এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  বিতর্ক

  • উপনিবেশ, আর্যতত্ত্ব এবং কেশব সেনের ব্রাহ্মসমাজ (১)

    বিশ্বেন্দু নন্দ
    বিতর্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১৭১৭ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)


  • ইতিহাস সিপাহি যুদ্ধ নামে যে সময়টাকে বর্ণনা করে, তার আগে প্রায় একশ’ বছর লুঠেরা, খুনি, গণহত্যাকারী ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের গ্রামীণ জনগণ অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছে। ১৮৫৭র যুদ্ধ ছিল সেই বৃহত্তর ধারাবাহিক লড়াই-এর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যে সিপাহি যুদ্ধে ব্রিটিশদের হাতে সদ্য রাষ্ট্রহীন হওয়া শিখ এবং চিরানুগত গোর্খা বাহিনী লড়াই-এর ময়দানে সিপাহিদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কররকম প্রত্যাঘাত না করলে লুঠ খুন অত্যাচার চালানো ব্রিটিশদের এই দেশ থেকে পাততাড়ি গোছাতে হত, সেই যুদ্ধের মাত্র দু’দশকের মধ্যে ১৮৭৭-এর মার্চে প্রখ্যাত ব্রাহ্মধর্মপ্রচারক কেশব চন্দ্র সেন ঔপনিবেশিক শাসক আর উপনিবেশিত প্রজাদের মধ্যে সম্বন্ধ নির্ণয় করতে গিয়ে বললেন, “We see a re-union of parted cousins, the descendants of two different families of the ancient Aryan race”। কোম্পানির উপনিবেশে চক্ষুলজ্জাহীনস্তরের কোম্পানি দালালি, আর তারপরে রানির রাজত্বে, নিষিদ্ধ হওয়া কোম্পানিকে গালি দিয়ে, রানির দালালি করে জীবনজীবিকা অতিবাহিত করেছেন প্রায় প্রত্যেক প্রখ্যাত নবজাগরণী বিখ্যাত। ১৮৫৭-য় ঈশ্বর গুপ্তের লব্জে ‘প্যাঁজখোর নেড়ে’রা বিপ্লব শুরু করায় বহু নবজাগরণীর সাম্রাজ্যের বিলয়ের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠলেও, শেষপর্যন্ত ব্রিটিশেরা প্রভু-রূপে ফিরে আসায় বহু বিখ্যাত স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে রানির পায়ে বেণীর সঙ্গে মাথা লুটিয়ে ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়ার জয়গানে আকাশবাতাস মুখরিত করে তুলেছেন।

    ব্রিটিশ স্নেহধন্য হয়ে, সাধারণ কেরানি থেকে ব্যাংকের দেওয়ান পদে উত্তীর্ণ হওয়া যুগপুরুষের বাড়ির উত্তরপুরুষ ধর্মগুরু ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের ব্রিটিশ-ভারতীয় ভাইভাই-তত্ত্ব নতুন আবিষ্কার নয়। ১৮৫৭-র যুদ্ধের কাছাকাছি সময়ে ম্যাক্সমুলারের রান্না করা ‘ভারতভূমিতে ককেসাসিয় আর্য আগ্রাসন তত্ত্ব’ (এখন থেকে আর্যতত্ত্ব) ঔপনিবেশিক বাজারে সভ্যতা-বিস্তার আর সাম্রাজ্যরক্ষার ককটেল বানিয়ে খাইয়ে দেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। সাম্রাজ্যের প্রয়োজনে প্রাচীন আর্যতত্ত্বের নবতম রূপকার ম্যাক্সমুলার প্রথমে আর্যকে জাতিবাচক অভিধায় অভিহিত করে যতদূর-সম্ভব ভুল করেছিলেন। কিছু পরে, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে সংস্কৃত ভাষায় বডিন অধ্যাপনার প্রতিযোগিতায় ছিটকে গিয়ে তিনি পূর্বের নিজ-অবস্থান সংশোধন করে, আর্য শব্দের জাতিবাদিতা কেড়ে, তার নখ-দাঁত বিচ্ছিন্ন করে নিরীহ ভাষাগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিলেন। কিন্তু ততদিনে আর্যতত্ত্ব মোটামুটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি তৈরি এবং তাকে জোরদার করার কাজে সহায়ক হয়েছে। কেশবচন্দ্র শুধু যে ‘বৈজ্ঞানিক’ আর্যতত্ত্ব অবলম্বনে ব্রিটিশদের ভারতবর্ষের ‘বিছড়ে হুয়ে ভাই’ বলবেন না, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে ‘গডসেন্ড, ভগবৎ-ইচ্ছা’ আখ্যায় ভূষিত করে ব্রাহ্ম ভাইবেরাদারদের উপনিবেশ লুঠে ছোটতরফ ভদ্রবিত্তের চাকুরি, দালালি, উমদোরির অংশিদারিত্বও নিশ্চিত করবেন।

    কেশবচন্দ্রবাবুদের সাম্রাজ্যরক্ষা আর্যতত্ত্ব বাজারে আসার ১০০ বছর আগে, বৃহত্তর বাংলার গ্রামীণেরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের খুন-অত্যাচার-লুঠের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। ফকির সন্ন্যাসী, চোয়াড়, সামশেরগাজি, সন্দ্বীপ-হিজলি(কাঁথির) মালঙ্গী, ত্যন্তুবায়, চাকমা, নীল, রেশম চাষি, আফিম চাষি, পাহাড়িয়া, সুবান্দিয়া, ইত্যাদি হাজারো লড়াই মিলেমিশে যাবে ১৮৫৭-র বৃহত্তর সিপাহি যুদ্ধ নামক ছাপ দেওয়া স্বাধীনতার লড়াইতে। ১৭৬৩-র ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের আগে থেকেই, পলাশীর লুঠ-উদ্বৃত্তে সজ্জিত হয়ে ইওরোপিয় পুঁজিবাদী ভদ্রলোকেরা ইওরোপিয় গ্রামীণ পাগানদের ওপর অক্লান্ত অত্যাচার নামিয়ে আনে এবং লুঠ-সম্পদে বলীয়ান ব্রিটিশ ভদ্রবিত্তের দল পাগান জ্ঞানচর্চা, পরম্পরার ওপর দখলদারি কায়েম করে। গ্রাম-ঝেঁটিয়ে ইওরোপের মাঠঘাটের গবেষক চাষি, কারিগর, পশুচারকদের বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ করে বিশাল বিশাল কারখানার প্রায়-দাসশ্রমিক হিসেবে জুতে দেওয়া হল। ইওরোপ-জুড়ে কর্পোরেট-পুঁজি ছোটলোকদের বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থা, জ্ঞানচর্চা, বিদ্যুৎ-নিরপেক্ষ প্রযুক্তি দখল আর ধ্বংস করে কেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থার ঔপনিবেশিক যাঁতাকল চাপিয়ে দিল। ইওরোপিয় উপনিবেশে বিকেন্দ্রীভূত জ্ঞানচর্চার জায়গা নিল পুঁজিনির্ভর সমাজনিয়ন্ত্রণকারী সাম্রাজ্যবিকাশী তত্ত্ব। এইরকম সময়ে সাম্রাজ্যের অন্যতম তাত্ত্বিক ম্যাক্সমুলারের আর্যতত্ত্ব (যে তত্ত্ব ভিত্তি করে কেশববাবু তার ভারত-ইওরোপ ভাইভাই প্রবচনটি দেবেন) উপনিবেশের লুঠ, খুন অত্যাচার বজায় রাখতে প্রত্যক্ষ্যভাবে সহায়ক হয়। ভুললে চলবে না, আর্যতাত্ত্বিক আচার্য ম্যাক্সমুলার ব্রাহ্মদের চার্চ অব ইংলন্ডের সদস্যপদ নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    তো, এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য-স্বার্থ, খ্রিস্ট মিশনারি-স্বার্থ আর ব্রাহ্ম-স্বার্থ মিলেমিশে আর্যতত্ত্বে রূপান্তরিত হয়ে ভারতভূমিতে সর্বজনমান্য সাম্রাজ্যরক্ষা তত্ত্বে রূপান্তরিত হল। আমরা এডওয়ার্ড সঈদ, মাইকেল ফুকো এবং টমাস ট্রাউটম্যানের অনুসরণে আর্যতত্ত্বকে প্রাচ্যজ্ঞানচর্চা হিসেবে গণ্য করব ঠিকই, কিন্তু শনৈ শনৈ সাম্রাজ্য পিরামিডের মাথার তলার কর্তাব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষণায় আর্যতত্ত্ব স্বতন্ত্রবিদ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে শুধু সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্রাজ্যরক্ষারই হাতিয়ার হয় না, একই সঙ্গে দু’ফলা ছুরির মত সাম্রাজ্য-বন্ধু উপনিবেশিতদেরও সামাজিক-অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে। ট্রাউটম্যান বলেছেন প্রাচ্যবিদেরা মূলত এশিয় ভাষার জ্ঞান অবলম্বন করে, বিভিন্ন সেকেন্ডারি সূত্র অনুসরণ করে প্রাচ্য বিশ্লেষণ করেন। ম্যাক্সমুলারের (এবং প্রাচ্যতত্ত্বের আদিগুরু জোনস-এরও) সংস্কৃত জ্ঞান নিয়ে আমরা অতীতে প্রশ্ন তুলেছি; এখানে বিষয়টি ছুঁয়ে গেলাম। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তাত্ত্বিক প্রয়োজনে আবির্ভূত হয়েছিলেন ম্যাক্সমুলার। সাম্রাজ্য তাঁকে তার মত করে গড়েপিটে নিয়েছিল। তিনি সাম্রাজ্যের দাবিপূরণ করে আর্যতত্ত্বকে নবরূপ দান করেছেন। তাঁর আত্মজীবনী ভিত্তি করে আর পুত্র আর স্ত্রী মুলারের জীবনী অনুসরণে দেখছি জিমনাসিয়ামে উচ্চ শিক্ষা শেষ করার পর মুলারকে ১৮৩৯-এ লিপজিগের নিকোলাই বিদ্যালয়ে পড়ার পরিকল্পনায় অঙ্ক, আধুনিক ভাষা এবং বিজ্ঞান শিখতে হল। তখনও তিনি সংস্কৃত শেখেননি। লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিললজি পড়তে ভরতি হলেন। ডিগ্রি পেলেন ১৮৪৩-এ। এবং স্পিনোজার নীতিশাস্ত্র (এথিক্স) নিয়ে তিনি ডিসারটেশন পত্র জমা দেন। এটি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, কেননা লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লেখকের মেলের উত্তরে লিখেছেন, মুলার সেখানে সাতটি ক্লাস করেছেন। এমনকি তাঁরা মুলারের ডক্টরেট উপাধি পাওয়ার দাবিও স্বীকার করছেন না:


    Buschner 08/30/12 at 4:07 PM
    To
    [email protected]
    Message body
    ------- Weitergeleitete Nachricht / Forwarded message -------
    Datum: Thu, 30 Aug 2012 12:28:05 +0200
    Von: [email protected]
    An: [email protected]
    Betreff: Re: WG: (Fwd) WG: Query from Indian Researcher -- AZ 7513.50/2012/924

    Dear Biswendu Nanda,
    At the university archive of Leipzig is neither an entry in the book of promotion nor a promotion file of Friedrich Max (Maximilian) Müller. He was a student at the university from 1841 to 1844. There is an entry in the discharge register (with attended lectures) and two entries in the register of students.
    Enclosed you can find the corresponding digital copies.
    Yours sincerely,
    Nicole Panser,
    Universitätsarchiv Leipzig, Prager Str. 6, 04103 Leipzig,
    Tel.: +49 341 9730200,
    Fax: +49 341 9730219,
    E-Mail: [email protected],
    Internet: https://www.archiv.uni-leipzig.de/,



    সূত্র: লিঙ্ক

    তবুও তখনো পর্যন্ত তাঁর সংস্কৃত শিক্ষার হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু বলা হচ্ছে, “He also displayed an aptitude for classical languages, learning Greek, Latin, Arabic, Persian and Sanskrit.”, তিনি গ্রিক, ল্যাটিন, আরব, পারস্য এবং সংস্কৃত ভাষা(গুলি) শিখতে উৎসাহ দেখালেন। অস্যার্থ, তিনি তখনও এই ভাষাগুলো শেখেননি। অক্সফোর্ডে চাকরি নেওয়ার আগে তিনি বার্লিনে ফ্রেড্রিশ শিলিং-এর অধীনে উপনিষদ অনুবাদের কাজ শুরু করলেন। পরে ফ্রানজ় বপের কাছেও কিছুদিন শিক্ষানবিশি করেছিলেন। এখানে, ভাষার ইতিহাস এবং ধর্মের ইতিহাসকে মেলানো শিখতে শিখতে, তিনি হিতোপদেশ এবং ভারতের নীতিকথা অনুবাদ করেন। তিনি ১৮৪৫-এ প্যারিসে গেলেন উজিন ব্যুরনফের কাছে সংস্কৃত শিখতে। অর্থাৎ ১৮৪৫-তে, তাঁর যখন ২৩ বছর বয়স, মুলার বিধিবদ্ধভাবে সংস্কৃত শেখার কাজ শুরু করলেন। কয়েক মাসের মধ্যে তিনি সংস্কৃত ভাষায় এমনই দখল আনলেন, যে ব্যারন ব্যুরনফ তাঁকে ঋগ্বেদ অনুবাদ করতে উৎসাহিত করবেন। ১৮৪৬-এ তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হেফাজতে থাকা ভারতীয় সংস্কৃত পুঁথি সংগ্রহ বিষয়ে গবেষণা করতে লন্ডনে পাড়ি দিলেন। এ-ই ছিল মুলারের সংস্কৃত শিক্ষার ইতিহাস; অথচ রামমোহন রায় বলছেন, সংস্কৃত শিখতে এক জীবনও যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ, আমরা যারা অষ্টম শ্রেণিতে সংস্কৃত ঐচ্ছিক ভাষা হিসেবে পড়েছি, মুলারও সেই ধরণের কাজ করে সরাসরি বেদ অনুবাদ করার যোগ্যতা অর্জন করলেন, পড়ন্ত কোম্পানির সিন্দুক থেকে বিপুল অর্থসাহায্য নিয়ে। মুলারের সাম্রাজ্যসঙ্গ নিয়ে অন্য প্রবন্ধে বিশদে আলোচনা করেছি। আবার ফিরি মুলারিয় আর্যতত্ত্বের রাজনীতিতে।

    সাম্রাজ্য পৃষ্ঠপোষণায় ম্যাক্সমুলারের বিকশিত আর্যতত্ত্বকে সাম্রাজ্য তার ক্ষমতা রক্ষা এবং বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে – এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষণা কেমন ছিল জেনে নেওয়া যাক। মুলার ইংলন্ডে থাকাকালীন বেশ অর্থকষ্টে ছিলেন। অর্থকষ্ট থেকে বেরোতে তিনি আর্যতত্ত্ব তৈরি করলেন এবং ভারতীয় নানান শাস্ত্র অনুবাদ করার প্রস্তাব দিলেন কোম্পানিকে। যতদিন না তিনি সাম্রাজ্যবাদী আমলা ট্রেভলিয়নের দেখা পেয়ে আর্য কাহিনি শুনিয়ে উচ্চপারিশ্রমিকে বেদ অনুবাদের বরাত পাননি, ততদিন তাঁর অর্থকষ্ট কাটেনি। কোম্পানির তথাকথিত অর্থকষ্টের সময়ও মুলারকে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ করে পুষতে কোম্পানির ডিরেক্টরদের বিন্দুমাত্র অস্বস্তি হয়নি। মুলারকে কোম্পানি তার আর্যপ্রকল্প তৈরিতে কত অর্থ সাহায্য করেছিল দেখা যাক। বেদ অনুবাদে পাতা প্রতি ৪ পাউন্ড বরাদ্দ ছিল – আজকের হিসেবে তুশ্চু, কিন্তু সেদিনের হিসেবে? English Education, 1798-1902 পুস্তকে John William Adamson বলছেন, ১৮৫৩-তে ইংলন্ডে পুরুষ শিক্ষকের গড় আয় ছিল বছরে ৯০ পাউন্ড আর মহিলাদের ৬০ পাউন্ড। ২০০০-য় ব্রিটিশ শিক্ষক গড় আয় করতেন ১৪ হাজার পাউন্ড থেকে ৩৬ হাজার পাউন্ড। অর্থাত ২০০ গুণ বেশি। ম্যাক্স মুলার পেয়েছিলেন প্রতি পাতার জন্য ৪ পাউন্ড। এডামসনের হিসেব ধরলে ২০০০-এর হিসেবে ৮০০ পাউন্ড প্রতি পাতা, আজকের হিসেবে ৬৪০০০ টাকা প্রতি পাতা (এই হিসেবটা করেছিলাম ২০১৬-য়)। ২০০ পাতার জন্য আজকের দিনের ১,২৮,০০,০০০ টাকা বরাদ্দ করেছে। চোখ কপালে নয়, টাকে উঠবে।

    এই ধরণের অপরিমিত সাম্রাজ্য-পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া মানুষের তৈরি তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা কিন্তু নির্ভর করে সেই তত্ত্বের প্রচারক আর গ্রহীতাদের সমভাবে তত্ত্বকে মেনে নেওয়ার অবস্থান থেকে। গুরুত্বপূর্ণ হল, আর্যতত্ত্বের গ্রহীতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশের ইংরেজি-শিক্ষিত অভিজাত ব্রাহ্মকুলশীল। তারা তত্ত্বটি গলাধঃকরণ করায় সেটি ব্রাহ্ম প্রচারকদের হাত ধরে সমাজের অভ্যন্তরেও ছড়াল। লাভ শুধু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদেরই হল না, লাভবান হল প্রচারক ব্রাহ্ম গোষ্ঠীর, এবং উপনিবেশে কাজ করা ব্রিটিশ মিশনারিদেরও। এবারে আমরা আর্যতত্ত্বের উদ্ভব বিকাশের ইতিহাস আলোচনা করে মূল প্রসঙ্গে ঢুকব।

    উনবিংশ শতকের ইওরোপিয় রাজনীতি এবং প্রাচ্যবিদ্যার উদ্ভব

    তুর্কি: পূর্ব-সমস্যা

    ১৭৭৪-এ উসমানিয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতল রুশ সাম্রাজ্য। মুঘল সাম্রাজ্যের মতই এশিয়ার অন্যতম প্রধান সাম্রাজ্য – তুর্কি সাম্রাজ্যের তখন পড়ন্ত দশা। ধ্বসে যাওয়া তুর্কি সাম্রাজ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক স্বার্থ বজায় রাখতে ইওরোপিয় সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন লড়াইতে অবতীর্ণ হল। ইওরোপিয় রাজনীতিতে এই অবস্থার নাম পূর্ব-সমস্যা। উনবিংশ শতক জুড়ে ইংল্যান্ড, জার্মানি, রাশিয়া এবং বল্কান রাজ্যগুলো আন্তর্জাতিক তুর্কি সমস্যা সমাধানে নানাভাবে লিপ্ত থেকেছে।

    ধর্মীয় দ্বন্দ্বে ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ পর্যন্ত রুশ সাম্রাজ্য, উসমানিয় তুর্কি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্রিমিয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। রুশ সাম্রাজ্যের বিস্তার রুখতে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স উভয়েই উসমানিয় সাম্রাজ্যকে সামরিক নৌবহর দিয়ে সাহায্য করলে রুশেরা পরাজিত হয়। ১৮৭১-এ ফ্রান্স এবং জার্মান রাজ্যগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে ফ্রান্স-প্রুসিয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। অন্যান্য ইওরোপিয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক-স্বার্থ বজায় রাখতে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন ডিজরেলি বৈদেশিক দৌত্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেন। ১৮৭৮-এর সান স্তেফানো চুক্তিতে তুর্কিরা বুলগেরিয়ার অধিকার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। জুন-জুলাই মাসে বার্লিন কংগ্রেসে রুশ, জার্মানি এবং ব্রিটেন আলোচনায় বসে। ডিজরেলি বার্লিন চুক্তি করতে সফল হওয়ায় ক্ষিপ্ত জার দ্বিতীয় আলেকাজ়ন্ডার বার্লিন চুক্তিকে অভিহিত করলেন রুশেদের বিরুদ্ধে বিসমার্কের নেতৃত্বে ইওরোপিয় জোট। ইয়োরোপে তখন তীব্র ডামাডোল। ভারতসহ পশ্চিম এশিয়ার সাম্রাজ্য স্বার্থরক্ষায় ব্রিটেন তখন মরিয়া।

    প্রাচ্যবাদ চর্চা

    এশিয়া-ইওরোপের টালমাটাল আন্তর্জাতিক সমাধান খুঁজতে ব্রিটেন দেখল তার ‘সভ্যতা’ রপ্তানিও একটা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। তাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রাচ্যভাষা-চর্চাকে আরও বড়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যম নিল। ব্রিটিশ সরকারের অর্থমন্ত্রকের সহসচিব সাম্রাজ্যতাত্ত্বিক চার্লস ট্রেভলিয়ন ম্যাক্সমুলারকে চিঠি লিখে তুর্কি সাম্রাজ্যের উত্তর অঞ্চলের ভাষা, ব্যাকরণ ইত্যাদি চর্চার প্রস্তাব চাইলেন। ১৮৫৪-র ১৬ মে ম্যাক্সমুলার তাঁর প্রস্তাব লিখিত আকারে সচিবকে পাঠালেন: “It is undoubtedly high time that something should be done to encourage the study of Oriental languages in England; ... in other Countries which have any political, commercial, or religious connections with the East, provision has been made, by Government or otherwise, to encourage young men to devote themselves to this branch of studies.” তিনি বললেন, “In England alone, where the most vital interests are involved in a free intercourse with the East, hardly anything is done to foster Oriental Studies.” প্রাচ্যবিদ্যার আস্ত একটা বিশ্ববিদ্যালয় দপ্তর খোলার তাগিদ আসবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই দশক আগে। মুলারের প্রস্তাবের প্রায় তিন দশক পরে ১৮৯০তে লন্ডনে আধুনিক প্রাচ্যবিদ্যার বিভাগ খোলা হল। মুলার যে সে সময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করতেন – সে উদাহরণ তার উদ্বোধনী বক্তৃতা আর চিঠিপত্রে স্পষ্ট বোঝা যায়। তিনি বক্তৃতায় ক্রিমিয়ার যুদ্ধ আর ইংরেজি ভাষায় পাঠদানের কথা উল্লেখ করেন। ১৮৮৫-র এক চিঠিতে ভারতবর্ষের ঔপনিবেশিক সরকারের গুণগান গেয়ে তিনি লিখলেন, “There may be jealousies between England and her colonies, but if it came to extremities, the colonies would allow no hair of England to be touched. Even India, which was formerly a danger, has shown now that England’s enemies are her enemies.” তিনি বললেন, ভারতবর্ষে ইংরেজি ভাষা প্রচলন সাম্রাজ্যের স্বার্থসহায়ক হতে পারে। তিনি জানালেন, একমাত্র ভারতবর্ষেই প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ বেদ পাওয়া যায়। ১৮৯১-এর গিফোর্ড বক্তৃতায় তিনি বললেন – বৈদিক সাহিত্যের জন্ম হয়েছে ১৫০০ খ্রিপূ থেকে ১০০ খ্রিপূতে “…Sanskrit is still looked upon as an unwelcome guest by many classical scholars and anything that can be said against it is welcomed by all who dislike the trouble of learning a new language.” আমরা দেখলাম, যে উদ্যমটা একদা প্রাথমিকভাবে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক উদ্যোগে প্রাচ্য ভাষাচর্চা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই চর্চা শেষ অবধি – সাম্রাজ্যের প্রয়োজনে, সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ মদতে – স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যাচর্চায় রূপান্তরিত হওয়ার সমস্ত ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।

    আর্যতত্ত্ব নখ-দাঁত বিসর্জনের রাজনীতি

    আর্যতত্ত্বের রাজনীতি বুঝতে মুলারকে নিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টীকা প্রকাশ প্রয়োজন। অর্থদাতা শাসকপ্রভুদের বরাত মেনে সংস্কৃত ভাষা ঠিকমত অধ্যয়ন না করেই, ঋগ্বেদ এবং আর্যতত্ত্বে ভারতীয়দের মাথা মুড়োনোর পর, তাঁর ধারণা হয়েছিল কোম্পানি (পরে ব্রিটিশ সরকার) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে সংস্কৃতের অধ্যাপকরূপে বরণ করে নেবে। অক্সফোর্ডে তিনি ছিলেন আধুনিক ইওরোপীয় ভাষার অধ্যাপক। আজীবন স্বপ্ন, অক্সফোর্ডে সংস্কৃত ভাষার অধ্যাপকের পদ অলঙ্করণ। পদটির নাম বোডিন প্রফেসরশিপ অব সংস্কৃত। বোডিন প্রফেসরশিপ অব সংস্কৃত তৈরিই হয়েছিল সংস্কৃত ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করে ভারতে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। ১৮৫৭র ভারত বিপ্লবে সাম্রাজ্য-প্রভু উল্টেপাল্টে গেল। কোম্পানি নিষিদ্ধ হল। এল রানির ব্রিটিশ সরকার। নতুন সরকার। নতুন ক্ষমতার সমীকরণ। নতুন মুখ। পরিকল্পনাগুলোর নবসাজ। কিন্তু দাসত্বনির্মাণের উৎসাহ পাল্টাল না। নতুন সরকার আসার সঙ্গেসঙ্গেই ক্ষমতার নতুনতর সমীকরণটি ঝট করে সমাধান করলেন মুলারের স্বদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী মনিয়ের উইলিয়মস। মনিয়ের ১৮৬০-এ অক্সফোর্ডে মুলারকে টপকে বোডিন প্রফেসরশিপ অব সংস্কৃত পদ দখল করলেন। এর বদলে সাম্রাজ্য মুলারকে দিল অক্সফোর্ডে তুলনামূলক দর্শণের অধ্যাপনার সান্ত্বনা পুরস্কার। স্বদেশিয়র কাছে হার এবং সাম্রাজ্যের এত সেবা করেও তাদের মন না পেয়ে মুলার এতই ক্ষিপ্ত হলেন, যে তাঁর নতুন প্রভুদের শিক্ষা দিতে তিনি তাঁর প্রিয়তম সন্তান, আর্যতত্ত্বকে প্রায় অস্বীকারই করলেন, আর্যতত্ত্বের গুরুত্ব হ্রাস করার উদ্যোগ নিলেন, যাতে ক্ষমতাশালীরা আর আর্যতত্ত্ব ব্যবহার করতে না পারে। তিনি সপাটে বললেন, “I have declared again and again that if I say Aryans, I mean neither blood nor bones, nor hair nor skull; I mean simply those who speak an Aryan language. . . . To me an ethnologist who speaks of the Aryan race, Aryan blood, Aryan eyes and hair, is as great a sinner as a linguist who speaks of a dolichocephalic dictionary, or a brachycephalic grammar.”( Max Müller, Biographies of Words and the Home of the Aryas (1888), 120pg)
    কিন্তু হায়! তত্ত্ব হিসেবে ঠিক হোক ভুল হোক, আর্যতত্ত্বের কার্যকারিতার সৌরভ তখন পৌঁছে গেছে ক্ষমতাশালীদের কাছে। তারা সাম্রাজ্যের স্বার্থরক্ষায় আর্যতত্ত্ব হাতে তুলে নিলেন।

    তবে তাঁর নিজস্ব আর্যতত্ত্বের গুরুত্ব-হ্রাসে শুধু সাম্রাজ্যের ক্ষমতাশালী ঘটকদের স্বার্থই জড়ানো ছিল না, তৎকালীন ভূরাজনৈতিক ঘটনাও আর্যতত্ত্ব বিনাশে বড় ভূমিকা পালন করেছে। উনবিংশ শতকে ১৮৭১-এর আগে জার্মানি ছিল ছোট ছোট জমিদারির সমাবেশ। জার্মান জাতিরাষ্ট্র বলতে আজ আমরা যে বিশাল ক্ষমতাশালী ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ক্ষমতা বুঝি, উনবিংশ শতকে তখনও জার্মানি সে ক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। জার্মান মানচিত্রে বিন্দুর মত কয়েকটি জমিদারি ছড়িয়ে থাকত। ইওরোপের সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো – বিশেষ করে অস্ট্রিয়া আর ফ্রান্স – নেপোলিয়নের সময়ের ত্রিশ বছরের যুদ্ধের সময় থেকেই, পরাধীন ভারতের মত নিজেদের স্বার্থরক্ষায় জার্মানিকে দুই ভাগে ভাগ করে। মাঝে মাঝে জার্মানির প্রজাদের অবাঞ্ছিত মনে করে এই দুই রাষ্ট্র তার সেনাবাহিনী নিয়ে ঢুকে পড়ত জার্মানির সীমান্তকে পাত্তা না দিয়ে। সে সময় প্রত্যেক জার্মান প্রজা মনে করত তার রাষ্ট্র আর সে শুধুই কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের হাতের পুতুলমাত্র। ক্রমশ এই অপমানবোধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে জার্মান জনগণের মধ্যে। এবং সেই আহত মানসিকতা আগামী দিনে ইওরোপের শুধু নয়, বিশ্বের ইতিহাসের নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। এমত শূন্য মানসিক অবস্থাও জার্মান বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আদেখলেপনাকে বাড়িয়ে তোলে। নিজেদের তারা ভারতের জনগণের মত প্রায়-পরাধীন ভাবত। ফলে জার্মানিতে শিক্ষিতদের মধ্যে সংস্কৃত ভাষা, সাহিত্যচর্চা একটা আবশ্যিক শিক্ষায় পরিণত হয়। জার্মানি সংযুক্তির পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং ভাইসরয়ের পরামর্শদাতার বক্তব্য ছিল – সংস্কৃতের মধ্যে একটি জাতির সৃষ্টি হল। হামবোল্ট, ফ্রেড্রিক এবং উইলহেম শ্লেগেল, শোপেনহাওয়ার-এর মত বহু চিন্তাবিদ ভারতের প্রাচীন সাহিত্য এবং দার্শনিক ঐতিহ্য থেকে নিজেদের কাজের অনুপ্রেরণা অর্জন করেছেন। কালিদাসের শকুন্তলা প্রথম ইওরোপে অনুবাদ হয় জার্মান ভাষায়। পরাজিত জার্মান জনগণের কাছে আর্য শব্দটি তখন অতীব আদরের। আর্য শব্দের মধ্যে দিয়ে তারা তাদের পুরোনো হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার রেশ খুঁজে পাচ্ছে। শব্দটি তখন জার্মান রাজনীতিকদের সবথেকে প্রিয়, বিশেষ করে বিসমার্কের।

    প্রায় পরাধীনতার এই প্রেক্ষিতে দুই সমকালীন প্রখ্যাত জার্মান কার্ল মার্ক্স আর ম্যাক্সমুলার ভাগ্য ফেরাতে ব্রিটেনে অভিবাসিত হলেন। ১৮৫৭-এর ভারতে তীব্র ধাক্কা খাওয়ার অভিজ্ঞতার পর ব্রিটেন ইওরোপে মেপেমেপে পা ফেলতে শুরু করে। ১৮৭১-এ জার্মানির সংযুক্তিকরণের পরে ব্রিটেনের সংবাদপত্রগুলোয় প্রায় প্রতিদিনই জার্মানির সংযুক্তিকরণ উপলক্ষ্যে বিষবাষ্পের জাল বোনা চলছে। ব্রিটেনে যতকিছু জার্মানগন্ধী সবকিছুকেই সন্দেহের নজরে দেখা হচ্ছে। জার্মানির সংযুক্তিকরণের পর ব্রিটেনে সব থেকে ঘৃণিত ইওরোপিয় রাজনীতিকের নাম বিসমার্ক। সেই সময় ম্যাক্সমুলার শুধু ব্রিটেনেই নয়, সামগ্রিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে এক অতীব পরিচিত চরিত্র। তিনি ব্রিটিশ রাষ্ট্রে আর্যতত্ত্বের ভিত্তি প্রদান করেছেন। ব্রিটিশ কোম্পানির বিপুল বিনিয়োগে প্রখ্যাত হওয়া মূলারের পক্ষে জার্মানপক্ষীয় কোনো অবস্থান গ্রহণ বিপজ্জনক। তাঁর আশঙ্কা, ব্রিটিশ রাজনীতিক আর প্রশাসকেরা তাঁকে জার্মান জাতীয়তাবোধের সঙ্গে একাত্ম করে দেখতে পারে। তাই তিনি সে সময়কার জার্মান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ব্যবহৃত শব্দ আর্যত্ব থেকে বেশ কিছুটা দূরেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। ম্যাক্সমুলার কন্যাসম আর্যতত্ত্বের গুরুত্ব বিনাশের সিদ্ধান্ত নিলেন। আগেই বলেছি, একই সঙ্গে জুড়তে হবে মনিয়ের উইলিয়মস-এর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক পদে বৃত হওয়ার ঘটনা। ব্যক্তিগত বিদ্বেষে এবং তৎকালীন ইওরোপের রাজনীতির সমীকরণ সামলাতে মুলার আর্যতত্ত্বের কামড়টাই বিসর্জন দেওয়ার পরিকল্পনা করলেন। কষ্টার্জিত খ্যাতি বজায় রাখতে বরাবর তিনি হাওয়া মোরগের ভূমিকা পালন করেছেন। কেরিয়ারের প্রথম থেকেই অর্থবান হওয়া, প্রখ্যাত হওয়া আর বারংবার সংবাদশীর্ষে থাকা ছিল তাঁর প্রথম এবং প্রধানতম লক্ষ্য। সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষকতায় আর্যতত্ত্ব তাকে খ্যাতি এনে দিল ঠিকই, কিন্তু তিনি যখন দেখলেন আর্যতত্ত্ব তার সফলতম কেরিয়ারে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিতে পারে, তখনই বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই যে তত্ত্বে তাঁর বিশ্বজয়, সেই তত্ত্বের মূলকে কেটে দিয়ে নির্বিষ শব্দে রূপান্তরিত করলেন। কিন্তু তিনি তখনও জানতেন না, সাম্রাজ্য আর্যতত্ত্বের প্রয়োগবাদী সৌরভটি আঁচ করতে পেরেছে। তাই আর্যতত্ত্ব শেষ হইয়াও হইল না শেষ।



    ক্রমশ...


    তথ্যসূত্র:
    Banerjee, SC (2016) Brahmo Samaj as an Actor in the Dissemination of Aryan Invasion Theory (AIT) in India.
    International Journal of Asian Studies 13:19–59


  • বিতর্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১৭১৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৭:০৬504122
  • এই  ম্যক্সমুলার ভদ্রলোক সম্পর্কে আমার কেমন একটা প্রতিকূলতা ছিল। যদিও তাঁর লেখা ভারত বিষয়ে বইগুলি নিঃসন্দেহে সুখপাঠ্য। আপনার লেখা থেকে অনেক কিছু জানছি এবং কৌতূহলী হচ্ছি।   
  • অঞ্জন পাল | 103.211.20.91 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৮:৩৭504123
  • আর্য তত্ব অনুসারে তখন উচ্চ বর্ণ নিজেদের  ব্রিটিশ তথা ইউরোপীয়দের আত্মীয় ভাবতো আর আজকে ভারতের বহুজন সচেতন হওয়ায় তারাই ঐ তত্ব থেকে সচেতন ভাবে দূরত্ব রচনা করছে ,ভাব খানা এমন যেন ইংরাজরা কেবলমাত্র নিজস্বার্থে আর্য তত্ব রচনা করেছিল। প্রকৃত পক্ষে এই স্বার্থ ছিল উভমুখী। তবে প্রখ্যাত প্রাগ ইতিহাসবিদ ও আর্যতত্ববিদ Asko Parpola আর্য ভাষীগণের ভারত আগমন সম্পর্কে যে তত্ব ও তথ্য দিয়েছেন তা নিশ্চিত ভাবেই একটি invasive migration এর দিকে ইঙ্গিত করে। 
  • swarnab ghosh | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২০:৩৮504124
  • সুন্দর ভাবে গল্পের ছলে ইতিহাস বলেছেন! আপনার লেখার সাথে যারা পরিচিত তাদের কাছে নতুন করে shock লাগবেনা, কিন্তু যারা আপনার জীবন দর্শন বা রাজনীতি সম্বন্ধে অবগত নয়, তারা কালচার শক পাবে! সরাসরি ব্রাহ্ম তথা বাঙালী ভদ্রলোক শ্রেণীকে আক্রমণ, এটা অনেকেই নিতে পারবে না। তবে একটা প্রশ্ন জাগে, ম্যাক্স মূলার সুবিধের লোক ছিলেন না ঠিক, কিন্তু তাঁর অধ্যবসায়কে কি ছোট করা যায়? বা আপনি যেভাবে তাঁর আর্যতত্ত্বের বিবর্তনকে সাম্রাজ্যের প্রয়োজন তথা ব্যক্তিগত অসূয়ার সাথে এক করে দেখালেন, সেটা কি করা যায়? অবশ্যই আপনার জ্ঞান অনেক বেশি, এ ব্যাপারে কোনো তথ্যসূত্র থাকলে অনুগ্রহ করে দেবেন। এরকম লেখা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ! 
  • রৌহিন | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:৪৪504126
  • এই লেখাটার দিকে নজর থাকবে। দেবোত্তমদার লেখার কমপ্লিমেন্টারি হিসাবেই এটা এগোবে বলে অনুমান - দেখাই যাক, মেলে কি না
  • রৌহিন | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:৪৪504125
  • এই লেখাটার দিকে নজর থাকবে। দেবোত্তমদার লেখার কমপ্লিমেন্টারি হিসাবেই এটা এগোবে বলে অনুমান - দেখাই যাক, মেলে কি না
  • স্বাতী রায় | 117.194.43.142 | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২৩:০৩504129
  • মন দিয়ে পড়ছি। তবে একটা কথা মনে হয়,মার্শম্যানের প্রসঙ্গেও উনি যখন বিভিন্ন ভাষায় ধর্মকথা অনুবাদ করতে লেগেছেন, তখনও সেই সব ভাষায় অত অল্প সময়ে  ওঁর  কতটা ব্যুতপত্তি সেটা আমাদের আজকে পড়লে সন্দেহ জাগে। কিন্তু তাতে ওঁর কিছু আসে যায় নি। উনি ওঁর মত অনুবাদ করে গেছেন। এমন কি মিশনারি সাহেবরা তো এদেশে আসার মাস তিনেকের মধ্যেই দেশীয় ভাষায় ধর্ম প্রচার করতেন।গান বাঁধতেন। এদিকে  মেরে কেটে তিন মাস জাহাজে আর মাস তিনেক এখানে এপ্রেন্টিসগিরির সুযোগ পেতেন। আজকে দিনে  মাত্র ছয় মাসে ধরা যাক জার্মান শিখে সেই দেশে গিয়ে কথোপকথন চালান'র কথা আমরা অনেকেই ভাবতে পারব না!  ওঁরা কি করে যে পারতেন !কি অসম্ভব কনফিডেন্স!   কাজেই ম্যাক্সমূলার এক বছর সংস্কৃত  শিখে বেদ অনুবাদ করবেন সে আর আশ্চর্য কি! 
  • NEPTUNE_PLATO | 45.125.222.84 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০০:১১504137
  • What's about Shoaib Daniyala report in Scroll India on Sep 12 of 2019 which upholds the Aryan Invasion theory  and cites two generic studies as reference?
  • এলেবেলে | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০০:৩০504138
  • swarnab ghosh 
     
    'সরাসরি ব্রাহ্ম তথা বাঙালী ভদ্রলোক শ্রেণীকে আক্রমণ' কোনও গর্হিত অপরাধ নয়তো। জন্মলগ্ন থেকেই ব্রাহ্মরা ব্রিটিশের ধামাধরা। সেটা আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠিত হওয়া থেকে কেশব সেন পর্যন্ত বিস্তৃত। কাজেই এই আক্রমণের দরকার আছে।
     
    আর হ্যাঁ, ম্যাক্সমুলারের 'আর্যতত্ত্বের বিবর্তনকে সাম্রাজ্যের প্রয়োজন' হিসেবে দেখানোরও দরকার আছে। এই আর্যতত্ত্ব ব্রিটিশদের বড় প্রিয় বিষয়। এ কাজে প্রথম সুতো ছাড়েন হ্যালহেড-জোন্স। পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফের ম্যাক্সম্যুলারকে বাজারে ছাড়া হয় যাতে নব্য হেঁদুয়ানি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এতে যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সুবিধা বই অসুবিধা হয়নি, সেটা তো জানা কথা।
  • biswendu nanda | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০০:৪৩504139
  • @স্বাতী রায় দিদিমনি প্রথম যুগের আমলাদের সংস্কৃত পড়াশোনা আর জ্ঞান নিয়ে আমার কাজ আছে। জোন্স প্রিন্সেপ ইত্যাদিরা যে প্রজাদের ভাষা অক্লেশে অনুবাদ, আবিষ্কার করবে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এসব শাসক সাহেবদের জন্মগত অধিকার। কিন্তু তাদের বকলমে পণ্ডিত আর মুন্সিদের নাম উহ্য থেকে যে গেছে সেটা প্রিন্সেপএর ব্রাহ্মী আর খরোষ্ঠী জ্ঞান বিষয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির লেখাপত্রে মালুম হয়। সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাস স্বাভাবিকভাবে প্রিন্সেপকে দাদ দিয়েছে, কিন্তু প্রিন্সেপের পণ্ডিত আড়পুলির কমলাকান্ত বিদ্যালঙ্কারের মত মাত্র কয়েকজনের নাম আমরা হঠাত অন্যান্য প্রসঙ্গ সূত্রে জেনেছি। 
  • স্বাতী রায় | 117.194.43.142 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০১:১৪504141
  • আমলারা যে  দেশীয় অধঃস্তনদের কৃতিত্ব স্বীকার করবেন না সেটা সে আমলে খুবই স্বাভাবিক। আর সরকারি আমলাদের ক্ষেত্রে আপনার বক্তব্যই সঠিক মনে হয়। নাহলে হাজার হাজার দায়িত্ব সামলে এত কিছু করে উঠতে পারতেন না।  তবে আমার ভারি অবাক লেগেছিল যখন দেখেছিলাম মার্শম্যান এদেশে বসে হিব্রু থেকে চাইনিজ সব ভাষাতেই অনুবাদ করছেন। বাংলা হিন্দি সংস্কৃত প্রভৃতি ভারতীয় ভাষায় নাহয় সাহায্য পেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য যত সব ভাষায় অনুবাদ হয়েছে, এদেশে বসে সেই সব ভাষার  সাহায্য জোগাড় করাও বেসরকারি এবং ততটা অর্থবল না থাকা সাহেবের পক্ষে খুব সহজ কিনা তা জানি না।  হয়ত আপনার কথাই ঠিক। অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই  অনুবাদ করা হয়ত,  তবু ব্যবস্থা করলেন কি করে জানিনা।     ...যাক গে এটা মনে হয় আপনার লেখার মুল কথার প্রেক্ষিতে খুবই তুচ্ছ পয়েন্ট।  লেখার পরের পর্বের  জন্য অপেক্ষা করছি। 
  • Sara Man | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১২:৪৯504145
  • পড়লাম। আরো জানতে ইচ্ছুক। সম্প্রতি আই আই টির ক‍্যালেন্ডারে ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম চলে এসেছে। আশা রাখি এর সারবত্তা নিয়ে যে বিতর্ক, সে বিষয়েও কিছু জানতে পারবো। 
  • শান্তি রঞ্জন দত্ত | 2409:4060:209a:503b::1fb9:b0ad | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২০:১৭504154
  • ম্যাক্সমুলার ,জোন্স প্রভৃতি সবাই সায়ন আচার্যের অনুবাদ কে অনুসরণ করেছেন এবার দেখা যাক সায়ণাচার্য বেদের কি অনুবাদ করেছেন।
    ঋক ১/৫০/৪:-- তরণী বিশ্ব দর্শতো জ্যোতিষ্কৃদসি সূর্য। বিশ্বমা ভাসি রোচনম্।।
    সায়ন আচার্যের অনুবাদ:--  হে সূর্য তুমি মহৎপথ ভ্রমণ করো, তুমি সকল প্রাণীদের দর্শনীয়, তুমি জ্যোতির কারণ, তুমি সমস্ত দীপ্যমান অন্তরীক্ষে প্রভা বিকাশ করছো।
    আমার করা অনুবাদ:-- পৃথিবী যেন একটা নৌকা নৌকার আরোহী যেমন দেখে নৌকোটা এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে, আর পাড়টা যেন চলছে। 
    ঠিক তেমনই মনে হয় নৌকা স্বরূপ পৃথিবী ঘুরছে আর সূর্য স্থির সে আমাদের পৃথিবীতে আলোক প্রদান করে বিশ্ব আলো ভেসে যায়।
    সমগ্র বেদ । জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ডর বিবরণ তথাকথিত ধর্ম গ্রন্থ নয়। 
    বেদে ধর্ম শব্দের অর্থ মকে ধরা এই ম বোঝায় কর্কটক্রান্তি এবং মকরক্রান্তি রেখা কে।
    বিশদ আলোচনা আমার প্রবন্ধে উৎসাহীরা দেখে নিতে পারেন।
     
  • শান্তি রঞ্জন দত্ত | 2409:4060:209a:503b::1fb9:b0ad | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২০:২৪504155
  • পুনশ্চ:-- আর্য কোন জাতি বা ভাষার নাম নয়।
    যা আরে অর্থাৎ নিরক্ষবৃত্ত থেকে দূরে বা আরে অবস্থান করে অর্থাৎ কর্কটক্রান্তি রেখা।
    এই কর্কটক্রান্তি রেখা মেপেই পৃথিবীর পরিধি বার করা হয়েছিল বেদে এর সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে।
     
  • ঠিকঠিক | 69.195.128.82 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২২:৩৫504161
  • ধর ম = ম কে ধরা। তা আপনি কি কর্কটক্রান্তি ধরতে পেরেচেন? নাকি অ্যাকুনো ছিপ ফেলে বসে আচেন?
     
    আপনি ত মহাত্মা পুরুষ মশাই! আপনাকে কাল্টিভেট করতে হচ্চে। দেখি আপনার প্রবন্ধের লিং দিন।
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০১:২৭504166
  • বিবেকানন্দ ও ব্রাহ্মদের মধ্যে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট ছিল। এই লাইনে পরে ম্যাক্সমূলার নিয়ে কিছু আলোচনা হলে ভালো লাগবে। নীচের পাতাদুটো স্বামী শিষ্য সংবাদ থেকে নেওয়া।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন