এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  লিঙ্গরাজনীতি

  • ঘরেও নহে, পারেও নহে, যে জন আছে মাঝখানে

    স্বাতী রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    লিঙ্গরাজনীতি | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ৪১২ বার পঠিত
  • পঞ্চানন কুশারির পুত্র জয়রাম, তস্য পুত্র দর্পনারায়ণ, তস্য পুত্র গোপীমোহন । রাজা গোপীমোহন ঠাকুরের নাম আর সে আমলের কেই বা না জানে! জ্ঞানে, গুণে, সম্পদে তিনি হলেন সমাজের একজন মাথা। দশজন মাতব্বর মিলে যখন হিন্দু কালেজ তৈরি হল, তখন চাঁদার অঙ্কে বর্ধমানের রাজার পরেই তাঁর নাম। আবার দেবদ্বিজেও কত ভক্তি! কালিঘাটের মা দক্ষিণাকালীকে সোনায় মুড়ে দিয়েছেন! সেই উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণভোজনের এমন জুলুশ, যে গোরা পুলিশ ডাকতে হয় ভিড় সামলাতে। এমন সুযোগ্য বাপের ছেলেরাও কম যায় না। বাবা যদি আদি বাড়ি ছেড়ে নতুনবাজারে বাড়ি করেন, ছেলেরা ( কালিকুমার নাকি প্রসন্নকুমার স্বয়ং?) নাপতেহাটায় বানিয়ে ফেললেন পাথুরেঘাটার রাজবাড়ি। গোপীমোহনের ছয় ছেলের মধ্যে ছোটজন, প্রসন্ন কুমার ঠাকুরও জ্ঞানী গুনী মানুষ, সদর দেওয়ানী আদালতের মহামান্য উকিল বাহাদুর। নিজের চেষ্টায় ধন দৌলত বাড়িয়েছেন প্রচুর। সমাজের কথাও ভাবেন খুব। সে আমলের গৌড়ীয় সভার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। সে সভা রক্ষণশীল হিন্দুদের হলেও আর ইয়ংবেঙ্গলের পন্থার বিরুদ্ধে হলেও পশ্চিমি শিক্ষার সমর্থক।

    তাঁর একমাত্র ছেলে জ্ঞানেন্দ্র মোহন ঠাকুর। সে আমলের হিন্দু কলেজের কৃতী ছাত্র। রাজনারায়ন বসু লিখেছেন যে তাঁর সহাধ্যায়ীর মধ্যে মাইকেল মধূসূদন দত্ত, প্যারী চরণ সরকার, জ্ঞানেন্দ্র মোহন ঠাকুর, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, যোগেশচন্দ্র ঘোষ, আনন্দকৃষ্ণ বসু, জগদীশ চন্দ্র রায়, ঈশ্বরচন্দ্র মিত্র, নীলমাধব মুখোপাধ্যায়, গিরীশচন্দ্র দেব ও গোবিন্দচন্দ্র দত্ত প্রধান ছিলেন।

    ষোল বছরের জ্ঞানেন্দ্র’র বিয়ে হল যশোরের কুলীন ব্রাহ্মণ সুর্যকুমার চক্রবর্তীর মেয়ের সঙ্গে। কনেটি জ্ঞানেন্দ্রর থেকে সাত বছরের ছোট। শোনা যায় সেই বিয়েতে নাকি ছেলেপক্ষ তখনকার দিনেও প্রায় এক লাখ খরচ করেন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী লিখেছেন, “ তিনি আদরের ছেলে ছিলেন বলে বাপ অল্প বয়সে যশোরের এক সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। সেই স্ত্রীর তিনি খুর অনুগত হয়ে পড়েছিলেন, এমন কি পাখার বাতাস দিয়ে ঘুম পাড়াতেন ও দিনরাত কাছে কাছে থাকতেন।”

    বিয়ের এক বছরের মাথায় বালাসুন্দরী ঘরবসত করতে পাথুরেঘাটায় এলেন। ছোটখাট, ক্ষীনাঙ্গী কিন্তু অপরূপা সুন্দরী কন্যাটি গুণেও কম নয়। ধীমতি কন্যাটির শিক্ষার জন্য শ্বশুরবাড়িতে পণ্ডিত নিযুক্ত করা হল। তাঁর তত্ত্বাবধানে বালা দ্রুত পড়াশোনা শিখতে লাগলেন।

    নতুন বৌটি তার বাপের বাড়ির ধারা অনুসারে কালি-উপাসক। কিন্তু তরুণ বরটি ততদিনে একেশ্বরবাদী ক্রিশচানিটির দিকে ঝুঁকেছে। কলেজে বন্ধুবান্ধবদের তর্কের আসরে সর্বদাই খ্রীস্টীয় ধর্মের পক্ষে প্রমাণ দেখাতে থাকেন। কাজেই বৌ এর সঙ্গে ধর্ম নিয়ে কথা উঠতে, সে তো সদম্ভে কালি ঠাকুরের ঠাকুরত্বই অস্বীকার করে বসল। জানাল যে সে আরও ভালো এক ধর্মের সন্ধান পেয়েছে। বালা অবাক হয়ে খ্রীস্টধর্মের কথা শুনল, তার জীবন-পরিধিতে এক নতুন তত্ত্ব – তারপর থেকে জ্ঞানেন্দ্রর সঙ্গে ধর্মতত্ব্বের যৌথ পাঠ শুরু হল। জ্ঞানেন্দ্র কিন্তু যুক্তিবাদী ছিলেন। তাই তাঁর পাঠ শুধু নীতিবোধ আর ধর্ম-ইতিহাসের মধ্যেই সীমিত থাকত। ধর্মের যেসব ঈশ্বরিক ব্যাপার স্যাপার সেসবে তাঁর তত আগ্রহ ছিল না। এদিকে খ্রিস্ট ধর্মের যেসব বই বাংলায় অনুবাদ হয়েছে, সেসব পড়েও বালার তৃপ্তি নেই। সে ঠিক করল, ইংরাজি শিখতে হবে। এক দেওরের বই নিয়ে নিজে নিজেই ইংরাজি শিক্ষা শুরু হল। তারপর জ্ঞানেন্দ্র তার ইংরেজি শিক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। নতুন নতুন বই এর দৌলতে বালা খীস্ট ধর্মের নতুন নতুন দিক আবিষ্কার করতে লাগলেন। আজন্মের হিন্দু বিশ্বাসের জায়গা নিল নতুনতর ধর্মের প্রতি মোহ।

    তবে একমাত্র পুত্রবধূর এহেন দেব দ্বিজে ভক্তির অভাব বাড়ির আর সকলের সুবিধার লাগল না। তাঁকে নিত্য শিব পূজার নির্দেশ দেওয়া হল। চাপে পড়ে বালা পুজো করতে বাধ্যও হলেন। কিন্তু তিনদিনের দিন তাকে শিব লিঙ্গ নিয়ে ছেলেখেলা করতে দেখে বড়রা হাল ছেড়ে দিলেন। তখন তাঁর উপর সংসারের হরেক কাজ চাপানো হতে লাগল। সেসব কাজ তিনি আগে কক্ষনো করেননি, সাধারণভাবে তার কথার কথাও না। এইসবই তাঁকে চাপে রেখে সিধে করার চেষ্টা। আর শুধু তো বালাকে একা শিক্ষা দেওয়া নয়, খানিকটা হয়ত বালার মারফত জ্ঞানেন্দ্রকেও শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টাও ছিল। খুবই কঠিন দিন তখন দুজনের।

    বালা স্বামীকে অনুযোগ জানাতেন, যে ধর্মের পথ তিনিই তাকে দেখিয়েছেন, সেই ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের ব্যবস্থা তিনি কেন করতে পারছেন না? এটাই সমস্যা ছিল যে তখনও জ্ঞানেন্দ্র একেশ্বরবাদীত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কলকাতার বেশির ভাগ চার্চই তখন ট্রিনিটারিয়ান মতে বিশ্বাসী। তাহলে তিনি কোন চার্চে যোগ দেবেন? অবশ্য তারপর বিভিন্ন বই এর আলোচনার প্রভাবে জ্ঞানেন্দ্র ও ট্রিনিটারিয়ান মতের মাহাত্ম্য বুঝলেন। তখন এই সমস্যা মিটল।

    তবে জ্ঞানেন্দ্রমোহন জানিয়েছেন যে তাঁর মায়ের পুত্র-পুত্রবধূর ধর্মে মতি নিয়ে প্রভূত দুশ্চিন্তা থাকলেও তার বাবা আশ্চর্যভাবে সে ব্যাপারে নিস্পৃহ ছিলেন। অবশ্য ধর্মের ব্যাপারে প্রসন্নকুমারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলনায় উদার ছিল।

    ইতিমধ্যে জ্ঞানেন্দ্র মোহনের মা মারা গেলেন। বালা নবোদ্যমে নিজের পড়াশোনার কাছে ফিরে গেলেন। তাঁর জন্য মেম গভর্নেস এলেন। অল্প কিছুদিন সংস্কৃতও পড়েছিলেন তিনি। এই পর্বেই বালা স্বামীকে ধর্ম ত্যাগ করে দুজনে মিলে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহনের জন্য জোর করতে থাকেন। জ্ঞানেন্দ্র পাছে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে চ্যুত হন সেই ভয়ে এইরকম কাজ করতে রাজী হচ্ছিলেন না। বালা কিন্তু অর্থের অভাবের ভয়ে ডরাননি। খুব ভরসা ছিল তার যে জ্ঞানেন্দ্র খ্রিস্টান হলে ঠিক একটা কাজ পেয়ে যাবেন। বালা এও বলেন, স্বামী খ্রীস্ট ধর্ম গ্রহণ করলে, তিনি স্বামীর সঙ্গে কুঁড়েঘরেও থাকতে রাজি। ইতি মধ্যে বাড়ির চাপে জ্ঞানেন্দ্র লিখিতভাবে খ্রীস্টান ধর্মবিশ্বাস পরিহার করবেন বলে জানালেন। খুব সম্ভবত জ্ঞানেন্দ্রর জন্য কাজটা বিশেষ কঠিন হয়নি। কারণ তাঁর খ্রীস্ট ধর্মের প্রতি আকর্ষণ মুলত বৌদ্ধিক। বালার পক্ষে কিন্তু এতটা সহজ ছিল না। তিনি মন প্রাণ দিয়ে যিশু খ্রীস্টের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবু চাপের মুখে বালাও বাধ্য হলেন পারিবারিক জগদ্ধাত্রী পূজোয় অংশগ্রহণ করতে। বালার ছটফটানি আরও বেড়ে গেল। প্রকাশ্যে ধর্ম ত্যাগের জন্য তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠলেন।

    কিন্তু সে আশা পূরণ হওয়ার আগেই বালা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। যিশুর প্রতি পরম ভক্তি সহ ধর্মকথা শুনতে শুনতে বালা ঈশ্বরের বাগানে প্রবেশ করলেন। ১৮৫১ সালের ১৬ই জুলাই। মাত্র আঠেরো বছর বয়সে। বই অন্ত প্রাণ, দাবা খেলায় পটু, সেলাইতে দক্ষ একটি সদ্য তরুণীর সব সম্ভাবনা থেমে গেল।

    এর কিছুদিন পর জ্ঞানেন্দ্রমোহন প্রকাশ্যে খ্রিস্টান হন। তাঁকে ধর্মান্তর করান রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জী। তারও কিছুদিন পরে তিনি কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জীর বড় মেয়ে কমলিনীকে ( নাকি কমলমণি?) বিয়ে করেন। সেসময়ের জনগণ বলল, বিয়ের লোভেই জ্ঞানেন্দ্রমোহন ধর্ম ছেড়েছেন। বালাসুন্দরীর কথা কেউ জানল না। তিনি হারিয়ে গেলেন। ততদিনে ১৮৫০ সালে আইন জারি হয়েছে যে কেউ খ্রিস্টান হলেই তার পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না, তবু তুমুল অসন্তুষ্ট প্রসন্ন কুমার আইনের ফাঁক খুঁজে সেই পথে পুত্রকে সম্পত্তির অধিকার থেকে হটিয়ে দিলেন। বাবার মৃত্যুকালেও তিনি বাবার ক্ষমা পাননি। তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করতে এলেও তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য অনেক মামলা টামলা করে জ্ঞানেন্দ্র সে সম্পত্তির কিছু অধিকার ফিরে পান।

    জ্ঞানেন্দ্রর ধর্মত্যাগ, সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন সবই ইতিহাসের প্রভূত আলোচনার বিষয়। সবকটিই সেসময়ের ধর্ম তথা রাজনীতির সঙ্গে প্রবল ভাবে জড়িয়ে। জ্ঞানেন্দ্র পরবর্তী কালে স্ত্রীকে নিয়ে ইংল্যন্ডে যান। ইনিই কি তাহলে প্রথম বাঙ্গালী মহিলা যিনি বিদেশে যান? সেই দফার বিদেশ যাত্রাতেই  ১৮৬২ সালের ২১ শে জুন জ্ঞানেন্দ্রমোহন  লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হন। প্রথম ভারতীয় ব্যারিস্টার। পরে তিনি দুই কন্যাকে (বলেন্দ্রবালা ও সত্যেন্দ্রবালা) নিয়ে আবার ইংল্যন্ডে চলে যান আর সেখানেই মারা যান। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী যখন একাকী বিলেত যান, তখন তিনি প্রথমে জ্ঞানেন্দ্র মোহনের আতিথ্যেই ছিলেন। তিনি বলেছেন, “স্ত্রী মারা যেতে তিনি খুব অস্থির হয়ে পড়েন, সেই সময় কৃষ্ণ বন্দ্যোঃ নামে এক পাদ্রী তাঁকে সান্ত্বনা দিতে দিতে খ্রিস্টান করে ফেললেন।” কী সরল ব্যাখ্যা! অবশ্য জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর ভাষ্যে পুরাতনীতে জ্ঞানেন্দ্রের দুই কন্যার নামে যে ভাষায় বিচিং এর প্রমাণ রয়েছে, তাতে “সংস্কৃতি” কথাটার উপর বেশ সন্দেহই লাগে।

    কিন্তু জ্ঞানেন্দ্র’র কথা বাদ দিই। বালার কথা ভাবলে ভারি অবাক লাগে! বালার নিজের মুখ থেকে নিজের কথা না শুনতে পাওয়া গেলেও বালার কথা নিয়ে মিশনারীরা লিখে গেছেন। তাঁদের কাছে এ এক বিশাল জয়লাভ। বাংলার উচ্চবর্গের মানুষদের অন্তঃপুরে প্রথম খ্রিস্ট ধর্মের জয় ধ্বজা উড়ল। বালার যাবতীয় প্রতিবন্ধকতার মুখেও যিশুকে আঁকড়ে ধরে থাকা নিয়ে তাঁরা উদ্বেল। বিলেতের সমাজের জন্য তো বটেই,এদেশীয় মেয়েদের সামনেও তাঁকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার জন্য বই লেখা হল। সেই বই আবার ভারতীয় ভাষায় অনুবাদও হল যাতে বালার আদর্শে অন্য প্রদেশের মেয়েদের গড়ে তোলা যায়। কিন্তু মিশনারিদের ব্যাখ্যাই কি একমাত্র ধ্রুব সত্য? নাকি তার বাইরেও আরও কিছু আছে? 
     
    যদিও নিজের মত করে বুঝে নেওয়ার জন্য বালার বাবদে যথেষ্ট তথ্যের অমিল, তবু অনেক প্রশ্ন জাগে। নিতান্ত বালিকা অবস্থায় যখন বালা প্রথম স্বামীর মুখে খ্রীস্ট ধর্মের গুণগান শুনলেন, আর সেই সঙ্গে শুনলেন যে তিনি মা কালিকে ঠাকুর হিসেবে মানেন না,  কেমন ছিল তাঁর প্রতিক্রিয়া? আর দশটা সাধারণ ঘরের হিন্দু মেয়ের মতন ভয় পাননি? বলতে ইচ্ছে করেনি হেই মা কালি দোষ নিও না মা আমি তোমায় বুক চিরে রক্ত দেব - ওঁকে তুমি পাপ দিও না?  কতটা শক-রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরে তিনি নতুন ধর্মবিশ্বাস সম্বন্ধে কৌতূহলী হয়েছিলেন? কিভাবে পেরিয়েছিলেন এই প্রাথমিক ধাক্কা? নাকি পুরোটাই পাতিব্রত্যের একটা এক্সট্রিম ফর্ম? যেহেতু স্বামীর এই ধর্মে আগ্রহ তাই ছায়েবানুগতা পত্নীরও তাকেই আঁকড়ে ধরা আর তারপর সেটাকেই ধর্ম নিয়ে ভারতীয় ফ্যানাটিকতার বশে ওভারডু করা? সবটাই বালার নিজস্ব এজেন্সি ? বারো বছরের মেয়ের সে আমলে যতই পরিপক্কতা থাক, তখনই নিজের মতে চলার ক্ষমতা হত কিনা সেও প্রশ্ন থাকে। নাকি সবটাই জ্ঞানেন্দ্র কর্তৃক অসম্ভব নিপুণ ব্রেনঅয়াশিং? সুপুরুষ, প্রতিপত্তিশালী, বয়সে খানিকটা বড়, কলেজে পড়া স্বামীটির প্রতি শ্রদ্ধা ভাব-ই কি বালিকা বালাসুন্দরীকে তাঁর কথা বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে শিখিয়েছিল ? নাকি বেশ একটা অজানা নতুনের প্রতি আকর্ষনই এই নতুন ধর্ম নিয়ে মেতে ওঠার মূলে?
     
    তবে একটা নতুন ধর্ম নিয়ে জানতে চাওয়া, পড়াশুনো করা একরকম, কিন্তু পরিবারের সবার বিপক্ষে গিয়ে বালাসুন্দরী একটা অচেনা ধর্মে জড়িয়ে পড়লেন কেন? জ্ঞানেন্দ্রমোহনের তো তাও না হয় একটা বহির্জগতের প্রভাব ছিল, যতই হিন্দু কলেজে সেকুলার শিক্ষা দেওয়া হোক না কেন, ছাত্রদের মধ্যে তো থিওলজির চর্চা - তর্ক বিতর্ক  কম  ছিল না, ছাত্রদের উস্কানি দেওয়ার জন্যও রথী মহারথী অনেকেই ছিলেন  -   অন্তত প্রথম দিকে বালার তো শুধু স্বামী ছাড়া আর কেউ আলোচনার জন্যেও ছিল না, পরামর্শ দেওয়ার মতোও স্বামী বিনা দ্বিতীয় কেউ ছিল না। সেই স্বামীও যখন ধর্ম ত্যাগের জন্য  ততটা সাহস দেখাতে পারছেন না, তখন বালা এত জোর পেলেন কোথা থেকে? সে আমলের হিন্দু অন্তঃপুরের প্রেক্ষিতে এ যে কী অসম্ভব সাহসের কথা এতো একজন শিশুও বোঝে! নাকি পুরোটাই একটা ধর্ম-পিতৃতান্ত্রিকতার শিক্ষায় জারিত কিশোরী মনের রোম্যান্টিসিজম যাতে সেও সীতার মতন রামের সঙ্গে বনবাসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে?   
     
    বালার ধর্মবিশ্বাস নিয়েও অনেক প্রশ্ন। জ্ঞানেন্দ্র’র মতন যুক্তিবাদে দীক্ষা তাঁর হয়নি। তাঁর সম্বল ছিল বাইবেল আর কল টু দ্য আনকরভার্টেড বা পিল্গ্রিমস প্রগেস জাতীয় বিভিন্ন প্রচারমূলক  একপেশে গ্রন্থ । তাহলে কি তখনকার মেয়েদের জন্য যে যুক্তি বর্জিত বাধ্য ভক্তির পন্থাই একমাত্র প্রচলিত ছিল, বালার এই যিশু ভক্তিতে কি তারই প্রতিফলন? শুধুই কালির জায়গায় যিশুকে বসান? এই ধারণা আরও দৃঢ় হয় যখন দেখি বালা যাবতীয় মিরাকলের গল্পও, যাবতীয় ঈশ্বরীয় গুল্পও তুমুল বিশ্বাস করতেন।

    বালা একবার যা ভাল বুঝতেন তার থেকে নড়তেন না – তাহলে এই বিধর্মের প্রতি তীব্র ভালবাসা কি আসলে শুধুই পরিবারের সবার বিরোধিতার জন্যই বেশি বেশি সেই বিরোধের জায়গা আঁকড়ে ধরা? বাড়ির সবাই মোটে পাত্তা না দিলে আপনিই থিতিয়ে যেত? বোঝার কোন উপায় নেই। মেয়েদের স্মৃতিকথা লেখার দিন তখনও আসেনি। কাজেই কোন দরদী নিরপেক্ষ চোখে বালার গল্প বলার মতনও কেউ নেই। বালা তাই একটা ধাঁধা হয়েই রয়ে যান।
  • লিঙ্গরাজনীতি | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ৪১২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:০৭514310
  • এটা ভাসিয়ে দিয়ে যাই। আমার বক্তব্য তো ঐদিকে বলেই দিয়েছি। 
  • দীপ | 42.110.147.33 | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:১৪514319
  • কেউ কালীকে পুজো করে, কেউ যীশুকে মানে। দুটোই ভক্তিবাদ, এখানে যুক্তির কোনো ব্যাপার আছে বলে হয়না।
    এখানে মুজতবা আলী সাহেবের অসামান্য রসিকতা মনে পড়ে, "আমার তো মনে হয় আমাদের তেত্রিশ কোটি যেমন ভুয়ো, আপনার এক‌ও তেমনি ভুয়ো।"
  • এলেবেলে | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২৬514320
  • চমৎকার লেখা। খালি 'ধর্মের ব্যাপারে প্রসন্নকুমারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলনায় উদার ছিল' অংশটায় খানিক খটকা লাগল।
  • স্বাতী রায় | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৪৭514323
  • @এলেবেলে জ্ঞানেন্দ্রর  মা পুরো ব্যাপারটায় খুবই খড়্গহস্ত হয়েছিলেন। বালার উপর সাংসারিক ভাবে অত্যাচার তো হয়েইছিল। জ্ঞানেন্দ্র র বিয়ের সময় তার একটা মাসোহারার বন্দোবস্ত হয়েছিল। হয়ত সেটাও তুলে নেওয়ার কোন কথা হয়েছিল। কারণ জ্ঞানেন্দ্র মোহন বলেছেন  ওঁর বাবা প্যাসিভ ছিলেন। ধর্ম নিয়ে তাঁর যা বক্তব্যই থাক তিনি অন্তত ছেলে আর বৌ  এর উপর থেকে পরিবারের মাথা হিসেবে তার সুরক্ষার হাত তুলে নিতে রাজী হন নি। আর এই বক্তব্য টাও আগে পড়েছি এখন আর রেফারেন্স মনে নেই যে পরে জ্ঞানেন্দ্র মোহন যখন খ্রিস্টান হন,তখনও ওঁর বাবার বক্তব্য ছিল যে তুমি নিজের মনে যা কিছু মানতে চাও সে মান, শুধু পাবলিকলি ধর্ম ত্যাগ করো না। এই জন্যেই "তুলনায় উদার" বলেছি। 
     
    অবশ্য মজা এই যে জ্ঞানেন্দ্র র মাই কিন্তু মারা যাওয়ার আগে তার নিজের নামের সব সম্পত্তি ছেলেকে দিয়ে যান। তাঁর কিন্তু আলাদা সম্পত্তি ছিল। (মানে মেয়েদের নিজের নামে সম্পত্তি হত কলোনিয়াল বাংলায়। ) যদিও এই সম্পত্তির স্বরূপ কি জানতে পারিনি। তবে খুব কমও না বোধহয়। কারণ সেই অর্থেই পরে বালার মেম গভর্নেস আসেন। বালা তাঁরই সূত্র ধরে আরও খ্রিস্টান দের সঙ্গ লাভ করেন।  এছাড়া ওই বাবার দেওয়া মাসোহারা এবং বাকি সব কিছু মিলিয়ে টিলিয়ে জ্ঞানেন্দ্র দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তার স্বাস্থ্যোদ্ধার করতে বিলেতও গেছেন। তার পর তো ব্যারিস্টার হলেন।   
  • এলেবেলে | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৫৫514325
  • স্বাতীদি, 'মেয়েদের নিজের নামে সম্পত্তি হত কলোনিয়াল বাংলায়'-টাই স্ত্রীধন। প্রসন্ন ঠাকুরের বউয়ের স্ত্রীধনের পরিমাণ কম হওয়ার কথা নয়। 
     
    আমি ঠিক বালার প্রসঙ্গে প্রসন্ন ঠাকুরের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদারতার কথা বলিনি। এদিকে তিনি ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম হর্তাকর্তা, ওদিকে পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার রক্ষার্থে বাড়িতে ঘটা করে দুর্গোৎসব করেন - এই দ্বিচারিতা তাঁর মজ্জাগত। তাছাড়া তিনিই তো এই ধর্মের কারণেই পুত্রকে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। ওই কারণেই খটকা আর কি।
  • দীপ | 42.110.147.33 | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৩514332
  • আর তৎকালীন শিক্ষিত সমাজের পক্ষে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের গোঁড়ামি, কুসংস্কার মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেজন্য স্বাভাবিক ভাবেই তাঁরা ইউরোপীয়ান সভ্যতার ঔজ্জ্বল্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ইয়ং বেঙ্গল, মধুসূদন- সবার ক্ষেত্রেই একথা সত্য। অনেকেই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। তবে এই আবেগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
    অনেকেই ফিরে এসেছেন। যে মধুসূদন ভারতীয় সভ্যতাকে অস্বীকার করতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেন, তিনিই পরবর্তীকালে সৃষ্টি করলেন মেঘনাদবধ কাব্য, বাংলা সাহিত্যে যুগান্তর ঘটল।
    সনেটে লিখলেন-
    " নারিনু মা চিনিতে তোমারে, 
    শৈশবে অবোধ আমি! এবে ডাকিলা যৌবনে, 
    যদিও অধম পুত্র, মা কি ভুলে তারে?"
     
    কারো ক্ষেত্রেই এই আবেগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
  • দীপ | 42.110.147.33 | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:০১514333
  • আর একটি নির্বান্ধব শ্বশুরবাড়ি তে কিশোরীর অবলম্বন একমাত্র তাঁর স্বামী, তাঁর সুখদুঃখের সঙ্গী। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেই কিশোরী স্বামীকেই আঁকড়ে ধরেছেন, স্বামী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে তিনিও তাই করেছেন। এছাড়া পরিবারের নিষ্করুণ ব্যবহার তো ছিল‌ই।
  • স্বাতী রায় | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:২৬514346
  • @দীপ  একটি দুটি উদাহরণ দিয়ে কিন্তু পুরো ছবি ফুটে ওঠে না কখনো। এই পর্বটা নিয়ে আমার যে সামান্য পড়াশোনা তার থেকে বলতে পারি যে বাঙ্গালীর খ্রিস্টান হওয়া ব্যাপারটা খুব জটিল প্রক্রিয়া। কলোনিয়াল যুগের ঢের আগে থেকেই বাঙালি ছলে-বলে-কৌশলেই হোক বা নিজের ভক্তিতেই হোক মা মেরি যিশু বাবার পায়ে মাথা ঠেকিয়েছে। তারপরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম বছর ষাটেক ও কেটেছে আগের মতন। সমস্যার শুরু হল ১৮১৩ সালের পর থেকে। মিশনারি রা ফ্রি হ্যান্ড পেলেন। এদের গোলই হল চার্চের রেজিস্টারে যত বেশি সংখ্যায় লোকের নাম তোলা। এবং সংখ্যা বাড়াতে তাঁদের টার্গেট  ছিল হেটো-মেঠো প্রতিপত্তিহীন লোক। অথচ নিজেদের প্রতিপত্তি বাড়ানোর জন্য এদের শিক্ষিত অগ্রসর শ্রেণীর লোকও দরকার। তাই মধু বা জ্ঞানেন্দ্র খ্রিস্টান হলে তাই নিয়ে মাতামাতি হয়। যদিও কেউ কেউ বলেন যে মিশনারিরা যেমন চেয়েছিলেন যে সব ভারতবাসীকেই দ্রুত খ্রিস্টান বানিয়ে দেবেন তেমন মোটেই হয় নি -  একটি পরিসংখ্যানে তো এও বলে যে ১৮৫২ সাল অবধি নাকি মাত্র ১০৭ জন বাঙালি  খ্রিস্টান হয়েছেন। মিশনারিরা কোথায় কলোনিয়ালিজমকে সাহায্য করেছেন আর কোথায় বা দুদলের মধ্যে তুমুল টেনশন চলেছে সেই সব নিয়েও থিওলজিস্টদের অনেক কাজ আছে।   
     
    মিশনারিরা কিন্তু ভারতীয় কালচারের জটিলতা বোঝেন নি। তাই একজন খ্রিস্টান মাকে এও চিঠি লিখেছেন যে আমি শুধু ধর্ম বদলেছি,জাত কিন্তু  ত্যাগ করিনি। জ্ঞানেন্দ্র ও  নিজেকে পরিচয় দিতেন বাহ্মণ খ্রিসচান বলে।  আবার কেউ কেউ বলেছেন এলিট এডুকেটেড বাঙ্গালিই একমাত্র খ্রিস্টান হতে পারে,এলেবেলে লোকে ব্যাপটিজম হলেও তারা কি আর পুরো খ্রিস্টান হয়!  এইসব বহু কন্ট্রাডিকশন ছিল। 
     
    এই এলিট গোত্রীয়দের কাছে  ধর্ম টা ততটা বিবেচ্য ছিল না, কিন্তু সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়াটা অনেকেই সইতে পারতেন না। আর সত্যিই তো এঁরা তো ধর্মই ত্যাগ করছেন,সংস্কৃতি তো ত্যাগ করেন নি। তাই শুধু মাইকেল না,কৃষ্ণমোহন থেকে শুরু করে বহু বাঙালি ক্রিস্টান লেখকের লেখাতেই এই পুরাণ ঘে্টে লেখার অনুপ্রেরণা পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তরু দত্ত-ও এই দলে আছেন। প্রচলিত কালচার হিসেবে এরা প্রায় সবাই সংস্কৃত চর্চাও করতেন। আর এলিট ছাড়াও নদীয়া,হুগলী বা হাওড়ার গ্রামীণ ভদ্র লোকদেরও অনেকেই ধর্ম বদলেছেন কিন্তু নিজেদের সংস্কৃতি ছাড়েননি। শুনেছি একটি পরিবারে বিয়ের সময় দশিকর্মা, স্ত্রী আচার থেকে জল সইতে যাওয়া সবই হয় এখনও। 
     
     গোঁড়া হিন্দুরা আবার ধর্মান্তরকে অতি সরলীকরণ করে  বলত যে এরা মেটেরিয়ালিস্টিক লাভের কথা ভেবেই ধর্ম বদলাতেন। সব ক্ষেত্রে কিন্তু মোটেই তেমন না। পোস্টার বয় মাইকেল মধুসুদন হয়ত কিছুটা লাভের কথা ভেবেই ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন ( জানি না কী যে সঠিক ) বা কৃষ্ণমোহন হয়ত পরের দিকে যুদ্ধং দেহি আটিট্যুড ছেড়ে নরম হয়েছেন আবার গোপীনাথ নন্দী বা প্রসন্ন কুমার চ্যাটার্জী প্রমুখেরা ধর্ম প্রচারকেই জীবনের লক্ষ্য বলে ভেবে জীবনের শেষদিন অবধি প্রভূত উৎসাহের সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার চন্দ্রমুখীর বাবা ভুবন বসু বা ভার্জিনিয়া মারি মিটারের বাবা মতিলাল মিটার ও কিন্তু সেই যে ধর্ম পালটেছেন তারপর সেই ধর্ম আঁকড়েই জীবন কাটিয়েছেন।  এঁদের কথা অবশ্য আমাদের ইতিহাস ভুলে যায়। 
     
    একটু অগোছালো উত্তর হল। জানি না বক্তব্য বোঝাতে পারলাম কিনা। 
  • দীপ | 42.110.147.33 | ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:৫৮514351
  • এঁদের কেউই ইয়ং বেঙ্গল বা মধুসূদনের মতো অসামান্য প্রতিভার প্রকাশ করেছেন বলে মনে হয়না। তাই ইতিহাস এঁদেরকে মনে রাখেনি। ইতিহাস কখনোই সবাইকে মনে রাখেনা!
    আর বাঙালি খ্রিস্টানদের মধ্যে মধুসূদন কে নিয়েই সর্বাধিক আলোচনা হয়, তিনিই সর্বাপেক্ষা বর্ণময় চরিত্র!
  • Krishna Malik (Pal ) | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৩৬514366
  • লেখাটা পড়তে গিয়ে আমারও মধুসূদনের কথা মনে হচ্ছিল। ১৮৪৩ এ মধুসূদনকে উক্ত কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ই খ্রীষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করেন। তিনি তাঁর কন্যার সঙ্গে মধুর বিয়ে দেবার কথা রাখেননি। কোন কন্যা? কমলমণি বা কমলকুমারীই নাকি? নাকি তাঁর অন্য কোনো কন্যা  ছিল? 
     খ্রীষ্টধর্মে ধর্মাম্তরিত হলেও পিতৃসম্পদ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এই মর্মে ১৮৫০এ  আইন পাশ হওয়া সত্ত্বেও মধুসূদন তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার পেলেন না কেন? সেকি মামলা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে? নাকি আইনের ফাঁক গলে অধিকার বেরিয়ে যাবার ওই একই ট্রাজেডি বর্তমান ছিল? জানতে ইচ্ছা করে।
  • স্বাতী রায় | 117.194.34.39 | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:০৫514368
  • @Krishna Malik (Pal ) মধুকে নিয়ে আমার জ্ঞানের দৌড় বেশি না। তবে গোলাম মুরশিদ প্রমাণ করে দিয়েছেন যে মধুর ধর্মান্তরের সময় কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জীর মেয়েদের বয়স ছিল কমলমণি ৬ আর দেবকীর ৫। আশা করি মধু এঁদের প্রেমে পড়েননি। আর মধুকে দীক্ষাও শেষ অবধি কৃষ্ণমোহন দেন নি। দিয়েছেন ডিয়াল্ট্রি সাহেব। 
    মাইকেলের মামলার বিবরণ বা কোর্টের রায় আমার পড়া নেই। তবে যতদূর জানি মাইকেল বসতবাটির অধিকার ফিরে পেয়েছিলেন। অন্যান্য সম্পত্তি আর মায়ের অলংকার ও ফেরত পেয়েছিলেন। সেই সব সম্পত্তি বন্ধক রেখেই তার ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়ার প্রাথমিক খরচ এসেছিল।  
  • দীপ | 42.110.147.33 | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৩৫514372
  • মধুসূদন পৈতৃক সম্পত্তি পেয়েছিলেন। রাজনারায়ণের অন্য কোনো সন্তান ছিলনা, তাই সম্পত্তি পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। 
    এই মুহূর্তে কোনো ব‌ই হাতের কাছে নেই, স্মৃতি থেকে বলছি।
  • Krishna Malik (Pal ) | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:১৯514375
  • অনেক ধন্যবাদ দীপ ও স্বাতী রায়
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন