• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • হারিয়ে যাওয়া কোলকাতার গল্পঃ পর্ব ২

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ০৩ মে ২০২১ | ১০০৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
    ~ প্রথম ভাগ ~

    (১) ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়

    পার্কসার্কাসের ধাঙড় বাজারের সার্কাস হোটেল। সামনের ফুটপাথে একটা হাইড্রেন, তার থেকে মুখ খুলে হোসপাইপ লাগিয়ে কর্পোরেশনের লোক রোজ ভোরে রাস্তা ধুয়ে দেয়। সময়টা যে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি। তোড়ে যে জল বেরিয়ে আসে তা কিন্তু গঙ্গার ঘোলা জল, আর ফুটপাথে থেকে তিন ধাপ সিঁড়ি ভেঙে বারান্দায় উঠলেই খোলা উনুন বসানো। সেখানে ঝকঝকে শিকে গেঁথে পোড়ানো হচ্ছে মশলা মাখা লালচে হলুদ রঙের মাংসের টুকরো। তৈরি হচ্ছে শিককাবাব। তার পাশেই দু'জন ময়দা মেখে লেচি বানিয়ে সেঁকছে রুমালি রুটি আর ভেজে তুলছে পরোটা।

    রাস্তার ওপারে ভাড়াবাড়ির লম্বাটে জাফরিকাটা এল-শেপের বারান্দার থেকে আমরা বাচ্চারা উঁকি মেরে দেখি কেমন কায়দা করে দুহাতের তালুতে লেচিগুলো থাপড়ে থাপড়ে আকার দেওয়া হচ্ছে আর শেষ মুহুর্তে শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে আবার বাজিগরের মত লুফে নেওয়া হচ্ছে।

    আমরা বড় হই শিককাবাবের সেঁকা-ঝলসানো-পোড়া মাংসের গন্ধ নাসায় নিয়ে, অভ্যস্ত হই । যদিও অজ্ঞাত কারণে ওখান থেকে লোভনীয় দেখতে শিককাবাব কিনে বাড়িতে আনার কথা কেউ বলে না। সেজকার বিয়ে হল খড়গপুরের ইন্দায়। সেখান থেকে নতুন কাকিমার বোন হিমানীমাসি এলেন ক'দিন আমাদের সঙ্গে থাকবেন বলে। কিন্তু সারাক্ষণ নাকে আঁচল গোঁজা, বারান্দা পা রাখতেন নিতান্ত অনিচ্ছায়।

    --- কী হল মাসি, শরীর ভালো লাগছে না?
    -- হ্যাঁ রে, তেমন কিছু না। ওই বিচ্ছিরি গন্ধ, আমার মাথা ধরে যায়, গা গোলায়, বমি পায়।
    --- সে কী, ও তো মাংস সেঁকার গন্ধ। আমাদের তো অসুবিধে হয় না। তুমি মাংস খাও না?
    --- দুর বোকা, খাব না কেন? কিন্তু ওগুলো যে গরুর মাংস, বীফ! ছি!
    আমরা এই নতুন শব্দটি উচ্চারণ করতে জিভে আরাম পাই - বীফ! বীফ! কেমন জয়ন্তী মণিমেলার মাঠে ড্রিলের হুইসিলের আওয়াজের মতন শোনায় - বীফ! বীফ! বিপ! বিপ!
    পরে মা-কাকিমাদের জিগ্যেস করি।
    সামনের হোটেলে গরুর মাংস রান্না করে কেন? কেন আবার, ওটা যে মুসলমানের হোটেল। আমরা ওসব খাই না। কেন খাই না? উঃ, এটা হদ্দ বোকা। আমরা যে হিন্দু। আমাদের ধর্মে গরু খাওয়া বারণ। কে বারণ করেছে? পন্ডিতমশাই? হ্যাঁ, হ্যাঁ, সব পন্ডিতমশাই। এবার যা তো এখান থেকে! ছাদে গিয়ে খেল গে যা!
    ছাদে গিয়ে খেলতে থাকি নীচের তলার নীলির সঙ্গে।
    কী জানি কেন নীলিকে দেখলেই আমার ঠাকুমার গা জ্বলে যায়।
    --- যা, তর গুরুঠাকুর আইছে! তুই পুষ্যালোক, মাইয়ামাইনসের লগে খেলস ক্যারে? শ্যাষে তুই ও মাইগ্যা (মেয়েলি?) হইবি, হেইডা বুঝস?
    আমি সরে যাই। একটাই বুঝি, আমি ক্লাস টু- তে পড়ি, ইলিও তাই, তবে আলাদা স্কুলে।
    হ্যাঁ, ও পরে ফ্রক আর ইজের, আমি গেঞ্জি আর প্যান্ট।
    কিন্তু ঠাকুমা যে হাত নেড়ে তেড়ে তেড়ে আসে-পড়াশুনায় মন নাই, খালি ছাদে গিয়া নীলির লগে কিলিকিলি করস্‌! শ্যাক বাড়ির ছেরির লগে অত কিয়ের পীরিত?
    অনুপ্রাসের ধ্বনি ও অন্ত্যমিলের মজা আমার বালক মনের নান্দনিকবোধে সুড়সুড়ি দেয় বটে, কিন্তু কথার ঝাঁঝে পিত্তি জ্বলে যায়।
    - হ্যাঁরে নীলি! তোরা মুসলমান?
    -হ্যাঁ তো; আমার ভাল নাম নিলোফার খাতুন।
    - কী অদ্ভূত নাম! আর তোর ছোটবোন সিলি? ও কি মুসলমান?
    ইলি খিলখিল করে হাসে। ও আলাদা করে কিছু হবে নাকি? ওর ভাল নাম সালেহা!
    - নিলোফার, সালেহা!এরকম শব্দ তো কখনও শুনিনি। তোর নামের মানে কি রে?
    -আমিও জানি না। এগুলো উর্দূ নাম; মার থেকে জেনে তবে কালকে বলব।
    -আমাদের বাড়ির বা চেনা কারও অমন নাম হয় না।
    -কী করে হবে, তোরা যে হিন্দু?
    -আমরা কিসে আলাদা?
    -- উমম্‌ তোরা পূজো করিস কেষ্টঠাকুরের, নামাজ পড়িস না। আমরা আমরা পূজো করি না, আল্লার জন্যে নামাজ পড়ি।
    - নামাজ কেমনি করে পড়ে রে?
    ও হাসতে থাকে।
    -- আরে দেখা না!
    ও হাসতে থাকে।
    -তুই কিস্যু জানিস না, জানলে দেখা।
    ও গম্ভীর হয় , তারপর পালাক্রমে দু'কানে হাত দিয়ে ,হাঁটু গেড়ে মাটিতে উবু হয়ে 'আল্লাহু আকবর' উচ্চারণ করে দেখাতে থাকে।
    তারপর দুজনেই হেসে ফেলি। আমি ভাবি নামাজ পড়ার রহস্য জেনে গেছি। এই ফ্ল্যাটবাড়িতে কোন বাচ্চা জানে না।
    তখন নীলি বলে যে আরেকটা ব্যাপার আছে। তোরা ছুন্নত করিস না। আমাদের ছেলেরা করে।
    -সেটা আবার কী?
    -ছেলেরা নয় -দশ বছরের হলে বাড়িতে বড়রা কোন মোল্লাকে ডেকে আনে। তারপর বাচ্চাটাকে ন্যাংটো করে হাতে একটা ছুরি নিয়ে বলে-- উ দেখ লালচিড়িয়া ! উ দেখ লালচিড়িয়া !
    -তারপর?
    --তারপর ঘ্যাঁচ করে নুনুর সামনেটা কেটে দেয়।
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar


    -ওরে বাবা! ওর লাগে না? রক্ত বেরোয় না?
    -একটু লাগে, কেউ কেউ কাঁদে। তারপর ওষুধে দু-একদিনে ঠিক হয়ে যায়।
    --কাউকে ন্যাংটো করে নুনু কেটে দেওয়া? অমন অসব্য কাজ কেন করে?
    - আরে আমাদের ধর্মের নিয়ম যে! ছুন্নত করলে তবে মুসলমান হয়।
    - নাঃ, আমি কক্‌ক্ষণো মুসলমান হব না।
    -তোকে কে হতে সাধছে?

    আচ্ছা, তুই তো মুসলমান, তোর ছুন্নত হয়েছে?
    -ধ্যাৎ, ওসব খালি ছেলেদের হয়, আমাদের নুনু নেই তো?
    --তোদের কী রকম? দেখাবি?
    --এবার মার খাবি। বলছি তো অন্যরকম।
    অপ্রস্তুত হয়ে অন্য কথায় আসি।
    -- আচ্ছা, নীলি! তুই গোরুর মাংস খাস?
    --খেয়েছি; কখনও সখনও।
    --তোদের বাড়িতে রোজ রান্না হয় না?
    --না; আমাদের মাংস হয় মাসে একদিন। খাসির। গোস্ত রাঁধা হয় পরবের দিনে।
    --রোজ কী হয়?
    - মাছ হয়, তোদের মতনই। আর তোকে বলি, খেতে ভাল খাসি আর মুরগী।

    পরের দিন দুপুরে ছোট ভাইকে মন দিয়ে হিন্দু মুসলমানের তফাৎ বোঝাছি এমন সময় কড়া নড়ে উঠল। আমার আগে ভাই দৌড়ে গেল। সবুজরঙা দরজার উঁচুতে ছিটকিনি লাগানো, আঙুল উঁচু করেও নাগাল পাইনে। ভাই জানলায় উঠে হাত বাড়িয়ে দরজাটা খোলে তারপরই 'দাদা, শকুনিবুড়ো এসেছে রে" বলে বাড়ির ভেতরের দিকে ছুট লাগায়।
    অগত্যা আমি দরজা খুলে কড়া নাড়া আগন্তুককে দেখি।
    লম্বা শুকনো চেহারার এক হাড়-খটখটে বুড়ো। তোবড়ানো গালে সাতদিনের না-কামানো দাড়ি। বাঁকানো নাক আর হলদেটে চোখে তীব্র চাউনি।
    সোজা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন--খোকা, তোমার দাদুকে খবর দাও। বল, আমি এখন তোমাদের বাড়ি খাব।
    - দাদু তো বাড়ি নেই।
    - ঠাকুমা আছেন তো? তাহলেই হবে, গিয়ে বল।
    ওঁর গলার হুকুমের সুরে পেছনে হটি। কী নাম বলব?
    --নাম বলার দরকার নেই। আমি খাব বললেই হবে, উনি বুঝবেন।
    দৌড়ে ভেতরে গিয়ে দেখি ভাইয়ের মুখে খবর পৌঁছে গেছে।
    - যাও, ওনাকে এনে বাইরের ঘরের চেয়ারে বসাও।
    তারপর ঠাকুমার নির্দেশমত মাথায় ঘোমটা দিয়ে মা এসে বাইরের ঘরে মাটিতে জল দিয়ে জায়গাটা মুছে আসন পেতে দেয়। তারপর থালায় করে ভাত আর বাটিতে করে ডাল, তরকারি আর দু'টুকরো মাছের সঙ্গে ঝোল এনে দেয়।
    ভদ্রলোক খেতে বসেন।
    ঠাকুমা পাখা হাতে করে নাড়তে থাকে। উনি সুন্দর করে ডাল দিয়ে ভাত মেখে তরকারি দিয়ে গুছিয়ে পাত পরিষ্কার করে খেয়ে নিয়ে বললেন--বৌমা, আরও ভাত লাগবে।
    মা তৈরিই ছিল। উনি মাছের ঝোল দিয়ে মেখে চেটেপুটে তৃপ্তি করে খেলে মা টমেটোর চাটনি এনে দিল।
    ঠাকুমা ওনাকে জল দিয়েছেন ইসলামপুরি কাঁসার গেলাসে। দেশভাগের সময় ওপার থেকে নিয়ে আসা।

    উনি বিদায় নিলে বলি--ঠাকুমা ,এই শকুনিবুড়োটা কে? কোথায় থাকেন?
    -- অ্যাই! খবরদার শকুনিবুড়ো কইবি না। উনি তোর দাদুর বয়সি।
    আমাদের ময়মনসিংহের আঠারবাড়িয়া গাঁয়ের পড়শি। এখানে ভাগ্নের কাছে থাকেন। ওনার আর কেউ নেই।
    -- ভাগ্নে কে? তুমি চেন?
    -- তুইও চিনিস, আমাদের পাড়ার বীরেন কম্পাউন্ডার।
    -- যিনি আমাদের বাড়িতে এসে হাসিমুখে গল্প বলে কলেরা টি এ বি সি ইঞ্জেক্শন, বসন্তের টিকা লাগিয়ে যান?
    --হ্যাঁ, তাইন বটে!
    --- উনি আমাদের বাড়ি খাইতে আসেন ক্যারে? বিনা নিমন্তনে? দুই-তিন মাস পরে পরে?
    --- ভাইগনায় ঠিকমত খাওন দেয় না, পেট ভরে না। বুড়া শুকাইয়া যাইত্যাছে, মরলে ওদের হাড় জুড়ায়।
    -- হেই লেইগ্যা?
    -- হ, নাতি। খিদা পাইলে মাইনষে কি না করে! প্যাটের জ্বালা বড় জ্বালা!
    | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৩ মে ২০২১ | ১০০৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • samarendra biswas | ০৪ মে ২০২১ ০০:২৮105414
  • বাঙাল বুলি আর কচি কাচা শৈশব , বয়স্ক জনের চহল পহল -সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগছে এই লেখা। পঞ্চাশ-ষাট দশকের দিনগুলো সত্যিই এম্নি ছিল!  আমারও বুকের ভেতর উস্কে উঠছে এমন অনেক অনেক স্মৃতি। - তখন আমরা ষাট দশকের কলোনীর গ্রামগঞ্জে থাকি। বউ বর সাজি আর রান্নাবাটি খেলি!  এটা এমন একটা বয়েস যখন সংসারে ছেলে- মেয়ের তফাত্‌ থাকে না । অপেক্ষায় রইলাম পরের কিস্তির জন্যে।

  • শেখরনাথ মুখোপাধ্যায় | 117.194.225.74 | ০৪ মে ২০২১ ০৭:২৬105419
  •  চমৎকার ছবি হচ্ছে। চালিয়ে যান।

  • Sandip Datta | ০৪ মে ২০২১ ০৮:১৬105421
  • প্রথম বিরিয়ানী র স্বাদ ১৯৮০ কলেজে গিয়ে, আর রুমালী বিফ কাবাব নিজামে সালটা এক বছর ছাত্র পড়ানোর হাতখরচ পাবার পর। তবে, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর গৃহযুদ্ধ বা চেতনার জগন্নাথ দেখা সেই সাথে, পারবে অন্যের ছেলের বাবা হতে? প্রশ্নটা সব পাঠকের জন্য। 


    বিষয় চমৎকৃত 

  • Sandip Datta | ০৪ মে ২০২১ ০৮:২০105422
  • ক্ষুধা কি! অনুভব করতে গেলে ৫৮ বছরের জীবনে আমার মত বিগত ১৮ বছর ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে অনুভূতি হীন বঙ্গ মানসিকতা পূর্ন পরিজন ও পাঠক সমাজে বেঁচে থাকতে হবে।


    জীবন বৃত্ত রৈখিক কি না টের পাওয়া যাবে! 

  • যদুবাবু | ০৫ মে ২০২১ ০৬:৪৯105476
  • খুব ভালো। 


    ঠাকুমার কথার ধরন অবিকল আমার দিদুর মত। এমনকি দু-একটা ফ্রেজ একেবারেই এক, যেমন 'হেইডা বুঝস?'। দিদু অনেক কথা বলতেন আমি কিছুই শুনতাম না, বা বলা যায় এক কান দিয়ে আরেক কান হয়ে বেরিইয়ে যেতো, শুধু মাঝে ঐ 'হেইডা বুঝস' শুনে চটক ভাঙতো। ঘাড় নেড়ে সায় দিতাম। দিদুর কথা মনে পড়ে গেলো। 

  • Santosh Banerjee | ১১ মে ২০২১ ২০:২৯105871
  • মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এই ধরনের ঘটনা গুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছে , প্রথম মেয়ে এবং ছেলের বায়োলজিক্যাল পার্থ্যক্য বোঝা,  হিন্দু আর মুসলমানের পার্থ্যক্য ইত্যাদি !! সুতরাং ঘুরে ফিরে আমার আপনার কথাই চলে আসছে এই প্রতিবেদনে !!চলুক দাদা , চলুক !!

  • আলফা | 157.42.239.122 | ১৮ মে ২০২১ ২০:১১106176
  • পড়ে আনন্দ পাচ্ছি. আরো আসুক.   

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন