ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক

  • খিড়কী থেকে সিংহদুয়ার

    স্বাতী রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ০২ মে ২০২২ | ২৭৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • সুখ স্বপনে, শান্তি শ্মশানে। একেবারে সত্যি কথাটা। রু অন্য ইউনিভার্সিটিতে পড়া বন্ধুদের থেকে গল্প শোনে। তারা HTML শেখে, ডেটাবেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট করে। তারা ‘বিজনেস কম্যুনিকেশনে’র ক্লাস করে।  সেখানে ‘ইন্ডাস্ট্রি কানেক্ট’ হয়। ইউনিভার্সিটির বাইরে থেকে লোকজন আসে। তাঁরা কি নিয়ে কাজ করছেন তাই নিয়ে সেমিনার দেন। কত নতুন নতুন বিষয়ের নাম শোনে। রু’রা এসব কিছুই করে না। চাপ তৈরি হয় মনে মনে। ইতিমধ্যে একটা ম্যাগাজিন হাতে আসে। তাতে এমসিএ কারিকুলামের তীব্র সমালোচনা। বলা হয়েছে এই কোর্সগুলো ইন্ড্রাস্ট্রি কি চায়, সে দিকে ভুলেও তাকায় না। হাতে গোণা একটা, দুটো ইউনিভার্সিটি বাদে। আনএমপ্লয়েবল কথাটা কি তখনই প্রথম শোনে? রু প্রমাদ গোনে। নিজের মনে শেখা বিষয়গুলো হাতড়ায়। এগুলো কিছুই ইন্ডাস্ট্রির কাজে লাগবে না? তাহলে?
     
    ইন্ড্রাস্ট্রি কি চায়? সত্যিই বোঝে না! এতদিন ধরে রু যেসব কোম্পানিতে ঘুরেছে, তাদের সবারই কম্পিউটার তথা সফটওয়্যার লাগে নিজেদের কাজে। পে-রোল প্রসেসিং, ইনভেনটরি ম্যানেজমেন্ট, মেটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি কাজে। মানে যাকে বলে ইনহাউস আইটি ডিপার্টমেন্ট। ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের দুনিয়া আলাদা। সে খোঁজ রু তেমন রাখে না। তখনও আউটসোর্সিং কথাটা সেভাবে পরিচিত না। শুরু হয় নি অফশোর ডেভেলপমেন্টের জাদু কারবার । এর বাইরের ইন্ডাস্ট্রি? তখনও রু জানে না  প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের কথা। জানে শুধুই কনসালটেন্সির কথা। তাদের দুনিয়াটা কেমন? তারা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে প্রজেক্ট পায়। তখনও টার্ন-কী বেসিসে প্রজেক্ট বেশি। এক এক ক্লায়েন্টের চাহিদা এক। সেই সেই দাবী অনুযায়ী প্রজেক্ট। কী কী জানতে লাগে রে? রু জানতে উৎসুক হয়। বন্ধুরা গড়গড়িয়ে লিস্ট বলে যায়। একটা মলিন দীর্ঘশ্বাস পড়ে। বই পাওয়া যায় অনেক। যাদবপুরে স্টাডি তো আছে। নতুন খুলেছে ইয়োরস বুক স্টল। সারে সারে বই সাজানো। তবু শুধু বই পড়ে কি পুরো শেখা যায়? হাতে কলমে করা?  
     
