• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • প্রথমতঃ

    যদুবাবু লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ মে ২০২১ | ৫২৫ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • বাবার কথা মনে পড়লেই একটা গন্ধ নাকে আসে অবিকল ... সদ্য জ্বালানো উইলস ফ্লেকের গন্ধ, আমি চিনি  ... আবছা একটা ছবি ভেসে ওঠে - বাইরের পেশেন্ট দেখার ঘরের কাঠের চেয়ার, জানলার ঠিক ধারেই, বাবা মুখের সামনে লাইব্রেরী থেকে আনা একটা বই ধরে আছেন ... মুখ দেখা যাচ্ছে না, শুধু রেক্সিনের বাঁধাইয়ের আড়াল থেকে এক-একটা রিং উড়ে উড়ে জানলা দিয়ে বেরিয়ে মেঘ হয়ে যাচ্ছে ...


    বাবা প্রায় সারা-জীবন চেন-স্মোকার ছিলেন ! মানে সত্যিকারের চেন, একটা নেভার আগে সেইটার আগুনে আরেকটা জ্বালানো চেন ... দিনে বোধহয় দেড় কি দু-প্যাকেট আরামসে উড়ে যেতো ! আমাদের বাড়ির প্রত্যেকটা ক্ষয়ে যাওয়া কড়ি-বরগা এমন কি পুরোনো পর্দার ভাঁজে ভাঁজে শুঁকলে হয়তো এখনো হাল্কা সুবাস পাওয়া দুষ্কর নয় ... ন্যাপথালিনের গন্ধঅলা পুরোনো শার্ট আর আমাদের সবকটা মশারি-র অগুন্তি ফুটো-ও তার সাক্ষী ... সেই যেমন হেনরি ফন্ডা লিখেছিলেন, 'I have been close to Bette Davis for thirty eight years, ... and I have the cigarette burns to prove it" ...


    অনেক ভেবে মনে হচ্ছে খুব ছোটোবেলায় ক্যাপস্ট্যান খেতে দেখেছি, আর চার্মস ... আর ইস্কুলের শেষদিক থেকে উইলস ... মাসের শুরুতে এক-দু প্যাকেট নেভি কাট, বাকিটা ফ্লেক না হয় গোল্ড ফ্লেক ... মাঝে এদিক-ওদিক যে যাননি এমন নয়, এই যেমন আমি যখন থার্ড ইয়ারে পড়ি, হঠাৎ একদিন দেখি বাইরের ঘরের টেবিলে একটা স্পেশালের প্যাকেট ... খুব ধন্ধে পড়ে গেলাম ... জিগ্যেস-ও করতে পারছি না, "এটা তোমার?" ... আবার বিনা বাক্যব্যায়ে একটা আস্ত প্যাকেট হাত-ছাড়া হবে এ-ও মানা যাচ্ছে না! বোধহয় এইসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে হাঁ করে প্যাকেট-টার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম ... বাবা মুখ থেকে বই-টা সরিয়ে বললেন, "স্পেশাল কিন্তু তামাকে কাঠ-কয়লা মেশায়, বরং ফ্লেক ভালো ... " ... বলাই বাহুল্য, আমি সে সদুপদেশ শিরোধার্য করে টুক করে কেটে পড়া ছাড়া সেই মুহূর্তে আর কিছু ভেবে পাইনি ...


    এইখানে বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু এই মুহূর্তে নন-স্মোকার, অন্ততঃ এই লেখাটা শেষ করা অব্দি তো বটেই ...


    আর সত্যি বলতে কে যে ধরিয়েছিলো, সেইটা একটু আবছা ... তবে দিব্যি মনে আছে, যোগেশ-দার কোচিং ক্লাসের পাশেই ছিলো "আবার বৈঠক" মাঠ ... ক্লাস শুরুর আগে এক দল যেতো (তাঁদের আর নাম করে লজ্জা দিচ্ছি না), আমিও যেতাম সঙ্গে সঙ্গে ... তা সে বয়সে বন্ধুরা ঝাঁপ মারতে বললেও মেরে দিতাম, একটা নেশা আর এমন কি?


    আর ভালো-ও কি কিছু শিখিনি? যেমন ত্যাগ ও তিতিক্ষা ... স্পষ্ট মনে আছে ক্লাস এইটে যখন পড়ি, ফ্লেকের একটা সিগারেটের দাম ছিলো এক টাকা ... মানে সিঁথির মোড় থেকে ইস্কুলের অটো-ভাড়ার একের তিন ... সেই যে হেঁটে হেঁটে অভ্যেস করে ফেললাম, পরে কতো হেঁটেছি কলকাতার রাস্তায়, কখনো ভালোবাসার হাত ধরে, কখন-ও ঘেন্নার কলার চেপে ... একটুও কষ্ট হয়নি কিন্তু ...


    সহ্যশক্তি-ও ... বাবা তখন কাশি সেরে উঠেছেন, আমিও এদিকে একে নতুন বিড়িখোর তায় আবার পাড়ার ভালো ছেলে ... প্রকাশ্যে তাম্বাকু-হাতে ধরা পড়ার ভয় দুইজনার-ই ... আমি একদিন সেন্টার সিঁথির একটা গলির-গলি তস্য গলিতে লুকিয়ে মনের আনন্দে সুখটান দিচ্ছি ... হঠাৎ দেখি বাবা-ও সেই গলিতেই মাছের বাজারের থলে হাতে গুটিগুটি আসছেন ... সেই যে ঘাবড়ে গিয়ে বিড়িসুদ্ধু হাত পকেটে পুরে দৌড় দিয়েছিলাম, একটি ছোট্ট ফোস্কাচিহ্ন এখনো সেই ইতিহাস জানে ...


    তারপর থেকে যে কতোশতবার কেস খেয়েছি, সে লিখতে বসলে ট্র্যাজিক একটি মহাকাব্য হয়ে যাবে ... তা-ও দু-তিনটে ছড়ানোর গল্প না বলে পারছি না ...


    এক, কোচিং-ফেরতা বন্ধুকে বললাম ক্লোর-মিন্ট খাবি? সে আঁতকে উঠে বললো ওরে বাবা, ক্লোর মিন্ট খেয়ে বাড়ি ঢুকলেই ভাববে নিশ্চয়ই বিড়ির গন্ধ ঢাকার জন্য মেন্থল খেয়ে এসেছি ... সিগারেট খেয়ে ক্যালানি খেলে না হয় সহ্য করা যায় - মিন্ট খেয়ে এই দামড়া বয়সে মায়ের প্যাঁদানি পোষায় না ...


    দুই-টা আমার-ই ... আপাদমস্তক ক্লিন ইমেজ মেইন্টেন করে চলেছি বাড়িতে, সে যেন সাক্ষাৎ  ডেটল জলে ধোয়া বিবেকানন্দ ... হঠাৎ মা একদিন জামা কাচতে দিতে গিয়ে বললেন, তুই যে বলিস স্মোক করিস না, তা জামার পকেটে এতো তামাকের গুঁড়ো কেন? ... আমি অম্লানবদনে জবাব দিয়েছিলাম, হোস্টেল বড়ো নিষ্ঠুর জায়গা, সিনিয়র-দাদার আমাকে দিয়েই সিগারেট কিনতে পাঠায়, আমি পকেটে করে নিয়ে আসি ... আসা-যাওয়ার রাস্তায় অল্প খসে খসে পড়েছে ...


    এই ঘটনার কদিন পরের কথা, আমি আর রাজা আই-এস-আইএর পেছনের একটা বাস্কেটবল কোর্টে বসে গ্যাঁজাচ্ছি ... (এইখানে বলা উচিৎ, এই প্রলেতারিয়াত কোর্টে কোনোদিন-ও বড়োলোকী বাস্কেটবল বা অন্য কিছুই খেলা হয়নি, খালি আমি ভালোবেসে একটি গাঁজার চারা পুঁতেছিলেম কোর্টের এক কোণে আর একটা ছাগল সেটা এক পড়ন্ত বিকেলে খেয়ে খুব আনন্দ পেয়েছিলো) ... তো গ্যাঁজাতে গ্যাঁজাতে হঠাৎ গুণ্ডার ফোন, আব্বে তোর বাবা-মা তোর রুমে ঢুকে পড়েছে ...


    ঘরে ফিরে দেখেছিলাম, মা সব গুছিয়ে রেখেছেন ... এমনকি সিগারেটের প্যাকেটগুলো পর্যন্ত একজায়গায় জড়ো করে রাখা ... বাবা গম্ভীর হয়ে বললেন, খাবে খাও, আমাকে দেখে তো শিখবে না, দরজা বন্ধ করে খেয়ো না, কার্বন মনোক্সাইড ইজ আ ডেডলি সাবস্ট্যান্স ... (সেই থেকে, সুধী পাঠক, এখন-ও বন্ধ ঘরে খাই না, অন্ততঃ বারান্দায় যাই) ...


    ভেবেছিলাম মার খাবো, কিন্তু খাইনি ... খাইনি বলেই হয়তো গভীর অনুশোচনা হয়েছিলো সেদিন ... হয়তো ছেড়েই দিতাম, কিন্তু কি করবো, একে তো প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, তার উপর অসৎসঙ্গে রোজরোজ স্বর্গবাস ... মার্ক টোয়েন না কে যেন সেই বলে গেছিলেন না, সিগারেট ছেড়ে দেওয়া খুব সোজা, আমি নিজেই কয়েকশো বার ছেড়েছি ...


    তবে কি জানেন ... ছেড়ে দেওয়ার পরেপরেই বড্ডো মিস করি  ... মনে হয় যেন আমাদের পোকায় কাটা জীবনের ছোট্ট-ছোট্ট ফাঁক-ফোঁকর গুলো কি সুন্দর ভরে যেতো সিগারেটের ধোঁয়ায় ... সেই ফাঁকগুলো বিশাল বড়ো মনে হয় ...


    মনে পড়ে ফিফথ ইয়ারের কথা, রাত্রে খাওয়ার পর একটা নেভি কাট ধরাতাম এক বান্ধবীর সাথে, কাউন্টারে খেতাম   ... খানিকক্ষণ যে সেই অছিলায় বসে থাকতাম অন্নপূর্ণা কেবিনের ছোট্ট টেবিল-টায় ... সেই মুহূর্ত-টা, সেই একটা নির্জন, নিস্তব্ধ মিনিট ... আমি কিন্তু সত্যি বিশ্বাস করতাম, চা, কফি আর ব্যর্থ প্রেমের প্রকৃত স্বাদ স্মোকার ছাড়া আর কেউ-ই জানেন না ...


    এখন মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের সেই প্যারেন্থেটিক্যাল স্পেসগুলো দখল করে নিয়েছে কেউ... যেন পাহাড়ে উঠছি তো উঠছি, সামনে অনেকটা আঁকা-বাঁকা পথ ... এক-একটা ওভারলুকিং পয়েন্ট এলে তিন বন্ধু দাঁড়াবো সেই বিশালত্বের সামনে ... কিন্তু কতোক্ষণ লম্বা সে মুহূর্ত? একটা সিগারেট তিনজনের ঠোঁটে ঘুরে ঘুরে শেষ হতে যতক্ষণ লাগে ঠিক ততোক্ষণ ... বছর কয়েক আগে একদিন হঠাৎ বুঝতে পারলাম, আমাদের সেই সময়ের ইউনিট এখন অচল, সৌন্দর্যের সামনে মুগ্ধ হওয়ার সময় বাঁধা এখন সেলফি-তে ...


    কতো বন্ধু ছিলো জীবনে ... সিগারেটের বন্ধু ... অফিস-চত্ত্বরে এক কোণায় একটা ঘুপচি জায়গা বরাদ্দ বিড়িখোরদের জন্য, সেইখানে গিয়ে রোজ দেখা হতো কয়েকটা লোকের সঙ্গে ... মুখ লুকিয়ে চুপিচুপি এসেছে কাজের ফাঁকে ... তাদের সাথে যে কত সন্ধ্যে কেটে গেলো মেরিন ড্রাইভে, লাস্ট লোকালে আর কাফে মন্ডেগায় সে কথা-ও কি আর বলে শেষ করা যাবে?


    যাই হোক, কি যে লিখবো বলে শুরু করেছিলাম আর কি লিখলাম কে জানে ... বিশ্বাস করুন এইটা কোনোভাবেই তামাকু সেবনের উপকারিতা প্রবন্ধ নয় ... একচুল-ও নয় ... বিশ্বাস না হলে বলুন, আমার সামনেই একটা দেশ থেকে আনা প্যাকেট ... তার উপরের পচা-গলা মাড়ি আর বুকের টিউবের ছবি দেখলে আঁতকে উঠবেন না এমন বীর পেড্রো ভূভারতে নেই ...


    পড়েছিলাম সমরেশ মজুমদারের একসময় সিগারেট খাওয়া বারণ হয়ে যায় - কিন্তু ঐটি ছাড়া লেখা কিছুতেই আসতো না ... ভদ্রলোক তার ছোট্ট বন্ধ ঘরে বাঁ হাতে ধরে থাকতেন একটি জ্বলন্ত সিগারেট, ডান হাতে লিখে চলতেন একের পর এক গল্প, উপন্যাস ...


    সেই অবস্থা আমার যে হয়েছে তা নয়, তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে সেই বন্ধুগুলোর সাথে দেখা হয়, আড্ডা মারতে মারতে আমরা ঠিক করি, একদিন ষাট পেরোবো আমরা একসাথে, সেইদিন সব তল্পি-তল্পা নিয়ে একটা সমুদ্রের ধারে ছোট্ট কুঁড়েঘরে গিয়ে উঠবো সবাই মিলে, আমাদের সঙ্গে থাকবে শুধু দারুণ কয়েকটা বই, দু-একটা পুরোনো ডায়রি ... আর অনেক অনেক আনফিল্টারড চারমিনার ...

  • বিভাগ : ব্লগ | ১৫ মে ২০২১ | ৫২৫ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ১৫ মে ২০২১ ১২:০৬106003
  • চারমিনার। পাঁচ পয়সায় দুটো, পানামা একটা। নাকতলার বন্ধুদের ধারণা চারমিনারে টিভি হয়। ওরা আমায় পানামা দিলে কাউন্টারে বদলে দুটো চারু। 


    নাকতলা মাঠের আলোআঁধারিতে একটি মেয়ে প্রপোজ করেছিল। আমার বয়স আঠেরো। সেই অহংকারে   বর্বরের মত ধোঁয়া ছেড়ে বলেছিলাম-- চারমিনারের   ধোঁঁয়াায় বুুক ভর্তি, তোমায়    কোথায় বসতে দেব?


    ভগবান সব দেখছিলেন।


    একবছরের মধ্যে দুই বুকে চাঁদের পাহাড় নিয়ে শয্যা শয্যাশায়ী হলাম। বাকিজীবন কেউ প্রপোজ করল না।


    মাঝেমাঝে স্বপ্নে হাতে আসে চারমিনার।  কিন্ত  হাওয়া আড়াল করে ধরানোর মুহুর্তে করুণ মুখে মা এসে সামনে দাঁড়ায়।

  • যদুবাবু | ১৬ মে ২০২১ ০১:১২106057
  • উফ ! রঞ্জন-দা ... কী লিখলেন ! সুনীলের অল্পবয়সের কবিতার কথা মনে পড়ে গেলো। 


    আরেকটু শুনি, আরেকটু শুনি। নাকতলার মাঠের গল্প, চারমিনার - পানামা - আলো-আঁধারির গল্প। :) 

  • a | 220.244.191.117 | ১৬ মে ২০২১ ১৮:৫৯106099
  • এহেহে যদুবাবু তো নেহাতই পোলাপান। ফ্লেকের জন্মই তো হল চোখের সামনে, আমরা টেস্ট করে করে জায়গা দিয়েছিলাম, চার্মস, রিজেন্ট আর স্পেশালের পাশে। 


    হলুদ প্যাকেটে চারমিনার আর কালো প্যাকেটে ক্যাপস্টানের আনফিল্টার, যার প্রচলিত নামে কিনতে গিয়ে দোকানদারের কাছে খিস্তি খেয়েছিল কে যেন একটা, এর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে ফ্রান্স এর বিস্বজয় আর পোর্তুগালের ইউরো জয়ের লাইভ। 


    তবে এসবই কলকাতায়। গঙ্গা পেরিয়ে বিক্কলেজে মাইরি খেতাম শুধু বিড়ি। আড়াই টাকায় এক প্যাকেট ছোট শ্রমিক, নাতিদীর্ঘ টাইট বডি। বড় শ্রমিকও ছিল বইকি, আর ছিল লাল আর বেগুনি সুতোর, ব্যাক্তিগত দ্বিতীয় পছন্দ। 


    এইসব। টুকরো কথা। 

  • kk | 97.91.195.43 | ১৬ মে ২০২১ ২১:২৮106108
  • খুব ভালো লাগলো পড়তে যদুবাবু।

    "মনে হয় যেন আমাদের পোকায় কাটা জীবনের ছোট্ট-ছোট্ট ফাঁক-ফোঁকর গুলো কি সুন্দর ভরে যেতো সিগারেটের ধোঁয়ায় ... সেই ফাঁকগুলো বিশাল বড়ো মনে হয় ..." এই এক্সপ্রেশনটা অনবদ্য!



    এর পরে একটা সময় আসে যখন ঐ ফাঁকগুলো যে আছে, ছিলো, তা আর মনে পড়েনা। কত স্মৃতিই কীরকম ট্রিক প্লে করে! 

  • যদুবাবু | ১৬ মে ২০২১ ২৩:৪৫106112
  • @a - চার্মস আর রিজেন্ট খুব মনে আছে। কয়েকটা কোম্পানির বিজ্ঞাপন খুব-ই ভালো লাগতো (এই যেমন নিচের-টা, যৌবনের কবীর বেদি)। এখন অবশ্য মনে হয় না লাগলেই মঙ্গল ছিলো। একরকমের রোম্যান্টিসিজম যে তৈরী হয়েছিলো, আর সে যে এখনো কাটেনি, এ কথা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। 
    আর পোলাপান তো রেফারেন্স ফ্রেমের উপর। নিজেকে তো নিজের হিজল দাগড়া ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। আবার আমার চোখে যারা পোলাপান, তারাও মনে-মনে পলিটবুড়ো। তবে খুব পোলা নই, ফ্রান্সের বিশ্বজয় তো ৯৮?  তার কয়েকদিন পরেই ঐ দোকানেই যদুবাবুও ভয়ে ভয়ে সিগারেট কিনেছেন। 

    'কে যেন একটা'-কে বলুন না একটু সেইসব গল্প করতে? :) 

    @kk - যা বলেছেন। হয়তো এ-ও একরকমের সার্ভাইভাল স্ট্রাটেজি। আমার এক গেঁজেল বন্ধু ্বলতো গাঁজা খেলে নাকি সে কিছুতেই মন খারাপ করতে পারে না, আর কেটে গেলেই অলি-গলি-মেলানকলি। আমি তাকে বিশ্বাস করে খেয়েটেয়ে দেখেছি, খেলেই ভয়ানক দুঃখ হয়, নিজেকে ট্রাজেডি নাটকের চরিত্র মনে হয়। কে জানে কার মগজে কেমন কল কোন বাতাসে নড়ে? 



     

  • এলেবেলে | 202.142.96.201 | ১৭ মে ২০২১ ০১:০২106114
  • যাক অ্যাদ্দিনে গুরুতে একজনকে অন্তত বুক চিতিয়ে বিড়ি ফোঁকার গপ্পো বলতে শুনলাম। আমাদের সময়ে এক বান্ডিলে ২৫টা বিড়ি, ২৫ পয়সা। আমরা বলতাম এক 'তাড়া' বিড়ি অনিলদা। সেই সময়ে চারমিনার ছিল ১০ পয়সা, প্যাকেট এক টাকা। সেই চারুতে জিভের লালা লাগলেই তাকে অবধারিতভাবে লাথি মারা হত। মারত পরে যে কাউন্টারটি টানবে সে। তাপ্পরে নেভি কাট, প্যাকেট ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। খুচরো বিক্রি ৬৫ পয়সা পিস। বুদ্ধি করে ৮টা ৫টাকায় কেনা হত। দোকানিকে বিজ্ঞের সুরে বোঝাতাম বাকি দুটো তো ৬৫ করেই বেচতে পারবেন। এখনও যেখানে বেড়াতে-টেড়াতে যাই কালেভদ্রে, সবার আগে পকেটে ওই তিনটে জিনিস থাকে। আর যে জায়গায় ধূমপান নিষেধ, সেখানে ধোঁয়া টানার মজাই আলাদা। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে কি না!


    ও হ্যাঁ, ঋত্বিকের বিড়ির দোকানে ধার হয়েছিল ৮০ টাকা। সেই টাকা শোধ হয়েছিল কিনা সেই বিষয়ে কবি নীরব।

  • Ranjan Roy | ১৭ মে ২০২১ ১২:২৯106137
  • সজনী, কথাটি কই গোপনে,


    চারু বিনা বিপ্লব হবে কেমনে?


    দিয়া চারুতে সুখটান,


    রাখি সর্বহারার মান,


    তাই মাঠে ঘাটে হয়না বিপ্লব 


    (আখর:আহা ক্ষেতখামারে হয়না বিপ্লব,  কারখানাতে হয়না বিপ্লব)


    হবে চায়ের দোকানে,


    চারু বিনা বিপ্লব হবে কেমনে?

  • সম্বিৎ | ১৭ মে ২০২১ ১২:৩৬106138
  • অতি সুখপাঠ্য। সুইটেস্ট সংস আর দোজ ...। আমি আজ পাঁচ বছর ক্লিন। কিন্তু এখনও মাঝরাতে চাঁদ ডাকে, আয়।

  • Ranjan Roy | ১৭ মে ২০২১ ১৮:৪৭106150
  • নাকতলা স্কুলের ব্যাকবেঞ্চে বসে ফুসুর ফুসুর করা আমাদের চার বন্ধুর নাম রাখা হোল সিগারেটের ব্র্যান্ডের নামে। সমীর চারমিনার মজুমদার,  অনিরুদ্ধ পাসিং শো বোস, দীপেন 'বাস' সাহা, আর রঞ্জন পানামা রায়। হ্যাঁ , তখন প্যাকেটের গায়ে দোতলা বাসের ছবিওলা একটা ব্র্যান্ড ছিল, বেশিদিন চলেনি।


     চল্লিশ বছর পরে কোলকাতায় গিয়ে দেখি 'পাসিং শো' নেই হয়ে গেছে। চারমিনার চলে গেল গত বছরে। নিয়মিত আড্ডা দিয়েছি। দীপেন বাস সাহা গেছে দু'মাস আগে কোভিডে, বিশ্বের প্রতি বুকভরা অভিমান নিয়ে। এখন টিকে আছি আমি- পানামা রায়। ্পাঁচ'বছর আগে প্রাক যৌবনে ফিরে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টায় মাসখানেক কিওস্ক থেকে পানামা কিনে পাটের দড়ির আগুন থেকে ধরিয়ে  টান মারছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারলাম অ্যাজমার অ্যাটাক ফিরে আসছে। তাই স্বপ্নে থাক সিগ্রেট বাস্তবে  তওবা! তওবা! 


    যদুবাবু,


    আপনার সাজেশানে বার খেলাম। এখন ধ্যানের চোখে দেখছি সন্ধ্যেবেলা নাকতলার মাঠ। তিন-চারদিনে টইয়ে নামিয়ে দেব।

  • যদুবাবু | ১৭ মে ২০২১ ১৮:৫৩106151
  • @এলেবেলেঃ " বুদ্ধি করে ৮টা ৫টাকায় কেনা হত।" - উফ, অসাধারণ হিসেব কিন্তু, হ্যাঁ? মাধ্যমিকের কেসিনাগের বইয়ের অঙ্কের মত। সে জেরক্সের দোকানে ক-পাতা এপিঠোওপিঠ জেরক্স করলে ক-টাকা খর্চা হবে আর বাকিটা টুকে নেবো ভাবার সময়ে এইসব অঙ্ক করতাম মনে মনে। 

    বুক চিতিয়ে লিখলাম বটে, তবে পরের অঙ্কবিষয়ক লেখার কিস্তিতে এই নিয়ে কিঞ্চিৎ পাপস্খালন করেই ফেলবো। এই বাজারে 'আমি জেনেশুনে বিষ করেছি পান' বললে লোকে চাঁদা তুলে পেটাবে। ওই ভয়েই লেখার মাঝে মাঝে বিধিসম্মত সতর্কীকরণ দিয়েছি। 

    @রঞ্জন-দা; আহা ! বিদ্যাসাগর বেঁচে থাকলে লিখতেন, "এ জন্মের মত আমার সে চারু-লতা নিৰ্ম্মূল হইয়া গিয়াছে।" 

    @সম্বিৎ - থ্যাঙ্ক ইউ ! আর না না একদম না, একাকী  খাবেন  যাবেন না, অসময়ে। :) 

  • যদুবাবু | ১৭ মে ২০২১ ১৯:০১106152
  • @ রঞ্জন-দা (১৮:৪৭) - মন খারাপ হয়ে গেলো। এই গল্পটার শুরু যাকে নিয়ে সেই প্রকান্ড মহীরুহ-ও তার ডালপালা, তার শেকড়, তার কোটরে বাস করা তক্ষক, তার বর্ষার জলে পাতা ইঁট – সব নিয়ে একদিন চলে গেছেন কোনো একটা দৃশ্যের ওপারে ... সেইখানে যেখানে আর কোনো চিঠি-ই পৌঁছয় না, তবে বন্ধুরা মিলে কাউন্টার শেয়ার করছেন কি না সে জানা নেই। 

    একটা অ্যাড দেখাতো মাঝে আম্রিকার টিভিতে, যে প্রত্যেকটা সিগারেট সাত মিনিট করে আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে, এবার ভেবে দেখুন সেই সাত মিনিটে কী করতেন? নিজের সন্তান/পোষ্য/পরিবার-কে এক্সট্রা সাত মিনিট ভালোবাসতেন? ঐটা দেখে আমার-ও কোথাও একটা ধাক্কা লাগে, তারপর একেবারেই ছেড়ে না দিলেও খুব-ই কমিয়ে দিয়েছি। 

    আপনি অবশ্যই লিখুন। আপনার লেখা পড়তে প্রচন্ড ভালো লাগে। 
     

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ১৭ মে ২০২১ ২০:০৭106153
  • সবই বুঝলাম, কিন্তু প্রত্যেকটা সিগারেট সাত মিনিট আয়ু কমায় শুনে মনে পড়ল, আমাদের ব্যাচের একজন বলেছিল দিনে দুপ্যাকেট সিগারেট ফুঁকে আমার জেঠু আশি পার করল, সিগারেট না কিনলে ফেলারকে তো ইন্ট্রোডাকশনটা নতুন করে লিখতে হত :)
     

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ১৭ মে ২০২১ ২০:১১106154
  • রঞ্জনদা এখুনি জানতে চাইবেন ফেলারের ইন্ট্রোডাকশনের গল্পটা কী - এই নিন :)



  • Ranjan Roy | ১৭ মে ২০২১ ২০:৫০106157
  • অভ্যু 


    ফেলারের ইন্ট্রোডাকশনের উদ্ধৃতিটুকু খুব ভাল লাগল। একটা অসীম অনন্ত সম্ভাবনাকে ম্যাথমেটিক্যাল লজিকে বাঁধার প্রচেষ্টার মধ্যে একটা বিউটি আছে। আদৌ পরশুরামের ভুত=০ এবং ঈশ্বর= স্কোয়াররুট অফ জিরো (নাকি উল্টোটা?) গোছের নয়।

  • যদুবাবু | ১৭ মে ২০২১ ২২:৫১106161
  • অভ্যুদার কমেন্ট পড়তে গিয়ে একটা যুম মিটিঙএর মাঝে খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসলাম, যে ভদ্রলোক বা মহিলা যুমের মিউট বাটন আবিষ্কার করেছেন তাকে একটা নোবেলশ্রী-ট্রি কিছু একটা দেওয়া দরকার। 


    @রঞ্জন-দা, এইটা সত্যিই একটা অদ্ভুত জিনিষ, তাই না? এই যেমন যদি জিগ্যেস করে যে গ্রহান্তরের জীবন আছে কি না তার প্রোবাবিলিটি কত? এই নিয়ে একটা গোটা ইক্যুয়েশান আছে, ড্রেক ইকুয়েশান যেটা এস্টিমেট করে কতগুলো active, communicative extraterrestrial civilizations আছে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি-তে । ভারি মজার জিনিষ। মানে এই গোটা জিনিষ-টা সিরিয়াসলি ফর্মুলেট করেছেন একজন এবং রীতিমত অনেকে মাঝেসাঝে আলোচনা করে নাম্বারগুলো পাল্টায়-টাল্টায়। ফ্যাসিনেটিং না? 





     

  • Ranjan Roy | ১৭ মে ২০২১ ২৩:০৭106162
  • বসে বসে কল্পনা করার চেষ্টাটাও ভারি আনন্দের।

  • আলফা | 2409:4064:4e12:f210:d860:38d8:f3db:ca69 | ১৮ মে ২০২১ ২০:৩৯106177
  • পানামা....গুড টু দি লাস্ট পাফ. খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন আসতো   

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন