ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  পর্যালোচনা (রিভিউ)  সিনেমা

  • ভারতীয় চলচ্চিত্রে মহাকাব‍্যের অনুষঙ্গ - 'আর আর আর' ছায়াছবি বিষয়ে কিছু ব‍্যক্তিগত ভাবনা

    Sara Man লেখকের গ্রাহক হোন
    পর্যালোচনা (রিভিউ) | সিনেমা | ০১ এপ্রিল ২০২২ | ৩৫৬ বার পঠিত
  • বিষয় - আর আর আর সিনেমা রিভিউ

    মুক্তির তারিখ - ২৫ শে মার্চ, ২০২২

    পরিচালক: এস এস রাজামৌলি

    ছবির মূল ভাবনাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় -
    ১। মানবিকতার প্রতি বার্তা
    ২। আধুনিক প্রযুক্তির দুরন্ত প্রয়োগ
    ৩। মহাকাব‍্যের ভিন্ন ব‍্যাখ‍্যা
    ৪। ভারতীয় মানসে অভিঘাত
    ৫। বাস্তব - কল্পনার মিশেল ও আবেগের বিস্ফোরণ

    ছবিটি বোনা হয়েছে গ্রামের ছেলে পুলিশ অফিসার রাম এবং গোন্ড উপজাতির সরল যুবক ভীমের, অত‍্যাচারী ইংরেজের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের গল্প নিয়ে।

    সিনেমা শুরু হয় দর্শককে চোখের আরাম দিয়ে, দাক্ষিণাত‍্যের মালভূমি আর অনুচ্চ পাহাড়ের মাঝে ঘন সবুজ অরণ‍্যে। ভেসে আসে কচি গলায় মিষ্টি গান। ক‍্যামেরা আরও ভিতরে ঢুকলে দেখা যায় জঙ্গলের ভিতরে ছোট্ট গ্রাম। সেখানে এক মেমসাহেবের ফর্সা হাতে  ময়ূর আঁকতে আঁকতে গান গাইছে একটি ক্ষুদ্র আদিবাসী বালিকা মল্লি। একটু পরেই বোঝা যায় এই মেমসাহেবা হলেন ফার্স্ট লেডি মানে বড়লাটের বৌ। তাঁর শখ পূরণ করতে ইংরেজ কনভয় জোর করে মল্লিকে গাড়িতে তুলে নেয় এবং দিল্লিতে লাটসাহেবের প্রাসাদে বন্দী করে। শুরুর এই ঘটনাটিতেই বোঝা যায় ক্ষমতাদর্পী শাসক জঙ্গলের মন বোঝেনা। সেখানে আসে শুধু তার সম্পদ আর ইমান লুন্ঠন করতে। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে দর্শকের স্নায়ু টানটান করে শুরু হয় ইংরেজ গাড়ির কনভয়ের সঙ্গে মল্লির মায়ের অসম দৌড়। মা পাহাড়ের পাকদন্ডি আর বনের অলিগলি দিয়ে ছুটে এসে কনভয়ের সামনে দাঁড়ায়, চিপকো আন্দোলনের মতো, মেয়ে যে গাড়িতে আছে, তার চাকা জড়িয়ে ধরে। এক লাফে ইংরেজ সার্জেন্ট মায়ের মাথায় বন্দুক ধরে। বড়লাট গাড়ি থেকে নেমে কঠোর কাটা কাটা ভাষায় তাকে নির্বিকার বুঝিয়ে দেয় কেন এক একটি ইংলিশ বুলেট একটি ভারতীয় প্রাণের তুলনায় দামী। ভারতীয় প্রাণ নিতে গেলে বিকল্প ভাবতে হবে। সার্জেন্ট মুহূর্তের মধ‍্যে শুকনো কাঠ কুড়িয়ে এনে মায়ের মাথায় ক্রিকেট ব‍্যাটের ভঙ্গিতে তীব্র আঘাত করে। প্রথম দৃশ‍্যেই মায়ের দেহ দর্শকের কোলের কাছে ছিটকে এসে দর্শকে বিবশ করে ফেলে। 

    এরপর দর্শকের পরিচয় হয় রামের সঙ্গে, রাম ইংরেজ শাসকের এক বিশ্বস্ত পুলিশ অফিসার, যে পদোন্নতির জন‍্যে দেশের লোকের প্রতি যেকোনো অত‍্যাচারে সামিল হতে পারে। সে ইংরেজি কথোপকথনে চোস্ত, স্মার্ট এবং চালাকিতে সিদ্ধহস্ত এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো অমিত শক্তির অধিকারী। দেখা যায় পুলিশ কর্তার দফতরে নিজামের মুখপাত্র জানান নিজামের বার্তা এই যে তাঁর অধিকারভুক্ত এলাকা থেকে যে বালিকাকে ফার্স্ট লেডি নিয়ে এসেছেন, তাকে ফেরৎ দিয়ে দিলে ভালো হয়। কারণ ঐ আদিবাসীর দল মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য দিল্লি এসে গেছে। দর্পিত শাসক নিজামের বার্তা তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেয় আর রামকে নিয়োগ করে ঐ দলকে ধরার জন্য। 

    এইবার এই বিদ্রোহী দলের নেতা হিসেবে ভীমকে দর্শক চিনতে পারে। ভীম হল মল্লির ভাই। ক‍্যামেরা আবার ঢুকে পড়ে গভীর জঙ্গলে যেখানে আদিবাসীরা শেয়াল জাতীয় প্রাণী ধরার জন্য ফাঁদ পেতেছে। দেখা যায় শালপ্রাংশু মহাভুজ এক পুরুষ বন‍্য জন্তুকে আকৃষ্ট করার জন্য মাথায় এক ঘটি রক্ত ঢালছে। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়না, শেয়াল ছুটে আসে, তাকে ফাঁদের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য জঙ্গলের শুঁড়ি পথে দর্শককে সঙ্গে নিয়ে সেই বীরপুরুষ ভীমও দৌড়তে শুরু করে। কিন্তু সেই ছায়া ঘেরা জড়ামড়ি করে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় গাছের মাঝে মাঝে ক‍্যামেরা ঘাসবনের দিকে ঘুরছে কেন? অপ্রত‍্যাশিত ভাবে অন‍্যদিক থেকে এক রাজকীয় রয়েল বেঙ্গল কেঁদো বাঘ ভীমকে ধরার জন্য লাফিয়ে পড়ে। দর্শক চোখ বন্ধ করতে গিয়েও পারেনা, কারণ বাঘের থাবায় শেয়াল চিৎ পটাং হয়ে দৌড় ছেড়ে দেয়। শুরু হয় বাঘের হাত থেকে বাঁচার দৌড়। শেষ মূহূর্তে বাঘ জালে আটক হয় কিন্তু শেয়ালের জাল বাঘকে ধরে রাখতে পারেনা। নিশ্চিত মৃত্যুর আগের মূহূর্তে কোনো অদ্ভুত জড়িবুটির চূর্ণ শুঁকে বাঘটা অজ্ঞান হয়ে যায়। কিন্তু জীবজন্তু ধরার, অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ছে কেন এ প্রশ্নের উত্তর তখন মেলেনা। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে এই বাঘ মানুষের দৌড়ের দৃশ‍্যটি যে কোন ফাইভ ডি ভিডিওর উত্তেজনাকে দশগোলে হারিয়ে দিতে সক্ষম। 

    রাম যেকোনো মূল‍্যে অচেনা ভীমকে খুঁজতে থাকে। এমনকি শ্রোতা হয়ে বাঙালি নেতার বাংলা মিটিংয়ে স্বাধীনতা কামী মানুষ সেজে ওঁৎ পেতে বসে থাকে। রাজামৌলি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যে ছায়াছবিটি তিনি প‍্যান ইন্ডিয়ান সিনেমা তৈরি করতে চেয়েছেন। দর্শক দেখে প্রতিশোধের ভাবনায় পাগল, অস্থির গোন্ড যুবক ভীম রাজধানী শহরে এসে এক মুসলিম যুবক আখতারের বেশ ধরে আপাত নিরীহ জীবন যাপন করে এবং গ‍্যারেজে ইংরেজদের গাড়ি সারায়। তার সঙ্গী সাথীরা মিলে একটি নিটোল মুসলিম পরিবার সাজিয়ে তোলে। কিন্তু তাদের আসল লক্ষ্য হল, গভর্নর হাউসে মল্লি আছে কিনা সেই খবর জোগাড় করা। এমন সময়ে ঘটে যায় এক সাংঘাতিক ঘটনা। রেলগাড়ি চলা ব্রিজের নিচে এক ছোট্ট বালক যমুনার বুকে পানসি ভাসিয়ে মাছ ধরে। ভীম তাকে পয়সা দিয়ে মাছ ধরে আনতে পাঠায়। কিন্তু ব্রিজের ওপরে হয়তো সন্ত্রাসী বিস্ফোরণে ট্রেন উড়ে যায়। জ্বলন্ত বগি আর ইঞ্জিনের অংশগুলি একে একে জলে পড়ে। সেই লেলিহান অগ্নি সুড়ঙ্গের মাঝে জলের মধ‍্যে আটকে পড়ে ছোট্ট বালকের পানসি। মানবিকতার খাতিরে নদীর পাড় থেকে ভীম, আর ব্রিজের ওপর থেকে রাম বালকটিকে বাঁচানোর জন্য এক অবিশ্বাস্য সংগ্রাম শুরু করে। কিন্তু বালক কীভাবে উদ্ধার হবে? না না না, সেটি তো বলা যাবেনা। ওটা হলে গিয়ে দর্শককে দেখতে হবে। ভীমের অভিনেতা জুনিয়র এন টি রামা রাও এবং রামের অভিনেতা রামচরণ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ঐ অবিশ্বাস্য স্টান্ট দৃশ‍্যটি শ‍্যুট করতে সময় লেগেছে দু দুটো মাস। শুধু বলা যেতে পারে ঐ দৃশ‍্যে দর্শকের আবেগ ও হৃদপিণ্ড থমকে যায়। উদ্ধার কার্যের শেষে ধোঁয়ার মধ‍্যে দড়ি ধরে ঝুলতে ঝুলতে দুই নায়ক হাত ধরে। পরিচয় না জেনে বাগী আর জল্লাদের দোস্তি হয়ে যায়। ক‍্যামেরা এগিয়ে যায় ধরে থাকা হাতের দিকে। বিস্মিত চোখের সামনে রামের হাত পরিণত হয় অগ্নিতে আর ভীমের হাত নির্মল জলধারায়। দর্শকের তখন হৃদয়ে আগুন আর দুচোখে অকাল বর্ষণ নামে। 

    ভীম দয়ালু ইংরেজ তনয়া জেনির সঙ্গে আলাপ করে গভর্নর হাউসে ঢুকতে চায়। রাম ভাবে ভীম বুঝি জেনির প্রেমে পড়েছে। রামের ছলচাতুরীতে ভীম ইংরেজদের নাচের পার্টিতে আমন্ত্রণ পায়। কিন্তু ইংরেজি নাচ না জানা ভীমকে ইংরেজ যুবকের দল নানাভাবে হেনস্থা করতে থাকে। রামের ভরসা আর সহায়তায় ভর করে ভীম উঠে দাঁড়ায় আর দুই নায়ক এমন দেশি নাচ নাচতে শুরু করে, যে ইংলিশ জেন্টলম‍্যানেরা নাস্তানাবুদ হয়ে শেষে ঐ নাচে পা মেলানোর ব‍্যর্থ চেষ্টা করে। এই গান এবং কোরিওগ্রাফি শুধু ভারত নয় ভিন দেশেও অনেকদিন ডিস্কো থেক কাঁপাবে, এই ভবিষ‍্যৎবাণী জ‍্যোতিষী না হয়েও স্বচ্ছন্দে করা যায়। যাই হোক ভীম জেনির নয়নের মণি হয়ে ওঠে। জেনি তাকে গভর্নর হাউসে নেমন্তন্ন করে বসে আর এই সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ভীম নানা পাহারা পেরিয়ে সত‍্যি সত‍্যি মল্লিকে খুঁজে পেয়ে যায়। কিন্তু দেখা তো হল, উদ্ধার করবে কীভাবে?  

    ভীমের ভাইকে রাম আটক করে অত‍্যাচার করে, বারবার তার দলের লোকেদের ধরতে চায়। ভীমকেই খোঁজে কিন্তু পরিচয় জানেনা। অন্ধকার কুঠুরিতে বিষাক্ত সাপ ঢোকে। গোন্ড যুবক সেই সাপ পিছনে বাঁধা হাতে ধরে অপেক্ষা করে আর রামকে ছোবল খাওয়ায়। কালসাপ নাকি শক্তিশেলের ছোবলে নেতিয়ে পড়া লক্ষণ নয় রাম বাঁচার জন্য কোনক্রমে ভীমের কাছে পৌঁছয়। ভীম তাকে আদিবাসী বিদ‍্যা কাজে লাগিয়ে বাঁচায় আর নিজের রক্ষা কবচ জড়িবুটির মালা নাকি বিশল‍্যকরণী রামকে পরিয়ে দেয়, যাতে সে দ্রুত সুস্থ হতে পারে। কিন্তু আজ তার নিজের পক্ষে দাঁড়িয়ে সেবা করার সময় নেই। কারণ বড়লাটের বাড়িতে সেদিন বিরাট খানাপিনার উৎসব, সেই সুযোগে ভীম  তার বোন মল্লিকে উদ্ধারের এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেছে। অর্ধচেতন রামের কাছে সে তার সব গোপন কথা পরম বিশ্বাসে প্রকাশ করে আর রামের বন্ধুত্বের ওপর আস্থা রেখে নিজের উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে চলে। ভারী ট্রাক রূপকথার মতো প্রাসাদের একের পর এক অলঙ্ঘ‍্য দরজা ভেঙে এগিয়ে যায় এবং আপামর দর্শককে বিস্মিত করে ভরা সভায় ট্রাক থেকে  শাসকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জঙ্গলের হিংস্র জানোয়ারের দল। অনেক গোলাগুলি, সৈন‍্যসামন্ত, দমন পীড়নের বহু রসদ মজুত থাকা সত্ত্বেও শাসক সম্পূর্ণ হতবুদ্ধি হয়ে যায়। বাস্তব জীবনে প্রায় কোনো শাসকই পরিবেশের সমস‍্যা, জঙ্গলের কান্না, জঙলি আদিবাসীদের কন্ঠস্বর  শুনতে চায়না। তাই বন‍্য জন্তুদের এই প্রতিশোধের দৃশ‍্যটি সুধীজনের কাছে এনভায়রনমেন্টাল এথিকসের রূপক অর্থ বহন করে। কিন্তু ভীমের উদ্দেশ্য পূরণ হয়না। সুস্থ হয়ে রাম অলঙ্ঘ‍্য প্রাচীর হয়ে ভীমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভীমের বিশ্বাস ভঙ্গ করে তাকে বন্দী করে। 

    দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় দর্শক এতক্ষণ যা বুঝেছে তার অনেকটাই ক‍্যামোফ্লেজ। রামের অতীত ভাবনায় ফ্ল‍্যাশব‍্যাকে একটি ছোট দৃশ‍্যে একজন প্রাক্তন  সৈন‍্যকে দেখা যায়, যিনি গ্রামের মানুষকে ইংরেজদের সঙ্গে লড়াইয়ে বন্দুক চালানোর ট্রেনিং দিচ্ছেন আর শিশু রাম সর্বোত্তম লক্ষভেদকারী হয়ে উঠছে। এই সৈনিকের চরিত্রে যথাযথ অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন। দৃশ‍্যে সত‍্যি সত‍্যি ইংরেজ আসে। লড়াই গুরু নিহত হন আর সংগ্রামের উত্তরাধিকার দিয়ে যান রামকে। বর্তমানে রাম পুলিশ দফতরে পদোন্নতি চায়, কারণ সে অস্ত্রের গুদামের ইন চার্জ হতে চায়। হতে পারলে অস্ত্র পাচার করে সশস্ত্র বিপ্লব ঘটানোই তার একমাত্র উদ্দেশ্য। 

    এছবিতে লালা লাজপত রাইকে ছেড়ে দেবার জন্য থানার বাইরে লাখ মানুষ বিক্ষোভ দেখায়। আবার খোলা ময়দানে ভীমকে প্রকাশ‍্যে কাঁটা লাগানো চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত হতে দেখে সাধারণ দর্শক দুঃখিত হয়। এই ত্রিমাত্রিক দৃশ‍্যগুলিতে আবেগ এতটাই বাস্তব, দর্শকও একাত্ম হয়ে শূন্যে দু একটা ঘুঁষি ছুঁড়ে দিতে চান। রাম ভীমকে ভালোবাসে। কিন্তু বৃহৎ স্বার্থে ইংরেজ বড়লাটের সামনে নিজের ছদ্মবেশ বজায় রাখার তাগিদে ভীমের ওপরে চাবুকের পর চাবুক চালায়। ভীম হাসে, ভীম গান করে, সিনেমার দর্শক আর দৃশ্যে ঘটনার দর্শক একই সঙ্গে রাগে অন্ধ হয়, বাড়তি হল সিনেমার দর্শক মানসচক্ষে রামের কান্না দেখতে পায় তাই কী যে করবে ভেবে পায়না। ভীমের রক্ত মাঠ দিয়ে গড়িয়ে চলে, মাঠে কাজ করা, খেটো শাড়ি পরা এক নারীর নাকি দেশ মায়ের চরণ ছুঁয়ে যায়। রক্ত লেগে নারীর পায়ের আঙ্গুলগুলি নাকি দর্শকের মন শিহরিত হয়ে ওঠে। অজ্ঞান হবার আগের মূহূর্তে ভীম সমবেত দর্শকের দিকে হাত তোলে, যেন বলতে চায়, কিছু বলবেনা? তারপর জ্ঞান হারায়। দৃশ্যে অভিনয় করা দর্শক আর সিনেমার দর্শক একযোগে ব‍্যারিকেড ভেঙে পুলিশকে আক্রমণ করে। ইংরেজ পুলিশ তাদের আবেগের চাপে, পদাঘাতে পিষতে থাকে। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, পরিচালক রাজামৌলি সমবেত দর্শকের মাঝে হিন্দু মুসলমান দুজনকেই দাঁড় করান। দুজনের আবেগ, ঘৃণা, ক্রোধ পরস্পরমুখী নয়, বরং ইংরেজমুখী সেটা বারবার ক‍্যামেরায় ধরা পড়ে।

    বিচারে ভীমের ফাঁসি ঘোষণা হয়। রাম তার কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পায়। তার স্বপ্ন বাস্তব হয়। রাম সত‍্যিসত‍্যি অস্ত্রাগারের অফিসার ইন চার্জ হয়ে যায়। এবারে সশস্ত্র বিপ্লব করে সে তার পরিবারের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে, দেশমায়ের শৃঙ্খল ঘোচাবে, বাবার উত্তরাধিকারের মর্যাদা রাখবে। কিন্তু এসব কি সে ভীম আর মল্লির  বলিদানের মূল‍্যে কোনদিন চেয়েছিল? ভীমের সারল্য, বিশ্বাসভঙ্গের বিস্মিত দৃষ্টি তাকে স্থির থাকতে দেয়না। রাম উচিত অনুচিতের জ্বালায় পুড়তে থাকে। কিন্তু বলবে কাকে? রাম চিঠি লেখে। সে চিঠি পড়ে দুখিনী সীতা যাকে সে চারবছর আগে লক্ষ‍্যপূরণের জন্য ছেড়ে এসেছে। তারপর একটিবারের  জন‍্যেও যোগাযোগ করেনি। এতক্ষণে সীতারূপী আলিয়া ভাটের সঙ্গে দর্শকের পরিচয় হয়। চিঠি পড়ে সীতা বোঝে রাম তাকে ভোলেনি। অনুভব করে মানুষ রামের অসহায়তা। এদিকে রাম মনস্থির করে। ভীম আর মল্লির জীবনের বিনিময়ে সে লক্ষ‍্যপূরণ করতে পারেনা। একঢিলে দুই নায়কের স্বপ্নপূরণের জন্য সে এক ভয়ানক ষড়যন্ত্র করে। অস্ত্রাগারের অধিকারী হিসেবে সে গুলিহীন বন্দুক ইংরেজ সৈন‍্যদের পাঠাতে থাকে। আর জেলের কুঠুরির ভিতরে নয়, বরং খোলা মাঠে মল্লির সামনে ভীমকে ফাঁসি দিতে হবে বলে কর্তৃপক্ষকে রাজি করায়। কিন্তু মানুষ যা ভাবে সবকিছু তো ঘটেনা। করমর্দনের সময়ে রামের হাতে বারুদের চিহ্ন দেখে বড়লাটের সন্দেহ হয়। দুরন্ত অ্যাকশন আর অনেকটা আবেগের মেঘের আড়ালে ভীম মল্লির হাত ধরে দিগন্তে মিলিয়ে যায়, আর রাম মাটির নিচে সলিটারি সেলে বন্দী হয়। 

    গল্পের চাকা দ্রুত গড়াতে থাকে। ভীম তার দলবল নিয়ে এক সাধারণ সরাইখানায় আশ্রয় নেয়, কিন্তু খাবার কেনার পয়সা তো নেই। বড়রা সহ‍্য করে কিন্তু মল্লি খিদের জ্বালায় কাঁদে। ইংরেজ পুলিশ তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায় বিদ্রোহী বেশিদূরে যেতে পারেনি। তল্লাশি চলছে, শুধু একটাই জায়গা বাকি আছে। মানচিত্রে এগিয়ে আসে আধুনিক ভারতের চেনা নাম হাথরাস। এরপর ইংরেজ পুলিশের তল্লাশির মধ‍্যে আকস্মিকভাবে ঐ হাথরাসে সীতার সঙ্গে ভীমের পরিচয় হয়। কারণ ফাঁসির পরে রামের দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষ যে চিঠি দিয়েছে, তাই নিয়ে সে বুকে পাষাণভার বয়ে হাথরাসে অপেক্ষা করছে। ভীম দেখে সীতার গলায় সেই আধখানা লকেট যার আধখানা সে রামের গলায় দেখেছে। এখানে সীতা কীভাবে ভীম ও তার দলকে বাঁচায় তার একটি দৃশ‍্য আছে। কিন্তু না সব বিস্তারিত বললে দেখার চমক মাটি হবে। ভীম সীতার কাছে রামের আসল পরিচয় জানতে পারে, আর মাথায় মৃত্যুর পরোয়ানা বেঁধে নারীর অস্তিত্ব আর ভালোবাসার নায়ককে উদ্ধার করতে ছোটে। প্রাণ কাঁদে বাস্তবে হাথরাসে কেন শুধু রাক্ষস আসে, রাম লক্ষ্মণ, পান্ডবেরা আসেনা। এতক্ষণ বাস্তব আর কল্পনার মিশেল দিয়ে গল্প চলছিল। কিন্তু এই শেষ পর্বে রাজামৌলি তাঁর সৃষ্টিকে টোটাল ফ‍্যান্টাসিতে পরিণত করেন। 

    আবার শুরু হয় মারকাটারি অ্যাকশন দৃশ‍্য। পর্দায় দেখা যায় রাম আহত এবং হাঁটার শক্তি নেই।  ভীম একা পিলপিলে ইংরেজ সৈন‍্য, হুহু গুলির তোড়, কামানের বিস্ফোরণ সবকিছুর মধ‍্যে রামকে কাঁধে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। জঙ্গলে রামের গায়ে জড়িবুটি লেপে দেয়। চারটে গেরুয়া পতাকা ছিঁড়ে রামের রক্তমাখা পুরোনো পোষাক পরিবর্তন করে গেরুয়া ধুতি পরিয়ে দেয়। এত করে ক্লান্ত হয়ে ভীম পুষ্করিণীতে জল খেতে যায়। এদিকে রাক্ষস বড়লাট স্কট গাদা পুলিশ পাঠিয়ে জঙ্গল ঘিরে নিয়েছে। একটা শয়তান পুলিশের এত সাহস ভীমের দিকে বন্দুক তাক করেছে। তখনই ভীমের হাঁ আর জলের ধারার মাঝখান দিয়ে একটা তীর দর্শকের নাকে বিঁধে যায়। না মানে থ্রি ডি তো, দর্শকের নাক ছুঁয়ে শয়তানের গর্দানে বেঁধে। পর্দা জুড়ে ফুটে ওঠে পরিত্যক্ত মন্দিরে এক বিশাল রামের মূর্তি। আধুনিক দর্শক আশা করি এই অনুষঙ্গ ভালোই বুঝতে পারবেন। রাম গেরুয়া ধুতি পরে রামের মূর্তি থেকে তীর ধনুক খুলে নেয়। জড়িবুটির ম‍্যাজিকে তার সমস্ত ক্ষত এতক্ষণে উধাও। সারাংশে রাম আর ভীম, সঙ্গে রয়েল বেঙ্গল বাঘ, কম্পজ্বর  ভাল্লুক, চিড়বিড়ে চিতাবাঘ, চোখানাক নেকড়ে, দৌড়বাজ হরিণ, উপজাতির শিকারী ভায়েরা - সিনেমার গল্প জুড়ে সবার  মিলিত প্রচেষ্টা বড়লাটের বাড়ি উড়িয়ে দিয়ে সব খারাপ ইংরেজ খতম করে। প্রথম দৃশ্যের নির্মম ফার্স্ট লেডির ময়ূর আঁকা নিথর হাতটি শূন‍্যে দোলে।
    কিন্তু এতো শুধু খোলসের বিবরণ। ভাবুক দর্শকের সামনে খুলে যায় বোধের দরজা। আর্য আর ফর্সা ইংরেজের সঙ্গে যুদ্ধ করে ভীম। পাঁচ নিষাদ পুত্রকে তাদের মায়ের সঙ্গে জতুগৃহে পুড়িয়ে মারার গ্লানি ধুয়ে আজ সে নিজেই নিষাদের কন্ঠস্বর, তাদের চেতনার প্রতিভূ। আর আবহ জুড়ে গান বাজে রাঘবম রাজসম। তীরধনু আর অক্ষয় তূনীর হাতে ভীমকে সুরক্ষা দেন রাম। পুলিশ অফিসার রামের অহল‍্যা মনোভূমি আজ ভারতের ঐতিহ্যধারী রামের স্পর্শে প্রাণ পায়। আজ সে সত‍্যিকারের শ্রীরামচন্দ্র হয়ে ওঠে। কাব‍্যিক তীর চালানোর দৃশ‍্য পরিচালকের আগের ছবি বাহুবলীতেও ছিল, কম ছিল। এ ছবিতে রাজামৌলি সেই ঘাটতি পূরণ করে দর্শকের আশ মিটিয়েছেন। একদিন যে রাম নিষাদ পুত্র শম্বুককে হত‍্যা করেছিলেন তার মতো লোকেদের লেখাপড়া শিখে ভদ্র হবার ইচ্ছে দমন করার জন্য, আজ সেই পাপ ধুয়ে রামচন্দ্র নেবেছেন নিষাদের লড়াই সফল করার জন্য। 

    এছবি দেখে আমার ব‍্যক্তিগত কিছু লাভ হয়েছে। ছোটবেলায় আমি রামকে খুব ভালোবাসতাম। বেশিরভাগ বাক‍্যরচনা রামনাম দিয়েই করতাম। বড় হয়ে সীতার বেদনা, সূর্পনখার অমর্যাদা, মন্দোদরীর দুঃখ আমাকে বেশি বিচলিত করছিল। সর্বোপরি জয় শ্রীরামের চাপে ভেবেছিলাম আমার উদার ভারতীয় সত্তা, বাঙালি অস্তিত্ব সব কিছু বুঝি শ্রীরাম কেড়ে নেবেন। রামকে ভয় পেতে শুরু করেছিলাম। রামের বিশাল মূর্তির প্রতি বিরূপ হয়েছিলাম। রাজামৌলি চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় মানসে হাজার হাজার বছর ধরে স্থায়ী আসনে বসে থাকা রামচন্দ্র আর জয় শ্রীরাম এক নয়। তিনি ভয়জাগানিয়া যন্ত্র মাত্র নন, তিনি ভয়হারী, সত‍্যের রক্ষক, একান্ত আপন।  

    এরপর মোটের ওপর যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। জেনি বলে ভালো মেয়েটা বেঁচে গেছে। ইংরেজ হেরে গেছে, রাম সীতার দেখা হয়েছে, তাদের ভাঙা লকেট জুড়ে গেছে। সীতাকে রাম অগ্নিপরীক্ষা দিতে বলেনি (মনে হয় ভীমের ভয়ে), ভীম সীতার মাথায় হাত রেখেছে, মুখে কিছু বলেনি, কিন্তু তাদের চোখের দৃষ্টি আর শরীরী ভাষায় দর্শক পষ্টো বুঝেছে এ হাত হল সীতাকে ভাই হিসেবে রক্ষা করার জন‍্য ভীমের অঙ্গীকার। ভক্ত হনুমান যা পারেনি, দেবর লক্ষ্মণ যা পারেনি, নারীর প্রতি বিশ্বস্ত, বীরপুরুষ ভীম তা পারবে। রাম আর তার ওপরে কোন অবিচার করতে পারবেনা। ভাবি, যে মেয়েটা বনবাসে যায়, অপহরণ হয়, পোয়াতি অবস্থায় স্বামী ত‍্যাগ করে, এমনকি সন্তানদের সামনে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে বলে অপমান করে, সে মেয়েটার এমন ভাই থাকলে আত্মহত্যা করতে হতোনা গো। এজন্মে রাজামৌলি এই ঘাটতিটা পুষিয়ে দেন। 

    এ ছবিতে নারী বড় অল্প। তাদের ভূমিকাও কম। একজোড়া প্রেম আছে নিরুচ্চার। তবু যেন নারীর অধিকার রক্ষার এক তান ছড়িয়ে পড়ে দর্শকের মনে। আসলে এ গল্প নারী পুরুষ জাতি নির্বিশেষে অত‍্যাচারীর বিরুদ্ধে একতার গল্প, বন্ধুত্ব আর বিশ্বভ্রাতৃত্বের গল্প।

    পরিচালকের আগের ছায়াছবি বাহুবলীতে তিনি বল্লালদেবের ষড়যন্ত্র অপশাসন ও অত‍্যাচার দেখিয়েছেন, এই ছবিতে শাসক ভিলেন ইংরেজ। বাহুবলীতে অত‍্যাচারী শাসক অমরেন্দ্রের স্ত্রী রানী ও রাজকন্যা দেবসেনাকে বন্দী করে রাখে, এখানে শাসক বন্দী করে গোন্ড উপজাতির এক সরল বালিকা মল্লিকে, যে স্বাধীন ভাবে জঙ্গল কে সমৃদ্ধ করে তার গান দিয়ে, কচি হাতে আঁকা ময়ূরের ছবি দিয়ে। দুটিতেই রাক্ষস পুরীতে বন্দিনী সীতার অনুষঙ্গ আসে। তবে রাজামৌলি চমকে দেন তাঁর কল্পনায়। কারণ বাহুবলীতে অদেখা বন্দিনী মাকে খুঁজে বেড়ায় তার সন্তান। আর এই ছবিতে এক অপাপবিদ্ধ দুখিনী বালিকাকে খুঁজে বেড়ায় তার ভাই। দুক্ষেত্রেই সতীত্ব রক্ষার প্রশ্ন অতলে তলিয়ে যায়।

    বাহুবলীতে ধর্মসঙ্কট বা উচিত অনুচিতের প্রশ্ন ওঠে। কাটাপ্পা অমরেন্দ্রকে হত‍্যা করে ঠিক না ভুল করল? যদি ঠিক হয়, তবে কেন, যদি ভুল হয়, তার কারণ কী? ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের যখন এই প্রশ্ন করি, তারা বলে কাটাপ্পা বংশানুক্রমে রাজ অনুগত,  তাই রানী শিবগামীর কথা শুনে সে একাজ করেছে। তার দিক থেকে কাজটা ঠিক। কিন্তু যখন বলি, রাজ আনুগত্যের অর্থ কী? তা কি দেশ আনুগত‍্য নয়? তখন তারা বলে, 'তা বটে'। কাটাপ্পারা আবেগে চলে, তারা মাথা খাটিয়ে তলিয়ে ভাবতে জানেনা। তাই কাটাপ্পা তার আনুগত‍্যের ভুল ব‍্যাখ‍্যা করে এবং দেশ ও জাতিকে দীর্ঘ অপশাসনের দিকে ঠেলে দেয়; অমরেন্দ্র - দেবসেনার বিশ্বাসভঙ্গ করে। এই নতুন ছবিতে রাজামৌলি এথিকস বা উচিত অনুচিতের প্রশ্ন এনেছেন কিঞ্চিত অন‍্য কিন্তু তীব্রভাবে যা সংবেদনশীল হৃদয়ে বেঁধে। 

    যাই হোক ছবি দেখে আমার সঙ্গী বাচ্ছারা তাদের মতো গল্প বুঝে খুব নেচেছে। আসলে এ ছবি প্রতি দর্শকের বৌদ্ধিক জগতের মাপ মতো বার্তা দিতে সক্ষম। প্রচন্ড নাচগান করে সিনেমার সকল কুশীলব সিনেমা শেষ করেছে। তিনঘন্টায় এতগুলি শক পেয়ে আমি অবশ হয়ে সীটে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, আমি আর বেঁচে নেই। কিন্তু পরে দেখলাম আমি বেঁচে আছি। হলে যতক্ষণ ছিলাম, কিছু চিন্তা করতে পারিনি, সে সুযোগও রাজামৌলি দেননি। কিন্তু হল থেকে বেরিয়ে এসে বুঝতে পারছি, অহো কী দেখিলাম। ধন‍্য রাজামৌলির এই অনার্য বিজয়গাথা। যদিও তিনি উত্তর ভারতে সহজে গ্রাহ‍্য হবার জন্য বলিউডের দুই নামকরা অভিনেতার সাহায্য নিয়েছেন, কিন্তু রাজামৌলি এইভাবে এগিয়ে চললে শুধু দক্ষিণী অভিনেতা দিয়েই সিনেমা হিট হবে। বলিউডের সাহায্য লাগবেনা। ইংরেজ অভিনেতারা চিত্রনাট‍্যের সহায়তা না পেয়েও ফাটিয়ে দিয়েছেন। সেই কবে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা অন‍্যায় করে গেছেন, আর আজ পর্দায় কিল খেয়ে গুলি খেয়ে, নেচে কুঁদে তাঁদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে। ধন‍্য বিধির বিধান, তার পোয়েটিক জাস্টিস। 

     
  • | বিভাগ : পর্যালোচনা (রিভিউ) | ০১ এপ্রিল ২০২২ | ৩৫৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • একক | ০১ এপ্রিল ২০২২ ১৬:২০505893
  • ক্যাপশন খুবই উচ্চাকাঙ্খী।  অথচ লেখায় একটি সিনেমা ছাড়া অন্য কোন ভারতীয় সিনেমায় মহাকাব্য বা তার তুলনামূলক আলচনা, কিছুই পেলুম না ঃ/
  • Amit | 118.211.31.6 | ০২ এপ্রিল ২০২২ ০৪:০৩505911
  • হেইডা কি হলো ম্যাডাম ?পুরো গল্প টাই তো লিখে দিলেন.
  • সমর | 2405:8100:8000:5ca1::291:ac60 | ০২ এপ্রিল ২০২২ ০৮:৩৯505913
  • ফালতু সিনেমা.
    পুরো বকবাস.
    পয়্সা আর সময় নষ্ট.
  • dc | 2401:4900:2311:9f0:7d54:3d5c:fd06:2ce9 | ০২ এপ্রিল ২০২২ ০৯:৩৫505914
  • সময় অনেক মূল্যবান, সেই সময় কি এভাবে নষ্ট করা উচিত? 
  • সেঁজুতি | 2402:3a80:1980:eedb:21de:6540:d031:4b64 | ২০ এপ্রিল ২০২২ ১০:৩৮506726
  • বাহ, সুন্দর বিশ্লেষণ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন