষ্টি শেষ হয়নি এখনো
    কফিশপের ক্লান্ত ধোঁয়ায় লাল সাইকেলে ইলশেগুঁড়ি
    ফিকে সবুজ হাতে কিছু ট্যাটু ভক্তের দল
    ঝুঁকে আসা টেবিলে চুমুক দিতে চায় গত রাতে - কি জানি হয়ত
    কোণের মেয়েটির সারল্যে ভিজে যাবে ঠোঁট এমনি সময়
    বেহালাবাদকের খুচরো জমে যায় রোজকার
    জমে যায় জানি এই হিমে কোণে বসা মেয়েটির পশমের ভিতরে আঙুলগুলি
    তবু ওরা হলুদ রঙা ফুল কেনে
    প্লাক ভ্রু কাউন্টারে এগিয়ে দেয় সাদা স্লিপ কখনো
    সেই নীলে , ঘন নীলে লেখা জুবিনার যাবার সময়ে

    এইসব কবিতার গীতিকার,সুরকার আসলে কবন্ধ-যক্ষ।
    একমাত্র কবি -
    এইসব গান ,সে তার, আমার নয় । কীটপতঙ্গের হ্রেষা ।
    কালপুরুষের-চর্যা । গীতিপদাবলী । উটজ-কুসুম ।

    দেশি গান খুঁজি,
    রোমান হরফে আয় মন বেড়াতে যাবি ,রবিবার
    আমার কন্ঠে এক চাতক পাখি ডাকে

    অহো আমষ্টারডাম থেকে কেউ রহো রহো সাথে ,
    আমার তখনো বাড়ি ফেরা কিছুই তো হায় হল না,
    শিঙা-ফুঁকে যাওয়া ট্রেন-এ,মর্ষকামী জনতার যূথে,
    সিগনালে, অযোনিমানবের প্রত্নভিক্ষায়,
    ডেকেছিলে, পথে যেতে ।

    ডাচেরা ফুল ভালোবাসে - হয়তবা বাগানও
    শনিবারে সারি বেঁধে যারা পাপড়ি কেনে তাদের সাইকেলে
    মেলা উড়না কাঠের পুলের সাদায় মিশে যায়
    বন্ধনীর গান কানের লতিতে ফ্যাশান দুরস্ত ঝুমকা
    আমি তার মানে বুঝিনে - পিছনের বাগানে পায়চারী যার সারাবেলা
    তারই নৈঃশব্দে ঘুম ভেঙে দেখি আঁকা সূর্যমুখী লাল
    হয়ে আছে চাদরের ওপাশে

    এমন কতই ডাক দিয়েছিলে হাজার দুয়ারি খুলে,
    তবু উষ্ণতার জন্য হেজে থাকি,কীচক-ফেনসিং,
    কদমগাছের সারি , হেলমেট-পরা ঘোড়সওয়ার,
    আমাদের পূর্ণিমার মলিন হলুদ ,তার ঠিক নিচে
    নদীমাতৃক মানবের উষ্ণ নাভিকুণ্ডলীর আহরণ।
    কাদায় ,জুতোয়,রক্তপাতে ।



    কিছু দোকান বন্ধ , রঙীন পসরা নিয়ে গ্যাছে কারা
    চেনা সেলসগার্ল ফিরেছে নিজের শহরে , কখন হয়নি জানা কতক বছরেও
    যাওয়া তাই হয়না অসময়ে , হলুদ ফিতেয় ঘেরা
    কাঁচে লেপ্টানো রোদচশমা রূপালী নাভিতে মিশে গেলে - সমৃতি
    মেক্সিকান পার্টিতে মেয়েটির কোমরে হাত রেখে
    চিবুকের তিল মৃদু ঘাম এক
    অন্তর্গত সুুগন্ধে ওদের জন্মদিন পালন করায়

    জীবনের দিনগুলো মিলেমিশেস একখানা গাম্বাট ফ্রাকটাল
    প্রতিদিন আমাদের রক্ত-ক্লেদ-বসা ঘিরে ফেরা ,যাস না,জুবিনা।
    মাঝে মাঝে মাথার উপর দিয়ে পিঙ্গল শকুন লাট খায়,
    বন্দুকের নল তাক করা ,আততায়ী নীল চোখ

    আমায় স্টেপ শেখায় যারা তাদেরই বাড়ি ফেরা হয়না শেষ রাতে
    গান শুনি দরজার ফাঁক দিয়ে ভেসে আসা , জানি তাও ক্ষণস্থায়ী
    তবুও তো মাদকতা মসৃণ অঙ্গ ভালোবাসে

    চাই চাই, আমাদের নাভি-ওঙ্কারের জন্য ঘাস-গান
    অসময়ে কদম ফুলের জন্য প্রাণায়াম । তবু বর্ণভেদে
    ক্রমশঃ অভ্যস্ত এ পৃথিবী বাদামি শেডের ক্যাটালগ
    প্রকাশ করার কথা ভাবে - প্রকৃতির কাছে
    রঙিন টিভির নির্মাতারা এজন্য সদাই ঋণী

    আজকে তো রক্ত গোলাপের দিন বা জুঁই ফুলের গোছা নিয়ে
    রোদেলা পিঠে ঠোঁট দিতে চাওয়া একেলাপনের
    আমি ছবি তুলে দিই অনুরোধে - বলো না কেই বা চুম্বনপ্রত্যাশী নয় !
    তোমাদের শীর্ণ নখে পারপল-ফ্লেকস উঠে আসে
    পাবের বাউন্সার ছেলেটি বিভ্রান্ত ,কেননা
    সে এবং নৈতিকতা কেউই জানে না,
    কার কোন দিক থেকে লড়ে যাওয়া

    সুখী রাস্তা এখনো চায়না বসন্তের আগমণী গান
    পাতার সবুজ এসেছে অসময়ে দ্যাখো দোরগোড়ায় তারই
    সঙ্গী পাল্টে যাবে হয়ত আগামী পল্লব দিনে যেথায়
    শিহরণে জাগাবে কোন অচেনা রাগ মৃদু বাতাসে খোলা জানালায়
    বন্ধ ঘড়ি কি জানবে সময় বদলেছে এইভাবেই ঠিক !
    ছোঁয়া যাবে ফুলের দিন , ফুলেরদানীর গা বেয়ে শিশিরকণা
    কেবলই কৌশল বদলাতে ভালোবাসে ......

    এরি মধ্যে এ্যালবার্ট, গোয়ান কুইজিনের সেরেনেদার ,
    ছড়ের আওয়াযে চমকে দেয়,সে কি কবিতার মধ্যে নেমে এল
    অন্য কোনো সিঁড়ি বেয়ে, নাকি কবিতা-ই সিঁড়ি ?

    আমাদের পবিত্র হৃদয়ের ফ্লোরোসেন্ট চিৎকার
    হাসপাতালের সামনে ভ্যান, পুলিশ শেষ অব্দি লড়ে যাবে,
    নাকি স্রেফ ভ্যানতারা ,শেষ না দেখে কিছুতেই ছাড়বে না ,
    স্কুটারে লাজুক বর,সদ্য-পরিণীতা মেয়েটিকে
    অস্ফুটে কিছু বলে ফেলে, জুবিনা ,শুনতে পেলি ?

    আমি তো জানি সুন্দরীতমা তুমি বিবর্তনে , ধনুক ভ্রু - সেও যৌগিক কণা
    সিঁড়িতে জলের ছাপ সে শুধু তোমারই
    তাইতো আমার সকল দিয়ে বসে আছি টিউলিপ বাগানে



    Brouwersgracht-এ ঘড়ি সারাইয়ে কিছু যান্ত্রিক
    আবর্তনে পেরিয়ে আসা শতাব্দীতে দেখি
    হাওয়ামিল ঘোরে রিনরিন - ঝুঁকে পরা চোখে
    ঠুলি খুলে নিলেও চামড়ার কুঞ্চন বোঝায়
    সবটুকু অভিঞ্চতাতে বিবর্তন ঘটিত কিছু ফলশ্রুতি
    ঢুকে গেছে - আর সময়ের সাথে সময়
    কাটানোর ছলেও শনিবার আকর্ষিত হয় দরজার নোটিশ সরিয়ে

    ধূসর পুল-ওভারের পকেটে ভাঁজকরা
    সেঁজুতির চিঠি থেকে মাছপোকা তিরতির করে
    চলে যায় , চোখে কাকের পায়ে ছাপ
    সহজে স্ক্যান্ডাল হয়ে যায় ,বাঁচা-মরা
    তাৎপর্যহীন, বীয়ার যেভাবে তেতো হয়,
    সুপারমর্কেটে একটি লোক কেবলই ট্রলিতে তোলে
    কাপ-নুডলস্‌ ,তার ফাটা কেডস-জুতোর থেকে বিগ-টো বেরিয়ে থাকে
    যেন চেনা মুখ দেখলেই ষড়যন্ত্রের ভঙ্গিতে পয়সা চাইব,
    কিন্তু কিছুই ঘটে না, শুধু ছবি তুলতে গিয়ে
    পোড়া তাজের সামনে পুলিশের ব্যারিকেডে ধাক্কা খেলে ,
    হাওয়ালদার অস্ফুটে বলে – ব্যহেন .....

    ৬৬৭ নাম্বারে ফোন করা যায় না - দুই আপাতবৃদ্ধ
    বন্ধুসূত্রে কফি বানায় - কাঁটা নিয়ে খেলায়
    ছোট চাকা , যন্ত্রেরই সমর্পণে নিখুঁত সকালে
    টুংটাং - আমি তো পিয়ানোর শব্দ চিনি ,
    মোলায়েম আঙুল খেলা করে যায় আইভরি শুভ্রতায়
    রাস্তায় দেখা হলে ওরা goedemorgen বলে হাসে
    আমার তখন গ্লাভসপরা হাত নেড়ে Wester-পার্কে দৌড়বার পালা

