এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যাংকে রাখা টাকার সুরক্ষা ও অর্থনীতির নোবেল প্রাইজ 

    Angshuman Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ অক্টোবর ২০২২ | ১৪০৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা পরিচিত রাখেন কিঞ্চিৎ সুদ পাবেন বলে।  শুধু তাই নয়।  ঘরে টাকা রাখলে চুরি যেতে পারে। পুড়ে বা ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  অথবা সরকারও কোনদিন বলে উঠতে পারেন যে আজ থেকে এই নোটগুলো বাতিল।  তখন ঘরে সঞ্চিত টাকার পুরোটাই নষ্ট। এইসব ফাঁড়া-গর্দিশ থেকে বাঁচার জন্যও মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখেন।

    তবুও ব্যাংকে টাকা রাখলেই কি সব সময় তা নিরাপদে থাকে? আমরা কি দেখিনি বা শুনিনি কখনো ব্যাংক ফেল করতে?  আগেকার দিনে এইরকম ব্যাংক ফেল করলে সাধারণ মানুষের গচ্ছিত টাকা অনেক ক্ষেত্রে পুরোটাই জলাঞ্জলি যেত।  ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেল, টাকাও ঘরে ফেরত এলো না। যদিও সচরাচর এই জাতীয় ঘটনা ঘটে না; তবুও যখন ঘটে তখন অনেক মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দিয়ে যায়।

    অর্থনীতিবিদরা এই ঘটনাগুলো নিয়ে দীর্ঘকাল চিন্তাভাবনা করে এসেছেন।  যেকোনো বিপর্যয়ের ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে তার দুটো দিক দেখা হয়।  প্রথম, এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটতে পারে, কি পরিস্থিতিতে, সেটা বিচার করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো এই রকম কোন বিপর্যয় ঘটলে তার থেকে সাধারণ মানুষকে কি করে পরিত্রান দেওয়া যায় ।

    মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ব্যাংক ফেলের ঘটনা সাধারনত কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয় না। এর একটি ডমিনো এফেক্ট থাকে। মানে যখন দেখা যায় যে কোন একটি ব্যাংক মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে,  তখন অন্যান্য ব্যাংক ও একই ফাঁদে পড়ে যেতে পারে।  কোন কারণে একটি ব্যাঙ্ক যখন তার গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ দিতে পারেন না, সেই আতঙ্ক অন্য ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    তখন দলে দলে সব ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা তোলার চেষ্টা করেন।  যেহেতু  কোন ব্যাংকের কাছেই নগদ টাকার পরিমাণ বেশি নয় তাই সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনা । তখনই শুরু হয় আতঙ্ক,  ব্যাংকের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। চেষ্টা করলেও ব্যাংকের পক্ষে সব টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব নয়। তখনই শুরু হয় বিভিন্ন অপ্রীতিকর অবস্থা।  যেহেতু অনেক লোকের  সর্বস্ব গচ্ছিত  আছে ব্যাঙ্কগুলির কাছে, তাই সরকারকে রাস্তায় নামতে হয়।  শুধু গ্রাহকদের বোঝালে হবেনা, তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। খুব বড় ব্যাংক হলে সরকারের পক্ষেও সেটা যথেষ্ট চাপের।  তাই শেষমেষ সবাইকে টাকা ফেরত দিয়ে গচ্ছিত টাকা ফেরত দিয়ে হয়তো খুশি করা সম্ভব হয় না । এভাবেই সমাজে তথা অর্থনীতিতে একটা বড় চাপ নেমে আসে যার ফলশ্রুতি শুধু ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, সম্পূর্ণ অর্থনীতিতেও তার বিরূপ প্রভাব পড়ে।  ব্যাংকগুলোও  গ্রহীতাদের ঋণ দিতে সংকোচ বোধ করে। তাই সমগ্র অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে যায়, যার ফলশ্রুতি হতে পারে একটি দীর্ঘমেয়াদী মন্দা।

    আমরা জানি যে ব্যাংকে সাধারণত ক্ষুদ্র গ্রাহকেরা অল্পবিস্তর বা বেশি টাকা রাখেন সেভিংস খাতা বা স্থায়ী আমানতে।  এগুলি প্রায় সব নগদের মতই কাজ করে।  যখন দরকার মোটামুটি তখনই এই টাকা তোলা যায় বা তোলা যাবে বা তোলা যাবে এই আশ্বাস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দিয়ে রাখেন। নগদ টাকার দরকার হয় মানুষের কিছু বিশেষ অবস্থায়। যেমন মেয়ের বিয়ে দিতে হলো বা মা কি বাবার অসুখ। তখন ব্যাংকে সঞ্চিত টাকা বা স্থায়ী আমানত মানুষ ভাঙ্গার কথা ভাবেন।

    মোটামুটি একটা হিসেব আছে যে প্রত্যেক মাসে কত শতাংশ মানুষের এইরকম নগদ টাকার দরকার হতে পারে।  সেই অনুযায়ী ব্যাংক কিছু পরিমাণ টাকা নগদ রাখে, যেটা তারা কাউকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয় না । এমনকি সরকারের তরফে একটা মাপ করে দেওয়া আছে, যে ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থের একটি অংশ নগদ হিসেবে রাখতে হবে।  একেই বলে এস এল আর স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রেশিও। আবার আরেকটি আছে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সি আর আর। মোটকথা এই দুটির সমপরিমাণ অংশ ব্যাংককে নগদ রাখতেই হবে। এর ওপরেও কোন ব্যাঙ্ক নগদ রাখতে পারে; যদি মনে হয় যে তার গ্রাহকেরা আরও নগদ টাকা তুলতে চাইতে পারেন।

    অন্যদিকে ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নেন সেই ঋণের অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি এবং সেই দিনের পরিশোধের সময় বেশ লম্বা । সেই কারণে যারা ঋণ নেন, তারা অনেক বেশি সুদ গোনেন এবং যারা টাক সঞ্চিত রাখেন তারা কম সুদ পান।  

