এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নানা রঙের দিনগুলি - ১

    মানব মীরা দে লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ জুন ২০২৪ | ২৯২ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)


  • মি লিখতে খুব ভালবাসি কিন্তু তেমন ভালো লিখতে পারি না। যদিও অনেকে বলেন, "ভালোই তো লিখিস্।" —
    এখন জানি না এই 'ভালো' শব্দটা সান্ত্বনা পুরস্কার কিনা। সেই যাই হোক, অনেক কষ্টে একটা রহস্য উপন্যাস লেখার পর লেখার চেয়েও বেশি কষ্ট করে এক প্রকাশককে পেলাম –আইনি জটিলতা ও ব্যক্তিগত কারণে সেই ভালোমানুষটির নাম উহ্য রাখলাম। সত্যি বলতে বিরাট ভদ্র ও ভালো মানুষ বলেই উনি আমার বইটি প্রকাশ করেছিলেন। একে তো লেখনীর ওই ছিরি! তার উপর রহস্য উপন্যাস!– বাংলা সাহিত্যের সর্বাপেক্ষা লাঞ্ছিত ও অবহেলিত বিষয়! সবাই পড়ে, বেস্ট সেলারগুলির মধ্যে রহস্য উপন্যাস অবশ্যই থাকে কিন্তু সবাই ভ্রূ কোঁচকায়!— তবু পড়ে ও পড়ে বেশিভাগ ক্ষেত্রে সাহিত্য বলেও বিবেচিত করে না। এহেন বিষয়ে উপন্যাস রচনার ফলাফল কি হল! — সেটা না হয় পরে কোন একদিন বলব।

    একদিন ভাবলাম নাহ্ অন্য কিছু লিখতে হবে সে পারি আর ছাই নাই পারি। যথারীতি যা ভাবা তাই কাজ। চলে এলাম আপনাদের বিরক্ত করতে।

    এখন সমস্যাটা অন্য জায়গায়! ভাবলাম তো অন্য কিছু লিখব — কিন্তু 'অন্য কিছু'-টা যে কি? — সেটাই বুঝতে পারছি না। অনেক ভাবলাম, ভেবে ভেবে ক্লান্ত হয়ে অনেক ঘুমালাম, তারপর আবার ভাবলাম, আবার ঘুমালাম, তারপর ভাবলাম কোন কিছু আর ভাবে লাভ নেই সেই আদ্যিকাল থেকে এই ক্ষুদ্র নজর ও মস্তিস্ক দিয়ে যে ভাবে পৃথিবীটাকে দেখেছি সেটাই না হয় আপনাদের সাথে ভাগ করে নি। আসলে শুধু একা আমার দেখা নয়, হয়তো দেখবেন আমাদের সবার দেখা খুব সাধারণ কথাই শোনাচ্ছি। তবে আগেই একটা কথা স্বীকার করে নিতে চাই, অমৃত প্রাপ্তির সময় যেমন হলাহল প্রাপ্তি হয়েছিল, তেমনই এই কথনে ইতিবাচক অমৃতভাষ্যের সাথে সাথে নেতিবাচক হলাহল প্রাপ্তিও হতে পারে। আশা করা যায় সে হলাহল নীলকণ্ঠরূপী পাঠকরা তাদের  কণ্ঠ মধ্যস্থ বিশেষ আগারেই সীমাবদ্ধ রাখবেন, শরীর বা মননে তার কোন প্রভাব পড়বে না। তবে চলুন শুরু করা যাক। কিন্তু শুরুটাই বা কোথা থেকে করি?!? আচ্ছা তাহলে ছোট থেকেই শুরু হোক। অর্থাৎ শ্রীকান্তর জন্ম থেকে।

    উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় শ্রীকান্তর, পরিবারের আর্থিক কর্তা দাদু হরেকৃষ্ণ দত্ত হলেও বাড়ির সর্বেসর্বা ছিলেন ঠাকুমা আলোরাণী দত্ত। বিড়ির ব্যবসায়ী হরেকৃষ্ণ দত্তের জীবনও কঠোর সংগ্রামের ও লড়াইয়ের — বাংলাদেশের কুষ্টিয়া থেকে বারো বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা ছেলেটি আজ নৈহাটির ব্যবসায়ী সমিতির প্রেসিডেন্ট ও রাজ্যের বিড়ি ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রধান। শ্রীকান্তর দাদুর গপ্পো না হয় কোন এক প্রসঙ্গে করা যাবে, এখন আসা যাক শ্রীকান্তের পারিবারিক বর্ণনায়।
     
    মোটামুটি সোনার চামচ না'হলেও অন্ততঃ রূপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো শ্রীকান্তর বাপ-কাকারা ছিলেন তিন ভাই। একবার স্কুল লাইফে শ্রীকান্তর এক বন্ধু তার কাকাকে দেখে শ্রীকান্তকে বলেছিল, "এটা তোর কাকা! — এতো তিন ঢ্যামনার এক ঢ্যামনা!"

    শ্রীকান্ত অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিল, "তুই তো কোনদিনও আমাদের বাড়ি যাস নি তা'লে কি করে জানি আমার বাবারা তিন ভাই!"

    এই তিন ঢ্যামনা মানে শ্রীকান্তর বাপ-কাকারা বাপের ব্যবসাই দেখাশুনা করে ফুটানি করত। শ্রীকান্তর বাবার নাম বিমল, মেজকাকার সমর আর ছোটকাকার সনৎ, ছোটকাকা আবার বড়বেলায় স্বয়ং নিজের নাম রাখেন সমরজিৎ। শ্রীকান্তর মায়ের — দেখেছেন কোন মানে হয়! ওই বললাম না, আমি ঠিক করে লিখতে পারি না! তাই শ্রীকান্তর চোদ্দগুষ্টির নাম বলতে শুরু করেছি। যেন আমি ঘটক আর শ্রীকান্তর জন্য আপনাদের কাছে ঘটকালী করতে বসেছি। — ছাড়ুন এই ভাবে ছোট্ট থেকে শুরু করলে ব্যাপারটা ঠিক জমবে না যদিও এ কথনে জমাটি কিছুই নেই বললেই চলে। আমরা বরং শ্রীকান্তর একটু বড়বেলা থেকে শুরু করি। তারপর মাঝে মাঝেই আগুপিছু করে ঘটনার কথনবিন্যাস চালিয়ে যাব। তো শুরু করা যাক বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্ ডে দিয়ে অর্থাৎ সরস্বতী পূজা দিয়ে। শ্রীকান্তর জীবনে বহুবার বহু রকম ভাবে সরস্বতী পূজা এলেও ক্লাস নাইনের সরস্বতী পূজার উপলব্ধিটা একটু আলাদাই ছিল, একটু কেন অনেকটাই আলাদা ছিল।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • mAANAV mEERA dEY | ২৭ জুন ২০২৪ ০২:০০533751
  • ধন্যবাদ। সাথে থাকবেন।
  • &/ | 151.141.85.8 | ২৭ জুন ২০২৪ ০২:৫৩533752
  • স্বর না সর। সতী না স্বতী। অর্থাৎ কিনা সরস্বতী। মনে রাখবেন কীভাবে? নদী। মনে রাখবেন নদী। জল। সরস। জলে ভরা নদী, সরস। সরস + বতী। অর্থাৎ কিনা সরস্বতী। নদীই দেবী হয়েছেন, পরে বীণাপাণি বিদ্যাদায়িনী বাণী বাগ্দেবী রূপে তাঁকে কল্পনা করা হয়েছে।
  • kk | 172.56.33.28 | ২৭ জুন ২০২৪ ০২:৫৬533753
  • বানানগুলো আরেকবার দেখে একটু ঠিক করে নিলে ভালো হয় না? 'ঘুমলাম', 'কোঠর', 'স্বরসতী' এগুলো একটু চোখে লাগছে।
  • mAANAV mEERA dEY | ২৭ জুন ২০২৪ ০২:৫৮533754
  • অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে অনেকগুলো অটো হয়ে গেছে। দেখে নিচ্ছি। সঙ্গে থাকবেন
  • &/ | 151.141.85.8 | ২৭ জুন ২০২৪ ০২:৫৯533755
  • লেখকের নামটাও ভারী অদ্ভুত রকম আসছে। একটু ঠিক করা যায় কিনা অনুগ্রহ করে দেখবেন।
  • :|: | 174.251.163.104 | ২৭ জুন ২০২৪ ০৩:৩৮533757
  • এইটি "হলাহল নীলকণ্ঠরূপী পাঠকরা তাদের মরালগ্রীবাতেই ধারণ করবেন" -- গ্রীবা আর কণ্ঠের অবস্থান যে টোটাল অপোজিট! তারচেয়েও বড়ো কথা বিষ পান করে ঘাড়ে সেটা ধরে রাখা শারীরবিদ্যা মতে অসম্ভব। 
    তারপর ধরুন "ঘটনার কথনবিন্যাস চালিয়ে যাব" -- এই বাক্যে কথনবিন্যাস শব্দের প্রয়োগ বেশ অদ্ভুত। মানে অর্থহীনতার দিক থেকে দেখলে। 
    তবু লিখুন। লিখতে লিখতেই একদিন একটি লেখা ঠিক ঠিক হয়ে ওঠে বলে শুনেছি। 
  • মানব মীরা দে | ২৭ জুন ২০২৪ ০৬:৫৫533762
  • হুম এটা ঠিক। কিন্তু 'গ্রীবা'-র স্থানে অন্য কিছু ব্যবহার করা উচিত।
    কিন্তু 'কথনবিন্যাস'-টা অদ্ভুত শোনালেও অনেক অংশে অর্থহীন নয়।
    সঙ্গে থাকবেন। এখানে শিখতেই এসেছি আগেই বলেছি তেমন লিখতে পারি না। ধন্যবাদ
  • &/ | 151.141.85.8 | ২৭ জুন ২০২৪ ০৭:০৩533763
  • মাফ করবেন, আপনাদের দু'জনের নাম কি এটা? মানব আর মীরা? নাকি একজনেরই?
  • মানব মীরা দে | ২৭ জুন ২০২৪ ০৭:০৪533764
  • 'মরালগ্রীবা'-র জায়গাটা একটু যদি দেখেন
  • মানব মীরা দে | ২৭ জুন ২০২৪ ০৭:০৮533765
  • 'মানব মীরা দে'– সম্পূর্ণটাই আমার নিজের নাম।
    তবে 'মীরা' নামটা মায়ের নাম।
    ধন্যবাদ। সাথে থাকবেন।
  • বিপ্লব রহমান | ৩০ জুন ২০২৪ ১৭:৩০533941
  • সূচনা পর্ব ভালো হয়েছে। 
     
    সেই রহস্য উপন্যাসটি বড় গল্প আকারে এখানেই প্রকাশ করতে পারেন, অথবা ধারাবাহিকভাবে পুরোটাই। 
     
    পড়ার আগ্রহ হচ্ছে। 
  • মানব মীরা দে | ৩০ জুন ২০২৪ ২০:০৮533949
  • "রঙ করা লাশ" ছাপার অক্ষরে ছাপাখানা পাবলিশার্স থেকে থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
    কলেজ স্ট্রিটের দে বুক স্টোর (দীপুদার দোকান) ও ধ্যানবিন্দু-তে পাওয়া যাচ্ছে।
    পড়ে দেখতে পারেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন