• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • হারিয়ে যাওয়া কোলকাতার গল্প (১৯৫০-৬০) : ১৪শ পর্ব

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৬ আগস্ট ২০২১ | ৪১৫ বার পঠিত
  • | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
    যেখানেতে ঘটে যত অনিষ্টি, সকলের মূলে কমিউনিস্টি

    আমাদের বাড়িতে কেন জানি আনন্দবাজার বড় একটা আসত না। নিয়মিত আসত স্টেটসম্যান, যুগান্তর, আর চার কাকা ও এক পিসির সৌজন্যে ‘স্বাধীনতা’, যার স্ট্যাটাস ছিল আজকের গণশক্তির মত। দেশভাগের পর প্রাণহাতে করে সীমান্ত পেরিয়ে পার্কসার্কাসের দাদুর দস্তানায় মাথাগোঁজা বাইশ জনের অন্নসংস্থানের সমস্যা বড় সোজা ছিল না। দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র এক দশক হল। বিশ্বযুদ্ধের কঠিন দিনগুলো, জাপানি বোমার ভয়, মন্বন্তর, রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহ, কালোবাজারে উধাও হয়ে যাওয়া দরকারি জিনিষপত্র - এসব পেরিয়ে এসে মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে, ‘আচ্ছে দিন’ এল বলে। কমিউনিস্ট পার্টিও কাকদ্বীপ-তেভাগা, দমদম-বসিরহাট এসব এক্সপেরিমেন্ট পেরিয়ে বেআইনি তকমা ছেড়ে দু-দুটো সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশজুড়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে।

    কিন্তু তখনও কমিউনিস্ট পার্টির কাগজপত্র, নিদেনপক্ষে ‘সোভিয়েত ল্যান্ড’ গোছের নিরীহ প্রচারমূলক পত্রিকা কারও হাতে দেখলেই লোকে শঙ্কিত হত। চাকরি না চলে যায়! এয়ারফোর্সের টেলিপ্রিন্টার অপারেটর কাকামণির চাকরি এভাবেই নট হয়ে গেছল। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেও কোন লাভ হয় নি। সেজকাকা পুলিশ বিভাগে কনস্টেবলের চাকরি পেয়ে ক’দিন পরেই ছেড়ে দিলেন। উনি বুর্জোয়া রাষ্ট্রযন্ত্রের অঙ্গ পুলিশের চাকরি করবেন না। বড়ভাই সলিলকুমার ফোর্ট উইলিয়ামে ল্যান্স নায়েক। ওনার মাথায় হাত, এতগুলো পেটের ভাত, ছোট ভাইবোনের পড়াশুনো, এ কি অবিবেচকের মত কথাবার্তা! যা হোক, সেজকা ফুড ডিপার্টমেন্টে কাজ পেয়ে চলে গেল মেদিনীপুর জেলায়, বড় ভাইয়েরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন -- যদিও দাদু-ঠাকুমার মন খারাপ। ইউনিভারসিটির ছাত্রনেতা ন’কাকা কিছুদিন পার্টি কমিউনে রইলেন।

    এসব বুঝেছি বড় হয়ে।

    তখন আমাদের ছিল একটা বড় সাদাকালো ছবির বই, বাঁধানো। পঞ্চাশের দশকের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেঁটে চকচকে টাক ক্রুশ্চেভ দাদু সঙ্গে বুলগানিন দাদু এসে কোলকাতায় গড়ের মাঠে বিশাল মিটিং করেছিলেন। স্বাধীন ভারতে কোন বড় দেশের রাষ্ট্রনেতার, বিশেষ করে কমিউনিস্ট দেশের, এই প্রথম আসা। আমাদের বাড়ির মা-কাকিমারা দল বেঁধে দেখতে গেলেন, ফিরে এলেন ওই ছবির বই নিয়ে। আমরা ছোটরা শ্রদ্ধাভরে পাতা ওল্টাতাম।

    এমন সময় শুরু হল পর্তুগীজ শাসকের হাত থেকে গোয়া-দমন-দিউ মুক্ত করার আন্দোলন। সারা দেশ থেকে ভলান্টিয়ার যাচ্ছে আইন অমান্য করে জেলে যাবে বলে। এদের মধ্যে সবচেয়ে আগে কমিউনিস্টরা। সালাজারের পুলিশ গুলিও চালাচ্ছে। রোজ স্বাধীনতা পত্রিকায় ছবি দেখি পুলিশ মারছে, মাটিতে শুয়ে পড়ছে ভলান্টিয়াররা। কেন? তাহলে নাকি গুলি মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়!

    বালকবুদ্ধিতে বলিঃ মনে হয় কমিউনিস্টরা কোনদিনই জিততে পারবে না। পুলিশের আছে বন্দুক! তোমাদের কী আছে?

    ছোটকা হাসে, বলে — আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে ।

    ( তিন দশক পরে বড় ভাই অমিতাভ বচ্চন ছোট ভাইকে জিগান — তেরে পাস ক্যা হ্যায়? শশী কাপুর উত্তর দেন – মেরে পাস মেরি মাঁ হ্যাঁয়। )

    ছোটকার দেয়া ন্যাশনাল বুক এজেন্সির ‘পাতাবাহার’ বইয়ে সত্যজিত রায়, খালেদ চৌধুরি ও পূর্ণেন্দু পত্রীর অলংকরণ মুগ্ধ করে, নাড়া দেয় তাপস চৌধুরির নৌবিদ্রোহের গল্প আর ননী ভৌমিকের শালপাতার ডাক। সাঁওতাল বিদ্রোহের গল্পে ধামসা-মাদল-নাগাড়ার বোলে ভবিষ্যতের ইশারা— ডুম, ডুম, ডুম! জিতব, জিতব, একদিন জিতব।

    তখন কি জানতাম যে হাওয়ায় ওড়া শালপাতার হাতছানিতে আমাকেও একদিন কিশোর বয়সেই ঘর ছাড়তে হবে?

    মনিমেলার লাইব্রেরি যাওয়ার পথে পার্টি অফিসের পাস দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতাম ফর্সা টাকমাথা এক ভদ্রলোক ফুটপাথে চেয়ার পেতে বসে আছেন। কাকাদের মুখে শুনতাম – ওনার নাম হাসি দত্ত, পার্টির হোলটাইমার। ওই ইউনিটের সেক্রেটারি। ভদ্রলোক সার্থকনামা, সবসময় হাসি হাসি। আমি জানতে চাইতাম উনি কোন অফিসে চাকরি করেন? পার্টি অফিসে, তবে এটা ঠিক চাকরি নয়। সবসময় এখানে দেখি, উনি বাড়ি যান না? এটাই ওঁর বাড়ি, বিয়ে করেন নি।

    সদ্য আনন্দমঠ পড়েছি; ভাবি ইনি বোধহয় ভবানন্দ, জীবানন্দের আত্মীয় গোছের। উনি একা একা ফুটপাথে চেয়ার পেতে বসে থাকেন কেন? ওনার মনে কি খুব দুঃখ?

    ধেৎ, ভেতরে খুব গরম, পাখাটাখা নেই তো, তাই।

    তবু কোন কোন দিন চোখে পড়ত ভেতরে অনেক লোকজন, দোকান থেকে চা যাচ্ছে, আর চড়া গলায় কথাবার্তা। আমাদের বাড়িতেও সেদিন শুরু হয়ে যেত তর্কবিতর্ক। আজ কাকাবাবু এসেছিলেন যে? তোমাদের আবার কাকাবাবু কে?

    ওঁর নাম কমরেড মুজফফর আহমেদ, নজরুলের কবিতা পড়েছিস তো? তাঁর ভাল বন্ধু।

    একবার মণিমেলার মাঠে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির সাহায্যের জন্যে বিচিত্রানুষ্ঠান। স্টেজটা সাধারণ। কিন্তু দেবব্রত বিশ্বাস আসছেন। ভীড় ভেঙে পড়ল। আগে চেনাশোনা পরিবারের বাচ্চাদের কিছু নাচ গান হল। কাছেই ছিল নৃত্যগুরু প্রহ্লাদ দাসের কত্থক শেখানোর নামকরা স্কুল — নৃত্যভারতী। এই স্কুল থেকে দুটো বাচ্চা মেয়ে বেশ নাচল। দেবব্রত গাইলেন — আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।

    কিন্তু বাচ্চাদের মাতিয়ে দিল ক্ষিতীশ রায়ের দলের লোকগীতি এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গ মেশানো গান।

    ‘মরি হায় রে হায়, কি করিনু হায়,
    কোলাব্যাঙে খামছা দিছে বড় বাঘার গায়,
    মরি হায় রে হায়।
    আরে হিংস্র বাঘ আর পোষা বিড়ালে করে কানাকানি,
    পায়ের ধূলা দিতে আইল ইংলণ্ডের রানী।’

    ট্রাম আন্দোলনঃ

    মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির মুখপত্র ‘একসাথে’ পিসির সৌজন্যে আমার মায়ের হাতে পড়ল। তাতে একটি কবিতা ছিল, এইরকমঃ

    “ও মোর যাদুধন! ও মোর যাদুধন!
    তোর ঘুম কে করে হরণ?
    বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে?”

    মা সেটা পড়ে আমার একবছরের ছোট্ট ভাইকে ঘুম পাড়াতে লাগল।
    সেই দেখে ছোটপিসির চক্ষু চড়কগাছ।
    ও বৌদি! থামুন, থামুন। করছেন কী! এই কবিতাটা ঘুমপাড়ানি গান নয়। এটা ট্রাম আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ছেলে হারিয়ে মায়ের বিলাপ।
    ট্রাম আন্দোলন? সে আবার কী?
    কান পেতে শুনতে গিয়ে ধমক খাই — যা ছাদে গিয়ে খেল গে’ যা!

    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar


    ভাসা ভাসা শুনে যতটুকু বুঝলাম যে কয়েকবছর আগে, ১৯৫৩ সালে, ট্রামের ভাড়া এক পয়সা বেড়েছিল, তার প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পার্টি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে। ছোটকা ক’দিন ট্রামে চড়ে বাড়তি এক পয়সা দিতে অস্বীকার করে, কন্ডাক্টর সমর্থন জানিয়েছিল, কিন্তু পুরনো দামের টিকিট ওর কাছে নেই, তাই ভাড়াই নেয় নি। এরপরে গুলি চলল, ছাত্ররা ‘বিধান রায়—ডাউন! ডাউন!’ শ্লোগান দিয়ে মিছিল বের করল।

    সরকার পিছু হটল।

    এখন মনে হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার ছ’বছর পরে পুলিশের লাঠিগুলি পাবলিক স্বাভাবিক মনে করে নি। তাই সমর্থনে পথে নেমেছিল। বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় ছিলেন তখনকার নামজাদা সাংবাদিক। যুগান্তর পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। যদিও উত্তর কলকাতার নামকরা কংগ্রেসি পরিবার তুষারকান্তি ঘোষদের পত্রিকা, তবু বিবেকানন্দবাবুর ওজস্বী সম্পাদকীয় পড়ার আনন্দেই আমাদের বাড়িতে নিয়মিত আসত যুগান্তর। সেই সময় উনি একটা সম্পাদকীয় লিখলেন — ‘আগামীর সংকেত’!

    মন্ত্রীর কাগজে এমন সম্পাদকীয়! ওনাকে পত্রপাঠ পদত্যাগ করে আজীবন বসুমতী পত্রিকার সম্পাদনা করতে হল। যুগান্তরের জাত গেল, বসুমতী জাতে উঠল।

    খাদ্য আন্দোলনঃ

    আমাদের বাড়ি, পাশে রেজ্জাক খাঁ সায়েবের বাড়ি, নিচে মুন্নাদাদের বাড়ি – সবজায়গায় দিস্তে দিস্তে রুটি বেলা হচ্ছে আর বড় কড়াইয়ে রাঁধা হচ্ছে আলুর তরকারি। গাঁ থেকে দলে দলে কৃষকেরা আসছে কোলকাতায় মিছিল করে। মনুমেন্ট ময়দানে বিশাল জনসভা হবে। ওদের খাওয়াতে হবে না? পার্টির ডাকে আসছে, একটা দায়িত্ববোধ আছে না কি? আর একটা ব্যাপার হয়। এই খাওয়ানোর প্রক্রিয়ার রসায়নে অনেকগুলো পরিবার পার্টির কাজকম্মের সঙ্গে যুক্ত হয়।

    সালটা ১৯৫৯। ক্লাস ফোরে পড়ি। রোজ যুগান্তর আর স্বাধীনতা থেকে খেলার ছবিগুলো কেটে কেটে একটা খাতায় লাগাই। নীল হার্ভে, নরম্যান ও’নীল, রিচি বেনো, কিথ মিলার, ট্রুম্যান স্ট্যাথাম টাইসন — এইসব। সেদিন বাড়ি থেকে বেরতে বারণ করল। মণিমেলাও ছুটি। সারা শহরে একটা চাপা অশান্তি। আজ কিছু একটা হবে। দাদু সন্ধ্যেবেলা থেকে সেই যে বাক্সরেডিও’র সামনে চেয়ার টেনে বসেছে, আর নড়ছে না। রাতের খাওয়া সারল কোন রকমে। আমার কাকামণি, ন’কাকা এবং ছোটকা তখনও ঘরে ফেরে নি। আর দাদু ঠাকুমাকে বলছিল ধর্মতলা থেকে রাজভবনের সামনে পুলিশ গাঁ থেকে আসা চাষি ও ছাত্রদের বেধড়ক পিটিয়েছে।

    অনেক রাত্রে ঘুম ভেঙে গেল। ঘরের মধ্যে আলো জ্বলছে। কাকামণির বুক পিঠ জুড়ে ব্যান্ডেজ; ভালরকম লাঠির ঘা খেয়েছে। ঘরে ডেটলের গন্ধ। ছোটকারা নাকি পার্কাসার্কাস বাজারের এক কোনে ফার্স্ট এইডের ক্যাম্প খুলে অনেক আহত চাষির শুশ্রুষা করেছে। তাঁদের ফুল সার্ভিস দিয়েছেন আসাদ মেডিকেল হলের ডাক্তার গণি। ছোটকা ঠাকুমাকে বলছিল – পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করার জন্যে লাঠিচার্জ করে নি, পিটিয়ে মেরে ফেলার জন্যে করেছে। একেবারে রাস্তায় ফেলে থেঁতো হওয়া অব্দি মেরেছে।

    সদ্য সদ্য কাশীরাম দাসের মহাভারত পড়েছি, দাদুর সৌজন্যে। তাতে শান্তিপর্বে শরশয্যায় শোয়া ভীষ্ম যুধিষ্ঠরকে উপদেশ দিচ্ছিলেন – যে রাজা ঠিকমত প্রজাপালন করে না, সে ক্ষিপ্ত কুকুরের ন্যায় বধযোগ্য।

    আমি সে রাত্তির থেকে মনে মনে কমিউনিস্ট হয়ে গেলাম, তবে কাউকে বলি নি। আসলে আরও দুটো কারণ ছিল। পাশের বাড়ির দত্ত পরিবারের দোতলা বাড়ি, দুটো গাড়ি, একফালি বাগান। ওর সঙ্গে ওদের বাগানে ক্রিকেট খেলি, শুনি ওরা এবার গরমে দার্জিলিং বেড়াতে যাচ্ছে। আমি বলে ফেলি — আমরাও যাব।

    বাড়ি এসে বায়না জুড়তেই দাদু বোঝালেন যে ওরা বড়লোক, আমরা নই। ওদের সঙ্গে খেলা ঠিক আছে, তবে সব ব্যাপারে তাল দেওয়া সম্ভব নয়। এক কাকা ছড়া কেটে শোনালেন —

    বড়লুকের আইলাইদ্যা পুলা,
    তারে দেয় হাতে মূলা।

    বড়লোকের আদুরে ছেলে,
    হাতে মূলো নিয়ে খেলে।

    আকাশবাণীতে সেদিন ছিল হীরালাল সরখেলের শ্যামাসংগীত। মা-কাকিমারা দুপুরের খাওয়া সেরে মুখে পান গুঁজে গুছিয়ে বসেছেন। গান শুরু হলঃ

    “ভগবান, তুমি এখনও কেন যে নীরব রয়েছ তাই,
    তোমার সৃষ্টি তোমার বিধান কিছু না মানিতে চাই।
    দুখে সুখে যারা চিরদিন ধরে করে তব জয়গান,
    তারা তো পেল না করুণা তোমার, পেল যারা ধনবান।”

    হরি ! হরি! তাহলে বুবুলরা যে বড়লোক, আমরা গরীব — সেটা আমাদের দোষ নয়, ভগবানের অবিচার!

    কাকাদের তাক ঘাঁটতে গিয়ে একটা সুন্দর বাঁধানো বই চোখে পড়ল — ‘সঞ্চিতা’। রবীন্দ্রনাথের ‘সঞ্চয়িতা’ বা কালোবই জানি, কিন্তু এটা কী ? বাঁধানো মলাটে সবুজ পাতা ও কলি, আর দুটো মারকাটারি লাল ফুল। কাকা বলল – রেড পপি।

    কিন্তু পাতা ওল্টাতে গিয়ে চোখে পড়ল — সেদিন দেখিনু রেলে, কুলি বলে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে।

    আরে, একবার হাওড়া স্টেশনে এরকম তো আমিও দেখেছি। পাতা উলটে যাই — ‘ফরিয়াদ’। মানে? ছোটকা বলল — নালিশ। কার কাছে? ভগবানের কাছে।

    ‘শ্বেত-পীত-কালো করিয়া সৃজিলে মানবে সে তব সাধ,
    আমরা যে কালো তুমি ভাল জান নহে তাহা অপরাধ’

    আঃ, বুকের থেকে একটা পাথর নেমে গেল। এতদিন কালো বলে স্কুলে পাড়ায় কত ব্যঙ্গবিদ্রূপ সহ্য করেছি।

    কালোভূত, কেলে, কেলটে, কাইল্যা আরও কত কি! ভাবতাম এটা আমারই দোষ; এখন নজরুল বলে দিলেন দোষ ভগবানের। উনি কেন সবাইকে ফর্সা করে দিলেন না? তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যেত। এরপর কমিউনিস্ট না হয়ে উপায় আছে?

    কিন্তু শেষের স্তবকে এটা কী?

    “ওই দিকে দিকে বেজেছে ডঙ্কা, শংকা নাহিক আর,
    মরিয়ার মুখে মারণের বাণী উঠিতেছে মার! মার!”

    এটা কিরকম কথা হল? আমাকে কি দত্তবাড়ির বুবুলকে মারতে হবে? কিন্তু ও যে আমার বন্ধু। সব বই পড়তে দেয়। আমাকে ভালবাসে। কেউ বললেই কি বন্ধুকে মারা যায়? মাঝে মধ্যে ঝগড়া, আড়ি আড়ি আড়ি? ও’রকম তো আমাদের বাড়িতেও হয়। কোথায় কিছু একটা গন্ডগোল আছে, সেটা বড় হয়ে বুঝে নেব। এখন তো যাই কমিউনিস্ট হয়ে!
    | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৬ আগস্ট ২০২১ | ৪১৫ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হীরেন সিংহরায় | ১৭ আগস্ট ২০২১ ১১:২৯496828
  • আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। আমার কলকাতায় বড় হবার দিনগুলো চাল চিত্রের মত সাজিয়ে দিচ্ছেন। স্মৃতির বন্যা বয়ে যাচ্ছে।  সব ফাইল করে রাখছি । আরো আরো লিখুন। ছেলেবেলাটা ফিরে পাই 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন