
বাংলার আকাশে বাতাসে এখন বড় বেশি উৎসবের গন্ধ। আশি ও নব্বইয়ের দশকে গণবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন বহু মানুষ। ঈশ্বর তত্ত্বের পাশাপাশি জ্যোতিষ, তন্ত্র-মন্ত্র, ধাপ্পাবাজির বিরুদ্ধে ঘরে বাইরে সরব ছিলেন তারা। দুর্গাপুজোর মত চার-পাঁচ দিনের ধর্মের গন্ধ মেশা জগঝম্প আয়োজনে হয় বইয়ের স্টল না হয় সম মনভাবাপন্ন মানুষজনের সঙ্গে আড্ডা মেরে সময় কাটিয়ে দিতেন ওরা। পুজোর বাজারেই এই নাস্তিকদের জন্য তৈরি হয়ে যেত আর একটা স্পেস। আজকের দিনে সেই জায়গাটাই গিয়েছে হারিয়ে। ... ...

পিএফআই যে ঠিক কী 'দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র' করেছে, খবরের কাগজ তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পেলামনা। অবশ্য এখন গণতন্ত্রের কারবারই আলাদা। সেই উপকথার গপ্পে ছিল, 'তুই না, তোর বাপ জল ঘুলিয়েছিল', সেখান থেকে একটা জিনিস বোঝা যায়, যে, খুব বদ হলেও, রাজা-বাদশারা ইচ্ছে হলেই কারো মুন্ডু কেটে ফেলতে পারতেননা। অন্তত একটা ফালতু অভিযোগ খাড়া করতে হত। এখন দারুণ গণতন্ত্রে সেই চক্ষুলজ্জাও উঠে গেছে। এমন সব দুর্দান্ত আইন বেরিয়েছে, যাতে, সব গোপন। তদন্ত তো গোপন বটেই, বিচারও চুপি-চুপি, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগও গোপন। আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ব্যাপারটা তো ক্রমে উঠেই যেতে চলেছে। খুব ইচ্ছে হলে করতেই পারেন, কেউ আটকাবেনা, কিন্তু আপনি কেন নির্দোষ সেটা বলবেন কীকরে, অভিযোগটাই তো জানা নেই। হয়তো বললেন, আমি তো চুরি করিনি, খুনও করিনি, কিন্তু তদন্তকারীদের খাতায় লেখা আছে, সুপ্রিম কোর্টের দিকে ট্যারা চোখে তাকিয়েছিলেন, ওইটাই অপরাধ। কিন্তু সেটা আপনাকে বলা যাবেনা। সে আপনি জানবেনই কীকরে, আর পাল্টা বলবেনই বা কীকরে। ... ...

দেবীপক্ষে দেবীর কেবল পুজো হয়। দেবীরা বেয়াড়াপনা কেউ সয় না। দেবীর ইচ্ছে অনিচ্ছের তোয়াক্কা করে না। প্রয়োজন হলে বোধনের আগেই বিসর্জন দিয়ে দিতে কসুর করে না। ... ...


বস্ত্র সংগ্রহের জন্য এপ্রিল মাসে আমাদের গৃহে আগত আনা বললেন শীতের জামা কাপড় তিনি চান না। ততদিন তাঁরা এ দেশে থাকবেন না। রোদিকা জিজ্ঞেস করে, ফিরবেন কোথায় ? তিনি বলেছিলেন, দেশে, আমাদের নিজেদের দেশে। ইউক্রেনের বিশ শতাংশ জমি রাশিয়ান দখলে। বাকি অংশে মাঝে মধ্যে মিসাইল বা পেটো পড়ে – এমন কি দূর তেরনোপিল, ব্রিয়ান্সক, সুমিতে। অনেক বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে জানালা নেই। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। কিভের কফি হাউস, লভিভের লাইব্রেরি তাদের দরোজা খুলেছে। দেশের বিশাল অংশ শত্রু সৈন্য মুক্ত। লুহান্সক দনেতস্ক ফেরবার কথা অবশ্যই কেউ মনে আনেন না। দনেতস্কের জনসংখ্যা ১৭ লক্ষ থেকে তিন লক্ষে নেমে এসেছে। ... ...


কিভ নগরীর উত্তর পশ্চিমে একটি শহরতলির নাম ইরপিন। সেখান থেকে আর পাঁচ কিলোমিটার গেলেই বুচা। আমরা জানি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম দিকে এই অঞ্চলে রাশিয়ান সৈন্যরা নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপরে অকথ্য অত্যাচার, বলাৎকার এবং লুণ্ঠন চালিয়েছে। বুচার রাজপথ ভরে গেছে শবে। মহামান্য লাভরভ বলেছেন ইউক্রেনের মানুষ নিজেদের লোককে মেরে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। আমাদের সৈন্য ভদ্র শিক্ষিত মার্জিত। রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে এ আরেকটি পশ্চিমি চক্রান্ত।রাশিয়ানরা এই রণক্ষেত্র ত্যাগ করে আজ অনেকটা পুব দিকে চলে গেছে। রেখে গেছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী কালে ইউরোপের মাঝে অনুষ্ঠিত ক্রুরতম ধ্বংস ও হত্যালীলার ইতিহাস। ... ...

ঠাকুরের কথা, "মানবগুরু মন্ত্র দেন কানে, জগৎগুরু মন্ত্র দেন প্রাণে।" সেই সকল মানুষ – যাঁদের মধ্য দিয়ে কথায়, লেখায়, সুরে, কাজে জগৎগুরু, পরম আমাদের প্রাণে সৃষ্টির বার্তা পাঠিয়ে চলেছেন – সব্বাইকে আমার শ্রদ্ধা জানাই আজকের দিনে। ... ...

বামপন্থী কে? এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে কি বামপন্থী বলা যায়? এই নিয়ে তর্ক হচ্ছিল আমার এক পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে। সেই আলোচনার সুত্রে উঠে আসা কিছু ভাবনা একত্র করে লিখে ফেললাম। বলাই বাহুল্য, এই সব প্রশ্নের কোন নিশ্চিত উত্তর নেই। কিন্তু এই ধরণের প্রশ্ন নিয়ে কীভাবে ভাবা যায় তার একটি দিকনির্দেশ আছে। ভাবনা চলতে থাকুক। চরৈবতি! ... ...

কবিতা কৃষ্ণন নাকি টুইটে লিখেছেন, "সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল একনায়কতান্ত্রিক, সংসদীয় গণতন্ত্রের চেয়ে ঢের খারাপ"। আমি টুইটার দেখিনা। হিন্দু তে দেখলাম ( **লিংক লেখার নিচে)। টুইটারের আড়াই লাইনে এইসব তত্ত্ব লেখার কী মানে জানিনা, অবশ্য গোটা পৃথিবীতেই রাজনীতি এখন রেটোরিক সর্বস্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব কিছু দেখিওনা, উত্তরও দিইনা। কিন্তু এইটা কবিতা কৃষ্ণন বলেই লিখতে হচ্ছে, কারণ, "প্রগতিশীল"রা একরকম করে আদর্শ পতাকাবাহক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই কবিতাকে উপস্থাপন করছেন। ফলে তাঁর বক্তব্যের কিছু ওজন আছে। এবং এটা ঠিক প্রেক্ষিতহীনভাবে একটা টুইট তুলে আনা নয়। হিন্দুতে দেখলাম, একই লাইনে কিছু কথাও বলেছেন। যেমন সোভিয়েত মডেলকে বিশ্বের খারাপতম একনায়কতান্ত্রিক মডেল হিসেবে দেখতে হবে। ... ...

এবার রাশিয়ান আক্রমণ প্রকট হলো দূর হতে নিক্ষিপ্ত রকেটের রূপে। তার কতগুলো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে আঘাত হেনেছে তা সঠিক জানা যায় নি। তবে নিরাপদ আস্তানায় বসে ছোঁড়া রাশিয়ান অনেক রকেট বাহী বোমা দেখা দিয়েছে অসামরিক মানুষের ঘরবাড়ির জানলায়, দরোজায়, হাসপাতালে, গোশালায়। প্রতিদিন, প্রতি রাতে সশব্দে সেই সব রকেট নাগরিকের প্রাণ ও শিশুর নিদ্রা হরণ করেছে। যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কবিহীন কোনো প্রকারের সামরিক গুরুত্ব হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সাধারণ নাগরিকের জীবন এবং জানলা চুরমার দ্বারা সামগ্রিক গণভীতি উৎপাদনে সক্ষম মহামতি পুতিন দেশছাড়া করেছেন বহু মানুষকে। অন্য কোন উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে কিনা সেটা তিনিই জানেন। অধিকন্তু ন দোষায় বিধে রাশিয়ান করদাতার অর্থে কেনা অজস্র লক্ষ্যভ্রষ্ট রকেট আছড়ে পড়েছে যেখানে সেখানে, গোয়ালে, স্কুলের মাঠে, হাইওয়েতে, বনে বাদাড়ে । ... ...

আজকের নিউজ চ্যানেল ঘাটলেই ইরাকের সংঘর্ষের ব্যাপারটা নজরে আসবে। খবরগুলোতে যা বলা হচ্ছে তার সারমর্ম হচ্ছে, প্রভাবশালী শিয়া ক্লেরিক মুকতাদা আল সাদরের রাজনীতি থেকে পদত্যাগের পর তার সমর্থকরা বাগদাদের গ্রিন জোনে, মানে যেখানে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস, পার্লামেন্ট, ডিপ্লোমেটিক ভবন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন আছে সেখানে ঢুকে পড়েছে। বাগদাদ ছাড়াও কারবালা, বসরা সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। পুলিস বরাবরের মতই বিক্ষোভ থামাতে ব্যস্ত। ন্যাশনওয়াইড কারফিউ জারি করা হয়েছে। শেষ জানা খবরে ২৩ জন আন্দোলনকারী মারা গেছে। আন্দোলনকারীরা বলছে পার্লামেন্টের ডিজোল্যুশন চান, এই পার্লামেন্ট করাপ্টেড। যাই হোক, আসল পরিস্থিতি কী, কেন এই আন্দোলন, দেশটিতে কী সংকট চলছে তা জানতে একটু পিছিয়ে আপাতত ২০২১ সালের অক্টোবরের ইলেকশনে যেতে হবে। আর তারও কারণ খুঁজলে যেতে হবে সেই ইউএস ইনভ্যাশনে... ... ...

মুসলমান বা অন্য কোনো সম্প্রদায়গত পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি দিয়ে হিন্দুত্ববাদকে পরাস্ত করা যাবে না। কেননা পরিচয়বাদী রাজনীতি একটা আরেকটাকে শক্তিশালী করে। হিন্দুত্ববাদকে পরাস্ত করতে পারে স্রেফ গণতান্ত্রিক রাজনীতি। ... ...

সুরকার হিসেবে হেমন্ত খুবই অল্পচর্চিত, এবং অনেকটাই আন্ডাররেটেড। অথচ হেমন্তর সুর যে কীরকমভাবে শ্রোতাদের মর্ম ছুঁতো তার প্রমাণ বাংলা ছবিতে সুরকার হেমন্তর সাম্রাজ্যবিস্তার - জীবনের একটা সময়ে প্রায় একচ্ছত্র। ... ...

বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি খুব স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয়, যে, ধর্ষকরা পরিষ্কারভাবেই দুই গোত্রের। এক দল নির্ভয়াকান্ডের ধর্ষক, বা হায়দ্রাবাদ কান্ডের অভিযুক্ত, যারা নিন্দিত, ধিকৃত, দেশজুড়ে ঘৃণার পাত্র। জেলের কয়েদিরাও তাদের পিটিয়ে দেয়, পুলিশ পারলে এনকাউন্টার করে দেয়। পাবলিক রাস্তায় নামে, পারলে থুথু দেয়, এবং দেশজোড়া উল্লাসের মধ্যে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, খুব এবং ধর্ষণে অভিযুক্তদের। আর আরেকটা গোত্র হল কাঠুয়াকান্ড বা বিলকিস বানোর ধর্ষকরা। তাদের সমর্থনে মিছিল হয়, পারলে বেকসুর খালাসই করে দেওয়া হত। কোনোক্রমে কারাগার অবধি পৌঁছলে সেখান থেকে কায়দা-কানুন করে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ফিরলে ফুলমালা দিয়ে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। ... ...

স্বাধীনতা উৎসবে দেখলাম অনেক তরুণ উজ্জ্বল মুখ। তারা বাড়ির কাছে না হলেও স্থানীয় স্কুলে জায়গা পেয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হলে পুরো দমে লেখা পড়া শুরু হবে, ইংরেজি শেখানোর স্পেশাল ব্যবস্থা সহ। ইতিমধ্যে কোন কোন স্কুল বা পৌর সভা তাদের নানান ক্যাম্পে নিয়ে গেছে – সমুদ্রের ধারে অথবা বনের ভেতরে সেখানে তারা এ দেশের ছেলে মেয়েদের সঙ্গে মেলা মেশা করার সুযোগ পায় বাধ্য হয় ইংরেজিতে বাক্যালাপ করতে। তারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। মায়েরা সংসারের। এই কলরব মুখরিত হলঘরে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে অনুপস্থিত পুরুষেরা। স্বামী বাবা ভাই কাকা ইউক্রেনের কোথাও অস্ত্র হাতে বনে বাদাড়ে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছেন, কেউ ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া গাড়ি চালাচ্ছেন। নিয়মিত খবর জোটে না। ... ...

আমি নিশ্চিত, তুমি এমন দু’জনকে চেনো, যাদের একজন ক্রিকেটের সমস্ত শুকনো সংখ্যাতত্ত্ব মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আর একজনের সে সব শুনলেই ক্লান্তি আসে। কিন্তু কিছু কিছু প্রশ্ন এতটাই গভীর, এতই বিশাল তার পরিধি – যে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভিড় করে আসে আরও হাজারটা প্রশ্ন (কম করেও) – যারা নিজেরাও প্রায় ততটাই গভীর। সেইসব প্রশ্ন-পিতামহ তখন জন্ম দেয় এক-একটি গবেষণার বিষয়ের। ... ...

হাহা। হাহাহাহা। হাহাহাহাঃহাঃহাঃহাঃ। ... ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিশ্বভারতী' পড়তে গিয়ে কিছু আলোচনা, ধ্যানধারণা সম্বন্ধে পরিচিত হলাম। তেমন কিছুই নয়, ভদ্রলোক বিশ্বভারতীর সুপ্তি থেকে বিকাশে যাওয়ার পথগুলি বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন ১৩২৮-এর বসন্তকালে। যেমন বুঝেছি, কয়েকটি ধাপে লেখার চেষ্টা করছি। ধাপগুলির নাম আমারই দেওয়া, নিজের বোঝবার সুবিধার জন্য। ... ...

পবিত্রতা, সারল্য, অহিংসা, সত্যাশ্রয়, ত্যাগ, দয়া, মৃদুস্বভাব, তেজস্বিতা, ক্ষমা, ধৈর্য্য, মঙ্গলাচরণ, এবং অবশ্যই আত্মশ্রদ্ধা ও আত্মজ্ঞান – রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিটিই প্রায় কর গুনে তুলে এনেছেন তাঁর এই রচনায়। আমরা যে দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন করলাম, তার মধ্যে আজ কি এই গুণাবলী পাই আমরা? ... ...