• হরিদাস পাল  বাকিসব  মোচ্ছব

  • চার্লি চ্যাপলিন,সিনেমা ও রাজনীতি

    Lipikaa Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | মোচ্ছব | ৩০ এপ্রিল ২০২১ | ১৬০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • চার্লি চ্যাপলিন, সিনেমা ও রাজনীতি-


     বিশ্ব বন্দিত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন সারা বিশ্ব জুড়ে চর্চিত । তাঁর অসংখ্য ভক্তের তাঁর জীবন নিয়ে কৌতুহল শেষ নেই। তাঁর শৈশব কেটেছে চরম দরিদ্রতায়, চল্লিশে হয়েছেন কোটিপতি, সারা জীবনে বহু নারীর সংস্পর্শে এসেছেন, কখনও নিন্দিত কখনও বন্দিত হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ও কর্ম জীবনে। অনটন আর অবহেলাকে সকল বাধা কাটিয়ে তিনি স্বয়ং হয়ে উঠেছেন ইতিহাস । 


    চার্লি চ্যাপলিনের ছয় রিলের ফিচার সিনেমা ‘দ্য কিড’ এর আগে-সাত বছর চ্যাপলিন 70টি ছোট সিনেমা নির্মাণ করেন। তাঁর প্রথম সিনেমা মুক্তি পায় 1914খ্রিঃএ নিউ ইয়র্কে। তিনি প্রথমে সপ্তাহে পারিশ্রমিক পেতেন 50 ডলার।অল্প দিনের মধ্যেই তাঁর জনপ্রিয়তা এত বৃদ্ধি পায় যে পারিশ্রমিক হয়ে দাঁড়ায় সপ্তাহে 150ডলার।ফার্স্ট ন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগ দেবার সময় তাঁর বয়স ছিল 28 বছর। তখনই আটটি সিনেমার জন্য পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন 1মিলিয়ন ডলার।জনপ্রিয়তা এতটাই প্রবল ছিল যে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন কোটি পতি। তাঁর ‘মেকিং আ লিভিং’ মুক্তি পাবার পর তিনি আমেরিকায় ঘরে ঘরে পৌছে যান। খেলনা, পুতুল,বলডান্স সবেতেই চ্যাপলিন জায়গা করে নেন। 1921 খ্রিঃ এ ‘দ্য কিড’,1924খ্রিঃ দ্য সার্কাস, 1925শে ‘দ্য গোল্ড রাশ’-এসব সিনেমা থেকেই উনি প্রতিষ্ঠা পান। এই সিনেমাতে সঙ্গীতের ব্যবহার ছিল দুর্দান্ত। 1934খ্রিঃ এ ‘সিটি লাইটস’ আর 1936খ্রিঃ এ ‘মর্ডান টাইমস’ মুক্তি পায় ।তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দ্য গ্রেট ডিকটেটর এ প্রথম মুখ খোলেন তিনি। 1947 খ্রিঃ এ তিনি বানালেন ‘মাসিয়েঁ ভার্দু’। এই সিনেমা মুক্তির সময় সমস্যা তৈরি হয়। মার্কিন প্রশাসনের রক্তচক্ষুর কারণে ও মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষের কারণে সিনেমাটি এক বছর পর প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়।1952খ্রিঃ এ তিনি আবার বানালেন ’লাইম লাইট’,1957খ্রিঃ এ’এ কিং ইন নিউ ইয়র্ক’ করার পর তাঁর শেষ ছবি ‘অ্যা কাউন্টেস ফ্রম হং কং’1966 মুক্তি পায় । বলা বাহুল্য এই সিনেমা দিয়ে তাঁর 43বছরের সিনেমা জীবন শেষ হয়। 


    তাঁর মত অভিনেতাকে রাজনীতির শিকার হতে হয়। মর্ডান টাইমস’ 1934 সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক বিতর্ক জড়িয়ে পড়তে থাকেন চার্লি চ্যাপলিন। বৃহৎ শিল্পায়নের যুগে মানুষ কি করে অমানুষ পরিণত হয়, নির্বাক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখিয়েছেন। এর পর 1940 সালে ‘গ্রেট ডিক্টেটর’ মুক্তির পর তাঁকে পুরোপুরি রাজরোষে পড়তে হয়। যুদ্ধের পর মার্কিন বিরোধী কাজের জন্য তাঁকে হাউজ কমিটিতে ডাকা হয়। চার্লির কৈফিয়ত এ হাউজ কমিটি সন্তুষ্ট হয় না, শেষে 1952তে চ্যাপলিন আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য হন। শেষ জীবনে সুইজারল্যান্ডে গিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। 


    চ্যাপলিনের প্রথমদিকের সিনেমায় দেখাতে চেয়েছেন অন্যজনকে বাঁচানোর চেষ্টাকে। একজন মানুষের বেঁচে থাকাটাই তখন সব থেকে বড় বলে মনে করেছেন তিনি। কিন্তু পরের দিকের সিনেমাগুলি বৃহত্তর মানবতাকে মনে রেখে বানিয়েছেন। মানবতার প্রতি তাঁর গভীর আস্থার স্বীকৃতি দিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। চ্যাপলিন ডি লিট উপাধি পান এখান থেকেই। তাঁর সম্পর্কে শেষ কথা এভাবেই বলা মনে হয় ঠিক হবে-জাঁ কেনিয়াকে যখন তিনজন বড় চলচ্চিত্রকারের নাম জানতে চাওয়া হয় তখন তিনি বলেন-চ্যাপলিন, চ্যাপলিন, চ্যাপলিন। 


     তথ্য সূত্রঃ 1)সিনেমা সপ্তম শিল্প কলা- বরুণ দাশ 2)এই যে আমি -চার্লি চ্যাপলিন।

  • বিভাগ : বাকিসব | ৩০ এপ্রিল ২০২১ | ১৬০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
অমৃত  - Lipikaa Ghosh
আরও পড়ুন
দরজা - gargi bhattacharya
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ৩০ এপ্রিল ২০২১ ২২:১২105307
  • প্রবন্ধটিতে অনেক কিছু উহ্য রয়ে গেছে। ভেবেছিলাম চ্যাপলিনের রাজনীতি নিয়ে কিছু আলোচনা হবে। কিন্তু সেটাই স্পষ্ট হল না। মসিয়ে ভের্দুতে কী রাজনীতি ছিল যাতে মার্কিন নাগরিকরা এমন অসন্তুষ্ট  হলেন যে সিনেমার শো বন্ধ হল, চ্যাপলিনকে দেশ ছাড়তে হল?


    বা গোল্ডরাশ মডার্ন টাই,মস ও গ্রেট ডিক্টেটরের রাজনীতি? স্পষ্ট হল না।   আর জাঁ কেনিয়াকে লেখক যদি একটু বলে দেন।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন