
৫১ সালের নির্বাচনের অন্যতম বিষয় ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠন। নেহরু এবং প্যাটেল সেই সময় সেটা প্রয়োজন মনে করেননি। সমস্যার শুরু সেখান থেকেই, যেটা প্রথম দেখা গেল দক্ষিণ ভারতে। তেলুগুদের জন্য পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবী ছিল আগেই। কিন্তু কেন্দ্র তাতে রাজি হয়নি। গান্ধিবাদী শ্রীরামালু এই দাবীতে অনশন করেছিলেন, কিন্তু নেহরু-প্যাটেল-সীতারামাইয়ার তৈরি কমিটি, নতুন রাজ্য নির্মাণে অস্বীকৃত হয়। ফলে শ্রীরামালু আবার অনশন শুরু করেন ৫২ সালের অক্টোবর মাসে। এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অনশন করে মৃত্যুবরণ করেন ডিসেম্বর মাসে। এর আগে এইভাবে মারা গিয়েছিলেন যতীন দাশ। ... ...

এগারোই সেপ্টেম্বর, দুহাজার এক সাল। যাঁরা এখনো মনে রেখেছেন, তাঁদের জন্যে। আমরা কখনো ভুলতে পারিনি, কারণ বড্ড বেশি রিয়েল, র আর রাফ ছিল সেই দিনটা। এখানে এই নিউ ইয়র্কে। ... ...

তার পরেরদিন সকালে আবার মা উঠিয়ে দেয় ঘুম থেকে, তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নিতে বলে, ভর্তি হতে যেতে হবে। আমি অবাক হয়ে ভাবি হিন্দু গার্লস কি এত সকালে ভর্তি নেবে? ওদের তো দুপুরে স্কুল, কিছু জিগ্যেস করার আগেই দাদু আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে, সেই ভাগাড়পাড়ার স্কুলের দিকেই যাই আমরা। দাদু আমাকে নিয়ে ‘বালিকা শিক্ষা সদন জুনিয়র হাই' স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়, বিলবইতে লেখা ছিল নামটা, ইরাদিদিমণি হেডমিস্ট্রেস। কিন্তু এখানে কেন সেটা যদি কেউ একটু বুঝিয়ে দিত! জানুয়ারী মাসে তো তেমন ক্লাস হয় না, রোজই প্রায় দশটায় ছুটি। আমি বাড়ী ফিরে দেখি শুভ্রা, রিঙ্কু, শর্বরী, মিঠু, সাতুরা এ ওর বাড়ী গিয়ে ডাকাডাকি করে একজায়গায় হয়, তারপর একসাথে খুব মজা করতে করতে যায়, ইলু, শীলুও হীরালাল পালে ভর্তি হয়েছে এই বছর, ওরাও যায়। ওদের স্কুলে রোজ ড্রেস পরতে হয় না, বেশীরভাগ দিন ওরা পরিস্কার এমনি জামা পরে স্কুলে যায়, মাঝে মধ্যে সবুজ-সাদা স্কুলড্রেস পরে। আমার তো আর ওদের সাথে হইহই করে যাওয়া হয় না, আমি থেকে যাই ভাগাড়পাড়া স্কুলে ফেলের মধ্যে ফার্স্ট হয়ে। ... ...


"হোয়াট কাইন্ড অফ ড্রামা ইস দিস?" "আরে বাবা বেশিক্ষণ না,” খোঁচা বলল, “এ ড্রামা চলবে খুব বেশি হলে এক থেকে দেড় ঘন্টা।" "কী করতে চাইছিস?” “মেয়ে পাচারের বিজনেস শুরু করেছি। তোকেই ফার্স্ট পাচার করব।” হাত বাড়িয়ে খোঁচার মাথায় চটাস করে মারল স্বর্ণালী। “মারছিস কেন? ভাল লোকের কাছেই বেচব তোকে। ভেরি রিচ, তোকে সোনায় মুড়ে রাখবে।” এবার স্বর্ণালী খোঁচার চুল ধরে জোর টান দিল একটা। “এমন করলে কিন্তু কোনও গরীব লোকের কাছে বেচে দেব, তাতে যা লস হয় হবে,” বলল খোঁচা। অভিষেক হেসে উঠল। "খোঁচা থাম... ভয় পাস না সোনা," বলল তৃষা। ... ...

"অপর" হয়ে ওঠার শাস্তি ... ...

তার চোখে-মুখে এক অদেখা, অজানা, অভূতপূর্ব উল্লাস...কোন সেরা চিত্রকরও কি পারে সে উল্লাসকে আঁকতে পুরো সার্থকতার সাথে? অথবা, কোন ফটোগ্রাফার ফুটিয়ে তুলতে পারে সেই বিজয়ের সত্যিকার অভিব্যক্তি? ... ...

বাঙালি লেখিকার অপেক্ষায় ... ...

ফেসবুকে গুরুচণ্ডা৯ গ্রুপে রিজেক্ট হয়ে গেলে এখানে পোস্ট করি ... ...


আমাদের দেশে -- ভারত, বাংলাদেশ ইত্যাদি জায়গায় -- শিক্ষা হলো প্রধানতঃ চাকরিবাকরি, কাজকর্ম পাওয়ার একটা রাস্তা। এবং মালিকদের ও শাসকদের নির্ধারিত পথ অন্ধভাবে অনুসরণ করার যোগ্যতা অর্জন করা। কিন্তু এ শিক্ষা কোনো শিক্ষাই নয়। ... ...

গুরুচণ্ড৯-র বই। দ্বিতীয় সংস্করণ। ... ...

বিট আন্দোলন ... ...

১। ভারতে কোনো সাধারণ ভাষা বা সাধারণ জাতীয়তা নেই। ব্রিটিশ শাসনের চাপে একটা বহির্মুখী ঐক্য গড়ে উঠেছে, কিন্তু তার ভিতরে যা সাংস্কৃতিক মিল, তা ইউরোপের বা মধ্যপ্রাচ্যের নানা জাতির মধ্যের মিলের চেয়ে বেশি কিছু না। ফলে ভারতবর্ষকে একটা জাতি হিসেবে ভাবা যাবেনা। ২। ভারতবর্ষের সুনির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটা তালিকা করেন তিনি। পূর্বে বাঙালি, ওড়িয়া, অসমীয়া। পশ্চিমে গুজরাতি, মারাঠি। দক্ষিণে চারটি - তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালি। এবং খুবই কৌতুহলোদ্দীপক, পাঞ্জাবি এবং হিন্দুস্তানিদের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, যে, এদের জাতিনির্মাণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। একই তালিকায় পাহাড়ের জনজাতিরাও আসে। ৩। দেশভাগের পর, বাংলা নিয়ে আলাদা করেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেহেতু বাঙালি একটা আস্ত জাতি, তাই কৃত্রিম ভাগাভাগির পরও দুই টুকরোর মিলনের পক্ষে ছিলেন দিয়াকভ। তিনি প্রায় ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যে, কোনো সন্দেহ নেই, ভারত এবং পাকিস্তান, দুই দিকেই বাঙালি সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে রাষ্ট্রশক্তিকে। এই ভবিষ্যদ্বাণী, বলাবাহুল্য সত্য হয়েছে। নকশালবাড়ি, মুক্তিযুদ্ধ, উদ্বাস্তু, এনআরসি, সব মিলিয়ে বাঙালি সমস্যা এবং বাঙালি ট্র্যাজেডি চলেছে, চলেছে রক্তগঙ্গাও। ... ...

বেঙ্গালুরু আর মুম্বাইতে ইণ্ডিয়া জোট গঠনের মধ্য দিয়ে তাহলে নতুন কী হোলো যাতে বেশ কিছু বামপন্থী সমর্থক দলগুলির ওপর রেগে গেলেন ? কারণ একটাই, সেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের অংশগ্রহণ।তাঁদের আবেগকে সম্মান জানিয়েও বলতে হয় এ তাঁদের রাজনৈতিক ভুল। ... ...

স্তালিনের মৃত্যুর পরেরদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত নেহরু ভারতীয় সংসদে স্মৃতিচারণ করে লম্বা বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেন, যে, স্তালিনের গুরুতর অসুস্থতার কথা যখন কানে আসে, তখন তিনি মস্কোর ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের পাঠানো একটা প্রতিবেদন পড়ছিলেন। সেই শেষ সাক্ষাৎকারে স্তালিন কথা বলেছিলেন ভারতের নানা ভাষা নিয়ে। তাদের শতকরা বিন্যাস, প্রভাব, সম্পর্ক, এইসব নিয়ে। এতটাই বিশদে, যে, নেহরু স্তালিনের জ্ঞানে কিঞ্চিৎ বিস্মিতও হন। ... ...

অনুবাদকও ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে ... ...

"চার জন আলাদা হয়ে খুঁজতে হবে, এক সাথে না," খোঁচা বলল। বলে একটু সরে দাঁড়াল, দোকানে আসা এক ভদ্রলোককে জায়গা করে দিতে। বছর ৫৫-র ভদ্রলোকের গায়ে ব্রাইট নীল রঙের শার্ট আর ফেডেড জিন্স, স্পোর্টস জুতোটা বেশ নামী কোম্পানির। পান কিনে ভদ্রলোক দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন। "সেই লোকটা," অভিষেক ফিসফিস করে বলল। "কোন লোকটা?" তিন জন প্রায় এক সঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। "আন্টির সঙ্গে যে লোকটা কথা বলছিল।" "তুই সিওর?" বলল তৃষা। "তাই তো মনে হচ্ছে, এই রকম ব্লু শার্টই ছিল ওনার গায়ে, প্যান্টটাও তো সে রকমই।" ভদ্রলোক হেঁটে যাচ্ছেন সামনে। একটা তিন তলা সাদা বাড়ির গায়ে একটা গ্যারাজ, সেখানেই ঢুকে গেলেন। ... ...

পাপের স্পর্শ ( A touch of Sin ) ছবিতে হিংসা, রক্তপাত, আত্মহনন ভালো পরিমাণে আছে। কিন্তু এসব আছে এমন একটা সমাজে বাঁচার প্রতিক্রিয়া হিসেবে যেখানে প্রতারণা আছে, নিষ্ঠুরতা আছে, আছে অর্থগর্বী প্রমত্ততা। দেখে কখনো মনে হবে না যে ৭৪ বছর আগে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে যাওয়া, সমাজতান্ত্রিক পথে হাঁটা কোনো দেশের ছবি দেখছি। ... ...

দিল্লির নয়ন-মনোহর গম্বুজের তলে যুবরাজ বুঘরার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ত! সাপের থেকেও পেঁচানো এর প্রাসাদ, ভয়ংকর কুটিল এর খিলান! এদিকে যে খেয়ালী ও আত্মভোলা যুবরাজকে নিয়ে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না, সে-ই তাকেই তিনি পাঠালেন বাংলায়, যার বিদ্রোহের ঘনঘটায় অষ্টপ্রহর শংকিত থাকতো দিল্লীর দরবার। ফরমানটা জারি হওয়ার পর থেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন বুঘরা; কী জানি কোন অচেনা মুল্লুকে তার বলী হতে যাচ্ছে! কিন্তু যতই এগিয়ে আসছিল একটি নদীবিধৌত সবুজ আঁচল, মন-প্রাণ জুড়িয়ে আসছিল বুঘরার, আর মনে হচ্ছিল, এতদিন বুঝি এর অপেক্ষাতেই ছিলেন! বাংলার প্রকৃতি ছিল খেয়ালি -এমন ঘনঘোর বর্ষা এমন অঝোর ধারায়, এক টানে, এক সুরে - আর কোথাও দেখেননি বুঘরা! খেয়ালি বাংলা ও বুঘরা হয়ে উঠলেন হরিহর আত্মা! আজ সেই আত্মাকেই ছেড়ে দেয়ার কাতর আহবান উঠে এসেছে পিতার কণ্ঠে! কিন্তু কি করে সম্ভব! কি করে! ... ...