ধ্যুর্ শালা
পুজোকে কেন্দ্র করে শ্রীকান্ত ও তার বন্ধুদের প্রথম আন্দোলন শুরু হয় — যা ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতি পদক্ষেপে করতে হচ্ছে। ডাকু বলত, "জীবনটাই একটা আন্দোলন – সংগ্রাম।"ডাকু হল শ্রীকান্তর এক জিগরি দোস্ত। শ্রীকান্তকে বাবা প্রথম ডাকুই খাইয়েছিল। ডাকুই শ্রীকান্তকে প্রথম বারে নিয়ে গেছিল। আরো অনেক কিছু প্রথমের অভিজ্ঞতা ডাকুর সহচার্যে শ্রীকান্ত পেয়েছিল। ডাকুর কথায় পরে আসা যাবে। দেখেছেন আবার কেমন ভুলভাল বিষয়ান্তরে চলে যাচ্ছি! চলুন ফিরে আসি সরস্বতী পুজোর আন্দোলনে। ঘটনাটা ওই ডিসেম্বর নাগাদ শুরু হয়। যখন দিনের শেষ পিরিয়ডে ইতিহাস ক্লাস চলাকালীন পড়ানোর শেষে আবদ্দুল্লা-স্যার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "এবারের পুজো তো ইলেভেনের দাদারা করবে—তোরা কেউ কেউ ওদের সাহায্য করবি।" ২০২৩-এর ... ...
"ইয়ে... ব্রিজ বানাও ! ঘর বানাও ! রোড বানাও ! ইঞ্জিনিয়ার লে লো বাবু। সস্তে মে লেলো..."কিংবা,"ওয়ে জ্বর সর্দি কাশি, অম্বল বুক জ্বলা সারাই... যে কোনো রোগ সারাই... সাথে ফ্রীতে দাঁত সারাই..."কিংবা,"মামলা দায়ের করবেন নাকি বাবু, মামলা! সিভিল বা ক্রিমিনাল দুইই পাবেন.…. ভারী ভরকম ছাড় পাবেন, মামলা করবেন নাকি…!"কিংবা,"বিবিএ এমবিএ লিবেন বাবু। এমসিএ বিসিএ লিয়ে লিন... সস্তায় মিলবে এম.কম, এমএ... যতো খুশি তত ... ...
নিউ মার্কেট থানার ওসি রঞ্জিত ঘোষের বয়স বাহান্ন তিপ্পান্ন বছর হবে। তার উল্টোদিকের চেয়ারে নন্দলাল বসে আছে। দুপুর দুটো বাজে। রঞ্জিতবাবু বললেন, ' চা খাবে নাকি ? ' নন্দলাল পরিবেশগত প্রভাবে ডাকাবুকো প্রকৃতির। সে মনে মনে তৈরিই ছিল পুলিশ সংক্রান্ত ব্যাপারে। কিন্তু মনের তলায় একটা সিরসিরানি ছিলই। পুলিশকে বিশ্বাস কিছু ... ...
বিধাননগর রেল স্টেশনে নামতে হল। রাত পৌনে এগারোটা। দেখি প্ল্যাটফর্মর গায়ে একজন মানুষ শুয়ে। বেশবাস মলিন। বয়স ৩০-৩২। একবার পাশ ফিরলেই রেললাইনে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। ট্রেন চলে গেল। কেউ দাঁড়াতে চাইলেন না। একজন মহিলা দাঁড়ালেন। তাঁকে দাঁড়াতে দেখে তাঁর পরিবারের দুজন দাঁড়ালেন। জল জোগাড় করে মুখে ছেটালেন দিদিটি। আমি ডাকলাম। চোখ পিটপিট করলেন। পকেট থেকে ১০০ টাকা দিলাম। থম মেরে অবাক চোখে ... ...
পূজা বাঙালীর জীবনের প্রথম ঈশ্বরারাধনা। পরবর্তী জীবনকালে বাঙালী ধীরে ধীরে অর্থহেতু লক্ষী পূজা, গৃহশান্তি হেতু নারায়ণ পূজা, মানত করে কালী পূজা-দুর্গা পূজা, শনিবার শনিবার বারের ঠাকুর পূজা, অবাঙালী বন্ধুর সংস্পর্শে এসে গনপতি পূজা বা ধনতেরসে কুবের পূজা করলেও অফিসিয়ালি বাঙালী জীবনের প্রথম পূজা সরস্বতী পূজা তা সে বাঙালী পড়াশুনাতে ভালোই হোক আর খারাপই হোক বা পড়াশুনা করুক বা না করুক। শ্রীকান্ত যখন ক্লাস নাইনের ছাত্র তখন কনভেন্ট বা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলগুলোর এত রমরমা ছিল না। তখন কনভেন্ট বা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার সৌভাগ্য হত একমাত্র বড় ব্যবসায়ী বা ওই আই.পি.এস-এর সন্তানদের। বড় ডাক্তার বা অধ্যাপকদের পছন্দ ছিল রামকৃষ্ণ মিশন বা ... ...
তোমার ভান্ডে লক্ষ্মী আছে আমার ভান্ডে প্যাঁচাকখন যে পাখি যায় উড়ে শূন্য হবে খাঁচা! "চাচী ৪২০" হ্যায় গো চাচী চারশো বিশ হ্যায়! তোমার ফান্ডে কয়লা খাদান আছে বালি, মাটি আমার ফান্ডে গতর শুধু উদয়াস্ত খাটি; (তবু) ভাতার মারে চাঁটি গো ভাতার মারে চাঁটি। পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলী আমার সব্জী ট্রলি ভেঙ্গে
তবু তোমার ছবি দ্যাখা প্রয়োজন। তোমাকেও আমার প্রয়োজন। সত্যিকারের প্রয়োজন। এখানে পিয়ানো আর মেয়ে ভাড়া পাওয়া যায়। এরোপ্লেন দেখেছি আরেকটু মুখ তুলে। ধনঞ্জয় নয়, ঝুলছে আই কার্ড। জন্মালেও সার্টিফিকেট মরলেও সার্টিফিকেট আরও সার্টিফিকেট ছড়ানো, যে পৃথিবীর সার্টিফিকেট হয় না তাতে শবযাত্রার খই মুখে কাক দাঁড়ানো।উড়ে গেছে।
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৯ পিসির বাড়িতে নন্দিতা ঠিক তিনদিন ছিল। চুক্তি মত নয়ন তিন দিনই ওখানে গিয়েছিল। একদিন ছেড়ে আসতে, একদিন নিয়ে আসতে আর একদিনে অফিস ফেরত দেখা করতে। তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় নন্দিতাকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে নয়নের মনে হল মায়ের মুড একটু অফ। -- কি হয়েছে গো মা? তোমাকে একটু যেন অন্য রকম লাগছে। -- নন্দিতার মা একটু আগে ফোন করেছিলেন। ওনাদের ইচ্ছের কথা আবার ... ...
সবাই মরে যায় ক্রমে, শুধু রয়ে যায় নামগুলো, তাদের ব্যবহার হয়, খ্যাত হলে, জামাগুলো পরে গরিব-আতুরে, খোরাকি লাগে না আর, চোখের কোনের জলও শুকিয়ে যায়, শুধু নুন পড়ে থাকে শেষে। ঘরখানি অন্য কেউ ভোগ করে, সাধের জিনিস পড়ে থাকে আস্তাকুড়ে, কেউ খোঁজও রাখে
আমাদের জুতো ছিল জ্যাকসনের আর ঘুষি মারতাম বাইসনে। মানে, আমরা মানে ঠিক আমরা নই, আমরা যাদের পোস্টারে দেখতাম। বাম হাত দিয়ে টুপিটা এমন করে ধরতে যাচ্ছে, যেন সামনে ঝোঁকানো মাথা থেকে এক্ষুণি খুলে পড়ে যাবে। অথচ পায়ের আঙুলের ভরে এমন অনায়াসে দাঁড়িয়ে আছে, দেখে মনে হবে, একটা ফ্ল্যামিঙ্গো জলে মাছ ধরতে নেমেছে। ডান হাতটা পেছনে রেখে তর্জনীটা এমন ভাবে রাখা, যে মনে হচ্ছে, 'আমার পেছনে এসো।' ও'রম লম্বা কোঁকারানো চুল আমাদের আশেপাশের কারো মাথায় দেখিনি। মাইকেল জ্যাকসন। বিদেশিদের নাম এ'রমই হয়। মাইকেল, পিটার, জনসন, জ্যাকসন। কিন্তু একে ঠিক বিদেশিদের মতো দেখতে নয়। বিদেশ মানেই আমেরিকা। আর ওখানে সবাই ফর্সা।ওর ... ...
। । নিঃসঙ্গ রাত্রির ত্রুবাডুর। । বিষণ্ণ বিবিক্ত রাত্রির দীর্ঘশ্বাসেরমত গভীর বেদনার আর্তিআর ক্লান্তিবোধ আমাকে নতুন করেনতুন ভোরের প্রত্যাশী করে দেয়প্রতীক্ষায় বসে থাকা এসব রাত্রির অনুবাদশব্দ ও শব্দ অনুসঙ্গ আমার কাছে গভীরঅনুধ্যান দাবি করে, কেননা এগুলোজীর্ণ নয় -চিরকালীন এবং শাশ্বতএগুলির সাথে আছে দৃশ্য ও স্থানিকতারগুণগত ‘মেটাফোর’ যা আমার কাছেলিরিকাল কাব্যের মতই মনে হতো। কালো পিচের আঠালো অন্ধকারগড়িয়ে যাওয়া গাঢ় নিস্তব্ধতাকখনো ভারবাহী দ্রুতযানআর তার দূরাগত গভীর নাদ – হঠাৎ ত্রস্ত ব্যস্তমান গন্তব্যেরতাড়া নিয়ে গলি দিয়ে একটা সাইকেল আরোহী আর? আর বিবাদমান দু'দল সারমেয়আমাকে প্রবৃত্তির অনুগমনে বাঁধ সাধে। আমাকে প্রায় যেন অবজ্ঞা ভরে –দীপ্তিহীন এক কায়াবেপথু দ্রুতগামী যান্ত্রিক সেই বাহনসাইকেলের গভীর বিষণ্ণ নিঃসঙ্গ রাত্রিরদেয়ালে গাত্রে সেটে দেয়। দৃশ্যান্তর ঘটে না, এসব ... ...
কাবেরী আর একটা কবিতা লিখে নিয়ে এসেছে। ঠিক নতুন কবিতা নয়, আগের দিনের অসমাপ্ত কবিতাটা সম্পূর্ণ করে এনেছে ... পথে ঝলসায় রোদ্দুর গনগনে ইস্পাত কাটা ধারাল শোনিত স্রোতে ওলটপালট সাইক্লোন মারে ঝাপটা ঘাম ও রক্ত মাখামাখি অদ্ভুত। পৌঁছে যাবই মোহনায় নিশ্চয় জাহাজ যেখানে বেঁধে রাখা আছে পোক্ত নিয়ে যাবে বলে অচেনা দ্বীপের কোলে জলে দোল খায় পাগলের মতো ... ...
আমার ঘরের ভাঙা দেওয়াল বেয়ে দুঃখের বুজকুড়ি ওঠে, চেনা মানুষের কণ্ঠে বলে ওঠে ভাঙা তেপায়া তক্তপোষ, "তুই শালা অপদার্থ বোকাচোদা!" যে দেশে হারামজাদা রাজা, রাজার পরিষদে শুয়োরের বাচ্চাদের দাপাদাপি, বড়লোকের হাতে টাকা দেখলেই
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৮ রমেনের মৃত্যু নন্দিতাকে অনেক পরিণত করে দিয়েছে। রান্না থেকে আরম্ভ করে সংসারের সব দায় দায়িত্ব একাই সামলায়। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আহেলিকে কিছুই করতে দেয় না। আগলে রাখে বাড়ির শোকাবিষ্ট মানুষ দুটোকে। আহেলি মানা করা সত্ত্বেও, নন্দিতা বেশ কিছুদিন, রাতে নিজের ঘরে না শুয়ে শাশুড়ির কাছে শুল। নয়ন আর আহেলি, মানসিক ভাবে চরম বিপর্যস্ত এই মানুষ দুটির তখন শান্তির একমাত্র ঠিকানা ছিল নন্দিতা। এভাবে কাটল ... ...
লিখতে খুব ভালবাসি কিন্তু তেমন ভালো লিখতে পারি না। যদিও অনেকে বলেন, "ভালোই তো লিখিস্।" —এখন জানি না এই 'ভালো' শব্দটা সান্ত্বনা পুরস্কার কিনা। সেই যাই হোক, অনেক কষ্টে একটা রহস্য উপন্যাস লেখার পর লেখার চেয়েও বেশি কষ্ট করে এক প্রকাশককে পেলাম –আইনি জটিলতা ও ব্যক্তিগত কারণে সেই ভালোমানুষটির নাম উহ্য রাখলাম। সত্যি বলতে বিরাট ভদ্র ও ভালো মানুষ বলেই উনি আমার বইটি প্রকাশ করেছিলেন। একে তো লেখনীর ওই ছিরি! তার উপর রহস্য উপন্যাস!– বাংলা সাহিত্যের সর্বাপেক্ষা লাঞ্ছিত ও অবহেলিত বিষয়! সবাই পড়ে, বেস্ট সেলারগুলির মধ্যে রহস্য উপন্যাস অবশ্যই থাকে কিন্তু সবাই ভ্রূ কোঁচকায়!— তবু পড়ে ও পড়ে বেশিভাগ ... ...
এইবার তাকে চমকে দিয়ে তার সামনেই তার প্রিয় গরুটি বলে ওঠে "নিউলান এই নিউলান তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছনা ?""হ্যা পাচ্ছি " কোনো রকমে ঢোক গিলে বললো নিউলান। আসলে গরুটি যে কথা বলতে পারে এই ধারণা তার ছিলোনা। গরু বললো "শোনো তোমার তো বিয়ের বয়েস হয়েছে।তুমি কি একটি সুন্দরী পাত্রী চাওনা তোমার জন্য ?" তার গরু কথা বলছে এটাই খুব আশ্চর্য্য ব্যাপার ছিল নিউলানের ... ...
"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে" এটা তো মানুষ চিরকাল চেয়ে এসেছে। কিন্তু তার জন্য ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়ার বাসনা কজনের ছিল? কজন ভাবত ঘুষ দিয়ে ডাক্তার হবে ছেলে, বা গবেষক? হঠাৎ এতো গুলো লোক ঘুষ দিতেই বা শুরু করল কেন? তার কারণ নিশ্চয়ই আর কোনো অল্টারনেটিভ তারা দেখতে পারছে না। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারিং-এ গভর্মেন্ট কলেজে চান্স না পেলে লোকে ফিজিক্স-কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়তে যেত। এখন শুনি সেসব অনার্স কেউ পড়ে না। কলেজে ... ...
কোলকাতার মেস বাড়িশুকদেব চট্টোপাধ্যায়‘মেসবাড়ি’ শব্দটার সাথে আমরা সকলেই অল্পবিস্তর পরিচিত, কেউ থেকে, কেউ দেখে, আর বাকিরা পড়ে বা শুনে। জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসে যাওয়া পুরনো আমলের স্যাঁতস্যাঁতে দোতলা বা তিনতলা বাড়ি, সদর দরজা দিয়ে ঢুকেই খানিকটা উঠোন, তারই এক ধারে বড় একটা চৌবাচ্চার পাশে উন্মুক্ত স্নানাগার, কাঠের রেলিং দেওয়া উঁচু উঁচু সিঁড়ি, এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত তারের ওপর ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৫৭ রমেন আহেলিকে নিয়ে আগেই ফিরে এসেছিল। কাজকর্ম মিটে যাওয়ার পর নয়নরা ফিরল। অফিসে জয়েন করার পরেই নয়নকে জানান হল যে, দিল্লিতে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের দিল্লির অফিসে কিছু দরকারি কাজ আছে। কাজের ব্যাপারে অফিসে নয়ন খুব সুনাম