    ১৯৯৩-৯৪। পারসোন্যাল কম্পিউটার। বা পিসি। তখনও এক অতি মহার্ঘ্য জিনিস। একটা নতুন পিসির দাম তখনও ষাট-সত্তর হাজার টাকা, কম করেও। এক ভরি সোনার দাম হাজার চারেক টাকা। অনুপাতটা বোঝাই যায়। মধ্যবিত্তের চার দেওয়ালে তখনও অধরা। তবু বছরে বছরে হু হু করে বিক্রি বাড়ছে। এইচ সি এলের বিজিবী । উইপ্রোর বা জেনিথেরও। পিসির অসম্ভব দ্রুত টেকনোলজির উন্নতিও হচ্ছে। প্রথম জমানার পিসি হল ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। হার্ড ডিস্ক নেই। ৮-বিটের প্রসেসর। তারপর একে একে এসেছে হার্ড ডিস্ক-ওলা পিসি-এক্সটি, তারপর পিসি-এটি। ১৯৮৬ সালে ইনটেল আনল 80386 প্রসেসর। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কমপ্যাক নিয়ে এল 80386 বেসড পিসি। ১৬ বিট থেকে ৩২-বিট। পিসি সাবালক হল । সঙ্গে সঙ্গে এল হরেক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। ওয়ার্ডস্টার, ওয়ার্ডপারফেক্ট, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড। মার্কেট-লিডার হওয়ার জোরদার লড়াই। ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছে বটে। ভারতে তখনও আসে নি। বাণিজ্যিক দুনিয়ায় মেনফ্রেম-মাহাত্ম্য সামান্য হলেও কমতির দিকে। গোটা পৃথিবী পিসির দিকে ঝুঁকছে। ১৯৯০ তে বিল গেটস আনলেন উইন্ডোস অপারেটিং সিস্টেম। আর ১৯৯২ সালে বাজারে এল উইন্ডোস ৩.১। নিঃশব্দ বিপ্লবের পথে আরেক ধাপ।            
     
    রুর প্রোজেক্ট ট্রেনিং শুরু। একটা অফিস। ক্যামাক স্ট্রীটে। সকাল নটায় খোলে। রাত নটা-টটায় বন্ধ হয়। যখন খুশী যাও। যখন খুশী বেরোও। কারোর কোন মাথা ব্যথা নেই। কোন চাপ নেই। কেউ ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলে না। অথচ সবাই মন দিয়ে কাজ করে। ফালতু মিটিং হয় না। নেই জোর করে টিমওয়ার্ক । কিন্তু দরকারে সাহায্যের হাত বাড়ানো। কোন জাদুমন্ত্রে সম্ভব হয়েছিল জানা নেই। কোম্পানির দুই মালিক। একজন অবাঙালী। তাঁর দেখা মেলে কম। অন্যজন বাঙ্গালী। তাঁকে রু চেনে। তিনি খড়গপুরের ছাত্র। যারা তখন সেখানে ছিল, তারাও বেশিরভাগই সেখানকার। রু হংস-মধ্যে-বক-যথা।  
     
    প্রথম দিনই একটা কম্পিউটার মিলল। তাতে উইন্ডোস ৩.১ লোড করা। একটা প্রোডাক্ট বানানো চলছে। রু’র শুনেই তাক লেগে গেল। আরেব্বাস! এমনও হয় নাকি! তায় কলকাতায়? সেই প্রোডাক্টের ছোট দুটো অংশের দায়িত্ব পেল। জুটল একজন মেন্টরও। তারপর সে কদিনের ছুটি নিল। যাওয়ার আগে বলে গেল, এই তো তুমি সব বুঝে গেছ। এবার এটা শেষ করে ফেল। রু’র ভারী উৎসাহ।  পাতার পর পাতা কোড লেখা সারা। কিন্তু চালাতে গিয়ে ঝামেলা! কিছুই কাজ করে না। গণ্ডগোলটা কি আবছা বুঝতে পারছে। কিন্তু সারানোর উপায় ধরতে পারছে না। ধরবে কি করে, জানে তো শুধু সিকোয়েন্সিয়াল প্রোগ্রামিং। শেষে আর কি করে! জানাতেই হল। রু’র বস যিনি, তিনি আগে যাদবপুরে ওদের শিক্ষক ছিলেন। মারাত্মক ভয় পেত ওঁকে। মনে মনে ভাবছে, এইবার বলবেন, কিছুই পারো না – যাও, কাল থেকে আর আসতে হবে না। স্যার শুনলেন। কি আশ্চর্য, বকলেন না একটুও। পরের দিন রুকে নিয়ে বসলেন। ঘণ্টাখানেক পড়ালেন। ইভেন্ট-ড্রিভেন প্রোগ্রামিং। আর একটা বই ধরিয়ে দিলেন। রু’র পরে ভারী আপসোস । কেন যে তখন আলোচনা রেকর্ড করার চল ছিল না। ওই এক ঘন্টা রু’র প্রফেসনাল জীবনের একটা অমুল্য সম্পদ। আর এই অফিসটাও। মাত্র ছ মাসের মেয়াদ।  পাথেয় জোগাড় হয়েছিল বহুদিনের।
     
    ***
    সুখ নেই অন্য কারণেও। বাড়িতে আজকাল খিটিমিটি ঝামেলা লেগেই থাকে। ছোট বড় বিবিধ বিষয় নিয়ে। সবেরই তফাৎ। দৃষ্টিভঙ্গির। বিচারবোধের। আকাঙ্খার। কী পরবে থেকে কেমন করে পরবে। কেমন আচার-ব্যবহার করবে। যুক্তি দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে রু। কিন্তু ঠেকে যায়। বোঝে, যুক্তির তল আলাদা হয়ে গেছে। বিশেষত যুক্তি যখন অযৌক্তিকতাতে এসে ভেড়ে। “পাড়ার লোকে কি বলবে?” ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বনাম সমাজবদ্ধতা।

    অভিযোগের পরে অভিযোগ ধেয়ে আসে। যে শান্তভাব, ভদ্রতা, নম্রতা, নিয়মের প্রতি আনুগত্য আকাঙ্খিত ছিল, তার সঙ্গে মেলে না। এত ঔদ্ধত্য আসে কোথা থেকে! কোন কিছুর পরোয়া নেই! বেহায়ার মত স্কার্ট-জিনস পরার আবদার। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এলে প্রণাম করো না। এত অসভ্যতা! বাড়িতে আরও এতগুলো মেয়ে রয়েছে। কেউ তো এমন অসভ্য নয়।    
     
    রু র কষ্ট হয়। বড়দের দুনিয়া দেখে ফেলেছিল একবার। ছোট্ট বয়সে। যৌন-নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। বাড়ীর মধ্যেই। আত্মীয়ের হাতে। কেউ কোন প্রতিবাদ করে নি। পারিবারিক স্ট্রাকচার মেয়ের ভাল-মন্দেরও উপরে। কোথায় ছিল সেদিন এত ন্যায়-অন্যায় জ্ঞান?  “ভালো মেয়ে” হয়ে ওঠা হল না। কোন বাবদেই না। তবু নিজের জেদও ছাড়ে না। বিদ্রোহ চালিয়েই যায়। জোর গলায় চীৎকার করে।
     
    তবু ভিতরে ভিতরে দীর্ণ হয়। কেন যে সবার মত মানানো- গোছানো-সংসারী আজিকে-বার্তাকু-ভক্ষণ-নিষিদ্ধ-মানা হতে শিখল না?
     
    টানতে টানতে সুতো ছেড়ে। অথবা কি জানি! হয়তো আগে থেকেই ছেঁড়া ছিল। চোখে পড়ে নি! বাড়ীর প্রতি টান কতটা ছিল? শ্বশুরবাড়ী। কথাটা ছোটবেলার থেকে শোনা। এক আধবার তো নয়, বহু বহু বার। শয়নে-স্বপনে- জাগরণে। কাজ না শিখলে না-দেখা-শাশুড়ীর ধমকের ভয়। রাত জেগে গানের আসরে যাওয়ার শখ? শ্বশুরবাড়ীতে গিয়ে মিটিও। সেটাই নিজের বাড়ী। সব শখ-আহ্লাদ মেটানোর জায়গা। এটা তবে কি? উত্তর লুকিয়ে থাকে উত্তর না-পাওয়ার মাঝেই। নিরালম্বতার মাঝে ঘোরে রু। একটা অসহায় অনুভূতি। নিজের ‘ঘর’ থেকেও ‘নিজের ঘর’ না থাকা!
     
    (ক্রমশঃ )
     
    (সমতট  বর্ষ ৫১ সংখ্যা ৩ ও ৪ এ পুর্ব প্রকাশিত )
     
  • | রেটিং ৪.৫ (২ জন) | বিভাগ : ধারাবাহিক | ০২ মে ২০২২ | ২৭৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৫ মে ২০২২ ০৭:৫১507249
  • ভালো লাগছে।ণ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন