এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  অপর বাংলা

  • অর্গ্য দত্ত বক্সীর গদ্য বুঝে ওঠার চেষ্টা

    Malay Roychoudhury লেখকের গ্রাহক হোন
    অপর বাংলা | ২৭ অক্টোবর ২০২২ | ২৭৩ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | 32 | 33 | 34 | 35 | 36 | 37 | 38 | 39 | 40 | 41 | 42 | 43 | 44 | 45 | 46 | 47 | 48 | 49 | 50 | 51 | 52 | 53 | 54 | 55 | 56 | 58 | 59 | 60 | 61 | 62 | 63 | 64 | 65 | 66 | 67 | 68 | 69 | 70 | 71 | 72 | 73 | 74 | 75 | 76 | 77 | 78 | 79 | 80 | 81 | 82 | 83 | 84 | 85 | 86 | 87 | 88 | 89 | 90 | 91 | 92 | 93
    অর্ঘ্য দত্ত বক্সীর গদ্য বুঝে ওঠার চেষ্টা :মলয় রায়চৌধুরী

    পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছেন অর্ঘ্য, দাঁড়ান গুনে বলছি কতোগুলো গদ্য আছে বইটায়, হ্যাঁ, সাতটা, তবে মাসখানেকের বেশি নানা সময়ে পড়েছি বলে জানি না, একআধটা হারিয়ে ফেললুম কি না।

    পাণ্ডুলিপি হাতে পেয়ে প্রথম যে ভাবনাটা মাথায় এলো, তাহলো এই যে কতো বছর বয়সে লেখকীয় ইপিফ্যানিতে আক্রান্ত হয়েছেন অর্ঘ্য দত্ত বক্সী?

    কোনো কিছু পড়ায় আমার বদভ্যাস হল যে অবান্তর চিন্তায় হারিয়ে যাই, ফলে আবার ফিরে আসতে হয় যেখান থেকে শুরু করেছিলুম সেখানে; এই করে অর্ঘ্যর গদ্যগুলো পড়ে উঠতে বেশ সময় লেগে গেল। সাতাত্তর বছর বয়সে ডাইগ্রেশন স্বাভাবিক, নয়কি?

    এই বয়সে সাহিত্য আলোচনা করতে আমি বড়োই অনাগ্রহী।

    লরেন্স স্টার্ন অবশ্য বলে গেছেন যে ‘পড়তে বসে হারিয়ে যাওয়া হলো সূর্যের আলো, জীবন, বই পড়ার আত্মা’। সকালে ডাইনিং টেবিলে বসে যে গদ্যটা পড়ছিলুম, দুপুরে অন্য একটা গদ্যে আটকে যাই; পরের দিন আবার আরেকটা অন্য গদ্য।

    পাণ্ডুলিপি পড়ে বইয়ের সামনে দিকে দুচারপাতা লিখতে বলেছেন অর্ঘ্য আর ওনার বন্ধু মৃগাঙ্কশেখর।

    প্রস্তাবটা পেয়ে ভাবছিলুম যে আমার মতন একজন কমব্যাট্যান্টকে কেন ! আমাকে যা ক্রুদ্ধ করে, প্যাশনেট করে তোলে, অসংযত করে তোলে, বিরক্ত করে, মানুষের যা অপছন্দ করি, তা কি অর্ঘ্য দত্ত বক্সীর ক্ষেত্রেও একই? তিনিও কি আমার মতন সমাজের হাতে বিধ্বস্তদের পক্ষে ভাবতে বসে ডিসটার্বড? মানে খুঁজে বেড়ান যা কিছু অতর্কিত, তাইতে? পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতন অর্থহীন শব্দবন্ধের বদলে ইনোভেটিভ শব্দটা ব্যবহার করতে চান?

    প্রথম পাঠে মনে হলো, অর্ঘ্য সম্ভবত স্বীকার করেন যে লেখকীয় কাজ যদি সত্য হতে হয়, তাহলে তাকে মানব-মনের গভীর, অন্ধকার, অসুস্হ, হেজে-যাওয়া, বিরক্তিকর কোনগুলোতে জোর-জবরদস্তি ঢুকে পড়তে হবে, কেবল ইনোভেশান দিয়ে সামলানো যাবে না। তারপর তো পাঠকের দায়িত্ব সেই কাজে অজস্র রাস্তা খুঁজে পাওয়া।

    কিন্তু আমি অনেক বইকে কেবল ফিকশান বলে মনে করি, যেমন সিগমুণ্ড ফ্রয়েডের বই, এতো ভালো উপন্যাস কম লেখকই লিখেছেন। আমি রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ ইত্যাদি সবই ফিকশান বলে মনে করি, ইতিহাস বলে মনে করি না; যেমন মঙ্গলকাব্যের কাহিনিগুলো। তাই কোন চরিত্র কেন অমন আচরণ করলো, তার দায়-দায়িত্ব পাঠকের বলে মনে করি, লেখকের নয়।

    পুতুল নাচের ইতিকথায় শশির এরেকটাইল ডিসফাংশান ছিল কিনা তা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে যাননি, তার কারণ ওটা একটা ফিকশান। যে যেমন চায় ব্যাখ্যা করবে।

    একটি সাহিত্যকর্মকে তার নিজের গুণে দাঁড়াতে হয়, যেমন রামায়ণ মহাভারত দাঁড়িয়ে আছে , কৃতিত্বটা বাল্মীকির ও ব্যাসদেব নামের লেখকদের। বাবরি মসজিদ ভাঙার আগে আমি ভেতরে ঢুকে দেখে এসেছি, অযোধ্যায় বহুবার গেছি চাকুরিসূত্রে। আমার কখনও বিশ্বাস হয়নি যে রামায়ণ কাহিনির রামের ওটা জন্মস্হান আর জন্মশহর। কুরুক্ষেত্র আর হস্তিনাপুর গেছি। সবই গল্প। বরং কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে-থাকা মহেঞ্জোদারোর কিশোরীটি আসল, এখনও কিশোরীরা অমন ভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে।

    রামায়ণ মহাভারত সম্পর্কে অর্ঘ্যর আগ্রহ এবং মহাকাব্যগুলির চরিত্রদের নিয়ে তিনি খেলেছেন নিজের মতন করে, সেঁদিয়ে গেছেন ভেতরে ভেতরে।

    আমি ভাবি যে রামায়ণ-এর গল্পটা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ল, আশেপাশে কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ল, আর ছড়িয়ে পড়ার সময়ে মূল রামায়ণ থেকে সরে গিয়ে যে-যার নিজের মতো করে গল্পটা তৈরি করে ফেলল, চরিত্রদের ওলোট-পালোট করে ফেলল। এই একই ব্যাপার মহাভারতের ক্ষেত্রে ঘটেনি কেন? ব্যাসদেবরা মহাভারতে যেমন যে-যার নিজেদের লেখা ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন, তা কেন সম্ভব হয়নি রামায়ণের বেলায়? শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে রাধাকেই বা কারা জুড়ে দিয়েছিল, মহাভারতে তো নেই !

    বাঙালিদের বাড়িতেও দেখি গোপাল, নাড়ুগোপাল, দোলগোবিন্দ, রাধাগোবিন্দ, রাধাকেষ্ট ইত্যাদি। তা বাঙালিরা রাধাকে কবে আর কোথা থেকে পেলো? বঙ্গদেশে আমদানি-করা উত্তরভারতীয় ব্রাহ্মণরা এনেছিল কি নিজেদের পুঁটলিতে বেঁধে? ব্রাহ্মণরা বঙ্গদেশে আসার আগে এখানকার দেবী-দেবতা এবং মিথগুলো কেন হারিয়ে গেল ! বৌদ্ধধর্মের দেবী-দেবতারাই বা চিরকালের জন্য কেন লোপাট হয়ে গেল !

    ন্যারেটিভে সোমরস প্রসঙ্গ এলে বেশ হতো, কেননা ওটা যে ঠিক কী জিনিস আমি আজও জেনে উঠতে পারিনি।

    সরি, আবার ডাইগ্রেশন ঘটিয়ে ফেলছি।

    সে যাক, পুতুল নাচের ইতিকথা নিজের গুণে দাঁড়িয়ে আছে।

    একজন লেখক স্রেফ তার সৃজনকর্মের গাদ। রামায়ণ, মহাভারত এবং পুরাণ লেখকদের মতন তাঁদের আড়ালে চলে যাওয়া উচিত।

    এর আগে কয়েকটা বইয়ের মুখবন্ধ বা ইনট্রো, ইংরেজি ও বাংলা বইয়ের, যা-ই বলুন, লিখেছি বটে, কিন্তু ন্যারেটিভ নিয়ে এরকম নিজের সঙ্গে নিজে বার্তা-বিনিময়ের একাধিক কন্ঠস্বরের নিরীক্ষা, মেইনস্ট্রিমের বাইরে বেরিয়ে, ফাঁকা জায়গায় শ্বাস নেবার ইনোভেশানের লেখা নিয়ে লিখিনি।

    বলা যেতে পারে, অর্ঘ্য আমাকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন।

    পড়তে গিয়ে আমি কোন গদ্যের পর কোন গদ্য, তাও বিছানায় শুয়ে, আরামচেয়ারে হেলান দিয়ে সামনের টেবিলে ঠ্যাঙ তুলে, আর ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ার সময়ে গোলমাল করে ফেলেছি। অবশ্য জানি, অর্ঘ্যর তাতে খুব-একটা কিছু আসে যায় না। ছাপাতে দেবার আগে সাজিয়ে নেবেন।

    অর্ঘ্য তাঁর প্রোটোফিকশানগুলোকে বলেছেন প্রগল্প। মনে হয় প্রথানুগত গল্প বলার কায়দাকে তিনি কনটেম্পচুয়াস মনে করেন। স্বাভাবিক। বালজাক বলেছিলেন যে, ফিকশান লেখার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো পরিবর্তনরত মূল্যবোধের ভয়াবহ প্রকোপ ফাঁস করে দেয়া। বালজাকের সময় থেকেই নয়, মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ নিষ্ঠুরতা আবিষ্কার করেছে, সভ্যতার প্রসারে তা কাজে লাগিয়েছে। তা সত্ত্বেও ভাবুক ও সাহিত্যিকরা আশা করেন যে মানুষ মানবতাবাদী হবে, সাম্যবাদী হবে, কল্যাণকামী হবে, যুক্তিতে বিশ্বাস করবে, ইত্যাদি। এদিকে দেখতে দেখতে রাজনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থব্যবস্হার রক্ষিতা বা জিগোলো।

    অর্ঘ্য ইচ্ছানুযায়ী ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন, চিন্তার স্রোত বজায় রাখার কারণে, আমিও লিখতে বসে মগজে ইংরেজি শব্দ এসে গেলে তা-ই করবো।

    অর্ঘ্যকে পড়ার সময়ে যে বিদেশি লেখদের কথা মনে এলো, তাঁরা উলিয়াম বারোজ, ইশমায়েল রিড, টেরি সাদার্ন, কার্ট ভনেগাট, রিচার্ড ব্রটিগান, টমাস পিনচন নয়, কেননা এঁরা একরৈখিকতা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে যেতে পারেননি, এঁরা নির্ভর করেছেন প্রচলিত ন্যারেটিভের ডিভাইসের ওপর; ফিকশান ও গদ্যের প্রথাকে ভেঙে ছাপিয়ে যাবার প্রয়াসের বদলে ফিকশানের ফিকশানালিটিকে মান্যতা দিয়েছেন।

    অর্ঘ্যকে পড়ার সময়ে যাঁদের কথা মাথায় এলো তাঁদের মধ্যে উল্লেখ্য মেরি গেইটস্কিল, কেথি অ্যাকার, গ্যারি ইনডিয়ানা, কারেন ফিনলে, ডেনিস কুপার, ডেভিড ওজনারোইজ প্রমুখ।

    হয়তো অর্ঘ্যের অবচেতনায় জাঁ জেনে, লুই ফার্দিনান্দ সেলিনে, জর্জ বাতাই, মরিস ব্লাশোঁ প্রমুখের রচনা পাঠের রেশ থেকে গেছে। এঁদের গদ্য ভিশনারি ও কাব্যিক মোডের। অর্ঘ্য নিজেই স্বীকার করেছেন ঋত্বিক ঘটক থেকে পাওয়া তাঁর প্রোটোফিকশানের উপাদান প্রাপ্তির।

    হাংরি আন্দোলনের গদ্যকার সুভাষ ঘোষ ও সুবিমল বসাকের কথাও উল্লেখ করতে চাইবো, তুলনা নয়। তবে প্রথানুগত ন্যারেটিভ টেকনিকের কারণে বাসুদেব দাশগুপ্তের গদ্যের তুলনা করবো না। একই কারণে উল্লেখ করতে চাই না সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ফিকশান এবং শাস্ত্রবিরোধী গল্পকারদের। শাস্ত্রবিরোধী গল্পকাররা মুক্ত সূচনা দিয়ে আরম্ভ করলেও তাঁরা একরেখিকতা ও বদ্ধ সমাপ্তির বাঁধন থেকে বেরোতে পারেননি, তাঁদের চরিত্ররা কেলাসিত রয়ে গেছে।

    উল্লেখ করতে চাইবো রবীন্দ্র গুহ, অজিত রায়, শাশ্বত সিকদার, সুব্রত সেন, অনুপম মুখোপাধ্যায়, সৌগত বালী প্রমুখের ইনোভেটিভ গদ্য।

    সুবিমল মিশ্রকেও উল্লেখ করতে চাইবো, তাঁর টাইপোগ্রাফিকাল ইমেজখেলা ও অক্ষরকোলাজ বাদ দিয়ে। সুবিমল মিশ্রের একজন শিষ্য, স্বপনরঞ্জন হালদারের একটা বই আমি আলোচনা করেছিলুম, কিন্তু সেই সময়ের কমিউনিস্টদের রোগ থেকে বেরোতে পারেননি উনি, মুখ ফুটে বলতে পারেননি রক্তচোষার দিগ্বিজয়, উল্টে সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁদের গুরুঘণ্টাল পিঁজরাপোল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে তাঁর অপমানজনক সমালোচনা করেছিলেন।

    ইনোভেটিভ গদ্যের এই এক বিপদ, কে যে কোথা থেকে ঢুকে পড়বে আর জিনিয়াসগিরির দাবি করবে স্পষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    যাঁদের নাম উল্লেখ করলুম, তাঁরা সকলেই, অর্ঘ্যের মতন, জানতেন যে সাহিত্যের রিসেপশানের মণ্ডপে ঢোকার মুখে তাঁদের পড়তে হবে বাউন্সারদের পাল্লায়। কারণ এনারা ফিকশানের সংজ্ঞা ও মূল্যবোধের মালিকানা নিজেদের হাতে তুলে নিতে চেয়েছেন।

    আগের প্রজন্মের ওই লেখকদের লেখনজগতকে সরিয়ে এগোবার রাস্তা বের করতে হয়েছে অর্ঘ্যকে। শব্দ মুচড়ে গড়া ভাষা এবং আইডিয়া ও চিন্তা দিয়ে গড়া ভাষার যে গভীর পার্থক্য আছে তা নিজের গদ্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন অর্ঘ্য।

    এক বাসুদেব দাশগুপ্তকে ছাড়া, মেইনস্ট্রিম বাংলা সাহিত্য অন্যান্যদের নিয়ে চিন্তা করেনি, তার কারণ অবিরাম বদলাতে থাকা সংস্কৃতির, ভাষাসংস্কৃতির প্রতি, আলোচকরা খেয়াল নিয়োজিত করেননি।

    অর্ঘ্যর হাতে পড়ে প্রতিটি অবজেক্ট মর্মার্থে ভরপুর হয়ে উঠেছে, কিন্তু অবজেক্টের মর্মার্থ প্রতিটি পাঠকের কাছে একই বার্তা পৌঁছে দেবে, তা আশা করা যায় না, কেননা অর্ঘ্যের মতামত তাতে কুঁদেকুঁদে ব্যক্তিগত গোপনতাসহ রাখা আছে, সবায়ের অভিজ্ঞতার বনেদ তো একই নয়।

    অর্ঘ্যর গদ্যগুলোকে কোনো বিশেষ জনারে চিহ্ণিত করা যাচ্ছে না বলে আমি বলেছি প্রোটো-ফিকশান; গদ্যগুলো পড়ে মনে হয়েছে অর্ঘ্য একজন Neo-gnostic, গোপন জ্ঞানের ভাঁড়াররক্ষক।

    শিরদাঁড়ার শীতল সিরসিরানিকে নিজের গদ্যে চারিয়ে দিতে চেয়েছেন অর্ঘ্য। সম্ভবত যখনই এই সিরসিরানি তাঁর অস্তিত্বে ঘটে তখন তিনি বাক্যগুলোয় যাতে তা থাকে এবং পাঠকের কাছে পৌঁছোয়, তার প্রয়াস করেন। পড়ার সময়ে পাঠক টের পান ঠিক কী ধরণের শীতলতার টর্চার তাঁকে সহ্য করতে হচ্ছে, চরিত্রগুলোকে রাস্তা থেকে, চায়ের ঠেক থেকে, গ্রন্হ থেকে, স্মৃতি থেকে, পুরাণ থেকে, তুলে আনার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, কিংবা হয়তো কল্পনায় তৈরি করে নিতে হচ্ছে, ন্যারেটিভের জটিলতার সূক্ষ্ম তারতম্যকে বাছাই করতে হচ্ছে, কেননা মুহূর্তবিশেষের প্রয়োজনীয়তার দিকে খেয়াল দিতে হচ্ছে অর্ঘ্যর ন্যারেটিভকে।

    কতো কতো ফিকশান পৃথিবী জুড়ে লেখা হয়ে চলেছে। তাদের লেখক-নির্মিত চরিত্ররা কি পৃথিবীর অদৃশ্য জনসংখ্যার একটা সমান্তরাল খাড়া করছে না? পরের প্রজন্মের লেখকরা ওই অদৃশ্য জনসমুদায়ের সঙ্গে মিশে তাদের একজন হবার প্রয়াস করেন এবং সেই অদৃশ্য জগত থেকে বেরিয়ে এসে দৃশ্যমান জগতে নিজেই গড়ে তোলেন অদৃশ্য চরিত্রদের, পাঠকদের সামনে ছেড়ে দেন তাদের।

    গদ্যগুলো পড়ে মনে হয়েছে যে আমরা জগতসংসারকে আর আধিবিদ্যক এবং মিসটিকাল পাটাতনে ফেলে বিচার না করলেও, ব্যাপারটা হলো যে ভারতীয় মিথগুলো আমাদের জাগিয়ে তোলার অপেক্ষায় থাকে, যাতে আমরা তা খোলা চোখেই দেখতে পারি। দুর্ভাগ্য যে বাংলা ভাষার সাহিত্যিক- সংস্কৃতিকে ঘেরাও করে নিয়েছে কিৎশ -- যেন একেবারে হোস্টেজ সিচুয়েশান।

    অর্ঘ্যকে সংলাপ আবিষ্কার করতে হয়েছে, যাতে যে অভিজ্ঞতা তাঁর ঘটছে, তার সঙ্গে সংলাপগুলো খাপ খেয়ে যায়। আমরা তো সদাসর্বদা শব্দের মাধ্যমে চিন্তা করি না; আমাদের ভেতরের গভীরতম এলাকাকে পুরোপুরি ধরতে সক্ষম হয় না কথাবার্তা। শব্দদের নিজস্ব সত্য ও সত্তা থাকে, এবং তা বেরিয়ে পড়ে তার আওয়াজের বা স্ফোটনের সূত্রে। ফলে বস্তু-বিশেষের সঙ্গে শব্দেরা হুবহু মিলে যেতে অস্বস্তি বোধ করে। বিভাবসু, কবি, এই কারণে শব্দগুলোকে ধ্বনিভিত্তিক করে নিয়ে লেখেন।

    শব্দগুলোর নিজের নিজের ক্ষুধা থাকে এবং তারা তা-ই খেতে চায় যার অভিজ্ঞতা লেখকের হয়েছে। সমস্যা হল যে পাঠক-বিশেষের সেই একই অভিজ্ঞতা না-ও থাকতে পারে। ভিন্ন কিছু গড়ে তোলার জন্য ভাষাকে প্রয়োগ করতে অর্ঘ্য বাধ্য হন, কেননা জীবন আর ভাষা একই ব্যাপার নয়। বস্তুত পরাবাস্তব তখনই কাজ করে যখন তা বাস্তব থেকে চাগিয়ে উঠছে।

    যা বলা হচ্ছে বা লেখা হচ্ছে, তা এক ব্যাপার, কিন্তু যা বলা হচ্ছে না, বা লেখা হচ্ছে না, তাও উপস্হিত থাকছে অর্ঘ্যর গদ্যে। যা লেখা হয়নি অথচ তা লিখিত পাঠবস্তুর সঙ্গে ভেসে বেড়াচ্ছে, তা লেখক অনুভব করতে পারেন এবং তাঁর লেখাটা এমনই হওয়া দরকার যে পাঠকও ওই ভাসতে থাকা মর্মার্থের সঙ্গে নিজেকে মিশ-খাওয়াতে পারবে।

    অর্ঘ্যর বাক্যগুলো এলিপটিকাল, অনেকসময়ে ছোটো-ছোটো স্ফোটন জুড়ে-জুড়ে তৈরি, বাস্তব জগতকে অবিরাম স্ক্যানিং করার জন্য, যে বাস্তব জগত অর্ঘ্যর বয়সি যুবকের কাছে সতত পরিবর্তিত ও উপস্হাপিত হয় মেটাবলিজমের ও হরমোনের, প্রধানত প্রজেস্টেরনের, মাধ্যমে।

    গদ্যের মাঝে আচমকা উদয় হন অর্ঘ্য। মেইনস্ট্রিম আলোচনায় শৈলীটা মনে হতে পারে সাধারণ্যের শৌখিন শোভনতাকে আক্রমণের পরিবর্তে এক ধরণের অমার্জিত মর্ষকামী বিকৃতি। ওই সাহিত্যিক প্রেজুডিসকেই তো বিধ্বস্ত করতে চাইছেন অর্ঘ্য, গদ্যের নান্দনিক স্ট্র্যাটেজির বর্শাফলক দিয়ে।

    বেশ আনন্দের সঙ্গে স্যাটায়ার প্রয়োগ করেছেন অর্ঘ্য। স্যাটায়ার ব্যাপারটা একই সঙ্গে নীতিমূলক আর রাজনৈতিক। বলা চলে লেখকের বুনো ক্রোধের তরোয়াল লুকোবার খোপ। স্যাটায়ার হলো বাঁশের তৈরি ‘হস্তশিল্পের’ চোঁচ, যা ফুটে গেলে সময়মতো বের করে না দিলে বিষিয়ে কেলেঙ্কারি ঘটাতে পারে।

    অর্ঘ্য ওনার গদ্যে নিজের প্রতিস্বে ব্যক্তিএককের ইউনিকনেস যেমন দিয়েছেন, তেমনই ওই ইউনিকনেসকে গুলিয়ে দেবার চেষ্টাও করেছেন। পাঠককে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। গ্রিক দেবতা জানুসের যেমন দুটো মুখ ছিল, মুক্ত সূচনার ও মুক্ত সমাপ্তির, যে দেবতার কোনো পুরোহিত ছিল না, অর্ঘ্যর গদ্যকে তেমনই দুই দিক থেকে বুঝতে হবে।

    অর্ঘ্যকে প্ররোচিত করে আইডিয়া ও চিন্তা, এবং তাঁর অ্যাড্রেনালিনের উৎস ওনার আইডিয়া-বিশেষ, এক-একটি আইডিয়া উদয় হয় আর তা থেকে কথন-প্রক্রিয়া ধার নিয়ে এগোতে থাকেন। আইডিয়ার ফিকশান, যদিও অর্ঘ্যর গদ্যগুলোকে ফিকশনের চৌহদ্দিতে আটকে রাখা ভুল হবে, অবহেলিত থেকে গেছে, যেমন অতীন্দ্রীয় পাঠকের গদ্যগুলোর ক্ষেত্রে।

    অর্ঘ্যর উদ্ভাবনা আনফেটার্ড, হয়তো বাক্যগঠনে আকস্মিকতা তাঁর অজানিতেও ঘটে গেছে, প্রতিরূপ উপস্হাপনে অবসেসিভ, বারবার বলেছেন একই কথা বা ঘটনা, তাঁর কনসেপচুয়ালাইজেশান নির্বাধ।

    সাহিত্যিক ইনোভেশান বিকল্পকে দৃষ্টিগোচর এবং কল্পনাসাধ্য করে তোলে, আর এই সমস্ত বিকল্পের মধ্যে থেকেই ভবিষ্যতের বনেদ গড়ে ওঠে, লেখালিখির সম্পূর্ণ নতুন পাটাতন, যা কালক্রমে মেইনস্ট্রিম সাহিত্যে চুয়ে পড়ে। ইনোভেশানকে বলা যায় সাহিত্যিক রদবদলের ও পুনরুদ্ধারের ইনজিন; সাহিত্য নিজেই নিজেকে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরাবিষ্কার করে।

    ইনোভেশান হলো জড়তাহীন, লৌকিকতাবর্জিত, রীতিনীতি অস্বীকারকারী, কাটিং-এজ সাহিত্য, যাতে থাকে অভিঘাতের লক্ষ্য, অপমানকরার উদ্দেশ্য, আইকনোক্লাজম ও জটিলতার মারপ্যাঁচ।

    অর্ঘ্য লক্ষ্য স্হির করেছেন নিপুণ বাক-প্রতিবেদন আবিষ্কারে, আসঙ্গময় কন্ঠস্বরে, এবং প্রয়োগ করেছেন তাঁর দৃষ্টিপ্রতিভা, পথ কেটে বের করেছেন ভয়ঙ্কর সময়ের ভেতর দিয়ে, এবং স্ট্রোব লাইটের ঝলকানির সাহায্যে এগিয়ে গেছেন, জীবন প্রকৃতপক্ষে কী তার রহস্য অনুসন্ধানে, লিঙ্গোথ্থান হয় না এমন যৌন-প্রসঙ্গ এনেছেন, চুরো-করা বাক্যাংশের দুমড়ে ফেলা ছবি উপস্হাপনের সাহায্যে। পাঠকদের ধাঁধিয়ে দিতে পেছপা নন অর্ঘ্য।

    নিৎশে বলেছিলেন ‘অশুদ্ধ চিন্তা”র কথা। তাঁর মতে, জীবনের বাস্তব ঘটনাবলীর সঙ্গে যখন বিমূর্ততা মিশে যায় তখন ‘অশুদ্ধ চিন্তা’ প্রশ্রয় পায়, পেয়ে বসে মানুষের ওপর, দুটোকে ছাড়িয়ে তারপর আলাদা করা যায় না। অর্ঘ্য বহু ক্ষেত্রে বিমূর্তের সঙ্গে বাস্তব জীবনের ঘটনাবলীকে উস্হাপন করেছেন।

    অর্ঘ্য মনুস্মৃতির প্রসঙ্গ এনেছেন কিন্তু যাজ্ঞবল্ক্যের স্মৃতির প্রসঙ্গে তোলেননি, যখন কিনা কাব্যিক আঙ্গিকে রচিত যাজ্ঞবল্ক্যের স্মৃতিকে সাহিত্যিক কাজ বলা যায়, এবং যা মনুস্মৃতির পরবর্তীকালে লেখা। ব্রিটিশ শাসকরা নিজেদের পরিকল্পনা চরিতার্থ করার জন্য, প্রথম জনগণনার সময়ে ব্রাহ্মণদের সাহায্য নিয়ে মনুস্মৃতিকে গুরুত্ব দিয়েছিল, অথচ ততোটা গুরুত্ব দেয়নি যাজ্ঞবল্ক্যের স্মৃতিকে। প্রথম সেনসাসের চতুবর্ণকে প্রতিষ্ঠা করার ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র থেকে হিন্দু বাঙালি সমাজ আর বেরোতে পারেনি; ব্রাহ্মণরা বাঙালি ক্ষত্রিয়দেরও শুদ্রে বর্গীকরণ করে দিয়েছিল, যে কারণে পিছড়াবর্গের কোটা নিয়ে মারাঠা, জাঠ, গুজ্জর, প্যাটেলদের মতন বর্গ বঙ্গসমাজে নেই।

    যাজ্ঞবল্ক্যের স্মৃতি তিনটি খণ্ডে রচিত, আচারকাণ্ড ( রীতিপ্রথা ), ব্যবহারকাণ্ড ( বিচার ব্যবস্হা ) এবং প্রায়শ্চিত্ত কাণ্ড ( অপরাধের শাস্তি ও প্রায়শ্চিত্ত )।

    যাজ্ঞবল্ক্যের বক্তব্য ছিল যে মানুষের রয়েছে তেজোময়তা বা কর্মশক্তির উদ্বৃত্ত, যার একটা হিল্লে প্রতিটি ব্যক্তিএকককে করতে হয়। সেই উদ্বৃত্তই হলো জীবন। উদ্বৃত্ত বাদ দিয়ে জীবন সম্ভব নয়। একটি জনসমাজের মানুষ সমবেত উদ্বৃত্ত দিয়ে যা করে, তার দ্বারা সংস্কৃতিটির তো বটেই, মনেরও, আদল-আদরা নির্ধারিত হয়। এই দিকটি অর্ঘ্য নিয়েছেন, যদিও যাজ্ঞবল্ক্যের উল্লেখ তিনি করেননি।

    অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো, বিশেষ করে একরৈখিক একেশ্বরবাদীদের মতো, সনাতন ভারতীয় চিন্তায় দেবতারা প্রথমে আসেননি। এসেছিলেন প্রজাপতি, এবং তিনি যে কে তা মিথই রয়ে গেছে। প্রজাপতির পর এসেছিলেন ঋষিরা। তারপরে দেবতারা। অতএব লেখক যখন মিথের জগতে প্রবেশ করছেন তখন বেশ ঝুঁকি নিয়েই তা করছেন, এবং মানুষ নিজের ভেতরে মিথের মাধ্যমে পুলক সৃষ্টি করে।

    মিথের রহস্যে , সেই বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ করেন লেখক, কেননা ওই এলাকাটি অজানা। লেখক যা-ই করুন না কেন, তিনি একটি উপকথার জগতে ঢুকে পড়েন, এবং উপকথার সংজ্ঞানুযায়ী, তা মানুষের চেতনায় পুলক গড়ে তোলে।

    মিথ কখনও একটি গল্পে ফুরোয় না। মিথ আনন্দ আনে এবং আনন্দ হলো এক বিস্ময়কর অসুখ। এই কারণেই দেবতাদের রাজা ইন্দ্রকে কেন্দ্র করে এতো অপমানজনক গল্প সংস্কৃতভাষীরা লিখে গেছেন যে মনে হয় বেচারা রাজা না হলেই পারতো।

    সে যাক, এবার অর্ঘ্যের গদ্যের কিছু-কিছু অংশ পড়া যাক :

    নিম্নবর্গের খিস্তিমাত - চায়ের দোকানের Salanguage :

    ব্লেড বা কাঁচির নাগাল পাবার আগেই যাবতীয় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের ঋতবানস্বামী গুম মেরে বসে বসে নাকি পোঁদ উল্টে মটকা মেরে ধূমকেতুর মতোন “পাশের বাড়ির বৌদিকে ন্যাপা চুদে” নামক দেশী পর্ন দেখতে থাকে অথচ স্ফূতি পায় না যাহার নিকট মেয়ে দুই প্রকার, এক যারা চুষে দেবে, আর যারা চোষে না -- এই একমাত্র criteria তার কাছে মেয়ে বিষয়ক, নারীগুণ, --- একেও এক ব্যতিক্রমী নিম্নবর্গীয় চেতনা বলি, আক্ষরিক অর্থেই উন্নতবর্গে নিম্ন শ্রেণীর চেতনা ব্যতিক্রম, বিরল প্রাণী ঋতবান -- ঋত+বান -- এই সেই “ঋত”, ঋগ্বেদের, যাহা হইতে বরুণাদি দেবতা সৃষ্টি, যাহার অনুকরণ করেন পরমদেব ইন্দ্র, যাহাই প্রকৃতিস্বরূপ, যাহার মাধ্যমে গাভী, অন্ন প্রাপ্ত হয় ও যজ্ঞ যাহার অনুগামী, অনুগামী সকল দেবতা, ঋত -- যাহার উর্দ্ধে, যাহা অপেক্ষা কেহ নাই, সকলেই ঋতবান -- সেই অর্থেই যৌনতা আমাদের এ বালকে ও সকল বালকেই প্রায়, বিশেষত বাজার ঋত অর্থে ইহাই উপাসনা করে।
    ---লাইক ব্রিটনি বিচ, ইটস জোডি বিচ…
    ---tell one more time and i will be off…
    ---ইটস জোডি জোডি জোডি বিচবিচারি
    ---ok, it’s over, bye, see u…

    হাসতে হাসতে যে সম্পর্ক শেষ করি সে এক ব্রিটেনের অজ পাড়াগাঁর নিম্নবর্গ কিশোরী, যে কিনা সদ্য রিহ্যাব-ফেরত ও লিভটুগেদারি। প্রেমটা অফুরন্ত হাসি আর ইয়ার্কির মধ্যে দিয়ে ভাঙল, i’m suffering from too much happiness…

    আমি বিলেতি নিম্নবর্গ, গরিব মানুষ চিনলাম, যারা তাদের মাতৃভাষা ইংরেজির বানান লেখে ধ্বনিভিত্তিক, আমাদের ডিকশনারীও প্রপার স্পেলিং নয়, যারা ব্যবহারকে অসোংখো চলতি ইংরেজি, যা কেবোল মাতৃভাষাতে কথা বলার সময়ি ব্যাবহার করা যায়, খোদ ব্রিটিশের মাত্রিভাষার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উপলব্ধি করি ধ্বনিভিত্তিক বানানেই অবশ্যম্ভাবী ভবিষ্যৎ, ইহাই প্রোতিষ্ঠান বিরোধিতার ভাষা এখন, ভবিষ্যতে ইহাই নিওম হইবে…

    এবং আমি যখন একটি লেখার শেষ স্তরগুলি edit করে যোগ করি তখন এ ভেবেই করি অ্যাখন অব্দি যাবতীয় চিন্তা ম্যাচিওরিটি অভিজ্ঞতা এতে সর্বোৎকৃষ্টরূপে একত্র ও লিপিবদ্ধ থাক। এই লেখাই যদি শেষ লেখা হয় তবে কোনো খেদ যেন না থাকে। চলছে এরকমই, চলুক, কারণ কখন যে মাথা বিগড়োয় কিচ্ছু বলা যায় না…

    সন্ধ্যেবেলা সেদিন এক হিজড়ের দল এল তারকের দোকানে।

    তারা বলিল --- আসবি?

    প্রবল আমোদ হইল তারকের। সে নিজ বাম হস্তের কনিষ্ঠাটি দেখাইল। মধ্যমাটি দেখানোর বদলে। ইহাও সাংকেতিক অর্থে তোদের গুদও নেই পুরুষ মানুষের মতো বাঁড়াও নেই। আছে এক প্রতিবন্ধী বাঁড়া। না চোদা যায়, না চোদন দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

    তবুও তারা রাগিল না। তারকের দোকান হইতে চা কিনিয়া আমাকে ও তারককে চায়ের ভাগ দিল। আমার যথারীতি আপত্তিতে বলিল --- পি লে, পেয়ার বড়েগা ! তারক মাইতে হাত বুলাইল, তাহারা হাসিল, চলিয়া গ্যালো, তারক গান ধরিল, মহাতৃপ্তিতে, যৌনসঙ্গীত…

    সে নিম্ন, তাহা অপেক্ষা নিম্ন পাইয়া সে তো আহ্লাদিবেই। এই তো পিরামিড, সমাজের শ্রেণী পিরামিড, কেউ তোমার জ্বালায় মরে, তুমি কারো জ্বালায় মরো।

    কিশোরের নীতা ও নামস্তোত্র
    কিশোর + নবনীতা
    Kishore + Nabanita
    কি Share + Na ব
    Ki শোর + ন Ba

    যে বয়সে মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হয়, তখনো কিশোর মেয়ে দেখে নাই। মেয়ে চেনে নাই। তখন অবধি মা, দিদা, মাসী, জেঠী, দিদি ছাড়া মহিলা কি বোঝে নাই কিশোর।

    যে বয়সে মেয়েরা ঝাড়ি মারা কি বুঝে ফেলে, সে বয়সে কিশোর মেয়ে বানান লিখিত ‘মে’। গৃহশিক্ষকের চপেটাঘাত, ভর্ৎসনা ও ভ্রম সংশোধন শিখিল প্রকৃত মেয়ে বানান -- মেয়ে দিবস হয়ে ওঠে সেই জিয়ানস্টাল ! তবুও তখনো মেয়ে কি বস্তু -- মেয়ে নাম কেন, কেন উহাদের মেয়ে বলে শেখে নাই।

    ---মা, যাদের লম্বা চুল তারাই কি মেয়ে?

    ---মেয়ে কি তুই শুধু লম্বা চুল দিয়েই চিনিস?

    কাহাদের মেয়ে কয়, কাহারা মেয়ে, কারাই বা ছেলে -- ইহা পৃথক করিতে শিখে নাই যখন, তখন মেয়েরা শিখে গেছে ঝাড়ি মারা কাকে বলে। যখন তাহার ক্লাসমেটরা প্রাথমিক শিশুযৌনতা -- শিশু যৌনঘটনা কিছু কিছু ঘটিয়ে ফেলেছে চুপি চুপি -- অথচ দ্যাখো মেয়ে কাকে বলে কেহই শেখায় নাই -- শেখায় নাই জাতীয় গ্রন্হ কি টেক্সটবুক তাহাকে উহা শেখায় নাই বলে কিশোরের কাছে যদ্যবধি মেয়ে না আসিল -- মা, দিদা, মাসী,জেঠী ব্যতিরেকে যখন সে মেয়ে দেখিল সে তখনও বোঝে নাই কাহাকে মেয়ে কয়, কি করে মেয়ে দিয়ে, কি ভাবে করে তা জানা তো প্রশ্নাতীত।

    কিশোর অন কিশোর
    Kishore on Kishore
    নব অন নব
    Naba on Naba
    কিshore অN Kiশোর
    Niবস Oন নিBs

    যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
    নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।।

    কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম পড়ে আশ্চর্যান্বিত হই, ১০৮টি নাম মাহাত্মের তৎকালীন যুগানুযায়ী তা কর্ম পরিচায়ক। অর্থাৎ যে জীবনে মহৎ যে কাজগুলি করেছে ও তার চারিত্রিক গুণাবলী অনুযায়ী পরবর্তীকালে নামগুলি “আরোপিত” হয়। এগুলি বর্তমানের মতো জন্মকালীন নাম নয়। যথা মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎ। দুটিই পরবর্তীকালে। তার কীর্তির পরিচায়ক বিশেষণ। এ পর্যন্ত ভীষণ সাধারণ। কিন্তু কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম পড়ে চমকিত হয়ে যাই। ১০৮ জন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী ১০৮ রকম নাম দিচ্ছে। যা নাম দিচ্ছে তা সবই কৃষ্ণের attribute, গুণ, বৈশিষ্ট্য, সুতরাং উহারা নাম বিশেষণ। এতো গেল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, যে যে কৃষ্ণকে যা যা নাম দিচ্ছেন, তাঁর নিজের বৈশিষ্ট্যও তাইই। কৃষ্ণ যে mirror maze; এতে যেরকম সে কৃষ্ণের মধ্যে তাই দেখছে। নিজেকেই দেখছে, নিজেকেই খুঁজে পাচ্ছে। নাম--নামী--নামকারী অভেদ হয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ দেয়া যাক।

    যুধিষ্ঠির নিজে রাজা ও তার কাছে যাদব রাজনৈতিক শক্তির গুরুত্বই সর্বপ্রধান। তাই যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।

    বিদুর মহামন্ত্রী হলেও কুরুক্ষেত্রের পরান্নভোজী দাসীসন্তান। তাই বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গাল ঈশ্বর।

    নারদ ভক্তশ্রেষ্ঠ। নারদ রাখিল নাম ভক্ত প্রাণধন।

    অহল্যা যদিও রামায়ণের যুগের চরিত্র, তবু অহল্যার পাষাণ শাপমুক্তি celebrate হচ্ছে এই বলে যে অহল্যা রাখিল নাম পাযাণ-উদ্ধার।

    প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহমুরারী।

    এই নাম সাহিত্যে এমন অসংখ্য রেফারেন্স পাওয়া যাবে যা কৃষ্ণযুগের বহু আগের চরিত্রের উল্লেখে পূর্ণ, বৈদিক যুগের, এমনকি দেবতাদেরও জননী আদি দেবী অদিতি থেকে বহু পরবর্তীকালের, মহাভারতের বহু বহু পরবর্তীযুগের চরিত্রদের উল্লেখ বর্তমান। এ লেখা তাই ইতিহাস চর্চার এক মহৎ উপাদান, manifold, অত্যন্ত অর্বাচীন যুগের এক রচনা এক অতি উত্তম গবেষণার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

    যা বলছিলাম, যার যা বৈশিষ্ট্য তাই কৃষ্ণ বৈশিষ্ট্য।

    অত্রিমুনি হলেন বিশেষ একটি নক্ষত্র অত্রি যা সপ্তর্ষিমন্ডলের অন্তর্গত, অর্থাৎ আকাশ সম্বন্ধীয়। অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর।

    রুদ্রগণও ঋগ্বেদে আকাশের দেবতা ও পসুত্ব, উগ্রতা, শত্রুবিনাশকারী, ভয় উৎপাদক, ধ্বংসকারী ইত্যাদি গুণসম্পন্ন দেবতা যার সব বৈশিষ্ট্য পরে মআদেব আরোপিত। রুদ্রগণ নাম রাখে দেব মহাকাল।

    এ জাতীয় বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে ঈশ্বর আমি স্বরূপ। আমিত্বের শ্রেষ্ঠত্বই ঈশ্বরত্ব ও আমার গুণলক্ষণ, বৈশিষ্ট্য, আমার মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গী, আমার যা মত ততই ঈশ্বর। কিশোরের নীতা পপেম নবনীতাই ঈশ্বরী। তার নামার্থ বদলে যায়, আসলে নীতাতেই অষ্টোত্তর শতনাম অর্পিত হতে গেলে কিশোর নিজেকে ১০৮ ভাগে, বৈশিষ্ট্যে, মতে, পরিস্হিতিতে সময়ে বাস্তবচাহিদায় বিভক্ত করে। করে নাম-নামী-নামকারী অভেদ হয়। কিশোর কৃষ্ণ হয়ে ওঠে। কারণ যার যা শ্রেষ্ঠ গুণ তা বিভূতিযোগে ঈশ্বরপ্রতিম হয়ে ওঠে।

    কর্ণ-কৌরব সংবাদ --- অবতার সংস্করণ --- হোমো ফ্লেবার্ড --- একটি বাজে প্রগল্প

    ---কৌরব, আমি ও আমার লিঙ্গ বড্ড ইমোশানাল ফুল, বড় সেন্সেটিভ। বড় স্পর্শকাতর, অস্বাভাবিক কম রোধযুক্ত, ঘণ্টায় যেমন বাধ্যত ৬০টি একক, তেমনি বাধ্যত ওর নিত্য সেবা। না দিলে বড় সাফোকেশন হয়, বড্ড তার ছোঁয়াছুঁয়ি বাই, বড্ড তার খালি ক্ষরণ করা চাই...। এবং জলের বোতল, কল, টিপট ইত্যাদি যা যা থেকে লিঙ্গসদৃশ ক্ষরণ হয়, তা নারী ব্যবহার করছে দেখলে আমার লিঙ্গ বড্ড ইমোশানাল বড্দ সেন্সেটিভ হয়ে যায়। যথা যথা নেত্র পড়ে তথা তথা লিঙ্গ স্ফূরে, তথা তথাই কৌরব as a পুরুষোত্তম স্ফূরে স্ফূরে ওঠে…

    মাঝে মাঝে লিঙ্গ অণ্ড চেপে জঙ্ঘার ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে নারীযৌনাঙ্গ সুলভ এক ফিল আনি মুখ্যবিন্দুদেশে। সেখানে হাত বোলাই যেন যোনি নিয়েই খেলছি। পুরুষের আর কি আছে -- তার খেলার সঙ্গী তো ওই এক, সাত রাজার ধোন এক লিঙ্গ। স্বমিথুন করি। করে বীর্য উরুতে ফেলি। দেখি তার মুক্তাসম শ্বেতত্ব -- হোয়াইটনিং ফিলোজফি। পারদ, জল, বীর্যে ষড়বলের এক বল ( সারফেস টেনশন ) ধর্মতা দেখি। বীর্যকে দেখতে থাকলে -- কি ভাবে সে ঘনত্ব হারিয়ে তরল হয়ে ওঠে ক্রমশ যত ঠাণ্ডা হতে থাকে -- ধর্মের বিপরীত এই নিয়মে টেনশন কমে, রিলিজেই রিলিজড হয়ে কিছি বাস্তবোপযোগী উপদেশ দিয়ে যায়, বীর্য বেরিয়ে এসে দর্শন দিলে সিদ্ধাবস্হাই বলা হোক তাকে। আমি ভর পেট ভাত খেতে পাই বা পাই না, এই দেহামৃত ঘৃত আমি জানোয়ার শাস্ত্রানুযায়ী প্রেইজ করি। বীর্যময় বিবিধ প্রোডাক্ট ( স্পার্মস্যুপ কি স্পার্ম ডিও বা স্পার্ম ফ্লেবার্ড কন্ডোম। মার্কেটে লঞ্চ করা যায় কি না সে সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে থাকি।

    কর্ণ আপন মনে প্রশ্ন করে --- কে কৌরবকে ভালোবাসে?

    কর্ণই উত্তর করে --- আমি কর্ণ।

    ---কে কৌরবকে ভালোবাসে?

    ---আমি কর্ণ।

    ---কে কৌরবকে ভালোবাসে?

    ---আমি কর্ণ।

    ও রাত জাগানিয়া, তোমায় গান শোনাবো…

    সেলফ হিপনোটিক স্বমিথুন যেন ন্যায়া কুছ করনে কো মিলা। স্বমিথুন পুরুষভাবনা ধীরে ধীরে যা বোঝা যায় চলে আসবে কর্ণে, পুরুষের Porn আর ভালগার লাগবে না স্বমিথুন করে। বক্ষাকাশ, জঙ্গলশরীর, উদরসাগরে প্রাকৃতিক ধাতুবৃষ্টি কাদা কাদা করে দিলে আদিম আদিম ব্যঞ্জন হয়। তবে স্নানাগারে যাই। মৃতেঞ্জোদারোর স্নানাগার মনে হয় কাজের পর এই উঠে যাওয়ার প্রবল প্রযত্ন। ক্রমশঃ চুল ভেজে, বালী হয়; গ্রীবায় জল আসে, সুগ্রিব হয়; কন্ঠায় আসে, নীলকন্ঠ হয়; হনুতে হনুমান হয়; বক্ষ ভেজে -- সাহারায় হড়কায় স্নেহ; উদর ভেজে, আদ্যা হয়; নাভি সীতা হয়; জঙ্ঘা জঙ্ঘুমুনি, পুরুষের নিতম্ব সৌন্দর্য নিয়ে একটা উপন্যাস হয়ে যাক --- শরীর বেয়ে নদী বেয়ে যায়, নাড়ির টানে এ-শরীর সদাশিব হয়। পুরুষ স্নান করে সঙ্গমোত্তর।

    না, মিখায়েল বাখতিনের কারনিভালের প্রসঙ্গ তোলার জন্য অর্ঘ্যর পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃতি দিইনি; বাখতিন থেকে আজকের সমাজে, সব দেশের সমাজেই, যা প্রাসঙ্গিক, তা হলো শরীরের ফাটলগুলোর আহ্লাদ। আজকের দিনে ফিকশানের ন্যারেটিভ আঙ্গিকগুলো আগেকার-কালের উপন্যাসের একটি চরম ও আত্মসচেতন, আত্মসচেতন কথাটায় লক্ষ্য রাখুন, রূপ, নানা রূপের মধ্যে একটি রূপ।

    অর্ঘ্য নিজের পছন্দের রূপ বেছে নিয়েছেন প্রতিটি গদ্যে। অর্ঘ্যের গদ্যগুলো, প্রতিটি গদ্য, নিজের আঙ্গিককেই সমালোচনা করতে করতে এগিয়েছে, ডিসকোর্সের সঙ্গে বাস্তবের সম্পর্ককে যাচাই করতে করতে এগিয়েছে। আসলে সমস্ত আর্ট ফর্মই, ফিকশানের তো বটেই, সে তাকে প্রগল্প বলা হোক বা অন্য নাম দেয়া হোক, স্বয়ংসমালোচনায় আবিষ্ট। ওপরে যে উদ্ধৃতিগুলো দিয়েছি তা সেই অবসেশনকে পরখ করার উদ্দেশে।

    অর্ঘ্য কী করছেন? তিনি আর্ট ও বাস্তবের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সরাসরি সন্দেহ করছেন, পাঠককে ফাঁসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর নিজেরই নান্দনিক আত্মপরিচয়ে। এর ফলে তাঁর গদ্যগুলো সাহিত্য ও জীবনের সীমায় আত্মসচেতনতা নিয়ে উপস্হিত থাকছে, আর তার মাধ্যমে লেখকের সঙ্গে লেখক-সহযোগী পাঠকের সূক্ষ্ম পার্থক্য গড়ে তুলছেন।

    অর্ঘ্যের গদ্যের আঙ্গিক এবং বিষয় ( কেন্দ্রহীন বিষয় ) দুটিই একযোগে যুক্তিতর্ক-নির্ভরতা, প্রচলিত রীতি ও আধিপত্যের কাঠামোয় অন্তর্ঘাত ঘটাচ্ছে, বা বলা চলে, অন্তর্ঘাত ঘটিয়ে ঘটিয়ে এগিয়েছে। বাখতিন কিন্তু ব্যক্তিকে ততো গুরুত্ব দেননি যতোটা অর্ঘ্য দিচ্ছেন তাঁর গদ্যগুলোয়। আমরা পাই ব্যথা, যন্ত্রণা, কষ্ট, ইয়ার্কি, বিভ্রান্তি, বোকামির উল্টো টাঙানো, প্রায় অভাবনীয় একখানা জগত।

    অর্ঘ্যর অন্তর্ঘাত অনেক সময়ে তথাকথিত উচ্ছৃঙ্খলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার আদল-আদরা পায়। এমনকি পাঠককে চমকে দেবার, বিহ্বল করে দেবার জন্য তিনি বর্তমান কালখণ্ডের যে সমস্ত যৌন আচরণ যুবক-যুবতীরা পছন্দ করেন, মূলত সন্তানোৎপাদন এড়াবার জন্য, সমকাম, বীর্য নিয়ে খেলা, যোনির বাইরে বীর্য ফেলা বা ওনানিজম, মুখমেহন ইত্যাদিকে সন্দর্ভে তুলে এনেছেন। সবকিছুই স্পার্মফ্লেভার্ড হোক।

    সন্তানোৎপাদনের বাইরে যৌনতার কথা বাংলা সাহিত্য এতোকাল এড়িয়ে গেছে, যে কোনো কারণেই হোক। অথচ সন্তানোৎপাদনের ভীতির কারণে যৌনতার মজা নষ্ট হয়ে যায়। সন্তানোৎপাদনের ভীতিকে যদি জলাঞ্জলি দেয়া যায়, যা আমরা অর্ঘ্যর গদ্যতে পাই, তাহলে যৌনতা হয়ে ওঠে আহ্লাদের, আনন্দের, সুখের, বিজয়প্রাপ্তির, জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপার, নারী ও পুরুষ উভয়েরই।
    1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | 32 | 33 | 34 | 35 | 36 | 37 | 38 | 39 | 40 | 41 | 42 | 43 | 44 | 45 | 46 | 47 | 48 | 49 | 50 | 51 | 52 | 53 | 54 | 55 | 56 | 58 | 59 | 60 | 61 | 62 | 63 | 64 | 65 | 66 | 67 | 68 | 69 | 70 | 71 | 72 | 73 | 74 | 75 | 76 | 77 | 78 | 79 | 80 | 81 | 82 | 83 | 84 | 85 | 86 | 87 | 88 | 89 | 90 | 91 | 92 | 93
  • অপর বাংলা | ২৭ অক্টোবর ২০২২ | ২৭৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন