• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • হারিয়ে যাওয়া কোলকাতার গল্পঃ পর্ব ৩

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১০ মে ২০২১ | ১২২২ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
    (২)

    আমাদের সেই পঞ্চাশের দশকে অক্ষর পরিচয় হতেই ধারাপাত নামের একটা লম্বাটে পাতলা বই খুলে এইসব শুভংকরের আর্যা আর কড়া-গন্ডা-পণ জোরে জোরে দুলে দুলে মুখস্থ করতে হত।

    "কুড়োবা কুড়োবা কুড়োবা লিজ্জে,
    কাঠায় কুড়োবা কাঠায় লিজ্জে।
    কাঠায় কাঠায় ধূল পরিমাণ,
    বিশগন্ডা হয় কাঠার সমান।"

    আসলে তখনও মেট্রিক পদ্ধতি ব্রিটিশ ভারতে আসেনি। এল সেই ১৯৫৭ সালে। আমরা আগের ধারাপাত তাকে তুলে শিখলাম -- দশের নামতা, নতুন শতকিয়া -- একশ' নয়া পয়সায় এক টাকা। তখন ওই ছোটো ছোটো পয়সার গায়ে নয়া পয়সাই খোদাই করা থাকত আর স্কুল পাঠ্য অংকের বইয়ে ন.প.। ধীরে ধীরে উঠে গেল তামার এক পয়সা, দু'পয়সা, মাঝখানে ফুটোওলা। তার পরে গেল সিকি আর ব্যাঙের আধূলি। প্রথম ডিমনিটাইজেশন!

    আরে না না। ধান ভানতে শিবের গীত গাইছি না, গোরু রচনা লিখছি না। খাদ্যাখাদ্য নিয়ে আড্ডা হবে, তো বাজার দর, কেনাকাটা নিয়ে কথা হবে না? শায়েস্তা খাঁর সময় টাকায় আটসের চাল পাওয়া যেত, তো সুরাবর্দী, মোমিন খাঁ আর বিধান রায় ও প্রফুল্ল ঘোষের সময়ের বাজার দর উহ্য থাকবে?

    এই ধরুন গন্ডা শব্দটি। গোণাগুণতির ব্যাপারে একেবারে প্রাথমিক ইউনিট। সেদিনও তো মা-মাসিমারা বলতেন -- অমুককে দেখ, গন্ডায় গন্ডায় ছেলে বিয়োচ্ছে।

    এবার সেই বহুপ্রচলিত বাঙাল পিজে -- রামচন্দর, ডাইলে লংকা দিছ কয় গন্ডা?

    তাহলে গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে বাজারে থলি নিয়ে ঢোকার আগে টাকা-আনা-পাইয়ের হিসেবটি মন দিয়ে শুনুন।

    এক পয়সা = এক তামার ছোট মুদ্রা।
    চার পয়সা = এক আনা।
    আট আনা = আধূলি।
    ষোল আনা = দুই আধূলি = এক টাকা।
    এক গন্ডা = ৪ পিস।

    পার্কসার্কাসের ধাঙড় বাজারে ১৯৪৯-৫০ সালের বাজার দরঃ

    ১ গন্ডা ডিম = ৬ পয়সা।
    ১ গন্ডা কইমাছ = ১ আনা।
    দুই সেরি রুইমাছ = একটাকা।

    মাছ বিক্রির সময় পিসগুলো হবে এ'ভাবে:

    বড় মাছ লম্বালম্বি চিরে পেটি গাদা ল্যাজা মুড়ো; আর হল চোক - মানে হাফ মাথা ও কানকোর গায়ে লাগা বেশ খানিকটে মাছ।

    প্রসন্ন গোয়ালিনী ধর্মচ্যুত হইবে না

    ১ সের দুধ = ৬ পয়সা।

    খাঁটি দুধের পরীক্ষা - নখের ওপর এক ফোঁটা ঢাললে যেন খাড়াইয়া থাকে, চলকাইয়া না যায়।

    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar


    বড়পিসিমা শিশিরকণা প্রসন্ন গোয়ালিনীকে বললেন দাম সের প্রতি একটাকা বেশি নিয়ে খাঁটি দুধ দিতে, উনি নখের উপর রেখে পরীক্ষে করবেন। কিন্তু প্রসন্ন গোয়ালিনী জানালো যে দুধে জল মেশানো গোয়ালার ধর্ম, ও ধর্মচ্যুত হবে না। শুধু জলটা কম ও বেশি করবে। শিশিরের মনে ঘটিদেশের নৈতিকতা নিয়ে সন্দেহ দৃঢ় হল।

    (৩)

    আজ সকাল থেকেই বাচ্চাগুলো ভয়ে ভয়ে রয়েছে। কেননা বাড়ির কর্তা সতীশচন্দ্রের মেজাজ সকাল থেকেই বেলা বারোটার রোদ্দূরের মত উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তার অনেকটাই পড়েছে মেজ নাতির ওপর।

    কী জানি কেন উনি এই নাতিকে বিশেষ পছন্দ করেন না। আবার বড় নাতিকে মাথায় চড়িয়ে রেখেছেন। অনায়াসে বলেন নাতিদের মইধ্যে বড় শ্রেষ্ঠ, কিন্তু আমার ছেলেদের মধ্যে খুকা শ্রেষ্ঠ। খুকা বা খোকা তাঁর তৃতীয় সন্তান।

    পোষা জন্তু ও বাচ্চারা তাদের ষষ্ঠেন্দ্রিয় দিয়ে চিনে নেয় কে তাদের আশকারা দেবে আর কে দুরছাই করবে। বড়নাতি দাদুর সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমোয়। আর মেজনাতি দাদুর থেকে দূরে দূরেই থাকে।
    কিন্তু আজ ওর কপাল খারাপ।

    ছাদে খেলতে খেলতে পেটে মোচড় দেওয়ায় দৌড়ে নেমে বারান্দা পেরিয়ে এক ধাক্কায় বাথরুমের ভেজানো দরজা খুলে পায়খানায় ঢুকতে যাবে এমন সময় এক ধমক। ভেতরে ওর দাদু বসে আছেন, দরজা ঠিক মত বন্ধ হয় নি। এদিকে বাইশ জন সদস্যের জন্যে একটিই বাথরুম পায়খানা। আগে বাথরুমে ঢুকলে তবে পায়খানায় যাওয়া যায়। তাই অধিকাংশ সময়েই কোন একজন সেখানে প্রবেশাধিকার পায় -- সে বড় বাইরেই হোক কি ছোট বাইরে।

    বাজপড়ার মত এক ধমকে ওর তলপেটের চাপ উর্দ্ধমুখী হয়ে যায়। ও একহাতে প্যান্ট তুলে নিয়ে এক দৌড়ে আবার ছাদে ফিরে যায়।
    অনেকক্ষণ হয়ে গেল। উনি কি এখনও বেরোন নি? আবার পেটের ভেতরে মেঘ ডাকতে শুরু করেছে যে! ও পা টিপে টিপে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় নেমেছে কি আবার সামনে দাদু। উনি সেজে গুজে কাঁধে একটি গরম চাদর নিয়ে বেরোচ্ছেন, আজ মামলার দিন পড়েছে, কোর্টে যাবেন।
    চোখে চোখ পড়তেই নাতি ভয়ে কেঁচো। উনি চোখ পাকিয়ে আহাম্মক অপোগন্ডটিকে এক নজর দেখলেন। বন্দুকের গুলির মত মুখ থেকে ছিটকে বেরোল -- বলদ!
    নাতি মাথা নীচু করে প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে ওঁকে পাশ কাটিয়ে সোজা বাথরুমে।

    সুযোগসন্ধানী বড়নাতি ভাইয়ের হেনস্থা আন্দাজ করে ধীরে সুস্থে নীচে নেমে রান্নাঘরে গেল। ও বড়দের গল্প ও পরচর্চা হাঁ করে গেলে। সেখানে ঠাকুমা ও পিসিমার উত্তেজিত কথা বার্তা থেকে যা বুঝল তা হচ্ছে আজ সতীশচন্দ্রের মেজাজ বিগড়োনোর প্রত্যক্ষ কারণ পূর্ব পাকিস্তানে থেকে আসা একটি চিঠি।

    ময়মনসিংহ জেলার আঠারবাড়িয়া গ্রাম থেকে কোন এক লাউয়া মিঞা বা মোম আলি পনের টাকা ধার চেয়ে লিখেছে এক নাতিদীর্ঘ পত্র।

    ছালাম আলেকুম,
    বড়কর্তা,

    আশা করি খোদার দয়ায় আপনে মা ঠাউরাইন শংকর, নারু, খোকা, ও বাকি সব ছাওয়ালেরা খেইরতে আছেন।
    হিন্দুস্থানে গিয়া আপনারা ভাল থাকেন, আমি খোদার কাছে হেই দোয়া করি, মোনাজাত করি।
    আমরা এখানে ভাল নাই। যারা আপনের ধানীজমি আর বাড়ি কিনছে তারা অইন্য মুনিষ অইন্য মাইন্দার রাখছে। আমারে কেউ কামে লয় নাই। বড় ব্যাডার বিয়া দিছি, অপনাদের দয়ায় বড় মাইয়া জহিরন বিবিরও নিকা হইয়া গ্যাছে।
    কর্তা, কথা হইল কিছু ধার কর্জ হইয়া গেছে। এইবার পাটের ফসল মাইর গ্যাছে। নিবেদন এই যে যদি আমার ঠিকানায় পনেরডি ট্যাহা পাঠাইয়া দেন তো খাইয়া বাঁচি।
    আমি এই ট্যাহা দশ মাসে শোধ দিয়াম। আপনে দ্যাখছেন আইজ অব্দি আপনাদের লাউয়া মিঞার মুখ দিয়া হাচা বই মিছা বাইরয় নাই।

    খোদা হাফিজ!

    আপনদের বান্দা মোম আলি উরফ লাউয়া।

    নিরক্ষর লাউয়া মিঞা নিশ্চয় এই চিঠি কাউকে ধরে লিখিয়েছে। এই চিঠি পড়ে সতীশচন্দ্রের মুখ ভার। স্ত্রী সরযুবালা সব শুনে বললেন -- দ্যান পাঠাইয়া পনেরডা ট্যাহা! পারলে শোধ দিব, না পারলে নাই।
    কত ট্যাহা তো আনালে যায়।
    স্ত্রীর এই ওকালতিতে সতীশচন্দ্র রেগে আগুন।
    -- এইডা কী কইলা? আমাদের নিজেদেরই একহনও মাথা গুঁজবার ঠাঁই জুটে নাই,সাহার বাড়িতে ভাড়া আছি। গুণা গনতি ট্যাহা। রোজ বাজার থেইক্যা ফিরা এক এক পয়সা তবিল মিলাইয়া তবে সকালের জলখাবার খাই।
    নাঃ শ্যাকের লাথথি খাইয়া হেই দেশ থেইক্যা এই পারে আইছি এখ্ন আর লাউয়ার সঙ্গে কুন সম্বন্ধ নাই। মেঘনা নদী পার হইয়া সবকিছু চুইক্যা বুইক্যা গ্যাছে।
    সরযূবালা মুখ ভার করে দুপুরে খেলেন না। বড়মেয়ে বকুল আর বড় বৌ স্মৃতিকণাকে বললেন -- কথাডা শুনলি? লাউয়া আর অর ভাই বুইধ্যা আমাদের ছেলেপিলেদের কোলেকাঁখে কইর‍্যা কানমলা দিয়া বড় করছে -- এখন কুন সম্বন্ধ নাই কইলে হইব?
    | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১০ মে ২০২১ | ১২২২ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | ১১ মে ২০২১ ০৪:২৪105846
  • রঞ্জনবাবু, টাকা আনা  সের এইসব নিয়ে একটা প্রশ্ন ছিল আপনার কাছে, এর সিম্বল গুলো একটু লিখে বুঝিয়ে দেবেন? মায়ের একটা ৬৩ সালের ডায়েরি তেদেখেছি  তিনি ।।., \. ধরণের নানার রকমের চিহ্ন এঁকে রাখতেন সংখ্যাগুলোর পাশে । ডায়রিটা হাতের কাছে আমার এই বাড়িতে নেই, কিন্তু চিহ্নগুলো কতকটা মনে আছে । 

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ১১ মে ২০২১ ০৬:১৭105848
  • অরিনদা, এই রকম? :)


  • Amit | 203.0.3.2 | ১১ মে ২০২১ ০৮:৩০105849
  • এটা পড়তে পড়তে অনেকটা যেন তপন রায়চৌধুরী র বাঙালনামার ফ্লেভার পাচ্ছি। জব্বর হচ্ছে। 

  • অরিন | ১১ মে ২০২১ ০৮:৪৪105850
  • Abhyu , ছবিটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, আরেকটি বার তুলে দেয়া যাবে? 

  • | ১১ মে ২০২১ ০৯:২৮105853
  • অভ্যুর ছবিটা আমি মোবাইল থেকে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি। 

  • অরিন | ১১ মে ২০২১ ১০:২৮105855
  •  অভ্যু,একেবারেই এই জিনিস ।


    আমি "দানের হিসেব" গল্পটায়   এইগুলো ছিল,  ভুলে গেলাম কি করে? 


    আমার আর বেশিদিন নেই ।

  • Ranjan Roy | ১১ মে ২০২১ ১৩:২৯105860
  • অরিন


     দু'এক ঘন্টার মধ্যে পেরে যাব আশা করি। আসলে এত বছরের পর। টাকা, আনা ছাড়া সব সিম্বল ভুলে গেছি। আমার ছোটকার থেকে জেনে হোয়াতে পাঠাতে রিকোয়েস্ট করেছি ওনার ছোট ছেলেকে। গুরুর প্রাক্তন সপা চিন্টুবাবুর ছোটভাই।


    বেচারা পায়ের সার্জারির ফলে ঘরে বন্দী। তবে এতদিনে ওয়াকার নিয়ে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ও রাজি হয়েছে।

  • সমরেন্দ্র বিশ্বাস | 2405:201:3005:d834:f180:87e3:c6a4:8c98 | ১১ মে ২০২১ ১৩:৩১105861
  • পোয়া, সের, গন্ডা, আনা, ধারাপাত এসব টেনে নিয়ে গেল পুরোণো জামানায়। যেহেতু আমার জন্মও পশ্চিমবঙ্গের এক বাঙাল পরিবারে, লেখার ভাষা, ডায়ালগ এগুলো যেন নিজস্ব পরিবারেরই পুরোণো সংস্কৃতি বলে  মনে হয়। সুন্দর রসগ্রাহী লেখা। লেখাটির অন্তিমে আছে লাউয়া মিঞার চিঠি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে অন্তঃপুরচারিনী সরজূবালার মন্তব্য এক মানবিক আবেদনে মনকে মোচড় দিয়ে যায়! 

  • Santosh Banerjee | ১১ মে ২০২১ ২০:১৬105869
  • অপূর্ব !অদ্ভুত !অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে যায় !!সিকি আধুলি , নয়া  পয়সা ।..এগুলো , তারপর দুধ বিক্রি করতে এসে গোয়ালা একগোছা লাউ শাক বা কুমড়ো ডাটা বা কোনো সবজি ।..এক্কেবারে ফ্রী ,বিনিময় বাবার পুরোনো একটা ধুতি বা তিন পকেট ওয়ালা শার্ট চাওয়া , আমাদের বাড়িতে এইরকম ""লাউয়া মিঞা ""একজন ছিল , নাম লক্ষণ !!খড়ি ফারতো সারাদিন , একদিন কুড়ুলে পা কেটে যাওয়া , মা সেখানে গেঁদা ফুলের পাতার রস দিয়ে কাপড় বেঁধে দেন !!লক্ষণ ওই দিন আমাদের বাড়িতে থেকে খাওয়া দাওয়া করে বাইরের বারান্দায় শুয়ে পরে ।।..না কোনো পেন কিলার না টিটেনাস পরের দিন দিব্বি চাঙ্গা , ইমমুনিটির প্রাচুর্য্য !!! কোথায় গেলো ওসব দিন ???

  • Abhyu | 198.137.20.25 | ১২ মে ২০২১ ২২:০৫105903
  • রঞ্জনদার হয়ে এখানে তুলে দিলাম। আরো ভালো হয় উনি যদি নিজের লেখার মধ্যেই এটা ইনকর্পোরেট করে নেন।


  • Ranjan Roy | ১৩ মে ২০২১ ০৪:২৯105904
  • থ্যাংকু অভ্যু।


      আমার নিজের ফাইলে যুক্ত করলাম।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন