• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

  • পাইপার আলফা – মাঝসমুদ্রে আগুন, বদলে যাওয়া জীবন ও সুরক্ষা সংস্কৃতি

    সুকান্ত ঘোষ
    আলোচনা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ২৬ মে ২০২১ | ১৪০৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৬ জন)
  • পর্ব – ১ | পর্ব –২

    প্রথম পর্ব

    ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসের ছয় তারিখ। মার্ক রিডের বয়স তখন মাত্র তিন মাস, বিকেলে মায়ের কোলে চড়ে স্কটল্যান্ডের আবারডিন শহরতলির নিজেদের ঘরে ফিরেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে মার্কের বাবা আবারডিন শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার মত দূরে নর্থ-সি জলরাশির মাঝে ‘পাইপার আলফা’ নামক এক অফসোর ফ্লাটফর্মে নাইট শিফট ডিউটিতে জয়েন করছেন। মার্ক ওর বাবাকে দেখেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কারণ ওর বাবা অফশোরে রোটেশন ডিউটিতে কাজ করেন। আরো দুই সপ্তাহ পরে বাবা ফিরে আসবে বাড়ি – যদিও তখনো মার্কের কিছুই বোঝার ক্ষমতা হয়নি, কিন্তু ওর মা প্যারাম্বুলেটরে করে ওকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে বেড়াতে এই সব বলছিলেন। পার্কে ছিল আরো মার্কের বয়সী বা তার থেকে কিছু বড় ছেলেরা – তাদের মায়েরা মার্কের মায়ের বন্ধু, আর ওদের বাবারাও মার্কের বাবার সঙ্গেই একই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে গেছে।

    ৬ই জুলাই রাতে শুতে যাবার আগেও মার্ক জানত না যে সেদিন পার্কে ঘুরতে যাওয়া বাচ্চাদের মধ্যে তার বাবাকে আবার জীবিত দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য তারই হবে! সেই রাতেই মৃত্যুর দিক থেকে দেখতে গেলে অফশোর তেলের রিগ-এ ঘটে যাওয়া এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনায় ১৬৭ জন প্রাণ হারান – মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে। ছয় তারিখে অফশোর অ্যাকোমডেশনে রাতে ছিলেন মোট ২২৮ জন, এর মধ্যে বেঁচে গিয়েছিলেন মাত্র ৬১ জন – মার্কের বাবা তাঁদের মধ্যে একজন।

    মার্ক যতদিন ছোট ছিল ততদিন সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা, বা কীভাবে বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন তিনি – তার কিছুই মার্কের বাবা বা মা তার কাছে বলেননি। বলতে গেলে একপ্রকার সেই ট্র্যাজিক ঘটনা থেকে মার্ক-কে সযত্নে আড়াল করে রেখেছিল তার বাবা এবং মা যাতে শিশুবয়সী ছেলের মনে কোন বিরূপ বা ভয়ঙ্কর প্রভাব না পড়ে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মার্ক লিখেছেন যে, সেই ছোট বেলায় আলাদা করে তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি। কেবল এটুকু মনে রাখতে পেরেছেন যে বাবা যখন তাঁকে কোলে নিতেন তখন বাবার হাত দুটো ধরে কেমন যেন খসখসে মনে হত, মনে হত চামড়া কেমন যেন কুঁকড়ে গেছে। মার্ক তখন জানত কেবল বয়স বাড়লেই গায়ের চামড়া ঝুলে যায় – যেমনটা সে দেখেছে তার দিদিমার হাতে। ১৯৮৮ সালে মার্ক জন্মানোর সময়ে মার্কের বাবার বয়স ছিল ২৫ – এত কম বয়েসে চামড়া কেন কুঁকড়ে যাবে? যদিও মার্ক বাবার বয়স জানত না, সে তুলনা করত তার মায়ের হাতের সঙ্গে, সেগুলো কেমন মসৃণ।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্ক বুঝতে পারেন যে তাঁর বাবার হাতের ওই দাগ এবং ক্ষতগুলি পুড়ে যাবার। এর পর আস্তে আস্তে মার্কের বাবা ভাগ করে নিতে থাকেন পুরানো স্মৃতি, তখন মার্ক জানতে পারেন কীভাবে তাঁর বাবা প্রায় ১৭০ ফুট (সতেরো তলা বাড়ির সমান) উঁচু হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক থেকে সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন! ক্রমশ সে রাতের ঘটনা স্পষ্ট হতে থাকে মার্কের কাছে, বাবার জবানে –

    “রাত তখন দশটা – আমরা তখন কাজ করছিলাম অফশোর অ্যাকোমডেশনের দিকটায় অফিসে। এমন সময় এক বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ। চারিদিকে ধোঁয়া, আগুন – আমরা যারা অফিসে ছিলাম তারা প্রত্যেকেই প্রাণের ভয়ে কীভাবে সেখান থেকে বেরোবো তার চেষ্টা করতে লাগলাম – কিন্তু কিচ্ছু দেখা যাচ্ছিল না, বুঝতে পারছিলাম না রাস্তা। আমরা তখন একটু ঠান্ডা জায়গা চাইছিলাম যেখানে আগুনে পুড়ে বা গরমে সিদ্ধ হয়ে যাব না, আর খুঁজছিলাম নিঃশ্বাস নেবার মত তাজা বাতাস! যে যেদিকে পারল ছিটকে গেল – আমাদের কারো মাথা কাজ করছিল না। নীচে সিঁড়ি দিয়ে যে নেমে যাব তারও উপায় নেই – আগুন ধরে গেছে ওদিকে। আমার সঙ্গের এক সহকর্মীর হাতে একটা টর্চ ছিল – সে পরামর্শ দিল উপরে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেকে উঠে যেতে। হয়ত সেখানে আমরা তাজা বাতাস পাব এবং হয়ত বেঁচেও যাব। আমার বন্ধু টর্চ দেখিয়ে নিয়ে চলল – আমি তার পিছনে পিছনে। হেলিকপ্টার ডেকে পৌঁছে বুঝতে পারলাম এখানেও আমরা বেশীক্ষণ টিকতে পারব না – খানিক সময় পরেই এটাও ভেঙে পড়বে। আমাদের হাতে উপায় মাত্র দুটো – এখানে থেকে জলে ঝাঁপ দেওয়া, নয়ত মৃত্যু।

    আমরা হেলিকপ্টার ডেকের ধারে এগিয়ে গেলাম – ডেকের ধারে দুই ধাপে সেফটি নেট থাকে যাতে সাধারণ সময়ে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। আমাদের ওই জাল টপকে জলে ঝাঁপ মারতে হবে, নাহলে নীচের লোহার কাঠামোতে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ যাবে। আমরা আবছা দেখতে পারছি বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া লোহার টুকরোগুলো– আর জলের উপরে তেল ভেসে আছে, আগুন জ্বলছে সেই ভাসমান তেলে। তার মানে এখান থেকে ঝাঁপ দিলেও কোথায় গিয়ে পড়ব কোন ঠিক নেই – জলে ভাসা লোহার টুকরোর ধাক্কায় লেগে মৃত্যু হতে পারে বা আগুন লেগে। কিন্তু হেলিকপ্টার ডেকে দাঁড়িয়ে থাকলে নিশ্চিত মৃত্যু।

    আমরা দুজনে ঠিক করলাম ঝাঁপ মারব। প্রথমে আমি ঝাঁপ দিলাম, সেই সতেরো তলার উচ্চতা থেকে তেল ভাসা জলে পড়তে লাগলো কয়েক সেকেন্ড মত সময়। পড়ার সময় আমার মনে ভেসে আসছিল তোর মুখ, তোর মায়ের মুখ – আমাকে বাঁচতেই হবে, সারা শরীরে টের পেতে লাগলাম অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব। জলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাগ্য আমার সঙ্গ দিল – সেই মুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম যেদিকে. ঢেউ দিচ্ছিল তার উলটো দিকে – আমি আশে পাশে অনেক মৃতদেহ ভেসে যেতে দেখলাম – আমাকে ঢেউ সরিয়ে নিয়ে গেল প্ল্যাটফর্মের ধ্বংসলীলা থেকে। একসময় উদ্ধারকারী জাহাজ এসে আমাকে জল থেকে তুলল। আমি জানতেও পারলাম না যে আমার সেই টর্চ হাতে সাথীর কী হল? ও কি আদৌ ঝাঁপ মারতে পেরেছিল – নাকি সেফটি নেটে পা আটকে ফেলেছিল – বা জলে ঝাঁপ মেরে অন্য কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে। পরে জানতে পারলাম বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে আমার সেই বন্ধু ছিল না”।



    পাইপার আলফা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৬১ জনের মধ্যে তিনজন। মাঝের জন মার্কের বাবা



    বেঁচে গেলেও মার্কের বাবা কিছু দিন পর থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন – তাঁর মনে হত কেন আমিই কেবল বেঁচে গেলাম, আর আমার বন্ধু পারল না? বন্ধু কি জলে ঝাঁপই মারতে পারে নি, নাকি তার আগেই ধোঁয়ার কবলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল? মার্কের বাবা কিছুতেই নিজের মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছিলেন না – অসুস্থ শরীর নিয়েও তাই গিয়েছিলেন ওয়েলেস-এ, বন্ধুর গ্রামে, তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মে অংশ নিতে!

    এই ঘটনার পর থেকে মার্কের বাবার মদ্যপানের পরিমাণ বেড়ে যায় – তিনি ভুগতে শুরু করেন পোস্ট-ট্রমাটিক-স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)-এর সমস্যায়। কিছুদিন হয়ত ভাল থাকতেন – আবার ডুবে যেতেন গভীর হতাশায় – মদ্যপান বাড়িয়ে দিতেন। এইভাবেই নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ২০১১ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মার্কের বাবা মারা যান –

    এই ঘটনা মার্কের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল – তিনি ঠিক করেই নিয়েছিলেন বড় হয়ে তিনি পড়াশোনা করবেন বা গবেষণা করবেন অফশোর সেফটি বা তার সঙ্গে যুক্ত কোনও বিষয়ে। নিজেকে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করেছিলেন মার্ক – এখন তিনি স্ট্রাটচক্লাইড ইউনিভার্সিটির রসায়নের প্রফেসর। তিনি কাজ করছেন অফশোর সুরক্ষা এবং ট্রেনিং নিয়ে।

    শেন গরম্যানের ভাগ্য মার্কের মত ভালো ছিল না – তিনি তাঁর বাবাকে ওই রাতে চিরদিনের মত হারিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময়ে মার্কের বয়স যেমন খুবই কম ছিল, ওই পাইপার আলফায় কাজ করা সবার সন্তানরা তো তত ছোট ছিল না। ফলে মার্কের সেই দিনের ঘটনা মনে রাখার মত বয়স না হলেও, বাকি অনেকেরই স্মৃতিতে তা ছিল। সেই রাত প্রত্যেককেই মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত এবং এলোমেলো করে দিয়েছিল। অনেকের সেই অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লেগেছিল বহু বছর, আবার অনেকে তার পর কোনওদিনই সামলে উঠতে পারেননি। সে সব জীবনগুলি ৬ জুলাই ১৯৮৮ সালের পর অন্য খাতে বইতে শুরু করেছিল।

    শেন গরম্যনের বয়স তখন ছিল ১৮। সেই দিনের প্রতিটা মুহূর্ত মনে আছে শেনের। মাত্র তিনদিন হয়েছিল শেনের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার, রয়েছেন ট্রেনিং ক্যাম্পে। বাবার সঙ্গে শেষ দেখাও তিন দিন আগেই – ট্রেনিংয়ে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য শেনকে স্টেশনে ছেড়ে দিতে এসেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে দারুন হৃদ্যতা ছিল শেনেন – একসঙ্গে ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুর ইতিহাস দুজনের। তাই যখন শেনের ট্রেনিংয়ে যোগ দেবার দিন ঠিক হল, শেনের বাবা নিজের ডিউটি অ্যাডজাস্ট করে নিয়েছিলেন যাতে সে দিন তিনি সঙ্গে থাকতে পারেন। শেনকে ট্রেন স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে তিনি সেই দিনই অফশোরে কাজে যোগ দেন।

    শেন তাঁর স্মৃতি চারণ করে বলেছেন, একদম বেসিক ট্রেনিং হওয়ায় সব সুযোগ সুবিধা তাঁদের ক্যাম্পে ছিল না – তার পরে তাঁরা ছিলেন একদম নবাগত। ফলে ৭ জুলাই খবরের কাগজ দেখা হয় নি তাঁর, সকালেও শোনেননি আগের রাতের পাইপার আলফার সেই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কথা। ৭ জুলাই বেলা গড়ানোর পর এক কমান্ডিং অফিসার শেনকে অফশোর দুর্ঘটনার কথা জানান। সেনাবাহিনীতে এমনিতেই শক্ত ট্রেনিং এবং খুব ব্যস্ততা থাকার জন্য শেন আর আলাদা করে ওই দিন দুর্ঘটনা নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবেননি। ছোট-খাট দুর্ঘটনা তো জীবনের অঙ্গ – এমনটাই ভেবে নিয়েছিলেন তিনি। তার পর দিন সকালে শেনকে কম্যান্ডিং অফিসার ডেকে পাঠিয়ে জানান শেনকে তখনই বাড়ি যেতে হবে। শুনেই শেনের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমেল স্রোত বয়ে যায় – মনে হতে থাকে বাবা আর ফিরবে না। আড়াই ঘন্টার ট্রেন পথে সারাটা সময় কেঁদেছিলেন তিনি – বুঝতে পারছিলেন কী অপেক্ষা করে আছে সামনে! কিন্তু যা তিনি কল্পনা করতে পারেননি, ত হল, বাবার মৃতদেহটাও আর দেখতে না পাবার কথা। অনেক তল্লাশির পরেও সে মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেন ও তাঁর পরিবারের পক্ষে এটা মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছিল অনেকদিন। দেহ খুঁজে না পেয়ে ধরে নেওয়া হয় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মার্কের বাবার বন্ধুর মত শেনের বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছিল কোন মৃতদেহ ছাড়াই। এই ঘটনা শেনের জীবনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল – বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল মানসিক ভাবে। এর অনেক অনেক পরে শেন ২০১২ সালে সুযোগ পান অফশোরে কাজ করার – তাঁকে সে কাজটাই করতে হত এমন নয়, কিন্তু মার্কের মত তিনিও চেয়েছিলেন অফশোর সুরক্ষা নিয়ে কিছু কাজ করতে – বাবার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে।

    এটা মে মাস – এই মাসেই আমাদের কোম্পানির একটা বিশেষ দিন ‘সেফটি ডে’ বলে পালন করা হয়। সেফটি ডে-র নানাবিধ অনুষ্ঠানের মধ্যে একটা খুব শিক্ষণীয় এবং প্রভাবক অংশ ছিল এমন সব শিল্প দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতার কথা তাঁদের মুখ থেকে সরাসরি শোনা। মার্কের সঙ্গে আমার আলাপ নেই, চিনি না মার্কের বাবাকেও। কিন্তু এমনি এক সেফটি-ডে তে আলাপ হয়ে গিয়েছিল পাইপার-আলফা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া অন্য একজনের সঙ্গে। সেই রাতের অভিজ্ঞতা সামনাসামনি বসে তাঁর মুখ থেকে শোনা – তিনি আবার পরে ‘পাইপার আলফা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতা শুনলে জীবনকে নতুন করে পেতে ইচ্ছে হয় – নতুন ভাবে ভাবতে ইচ্ছে করে।


  • পেশাদার হিসেবে আমাকে নানাবিধ সেফটি ট্রেনিং করতে হয় – এবং ঘটনাচক্রে আমি যে সংস্থায় কাজ করি তারা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ফিল্ডে সেফটি লিডার বলে পরিচিত। প্রচুর অর্থ, সময় খরচ করা হয় ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ দিতে। এই সুরক্ষা এমন একটা বিষয় যাতে কোন রকম আপস যেন কোন মূল্যেই না করা হয় সে ব্যাপারে সংস্থার সর্বোচ্চ স্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া আছে। নির্দেশ তো অনেক বিষয়েই দেওয়া হয়, কিন্তু সুরক্ষার ব্যাপারে আমার বর্তমান সংস্থা অত্যন্ত সচেতন, ফলে ইন্ডাষ্ট্রির সবাই এদের সমীহ করে চলে। কোম্পানির সবাইকে সরাসরি নির্দেশ এবং ক্ষমতা দেওয়া আছে যে, যদি সে নিজে মনে করে যে কাজটা করতে যাচ্ছে বা অন্যরা যে কাজ করছে তাতে সুরক্ষা বিষয়ক কিছু ফাঁক আছে, তাহলে সেই কাজ যেন তৎক্ষণাৎ থামিয়ে দেওয়া হয়।

    আমরা সুরক্ষা নিয়ে এই সব যে ট্রেনিং করি, তাতে অনেক সময় প্রশিক্ষণের শুরুতেই মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে – আপনি নিজে মুক্তভাবে কিছু পছন্দ করতেই পারেন, কিন্তু আপনার সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হবে তার থেকে আপনি মুক্ত নন! (ইউ আর ফ্রি টু চুজ, বাট ইউ আর নট ফ্রি ফ্রম দি কনসিকোয়েন্সেস অফ ইয়োর চয়েজ)। প্রতিনিয়ত আপনাকে ভাবতে হবে যে আপনি কি নিজের কাজটা ঠিকঠাক মনোযোগ দিয়ে করছেন এবং আপনার সঙ্গে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সকলের সুরক্ষার যে প্রতিশ্রুতি আপনি দিয়েছেন তা থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন কিনা।

    আরো গভীরে যাবার আগে এবার পাইপার আলফা-র ইতিহাস এবং অবস্থান সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক। পাইপার আলফা যেখানে অবস্থিত সেই অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৩ সালে। অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম নামক এক সংস্থা এটি আবিষ্কার করে। এই সংস্থা সেখানে পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মটি বানায় স্কটল্যান্ডের স্থলভাগ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এবং তেল আর গ্যাস উৎপাদন শুরু করে ১৯৭৬ সালে। সেই জায়গায় জলের গভীরতা ছিল ১৪৪ মিটারের মত। তেল এবং গ্যাস উৎপাদন সর্বোচ্চ সীমায় পোঁছায় ১৯৭৮ সালে এবং সেই মুহূর্তে শুধু নর্থ-সি তেই নয়, সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী অফশোর প্ল্যাটফর্ম ছিল পাইপার আলফা। ১৯৮৮ সালে যখন দুর্ঘটনা হয় তখন উৎপাদন আগের তুলনায় একটু কমে এসেছে, কিন্তু তবুও তখন দিনে সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার (পঁয়তাল্লিশ লক্ষ ডলার) মূল্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদন হচ্ছিল পাইপার আলফা থেকে। মানে যাকে বলে এই পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্ম ছিল অক্সিডেন্টাল গ্রুপের সোনার ডিম পাড়া হাঁস। প্রশ্ন হচ্ছে আপনি যদি জানেনই যে এই প্ল্যাটফর্ম আপনার সোনার হাঁস তাহলে নিজে থেকে ইচ্ছে করে এমন কিছু করবেন যে প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস হয়ে যায়? অবশ্যই করবেন না – কিন্তু ধরুন এত টাকা আসছে যে প্ল্যাটফর্ম থেকে সেই প্ল্যাটফর্মের উৎপাদন কি আপনি ব্যাহত করতে চাইবেন মেনটেনেন্সের জন্য? এইখানেই আসে চয়েজ-এর ব্যাপারটা, আসে সেই কোম্পানির সুরক্ষা সংস্কৃতির প্রশ্ন। কোন সংস্থা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের কর্মচারীদের সুরক্ষার জন্য! এসব ব্যাপারে পরে আসছি।



    পাইপার আলফা অফশোর প্ল্যাটফর্ম



    যাঁরা অয়েল ফিল্ড নিয়ে তেমন সড়গড় নন, তাঁদের কয়েকটা বিষয় জানিয়ে রাখি। মাটি খুঁড়ে শুধু তেলই উঠে আসে না, তার সঙ্গে আসে জল এবং গ্যাস। পৃথিবীতে বিশুদ্ধ চাকুরি বলে যেমন কিছু নেই – তেমনি নেই বিশুদ্ধ তেলের কূপ! আজ না হলে কাল জল আপনার উঠবেই সেই কূপ থেকে – যত দিন যাবে জলের পরিমাণ বাড়বে। এবার ঘটনা হল ওই ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে তেল/জল/গ্যাস কীভাবে আনবেন? সাধারণত সমুদ্রের তলা দিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল আনা হয় অফশোর প্ল্যাটফর্ম থেকে ডাঙায়। সাধারণত তেল কূপ থেকে তোলা আর তাকে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড ওয়েল) হিসাবে বিক্রয়যোগ্য করার মধ্যেও অনেক ধাপ থাকে। সম্পূর্ণ প্রসেসিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হল তেল আর গ্যাসকে আলাদা করা এবং তেলে যেন একদমই জল না থেকে যায় সেটা দেখা। এই করতে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি লাগে – আর বুঝতেই পারছেন মাঝ সমুদ্রে সেটা করতে গেলে বিশাল খরচাসাপেক্ষ ব্যাপার। তবে পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মে প্রাথমিক প্রসেসিং ফেসিলিটি ছিল – এখানে তরল (তেল আর জল) এবং গ্যাস আলাদা করা হত এবং সেই তেল (সঙ্গে জল) আর গ্যাস দুই পৃথক পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডাঙায় পাঠানো হত সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই প্রসেসিং প্ল্যান্টে। এবার আপনি বলতে পারেন ভাই এই এত কষ্ট করে জল বয়ে নিয়ে আসা কী দরকার! মাঝ সমুদ্রে প্রসেসিং করে ফেলে দিলেই তো হয়! কিন্তু ওই যে আগেই লিখেছি, আপনি যতই ভাবুন যে তেল আর জলে মিশ খায় না, এটা কিন্তু সম্পূর্ণ সত্যি নয়! তেলের ভিতর কিছু জল এমন ভাবে ঢুকে থাকে যাদের আলাদা করা খুব চাপের ব্যাপার – এবং তা করতে যা জিনিসপত্র লাগবে সেটা ডাঙায় বানানোই ইকনোমিক্যাল। আর তাছাড়া সমুদ্রের মাঝে আপনি ইচ্ছে করলেই তেল মেশানো জল ফেলতে পারবেন না! পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়ামাবলী ও রেগুলেশন আছে যে পৃথক করা জলে ঠিক কতটা সর্বাধিক তেল থাকতে পারে। বলাই বাহুল্য জলের মধ্যে তেলের সেই সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা খুবই কম। তাই অফশোর প্ল্যাটফর্ম থেকে কেবল মাত্র বৃষ্টির জল ছাড়া বাকি জল সমুদ্রে ঢালতে দেওয়া হয় না। তুমি তেলের সঙ্গে জল তুলেছো, তুমি জল পরিশোধন কর, তারপর ফেলবে!

    আর এটাও একটু মনে রাখবেন যে পাইপার আলফা নর্থ-সি তে মাঝসমুদ্রে একদম একা দাঁড়িয়ে থাকা প্ল্যাটফর্ম নয়। তার আশেপাশে আরো বেশ কিছু প্ল্যাটফর্ম ছিল – এমন সব প্ল্যাটফর্ম মিলে অনেক সময় গড়ে ওঠে প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক। অনেক সময়ে একটা প্ল্যাটফর্ম থেকে তেল বা গ্যাস অন্য প্ল্যাটফর্মে এসে সেখানকার তেল বা গ্যাস নিয়ে তারপর ডাঙায় যায়। মানে ধরুন আপনি ব্যান্ডাল থেকে হাওড়া যেতে চান ট্রেনে করে, আবার একজন শ্রীরামপুর থেকে ট্রেনে করে যেতে চান হাওড়া। যেহেতু দুজনেরই মূল লক্ষ্য হাওড়া যাওয়া, তাই ব্যান্ডেল থেকে আলাদা ডাইরেক্ট লাইন এবং অনুরূপ শ্রীরামপুর থেকে ডাইরেক্ট হাওড়ার জন্য রেল লাইন না বসিয়ে এমন ভাবে বসানো হল যে আপনি ব্যান্ডেল থেকে ট্রেন ধরে শ্রীরামপুর হয়ে হাওড়া গেলেন।

    ঠিক এমন ভাবেই তাই পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মের আশেপাশে পাইপলাইনের নেটওয়ার্কের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে পাশের ‘টারটান’ প্ল্যাটফর্ম (১৯ কিলোমিটার দূরের) এবং ‘ক্লেমোর’ প্ল্যাটফর্ম (৩৫ কিলোমিটার দূরের) থেকে দুটো গ্যাস পাইপলাইন এসে উঠেছে পাইপার প্ল্যাটফর্মে, এবং তারপর পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মের গ্যাস নিয়ে মাত্র একটা পাইপলাইন নির্গত হয়েছে সেখান থেকে। অনেক সময় গ্যাসের তত প্রেশার থাকে না যে অত দূর থেকে নিজের চাপেই ডাঙায় চলে আসবে! পাইপ লাইন যত লম্বা হবে ধীরে ধীরে গ্যাস (বা তেলের) প্রেশার তত কমবে। তার ফলে অতিরিক্ত পাম্পিং প্রয়োজন হয় - যদি তরল হয় তেল বা জলের মত তাহলে আমরা যেমন জলের পাম্প দেখি তেমন কিছু চালাতে হয়, আর যদি গ্যাস হয় তাহলে তাকে ‘কম্প্রেসন’ করে পাঠনো হয় বিশেষ কম্প্রেসর পাম্প দিয়ে। পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মে তেলের জন্য পাম্প রাখার জায়গা ডিজাইন করা হয়েছিল, ফলে তেল পাইপলাইন পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মে থেকে সরাসরি ডাঙার অয়েল টার্মিনালে যেত ২০০ কিলোমিটার দূরে। পাইপার প্ল্যাটফর্মে থেকে কিন্তু গ্যাস পাম্পিং করে সরাসরি ডাঙায় পাঠানো হত না - গ্যাস পাইপলাইন পাইপার আলফা থেকে প্রথমে যেত ৫৫ কিলোমিটার দূরের একটা কম্প্রেশন প্ল্যাটফর্মে (MCP-01) , যেটা আবার অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্যাস সংগ্রহ করার হাব হিসাবে ব্যবহৃত হত। সেখান থেকে আরো অন্য গ্যাসের সঙ্গে পাইপার আলফার গ্যাস মিশিয়ে ১৭২ কিলোমিটার দূরের সেন্ট ফার্গুস গ্যাস টার্মিনালে পাঠানো হত। নীচের ছবিটি দেখে নিলে লে-আউট একটু পরিষ্কার হয়ে যাবে।



    পাইপার আলফা অফশোর প্ল্যাটফর্মের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক



    তবে পাইপার আলফায় দুর্ঘটনা হয়েছে বলেই মনে করে নিতে হবে যে সেখানে সুরক্ষার কিছুই ব্যবস্থা ছিল না সেটা ঠিক নয়। হ্যাঁ, এখনকার অফশোর সেফটির তুলনায় সেই সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেক অনেক কম বা ঢিলে ছিল – কিন্তু সেই সময়ের হিসেব অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিসই ছিল বলতে গেলে।

    পাইপার আলফা অফশোর প্ল্যাটফর্মটি মডিউলার ডিজাইনের ছিল – এবং সুরক্ষার কথা ভেবেই প্ল্যাটফর্মে থাকার জায়গাটা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জায়গার থেকে সবচেয়ে দূরে রাখা হয়েছিল। প্রত্যেক অফশোর প্ল্যাটফর্মেই নিজস্ব ফায়ার ওয়াটার পাম্প থাকে আর তার সঙ্গে নেটওয়ার্কে থাকে সি-ওয়াটার লিফট পাম্প। কটা করে পাম্প থাকবে তা প্ল্যাটফর্মের সাইজের উপরে নির্ভর করে – কিন্তু সব জায়গাতেই স্ট্যান্ডবাই পাম্প রাখা থাকে। প্ল্যাটফর্মে থাকে ‘ফায়ার ওয়াটার রিং মেন’ পাইপ – যে পাইপে জল ভরে থাকে প্রেশারের সঙ্গে। এই ফায়ার ওয়াটার লাইনগুলিকে ‘সেফটি ক্রিটিক্যাল এলিমেন্ট’ হিসাবে ধরা হয় এবং তার তার দেখভালের গুরুত্ব থাকে সর্বাধিক। এই জলের পাইপগুলিতে প্রেশার কমে গেলেই পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়, কারণ এই লাইনগুলির প্রেশার তখনই একমাত্র কমতে পারে যখন সেখান থেকে কিছু জল বেরিয়ে যাচ্ছে – মানে ধরা যাক আগুন লেগেছে তাই জলের দরকার হচ্ছে। আমি খুবই সাধারণ ভাবে লিখছি – কিন্তু তেলে আগুন লেগে গেলে সেই আগুন জল দিয়ে নেভানো চাপ, কারণ তেল জলে ভাসে! তাই নানাবিধ আরো পদ্ধতি আছে, সেই সবের ভিতরে ঢুকলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে।

    তো যেটা আগে লিখেছি, অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কাছে এই পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্ম ছিল সোনার ডিম পাড়া হাঁস। তাই আরো অনেক কর্পোরেটের মত যদি ধরেও নিই যে মানুষের প্রতি এবং পরিবেশের তেমন দরদ ছিল না – কিন্তু তাহলেও সোনার হাঁসকে নিজের সার্থেই সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করবে সংস্থা। তাই সেই কারণেই অক্সিডেন্টাল গ্রুপ স্থাপন করেছিল ‘থারোস’ নামে এক অতিকায় ফ্লোটিং প্ল্যাটফর্ম। এই থারোসকে বলা হত ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম’ এবং এর প্রধান কাজ ছিল পাইপার আলফাকে সুরক্ষিত রাখা। ১৯৮০ সাল থেকে এই থারোস কাজ শুরু করে।

    আর একটা জিনিস বলে রাখি, অফশোর প্ল্যাটফর্মে আগুন লাগতে পারে এটা কোন বিশাল বিস্ময়ের ব্যাপার নয়, বরং তার উলটোটাই – এখানে এমন অনেক কাজ হয় যা থেকে আগুন লেগে যাবার সম্ভাবনা খুব বেশী। তাই নিজেদের সেই ভাবে তৈরি করতে হয়। রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট হয় অনেক – খতিয়ে দেখা হয় অনেক বেশী সম্ভাবনার কথা। এবং প্রতিটি আগুন লাগার সম্ভাবনার সামনে বাধার সৃষ্টি করা হয়। এই বাধা আবার দুই রকম – একটা হচ্ছে প্রিভেন্টিভ বেরিয়ার আর একটা হচ্ছে রিকভারি বেরিয়ার। আগুন লেগে যাওয়াক যদি মূল দুর্ঘটনা (সেফটি অ্যাসেসমেন্টের ভাষায় যাকে বলে ‘ইনসিডেন্ট’) হয়, তাহলে আগুন নেভাবার ব্যবস্থাকে বলা হয় রিকভারি বেরিয়ার। মানে যা ঘটার ঘটে গেছে, এবার আপনি কীভাবে সিচুয়েশন রিকভার করবেন – লাইফবোট ইত্যাদিও তাই। আর আগুন যাতে না লাগে সেই ব্যবস্থাগুলিকে বলা হয় প্রিভেন্টিভ বেরিয়ার – যেমন আপনি হয়ত আগুনের সোর্সটাকে সরিয়ে দিলেন, বা গ্যাস ডিটেকটার লাগালেন ইত্যাদি। বোঝার সুবিধার জন্য নীচের ছবিটি দেখুন – এই ডায়াগ্রামকে বলে ‘বো-টাই’ (বো-টাই এর মত দেখতে বলে!)। এখানে ইনসিডেন্ট হচ্ছে ‘ফ্যাক্টরি ফায়ার’, বো-টাই ডায়াগ্রামের বাঁদিকে আছে নানা প্রিভেন্টিভ বেরিয়ার (যেমন মেনটেনেন্স, ফায়ার ডিটেকশন, ট্রেনিং ইত্যাদি), আর ডান দিকে আছে রিকভারি বেরিয়ার (যেমন ফার্ষ্ট এড ট্রেনিং, এমারজেন্সি রেসপন্স সিস্টেম ইত্যাদি)। খুব গোদা বাংলায় বলতে গেলে আগুন লাগার আগে এবং পরে কী করবেন।



    বো-টাই ডায়াগ্রাম ফ্যাক্টরি আগুন লাগার ক্ষেত্রে



    এই সবের ক্ষেত্রে কোথায় ঝুঁকি আছে সেটা ঠিক মতন অনুধাবন করা একটা বড় ব্যাপার। গ্যাস ডিটেকটার ঠিক কোথায় লাগাবেন? সেখানেই লাগাবেন যেখান থেকে গ্যাস লিক হতে পারে – নিশ্চয়ই টয়েলেটের ভিতর লাগালে সেটা কার্যকর হবে না! আবার ঠিক কত উঁচুতে লাগাবেন সেটাও বড় ব্যাপার – কারণ কিছু গ্যাস বাতাসের থেকে ভারী – সেই গ্যাস ডিটেক্ট করতে হলে একদম মাস্তুলের ডগায় দামি ডিটেকটর লাগানো ফালতু। এই ভাবেই পাপফার আলফায় রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট করে দেখা গিয়েছিল যে এই প্ল্যাটফর্মে আগুন লাগার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে তৈলকূপের ব্লো-আউট এবং এই তৈলকূপে আগুন লেগে যাওয়া। পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মে একদিকে ড্রিলিংও হত বলে এই ব্লো-আউটের ঝুঁকি খুবই বেশী। ব্লো-আউট কী জিনিস? আপনি যখন তেলের কূপ ড্রিলিং করছেন তখন যত গভীরে যাবেন তত বেশী প্রেশারের সম্মুখীন হবেন। কত প্রেশার? একটা সাধারণ তুলনা করা যাক – যদি আপনার ফ্ল্যাটবাড়ির জলের লাইনে কিছু গণ্ডগোল হয় আর তার থেকে জল ছিটকে বেরোয় তার যা প্রেশার তেল কূপ ড্রিলিং করে তেলের কাছে পোঁছালে সে প্রেশার তার থেকে ১০০ গুণ (বা তা থেকেও অনেক) বেশী হয়! ফলে বুঝতে পারছেন অয়েল ড্রিলিং করার সময় একটা ওভার প্রেসার রাখতে হয় উপর থেকে যাতে সেই তেল ছিটকে বাইরে চলে না আসে – যদি এই ওভার প্রেশারের কিছু প্রবলেম হয়, তাহলে যা হতে পারে, তা হল ব্লো-আউট। যেমনটা আপনারা হয়ত শুনেছেন বা দেখেছেন ২০১০ সালের ডিপ ওয়াটার হরাইজন দুর্ঘটনায়। থারোস ফ্লোটিং ফায়ার ফাইটিং ইঞ্জিন এক বিশাল গাব্দা জিনিস – এটার ডায়নামিক পজিশনিং কেপেবিলিটি ছিল, ছিল হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং, সার্ভিসিং ও স্টোরেজ হ্যাঙ্গার ইত্যাদি। এর ফায়ার ফাইটিং ক্যাপাসিটি ছিল প্রায় মিনিটে ৪০,০০০ গ্যালন এবং প্রায় ৩০০ ফুট দূরত্বে থেকে জল নিক্ষেপ করে আগুন নেভাবার ক্ষমতা রাখত এই থারোস।

    তাহলে আগুন থেকে সুরক্ষার এবং আগুন নেভাবার এত হরেক ব্যবস্থা থাকতেও পাইপার আলফায় আগুন লাগলোই বা কী করে, আগুন ছড়ালোই বা কী করে? তাহলে কি এমন কোন ভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল যে সেখান থেকে কোন ঝুঁকি আসতে পারে আগে তা ভাবা হয়নি?

    এর পরের পর্বে আমরা ঢুকবো সেই ভয়ঙ্কর দিন ৬ জুলাইয়ের ঘটনায় – দেখে নেব ঘটনাক্রম। কী কী ব্যর্থতা দেখা গিয়েছিল পাইপার আলফা প্ল্যাটফর্মে এবং তার থেকে পরে আমরা কী শিখেছি, ইত্যাদি।

    ততদিনে আপনার বরং এক কাজ করুন – নেটফ্লিক্সে আছে Deepwater Horizon সিনেমাটা, হাতে সময় নিয়ে দেখে ফেলুন। অফশোর জীবন নিয়ে একটা আইডিয়া পাবেন, আর এই সিনেমাটার মত ফ্যাকচুয়েলি এবং টেকনিক্যালি সঠিক সিনেমা হলিউডে খুব একটা বেশী বানানো হয় নি। পরের পর্ব আসার আগে আপনি এই সিনেমাটা দেখে ফেললে, আরো ‘অ্যাপ্রিসিয়েট’ করতে পারবেন দ্বিতীয় পর্বটিকে।


    পর্ব – ১ | পর্ব –২
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৬ মে ২০২১ | ১৪০৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৬ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Chanchal Dutta | ২৬ মে ২০২১ ১৪:১৮106431
  • খুব তথ্যপূর্ণ প্রবন্ধ। খুব আগ্রহ পূর্ণ । Netflix এর সদস্য নই তাই Deepwater Horizon দেখা হচ্ছে না এখন। পরে সুযোগ পেলে অবশই দেখবো। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  • Tanushri Bhattacharyya. | 2405:204:5327:50fe::87e:60b1 | ২৬ মে ২০২১ ১৪:৩৯106432
  • অনেকে কিছু জানতে পারলাম .

  • Kaushik Saha | ২৬ মে ২০২১ ১৫:৩৪106434
  • কথাটি বোধকরি  "সোনার হাঁস পাড়া ডিম (para 17)" বা   "সোনার হাঁস দেওয়া ডিম (para 20) ", দুটির ​​​​​​​কোনোটিই নয়। যদ্দুর জানি ডিমে হাঁস পাড়ে না।  "সোনার ডিম পাড়া হাঁস"  কথাটি বোধহয় শুদ্ধ।  

  • সুকি | 49.207.221.179 | ২৬ মে ২০২১ ১৬:০৭106436
  • ধন্যবাদ - চঞ্চল বাবু তনুশ্রীদেবী   


    কৌশিকবাবু - ধন্যবাদ। আমার তরফে ওভারলুক হয়ে গেছে,কি করে বুঝতে পারছি না। বাজে টাইপো ও ভুল।  ঘুমের ঘোরেই একমাত্র কাছাকাছি কারণ।  ঠিক করে নিতে হবে। 


    অ্যাডমিন কেউ প্লীজ এটা "সোনার ডিম পাড়া হাঁস" করে দেবেন। 

  • Rantideb Roy | ২৬ মে ২০২১ ১৭:৫০106442
  • ঠিক করা হয়েছে সুকান্ত দা। ধন্যবাদ কৌশিক বাবু। ভুলটা কোনোভাবে নজর এড়িয়ে গেছে।

  • @2c | 42.110.254.53 | ২৬ মে ২০২১ ২০:১৬106447
  • খুব ভালো লাগল পড়ে, এতো তথ্য আর তাও আবার বাংলায়.....আপনি দয়া করে এটা নিয়েও বা আপনার নিজের একটা আত্মজীবনী লিখুন(ভাববেন না যে এটা মজা করে বললাম,একদম মনের কথা বললাম)।আর 'ক্ষণিক ' গল্প টা শেষ পর্যন্ত পড়তে চাই।সময় হলে ওটাও একটু লিখুন

  • @2c | 42.110.254.53 | ২৬ মে ২০২১ ২০:১৬106448
  • খুব ভালো লাগল পড়ে, এতো তথ্য আর তাও আবার বাংলায়.....আপনি দয়া করে এটা নিয়েও বা আপনার নিজের একটা আত্মজীবনী লিখুন(ভাববেন না যে এটা মজা করে বললাম,একদম মনের কথা বললাম)।আর 'ক্ষণিক ' গল্প টা শেষ পর্যন্ত পড়তে চাই।সময় হলে ওটাও একটু লিখুন

  • @2c | 42.110.254.53 | ২৬ মে ২০২১ ২০:২৯106450
  • আমি না এখনো student দাদা,নেটফ্লিক্স রিচার্জ করতে পারবো না একেই ফোন রিচার্জ করতে করতেই ফকির হয়ে যাচ্ছি,তার ওপর আবার নেটফ্লিক্স

  • b | 14.139.196.12 | ২৬ মে ২০২১ ২০:৫৭106454
  • সুকির এই বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখাগুলো খুব ভালো হয়। আমার মতো টুয়েলভের  পরে ফিজিক্স কেমিস্ট্রিকে সশ্রদ্ধ  নমন  করে বিদেয় দেওয়া পাবলিকের কাছেও লিকুইড অ্যাজ ওয়াটার।  সিরিয়াসলি একটা বইয়ের কথা ভাবতে পারেন। 

  • Ranjan Roy | ২৬ মে ২০২১ ২২:১৮106457
  • ডিপওয়াটার হরাইজন আদ্দেক দেখে ফেলেছি। এখন খানিকক্ষণ নেট ণেই। নেগেটিভ প্রেসার টেস্ট, তারপরে খালি ওপরের -- নাঃ , স্পয়লার হবনা। মোট কথা জমে গেছে।

  • সুকি | 49.207.209.147 | ২৭ মে ২০২১ ১১:১২106468
  • রন্তি - ধন্যবাদ। আমি এখনো বুঝতে পারছি না কি করে আমি "সোনার হাঁস পাড়া ডিম" লিখেছিলাম :)


    @2c, আমি খুবই ক্ষুদ্র মানুষ - আমার আত্মজীবনী নিমোর গল্পে আর বাকিটা নিয়ে তেমন কেউ ইন্টারেষ্টেড হবে না। 


    আর তা ছাড়া বোধিদা রেগে যাবে আত্মজীবনীর নাম শুনে :)


    বি-দা, ধন্যবাদ। নিমোর বইটা বেরুক, তার পর দেখা যাবে - ৫০ কপি বিক্রী হলে তবেই অন্য বইয়ের কথা ভাবব! 


    রঞ্জন-দা - বাঃ, দেখে ফেলুন ডিপওয়াটার হরাইজন - পরে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আসছি - 

  • Ranjan Roy | ২৭ মে ২০২১ ১৩:১১106475
  • সিনেমা দেখা হয়েছে। আপনার দেয়া ছবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে রিগের ছবি ও ড্রিলিং  এর ডায়াগ্রাম। অনেকটা বুঝতে পারছি। এমনকি সেফটি ও প্রফিটের মধ্যে ডিসিশন নেয়া। আপনি ওই রকম অপারেশনের সেফটি স্পেশালিস্ট? স্যাল্যুট!

  • ইন্দ্রাণী | ২৭ মে ২০২১ ১৩:৩৭106477
  • কিছু সেফটি ম্যানেজমেন্ট কোর্স করতে হয়েছিল, হয়- ইন্ভেস্টিগেশন মেথডলজির কোর্স ইত্যাদি - সুকির লেখার অনেক কিছুই পড়তে হয়েছিল, ডীপ ওয়াটার হরাইজনের ক্লিপ দেখানো হয়েছিল- পরে পুরো সিনেমাটিই দেখে নিয়েছিলাম অবশ্য.. সেই সব মনে পড়ে গেল-
    এ'লেখা পড়তে পড়তে আমার রিফ্রেশর কোর্স করা হয়ে যাচ্ছে।
    আর সুকান্তর লেখার বৈশিষ্ট্যগুলি..সহজবোধ্য, সুখপাঠ্য লেখা - বাড়তি পাওনা।

    অনেক ধন্যবাদ সুকান্ত।

  • Amit | 203.220.182.31 | ২৯ মে ২০২১ ১১:৪৯106559
  • এই লেখাটা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিলো। দারুন হয়েছে সুকি। এই পার্টিকুলার টেকনিকাল এরিয়া টা নিয়ে বাংলায় খুব কম লেখা হয়েছে। হয়তো হয়নি। সহজ ভাষায় এগুলো বোঝানো রিয়ালি কঠিন কাজ। হ্যাটস অফ। 


    দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। 

  • b | 14.139.196.16 | ২৯ মে ২০২১ ১১:৫৩106560
  • @ অমিত, ওটা হেলমেট অফ হবে। সেফটি নিয়ে লেখা যখন। 

  • সুকি | 49.207.193.115 | ৩০ মে ২০২১ ০৭:৫৯106616
  • রঞ্জন-দা - আমি অয়েল অ্যান্ড গ্যাসে ফিল্ডে আছি, তাই এই সব নিয়েই নাড়াঘাঁটা করতে হয়।


    ইন্দ্রানীদি, অনেক ধন্যবাদ।  তাহলে তো আপনি জানবেনই এই সেফটির ব্যাপারগুলোর জটিলতা - আমি এই লেখায় খুব বেশী টেকনিক্যাল দিকে ঢুকি নি কারণ বোরিং হয়ে যাবে, চেষ্টা করছি সবাই যাতে ইন্টারেষ্ট নিয়ে পড়তে পা্টুন - অন্তত একটু আইডিয়া আসে পাঠকদের এই নিয়ে। আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশী হলাম


    শুভঙ্কর - ধন্যবাদ


    অমিতাভদা - তুমি তো এগুলো সবই আরো ডিটেলসে জানবে, তবুও পড়লে জেনে খুব ভালো লাগলো।  বাংলায় এই নিয়ে লেখা নেই - তাই ভাবলাম একটা চেষ্টা দিই - 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন