
প্রকাশিত হল আরও পাঁচটি পুস্তক পরিচিতি। লিখেছেন রন্তিদেব রায়। ... ...

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। মহাবিজ্ঞানী। কিন্তু মানুষটি কেমন ছিলেন? ১৯২২-২৩ সালে এশিয়া-আফ্রিকায় ভ্রমণকালে তিনি যে ডায়েরি লিখেছিলেন তার পাতায় পাতায় মেলে অশ্বেতাঙ্গদের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্য। ২০১৮ সালে এ ডায়েরি প্রকাশিত হয়েছে বই হয়ে। পড়লেন চিকিৎসক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। ... ...

কী হয়েছে না হয়েছে তা সকলেই জানতে পারে। লোকে সাধারণত পার্টি আর মিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন, কিন্তু সেসব তথ্যে পক্ষপাতদুষ্টতা থাকে। এরকম একটি সাম্প্রদায়িকভাবে বিভক্ত অঞ্চলে, যেখানে যে-কোনো সময় দাঙ্গার আগুন জ্বলে উঠতে পারে, সেখানে মানুষের সঙ্গে কথা বলা যথেষ্ট কঠিন কাজ, বিশেষ করে যারা পরিবারের লোকজনদের হারিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলা। মৃত্যুর বিভিন্ন কারণ বাদ দিয়েই আমরা মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলব বলে পরিকল্পনা করলাম। ... ...

আমি ভিজিট রেখে বাকি টাকা ফেরত দিচ্ছিলাম, ছেলেটির বাবা বলল, ডাক্তারবাবু, দয়া করে টাকাটা রেখে দিন। সবার তো দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমার ছোট্ট একটা মুদির দোকান আছে। লকডাউনে লোকজনের অবস্থা নিজের চোখে দেখেছি। তেমন কয়েকজনকে যদি পয়সা না নিয়ে দেখে দেন। ক্ষমতা থাকলে আরও দিতাম। আমি কিছুতেই নেব না। আর ছেলেটির বাবা দুহাত জোর করে দাঁড়িয়ে আছে। বলছে, আমি গরীব ডাক্তারবাবু, কিন্তু আমারও তো কিছু করতে ইচ্ছে করে। গরীব? কে গরীব? যে তার সীমিত সাধ্য নিয়েও এই অকালে অন্যের পাশে দাঁড়াতে চাইছে? নাকি গরীব তারা, যারা এই মহামারীর সময়েও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়াচ্ছে? ... ...

জয়মালিকা সেনের কর্মকাণ্ডের ঠিক ঠিক মতো সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খুঁজে পান না সোমেশ্বর। শুনেছেন, শুরু হয়েছিলো বনসৃজনের পরিকল্পনা নিয়ে। পাথুরে, ঊষর পাহাড়িয়া জমিতে বহু গাছ পুঁতেছিলেন তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুবান্ধব, এবং বহু যত্নে বাঁচিয়েছিলেন তাদের, বাড়িয়েও ছিলেন। কত গাছ? হদিশ করা মুশকিল। হয়তো এক লক্ষ, পাঁচ লক্ষও হয়তো বা। এ সবই শোনা কথা। জয়মালিকা নিজেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যার কথা বলেন। কিন্তু আসলে সংখ্যাটি অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক। জমি এবং প্রকৃতির চরিত্র অনেকটাই বদলিয়ে দেবার মতো যথেষ্ট সংখ্যক বৃক্ষরোপণ যে হয়েছিলো, সে বিষয়ে তো সন্দেহ নেই। আজ এখানে ধান ফলে, প্রতিটি মরশুমে শাক-সবজিও ফলানো হয়। বড় বড় ফলের গাছ, আম-কাঁঠাল-আতা-গাবের অভাব নেই। ফুল ফোটে হাজারো রকমের, বসন্তে অশোক-পলাশের লাল, নীল পাহাড়ের পটে অপরূপ শোভা ধরে। গো পালন হয়, প্রায় পঁয়ত্রিশ-চল্লিশটা ষাঁড়-গোরু-মোষের সংসার। ... ...
একবার একটি রুগ্ন ছেলেকে নিয়ে কী বিষম বিপদই না হয়েছিলো। মধ্য এশিয়ার যে অঞ্চল থেকে শাহেনশাহ বাবর এসে হিন্দুস্তানের দখল নিলেন, সেই বীররসসিক্ত ফরগনার আসেপাশে কোথাও একটি পরিবারের গল্প। বাড়ির ছেলেটি ছোট থেকেই রুগ্ন, প্রায় নানা অসুখ বিসুখে ভোগে। মধ্য এশিয়ার মানুষদের সাথে যাঁরা মিশেছেন তাঁরা জানবেন --- শারীরিক দুর্বলতা ওখানে একটা ভীষণরকম লজ্জার ব্যাপার। গল্পের রুগ্ন ছেলেটি, বাংলায় হলে হ্যত তার নাম হত অমল, সোভিয়েত আজ্ঞাধীন বর্তমান উজবেকিস্তানে তারই নাম হলো স্পার্টাক। তো, স্পার্টাক ছোট থেকেই বাড়িসুদ্ধ সবার আলোচ্য বস্তু। আমাদের দেশে হলে মা ঠাকুমা আজ এই মন্দির কাল সেই পীরের থানে মানত করত -- হেই বাবা রোগ ভালো করে দাও। কিন্তু স্থানমাহাত্ম্য এমনই, স্পার্টাককে নিয়ে বাড়ির লোকের আলোচনা --এর বোধহয় স্পার্মকাউন্ট খুব একটা ভালো হবেনা। ... ...

হাসিখুশি আমার প্রথম বই। তখন আমি পড়তে শিখে গিয়েছি মনে হয়। কবে আমার অক্ষরজ্ঞান হয় তা আর মনে নেই। ক্লাস ওয়ান-টু পড়িনি, একেবারে ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হয়েছিলাম বেলগাছিয়ার মনোহর একাডেমিতে। বাড়িতে আমার প্রথম শিক্ষক ছিলেন রাখালবাবু। বস্তিতে থাকতেন, তাঁর ভাই বাজারে আলু বিক্রি করতেন। তা আমি পরে দেখেছি। এঁরা সব পূর্ববঙ্গের মানুষ। অবস্থার ফেরে জীবন এমন হয়েছিল। বাজারে যে চায়ের দোকান ছিল ব্রজেনবাবুর, তাঁর পুত্র তপন আমাদের বন্ধু। তারাও ছিল বড় ঘর। অবস্থার ফেরে তার বাবা এপারে এসে চায়ের দোকান করে সংসার নির্বাহ করতেন। তপনের বোন শিখা আমার বোন অপর্ণার সহপাঠী। তাকে আমাদের এক বন্ধু ছোটন, এখন সে বেঁচে নেই, বলত চা-উলি। খুব খারাপ লাগত। ছোটনরা ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে। এসব যেমন বলত, আবার তপনের সঙ্গে মিশতও। এমনিতে সেই সময়ে ধনী দরিদ্রে ভেদাভেদ ছিল না বিশেষ। পূর্ববঙ্গে জমি নির্ভর মানুষ দেশভাগে কী বিপন্ন হয়েছিল তা এখন বুঝতে পারি। ... ...

শুক্কুরবার রাতের কবিতার পাতায় আজ প্রকাশিত হলো কবি ও গদ্যকার বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কবিতাগুচ্ছ। ... ...

... ...

সাংবাদিকরা ভেবেছিলেন তাঁরা শ্রমিক নন। তাই বুঝে উঠতে পারেননি চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে ঠিকা শ্রমিকের চেয়ে বেশি অধিকার দাবি করা যায় না। আর জোট বেঁধে দাবি পেশ করার অধিকার না থাকলে কোন অধিকারই থাকে না। ... ...

রজতাভ দত্ত বা গৌতম ঘোষ ধৈর্য্য ধরার কথা বলছেন বটে, কিন্তু তাঁরাও জানেন, তেমন অবকাশ টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই নেই। ... ...

প্রয়োজন আছে, তবে সে তুলনায় মান নেই বা দাম। প্রাইভেট টিউটররা যেন ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো। আমাদের রোজগার নেই, ক্রমশ ফুরোচ্ছে নুন-পান্তা। ঘিরে ধরছে অচেনা দারিদ্র্য আর অবসাদ। ... ...

কেউ কি বলতে পারেন, কবে করোনার টিকা আবিষ্কার হবে? কবে এই টিকা বাংলাদেশ পাবে? কবে বা ফুরাবে এই দুঃসময়? জানি না, কবে স্বপ্নের রেস্তোরাঁটি আবার খুলতে পারবো! ... ...

আশৈশব লিঙ্গ-বৈষম্যের শিকার এক তরুণীর বিদ্রোহ। বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তার যাচিত ও অযাচিত সম্পর্কের অভিজ্ঞতা। তার স্বাধীনচেতা মনের পায়ে সমাজের বেড়ি। নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা কোন্ পথে—এ সবের মধ্যে দিয়েই সে প্রশ্নের খোঁজ-করা একটি উপন্যাস। পড়লেন মীরাতুন নাহার। ... ...
কলকাতার ধোঁয়া, ধুলো, শব্দ-ব্রহ্ম ও ব্যস্ততা থেকে বাঁচতে দক্ষিণ শহরতলির এক নিরালা অঞ্চলে নতুন ফ্ল্যাট নেয় ত্রিদিব ও বন্যা। কিন্তু তাদের নিরুপদ্রব জীবনে নেমে আসে এক নতুন উপদ্রব। তাদের শান্তি ও স্বস্তি ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে। অস্থির ত্রিদিব ভেবে পায়না কী করবে? গুরুচণ্ডা৯তে পূর্বপ্রকাশিত শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য্যর লেখা ছোট গল্প 'আউশভিত্স' এর শ্রুতি কাহিনী বা অডিও স্টোরি প্রকাশ পেল ইউটিউবে স্টোরিওয়ালাস প্রোডাকশনস-এর হাত ধরে। ... ...

খাভিয়ের সেরকাস। সাম্প্রতিক স্প্যানিশ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান নাম। ম্যাজিক রিয়েলিজম-এর ধারায় বিশ্বাসী নন তিনি। বরং মনে করেন রিয়েলিজম-এর মাঝেই ঝিলিক দেয় ম্যাজিক। তাঁর লেখালিখি আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক। সেরকাসের বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘সোলদাদোস দে সালামিনা’ (সালামিনার সৈনিকেরা) পড়লেন স্প্যানিশ ভাষার শিক্ষক ও তরজমাকার জয়া চৌধুরী ... ...

কামাখ্যা দেবীপীঠ। তীর্থস্থানই শুধু নয় নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংস্কৃতির পীঠ। তারই উৎসব, বিশ্বাস, পরম্পরা, রূপকথা, ব্রত ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে স্পন্দমান মানুষের জীবন নিয়ে একটি সাম্প্রতিক অসমিয়া উপন্যাস বাংলা তরজমায় পড়লেন তৃষ্ণা বসাক। ... ...

কুররাতুলায়েন হায়দার। স্বাধীনতা-পরবর্তী জমানায় উর্দু সাহিত্যের বহুধাপ্রবাহিত আধুনিক ধারার একটি বিশেষ স্রোতের অন্যতম পথিকৃৎ—যা প্রবাহিত মূলত মনের বিচিত্র উপত্যকা দিয়ে। বহুবর্ণময় তাঁর সাহিত্যের চরিত্রগুলি—এদেশের, বিদেশের, নানা জাতের, নানা শ্রেণির, নানা ভাষার। তেমনই কথাসাহিত্যের বিভিন্ন ধারায় ছিল তাঁর অবাধ গতায়াত— উপন্যাস, ছোটোগল্প, নাটক, ভ্রমণকহিনি। সমসাময়িক অন্যান্য উর্দু সাহিত্যিকের থেকে তাঁর দরিয়ার প্রবাহ ভিন্নতর। আলোচনায় লেখক ও উর্দু থেকে বাংলা ভাষায় সাহিত্য-তরজমাকার সঞ্চারী সেন। ... ...

মেরে ভি সনমখানে। লেখক কুররাতুলায়েন হায়দার। প্রথম প্রকাশ ১৯৪৯। সমসময়ের ঘটনাক্রমের প্রেক্ষিতে লেখা এ উপন্যাসের কাহিনি। দেশভাগের বিভ্রান্ত, রক্তাক্ত দিনকালের ছবি, উপমহাদেশের অসংখ্য মানুষের ওপর তার মর্মন্তুদ প্রভাবের দলিল। ২০০৪ সালে ইংরেজি তরজমা করেন তিনি নিজেই—মাই টেম্পলস টু। পড়লেন দময়ন্তী। ... ...
.jpg)
হাতপাখা থেকে কুঁজো-কলসি, এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে হরেক দৈনন্দিন কাজের জিনিসও ছিল পরমাশ্চর্য শিল্পে সজ্জিত। আজ তার সিংহভাগ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মুখে। মাটির সরা এমনই এক শিল্পের চমৎকার উদাহরণ। এই লুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যের বিষয়ে একটি সাম্প্রতিক বই। পড়লেন লেখক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক রঞ্জন সেন। ... ...