    আবার  যারা ঋণ নেন তাদের কাছে চটকরে চাইলেই টাকা ফেরত পাওয়া যায় না কারণ সেই টাকা তারা লাগিয়ে দিয়েছেন হয় বাড়ি কিনতে নয় মোটর গাড়ি কিনতে। অথবা যদি ব্যবসায়ী হন তাহলে কোন কারখানায় বা কাঁচামাল কিনতে। অন্তত এটা তারা দাবি করেন। তাই ব্যাংক চাইলেও তাদের কাছে সেই টাকা হঠাৎ করে ফেরত পাবেন না। ব্যাংকের সাথে তাদের কড়ারই থাকে যে টাকা অল্প অল্প করে দীর্ঘদিন ধরে ফেরত দেওয়া হবে।  এটা সাধারণভাবে যেকোনো ব্যাংকের কর্মপদ্ধতি।

    ব্যাংক ঋণ গ্রহীতাদের থেকে সেই পরিমান টাকাই মাসে মাসে ফেরৎ নেওয়ার ব্যাবস্থা রাখে যাতে করে সাধারণ অবস্থায় প্রতিমাসে গ্রাহকদের নগদ এর চাহিদা মেটানো যায়।
    যতক্ষণ এভাবে চলে, অর্থাৎ গ্রাহকদের নগদ এর চাহিদা ঋণগ্রহীতাদের ফেরত দেয়া টাকার সমান বা কম, ততক্ষণ অব্দি কোন সমস্যা নেই। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো কারণে যদি বেশ কিছু গ্রাহকের নগদের দরকার হয়ে পড়ে তখনই হয় সমস্যা। ব্যাংকের কাছে থাকা নগদ প্রায় শেষ হয়ে আসে।  এবার যেই নগদ শেষ হয়ে আসার খবর সাধারণ্যে প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন সেই ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে একটি ভীতির সঞ্চার হয়। অনেক গ্রাহক তখন সেই ব্যাংক অভিমুখে গিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যাংকের টাকা তো আগেই শেষ । সুতরাং কিছু গ্রাহক টাকা ফেরত পেলেন না। এবার এতক্ষণ যেটা ভয় ছিল সেটাই সত্য হয়ে পড়ল। তাসের ঘর সত্যিই ভেঙ্গে পড়লো।  এই অবস্থাকেই আমরা বলি ব্যাংক ফেল করেছে।

    কিন্তু যদি একটু তলিয়ে ভাবি, তাহলে দেখা যাবে যে ব্যাংকের ব্যাবসা কিন্তু সত্যিকারে ফেল পড়ে নি। খালি নগদ অর্থের জোগান কমে গেছে। ব্যাঙ্কের টাকা রয়ে গেছে ঋণগ্রহীতাদের কাছে। এবং আগেই বলেছি তারা সেই টাকাটা নগদ ধরে রাখেন নি, বরং খরচ করে ফেলেছেন বা ব্যাবসায় বিনিয়োগ করে ফেলেছেন।  তাদের ধারণা ছিল যে ভবিষ্যতের আয় থেকে ধীরে ধীরে তারা সেই টাকা ব্যাংককে ফেরত দেবেন। তাই এরকম হঠাৎ করে আসা অবস্থায় তাদেরও হয়তো কিছু করার নেই।

    অর্থনীতিবিদরা এই ব্যাংকে ফেলের ব্যাপারে ঠিক কী রকম মতামত রেখেছেন? ১৯৮৩ সালে প্রফেসর ডগলাস ডায়মন্ড ও ফিলিপ ডিবুইগ, যথাক্রমে শিকাগো ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,  একটি পেপার লেখেন জার্নাল অফ পলিটিকাল ইকোনমিক্স এ। এই প্রবন্ধের, বা তাঁদের সামগ্রিক কাজের, যা এই প্রবন্ধ প্রকাশের আগে বা পড়ে ছড়িয়ে আছে, তার মূল প্রতিপাদ্য ছিল কিভাবে একটি ব্যাংক ফেলের দিকে চলে যেতে পারে; এবং তার থেকে কিভাবে ত্রান পাওয়া যায়।  তাঁদের এই সামগ্রিক কাজের জন্য, এই দুই অর্থনীতিবিদ এবছর, ২০২২ সালে, নোবেল পুরস্কার (বা অর্থনীতি তে নোবেল স্মৃতি পুরস্কার) পেলেন।

    এই দুজন অর্থনীতিবীদ অংক কষে দেখিয়ে গিয়েছিলেন যে কোন কোন অবস্থায় একটি ব্যাংক এরকম আতঙ্কের শিকার হতে পারে এবং তারপর ফেল করতে পারে। খুব বেশি অংকের মধ্যে না ঢুকেও বলা যায় যে কোন এক দিন বা সপ্তাহে যদি একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি গ্রাহক তাদের সঞ্চয় তুলে নিতে চান তাহলে কোন ব্যাংক এরকম ধসের মুখে পড়তে পারে।

    অঙ্কের মধ্যে না গিয়েও আমরা বলতেই পারি যে এটা তো একটা সাধারন বুদ্ধিতে বোঝা যায় যে ব্যাংক কেন ফেল করবে। কিন্তু এর থেকে বাঁচার কি উপায়?

    এঁরা দুজন বিভিন্ন জায়গায় মূলত তিনটে উপায়ের কথা বলেছেন, যেগুলো মেনে চললে এই ব্যাংক ফেল হওয়ার থেকে; এবং তার থেকেও বড় কথা, দেশের অর্থনীতির তাসের ঘর হওয়া থেকে, মানে একটি ব্যাংক থেকে আরেকটি ব্যাংক এবং তার থেকে সমগ্র অর্থনীতি, না হোক অর্থনীতির একটা বড় অংশের অবশ্যম্ভাবী ধসের মুখে পড়ার থেকে; পরিত্রান পাওয়া যাবে।

    তাদের বলা প্রথম উপায় ছিল, যে ব্যাংকের তরফ থেকে একটি নিয়ম বা নীতি তৈরি করা, যেখানে বলা থাকবে যে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার গ্রাহকের পরে বা একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা তোলা হয়ে গেলে তার থেকে বেশি টাকা তুলতে দেওয়া হবে না। বা অন্য ভাবে বলা যায় যে কোন গ্রাহক তার সঞ্চিত টাকার একটা অংশের বেশি একদিনে বা একমাসে তুলতে পারবেন না। একে ব্যাংকিং পরিভাষায় বলে সাসপেনশন অফ  পেমেন্টস। এই ব্যাবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যার দিক হল; কারো যদি সত্যিকারের বিপদ হয়; তখন সে ব্যাঙ্ক থেকে তার নিজের টাকাই তুলতে পারবে না। ব্যাঙ্কের পক্ষে কার প্রয়োজন খাঁটি আর কার নয়; তা বোঝা অসম্ভব বলা যায়।

    এর কাছাকাছি আরেকটা ব্যাপার হতে পারে যে ব্যাংক বলল যে কেউ যদি টাকা তুলে নিতে চান তাহলে তিনি পুরো টাকা ফেরত পাবেন না মানে তার যদি এক লাখ টাকা গঠিত থাকে গচ্ছিত তাহলে তিনি পুরো টাকা তুলতে চাইলে আশি হাজার টাকা পাবেন, বাকিটা ব্যাংকে ফেরত দেবে না কারণ তিনি অসময়ে টাকা তুলতে চাইছেন।

    এই ব্যাপারটাকে খুব গণতান্ত্রিক বলা যায় না, এমনকি মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোরগোড়ায় বলা যায়।  এছাড়াও, অনেক অনুন্নত দেশে সাধারণ মানুষ তার সমস্ত সঞ্চয় এর কোন অংশ ফেরত পাবেন না, এটাও মেনে নেওয়া যায় না।  যদিও এরকম নীতির একটা সুবিধে হল, যে সত্যিই কারো যদি টাকা দরকার না থাকে, তিনি কেবলমাত্র ভয়ের শিকার হয়ে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন, তিনি হয়তো নিজেকে স্বেছায় নিরস্ত করতে পারবেন।  এবং ব্যাংকও ওই নগদ টাকা নিজের কাছে রাখতে পারবে।  

    দ্বিতীয় উপায় গুলি তাঁরা বলেছিলেন সরকারের এগিয়ে আসা। এক, সরকার বলতে পারে যে ব্যাংকের যত টাকা দরকার গ্রাহকদের ফেরানোর জন্য, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বড় কোন সরকারি ব্যাঙ্ক দিয়ে দেবে। অবশ্যই খানিকটা সুদ নিয়ে।  সুদের হার কত হতে পারে, যাতে ব্যাংকের ব্যবসা চালু থাকে আবার সরকারেরও ক্ষতি না হয়, সেটাও অংক কষে এই দুই অর্থনীতিবীদ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।  ২০০৮/৯ সালে আমেরিকায় যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছিল, তার ফলশ্রুতিতে কয়েকটি বড় ও মাঝারি ব্যাঙ্ককে বাঁচাতে সরকার এই রাস্তাই নিয়েছিলেন।   যদিও এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, যে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কিছু গ্রাহকের বা কতিপয় ব্যাংকের সুবিধা করে দেওয়া হল । যখন লাভ হবে, ব্যাংক কি সেই লাভ সরকারের সাথে এইভাবে ভাগ করে নেবে?

    মজার ব্যাপার হল, ২০০৮/৯ সালে এই উপায় যিনি প্রস্তাব করেছিলেন শুধু না; প্রয়োগও করেছিলেন, ফেডারেল রিসার্ভের তৎকালীন সভাপতি, বেন বারনাঙ্কে, এবছর উপরিউক্ত দুজনের সাথে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন।

    তৃতীয় আরেকটি উপায়ের কথা এই প্রবন্ধে বলা হয়েছিল। মনে করা হয়, যে এই তৃতীয় উপায়টিই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। প্রায় সমস্ত উন্নত দেশেই এই উপায় ব্যাবহার করা হচ্ছে।  কি সেই উপায়?  কোন গ্রাহক যখন ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করতে যাচ্ছেন, তখনই তাকে বলে দেওয়া হল, যে সরকার এই টাকার গ্যারান্টি দিচ্ছে। মানে ব্যাংক ফেল করলেও সরকার এই টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেবে। একে বলা হয় ডিপোজিট গ্যারান্টি স্কিম। এর জন্য খুব সামান্য ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম নেওয়াও হতে পারে গ্রাহকদের থেকে, আবার সরকারের আয়ের টাকা থেকে এই টাকা মিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যদি দরকার হয়।

    ভেবে দেখলে, এটা সরকারের তরফে একটি বিরাট টাকার গ্যারান্টি দেওয়া। এতগুলো ব্যাংক, তাদের এতজন গ্রাহক, এবং তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ কিন্তু প্রায় একটি মহাজাগতিক আকারের সংখ্যা।  সত্যিই যদি অঘটন ঘটে, এবং কয়েকটি বড় বড় ব্যাংক একসাথে ফেল করে যায়, তাহলে এই টাকা কি সরকারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে? যদিও পৃথিবীতে এরকম ঘটনা ঘটেনি এখনও।

    আসলে এই ব্যবস্থার মজাটা লুকিয়ে আছে এই সরকারি আশ্বাসের মধ্যে। যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে এই গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে; তাই সাধারণ মানুষের মনে বা গ্রাহকদের মনে এই ভয়টা আসবে না যে আমার ব্যাংক ফেল করে গেলো আমাকে এক্ষুনি টাকা তুলে নিতে হবে। মানে ওই আতঙ্কের পরিবেশই  তৈরি হবে না, বা এক্ষুনি টাকা তুলে নেওয়ার গোষ্ঠী মানসিকতাটা তৈরিই হবে না। বরং যদি কোন ব্যাঙ্ক কিছু সময়ের জন্যও নগদের জোগান হারিয়ে ফেলে; এই গ্যারান্টি থাকার দরুন সাধারণ গ্রাহকেরা তাতে খুব বিচলিত হবেন না; একথা বলাই যায়।

    অর্থাৎ সরকার এই গ্যারান্টি দিয়ে এটাই মানুষকে বুঝিয়ে দিল যে ভয়ের বশে টাকা তোলা দরকারই নেই। কেবলমাত্র খাঁটি দরকারেই টাকা তুলুন।  
    সেইজন্য এই ব্যাবস্থাটিকেই সবচেয়ে বেশি সফল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। সত্যিকারের কোন টাকা যোগান না দিয়েও, সাধারণ মানুষকে কেবল একটি দৃঢ় আশ্বাস দিয়েই ব্যাঙ্ক ফেল কে রোখা সম্ভবপর হবে।

    যদিও এই সমস্ত তত্ত্ব তৈরি হয়েছিল আমেরিকার কথা মাথায় রেখে, এবং প্রয়োগ ও করা হয়েছিল সে দেশে।  তাই আমেরিকায় খুব বড় ব্যাংক ফেলের ঘটনা ঘটেনি, তেমন বা ঘটলেও সেখানকার সরকার সেটাকে পুরো অর্থনীতি জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে দেয়নি।
     
    কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা কি? আমার টাকা কি এদেশে আদৌ সুরক্ষিত? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি ব্যাবস্থা আছে, যার নাম ডিপোজিট ইনসিওরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন । এই ব্যবস্থার আওতায় আছে ভারতবর্ষের সমস্ত ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি সমবায় ব্যাঙ্ক সবাই। রিসার্ভ ব্যাঙ্ক এই ব্যাঙ্কগুলির সমস্ত গ্রাহকদের এই গ্যারান্টি দিয়ে থাকেন, যে তাদের সঞ্চিত টাকা সুরক্ষিত। যদি কখনো ব্যাংক এই টাকা ফেরত দিতে অপারগ হয়, রিজার্ভ ব্যাংক সেই টাকা দায়িত্ব নিয়ে ফেরত দেবেন।

    যদিও এখানে একটি কিন্তু আছে। তা হল, এই স্কিমের আওতায় কোন একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ফেরত পেতে পারেন, তার সমস্ত অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে। এর থেকে বেশি টাকা কোন একজন গ্রাহক কে রিজার্ভ ব্যাংক দেবেনা। কেউ ভাবতেই পারেন তাহলে তো আমার সম্পূর্ণ টাকা সুরক্ষিত নয়। অবশ্যই সেটা ঠিক।  কিন্তু দেশের একটি সুবৃহৎ অংশের গ্রাহকদের কাছে এই পাঁচ লাখ টাকা অনেক। বেশিরভাগ গ্রাহকই এই পাঁচ লাখ টাকার আওতার নিচে আছেন ফলে তাদের ক্ষেত্রে পুরোটাই সুরক্ষিত হয়ে গেল। আর সত্যিই যদি আপনার পাঁচ লাখ টাকার ওপরে ব্যাংকে থাকে, তাহলে তো আপনি বড়লোক। সেক্ষেত্রে আপনার পাঁচ লাখ টাকা ফেরত পাওয়াই কি যথেষ্ট নয়?

    আর একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। এই স্কিম সমস্ত ব্যাংকের জন্যই প্রযোজ্য; শুধু সরকারি ব্যাংক নয়। ফলে আগামীবার যখন কোন সরকারি ব্যাংকের দালাল আপনাকে বোঝাতে আসবেন যে বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখলে আপনার টাকা মার যেতে পারে, ফেরত নাও পেতে পারেন তাকে এই স্কিমের তথ্যটা দিয়ে দেবেন। বলবেন যে আমাদের দেশের আইন সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে কোন তফাৎ করে না, টাকা যেখানেই রাখি না কেন সমান সুরক্ষিত।
     
  • ব্লগ | ১১ অক্টোবর ২০২২ | ১৪০৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব | 103.98.204.123 | ১১ অক্টোবর ২০২২ ১১:৪৭512702
  • এইসব অনুসরণ করেও লেবাননের ব্যাংকগুলো বাঁচতে পারছে না। খোদ লেবাননই ডুবতে বসেছে।
  • Suchetana Mukhopadhyay | ১২ অক্টোবর ২০২২ ০৬:৩৭512745
  • কি সুন্দর সহজ করে বিষয়টি বুঝিয়েছেন। ধন্যবাদ
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ অক্টোবর ২০২২ ১৬:০৮512761
  • পাঁচটি বিভিন্ন ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকা বা মোট ২৫ লক্ষ টাকা রাখলে পুরোটাই সুরক্ষিত কি? এটি এ্যাকাউনট পিছু না খদ্দের পিছু? 
     
    আমেরিকায় বিগত চার দশকে বিপুল পরিমান ব্যাংক লালবাতি জ্বালিয়েছে। সাইপ্রাসে গ্রিসে আয়ারল্যানডেও তাই। 
     
    বেরনানকে ২০০৮-১২ সংকটের সময় কোন আলো দেখিয়েছিলেন জানি না। তবে গোলডম্যানের মতো ইনভেসটমেনট ব্যাংকের ( যেখানে টাকা জমা রাখলে কোন ডিপোজিট গ্যারানটি মেলে না কারন ফেড তাঁদের জিমমেদার নন) পরান  বাঁচিয়েছেন। 
  • Angshuman Bhattacharya | ১৩ অক্টোবর ২০২২ ১১:৫৪512796
  • Suchetana Mukhopadhyay ধন্যবাদ 
  • Angshuman Bhattacharya | ১৩ অক্টোবর ২০২২ ১২:০২512798
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব পুরো অর্থনীতি যখন ধ্বংসের মুখে একা ব্যাঙ্ক গুলি কি আর বেঁচে থাকবে? 
    তবে লেবাননে ডিপোজিট গ্যারান্টী আছে কম পরিমাণে 
  • Ranjan Roy | ১৩ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৩৮512816
  • প্রাইভেট/পাবলিক ব্যাংকের প্রশ্নে লেখকের সাথে কিঞ্চিৎ দ্বিমত পোষণ করছি।
     
    ১.০ সত্যি কথা, দু'রকম ব্যাংকেই জমা টাকার উপর বীমা প্রতি গ্রাহক অধিকতম পাঁচ লাখ। এবং একজন ব্যক্তি যদি পাঁচটি ব্যাংকে তাঁর ২৫ লাখ টাকা সমান ভাগ করে জমা রাখেন তাহলে পুরোটাই নিরাপদ।হীরেনবাবু যেমন উদাহরণ দিয়েছেন।
     কারণ প্রতিটি ব্যাংক  তার প্রত্যেক গ্রাহকের জন্যে আলাদা করে  DICGC প্রিমিয়াম দিচ্ছে।
    ২.০ কিন্তু যদি প্রাইভেট ব্যাংক লালবাতি জ্বালে বা দেউলে হয়, তাহলে সে শুধু বীমাকৃত ৫ লাখ ফেরৎ দিয়ে হাত ঝেড়ে ফেলবে। 
      কিন্তু সরকারি ব্যাংক ৫ লাখ দেয়ার পরও বাকি টাকা ফেরত দেবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ইন্সটলমেন্টে। কারণ ওই ব্যাংকগুলোর মালিক সরকার, যে রাষ্ট্রবিপ্লবের ব্যতিক্রমী সময় ছাড়া কখনই দেউলে হতে পারে না। সরকার বদলে যেতে পারে, ক্ষমতাসীন দল বদলে যায়। কিন্তু রাষ্ট্র দেউলে হয় না।
    সরকার ডিপোজিটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, সময়ে টাকা ফেরত দিতে। সেই দায় কোন সরকার  অস্বীকার করতে পারেনা। এটাই দু'ধরণের ব্যাংকের মধ্যে মৌলিক তফাৎ। 
     
    ৩.০ সি আর আর  কোন ব্যাংক বা তার শাখা নিজেদের কাছে নগদে রাখে না। সি আর আর বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও হল  ব্যাংকের সমস্ত ডিপোজিট (চালু, এবং মেয়াদী) এর সময়ে সময়ে রিজার্ভ ব্যাংক নির্ধারিত অনুপাত যা পাক্ষিক মনিটর করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হয়।
        একই ভাবে এস এল আর বা স্ট্যাটুটরি লিকুইড রেশিওর (রিজার্ভ ব্যাংক নির্দ্ধারিত)  টাকা ব্যাংক সবটা নিজের কাছে নগদে রাখে না।  খানিকটা নগদে রেখে বাকিটা সোনা, সরকারি বন্ড বা রিজার্ভ ব্যাংক ওনুমোদিত সিকিউরিটি পেপার্সে রাখে। 
     
    ৪.০ লোনেরও রকমফের আছে। বাড়ি গাড়ি বা কারখানার মেশিনের জন্যে মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়। ধরুন গাড়ির জন্যে ৫-৭ বছর, বাড়ির জন্যে ২০-৩০ বছর। সেই সময়ের মধ্যে ব্যাংক শুধু চুক্তিবদ্ধ কিস্তি ফেরত নিতে পারে। সময় পুরো হওয়ার আগে কখনই 'পুরো টাকা' ফেরত চাইতেই পারে না। ল অফ কন্ট্র্যাক্ট তাকে সে অধিকার দেয় না।
      ব্যতিক্রমঃ যদি ঋণী কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে থাকে বা অ্যাসেট (বাড়ি/গাড়ি/মেশিন/কাঁচামাল) চুপি চুপি বিক্রি করে বিজনেস বন্ধ করে দিয়ে থাকে। 
       এর সঙ্গে জমাকর্তাদের টাকা তোলার দাবির কোন প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৩ অক্টোবর ২০২২ ২০:১৯512817
  • এটা বুঝতে একটু অসুবিধে হচ্ছে ।
     
    এই দুজন অর্থনীতিবীদ অংক কষে দেখিয়ে গিয়েছিলেন যে কোন কোন অবস্থায় একটি ব্যাংক এরকম আতঙ্কের শিকার হতে পারে এবং তারপর ফেল করতে পারে। খুব বেশি অংকের মধ্যে না ঢুকেও বলা যায় যে কোন এক দিন বা সপ্তাহে যদি একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি গ্রাহক তাদের সঞ্চয় তুলে নিতে চান তাহলে কোন ব্যাংক এরকম ধসের মুখে পড়তে পারে।
     
    আমানতকারীর টাকা ছাড়াও যে কোন ব্যাংক মানি মারকেটে গিয়ে টাকা তুলে খদ্দেরকে তার টাকা ফেরত দিতে পারে। দিয়ে থাকে। এটা কোন জিরো সাম গেম নয়। 
     
    মনে রাখা প্রয়োজন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক গুলিতে কারো টাকা ডিপোজিট ইনসিওরেনসে সুরক্ষিত ছিলো না ( ২০১১ অবধি)। 
     
    এখানে কোন হার্ড মেন্টালিটির কথা হচ্ছে বুঝলাম না। 
     
     
    "বলবেন যে আমাদের দেশের আইন সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে কোন তফাৎ করে না, টাকা যেখানেই রাখি না কেন সমান সুরক্ষিত।"
     
    এখানে কাভিয়াট দেবেন না ? ৫ লক্ষ টাকা অবধি? তার বেশি টাকা জমা থাকলে মার্ যাবে ?
     
    "সত্যিকারের কোন টাকা যোগান না দিয়েও, সাধারণ মানুষকে কেবল একটি দৃঢ় আশ্বাস দিয়েই ব্যাঙ্ক ফেল কে রোখা সম্ভবপর হবে"
     
    সত্যিকারের টাকাটা কি? নোট ?
     
     
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৩ অক্টোবর ২০২২ ২০:২৫512818
  • শ্রী বেনজামিন শালোম বেরনানকের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিতে লন্ডন টাইমসে প্রকাশিত কিছু পাঠকের মন্তব্য তুলে ধরার প্রলোভন সামলানো গেল না 

    * Cutty Sark
23H AGO


     
    Unbelievable.


     
    16)

Simon Price
21H AGO

I thought this was an example of Nordic humour as Bernanke is one of those responsible for the asset bubble and vast increase in money circulating in the world economy which has brought us to these crisis moments.


     
    17H AGO


     
    A joke
     
    

MTM
16H AGO


     
    How ridiculous! This is the person most associated with the “positive benefits” of negative rates & who started what will be known as the biggest bubble ever. And they're giving him a Nobel prize? The world’s gone insane
     
    .


Arven Nelson
1H AGO
     
    

Yeah. It would have been way better to have had a repeat of the Great Depression.


     
    Christopher Randal

     
    serious devaluation of the Nobel economics prize. As chairman of the Fed he oversaw and missed the unfolding of an economic disaster.


     
    James Hawthorne
     
    
8H AGO

Economists should be banned from having anything to do with Govt  or being any part of it for the next 10 years.
  • Ranjan Roy | ১৫ অক্টোবর ২০২২ ০১:০১512855
  • হীরেনবাবু
     
      একদম নহলে পে দহলা!!!
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::94:8fa2 | ১৫ অক্টোবর ২০২২ ০২:২০512856
  • বার্নেনকের পিএইচডি যতদূর মনে পড়ছে ইকনমিক হিস্টরিতে। লোকটিকে গ্রেট ডিপ্রেশানের দিকপাল মনে করা হয়। সেই কারণেই ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসের (গ্রেট রিসেশান) সময় ওবামা ওকে রেখে দেয়।

    আরেকটা কথা। ইনভেস্টমেন্ট ব্যান্কগুলো মনেহয় ব্যান্কিং করতে পারেনা, মানে ট্র্যাডিশনাল ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট রাখতে পারেনা। অন্য উপায়ে হয়ত কমার্শিয়াল ব্যান্কিং করে থাকে। কিন্তু ওগুলো তো ব্যান্ক নয়। তাই এফডিআইসির গাইডলাইনও মেনে চলতে হয়না, আর এফডিআইসিও কোনও গ্যারান্টি দেয়্না। এবারে কিছু ব্যান্ক ইনভেস্টমেন্ট ব্যান্কিংও করে থাকে, সেখানে চাইনিজ ওয়াল ইত্যাদি তৈরী করতে হয়। এইটাই গ্লাস স্টিগাল অ্যাক্ট (বা সেই অ্যাক্টের যেটুকু অবশিষ্ট আছে আরকি)। গ্রেট ডিপ্রেশানের পরে এফডিআইসি ছিলো এই অ্যাক্টেরই ফলাফল।

    ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসের পরে মেরিলকে ব্যান্ক অব আমেরিকার সাথে মার্জ করিয়ে বাঁচানো হয়েছিলো। মর্গান নিজেই ব্যান্কে পরিণত হয়েছিলো। লীম্যান আর বেয়ার স্টার্ণসকে বাঁচানো যায়নি। গোল্ডম্যান বোধয় একমাত্র বাল্জ ব্র্যাকেট আইবি পড়ে আছে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১১:১৭512866
  • শ্রী স

    একেবারে মোক্ষম  কথাটি বলেছেন। ধন্যবাদ ।

     বিশদে জানাতে  গেলে মহা মন্দার শুরু অবধি আমেরিকায় যে কেউ দোকানের সামনে “ব্যাঙ্ক” লেখা  সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে সাধারণের টাকা জমা নিতেন এবং বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার ইস্যু ও তার কেনা বেচা চালাতেন। তাদের কিছু ছিল যৌথ মালিকানাধীন ( ফার্ম  যা থেকে বেটিং দি ফার্ম কথাটা এসেছে) বাকিরা লিমিটেড কোম্পানি।  ফেড  ( তার বয়েস সবে বিশ বছর) এবং সরকার বললেন শেয়ার বাজারে ফাটকা খেলে তোমরা মহা সর্বনাশ করেছ।  সেখানে যারা খেলতে যায় তারা নিজের মূলধনে খেলুক, জনগণের অর্থে নয়।  জনগণের অর্থ যারা জমা নেবে তারা এই সব কম্ম করতে পারবে না।ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক বনাম কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক।

     কে কোন দিকে যেতে চায় ? মেরিল গোল্ডম্যান ফার্স্ট বোস্টন সলোমন লেমান ইত্যাদি গেলো সে লাইনে।  টাকা জমা নেবার অধিকার তাদের রইল না । সেই সঙ্গে ডিপোজিট ইন্সিউরেন্সে ( ১৯৩৩) তাদের নাম কাটা গেল।  সিটি  চেজ ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা গেলো অন্য দলে। এটি  কারটার গ্লাস – হেনরি স্টিগলের নামাঙ্কিত ১৯৩৩ সালের ব্যাংকিং অ্যাক্ট।  ১৯৯৮ সালে সিটি /সলোমনের মার্জার সম্ভব করার জন্য এটি বাতিল হলো । বিধাতার কি আশ্চর্য পরিহাস ! সাব প্রাইমের ফাটকা যখন শুরু হলো , সলোমন নিজের পার্টনারের টাকায় নয়, সিটি ব্যাঙ্কের তহবিলে হাত ঢুকিয়ে ফাটকা খেললো খুব কাছ থেকে দেখেছি – আমার মতে  এই শতকের দ্বিতীয় মন্দার (সেকেন্ড গ্রেট ডিপ্রেশন ) একটা বিশাল দায় দায়িত্ব গ্লাস – স্টিগল আইন বিলুপ্তি।
    বেয়ার লেম্যান ডকে , মেরিল ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকায় । আজ আমেরিকায় কোন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং “ফার্ম” নেই। সবাই ব্যাঙ্ক , সবাই এফ ডি আই সির খাতায় ঢুকে পড়েছে ।  এমনকি মরগান এবং গোল্ডম্যান। গাছের খাচ্ছে তলারও কুড়চ্ছে।

    বেরনানকে এম আই টির অর্থনীতির ছাত্র , স্ট্যানফোর্ড প্রিন্সটনে পড়িয়েছেন । মহা মন্দা এবং তদজনিত ডিফ্লেশন ( বাঙ্গাল খুঁজে পেলাম না ) তাঁর থিসিস । জর্জ বুশের অর্থনীতিক উপদেষ্টা ছিলেন এবং ফেড চেয়ারম্যান ওবামা তাঁকে ছাঁটাই করেন নি।
     
  • lcm | ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১২:২১512868
  • ওহ সেই গ্লাস-স্টিগাল এক্ট। বড়েস এবং হীৰেনবাবু ধরেছেন। বেশ কয়েক বছর আগে গ্লাস-স্টিগাল এক্ট নিয়ে এখানেই আলোচনা হয়েছিল, সেখানে পোস্ট করেছিলাম
     ----- ---- 
    IP Address : 118.91.116.131 (*) Date:14 Apr 2015 -- 10:42 AM

    গ্লাস-স্টিগাল অ্যাক্টো - এই অ্যাক্টো নিয়ে কটি কথা আছে।

    আগে চলে যাওয়া যাক, আমেরিকার গ্রেট ডিপ্রেশন - ১৯৩০-এর দশক। ১৯২৯ থেকে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে ৫০০০ ব্যাংক ফেইল করে। মনে করুন, সত্যজিতের মহানগর - আমজনতার ব্যাংকে জমানো টাকা একদিন হঠাৎ দেখা গেল নাই। কোনো ব্যাংকেই কোনো টাকা নাই। নাই মানে নাই - ব্যাংকগুলি মানুষের জমানো টাকা খুইয়েছে। প্রায় সারদা টাইপের ব্যাপার।

    এখন কথা হল, ব্যাংকগুলি মানুষের জমানো টাকা খোয়ালো ক্যামনে? টাকা জমা রাখা আর ধার দেওয়া ছাড়াও আরও একটা কাজ করত ব্যাংকগুলি - অন্যের জমানো টাকা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতন স্টক/শেয়ার কেনাবেচা করত। ব্যাংক টাকা ধার দিত যে সব কোম্পানীকে তাদের শেয়ার কেনাবেচাও তারাই করত, গ্রাহকদের নানারকম নানারকম ডিল দিত ঐ কোম্পানীর স্টক কেনাবেচার জন্য। ব্যাংকগুলি নিজেরাই ছিল প্রায় ডে-ট্রেডার কাম মার্কেট মেকার।

    তো এর পরে, আম্রিগা গর্মেন্ট অনেকগুলো আইন পাশ করে - তার মধ্যে একটা ছিল এই গ্লাস-সিগাল অ্যাক্টো। মূল বক্তব্য ছিল, ব্যাংকিং আর সিকিওরিটি ইনভেস্টমেন্ট আলাদা করে দেওয়া। ব্যাংক শুধু টাকা জমা আর ধার দেওয়ার কাজ করবে, স্টক মার্কেটের ব্রোকারেজ করতে পারবে না। বেসিক্যালি, ব্যাংকে মানুষের জমানো টাকা নিয়ে ইয়ার্কি করা যাবে না, সুদের হার সেন্ট্রাল ব্যাংকিং অথরিটি মেইনটেইন করবে... ইত্যাদি। উদ্দেশ্য ছিল ঐ রকম ম্যাসিভ ব্যাংক ফেইলিওর আটকানো। তো মোটামুটি প্রায় ৬০ বছর ছিল সেই আইন বহাল। যদিও, ব্যাংকগুলি প্রথম থেকেই চাপ দিয়েছে ঐ আইন সরিয়ে নেবার। সেই সময় আরো একটা জিনিস করেছিল গর্মেন্ট, তৈরি করেছিল - FDIC - ফেডারেল ডিপোজিট ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন - ব্যাংকে মানুষের জমানো টাকা ইন্‌সিওর করবার জন্য। ব্যাংকিং সিস্টেমের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে তো। ভেবে দেখো কয়েক বছর আগে দেশে একটা হুজুগ উঠেছিল যে আইসিআইসিআই ব্যাংক ফেইল করছে - তাতে সেকি প্যানিক রে ভাই।

    এর এক দশক পর থেকে, ব্যাংকগুলোর চাপ দিচ্ছিল ঐ আইন শিথিল করবার বা সরিয়ে নেবার। কিছু শিথিল হয়েছিল, যেমন গর্মেন্টের বন্ডে ব্যাংক ইনভেস্ট করতে পারত, মোট আমানতের ১০% অবধি অ্যাসেট সিকিওরিটি ইনভেস্টমেন্টে লাগানো যাবে ইত্যাদি।

    এবার, বিল ক্লিন্টন এর আমল থেকে আবার জোর হুজুগ উঠল যে ঐ আদ্যিকালের ৬০ বছরের পুরানো গ্লাস-স্টিগাল আইন - ওটা হ্ঠাতে হবে। ঐ ১৯৩০ এর আইনে, সবথেকে অসুবিধে হয় সেই সময় আমেরিকার দুই বড় ব্যাংক-এর, ন্যাশনাল সিটি ব্যাংক (যা এখন হয়েছে সিটি ব্যাংক) এবং চেজ ব্যাংক - এদের খুব অসুবিধে হয়। এরা একদম খুল্লমখুলা চেকিং/সেভিংস অ্যাকাউন্ট আর শেয়ার কেনাবেচা প্রায় এক কাউন্টার থেকে করত। সেই সিটি ব্যাংকই লবি শুরু করল স্মিথ বার্নি আর ট্রাভেলার্স গ্রুপের সাথে মার্জারের জন্য।

    ডিরেগুলেশনের গেট খোলা শুরু হয় গ্লাস-স্টিগাল রুল হ্ঠানো দিয়ে। ব্যাংকগুলো সিকিওরিটি ট্রেডিং, ইন্সিওরেন্স বিক্রি শুরু করল - হাউজিং ইন্সিওরেন্স বিক্রি নিয়ে মার্কেট/ইকনমি ক্র্যাশ তো সবাই দেখেছে ২০০৮-এ। একটা সময় গেছে ২০০২-২০০৭ এর মধ্যে, যখন আমরা সবাই দেখেছি যে 0% ডাউন পেমেন্ট দিয়ে চাকরি-বাকরি ছাড়া লোকজনকেও হাফ মিলিয়ন থেকে এক মিলিয়ন ডলার অবধি হাউজিং লোন দেওয়া হয়েছে - দেয়ার ওয়াজ অ্যাবসোলিউটলি নো মনিটরিং অফ লোন প্র্যাকটিস।

    যে বিল ক্লিন্টন ১৯৯৯-এ বলেছিলেন "the Glass–Steagall law is no longer appropriate.", সেই তিনিই মার্কেট ক্র্যাশের পর ২০০৮ এ বলেছিলেন - ".... they (republicans) made me do it..." ।

    কাছাখোলা ডিরেগুলেশনে কি হয়, তার একটি উদাহারণ হল রিপিল অফ গ্লাস-স্টিগাল অ্যাক্ট।
    ----
  • S | 2405:8100:8000:5ca1::a8:9f74 | ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৩৫512870
  • গোল্ডম্যানের কিছু ব্যান্কিং অপারেশান মনেহয় আগেও অল্প করে ছিলো। ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসের পরে পুরোপুরি ব্যান্কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ওয়ারেণ বাফে যে ৫ বিলিয়ন দিয়েছিলো, সেটা কি করলো?

    তবে আমার মনে হয়েছে সাবপ্রাইম ক্রাইসিসের জন্য শুধুমাত্র গ্লাস-স্টিগাল অ্যাক্ট রিপীল বা বাঁধনহীন সিকিউরিটাইজেশানকে দায়ী করাটা বোধয় সঠিক নয়। আরো অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করেছিলো। সেগুলো নিয়ে কথা বলাটা সেইসময় খুব আনপপুলার, তাই কেউ সেসব আর বলেনি।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ অক্টোবর ২০২২ ১৮:১০512872
  • শ্রী স

    ওমাহার ঋষি ওয়ারেন বাফেট ৫ বিলিয়ন ডলারের গোল্ডম্যান জাখস শেয়ার কিনেছিলেন ২০০৮ সালে। তিন বছর পরে সেটি বিক্রি করে ৩.৭ বিলিয়ন লাভ করেন । লেমানে টাকা ঢালতে অস্বীকার করেন। দিব্যদৃষ্টি !

    সকল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক আমাদের হিসেবে “ব্যাংকিং “ করেছে  কেবল মাত্র উচ্চবিত্ত মক্কেলের জন্য । সেটা রিটেল নয় তাই ডিপোজিট ইন্সিউরেন্সের যোগ্য ছিল না। ১৯৩৩ থেকে ২০১১ অবধি তারা কেউ ব্যাংকিং কোম্পানির তকমা পায় নি এখন সবাই ব্যাঙ্ক ! গোল্ডম্যানের প্রাক্তন এম ডি হ্যাঙ্ক পলসেন বুশের দফতরে যোগ দিয়ে তাঁর পুরনো ব্যাঙ্ককে বাঁচালেন , লেমান , এ আই জিকে ডোবালেন।

    মনে রাখা ভালো ওয়াল স্ট্রিটের পার্টনারশিপ ফার্মগুলির মূলধন অতি স্বল্প ছিল।  ১৯৭৯ সালে মেরিলের মূলধন ৪০ মিলিয়ন।  তাই দিয়ে তারা বিশাল আণ্ডাররাইটিং করেছে। সলোমনের হাতে প্রভূত টাকা আসায় তারা  অন্য রকম খেলা খেলল।  চাক প্রিন্সের অমর বাণী – যতক্ষণ ব্যান্ড বাজছে আমরা নৃত্য মঞ্চ ছেড়ে যেতে পারি না।  

    অবশ্যই আরও অনেক ফ্যাক্টর ছিলো।  আই আই টি দিল্লি থেকে ইলেকট্রিকাল এঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পাশ করা এক তামিল ব্রাহ্মণ ২৭ শে আগস্ট ২০০৫ ( সাব প্রাইম নামে যে সমস্যা আসবে সেটা অজানা তখন – আমি প্রথম শুনি ২০০৭ সালে, নিউ ইয়র্কে টাটা স্টিলের রোড শোতে ) জ্যাকসন হোলে ফেড চেয়ারম্যান গ্রিনসপানের  বিদায়ী সভায় কিছু ফ্যাক্টরের উল্লেখ করেন।  কেউ শোনে নি।  খানিকটা তুলে দিলাম

    Something as intimate as credit risk is now being traded with strangers. In fact, in the same way as parents are asked "Do you know where your children are?", bankers nowadays are asked "Do you know where your risks are held?". The tendency towards arm's length transactions has been termed "disintermediation" because it involves moving away from traditional bank-centered ties. However, the term is a misnomer

    আর নোবেল পুরস্কার পেলেন বেরনানকে ডায়মন্ড আর ডিভিগ – ব্যাংকিং বিদ্যার জন্য!
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন