• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • হারিয়ে যাওয়া কোলকাতার গল্প (১৯৫০-৬০) : ১১শ পর্ব

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১২ জুলাই ২০২১ | ৯০৭ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
    (৮) “বেজে ওঠে রেডিও, সর্বদাই গোলমাল করতে রেডি ও”

    কিশোর কবি সুকান্ত এসব ছড়া লিখেছিলেন সম্ভবতঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিনগুলিতে বেলেঘাটায় বসে। আমাদের বাড়িতে রেডিও এল ১৯৫৭ সালে, তখন ক্লাস টু’তে পড়ি। এর আগে কাকারা রেডিও ভাড়া করে আনতেন মহালয়ার একদিন আগে, বাড়ির সবাই ভোর চারটেয় উঠে ‘শ্রীমহিষাসুরমর্দিনী’ শুনবে যে ! সেটা আসলে কালীবাবুর ইলেক্ট্রিকের দোকানে তৈরি লোক্যাল সেট, খালি কোলকাতা ক’ স্টেশন শোনা যায়। সে যাই হোক, ভোর ভোর রহস্যে ঘেরা সকালে বেজে ওঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মন্দ্রস্বরে ‘যা চন্ডী-ই-ই মধুকৈটভহারী দৈত্যদলনী, যা রক্তবীজাশনী’ , একটু পরেই শোনা যায় ‘আশ্বিনের শারদ প্রভাত’। একটা হালকা চাদর গায়ে জড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে শুনি আলোর বেণু বেজে উঠছে, জেগে উঠছেন মহামায়া চণ্ডিকা। আমি শুনতে পাচ্ছি তাঁর তা-তা-থৈ তা-তা-থৈ নৃত্য। কেউ ডাক পাঠাচ্ছেন — ওগো আমার শরণময়ী আলো, জ্বালো প্রদীপ, জ্বালো। আমি ঘরে থাকতে পারি না। টুক করে দরজা খুলে ছাদে গিয়ে ঠান্ডা বাতাসে ঘুরে বেড়াই।চারপাশের সমস্ত বাড়িতে রেডিও বাজছে, ভোরের আকাশে রঙ লাগছে সমবেত প্রার্থনায় – রূপং দেহি, জয়ং দেহি, যশোদেহি দ্বিষো জহি।

    একটা ঘোরের মধ্যে নীচে নেমে আসি। আজকে সবাইকে খুব ভালো লাগে। বিচ্ছিরি রান্না করে কাজের মানুষ সুবলদা, তাকেও। সামনের সার্কাস হোটেল থেকে গোমাংসের শিককাবাব সেঁকার একরকম পোড়া গন্ধ আসছে, আমি টের পাই না। নীচে কর্পোরেশনের জমাদার ময়লা তুলছে, ডাস্টবিনে জমা আবর্জনায় নাড়া পড়েছে — আমার খারাপ লাগে না। কাকিমারা বলেন – যা তো, এই কার্ড নিয়ে রাস্তা পেরোলেই দেখতে পাবি হরিণঘাটা ডেয়ারির দুধের ডিপো। সেখানে এই দুটো খালি বোতল দিয়ে হলুদ কার্ডে টিক লাগিয়ে দু’বোতল গরুর দুধ নিয়ে আয় ।

    আমি একছুটে চলে যাই। ডিপোর পাশেই বাজারের সার্বজনিক ইউরিনাল। জমে থাকা সবুজ পেচ্ছাপের ইউরিয়ার ঝাঁঝে শ্বাস টানা মুশকিল। আমার কিছুই মনে হয় না, আজকের দিনটা অন্যরকম। পূজো আসছে!

    কিন্তু রেডিও চলে গেল। এসেছিল দু’দিনের জন্যে ভাড়া খাটতে।

    বাড়ির সবার মন খারাপ, মুখ চুণ করে ঘুরে বেড়াই আমরা বাচ্চারা। মা গিয়ে ছোট দুই দেওরকে ধরেন। কী গো সমীর, কী গো ন’ঠাকুরপো? এইডা যেন কেমন হইল। কিছু একটা করেন। মা কইতাছিলেন।

    দুই দেওর আমতা আমতা করে এড়িয়ে যান। রেডিও আবার এল পরের বছর মহালয়ার সময়, তবে দু’দিন আগে। আহা, কী আনন্দ আকাশে বাতাসে! রইল তিনমাস। দুপুর বেলা বাড়ি খালি। রেডিও চলছে, সামনে বসেছে মা-কাকিমা-ঠাকুমা এবং কাজের মাসি শেফালি। মাসি একটু পরে রেডিওর পেছনে গিয়ে চোখ কুঁচকে কিছু দ্যাখে। ফের দুটো গান, ফের মাসির উঁকিঝুকি। কী ব্যাপার শেফালি?

    কিছু না বৌদি। আমি একটু ওই বাচ্চাটারে দ্যাখতে চাই।

    বাচ্চা? কোন বাচ্চা?

    ওই যে, এই বাস্কোটার ভেতরে বসে গান গাইছে যে!

    দমফাটা হাসির হররা! সব শুনেও মাসির বিশ্বাস হয় না । এটা কী করে হয়? কত মাইল দূরে বসে কেউ গান গায় আর সেটা এখানে ঘরে বসে আপনারা শুনতে পান? আমি তো বুকা, তাই আমাকে নিয়ে মজা করছেন?

    তিনমাস পরে সে রেডিও গেল কাকাদের ব্যাচেলর্স ডেন নয়াবাড়িতে। অর্থাৎ উল্টোদিকের দত্তদের বিশাল দোতলা বাড়ির মেজেনাইন ফ্লোরে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে গ্যারেজের উপর এক চিলতে ঘর। দাঁড়িয়ে হাই তুললে হাত ছাতে গিয়ে ঠেকে। সেখানে চারকাকা এবং পিসতুতো দাদাদের মুক্তাঞ্চল। সারি সারি ছ’টা বিছানা সতরঞ্চি পেতে পরিপাটি করে রাখা। কোণের দিকে একটা প্রাইমাস স্টোভ আর মেথিলেটেড স্পিরিটের শিশি। যখন তখন চা বানাতে অপরিহার্য। রয়েছে পাতলা কেরোসিন কাঠের টুকরো কেটে তৈরি কয়েকটি বইয়ের র‍্যাক, তাতে ছোট পেরেক ঠুকে পুরনো শাড়ি কেটে ছোট ছোট পর্দা — যাতে বইয়ে ধূলো না জমে।

    নীচে সিঁড়ির মুখে একটা কল, মাঝে মাঝে জল পাওয়া যায় । কিন্তু আমার এক কাকা এখানে স্নান করতে আসেন না। এই আড্ডার ছায়াও মাড়াতে চান না। কারণ উনি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি, এজি বেঙ্গলে অডিট ক্লার্ক, এই আক্রার বাজারে সদ্য চাকরি পেয়েছেন। আর ওপরের ঘরটির দেয়াল জুড়ে মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিনের বাঁধানো ছবি। সুকান্ত, মাইকেল ও রবি ঠাকুরও রয়েছেন।

    আর কে না জানে – যেখানেতে ঘটে যত অনিষ্টি, সকলের মূলে কমিউনিষ্টি!

    সাবধানের মার নেই।

    আমি গুটি গুটি সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠে যাই। গোল গোল চোখ করে দাড়িওলা দেবতাদের দেখি। উনি কে?

    কাকারা হাসেন। ওঁরা তোমার দাদু হন। এদিকে লেনিন দাদু, ওদিকে স্ট্যালিন দাদু। আমার এ’দুটো নাম মুখস্থ হয়ে যায় । পরে বোকারোতে বাবাকে একটা কন্ডেন্সড মিল্কের কৌটোয় অমন দাড়িওলা মুখের ছবি দেখে -- এঁরা আমার দাদু, লেনিন ও স্ট্যালিন দাদু বলায় বাবার হাতের থাপ্পড় জুটেছিলো।

    সে যাই হোক, আমি নয়াবাড়িতে গেলেই অন্য দুনিয়ায় এন্ট্রি পাওয়ার স্বাদ পাই। একটা অন্যরকম গন্ধ। নানারকম বই। ঘরটায় পাখা নেই। জামা খুলে বসে পড়ি। কত বই। একটা ক্রিম কালারের বই। তাতে সবুজ রঙে দুটো বাচ্চা ছেলে মেয়ের মুখ, পেছনে সবুজ গাছপালার মোটিফ। বইটার নাম পথের পাঁচালী। এতদিন লক্ষ্মী আর সত্যনারায়ণের পাঁচালী জানতাম। পাতা উল্টাই। এ কীরকম যেন!

    পূর্ণ হরিহর রায়ের জীর্ণ কোঠাবাড়ির বর্ণনা। সন্ধ্যের দিকে এক গৌরবর্ণা বধূর ঘাট থেকে জল নিয়ে ফেরা। খোকার জন্ম। জে-জে-জে করে শিশুর অস্ফুট গানের বর্ণনা। পিসির কাছে দূর্গার ছড়া শেখাঃ

    ‘ও ললিতে চাঁপকলিতে একটা কথা শুন সে,
    রাধার ঘরে চোর ঢুকেছে চূড়োবাঁধা এক মিনসে।‘

    এ কী ভাষা? চোর ধরা পড়ল কি না সেটা বলা নেই কেন? এই দুনিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। কিন্তু আমাকে কোন অমোঘ আকর্ষণে টানে। চড়ুইভাতি। ম্যালেরিয়া। দূর্গার মৃত্যুর বর্ণনা। আকাশের নীল পেরিয়ে ডাক আসে। সে ডাকে সাড়া দিলে চলে যেতে হয়। শেষে একটি অমোঘ লাইন। ‘দূর্গা আর চাহিল না’।

    আমার স্বপনকুমারের ‘বিশ্বচক্র সিরিজ’ এর গোয়েন্দা গল্প পড়ে বই পড়ার দীক্ষা, পড়ি ঝড়ের বেগে। কারণ মেজদার লাইব্রেরি থেকে একদিনের কড়ারে চেয়ে আনা বই তিনজনে পড়ে ফেরৎ দেব যে। কিন্তু এই বইটি পড়তে তাড়াহুড়ো করতে মন চাইছে না। বিকেলের ছায়া নেমে আসে। ছোটকা আলো জ্বেলে দেয়। আমাকে মন দিয়ে দ্যাখে।

    কী কান্ড! তোর কোন সাড়া শব্দ নেই, সবাই খুঁজছে। আরে প্রায় শেষ করে এনেছিস। এখন ও বাড়ি যা, মুড়ি খেতে ডাকছে। কাল দুপুরে এসে পড়ে নিস।

    অসুবিধে নেই। মর্নিং স্কুলে ভর্তি হয়েছি। দুপুরে স্নান খাওয়া করে ফ্রি। হোমটাস্ক? সন্ধ্যেয় নিয়ে বসা যাবে।

    রোজ দুপুরে নয়াবাড়ি অভিযান আমার রুটিনে এসে গেল। পড়ে ফেলি জ্যাক লন্ডন। সমুদ্র, জাহাজ, মাতাল, বক্সিং আমাকে মাতিয়ে দেয় । একটা গল্পের শেষের লাইন -- ‘ঝড়ের মুখে তাকে পেয়েছিলাম, হাঙরের মুখে তাকে হারালাম’— মনে গেঁথে যায়। এরপর হাতে পাই লালচে রঙের মলাটে কালো পোঁচ দিয়ে লেখা নাম ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’। প্রথম পাতাতেই তালগাছের নীচে দাঁড়িয়ে শশী ডাক্তারের বন্ধু হারাধনের বাজপড়ায় ঝলসে যাওয়া। অল্পবয়েসি মেয়ে মোতির এক যাত্রাকরা যুবকের প্রেমে পড়ে গাওদিয়া নাকি বাজিতপুর গাঁ ছেড়ে কলকাতায় আসা। আচ্ছা, আমাদের বাড়ির সবাই তো ময়মনসিং জেলার বাজিতপুর গাঁ থেকে কোলকাতায় এসেছে। তো তোমরা এই মোতি বলে মেয়েটিকে চেন?

    এটা অন্য বাজিতপুর, একটা গ্রামের নাম, ব্যস।

    কিন্তু এহ বাহ্য, আসল তো রেডিও। রোজ দুপুরে এবাড়ি এসে আকাশবাণী শুনি। শনি-রবিতে অনুরোধের আসর। কোন কোন দিন ঝাঁ ঝাঁ গরমে মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম, কাকারা ঘুমোয়। আমাকে বলা হয় খুব আস্তে করে যদি শুনতে পার। আমি ভল্যুমের কান মুচড়ে কমিয়ে দিয়ে প্রায় রেডিওর গায়ে কান লাগিয়ে শুনি হেমন্তকুমারের গলায় ‘এই রাত তোমার আমার, এই চাঁদ তোমার আমার, শুধু-উ-উ দুজনে’। আমার ভরা দুপুর অন্ধকার রাত হয়ে যায় । লতার গলায় শুনি ‘প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে’। শেষে লতা যখন বলেন ‘আমি পারি নি ফিরায়ে তারে আনতে’, আমার গলার কাছে কি একটা দলা পাকিয়ে ওঠে। ছোটপিসি একদিন দেখতে পেয়ে বলে — কী হয়েছে? কেউ বকেছে?

    আমি মাথা নাড়ি। তবে এই রকম করতাছস ক্যারে? আমি রেডিওর দিকে আঙুল তুলে দেখাই। পিসি বুঝতে পারে না। আমি বলি – এই গানটা। চশমার ফাঁকে চোখ আরও গোল হয়ে ওঠে।

    -- বেশি পাকামি করবি না, বুঝলি? আম সময়ের আগে বাত্তি হইলে পোকায় ধরে।

    কিছুই বুঝি না । শেষে খড়গপুর থেকে সেজকাকা একদিন আর একটা লোক্যাল সেট রেডিও নিয়ে এল। তার পেছনে একটা চশমার কেসের মত, তাতে দুটো এভাররেডি ব্যাটারি বসানো। সেটার থেকে তার বেরিয়ে রেডিওতে জুড়েছে। ব্যস, ওটা এল মূল বাড়িতে , বাইরের ঘরে। এখন সকাল থেকে গান। সাতটা চল্লিশে চারশ’ আটচল্লিশ দশমিক আট মিটারে কোলকাতা ক’ ধরলেই শুনি নামী গায়কের রবীন্দ্রসংগীত। তারপর নজরুলগীতি, পল্লীগীতি । তখনও লোকসংগীত শব্দটি বাজার চলতি হয় নি। তবে বাজারে এসে গেছে নয়া পয়সা, পড়ার বইয়েও। আমরা শিখছি চার পয়সায় এক আনা নয়, ছ’পয়সায়। দু’আনা বারো পয়সায়। কিন্তু চার আনা হল ২৫ ন প। আট আনা ৫০ ন প। এক টাকা মানে ১০০ পয়সা। নতুন শব্দ শুনলাম মেট্রিক পদ্ধতি।

    রেডিও চালালে কেউ মানা করে না। খালি বিকেলের দিকে ঠাকুমা বলেন — হইছে, এইবার যন্ত্রটারে একটু বিশ্রাম দাও।

    সন্ধ্যেবেলা দাদু এসে রেডিওর পাশে চেয়ার টেনে নিয়ে বসে পড়েন। উনি শোনেন পল্লীমঙ্গল আসরে মোড়ল, কাশীনাথ ও গোবিন্দ’র খুন্সুটি। তারপর চাষবাস নিয়ে মৌসুমী ফসল নিয়ে এক্সপার্ট ওপিনিয়ন। তাকিয়ে দেখি ওঁর চোখে ঘোর লেগেছে। মনে মনে উনি এখন ময়মনসিং জেলার আঠারবাড়িয়া গ্রামে এবারের পাটচাষের হাল হকিকত নিয়ে ওঁর গোমস্তা মোম আলি ওরফে লাউয়া মিঞার সঙ্গে গভীর আলোচনায় ডুবে গেছেন। একদিন আমাকে ডেকে বললেন - শুন, আইজ তালগুড় সংঘের ম্যানেজার সোমেশ হোমচৌধুরি অতিথ, কিছু কইবেন।

    আমার মাথায় একবর্ণ ঢুকল না । এই বিরস আলোচনায় আমি বাচ্চাছেলে ক্লাস থ্রিতে পড়ি — মেরা ক্যা কাম হ্যায়?

    আরে, ওই সোমেশ হইল তর মশাত্ব দাদা। মেজ মাসীর ছেলে খুকু।

    ওঃ খুকুদা! তাই বল, কিন্তু রেডিওতে কী করছে?

    দুরহ ব্যাডা আউয়াখানা! অলম্বুষ! খুকু কমিউনিস্ট পার্টি করত ছাত্র জীবনে। তেভাগা আন্দোলনে জেলে গেল। সেইখান থেইক্যা পরীক্ষা দিয়া ম্যাট্রিক পাশ করল। পরে এমএ পাশ কইর‍্যা তালগুড়ের ম্যানেজার হইছে, সরকারি চাকরি। কী বুঝলি?

    জেলে তো চোর-ডাকাতেরা যায় । খুকুদা খারাপ কাজ করতে গেল কেন? আর আমার সংগে দেখা হলে এক সের তালগুড় দেবে?

    দাদুর রক্তচক্ষু এবং দন্তঘর্ষণ ও আমার ছাদে পলায়ন। এরপর দাদু খবর শুনে তবে রাতের খাওয়া খেতে রান্নাঘরে যাবে। ইংরেজি খবর বুঝতাম না, কিন্তু ভাল লাগত যাঁরা পড়তেন তাঁদের গলার স্বরের ওঠা নামা। দুটো নাম মনে পড়ে – মেলভিল ডি’মেলো ও সুরজিত সেন। একজন মহিলাও পড়তেন, উনি নাকি সুরজিতের বোন। বাংলায় আদি যুগে ছিলেন বিজন বোস। পরে ইভা নাগ পরিশীলিত উচ্চারণে বেশ জনপ্রিয় হলেন। আর একটু পরে এলেন বিশিষ্ট স্টাইল নিয়ে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা কান পেতে থাকতাম শেষের দিকে খেলার খবরের জন্যে।

    কিন্তু রাতের রেডিও নেশা ধরিয়ে দিয়েছিল বেতার নাটকের। প্রতি বৃহস্পতিবার, আবার পল্লীমঙ্গল আসরেও কোন কোন বুধবার নাটক হত। মোড়ল ওরফে সুধীর সরকার পরিচালনা ও অভিনয় দুটোই ভাল করতেন। পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক – সবরকম নাটক। রাজনৈতিক নাটক হত না। এভাবেই শুনি মাধবীকংকণ, কংসবধ, কানু কহে রাই, ভাড়াটে চাই, তাহার নামটি রঞ্জনা। এগুলোর প্রযোজনার কৃতিত্ব বাণীকুমার ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের।

    নামকরা পাবলিক স্টেজের নাটক গোড়ার দিকে বেতারে হত না বললেই চলে। তবু একবার শুনেছিলাম বহুরূপীর ‘ছেঁড়াতার’, শম্ভু মিত্র , তৃপ্তি মিত্র এবং কুমার রায়। চতুরংগ।

    ষাটের দশকের শেষে পরিবর্তন এল। পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় কোলকাতার লোকায়ন বলে একটি গ্রুপ থিয়েটারের ‘দ্বীপের রাজা’ অসাধারণ লেগেছিল।

    এভাবেই আমরা ভক্ত হয়ে পড়ি সলিল চৌধুরির কথা ও সুরে গাওয়া লতা মঙ্গেশকরের পূজোর গানের। প্রতিবার পূজোয় দুটো করে বেরোয়, রেকর্ডের দু'পিঠে। ‘কাজল নদীর জলে’, ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’, ‘না যেওনা’, আর ‘যা রে যারে উড়ে যারে পাখি’। কিন্তু কথা মুখস্থ করে স্কুলের বন্ধুদের শোনাই ‘মধুমালতী ডাকে আয়’ এবং ‘আর ডেকো না সেই মধু নামে’— সন্ধ্যা মুখার্জীর গলার খনক অন্যরকম মায়ায় জড়ায়, বিশেষ করে ‘মায়াবতী, মেঘে এল তন্দ্রা’। বন্ধুরা অবাক হয়। রেডিওতে শুনে কথা মুখস্থ? তুই কি সেই যে শ্রুতিধর না কি বলে, তাই? গম্ভীর মুখে ঘ্যাম নিয়ে সরে যাই। ওদের বলা হয় না যে আমি ওদেরই মত। নয়াবাড়ির দোতলার দত্ত পরিবারের বুবুল আমার বন্ধু। ওদের বাড়ি গেলে ওরা একটা গ্রামোফোন নিয়ে তাতে রেকর্ড চাপিয়ে বাজায়, আমি যে গান শুনতে চাইব ওর দিদি সেটাই লাগিয়ে দেন। একটা হাতল বাঁই বাঁই করে ঘুরিয়ে দম দেওয়া হয়। তারপর একটা স্টিলের মুন্ডূ মত, তাতে কাঁটা লাগানো, সেটা রেকর্ডের উপরে ছুঁইয়ে দেন। কয়েক সেকেন্ড পরেই বেজে ওঠে ‘মধুমালতী’। আবার সনৎ সিংহ বলে এক ভদ্রলোক বেশ মজার গান গাইতে পারেন। ‘বিদ্যেবতী সরস্বতী, এসব কথা লিখছি তোমায় নালিশ করে নয়’। কিন্তু সবসময় এত সুখ সইত না ।

    কাকামণি তখন ব্যারাকপুরের এয়ারফোর্সে কাজ করেন। শনিবার শনিবার বাড়ি আসেন, গা এলিয়ে দেন নয়াবাড়ির কোন একটা বিছানাতে। উনি আমাকে ‘ও নদীরে, একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’ গাইতে শুনে খেপচুরিয়াস। সিনেমার যত ফালতু গান! শেষে আমাকে ‘ভাল’ গান শেখাতে বসলেন। পকেট থেকে বের করলেন একটা চারপাতার কাগজ। সাদার মধ্যে কালো অক্ষরে ছাপা গোটা আটেক গান। ওপরে ছোট করে লেখা কথা ও সুর সলিল চৌধুরি। প্রথম গান—‘ধিতাং ধিতাং বোলে, মাদলে তান তোলে’। উনি পুরোটা গেয়ে শোনালেন, এবার আমার পালা। আমি বিদ্রোহ করলাম — এই ধিতাং ধিতাং এর মানে কী? এরকম শব্দ তো কখনও শুনিনি । যত্ত আজেবাজে গান।

    উনি ধৈর্য হারিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন — আজেবাজে গান! এগুলো কি সিনেমার গান?

    দুপুরবেলায় এসে হাজির হতেন তাঁর এক বন্ধু হরিপ্রসাদ সেনগুপ্ত। আজকের প্রখ্যাত নাট্যপরিচালক রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের বড়দা। আমি রান্নাঘরে চায়ের ফরমাস পৌঁছে দিতাম। তারপর একটা কেটলি করে গরম চা নিয়ে আসতাম। একটু পরে দুই বন্ধুর মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হত; দীর্ঘদেহী হরিপ্রসাদ উঠে দাঁড়াতে গিয়ে নীচু ছাদে ঠোকর খেতেন। বলতেন — বিজন, এই শেষ, আর আসব না ।

    কাকামণি গম্ভীর মুখে বলতেন – শুনে খুশি হলাম। এসো না ।

    পরের দিন যথাসময়ে হরিপ্রসাদ হাজির, যেন কিছুই হয় নি। কয়েক ঘন্টা পরে আবার একই নাটকের রিপিট পারফরমান্স। উনি চলে গেলে আমি ছোটকাকে বলি – এরা এত ঝগড়া করে কেন, বাচ্চাদের মত?

    -- ঝগড়া না তো, ওগুলো তর্কবিতর্ক।
    -- কেন করে ?
    -- তুই বুঝবি না; পলিটিক্স নিয়ে তর্ক; ওরা কমিউনিস্ট পার্টি করে ।
    -- কমিউনিস্ট হলে অমন বিচ্ছিরি ঝগড়া করতে হয়, বন্ধুর সংগে? আমি বড় হয়ে কমিউনিস্ট হব না ।

    ছোটকার হাসি আর থামে না। আদর করে কান মলে দিল।

    কিন্তু তার পরে একটা অন্যরকম দিন এলো। কাকামণি বাড়ি এলেন এক মঙ্গলবারে। একটু পরেই হাজির বন্ধু হরিপ্রসাদ। সেদিন তাঁরা কথা বলছিলেন খুব নীচু গ্রামে, কোন ঝগড়াঝাঁটি নয় । আমি চা আনতে গেলে মা বললেন – দুধ আর চিনি ফুরিয়ে গেছে রে, মেজ ঠাকুরপো বিকেলে অফিস - ফেরতা নিয়ে আসবে।

    আমি ছাদে খেলতে চলে গেলাম। দুপুরে খাওয়ার সময় কাকামণি চেপে ধরলেন —কি রে, সেই যে চা আনতে গেলি তারপর পাত্তা নেই! ব্যাপারটা কী?

    আমি আমতা আমতা করে বললাম যে তোমার বন্ধুর সামনে গিয়ে সত্যি কথাটা বলতে লজ্জা করছিল, তাই।

    কাকা সস্নেহে বললেন – ঘরে টাকা নেই, চায়ের দুধ চিনি নেই এতে লজ্জার কী আছে? আমরা কোন পাপ করি নি তো।

    সন্ধ্যেবেলায় বড়দের কথাবার্তা থেকে কানে এল — কমিউনিস্ট পার্টি করার দোষে কাকামণির চাকরি গেছে। এয়ারফোর্সে নাকি এসব অপরাধ।

    দিন যায়, আমি এক এক করে গোটা কয়েক ক্লাস পেরিয়ে যাই। নয়াবাড়িতে এসে বইপড়ার নেশা আরও পেয়ে বসে। আমি শিশুবিদ্যাপীঠ গার্লস স্কুল থেকে ফাইভ পাস করে বরানগরে রামকৃষ্ণ মিশনের হোস্টেলে যাই। গরমের ছুটি আর পূজোর ছুটিতে বাড়ি এলেই দুপুর বেলা সেই নয়াবাড়ি। নতুন নতুন বই। অন্য ধরণের বই। পড়ে ফেলি ‘ভোলগা থেকে গঙ্গা’ আর মুলকরাজ আনন্দের ‘দুটি পাতা, একটি কুঁড়ি’। পড়া হয়ে যায় সুকান্ত, গোলাম কুদ্দুস ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা। নেড়ে চেড়ে দেখি জীবনানন্দ দাশ বলে একজন কবির বই। কাকা আবৃত্তি করে ‘বনলতা সেন’। কিছু বুঝতে পারি না, তবে ভালো লাগে। দু’একটা ম্যাগাজিন দেখি — পরিচয়, বিংশ শতাব্দী, নন্দন। ওদের গল্প গুলো কেমন কঠিন কঠিন। প্রবন্ধগুলো? ওরে বাবা!

    ভালো লাগে বাংলা অনুবাদে সোভিয়েত সাহিত্য, মানে তলস্তয়, চেখভ, গোর্কি। দস্তয়েভস্কি বুঝতে পারি না। কিন্তু শলোকভের চার খন্ডে ডন? দারুণ। আর দুটো বই খুব ভালো লেগেছিল, বুঝতে না পারলেও। একটা “হাজার বছরের প্রেমের কবিতা” – অবন্তী কুমার সান্যাল ও জয়ন্তী সান্যালের সম্পাদনায়; অন্যটি ‘পঞ্চাশ বছরের প্রেমের গল্প’— সুবীর রায়চৌধুরি সম্পাদিত।

    রবীন্দ্র রচনাবলী এসে গেছে, শতবার্ষিকী সংস্করণ। নাটকগুলো আমাকে পাগল করে। মিশনের স্কুলে অভিনীত হল শারদোৎসব আর অচলায়তন। আর ক্যামপ হোস্টেলে আমরা করলাম ‘খ্যাতির বিড়ম্বনা’ এবং ডাকঘর। ছুটিতে নয়াবাড়িতে পড়লাম চিরকুমার সভা, রক্তকরবী, মুক্তধারা আর বাঁশরী। অন্য দুনিয়া হাতছানি দিচ্ছে। উপন্যাসে দাঁত ফোটাতে পারি নি । কিন্তু অবাক করল ‘শেষের কবিতা’। এ’রকম গতিময় ভাষা আর শব্দের ছবি আগে কোথাও পাই নি । তারপর ক্লাস এইটের এক গুমোট দুপুরে পড়ে ফেললাম ‘চরিত্রহীন’। মাই গড! এ কি! কিরণময়ীর উপেন্দ্রকে লুচি বেলে দিতে দিতে সিডিউস করার চেষ্টা, সতীশের কেমন বাংলা সিনেমার আস্কারা পাওয়া নায়কের মত হাবভাব — তাতে একরকম মজা। কিন্তু উপন্যাসের শেষের দিকে বর্মায় কিরণময়ীর সংগে পালিয়ে যাওয়া দেওর দিবাকরের কিছুদিন পরে ‘বুকের ভেতর হইতে যে রাক্ষস বাহির হইয়া আসিয়াছে তাহার সহিত অবিরাম সংগ্রাম!’ - এমনও হয়? এ ও কি সম্ভব? তেরো বছরের ছেলেটার গোটা শরীর তাজ্ঝিম–মাজ্ঝিম করে উঠল।

    সে বাড়ি থেকে ঝটপট বেরিয়ে আমাদের আসল বাড়ির ছাদে উঠলাম। আকাশ কালো করে মেঘ জমছে, চিলের ঝাঁক উড়ে বেড়াচ্ছে। ঝড় আসছে।

     

    | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১২ জুলাই ২০২১ | ৯০৭ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হীরেন সিংহরায় | ১৩ জুলাই ২০২১ ০৩:৫৩495750
  • আপনি আমার টাইম মেশিন। নিজের বাল্যকালের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছি আপনার করুনায়। যা প্রায় ভুলে গেছিলাম তাই জেগে উঠছে শব্দে শব্দে । যতদিন বাঁচি লিখে যান । বাঁচি এই মেশিনের আশ্বাসে 

  • শেখরনাথ মুখোপাধ্যায় | 117.194.226.207 | ১৩ জুলাই ২০২১ ২৩:১৮495766
  • আকাশবাণী কলকাতার সাপ্তাহিক নাটক ছিল প্রতি শুক্কুরবার, সন্ধ্যে ৭-৫৫ মিঃ। বইয়ের দিকে চোখ রেখে রেডিওর দিকে কান রেখে নিয়মিত শুনতুম।


  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ জুলাই ২০২১ ০৯:৩৫495777
  • আবার সেই টাইম মেশিনে চডিয়ে  দিলেন ! সেই ঘোষণা - আজকের নাটক! ছবি বিশ্বাসের ভরাট কণ্ঠ - এতো বড় দুঃসংবাদ দারা ! পড়ার সময় তখন।  বাবা বললেন শাজাহান হছছে শুনবি আয়। মায়ের প্রবল আপত্তি সত্বেও একত্র শোনা। 

  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ জুলাই ২০২১ ০৯:৫৭495778
  • অত অল্প বয়েসে কি করে যে পল্লী মংগল আসরের ফ্যান হয়ে ছিলাম ! মোড়ল বা মংগলময় কারা ছিলেন আজো জানি না। তাঁদের নাম কি বলা হত অনুষ্ঠানের শেষে? 


    ১৯৬৩ সালের পুজোয় সলিল চৌধুরি দশটি অসাধারন গানের উপহার দেন !

  • Kaushik Saha | ১৬ জুলাই ২০২১ ১১:৪৪495827
  • আপনার লেখা পরে শৈশবে শোনা একটি গান মনে পড়লো 


    RADIO


    Bob Marcus


       Radio ...


       Remember radio?


       We'd sit and close our eyes and use our imagination.


       Comedy, mystery, a Fireside Chat ...


       Together we sat, listening madly to our favorite show.


       Radio ...


       Why did you ever go?


       Oh, won't you please come and entertain us?


       I long to turn that dial again


       And hear the past and smile again -


       Radio ... I miss you so.


    অনেক ধন্যবাদ। 

  • বিপ্লব রহমান | ১৭ জুলাই ২০২১ ১০:৩০495853
  • আহ শৈশব! 


    আরও পরবর্তীত সময়ে সাতের দশকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে রেডিও, চিরায়ত বাংলা ও রুশ সাহিত্য এসেছিল   আমাদের শৈশবে, এই নিয়ে একদা কিছু লিখেছিলাম। 


    অনেক পুরনো কথা মনে করিয়ে দিলেন! আরও লিখুন

  • শিবাংশু | ২৩ জুলাই ২০২১ ২৩:৫৭496031
  • লেখাটি পড়ছি। শেষ হলে কথা হবে। 


    দু'তিনটি প্রসঙ্গ, 


    ১   ফরিদপুরে মাদারিপুরের 'বাজিতপুর ' গ্রামটি বিখ্যাত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের জন্মস্থান হিসেবে। এটা আমার জানা এই কারণে, সেই গ্রামটি আমার মাতৃকুলের আদি আবাস। আমার মাতামহ,  বিনোদ ভুঁইয়ার (স্বামী প্রণবানন্দের পূর্বাশ্রম ) অভিন্নহৃদয় বাল্যবন্ধু ছিলেন শুনেছি।  


    ২  সুরজিত সেনের বোনের নাম লতিকা রত্নম  । অমন হাস্কি, পরিশীলিত ইংরেজি উচ্চারণ যেকোনও নীলরক্ত মেমসাহেবকেও লজ্জা দিতো। 


    ৩  'দ্বীপের রাজা' মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের লেখা । সম্ভবত সাতষট্টি সালে তার প্রথম অভিনয় করেছিলো জামশেদপুরের নাট্যদল  'বর্তিক'। ছোটোবেলায় সেই প্রথম দেখা মোহিতদাকে । বাবার সঙ্গে গল্প করতে আমাদের বাড়ি এসেছিলেন। 


    ৪  'কাজল নদীর জলে' তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান। 

  • হীরেন সিংহরায় | ২৪ জুলাই ২০২১ ০১:৫২496034
  • শিবাংশু বাবু


    বিদ্যুৎ চমকের মত কত স্মৃতি জাগিয়ে দিলেন ! লতিকা 


    রত্নমের ইংরেজী অসাধারন - বিদেশে অমন কম শুনেছি। 


    দ্বীপের রাজা চিরকালের নাটক। 


    ১৯৬৩ পুজোয় সলিল চৌধুরীর গান গুলো মনে পড়ে -


    পথ হারাবো বলেই এবার/ মনের জানালা ধরে


    যদি কিছু আমারে শুধাও/ দুর নয় বেশী দুর 


    পল্লবিনী গো সনচারিনি / 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন