এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক

  • খিড়কী  থেকে  সিংহদুয়ার

    স্বাতী রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ০৬ মার্চ ২০২২ | ৪৭৩ বার পঠিত
  • পড়ার বইএর তাকে বই। ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার। প্রথম বছর শুধু মুখড়া। সমুদ্রের পারে দাঁড়িয়ে ঢেউ গোনা। দ্বিতীয় বছরে জল ছোঁয়া। একটু পায়ের পাতা ভেজানো। তৃতীয় বছরে সময়ের আকাল। বন্দরের কাল হল শেষ। যা নুড়িপাথর কুড়ানোর, জলদি কুড়াও।  নতুন নতুন জানার জগত। কম্পিউটার আর্কিটেকচার, সিস্টেমস প্রোগ্রামিং, মাইক্রোপ্রসেসর, ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং। ইত্যাদি ইত্যাদি।  সব থেকে পছন্দের বইগুলো চলে আসে খাটে। এলিয়ে পড়ে অমিয়ভুষণ, সন্দীপনের গায়ে। অক্ষর থেকে অক্ষরে ঘোরে রু। চিরবন্ধু, চিরনির্ভর।
    পড়ার বইও ভালো লাগা। প্রায় গল্পের বইএর সমান ভাবে। এ আশ্চর্য ঘটনার কৃতিত্ব শিক্ষকদের। সবার না, কিছুজনের। এ এক আজব ডিপার্টমেন্ট। একদিকে চাঁদের হাট। একঝাঁক উজ্জ্বলতম রত্ন এসে জুটেছেন। সাগর ছেঁচা রত্ন।  আকাডেমিক ঔজ্বল্যে সূর্যেরও বাড়া। মানুষ হিসেবেও। তরুণ তুর্কী। দুঃখের বিষয়, যাদবপুর এঁদের বেশিরভাগকেই ধরে রাখতে পারে নি। পুরোনদের মধ্যেও ছিলেন কিছুজন। ভালো শিক্ষক। ছাত্রবৎসল। এঁদের সবার জন্য অনেক শ্রদ্ধা!
     
    এতেই শেষ না। আছে আরও দুদল। এক দল মোটে পড়াতে না-পারা। পকেটে কাগজের তাড়া। হলুদ,  অসাবধানে গুঁড়ো হয়ে যাবে এমন মচমচে। ক্লাসে ঢুকলেই সেই কাগজ হাতে।  দেখে দেখে বোর্ডে লেখা। আনইন্টারেস্টিং এর হদ্দ ! রু’র ভালো লাগে না। পালানোর ছুতো খোঁজে। অনেকে আবার এটাই পছন্দ। রেডিমেড নোটস মিলছে। আর কি চাই! “ছায়া প্রকাশনীর” বীজের বয়স অনেক। অস্বীকার করা মানে বোকামি।
     
    মেয়ে দেখলে ‘এক্সট্রা কেয়ার’। এমন লোকও আছে। হ্যারাস-কর্ম সর্বত্র। এমনকি পরীক্ষার হলেও। মি-টু’র ভয় তখনও বাস্তব হয় নি। সেটাই হয়ত রক্ষাকবচ।
    তবু এরা নিরীহ গোছের। বিপজ্জনক ছিলেন আরেকজন। জ্ঞানী মানুষ। এদিকে জ্ঞান বিতরণে ঘোর অনীহা। পড়াতেন একটা স্পেশাল পেপার। সাকুল্যে দুটো ক্লাস নিয়েছিলেন। গোটা সেমেস্টারে। নিজেরা পড়ে নাও। সোজা কথা। এদিকে বই অমিল। ডিপার্টমেন্টের লাইব্রেরীতেও নেই। অভিযোগ শুনে উলটে ব্যঙ্গ। মাইনে তো দিস বারো টাকা, তাতে আবার বইও চাস। পরীক্ষার আগে ২০ টা প্রশ্ন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তার থেকেই আসবে। সব ছাত্রই শুধু নম্বর চায় না। শিখতেও চায় অনেকেই। এই সরলসত্য ওঁর বোধের অতীত।   বিরল-প্রজাতির শিক্ষক। অন্তত যাদবপুরের পক্ষে।
     
    জেনেবুঝে ছাত্রদের ক্ষতি করা। এক সহপাঠীর অভিজ্ঞতা মনে পড়ে রু’র । ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ-এর সময়। লেখা-পরীক্ষায় উতরানোর পরে ইন্টারভিউ। স্পেশাল পেপার কি ছিল? প্রথম প্রশ্ন। তারপর পরপর তিনটে প্রশ্ন। সেই বিষয়ে। বন্ধুর এক উত্তর, I don’t know Sir। পুরো ISO Standard. এরপর বন্ধুর ভাষ্য, “শুধু চতুর্থ প্রশ্নের উত্তরেই পজিটিভ উত্তর দিয়েছিলাম। কারণ প্রশ্নের সঙ্গেই প্রশ্নকর্তা জোড়েন, I think you don’t know this as well, right?  এতক্ষণে এই প্রথম বলতে পারি,  Yes Sir.”  এ ঘটনার দায় আসলে কার?
     
    কালোর পাশে ভালোও থাকে। অজান্তেই তৈরি হয় “ডু’জ এন্ড ডোন্টস” এর লিস্ট। বর্জন আর গ্রহণ। ভ্যালু সিস্টেম গড়ে ওঠে।শুধু শিক্ষকদের থেকেই না। সহপাঠীদের থেকেও। এটা, ওটা, সেটা।
     
    অবশ্য শেখা ক্লাসের বাইরেও। ক্যাম্পাসে, ক্যাম্পাসের বাইরে। কলকাতায় ততদিনে অজস্র কম্পিউটার শেখানোর সেন্টার। অলিতে-গলিতে। ব্যাঙের ছাতার মত। একটু বেশিই ইনভেস্টমেন্ট লাগে। গোটা দু-তিনেক মহার্ঘ ডেস্কটপ। আর একটা ক্লাসরুম। আর কিছু ছাপানো বাহারি সারটিফিকেট। সাইনবোর্ড ঝোলানোর অপেক্ষা। সঙ্গে সঙ্গেই লোকের লাইন পড়ে যায়। লাগানো টাকা উঠে আসে অল্পদিনেই। লাভ হি লাভ। ভালো ট্রেনিং ইন্সটিটিউটও অবশ্যই আছে। শেখায় ভালো, মুল্যও ভালো। ভর্তি হওয়াও কঠিন।  তবে খুশিমত সার্টিফিকেট-বিলানো জায়গাই বেশি। আজব-কিসিমের জায়গা সব।
     
    এইরকম একটি ইন্সটিটিউটের সন্ধান পেল। সেখানে ঘণ্টা হিসেবে কম্পিউটার প্র্যাকটিস করা যায়। সেই দেখেই উৎসাহ। কলেজে তো বুড়িছোঁয়া ব্যাপার। কোনমতে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া। আরও অনেক অভ্যাস দরকার। প্রোগ্রামিংএর হাত পাকা করতে।  পৌঁছাল ট্রেনিং কোঅরডিনেটরের কাছে। আবেদন পেশ করল। শুনে টুনে প্রথম প্রশ্ন, আপনি কি পড়েন বললেন? সবিনয়ে উত্তর, এমসিএ।
    ওঃ আচ্ছা, সিএ-র মাস্টার্স।   
    বলে কি! পাগল নাকি! সিএ-র আবার মাস্টার্স কি? তাও ভালভাবে উত্তর দেয়, 
    না, এটা মাস্টার অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্স। আমি সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।
    ওহ । আপনি বরং একটা বেসিক কম্পিউটার কোর্স করে নিন। কম্পিউটার চালাতে শিখে যাবেন। 
     
    বেরিয়ে চলে আসে রু। খুবই ক্ষিপ্ত। বলে কিনা কম্পিউটার চালাতে শিখতে! ট্রেনিং ইন্সটিটিউট খুলে বসেছে।  এদিকে সিএ / এমসিএ র তফাৎ বোঝে না!  পরে বোঝে, ওদের বোঝার দায়ও নেই। যে কোন ভাবে হোক, বিজনেস বাড়াতে পারলেই ওরা খুশী। এটাই কলকাতার সাধারণ অভ্যাস।  প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা আর হয় না।
     
    থার্ড ইয়ারের শুরু। রু একটা প্রজেক্টের কাজ পেল। GW-Basic এ। ক্লায়েন্ট প্রোজেক্ট। খুবই খুশী।  কলেজের পরে যায়। কাজ করে। সপ্তাহে দুদিন। পয়সাকড়ি নেই। কিন্তু শিখতে তো পাবে। সেই অফিসে কাজের পাশাপাশি পড়ানোও হয়। যিনি পড়ান, তিনি ছুটিতে যাবেন। রু কি ক্লাস নেবে? জানতে চাওয়া হল। রু তো এক পায়ে খাড়া। এডভ্যান্সড DOS এর ক্লাস। রাত জেগে তেড়ে পড়াশোনা করে। DOS এর ভিতরের কাজকর্ম, কিভাবে কি হয়! ক্লাস ঢোকার আগে বুক ধুকুপুকু। যদি ছাত্রদের প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারে!  শুরু হল পড়ানো। কিছুক্ষণ পর কেমন সন্দেহ হল। ছাত্ররা মুখ চাওয়াচাওয়ি করে কেন? একটা কাগজ দেওয়া হয়েছিল। আগে কতদূর পড়ানো হয়েছে। সেখান থেকে কিছু প্রশ্ন করল। ক্লাস নিস্তব্ধ। তারপর আস্তে আস্তে বেরোল। ওদের রোজ ক্লাসে কিছু কমান্ড লিখিয়ে দেওয়া হয়। যথা REN মানে ফাইল Rename করা। ব্যস। তার বেশি ওরা কিছু জানে না। জানতে চায়ও না। এটাই পড়ানোর নিয়ম। কাগজে যাই লেখা থাক। 
     
    কোর্সের নাম এডভান্সড DOS কেন? বারে!  বেসিক DOS এর ক্লাস ছিল আগে। তিনমাসের। সেখানে কি শিখেছ? কম্পিউটার অন করা, আর কি ফাইল আছে দেখার জন্য Dir কম্যান্ড। খুবই গর্বিত উত্তর। 
     
    আচ্ছা, ফাইল কি? আবার শ্মশানের নীরবতা।  
     
    অন্য কয়েকটা জায়গায় খোঁজ নিল। বন্ধু, বান্ধব, ভাই, বোনেরা পড়ে। সব উনিশ আর বিশ।  রুকেও যেতে হল তোতাপাখি-মোডে। সিনিয়রদের উপদেশে। ক’দিন পরে ওদের আদি শিক্ষক ফিরে এলেন। তাঁর হাতে ছাত্র-প্রত্যর্পণ করে গোল্ডেন রিট্রিট।   
     
    ছাত্রদের আদৌ কাজে লাগল এই বিদ্যা? জানে না। শুধু জানে ছাত্রদের নিয়ে ছেলেখেলা সবসময়ই চলছে, চলবে।
     
    (ক্রমশঃ )
     
    (সমতট  বর্ষ ৫১ সংখ্যা ৩ ও ৪ এ পুর্ব প্রকাশিত )
  • ধারাবাহিক | ০৬ মার্চ ২০২২ | ৪৭৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৫ মার্চ ২০২২ ১৬:৪৭505549
  • উফ্ফ্ফ এই শেখাতে চাওয়া, কমান্ডগুলোর অন্ধি সন্ধি বোঝাতে চাওয়ায় আমার এত খারাপ অভিজ্ঞতা কি বলব! এমনিতে পড়াতে ভালবাসতাম না এরপরে তো একেবারে তিতিবিরক্ত হয়ে গেছি।  
  • হয়ত | 2600:1002:b034:86fa:7486:76a2:daa9:4421 | ১২ মে ২০২২ ০২:৩২507533
  • প্রদীপ সাহা আত্রেয়ী ভট্টাচার্য অভিজিত 
     
     
    হয়ত চেনা হয়ত নয় 
  • স্বাতী রায় | ১৩ মে ২০২২ ১৬:১৩507576
  • আত্রেয়ী ভট্টাচার্য , প্রদীপ সাহা কি JU Physics ১৯৮৬-৮৯ graduation? তারপর MCA ? ১৯৯৩ র পাস আউট? তাহলে চিনি খুবই ভাল। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন