• হরিদাস পাল  অপার বাংলা

  • বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ব্যর্থতা (আনাড়ি সমর্থকের বিশ্লেষণ) 

    Muhammad Sadequzzaman Sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    অপার বাংলা | ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩৩৬ বার পঠিত
  • আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা কি এর চেয়ে খারাপ সময় পার করেছি? যদি মনে না পড়ে, যদি ওই সময়ে আপনি জন্ম না নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে এর চেয়েও খারাপ সময় আমরা পার করেছি এবং দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এসেছি। বর্তমান যে দলকে দেখে স্বপ্নের ইমারত তৈরি করেন বা করি আমরা তা ওই সময়ের পরেই তৈরি হয়েছিল। আমি ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের কথা বলার চেষ্টা করছি। সেই বিশ্বকাপে আমরা সব ম্যাচ হেরেছিলাম। একটা ম্যাচ, উইন্ডিজের সাথের ম্যাচটা বৃষ্টির জন্য ফলাফল আসে নাই, জিততাম এমন আশা করার কোন কারণ নাই। আমরা ওই টুর্নামেন্টে কেনিয়া, কানাডার সাথেও হেরেছিলাম! সবগুলা ম্যাচ হেরেছিলাম খুব করুণ ভাবে। মনে হচ্ছে কি এই বারের চেয়েও অবস্থা আমাদের বেশি করুণ ছিল? এরপরেই আমাদের জাগরণ আসে, দারুণ কিছু খেলোয়াড় আসে। বর্তমান দলটার ভিত তৈরি হয় এরপরেই।

    দল চরম ভাবে ব্যর্থ। এ নিয়ে কোন ব্যাখ্যা আমি দিতে চাচ্ছি না, শুধু এমন দিন আগেও আসছে, আমরা দেখছি তাই বললাম। আমরা যেহেতু ক্রিকেট ভক্ত জাতি, যেহেতু বাংলাদেশে থেকে আমরা গলার রগ ফুলিয়ে অন্য দেশকে সমর্থন দিব না, যেহেতু আমরা ঘুরেফিরে বাংলাদেশকেই সমর্থন করব তাই আগের দুঃসময়ের কথা স্মরণ করিয়ে মলম দেওয়ার চেষ্টা করলাম। এই মলম কোনমতেই বর্তমান দলের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা না। এই ব্যর্থতার দায় খেলোয়াড়দের নিতে হবে, কোন যদি কিন্তু দিয়ে এই দায় থেকে বাঁচা যাবে না। আমি লিখতে বসছি কারণ অনুসন্ধানের আশায়। ব্যর্থ কিন্তু কেন ব্যর্থ তা একটু আমার মত করে ব্যাখ্যা করা যায় কী না দেখি।

    সবাই একযোগে বিশ্বকাপ শুরুর আগে মিরপুরের উইকেটে অস্ট্রেলিয়া নিউ জিল্যান্ডকে হারানোর উপরে দেয় দিয়ে দিচ্ছে। মানে অমন খারাপ পিচে খেলে জিতে খুব বাজে অনুশীলন হয়েছে। যদি এইটা সত্য বলে ধরে নেই তাহলে কী করা উচিত ছিল? ব্যাটিং উইকেট বানানো? এতে কী হত? আমার ধারনা আমরা মোটেও সুবিধা করতে পারতাম না। আমরা বেধুম পিটুনি খেতাম, সিরিজ তারা জিতে চলে যেত। কেন এমন হত? এর উত্তরেই আছে কেন আমরা ব্যর্থ হলাম তা। সমস্যা মিরপুরের উইকেটে এই দুই সিরিজের না। এই সমস্যা আরও গভীরে। এক সিরিজ দুই সিরিজে হুট করে মিরপুরের উইকেট দারুণ স্পোর্টিং হয়ে যাবে এমন যারা ভাবেন তারা আরেকবার ভাবেন। আপনি কোথাও কোনদিন স্পোর্টিং উইকেটে খেলেন নাই, আপনার দেশ তেমন কোন উইকেট বানায় না, এরপরে আশা করবেন একটা সিরিজে ধুম করে, সুইচ টেপার মত করে কেউ সুইচ টিপে দিবে আর উইকেট স্পোর্টিং হয়ে যাবে, আমাদের ব্যাটাররা সমানে স্টকের ফুলঝুরি তুলবে? অলৌকিক ভাবনা হয়ে গেল না? তাহলে? তাহলে গোরায় যেতে হবে। স্পোর্টিং উইকেটে খেলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। না হলে এক সিরিজে এনে দাঁড় করায় দিলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। সেই হিসেবে ওই মুহূর্তে দল যা করেছে তা আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে। জিতার থেকে বড় ওষুধ নাই।

    মিরপুরের উইকেট বরাবর এমন ছিল? না। স্মরণ করুন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সবচেয়ে সাফল্যমণ্ডিত সময় কবে কোথায় পার করেছে? আমরা যখন টানা যে কোন দলকে হারাতাম। ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড সিরিজ হেরে গেছে মিরপুরে। সেই উইকেট কি বর্তমান উইকেটের মত ছিল? না। দারুণ একটা উইকেট ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত চারজন ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলছে। এবং কত দারুণ ছিল সে সময় আমাদের ক্রিকেটের অবস্থা। এই সূত্র ধরেই আমরা অস্ট্রেলিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলাম। প্রশ্ন করুন, কেন আমরা সেই উইকেট থেকে, সেই পরিবেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার স্লো, স্পিন নির্ভর দলে পরিনত হলাম। আমাদের সর্বনাশ তখন হয়েছে, গত দুই সিরিজে হয় নাই।

    আমাদের খেলোয়াড় নাই। টি টুয়েন্টি খেলা আমরা আজ পর্যন্ত বুঝি নাই। এই ফরমেটে তাই আমি কোন আশাই করি নাই। এমন ধরাশায়ী হবে তা আশা করি নাই কিন্তু খুব ভাল করবে তাও আশা করি নাই। আমরা এত বছরেরও পারি নাই এই ফরমেটের ভাল দল তৈরি করতে। যেমন এত বছরেও টেস্ট খেলাটা আমরা বুঝি না। এখানে বোর্ডের দায় পুরোটাই। বোর্ড প্রধান যখন দল ভাল করে তখন সকল কৃতিত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে নেন। আজকে দল খারাপ করেছে তিনি কি ব্যর্থতার দায় ঘাড়ে নিবেন না? না কী তিনি শুধুই সফল দলের প্রধান? জিতলে আমিই তো বলে দিছি এই কর সেই কর, আমিই তো ওকে এই ভাবে খেলতে বলছি, আমিই তো টস জিতলে এই করতে বলছি এই ধরনের কথা বলে সব আমিই করছি প্রমাণ করেন নাই আগে? তাহলে ব্যর্থতার দায় কেন নিবেন না? তখন সব দোষ খেলোয়াড়দের? তখন সব সবাই খারাপ? তিনি অবশ্য এর উত্তর দিয়েও অভ্যস্ত, তিনি বলবেন আমার কথা শুনে খেলে নাই তাই এই অবস্থা! হাস্যকর হলেও এমন কথা আমাদের বোর্ড প্রধান নিয়মিত দিয়ে থাকেন।

    মূল কথা হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড় নাই। যারা নির্বাচকদের পিণ্ডি উদ্ধারে নামছেন তারা আমাকে বলবেন যে দল খেলতে গেছে তাদের বাহিরে কোন কোন শচিন, কোহলি, ম্যাক্সওয়েলকে রেখে গেছে? সবার আগে মাথায় এই জিনিসটা ভাল করে ঢুকিয়ে নিন, আমাদের এই দলটাই ভাল, এর বাহিরে কেউ নাই। হুট করে না বুঝেই কোন খেলোয়াড়ের নাম নিয়েন না। যার নাম নিবেন তার বর্তমান অবস্থা একটু খোঁজ নিয়ে পরে তার নাম বলুন। এক তামিম বাদে আর কেউ নাই এই দলে খেলার মত। হয় ফরমে নাই না হয় খেলা থেকে হারিয়ে গেছে বহু দিন হল।

    এই যে খেলোয়াড় নাই এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। একে স্বীকার করে নিন। যখন এই জিনিস স্বীকার করবেন তখন সমাধান পাওয়া যাবে। তখন বুঝবেন বোর্ডের কাজ কী? খেলোয়াড় খুঁজার জন্য কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যাবে এই সব বোর্ড ভেবে বের করবে, বোর্ডকে বের করতেই হবে।

    আমাদের পাইপ লাইন নাই। এই সত্য বোর্ড ছাড়া আর সবাই মনে হয় জানে। কেন নাই? কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। যারা পাইপলাইনে আসে তারা কই যায়? বোর্ড কোচ শুধু যাদেরকে চোখের সামনে দেখে তাদের জন্যই নিয়োগ দেয়? সৌম্য বা লিটনের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার হচ্ছে, কিন্তু তারা তো পরীক্ষিত ছিল? কিংবা কেন সাব্বির হারিয়ে গেল? কেন নাসির দলের একশ হাতের মধ্যেও থাকে না? এদের হারিয়ে যেতে দিল কারা? একজন করে আসবে খারাপ খেলবে ছুঁড়ে ফেলে দিবেন। আর পরে খেলোয়াড় খুঁজে পাবেন না। অথচ আজকে ইমরুল, সাব্বির, নাসিররা দলের হাল ধরার কথা, সিনিয়ররা চলে যাওয়ার পরে এরাই দলের প্রধান হাতিয়ার হওয়ার কথা অথচ এরা ব্যস্ত কেউ আদালতে কেউ ব্যস্ত ক্রিকেট বাদে অন্য নানা ভাবে পত্রিকার শিরোনামে থাকতে। এদেরকে সামলে রাখবে কে? এরা পথভ্রষ্ট হলে বোর্ড দায় নিবে না? আমাদের অন্য দলের মত বিশাল বড় খেলোয়াড়ের পাইপলাইন নাই, কাজেই যারা আছে তাদেরকে পরিচর্যা করা ছাড়া আর ভিন্ন কোন উপায় নাই।

    পাইপলাইন যে নাই এই দায় কার? আমরা দেখলাম ভারত আইপিএল বানাল আর সমানে খেলোয়াড় পাওয়া শুরু করে দিল। আমরা বিপিএল বানালাম। ফল আসল না। কেন আসল? কারণ আমরা শুধু উপরেরটুকু দেখছি। আইপিএল পর্বতচূড়া, একজন খেলোয়াড় সেই পর্যন্ত কীভাবে পৌঁছায় তা আমাদের দেখা হয়নি। তাই আমরা ঘরোয়া লীগের মান উন্নয়ন নিয়ে কিছুই ভাবি নাই। ভাবছি বিপিএল বানালেই সমানে খেলোয়াড় বের হওয়া শুরু করবে। আসল জায়গায় হাত না দিলে এমন দিন আসতেই থাকতে থাকবে। একদিন ফুটবলের মত অবাক হয়ে ভাবব আরে হল কী? নেপাল আমাদের হারায়?

    আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল আমাদের দর্শক। নানা কারণে আমাদের সেই শক্তি এখন বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বাহিরেও আমাদের সমর্থকরা এখন সবচেয়ে অশিক্ষিত খারাপ সমর্থক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা আমাদের নিজেদের খেলোয়াড়দেরও ছাড় দেই না। ট্রল করতে করতে, মজা নিতে নিতে ক্রিকেটাররা যে মানুষ তা ভুলে যাই। ক্রিকেটারদের তো আছেই তাদের পরিবারকেও ছাড় দেই না। আমরা আশা করি আমরা যা ইচ্ছা বলব করব তারা খুব পেশাদার ভঙ্গিতে সব মেনে নিয়ে খেলে যাবে। না, আমরা এখন ওই পর্যায়ে যেতে পারি নাই। আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাস খুব বেশিদিনের না। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের আগের প্রজন্মই তো এদেরকে শিখিয়েছে? তারা এত আবেগ নিয়ে ক্রিকেট খেলেছে যে এই আবেগ বর্তমান দলেও বর্তমান। পাইলট আইসিসি টুর্নামেন্ট খেলতে নামার সময়, যে ম্যাচ হারলে আমাদের বিশ্বকাপ খেলা হত না, আমরা ওয়ানডে দলের স্বীকৃতি পেতাম না সেই খেলায় নাম্বার সময় আল্লার কাছে দোয়া করে নেমেছিল যে আজকের ম্যাচটা জিতিয়ে দাও আল্লা, বিনিময়ে আমার যে কোন একজন প্রিয়জনকে তুলে নিও! আমাদের খেলোয়াড়রা এই মাপের আবেগ নিয়ে খেলত। আর আবেগ এবং পেশাদারিত্ব দুই মেরুর জিনিস। তাই আবেগ এসে হাজির হয় আর পেশাদারিত্ব বাঁধা পরে। সমর্থকরা যদি এমন করে যে খারাপ করবে তাকেই গালিগালাজ করে সরিয়ে দিতে বলে তাহলে দল কাকে দিয়ে সাজাবে জানার খুব ইচ্ছা। সমর্থকদের ঠিক এই মুহূর্তের মূর্খতার কথা না বলে পারছি না। খেলোয়াড়রা আজকে বাংলাদেশে ফিরেছে। তাদের ফেরার ছবিতে দেখা যাচ্ছে লাগেজ নিয়ে সবাই হেঁটে যাচ্ছে। মূর্খ সমর্থক মজা নিচ্ছে এই বলে যে এত ব্যাগ কেন? শপিং করে ফিরেছে সবাই? ক্রিকেটাররা কতগুলা ব্যাগ নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে যায় তা এরা জানে না জানার ইচ্ছাও নাই। মজা নিলাম, এর চেয়ে বেশি আমার জানার দরকার কী?

    সামনের বছর আবার টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমরা সমাধান জানি। যদি সমাধানের পথে না হাঁটি, যদি মহামান্য সভাপতি দুই একজনকে বলির পাঁঠা বানিয়ে বর্তমান সমস্যার সমাধান করতে চায় তাহলে সামনের বিশ্বকাপ যেটা আমরা অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাব ওইটাতেও একই রকম ফল নিয়ে ফিরব। খেলোয়াড়দের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া সমাধান না। কেন খারাপ করল, কোথায় খারাপ করল এই সব বের করতে হবে। সমাধান এনে দিতে হবে, পরামর্শ অনুযায়ী অনুশীলন করাতে হবে। তরুণ খেলোয়াড় আছে, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতা দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে যারা অসাধারণ খেলেছে। তাদেরকে বড় মঞ্চের জন্য তৈরি করতে হবে। এ দল নাম দিয়ে হোক, এইচপি নাম দিয়ে হোক সমানে অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড দলের সাথে তাদের দেশে খেলার আয়োজন করতে হবে। গালি দিয়ে হাল ছেড়ে দিতে পারে অপরিপক্ব সমর্থকরা, বোর্ড তা পারে না। যত খারাপই করুক দল, যদি প্রথম পর্ব থেকে বাদ পরেও যেত দল তবুও বোর্ডের উপায় নাই খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ান ছাড়া। দলের পাশে থাকুন, এই দল একদিন আমাদেরকে জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছে, এরাই আবার আমাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে আনন্দের স্বর্গ রাজ্যে।

    আশা করছি শুভ বুদ্ধির উদায় হবে।

     

  • বিভাগ : অপার বাংলা | ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩৩৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৬ নভেম্বর ২০২১ ১৭:৫৮500802
  • ভাল লিখেছেন। 
    ভারতও একসময় স্পিন নির্ভর দল ছিল। খালি টার্নার উইকেট বানিয়ে নিজের দেশে জিতত, বিদেশের মাটিতে ডাহা ফেল মারত। বহুবছর ভারতে ১৪০+ স্পীডে বল করার বোলার হয়নি। বিরাটও অল্পবয়েসীদের বিশ্বকাপ দল থেকে এসেছে। এদেশেও মূর্খেরা শামিকে গাল দিয়েছে, গুষ্টির তুষ্টি করেছে। মূর্খরা সব দেশেই একরকম।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৩ নভেম্বর ২০২১ ১৯:৫৪501117
  • অসাধারন বিশ্লেষণ । একা মিরপুরে ক্রিকেট শেষ হয় না! 
    রনজন বাবু মনে করিয়ে দিলেন ভারতীয় পেসারের আকালের দিন। ১৯৫৯-৬০ সালে রমাকান্ত দেশাই , দশ বছর বাদে সুব্রত গুহ অনেকটা দৌড়ে বল করতেন। সে বলের গতি কতটা দ্রুত ছিল জানি না। সে কালে তিন ওভারের পর স্পিন বোলিং শুরু হত। ১৯৭৯ সালে শ্রী কপিল সিং নিখনজ সত্যিকার পেস বোলার রূপে আবির্ভূত হলেন। এখন তাদের রুধিবে কে?
     
     
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ১৫ নভেম্বর ২০২১ ০০:০৮501193
  • হীরেন সিংহরায়, ভারতের সত্যিকার অর্থে ফাস্ট বোলিং দলে রূপান্তর হওয়া শুরু হয়েছে জহির খানের পর থেকে। এইটা আমার নিজের চিন্তা থেকে বললাম। এর আগে ফাস্ট বল বলতে যা বুঝায় তার আশেপাশেও ছিল না ভারত। আমি অবশ্যই আমার যতটুকু দেখা তা থেকেই বলছি। ভারত কপিল দেবের হাত ধরে যে কাপ জিতেছে তখন আমার জন্মও হয়নি। 
    আমাদের সুযোগ এসে ছিল। আমরা চারটা পেসার নিয়ে দারুণ একটা দলে পরিনত হয়েছে ছিলাম। একের পর এক দেশে সিরিজ জেতা হয়ে গেছিল। বাহিরে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে দারুণ করেছি। কিন্তু হুট করেই আবার ফিরে গেলাম স্পিন নির্ভর দলের দিকে। কেউ কেউ বলে অতিমাত্রায় সাকিব নির্ভর হওয়া এর প্রধান কারণ। আমি ভিতরের খবর জানি না। একটু জানি সাবধান না হলে সামনে আরও দুর্দিন দেখতে হবে আমাদের।  
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ নভেম্বর ২০২১ ১১:০১501228
  • কপিল দেবের সুযোগ্য উত্তর সুরী ছিলেন শ্রীনাথ যিনি জহির খানের আগেই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন (২৩৬ টেস্ট উইকেট )। ভারতের "পেস এজ" কপিলের কর্ম । মনে আছে ১৯৭৯ সালে লর্ডসে ভারতীয় দলের খেলা দেখা- একমাত্র পাতে দেবার মতন বোলিং কপিল দেবের ( বিশ্ব কাপ জিততে চার বছর দেরী তখন)। 
    অমর সিং ও মহম্মদ নিসারের পরে কোন পেস বোলার দেখতে এত বছর কেন লাগলো ? কিছু ক্রিকেট জ্ঞানী ভারতীয় পিচে ঘাসের অভাবকে অবধি দোষী সাব্যস্ত করতেন। ভুলে যেতেন একই পরিবেশে পাকিস্তানে পেস বোলারের কমতি ছিলো না ! 
     
    হয়তো আরেকটা কারন বেদী প্রসন্ন চন্দ্রশেখরের মতো তিনজন দুনিয়ার চিরকালের শ্রেষ্ঠ স্পিনার খেললেন একসঙ্গে । আর কাকে চাই? এই নিয়ে ভারত সিরিজ জিতলো ওয়েসট ইন্ডিজ (১৯৭০-৭১) ইংল্যান্ড (১৯৭০)। অতএব পেসের কি প্রয়োজন ?!!
     
    রশিদ খানের সাক্ষাত্কার শুনছিলাম। তিনি বললেন 
    আফগানিস্তান স্পিনারের জন্ম দেয় কেবল মাত্র পিচের কারনে । পেস বোলার কোন সহায়তা পায় না সেখানে। 
     
    এত ধানাই পানাই করছি যা বলতে তাহলো বাংলাদেশের মাটিতে দুই ধরনের বোলারের সমান সমভাবনা আছে। বাংলাদেশ অনেক হোনহার দলকে হারিয়েছে  কেবল মিরপুরে নয়। মনে রাখুন ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো । আছে তারা আছে - খুঁজে আনতে হবে পাবনা বগুড়া বরিশালের গ্রাম থেকে। এককালে ভারতে যারা টেস্ট খেলেছেন তাঁরা সকলেই প্রায় দিল্লি বমবে কলকাতা মাদরাজের সমপন্ন পরিবারের ছেলে। আজ সেটা বদলে গেছে। দরিদ্র ঘরের অখ্যাত গ্রামের ছেলেরা সামনে এসেছে ( উদাহরণ অজস্র )। ভবিষ্যত হয়তো সেখানেই। 
  • Ranjan Roy | ১৬ নভেম্বর ২০২১ ০০:২০501249
  • এইরে, হীরেনবাবু ঠিক মোক্ষম ঘা দিয়েছেন। আমাদের ছোটবেলায় ক্রিকেট ছিল রাজামহারাজাদের খেলা। তাই ফিল্ডিং ছিল জঘন্য। পাতৌদির কথা আলাদা, তাঁরা দুই পুরুষে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ঘরানার।
    একনাথ সোলকার সম্ভবতঃ  প্রথম প্লেয়ার যিনি অতি সাধারণ পরিবারের থেকে এসেছেন। তাঁর শর্ট লেগে ফিল্ডিং ছিল দারুণ।
    জাভাগল শ্রীনাথ বোধহয় চেন্নাইয়ের এম আর এফ পেস ফাউন্ডেশনের ডেনিস লিলির কোচিং এর প্রথম ফসল। ১৩৩ কিমি স্পীডে বল করতেন। জাহির খানের হাতে দারুণ ইয়র্কার। আগের কেউ তাতে অত নিখুঁত নন।
    এর পরে একের পর এক । এখন ১৪০-৪৫ স্পীডে অনেকেই বল করেন। বেশ বড়সংখ্যক পেসাররা সাধারণ ঘর থেকে বা ছোট শহর বা গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। এখন টিভির দৌলতে ভারতের গাঁয়ে গঞ্জে বাচ্চারা ফুটবল ছেড়ে ক্রিকেট খেলে। আমি ব্যাংকের কাজে রিকভারি ট্যুরে গিয়ে দেখেছি (২০০৫ সালে) ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর শহর থেকে ১১৬ কিমিদূরে পাহাড়ের পাদদেশে নালার পাশে তিন কাঠি পুঁতে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। বোলিং হচ্ছে অবশ্য আম পাড়ার মত ঢিল ছুঁড়ে! কিন্তু এভাবেই ভরে উঠছে ভারতের রিজার্ভ বেঞ্চ। মহম্মদ সিরাজের বোলিং তার একটা উদাহরণ।
  • b | 117.194.75.49 | ১৭ নভেম্বর ২০২১ ২০:৪০501270
  • হীরেনবাবুর কথার সূত্র ধরে , আশির দশকে পাকিস্তান দুর্ধর্ষ টিম  ।  চার ব্যাটার তিন পেসার এক স্পিনার  এক   উইকেটকিপার দুই  আম্পায়ার ঃ কাকে রেখে কাকে ফেলি ? 
  • guru | 146.196.45.12 | ১৯ নভেম্বর ২০২১ ১২:২০501306
  • সাদিক ভাই       
     
    বাংলাদেশের সামনে সুবর্ণ সুযোগ নিজেদের ঘরের স্পিন সহায়ক উইকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে ৭১ এর বদলা নেওয়া | সাদিক ভাই এইটা আপনাদের সুবর্ণ সুযোগ আপনাদের সামনে একমাস আগের সমস্ত সংঘর্ষের ঘটনা ভুলে গিয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া | বিশাল ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারানোর সুবর্ণ সুযোগ আপনাদের সামনে | বাংলাদেশে এই সিরিজ নিয়ে মানুষ কেমন ভাবে দেখছে ? ভারত যেমন ভাবে পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে মানুষ ভাবে বাংলাদেশও কি সমান ভাবে দেখে ?
     
    @বি 
     
    ৮০ -র দশকে সব দেশই এক্সট্রা দুই আম্পায়ার কে নিয়ে মাঠে নামতো | নিরপেক্ষ আম্পায়ার এর ব্যাপারটি ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​প্রথম ​​​​​​​পাকিস্তান ​​​​​​​১৯৮৯ ​​​​​​​সালে ​​​​​​​প্রথম ভারত ​​​​​​​পাকিস্তান ​​​​​​​সিরিজ ​​​​​​​চালু ​​​​​​​করে ​​​​​​​যেই ​​​​​​​সিরিজ ​​​​​​​সচিন ​​​​​​​তেন্ডুলকর ​​​​​​​এর অভিষেক ​​​​​​​হয় |
  • b | 117.194.214.57 | ১৯ নভেম্বর ২০২১ ১৪:৪৭501309
  • হ্যাঁ, চালু না করে উপায় ছিলো না। 
  • guru | 146.196.45.12 | ১৯ নভেম্বর ২০২১ ২১:৪৫501320
  • @সাদিক ভাই আজকে কিন্তু বাংলাদেশ সীমিত সামর্থ নিয়েও খুবই ভালো লড়েছে | কালকের ম্যাচে কি দেখছেন ? 
     
    @বি চালু না করে উপায় ছিলোনা মানে ? ১৯৮৯ সালে তো টেস্ট ম্যাচে নিরপেক্ষ umpire কোনো দেশই চালু করেনি পাকিস্তান ছাড়া | ICC তো এই নিয়ম চালু করতে আরো ৫-৬ বছর নিয়ে নিয়েছিলো | 
     
    ৮০ দশকে যখন সব টীম তাদের দেশের umpire দের হেল্প নিতে পারতো তাহলে শুধু পাকিস্তানই বা কেন নিরপেক্ষ umpire নিয়ে এল ? 
     
     
  • guru | 146.196.44.59 | ২৮ নভেম্বর ২০২১ ১৯:৫৬501508
  • সাদিক ভাই বিশাল সুযোগ এই টেস্ট জিতবার বাংলাদেশের | ১৯৭১ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবার সময় এইবারে |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন