
ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের ফিল্টার অপশন না হয় সরল, কিন্তু কী হবে বাংলায় বিপুল বিক্রিত, দ্রুত বিক্রিত, সেরা বিক্রিত খবরের কাগজগুলোর ক্ষেত্রে। সেখানে তো ফি রবিবার বর্ণবৈষম্যের বিজ্ঞাপনে পাতা রঙিন হয়ে ওঠে। যেমন ২১ জুন, ২০২০ আনন্দবাজার পত্রিকার ইত্যাদি ট্যাবলয়েডে ‘পাত্রী চাই’ বিভাগে একটি বিজ্ঞাপনে লেখা হচ্ছে পূর্ববঙ্গ কায়স্থ দেবারী গণ...সুদর্শন কল্যাণীর... ডাক্তার পাত্র শিক্ষিত পরিবারের রুচিশীলা ফরসা স্লিম সুন্দরী MSC/MBBS/MD স্ববর্ণ পাত্রী কাম্য। অর্থাৎ একজন ডাক্তার (শিক্ষিত সমাজের একজন বলে যাঁকে মানা হয়) তাঁর জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভিন্ন জাত/ধর্ম তো ছেড়েই দিন স্বগোত্র-গণের বেড়াজাল থেকে বেরোতে পারছেন না। ... ...

বাবার কাছে শুনলাম অনেক নার্স দিদি দু'মাস বাড়ি যেতে পারেননি। নিজের পরিবারকে এক ঝলক না দেখে যারা দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবার মত রোগীদের সেবা করছেন তাদের কুর্নিশ জানাই। আমাদের কাউন্সিলর স্যার এবং তার পুরো টিমকে অনেক ধন্যবাদ নিয়মিত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌছোনো ও পাড়া স্যানিটাইজ করার জন্য। সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ সেই সকল পরিবারকে যারা আমাদের জন্য ২১ দিন স্বেচ্ছাবন্দী ছিলেন। অনেকের অনেক অসুবিধা হয়েছে জানি, তবু সবাই সহমর্মিতা দেখিয়ে আমাদের পাশে ছিলেন ও নিয়মিত বাবার খোজ নিয়েছেন। ... ...

এখনও ট্রমা থেকে বেরোতে পারিনি আমি। অতজন অসুস্থ মানুষ একসঙ্গে.... দাদুকে নিয়ে অত রাত্রে বেরোনো, মাথার ওপর কেউ নেই কেউ নেই ভাবনা, সেই সময় বেশ কিছু কাছের মানুষের অসহযোগিতা - এগুলো মনে পড়ে যায়। এখনও মাঝে মাঝেই ঘুম ভেঙে যায়, ভাবি এই বুঝি বাবার জ্বর এল। এই বুঝি কারোর কিছু হল। তারপর ভাবি, নাহ্ সব তো কবেই মিটে গেছে! শুধু বাইরের কিছু মানুষ আমাদের অসুস্থ বানিয়ে শোকেসে তুলে রেখেছে। যদি এইরকম দুর্ব্যবহার সবাই করতে থাকেন, কি হবে তাহলে ভাবুন! যে মানুষ আজ দুর্ব্যবহার করছেন, তাঁকেও যদি কেউ তা ফিরিয়ে দেয়, বাঁচা যাবে তো? তাই পাড়ায় কারোর করোনা হলে প্লিজ পাশে গিয়ে দাঁড়ান। ... ...

হলওয়েল লিখেছেন, কেবল দক্ষ ব্রাহ্মণেরা টিকা দেবার কাজ করতেন। সাধারণত তাঁরা এলাহাবাদ, বারাণসী, বৃন্দাবন প্রভৃতি সুদূর হিন্দু পবিত্রভূমি থেকে আসতেন। টিকা দেবার পুরো সময়টাতে তাঁরা ‘অথর্ব বেদ’-এর মন্ত্র পড়তেন। হলওয়েল সাহেবের উদ্দিষ্ট পাঠকরা ছিলেন ব্রিটিশ ডাক্তাররা, বিশেষ করে রয়্যাল সোসাইটির সদস্যরা। হলওয়েল যখন লিখছিলেন তখন একই ভ্যারিওলেশন পদ্ধতি তুরস্ক থেকে ইংল্যান্ডে ঢুকেছে, তার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ইংরেজ ডাক্তারদের সন্দেহ ছিল। ভ্যারিওলেশন হিন্দু সমাজের মাথা অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের কাজ, বেদমন্ত্র পাঠের সঙ্গে করা হত, এমন বললে ইংরেজ ডাক্তারদের কাছে এটি বেশি গ্রহণযোগ্য হত। ভারত সম্পর্কে যেসব ইংরেজ ডাক্তার খবর রাখতেন, তাদের কাছে ব্রাহ্মণদের পরিচয় ছিল সুপ্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার প্রতিনিধি হিসাবে। আসলে কিন্তু ভ্যারিয়েলেশন কেবল ব্রাহ্মণদের একচেটিয়া ছিল না, আর পদ্ধতিটি সবসময় একই রকম থাকত না। ... ...

সেই গৌড় কালকে চেম্বার শেষের পর বলে ফেলল, ‘ডাক্তারবাবু, চারিদিকের ঘটনা দেখতে দেখতে কদিন ধরে ভগবানের উপর আমার ভরসা হচ্ছে না। বাচ্চা কোলে নিয়ে শ্রমিকেরা রৌদ্রের মধ্যে হাঁটছে, সেটাকি ভগবানের চোখে পড়েনা? ভগবান থাকলে এতগুলো গরীব মানুষের ঘর আম্ফানে ভেঙে যায়? অথচ দেখেন, যে নেতাগুলো এই অকালেও গরীবের পেটে লাথি মারছে তাদের কিছুই হয় না। দিব্যি আছে।’ ... ...

বিকেলে পাশের পাড়ায় মানে আমার বরের বাড়ির পাড়া থেকে খবর এলো, সেখানে নাকি লোকের মোবাইলে মোবাইলে আমার বরের করোনা রিপোর্ট ঘুরছে। সবাই ওকে নিয়েই আলোচনা করছে। আসলে ওই পাড়ায় আমার শ্বশুরবাড়ি, ওখানে আমার অসুস্থ শাশুড়ি থাকেন আমার ভাসুরের পরিবারের সাথে। আর আমরা শাশুড়ি অসুস্থ বলে ওনাকে এই খবরটা আমরা দিইনি। কিন্তু লোকে যেভাবে বলাবলি শুরু করলো তাতে আমরা তখন বাড়ি বসে চিন্তায় অস্থির। তারমধ্যে আমার ফ্ল্যাটের লোক আর পাড়ার লোকের থেকে তো বাজে বাজে মন্তব্য শুনছিলামই অবিরাম। ... ...

রেমডেসিভির নিয়ে প্রথম ট্রায়াল রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে (১০.০৪.২০২০) “Compassionate Use of Remdesivir for Patients with Severe Covid-19” শিরোনামে। এরপরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র বেরোয় ল্যান্সেটে (২৯.০৪.২০২০) “Remdesivir in adults with severe COVID-19: a randomized, double-blind, placebo-controlled, multicentre trial” শিরোনামে। লক্ষ্য করার বিষয় এ ট্রায়ালটি “randomized, double-blind, placebo-controlled, multicentre” চরিত্রের – যেমনটা সঠিক বৈজ্ঞানিক ট্রায়ালের ক্ষেত্রে হবার কথা। রেমডেসিভির-এর বর্তমান আবিষ্কর্তা Gilead Sciences কোম্পানি এবং NIH স্বাভাবিকভাবেই এই ওষুধের ট্রায়াল দিয়েছে। কিন্তু এদের ট্রায়ালগুলো open-label, double-blind নয়। ফলে বিজ্ঞানের বিচারে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। ... ...

মোড় থেকেই বিশ্বনাথ মন্দিরে যাওয়ার লোহার রেলিং-ঘেরা হাঁটার রাস্তা, লোকে ডালি-ফালি নিয়ে লাইন দিয়ে চলেছে। এদিকে একইরকম আরও একটা রাস্তার মসজিদে ঢোকার মুখে, যদিও সেখানে কেউ নেই। পাশে কয়েকজন পুলিশ জটলা করছে। পূর্বঅভিজ্ঞতা থেকে বুঝলাম জিজ্ঞেস করে লাভ নেই। তাই হেলতে দুলতে ওই রেলিং-ঘেরা জায়গাটা দিয়ে চলতে শুরু করলাম। কয়েকপা এগোতেই জটলাকারী পুলিশের দল ছুটে এসে জেরা শুরু করে দিল। ততক্ষণে বেশ রাগ হচ্ছে। কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন এসবের উত্তরে বললাম আর্কিওলজিকাল সাইট, তাই দেখতে এসেছি। খুব বিশ্রীরকম সন্দেহজনক দৃষ্টিতে দেখে নিয়ে, যাওয়ার নিয়ম নেই, বলে ভাগিয়ে দিল ওখান থেকে আমাদের। ... ...

জানেন কতজনের সঙ্গে আলাপ হয় কত বড়ো গুণীজন তাঁরা সবার কনট্যাক্ট আমি রেখে দিই। সময় এলে ঠিক কাজে লেগে যায়। এরম করে অন্তত দুটি ফুটবলারের জীবন আমি বাঁচাতে সাহায্য করেছি আমার চেনা পরিচিত দুই ডাক্তারের সাহায্যে। এই আপনার সঙ্গে আলাপ হলো আজ তেমনি কোথাও কোনও অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, কার্ড দিয়েছিলেন রেখে দিয়েছিলাম। ঠিক সময়ে কাজে লেগে গেলো। ফুটবলে আপনার পায়ে বল এলে আপনাকে ঠিক টাইমিং এ পারফেক্ট কন্ট্যাক্টে বা টাচে বল পাস করতে হবে দলের সহ খেলোয়াড়কে, আফটার অল ইটস আ টিম গেম... লাইফ ইস অলসো আ টিম গেইম... শ্রদ্ধায় প্রণাম করতে গিয়েছিলাম, হাঁ হাঁ করে উঠে দাঁড়িয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর সেদিনের কলাম চেক করতে হবে ওঁকে, তাই আর বিরক্ত না করে বেরিয়ে এসেছিলাম। ... ...

ফলে আমার কাছে সে সময়ের খেলার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের, যাঁরা নিজেরা এই ত্রয়ীর সঙ্গে বা বিপক্ষে খেলেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না। আমার খোঁজ ছিল চুনী, পিকে বলরামের খেলার বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য নিয়ে। কথা বলেছি, চন্দন পাল চৌধুরী (৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খেলেছেন—এভিনিউ সম্মিলনী, স্পোর্টিং ইউনিয়ান, জর্জ টেলিগ্রাফ, ভ্রাতৃ সংঘের মতো ক্লাবে। মূলত মাঝমাঠের খেলোয়াড়, প্রয়োজনে ইনসাইডেও খেলেছেন), কানাই সরকার (৬০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে ৭০ দশকের প্রথম দিকে খেলেছেন, এরিয়ান্স ও তিন প্রধানেই। ভারতীয় দলেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। গোলকিপার), অরুময় নৈগম (৬০-এর দশকে মোহনবাগান ও ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলেছেন। উইঙ্গার) সুকুমার সমাজপতি (মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য, পরে ধারাভাষ্যকার হিসেবেও খুব জনপ্রিয় ছিলেন। উইঙ্গার)—এঁদের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। এ ছাড়া সুনীল ভট্টাচার্য (৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ৭০-এর দশকে ইস্টবেঙ্গল ও ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলেছেন। ডিফেন্ডার) ও নভি কাপাডিয়া-র (ক্রীড়া সাংবাদিক) স্মৃতিচারণ থেকে সমৃদ্ধ হয়েছি। ... ...

হনুমানের লগে শেষ দেখা কথা মনে হয় সীতার। রাম রাজা হইবার পর সবাইরে প্রচুর দান-দক্ষিণা করে। সীতার গলায় সে পরায়া দেয় মূল্যবান একটা মুক্তার মালা। সীতা মালাটা পাইয়া আগায়া যায় হনুমানের দিকে- রানি হিসাবে এই মালাটাই আমার প্রথম আর এখন পর্যন্ত একমাত্র সম্পদ। মালাটা আমি তোমারেই দিতে চাই… হনুমান বিনীত হয়- বানরের গলায় মুক্তার মালা দিবা? যদি সারা জীবন এই কৃতজ্ঞতা ধইরা না রাখা যায়? সীতা কয়- তোমার কি মনে হয় ডর দেখাইলে আর ডরানোর মতো জায়গা বাকি আছে আমার? রাজ বাড়িতে বড়ো হইছি। কূটনীতিকের লগে যে আত্মীয়তাও বেশিদিন টিকে না সেইটা জানি। রাবণের বড়ো পছন্দের মানুষ আছিলা তুমি। সেই রাবণের কী দশা তুমি করছ সেইটা তো সকলেই জানে। তোমার কাছে আমার কোনো প্রত্যাশা নাই; আছে বেসুমার কৃতজ্ঞতা। এই মালাটা তুমি গ্রহণ করো… ... ...

খেলার শেষে সবাই মুরি যাচ্ছেন বাসে করে। মুরি থেকে ট্রেন। দু ঘন্টার জার্নি। পিকে চুনী একই বাসে। সময় কম, বাস চলছে জোরে, ট্রেন ধরতে হবে তো। হঠাৎ চোখ ধাঁধিয়ে গেল ড্রাইভারের, উল্টোদিকে বোধহয় একটা বাস বা লরি কিছু ছিল, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের দিকে ছুটছে বাস। বাসে রয়েছেন বসে আগামী দিনের দুই সুপারস্টার, প্রদীপ আর সুবিমল। পিকে আর চুনী। আঠারো মাসের ছোটো বড়। মোটামুটি নাম হয়ে গেছে দুজনেরই। সবাই ধরে নিয়েছে এরা কলকাতা মাঠ কাঁপাবে আর কিছুদিন পরেই। বাস ছুটতে ছুটতে ধাক্কা খেল বড় পাথরে। কাত হয়ে সামলে গেল। ভাগ্যিস গেল। না হলে? ... ...

অরুণাচলের অন্যান্য ব্যাঘ্র সংরক্ষণ এলাকায় যত বাঘ আছে তার চেয়ে ঢের বেশি আছে দিবাং ভ্যালিতে। অরণ্যের প্রতি ভালবাসা এতো গভীর যে ইদু মিশমি সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের সমাধিতে রাখা থাকে বিভিন্ন শস্য ও বৃক্ষের বীজ সম্বলিত একটি বটুয়া। মৃত্যুর পরেও যেখানে সে যাবে, সেখানেই গড়ে উঠবে গহীন অরণ্য। গত ২০ শে এপ্রিল ২০২০ করোনা অতিমারিতে ব্যস্ত সাধারণকে অন্ধকারে রেখে একটি ভিডিও কনফারেন্সের পর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এই স্বর্গে বন কেটে গড়ে উঠবে বিশাল এক হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট, দেশের বিশালতমগুলির মধ্যে একটি। এই প্রজেক্টের অঙ্গ হিসেবে সরকারি আস্তিনে লুকোনো তাসের মধ্যে রয়েছে দুটি বিশাল বাঁধ, দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, ভূগর্ভস্থ পাওয়ারহাউস, ৫০ কিমি ব্যাপ্ত রাস্তাঘাট। এসব করতে কিছু গাছ কাটা তো অবশ্যম্ভাবী। এই "কিছু"র সংখ্যা হলো ২.৮ লাখ গাছ, যাদের অনেকেরই গুঁড়ির ব্যাস ৮ মিটারেরও বেশি। ... ...

ঘাটের কিনারায় আস্তানা গাড়া হলো। একেবারে ফেলু মিত্তিরের কাশীবাসের মতই পরের দিন সকালেই আলাপ হয়ে গেল একজন অদ্ভুত লোকের সাথে। ভদ্রলোক বাঙালী, দক্ষিণ কলকাতায় বাড়ি, তন্ত্রসাধনা সম্পর্কিত বই লেখেন। বয়সে আমার থেকে কয়েক বছরের বড়, শিবপুর বা যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একদা বহুজাতিকে চাকরি করেছেন। এখন সেসবে মন নেই। সংসারী মানুষ, কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময় আজ হিমালয় তো কাল কাশী এইসব করেন। বললেন কয়েকটা বই বেরিয়েছে, ছদ্মনামে (আমি খুঁজে দেখেছি, ঐ নামে লেখক ও তন্ত্র ইত্যাদির বই আছে, তবে একই লোক নাও হতে পারে)। এরপর ভদ্রলোক আমায়, বললে বিশ্বাস করবেন না, ভোরবেলার স্নিগ্ধ রোদে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে খেতে, কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট নিয়ে চাট্টি ভাট দিলেন। ... ...

জেনার যেভাবে গো-বসন্ত আর গুটিবসন্ত বীজাণু মানুষের দেহে ইচ্ছেমত প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন, আজকের দিনে এইভাবে সরাসরি মানুষের ওপর পরীক্ষা করা যায় না। কিন্তু সেসময় এরকম পরীক্ষা চলত। আর তখন চিকিৎসাশাস্ত্র এতোই অনুমাননির্ভর ছিল, মানুষের ওপর করা পরীক্ষার এতোই অভাব ছিল যে এক-দুজন মানুষের রোগ ঠেকানো গেলে সেটাকেই একটা বেশ বড়সড় প্রমাণ বলে ভাবা হত। তাই জেনার-এর টিকার এমন হাতেগরম ফল সাধারণভাবে অগ্রাহ্য হবার কারণ ছিল না। কিন্তু ইংল্যান্ডের ডাক্তার সমাজ এই টিকা আবিষ্কারকে চট করে মেনে নিতে পারলেন না, বরং তাদের একটা বড় অংশ একে উড়িয়ে দিতে চাইলেন। ... ...

নার্স দিদিরা পৃথিবীর অন্যতম নিয়ম শৃঙ্খলে আবদ্ধ ক্যাডার। এনারা যেভাবে মুখ বুজে বিনা প্রতিবাদে হায়ারার্কি মেনে চলেন তা শেখবার মতো। প্রথম দিকে সেটা আমার কিছুটা বিরক্তিকরই লাগত। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম, চরম হট্টগোলের সরকারি হাসপাতালগুলি টিকিয়ে রেখেছে তাঁদের এই অসাধারণ শৃঙ্খলা। তাছাড়া সম্ভবত এই ক্যাডারের সকলেই মহিলা হওয়ায় এনাদের মধ্যে করাপশন প্রায় দেখাই যায়না। নার্স দিদিদের কাছে শিখেছি অনেক কিছু। এনারা অনেকেই অত্যন্ত ভালো ছাত্রী। আজকাল তো উচ্চমাধ্যমিকে ৮০% এর বেশি নম্বর না পেলে জি এন এম নার্সিং এ সুযোগ পাওয়াই মুশকিল। ... ...
"সে এক সময় ছিলো, যখন কানেক্ট করতে হত। বারবার কেটে যাওয়া যোগাযোগ ফিরে ফিরে ধরে, কথোপকথন। এখন ডিসকানেক্টের যুগ। জুড়ে যাওয়া যোগাযোগ কেটে কেটে কথোপকথন। মেশিনগানের গুলির মত ছিটকে আসছে শব্দমালা, গতানুগতিক। ক্লান্তিকর ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র আনার চেষ্টায় তাই শুরু হচ্ছে এই নতুন বিভাগ। রাজনীতি থেকে খেলা, বিজ্ঞান থেকে কবিতা, দাঁতের মাজন থেকে শিবের গাজন, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে লোডশেডিং এই সব এবং আর যা কিছু ---সমস্তই এর আওতায়। দুঃসময়ের দোসর দোতলার এগজিট, দরকারমত যা পোল থেকে পলায়ন সবেতেই কাজে লেগে যাবে।" ... ...

বয়ঃসন্ধির সকালে যখন মাথা ভরতি ভ্যাপসা গন্ধ নিয়ে ম্যামের খোলা পিঠ থেকে অন্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে এসে থামত তখন তারা ডেকে উঠত। হয়তো পুরুষ চড়ুইটা। সঙ্গমহীনতার বিষাদে৷ ঘরবন্দি ভালোবাসা ছুঁয়ে দেখতে চাইত। পুরুষত্বকে বলিয়ান করতে চাইত। হিমালয়ে শীর্ষে তার পুরুষত্বকে রাখতে চাইত। যেখানে তার কামনার সবকটা রং ছুঁয়া যাবে। রঙধনুতে হেঁটে যাবে সংস্কারে আটকে পড়া সঙ্গিনীর নিশ্বাস পুঁজি করে। পরস্পরের রঙের আদানপ্রদান হবে তারাদের মাজারে। খসে পড়া তারা বয়সি মফস্বলে স্পর্শ এঁকে যাবে কামনার উৎকৃষ্ট সময়ে। যে সময় এখনও বার বার ফিরে আসে। ফিরে যায় কাঙ্ক্ষিত শৈশবের আটকে থাকা ভূগোলে। রাত নেমে আসে, বাড়ি ফিরে একটি নিঃসঙ্গ চড়ুই। ... ...

ফোনটা হাতে নিয়ে বসার ঘরে বসে ফেসবুক, খবরের সাইট খোলে রুখু। আসামের ডিটেনশান ক্যাম্পে আটক মহিলাদের নিয়ে একটা প্রতিবেদন। পাহারাদার, কর্তাব্যক্তিদের ধর্ষণ তো সাধারণ ব্যপার সেখানে। পড়তে পড়তে রুখুর হাত পা অবশ হয়ে আসে, পশ্চিমবঙ্গেও রাজারহাট আর বনগাঁয় ডিটেনশান সেন্টারের জন্য জমি নেওয়া হচ্ছে। আচ্ছা রুখুকে ধরলে তো ভিনরাজ্য থেকে ধরে আনতে হবে। তাহলে সেখানকার জেলেই রাখবে? আর সুমুকে ধরলে? মা’কে কে দেখবে তখন? ... ...

ভোরের দিকে শীতবোধে সোমনাথের ঘুমটা ভেঙে গেল। পায়ের কাছের চাদর টেনেও শীতটা কমছে না। নিজের গলায়-কপালে হাত দিয়ে দেখল, গা বেশ গরম। নাক দিয়ে জল গড়াচ্ছে। হয়তো গত সন্ধ্যার ঠান্ডা জলের ঝাপ্টাটা বসে গেছে। কিন্তু বুকটায় চাপ ধরে আছে। দম আটকে আসছে। উঠে বসে জোরে শ্বাস নিতে গিয়ে কাশি উঠল। অন্য সময় হলে গা করত না সোমনাথ। ঝড়-বাদলের দিনে, তাপমাত্রা ওঠানামার মধ্যে এমন তো হয়েই থাকে। তার উপর সিগারেট-বিড়ি খায়। ফুসফুস এমনিতেই কমজোরি। গ্যাস-অম্বল নিত্যসঙ্গী। তার উপর চিংড়ি খেয়েছে। কিন্ত এখন খুব ভয় পেয়ে গেল সোমনাথ। এসব কীসের লক্ষণ? তবে কি দত্তদার ঘরে খাবার পৌঁছোনোর ভালোমানুষিটাই কাল হল? ওদের মুখে তো মাস্ক ছিল না। ঘরে এসে হাত ধুতে ভুলে গিয়েছিল কি? মনে পড়ছে না। ভয়টা বাড়ছে। ... ...