--------------------------- কলির শান্তিনিকেতন, শান্তিনিকেতনের কলি। প্রায় দু-মাস গরমের ছুটি কাটিয়ে, এবারে ফেরার পালা। এই দু -মাসে চিঠি সঙ্গী। ইনল্যান্ড কিংবা খামবন্দী গন্ধ মাখা চিঠি। কত, কত চিঠি!!..পরস্পরকে এভাবেই ছুঁয়ে থাকা। এবারে ফেরা। প্রথম প্রথম বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা। এ-বাড়ি। ও-বাড়ি। সীমান্তপল্লীতেই ঘোরাফেরা। বালি পাড়ার কাছাকাছি দোতলা বাড়ি। ফুল ফল সবজির বাগান। কলিদের ঘর ... ...
বিসর্জনের দিন রামদুলাল সরকার স্ট্রিটের এক পরিবারে সত্যিই বিসর্জনের বাজনা বেজে উঠল। সপ্তমীর দিন বাগবাজার সার্বজনীনের মাঠে অনিমেষের বলা ' ওরকম বলিস না ... কোন কথাটা যে লেগে যায় কেউ বলতে পারে না ... ' একদম অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। পাড়ার বয়স্ক বাসিন্দা সংসারনাথ মুখোপাধ্যায় অকস্মাৎ ইহলোক
ভারত-চীন এবং ভারত-পাকিস্থানের যুদ্ধের পরে বিশ্বের কাছে ভারতবর্ষ যখন এক উদীয়মান শক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে ঠিক সেই সময়েই ভারতবর্ষের আকাশ থেকে দুইটি শক্তিশালী নক্ষত্রের পতন ঘটে। অভিশপ্ত সেই বছর ১৯৬৬ সাল এবং আরও ভালো করে বললে ১৯৬৬ সালের জানুয়ারী মাস। মাত্র ১৩ দিনের পার্থক্যে ভারতবর্ষ নামক দেশটি অনেকখানি রিক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৬৬ সালের ১০ই জানুয়ারী ভারত-পাকিস্থান ... ...
কয়েক লক্ষ মন ভিজিয়ে মেঘ ফিরলো আধেক লেখা চিঠি আবার পেলো কথা নাকের কাছে ঘাম, চায়ের কাপে রাস্তা-ধুলো মেঘের নামে কেউ শোনালো কিচ্ছু যা-তা ভয় পাইয়ে বুক জাপটে ঘুম আনলো মেঘের অনেক ছলচাতুরি কেউ বুঝলো নাও সব সময় তোমায় পেতে মন চাইলো বৃষ্টি জানে কবির পেটে ভাত জোটে না। স্তব্ধ কাচের দেওয়াল পিছে কেউ ঘুমোলো ... ...
এঁটে বসে মুখোশ, মুখে ধুরন্ধরের হাসিসব নীল নায়িকার দোষ, যদি শরীর ভালোবাসি ভেলকি যৌবনজ্বালায় উপোষ তাই সাত পাকেরই আপোসকে বলবে কার সত্যি মুখ খুললেই ওড়ে মাছি। আরো গল্প ছিল মজার, এই তো সবে শুরু কাঁটা বেছে খেত বেড়াল, স্টক বাড়ছে সজারু-র এদিকে আলগা পেলেই স্ক্যান্ডাল পরকীয়া নামের ক্যাচাল আকাশ ছুঁতে একটু বাকি প্রতিবেশীর ভুরু। দুরু দুরু বুকে রাত্তির, পথে ছায়া চলাচল হচ্ছে উন্নয়ন ... ...
তিস্তা ফুঁসছে। উন্নয়নের শিকল ছিঁড়ে নিজের আনন্দে বয়ে চলার বার্তা পাঠাতেই সব ছারখার, সব বিধ্বস্ত। বিপুল অর্থ খরচ করে নদীর শরীর জুড়ে তৈরি চুঙথাঙ্ বাঁধ ভেঙে তিস্তা যেন ফিরে পেতে চাইছে তাঁর হারিয়ে যাওয়া যৌবনের উচ্ছল স্মৃতিকে। খুব সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়ের কাহিনি সম্পূর্ণ অতীত হবার আগেই সিকিমের এই ঘটনা আবার প্রকৃতি পরিবেশের ওপর মানুষের খবরদারি করার ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে যেন নতুন করে ... ...
গুরু সম্বন্ধে জেনেছিলাম ২০২২ এর এক্কেরে শেষের দিকে। তাও যোগ দিতে ২০২৩ পৌঁছে গেছিল। আরে সময় এত তাড়াতাড়ি দৌড়ায় কি বলবো! পায়ে পা মিলিয়ে চলার তো দুষ্কর। অবশ্য এত দেরি হওয়ার কারণ অবশ্যই আমার কুঁড়েমি। তারপর নিয়মিত না হোক কখনো সখনো এসে হরিদাস পালদের লেখ্য গুলো গিলতে চেষ্টা করতাম, অবশ্য হজম হয়নি কখনো, তা বলাই বাহুল্য।লিখালিখির বাজে অভ্যেস ছোটবেলা থেকেই ছিল, তবু গুরু-তে, মানে বুঝছেন গুরু-তে লিখালিখি করার কথা ... ...
এই নিউজক্লিক কান্ডের পর অন্য একটা কথাও মনে হচ্ছে। সেটা বিকল্প মিডিয়া প্রসঙ্গে। গত কুড়ি বছরে, বাংলা এবং গোটা ভারতেই বিকল্প লেখালিখির জায়গাটা দুমাদ্দুম স্টার্টআপ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এই স্টার্টআপ জিনিসটা কী? না আপনি নিজের উদ্যোগে বা খরচায় কিছু একটা ছোট্টো করে বানালেন। তারপর তার মুনাফা-বানানোর সম্ভাবনা আছে দেখিয়ে বড় কোনো শিল্পগোষ্ঠীর কাছে বেচে দিলেন। অথবা সরাসরি বেচলেননা, কিন্তু বেশিরভাগ শেয়ারই বেচে দিয়ে বিনিয়োগ আনলেন। জিনিসটা নতুন কিছু না, কিন্তু ... ...
নমস্কার। আমি বিনয়ভূষণ মুখোপাধ্যায়। লেখক অর্ঘ্যদীপের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে কলকাতার বইমেলায়। একটা বুক স্টলে।তবে আমি বইটই লিখি না। আমি খুব গল্প বলতে ভালোবাসি।তবে কোনো বানানো গল্প নয়, নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা বলি।আর সেই থেকেই লেখক আমার সাথে বন্ধুত্ব করেন। আমার বাড়িতে আসেন প্রায়শই। আমার মুখ থেকে সেইসব ঘটনার কথা শোনেন।আর তা থেকেই গল্প লেখেন।তো আজ সেইরকমই আমার জীবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কথা শুনবেন লেখকের কলমের মাধ্যমে।আমার জন্ম ইছামতি নদীর তীরে একটি ছোট্ট গ্ৰাম গঙ্গাপানিতে। বর্তমানে আমার বয়স ষাট বছর।যে সময়ের কথা বলছি তখন আমার বয়স বারো কি তেরো বছর। মানে ঐ ক্লাস সিক্স কি সেভেনে ... ...
দিল্লিতে ভোর রাতে গেস্টাপো বাহিনীর হানাভিডিও জার্নালিস্ট অভিসার শর্মা, বরিষ্ঠ সাংবাদিক ভাষা সিং, প্রবীণ সাংবাদিক উর্মিলেশ, নিউজক্লিক-এর এডিটর প্রবীর পুরকায়স্থ ও লেখক গিতা হরিহরণ, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ভাষ্যকার অনিন্দ্য চক্রবর্তী, সক্রিয়তাবাদী ও ইতিহাসবিদ সোহেল হাসমি, এবং কৌতুকাভিনেতা সঞ্জয় রাজৌরার বাড়িতে আজ ভোর রাতে দিল্লি পুলিশের বাহিনী রেইড করে। মুম্বাইয়ে তিস্তা শেতলওয়াড়ের বাড়িতে দিল্লি পুলিশের দল ... ...
মন খারাপের গল্প ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— ঐ নীলপাখিটা রোজই আসে বসি যখন বাতায়নে এলোচুলে মন খারাপের কাপে যখন দিই চুমুক, - ঠিক তখনি। সিক্ত আঁখি, মনের মাঝে অঝোর ধারায়
নকুড়ের দোকানের একটু আগে গঙ্গাপদর মুদির দোকান। পুজোর সময় শুধু নবমীর দিন একবেলা বন্ধ থাকে। বাকি সব দিন খোলা। সেই সকাল নটায় দোকান খোলে আর রাত দশটায় বন্ধ করে। দুপুরের সময়টা বাদ দিয়ে সে সময়েই ব্যস্ত থাকে। দোকানের পাশের দিকে একটা বেঞ্চি পাতা আছে। গঙ্গাপদর পুরণো নিয়মিত দু একজন
বেনারস পর্ব ৭সন্ধ্যা হয়ে আসছে। বেনারসের রাস্তা আলোয় ঝলমল করছে। জনস্রোত চলেছে। নিজস্ব ছন্দে, গতিতে এগিয়ে চলেছে সকলেই। আমিও চলেছি দোকান দেখতে দেখতে, মানুষ জন দেখতে দেখতে। এ চলাও এক অদ্ভুত চলা ! এমন ভীড় রাস্তায় একমাত্র কলকাতার পূজোর সময়েই চলেছি। জামাকাপড়, বাসনের দোকান, মিষ্টি, রাবড়ি, চাট, ঠাণ্ডাই, মশলা দুধ, চা – কি না! সব দোকানেই ভীড়। একটি জায়গায় দেখা গেল বড় বড় হাঁড়িতে খিচুড়ি – বিলি করা হচ্ছে পথ চলতি মানুষের মধ্যে। সেই প্রসাদ কেউ গ্ৰহণ করছেন প্রসাদরূপে কেউ বা ক্ষুধা নিবৃত্তির উদ্দেশ্যে। স্বয়ং মা অন্নপূর্ণার বাস বারাণসীতে – সেখানে মায়ের কোনোও সন্তান কি আর অভুক্ত থাকতে ... ...
প্রেম থেকে প্রাণ ঝাঁপ দিয়ে পড়ে ট্রেনের সামনে, কুচিকুচি হওয়ার আগে অব্দি তার চোখে ডিলিউশন। আমরা বই খাতা ফেলে ইস্কুল টিউশন খুঁজে ফিরি
একই আকাশের নিচে আমাদের বাসা খড়কুটো নিয়ে ভাবনা অফুরান রোজই লড়াই ঝরায় কান্না ঘাম ভিড় বাস আর ট্র্যাফিকে দিশেহারা থমকে থমকে চুল বাড়ে, চুলে পাক আঁচড় জানায় নখের
শরৎ এলেই শিশির ঘাসে, শিউলি ফুলের আলপনা। শরৎ এলেই মনের ভেতর, হাজার খুশির - জালবোনা। শরৎ এলেই