    পায়রার ঝাঁকের উড়ানে বাকিটুকু চাপা পড়ে যায়,
    গেট-ওয়ের সিপিয়া প্রিন্টে অজস্র ডটের দাগ
    পায়রারা মোটামুটি একইরকম
    দাদরের গোলঘরে, মাহিম-দরগার সামনে
    পওয়াই-এর গোল চক্করে - দানা আছে,পায়রা ও মানুষ ।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৫ মে ২০১৬ | ৫২১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kumu | 69.178.46.10 (*) | ০৫ মে ২০১৬ ০৭:২৪53762
  • খুব ভাল লাগল।অন্যরকম।
  • pi | 74.233.173.177 (*) | ০৫ মে ২০১৬ ০৯:৪২53763
  • বাহ
  • কল্লোল | 111.63.75.215 (*) | ০৫ মে ২০১৬ ১১:৪২53764
  • কবিতাগুলো ভালো। তবে আমার পড়ার অভ্যাসের চাইতে কিঞ্চিত লম্বা।

    কিন্তু আমার একটা ছোট্ট আপিত্ত আছে।
    "আমার সেই প্রফেসর প্রায়ই বলতেন আমরা ভারতীয়রা ভালো অর্কেষ্টা-য় সিদ্ধিলাভ করি নি - কারণ আমরা একসাথে কাজ করতে পারি না , বিশেষতঃ সেটা যদি আবার কোন প্রকার শিল্প সর্ম্পকিত ব্যাপার হয়"

    আপনার সেই প্রফেসারের প্রতি সম্মান জানিয়েই বলি, ওনার দেখাটা ঠিক নয়। ভারতী সঙ্গীতে অর্কেস্ট্রা নেই, তার কারন আলাদা। ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত একসুরভিত্তিক(মেলডি), পশ্চিমী ধ্রুপদী সঙ্গীতের মতো সুরসঙ্গতিভিত্তিক(হর্মোনি) নয়। কিন্তু তারপরেও বলা যায় অন্ততঃ বেদ সৃষ্টির কালে সমবেত মন্ত্রোচ্চারণ বা সামগান ছিলো। পরে আলাউদ্দীন খান সায়েব ও তিমিরবরণ তো করেইছেন, এমনকি রবিশঙ্কর ও তার সুযোগ্য শিষ্য দীপক চৌধুরীর অসাধারণ সব অর্কেস্ট্রেশন আছে।
    আর সঙ্গীত ছাড়া অন্য নানান যৌথ শিল্পে ভারতীয়রা খুবই ভালো, যেমন নাটক ও ফিল্ম। নাটক তো ভারতীয় সংস্কৃতিতে বহু পুরোনো। এছাড়া সমবেত নাচ - সেও তো ভারতীয় সংস্কৃতির বিশাল অংশ।
  • সুকি | 168.161.176.18 (*) | ০৬ মে ২০১৬ ০৩:৫৬53765
  • কল্লোলদা,
    আপনি হয়ত ঠিকই বলছেন - আসলে ইঞ্জনিয়ারিং কলেজের প্রফেসর তো, মনে হয় অতো বেশী ভাবেন নি। ওই ছাত্রদের টিম-ওয়ার্কের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলা হয়ত। আমিও এই নিয়ে বেশী ভাবি নি, কারণ লেখার প্রতিপাদ্য এই স্টেটমেন্টের অ্যাকুরেসির সাথে জড়িয়ে ছিল না

    কুমুদি ও পাই-কেও ধন্যবাদ লেখা পড়ার জন্য।
  • শিবাংশু | 69.94.91.203 (*) | ০৬ মে ২০১৬ ১১:১০53766
  • আমার সুকান্তের লেখা ভালো লাগার মুখ্য কারণ, তাঁর ভানহীনতা। নতুনভাবে লিখতে চাওয়ার ইচ্ছেটা অক্ষরের মধ্যে ভেসে থাকে। কিন্তু চমকে দিয়ে বাজিমাত করার দুর্বলতাটি দেখতে পাইনা।
    --------
    যৌথ কবিতার একটা বিপদ, বড়ো বেশি কথা বলা হয়ে যায়। কবিতা বস্তুত মৌনতার শিল্প। শব্দ মৌনতাকেন্দ্রিক জমির সীমানাটা ঘিরে রাখে শুধু। তার বেশি লাই দিলে স্মার্ট শব্দেরা সিনেমার নায়কদের মতো লাফাঝাঁপা শুরু করে দেয়। কবিতার কষ্ট হয়।
    ------------------
    কল্লোলদা যা লিখেছেন, সেটাই ঘটনা। আমাদের ব্যষ্টি ও সমষ্টির শিল্পবোধটি পশ্চিম থেকে একেবারে আলাদা। প্রশ্নটি হলো শিল্প সৃষ্টি হচ্ছে কি না। পাশ্চাত্যসঙ্গীত ও ভারতীয় সঙ্গীতের মিল-অমিল নিয়ে অনেক কাজের কথা লিখে গেছেন খোদ রবীন্দ্রনাথ, দিলীপকুমার, ধূর্জটিপ্রসাদ, সত্যজিৎ।
    -------
    চরৈবেতি...
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন