এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  খ্যাঁটন  খানা জানা-অজানা

  • ওহ, মাই ক্রন, কলকাতা গন

    Sara Man লেখকের গ্রাহক হোন
    খ্যাঁটন | খানা জানা-অজানা | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | ১২২৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • ড. শারদা মন্ডল
     
    কোভিড প‍্যানডেমিকের এক শীতকাতুরে সন্ধেবেলায় তৃতীয় ঢেউ আমায় ভাসিয়ে নিয়ে গেল। কখন ভেসেছিলাম বুঝিনি। পারে যখন উঠলাম, সারা গায়ে অদৃশ‍্যপূর্ব এক মেদুর ব‍্যথা, মাথায় শিরা দপদপ, গলার কাছটা এমন ঘন, ঢোঁক গেলা দুস্তর। খবর হতেই পরীক্ষাগারের পাইক এসে হাজির হল, আর চব্বিশ ঘন্টার মধ‍্যে চিঠি এল যে পাশ করেছি। সরকার মুঠোফোনে এখনকার মতো শংসাপত্র দিলেন, পরে হয়তো চ‍্যালেঞ্জ কাপ বা মেডেল ও আসতে পারে। বাড়িতে সাজো সাজো রব পড়ল, ঘটি বাটি, চাদর কাঁথা সমেত পড়ার ঘরে নতুন আশ্রয় মিলল। একটি রজনী একেলা পেরোতে না পেরোতে, সহোদরা ও পাকশালের সহকারিনীটিও সঙ্গী হলেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা তিনজন ছিলাম করোনা সেনানী। কর্তা আর কন‍্যা ছিলেন করোনা জয়ী। আত্মীয় বন্ধুরা মুঠোফোনে অভিনন্দন জানাতে লাগলেন, আর কটা দিন পরেই, তোরাও করোনা জয়ীর পুরষ্কার পাবি। 
     
    সবই ভালোই চলছিল। কিন্তু একটাই মুশকিল, এবারে পাকশালায় কে? 
    কর্তা ভরসা যোগালেন, তিনি একাই একশো,  বাকি চারজনকে সহজেই রান্না করে খাওয়াতে পারবেন। বাড়িতে এখন তিন জনের করোনা পল্টন, দুজনের রক্ষা পল্টন। আমি অবস্থা আন্দাজ করে প্রস্তাব দিয়েছিলাম রক্ষা পল্টন ঘরে আইসোলেশনে থাক। আমরা যা পারি রান্না করবো। সে প্রস্তাব বিরাট হম্বিতম্বিতে নাকচ হয়ে গেল।
     
    সকালে ঘুমের মধ‍্যে একটা যেন আর্ত চিৎকার শুনতে পেয়েছিলাম, "চাল কোথায় চাল?" তার পর আর জানিনা। একটু বেলা করে উঠে শুনি "আলুর তরকারি করে রেখেছি, এখনো বলো পাঁউরুটি করবো কিনা"। টলে টলে দাঁত মেজে দেখি ভাত উনুনে পুড়ছে। রক্ষা পল্টনের কর্তা ফোনে ব‍্যস্ত। রান্নার মেয়েটি তীরবেগে বেরিয়ে একবাটি মুড়ি ঢেলে নিয়ে ঘরে চলে গেল। 
     
    ভাত পুড়ে গেছে শুনে নার্ভাসনেসে কর্তার এমন বেগ এসে গেল, কাপড় চোপড় সামলানো দায়। তিনি পোস্ট কোভিডে আছেন, এমনিতে জন্ম পেটরোগা, এখন সমস‍্যা তীব্র হয়েছে। কর্তা বাথরুমে আশ্রয় নিতে, অগত‍্যা আমাকেই মাঠে নামতে হল। সয়াবিন দিয়ে ডালিয়া করে নিজে আর বাকি রোগীদের দিলাম। পরে শুনলাম, সকালে চাল চাল চীৎকার শুনে রান্নার মেয়েটি ভেবেছিল দাদা সকালে চাউ রান্না করে খাওয়াবে। দা়ঁত মেজে ঘরে অপেক্ষা করছিল। যখন বুঝল সে হবার নয়, অভিমানে মুড়ি খেয়ে নিয়েছে।
     
    এবারে আমি ঐ রান্নার মেয়ে মিঠুকে বললাম আমি ডাল চাপাচ্ছি, তুমি মাছের ঝোলের আনাজ কাটো। ডাল, ঝোল, চচ্চড়ি রান্না করে চান করে দেখছি আমার ব্রহ্মাণ্ড ঘুরছে, প্রচন্ড শরীর খারাপ লাগছে। চিঁ চিঁ করতে করতে বললাম, ওগো, আমায় একটু ভাত বেড়ে দাও। বন্ধ ঘরের ওপাশ থেকে আওয়াজ এল, দাঁড়াও দাঁড়াও দরকারি ফোন করছি। তখন আমি মরতে মরতে নিজে বেড়ে খেলাম, বাকিরা খেলো। তারপর সকলে যে যার শুয়ে আছি। তিনটের সময়ে কর্তার গলার আওয়াজ পেলাম, মেয়েকে বলছে,
     
    - হ‍্যাঁ রে করোনা পার্টি চান করেছে?
     
    মেয়ের ছোট্ট উত্তর - হ‍্যাঁ। সে এখন অনলাইন ক্লাস করছে।
     
    - বাবা, খাওয়াদাওয়ার কোনো চাড় নেই। আমি আর কী করব।
     
    - সবার খাওয়া হয়ে গেছে।
     
    - উরি শ্লা সবাই কাজ সেরে শুয়ে পড়েছে? তাহলে আমার তো আর কিছু করার নেই। 
     
    এবার শুয়ে শুয়ে আমি বেশ বাছা বাছা বাক‍্যবাণ দেবার পর, মুখ বাড়িয়ে বলে গেল
    - আমি যে ফোনটা করছিলাম সেটা সবার ভবিষ্যত সুরক্ষার জন‍্যে। 
     
    ভ‍্যালা রে ঠ‍্যালা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি বর্তমান শেষ হয়ে যায়, ভবিষ্যত আসে কোথা থেকে। মহাকাল বিচার করবে। আমার কিছু বলার নেই। 
     
    আমার এক কলেজ লাইফের বান্ধবী পরিবেশ বিজ্ঞানী, গোয়ায় থাকে। কলকাতায় এসেছিল কাজে। ফিরে গিয়ে ওর আর ওর মেয়ের আমার মতো অবস্থা হল। ও একটা ঘরে আর মেয়ে আর একটা ঘরে বন্দী হল। ওর কর্তা আবার রান্না জানে, কিন্তু এতোদিন রান্নাঘরের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব পায়নি। এবারেই এসেছে সেই মাহেন্দ্র যোগ। বান্ধবী চারবেলা প্লেটে খাবার পেতে লাগলো। ফোন করে বরকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিল যে এমন রাজসিক মেনু ও মশলা রোগীকে দিতে নেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এদিকে বান্ধবীর মেয়ে অন‍্যঘর থেকে কাঁদো কাঁদো স্বরে মাকে ফোন করছে, মা, বাবা তো জলখাবারে প্রচন্ড ঝাল কাই সমেত চারখানা ডিম দিয়ে গেল। বলে গেল এখন বেশি বেশি করে শুধু প্রোটিন খেতে হবে। বান্ধবী হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে আমাদের কাছে হা হুতাশ করতে লাগল, - ওরে যাই আসুক, বড্ড মেগা ডোজে আসছে। 
     
    আর সেই মেসেজ পড়ে কলকাতা থেকে কোঝিকোড়, ক‍্যানবেরা থেকে ক‍্যালিফোর্নিয়া কলেজের বান্ধবীদের থেকে নানা পরামর্শ ভেসে আসতে লাগলো। 
     
    - আরে অতো ঝাল চারখানা ডিম একসঙ্গে খেলে পেট খারাপ হয়ে যাবে তো। 
     
    - ওরে সজলকে বোঝাবার চেষ্টা কর।  করোনায় একটা পেটখারাপ হবার টেন্ডেন্সি এমনিতেই থাকে।
     
    - হা হা হা হা, সজল স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। তোরাও করোনা ভুলে সেই স্বাদ গ্রহণ কর।
     
    গোয়ার বান্ধবী এক্কেবারে চুপ। যাক গে যাক, যে যার সমস‍্যা নিজের বাড়ির ইনসাইডে মিটিয়ে নেওয়াই ভালো। 
     
    আমার বাড়িতে ফিরে আসি। পরদিন সকালে নটা নাগাদ আবার ঘুমের মধ‍্যে অনেক কথা শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। আসলে এই করোনায় দেখছি রাতে ঘুম বার বার ছিঁড়ে যায়। তাই সকালে উঠতে দেরী হয়। কান করে শুনে বুঝলাম, কর্তা ঘরের বাইরে ফোনে কারোর সঙ্গে কথা বলছেন। 
     
    - না না ঐ দোকানে বড্ড চর্বি দেয়। বাজারের শেষের দিকে চলে যা। ছেলেটাকে বলবি চর্বি ছাড়া এক কেজি দিতে। তপু বার বার ফোন করে বলছে, এদের সব মাটন স্টু খাওয়াতে হবে, নাহলে কেউ বিছানা থেকে উঠবেনা। আর শোন বাপ্পা চিকেনও আনবি এক কেজি।
     
     বুঝলাম, আমার পিস্তুত ভাই বাপ্পাকে বলছে সব। পাশেই থাকে। সঙ্গে আবার জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকারকে বাজার আনার নির্দেশ দিচ্ছে। 
     
    ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি, গ‍্যাসের উনুন যেমন কে তেমন। না সকাল, না দুপুর কোনো খাবারের যোগাড়ই শুরু হয়নি। বিরক্ত হয়ে বললাম, 
     
    - কোনো ক্রাইসিস পিরিয়ডে ঘুম থেকে উঠে, আগে ভাত আর ডাল বসিয়ে দিতে হয় জানোনা। তুমি তো অনেকক্ষণ উঠেছো। ডালটা সিটি দেওয়া থাকলে, তাতে ডুবিয়েও তো সবাই পাঁউরুটি খেতে পারতো। তিনটে অসুস্থ, দুটো সুস্থ মানুষ খাবে কী এখন। ঘড়িতে সকাল দশটা বাজতে যায়? 
     
    কর্তা দেখলাম জুৎসই উত্তর হাতড়াচ্ছেন। এমন সময় রান্নার মেয়েটি ঘর থেকে বেরোলো, আর বাংলার পাঁচ, ছয়, সাত সবরকম মুখ করে চাল ধুতে শুরু করলো। সহোদরাও বেরিয়ে পড়লো। আমাদের ঘরে তো আর অ্যাটাচড বাথ নেই। আর পতিদেব সুযোগ বুঝে 
    - 'ওরে বাবা, চারদিকে করোনা বেরিয়ে পড়েছে, মাস্ক আমার মা - স্ক' - এই বলে  এক লাফে বেডরুমে ঢুকে পড়লেন। 
     
    আমি দাঁত কিড়মিড় করে ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, কর্তা একেবারে কম্বলের তলায় ঢুকে পড়েছে আর দুটো চোখ বার করে দেখছে, আমি তাকে দেখছি কিনা। যেই আমি তাকিয়েছি, দেখি মুখে একটা অসহায় হাসি, এদিকে কম্বল থেকে একটা পা বার করে নাচাচ্ছে - পা দেখিয়ে আমায় রাগাচ্ছে। কী আর করি। পাত্তা দিলাম না। কিন্তু বুঝলাম মাটন স্টুটা আমাকেই রাঁধতে হবে।
     
    একমনে মহা করোনাঞ্জয় মন্ত্র আওড়ালাম - 
     
    "মাটোন আমার কাঁটোন
    সই উনুনের ঝিক।
    রাম করোনা বুকে আছে
    পারবো আমি ঠিক।"
     
    রান্না বান্না সেরে তপু মানে আমার  যে দেওর মাটনের বুদ্ধি দিয়েছে, তার পিন্ডি চটকানোর উপকরণ জমা করতে তার মেয়েকে ফোন লাগালাম।
     
    - হ‍্যাঁ রে কর্ণা কেমন আছিস?
     
    - জেঠিমা? খবর তো তোমাদের। করোনা কেমন আছে? আমাদের পাট চুকেছে।
     
    - হ‍্যাঁ রে বাপ মেয়ে থাকিস, বাবার কোভিড হল। রান্নার পিসিও ছিলনা। তাহলে তোরা কি করলি, তখন?
     
    - মাটন স্টু জেঠিমা, মাটন স্টু। বানানো খুব সহজ। 
     
    - তাই তাই? কীভাবে হয়?
     
    - দেখো জেঠিমা, আমি তো আর করিনি, বাবাকে যেমন দেখেছি, তেমন বলছি।
     
    - বল।
     
    - আলু চারফালি কেটে প্রেশারে ফেলে দাও। একটা বড় পেঁপে চারফালি করে প্রেশারে ফেলে দাও।
     
    - এ্যাঁ!
     
    - আস্ত টমেটো ফেলে দাও।, তারপর মাটন দিয়ে দাও। 
     
    - সব্জির সঙ্গে এক সঙ্গে? কোনো ম‍্যারিনেশন? 
     
    - না না, ওসব দরকার নেই।
     
    - তাহলে মাটন সেদ্ধ হতে তো সাত আটটা সিটি দিতে হবে, সব্জি তো ঘ‍্যাঁট হয়ে যাবে। 
     
    - হোক, ওটাই তো সুরুয়া হয়ে যাবে। 
     
    - আচ্ছা, কোনো মশলাপাতি বা তেলের ব‍্যাপার আছে?
     
    - তেল? মাটনের মধ‍্যেই তো তেল আছে। আবার তেলের কী দরকার। খাওয়ার আগে মাখন আর মরিচ ফেলে দাও। 
     
    - আর কোনো মশলা? 
     
    - দেখো জেঠিমা বাবা তো মশলার ইউজ জানেনা, কিসে কী হয়। যেগুলো সামনে পায়, একটু একটু দিয়ে দেয়। আর হ‍্যাঁ গরম মশলাটা দিতেই হবে। কারণ গরম মশলার গন্ধে স্মোকি খেয়ে নেয়। একটাই তো খাবার, স্মোকি খেতে পারবে, এমনই তো আমাদের খেতে হবে। 
     
    (দেওরঝির লাসা আপসো কুকুর আছে। আমার মেয়ের প‍্যারাকিট আছে। দুই জ‍্যেঠতুতো খুড়তুতো বোন কর্ণাবতী আর রঞ্জাবতীর সঙ্গে মিলিয়ে কুকুর বোনের নাম পদ্মাবতী আর প‍্যারাকিটের নাম সত‍্যবতী। পদ্মার ডাকনাম স্মোকি লামা। কারণ লাসা আপসো আসলে তিব্বতের কুকুর)
     
    - ওহ। স্মোকি আর তোদের খাবার এক! দুবেলাই তাহলে মাটন স্টু?
     
    - দুবেলা না তিনবেলা। দুপুর, সন্ধে, রাত্তির।
     
    - আচ্ছা সকালটা? 
     
    - ঐ কফি, বিস্কুট এইসব। তোমরাও এরকম করো গো জেঠিমা। দেখবে পরিশ্রমটা বেঁচে যাবে।
     
    - বাঃ। এরকম পথ তো মাথায় আসেনি। তা, কতদিন এমন খাওয়া চললো? 
     
    - আমাদের কোয়ারেন্টিন কেটে রিনা পিসি আসা পর্যন্ত। 
     
    - বা বা, তোর জেঠু তো এখন সুস্থ, কিন্তু পারেনা বলে করোনা পার্টির রাঁধা ভাত খাচ্ছে। জেঠুকেই এমন খাওয়াবো। আর কিছু বললে বলবো কর্ণা রেসিপি দিয়েছে।
     
    - ঠিক আছে, জেঠু যখন কাঁথি আসবে, আমাকে একটু আগে থেকে বলে দেবে, বাড়ি থেকে পালাবো। অন‍্য কোনো জায়গায় আশ্রয় নেবো। আমি তো ভালোর জন‍্যেই বলছি জেঠিমা। তোমরা মাছের কালিয়া খাবে, ডালের গমের ডালিয়া খাবে। আবার করোনা করোনা, আহা উহু করবে এটা কী হয়? 
     
    - না না হয় না। হওয়া উচিত নয়। ভারতীয় খানা ছেড়ে এমন পিওর ইংলিশ খানা খেতে হবে। তবেনা ম‍্যানেজমেন্ট অফ করোনা সফল হবে!
     
    - মাইনর একটু সমস্যা আছে জেঠিমা। তোমরা তো আবার একটু বেশি খাদ‍্যরসিক আছো তাই। 
     
    - তাতে কী?
     
    - ওটাই তো। এই মাটন স্টু খেলে তোমাদের শরীর সুস্থ হয়ে যাবে, আমি গ‍্যারান্টি দিচ্ছি। কিন্তু মন খারাপ হয়ে যেতে পারে। মানে শরীরটা বেঁচে উঠে মনটা মরে যেতে পারে। 
     
    - কেন তোদের মনটা কেমন আছে?
     
    - আরে আমার আর বাবার তো এমনিতেই ডিপ্রেশন আছে। তাই খাবার নিয়ে আমাদের কোনো প্রবলেম নেই। কিন্তু তোমরা....। 
     
    - এ্যাঁও। এই মাটন স্টু টা করোনা কাম ডিপ্রেশন স্পেশাল? কিন্তু আমার তো ডিপ্রেশন নেই। আর কস্মিনকালেও আনতে চাইনা। 
     
    - খিঁ খিঁ খিঁ, ফোন রাখো জেঠিমা, আমার পড়া আছে। 
     
    হুম, বিটলে শয়তানটা ফোন ছেড়ে পালালো। কিন্তু করোনায় মাটন স্টুয়ের রহস‍্যটা জানা গেল। ইশকুলের গ্রুপে হাসাহাসি চলছে, করোনার অনেক গুণের মধ‍্যে একটা গুণ নাকি এটা - যে করোনা অনেক পরিবারের অকর্মক ক্রিয়া পদগুলোকে সকর্মক করে ছেড়েছে। কিন্তু আমাদের বাড়িতে কী হবে? 
     
    দ্বিতীয় দিন দুপুরে খাওয়ার পর কর্তা গেলেন বাসন মাজতে। বুক চিতিয়ে পিঠের দিকে হেলে বাসনে সাবান বোলাচ্ছেন। আর মুখে কন‍্যাকে নির্দেশ দিচ্ছেন, 
     
    - ওরে রঞ্জা কোথায় গেলি? এ্যাই ছাগল ডাকছি শুনতে পাচ্ছিস না?
     
    মেয়ে এসে দাঁড়াতে একটা একটা করে ধুয়ে বাসন মেয়ের হাতে দিচ্ছেন। বাসন সাজিয়ে রাখতে হবে। জল ঝরানোর বালাই নেই। দাঁড়িয়ে বাসন ধুতে ধুতে নিচু হয়ে কিছু করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। হাত লাগিয়ে ধুতে পারবেননা। জানি শুকোনোর পরে একপরত সাদা স্তর বাসনে লেগে থাকবে। ভেজা বাসন তাকে সেজে উঠছে, আর রান্নাঘরের মেঝেটায় ঝর ঝর ঝরণা, জাহ্নবী যমুনা বয়ে যাচ্ছে। আমরা ঘরের দরজা একটু ফাঁক করে চুপি চুপি দেখতে লাগলাম। 
     
    কর্তার মুখে অমৃতভাষণ বর্ষিত হচ্ছে,
     
    - কিরে ডগু, বাসন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি রে, চটপট কর।
     
    - ডগু আমি ডগু? তাহলে তুমি কী? 
     
    - চুপ কর নিষ্কর্মা। বড় একটা মেয়ে থাকতে বুড়ো বাবার কতো কষ্ট।
     
    - বুড়ো, তাই বুঝি? কী আমার বুড়ো বাবা রে। এই যে বলো, তোর মায়ের থেকে আমি কতো হ‍্যান্ডসাম। তুড়ি মারলেই এখনও পাত্রী জুটে যাবে। বাসন মাজতে গিয়ে অমনি বুড়ো হয়ে গেলে। 
     
    একটু পরেই মেয়ের ফোন
     
    - মা, দেখো না বাবা কেমন করছে। আমি আজকের আগে তো দুবেলা বাসন মেজেছি, তাও একা। বাবা একা কিছু পারবেনা। আর আমাকে কেমন করছে। তুমি কিছু বলবেনা?
     
    - হুঁ, খক খক খক। দেখ বাবু খক খক, আমি তো কথা খক খক এখন বলতে পারছিনা। একটু মানিয়ে নে। খকর খকর খকর.....
     
    - ধুর, আমি যাচ্ছি, তোমায় ছুঁয়ে দেব। 
     
    - খবর - খক খক খক, খবরদার। একদম না। 
     
    - আমি এসে গেছি। হি হি হি। দরজার দিকে দেখো। ধরব, ধরব, ধরি ধরি, হা-উ-উ। 
     
    - এ্যাই হাত গোটা, কেন বাড়িয়েছিস? স‍্যানিটাইজ কর। যাঃ। 
     
    - উঁ! বলার কিছু নেই বলে, ফোনে খক খক করা হচ্ছে। আমি কিছু বুঝিনা, অতো বোকা পাওনি আমায়...। 
     
    - কী মুশকিল, কোন দিকে যাবো রে বাবা। এই ওমিক্রনটাই যতো নষ্টের গোড়া। 
     
    ও মাই ক্রন।
    কলকাতা গন।।
    গা ঝনঝন।
    মাথা টনটন।।
    শীতে কনকন।
    চোখে বনবন।।
    পতি কাজে ঢনঢন।
    উনি পজিটিভ নন।।
    কেন এলি শনশন।
    ব‍্যাটা পচা ওমিক্রন।।
  • খ্যাঁটন | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | ১২২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:৩৮502650
  • ২০২০তে রিষড়ার একটি বাড়ি থেকে বাড়ির বৌ অর্থাৎ গৃহকর্তৃকে কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতাল থেকে নিতে অ্যাম্বুলেন্স এলে বাড়ির ছেলেরা কিছুতেই যেতে দিতে চায় নি কারণ 'তাহলে রান্না করবে কে? ' শেষ পর্যন্ত  পুলিশ গিয়ে ওঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশের তরফ থেকেই খবরটা শেয়ার করা হয়েছিল। 
    এই লেখাটা পড়ে মনে পড়ে গেল। 
     
    খেতে শেখার মতই  মোটামুটি কাজ চালাতে পারাতে মারার মত  খাবার বানাতে শেখাও বেসিক স্কিল। 
  • Sara Man | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:১২502651
  • আপনি দেখছি খুব সিরিয়াস হয়ে গেছেন দিদিভাই। আমার লেখাটা একটু সকলকে আনন্দ দেওয়ার জন্য।
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:70:678a:cc2:98e3 | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:১৮502652
  • Sara Man | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৫০502654
  • ধন‍্যবাদ, সুন্দর একটা সিনেমা দেখানোর জন‍্য। 
  • Mousumi Banerjee | ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৪৫502659
  • ভালো লাগল। টানটান মজাদার লেখা।
  • arnab chakrabarty | ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১১:১৮502661
  • জব্বর লেখা !
  • Swapan Kumar Mandal | ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৩:৪৬502662
  • দারুন লাগলো। একেবারে ফাটাফাটি লেখা। yes
  • Kasturi Das | ১৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৪৩502666
  • এতো মজাদার লেখা পড়ে, মাথা ঢনঢন  কান টন টন  পেট কনকন বেমালুম গায়েব !.. শুধু হাসতে হাসতে কাশতে কাশতে ওমিক্রন গন গনা গন গন
  • Sara Man | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৪৬502671
  • ধন‍্যবাদ
  • Dolon | 2a00:23c5:7701:c501:82d2:1dff:fe08:7637 | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:০২502679
  • লেখাটির জোর কম , ভাষা এবং প্রয়োগের মধ্যে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা প্রবল l একজন চিকিৎসক মহিলার , যিনি অন্তত অর্থনৈতিক ভাবে স্বামীর উপর নির্ভরশীল নন ভাবা অন্যায় নয় , তার এরকম পতি পূজার মানসিকতা চোখে লাগে l তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় ওনার স্বামীকে কখনো ঘরের কাজে হাত দিতে হয় না এবং উনি একসাথে একা দুদিক সামলান ? এই ভাবনার মধ্যে কোনো বিশেষ মেডেল আছে বলে মনে না হয়াই স্বাভাবিক অন্তত আমার মতে l নিজের ঘরের কথা বাইরে প্রকাশ করে লিখলে তার দুরকম সমালোচনায় সমান গুরুত্ব আসবে , যাকে শুধু  "মজা " বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস অনেকটা চোখ ঠেরে মন ঠেকানোর মত l "পতি " কে ভালোবাসা ঠিক আছে ,কিন্তু এ  ব্যাপারে আমি "দ " এর  সাথে সর্বাইব একমত যে এই যুগে এই রকম "পতি পরম গুরু " টাইপ কে হাওয়া দিয়ে অতি সাধারণ রান্না না পারার বা চাল কোথায় থাকে তা না জানার মতো  অতি বেসিক স্কিল কে মজার মোড়োকে পরিবেষণার চেষ্টা সংসার জীবনে অসম হায়ার্কি কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর মতো l লেখিকা আশা করা  যাক এই সমালোচনা সদর্থক ভাবে নেবেন। 
  • Sara Man | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৩২502680
  • সদর্থক ভাবে নিলাম। আমি চিকিৎসক নই। জীবনে অনেক সমস‍্যাই তো আছে। হেসে উড়িয়ে দিলে ক্ষতি কি? 
  • Dolon | 2a00:23c5:7701:c501:82d2:1dff:fe08:7637 | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৬:০৪502682
  • ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলাম। হেসে উড়িয়ে দেওয়া অবশ্যই যায়। কিন্তু ডক্টরেট হিসেবেও নিশ্চয়ই শিক্ষার নিরিখে  আপনি সমাজের শিখরের দিকে তাই ​​​​​​​এই ​​​​​​​দিকটা ​​​​​​​আমার ​​​​​​​মনে ​​​​​​​হয়েছে লেখিকার ​​​​​​​মতে ​​​​​​​"রান্না ​​​​​​​করা ​​​​​​​গৃহস্বামী এর পক্ষে নিচু ব্যাপার " এই  ধারণার জয়গান। আমি এই ধারণার পৃষ্ঠপোষকতা করি না এবং আমার এই ধরনের ​​​​​​​মতামত কে  জোর ​​​​​​​করে ​​​​​​​চাপিয়ে ​​​​​​​দিলে ​​​​​​​ফল ​​​​​​​ভালো ​​​​​​​না ​​​​​​​হওয়ার ​​​​​​​প্রভাব ​​​​​​​বেশী ​​​​​​​বিশেষত ​​​​​​​যেখানে মেয়ের মা বাবা ​​​​​​​মেয়েকে ​​​​​​​তার ​​​​​​​নিজের ​​​​​​​ইচ্ছার ​​​​​​​অবদমন ​​​​​​​করে ​​​​​​​"মানিয়ে ​​​​​​​নিতে " বলেন। ​​​​​​​যেকোনো ​​​​​​​মতামতের ​​​​​​​ই ​​​​​​​একটা ​​​​​​​প্রভাব ​​​​​​​থাকে , যে ​​​​​​​যেভাবে ​​​​​​​নেবেন ​​​​​​​আরকি।  ​​​​
    আপনার লেখা পাবলিক ফোরামে বলেই একথা বলা , নাহলে আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই এবং আমার সে  উদ্দেশ্যও নয়।  ​​​​
    যাই হোক এখানেই ইতি। ভালো থাকুন এবং সুস্থ হয়ে উঠুন। 
  • Sara Man | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৪৬502683
  • আমার একজন সহকর্মিনী আছেন। তাঁর নাম ও দোলন চাঁপা। উনিও আমাকে অনেক সময়ে বকাককি করেন। বয়স বাড়লে বকুনি দেবার মানুষ থাকে না। শূন্যতাটা পাবলিক ফোরাম ভরাট করলেও বিশেষ ক্ষতি নেই। আর গুরুচন্ডালিতে  সাধারণত সুরুচি সম্পন্ন মানুষেরাই থাকেন। চুপিচুপি বলি, আমি গৃহকর্মে অষ্টরম্ভা। সংসারী ছেলে দেখে বিয়ে করেছি। উনি পনের দিন আই সি ইউ কাটিয়ে কয়েক সপ্তাহ হল বেরিয়েছেন। আমিও ক্লাসে বকি, তবে একটু হাসি মজা করার বদভ‍্যাস আছে। একটু যখন বকেই ফেলেছেন, আমার পাকশালার গুরুচন্ডালি সিরিজ টি পড়বেন দয়া করে। আর ইচ্ছে মতো বকাককি করবেন। 
  • সাধারণ পাঠক | 2402:3a80:aad:35f5:0:68:daa1:7d01 | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৯:০৪502686
  • দোলন, 
    "রান্না ​​​​​​​করা ​​​​​​​গৃহস্বামী এর পক্ষে নিচু ব্যাপার "
     
    কোথায়, এরকম কিছু তো পড়ে মনেই হল না লেখিকা বলতে চেয়েছেন বলে।  ছেলেদের রান্নাবান্না না পারাকে আদৌ প্রশংসা করেছেন বলেও তো মনে হল না। উল্টে হাল্কা হাসি মজার ছলে এরকম সময়ে সংসারের কাজকর্মের চাপ নেওয়ার কষ্টটাই টের পেলাম, পাঠক হিসেবে পড়তে পড়তে।  
    এবারে, অনেক মেয়েই ওরকম ভাবেন বটে- স্বামী কাজকর্ম কিছু পারেন না, সে কি দারুণ গর্ব করে বলার মত ব্যাপার আর সেরকম ভাবলে আপনার বকাবকিগুলো প্রযোজ্য হয় তো বটেই, তবে পাঠক হিসেবে আমার পাঠ অনুযায়ী মনে হচ্ছে এক্ষেত্রে ছায়ার সঙ্গে কুস্তিকাস্তা হয়ে গেল নাতো?  
     
    লেখাটা পড়তে লেখার প্রসাদগুণে দিব্বি লেগেছে, পশ্চাদপর ভাবনাচিন্তা প্রোমোট করা হয়েছে বলেও মনে হয়নি। 
     
    অবশ্য,  প্রত্যেক পাঠকের পাঠ আলাদা হতেই পারে। 
  • dc | 122.164.73.203 | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ২০:০৭502688
  • লেখাটার মধ্যে আমি মজার বা হাসির কিছু পেলাম না, মানে প্যাট্রিয়ার্কি প্রোমোট করাটাকে মজা মনে হলে অবশ্য অন্য ব্যপার। 
  • kk | 2600:6c40:7b00:256:68f2:c4a4:7b47:682e | ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ০২:২৪502717
  • 'পাকশালার গুরুচন্ডালী' আমি পড়ি। ভালো লাগে। ওখানে জানিয়েওছি ভালোলাগা। ঐ সিরিজের কারণেই লেখকের কাছে একটা এক্সপেক্টেশন থাকে। সেটা এই লেখায় একেবারেই পেলামনা। এই লেখাটা আমার ভালো লাগেনি। কনটেন্ট বা লেখার স্টাইল, কোনোটাতেই মজা পেলামনা। হ্যাঁ, আমিও পাবলিক ফোরামে লেখার পরিপ্রেক্ষিতে পাঠকের অনেস্ট ওপিনিয়ন হিসেবেই এটা লিখলাম।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ০২:২৯502718
  • এই ধরণের লেখা প্রথম দুই তিন লাইন পড়েই কাটিয়ে দিই, পোষায় না।
  • kk | 2600:6c40:7b00:256:68f2:c4a4:7b47:682e | ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:২১502719
  • সরি,টাইপো -- গুরুচন্ডালি
  • Sara Man | ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৫৯502723
  • আচ্ছা, মানলাম। 
  • Jaydip | ০৫ এপ্রিল ২০২২ ১৩:৫৫506023
  • ভীষণ সুন্দর 
  • Sara Man | ০৫ এপ্রিল ২০২২ ১৮:০১506027
  • ধন‍্যবাদ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন