• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • একজন ষাঁড়ের শেষকৃত্য

    রোমেল রহমান লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৪১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মহান ষাঁড়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সমস্ত গ্রামটা তুলকালাম হয়ে উঠলো! যথারীতি পক্ষ হবার কথা ছিল দুটো! কিন্তু এই মহান ষাঁড়ের বেলায় পক্ষ হল আড়াইটা! আড়াই নম্বর পক্ষটা পুলিশ! তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখল কিংবা তামাশা দেখা ছাড়া উপায় ছিল না! কেননা হানাহানিতে নেমে আসা দুই পক্ষের লোকের সংখ্যার সামনে পুলিশ এবং তাদের কার্তুজের সংখ্যা সিকি পরিমাণ! জমায়েতের মূলপক্ষ দুই ভাগ হয়ে ছিল যথারীতি দুটো বিখ্যাত ধর্মীয় লোগোর আবডালে! এক পক্ষ বলল, এই মহান ষাঁড় আমাদের ধর্মের! তাকে আমরা শেষ বিদায় জানাবো আমাদের আচার অনুযায়ী! অন্যপক্ষ বলল, মোটেই না উনি, মানে মহান ষাঁড় জন্মেছিলেন আমাদের সম্প্রদায়ের শান্তিবাহন হয়ে! ফলে একদল মুচি এসে কিছুক্ষণ পুরো ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করলো এবং বুঝে ফেলল, এখানে চামড়ার দামের চেয়ে মূল্যবান অনুভূতি সরব, ফলে তারা সটকে পড়লো! জুবুথুবু পুলিশেরা শুধু ওয়াকিটকিতে কেন্দ্রে খবর জানাতে লাগলো যে, উদ্ভুত পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে ধাবমান, এহেন হালত নিয়ন্ত্রণে আরও ফৌজ পাঠান অন্যথায় আমাদের সরিয়ে নিয়ে বাঁচান! 


    দুই পক্ষ মাইকে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো এই ষাঁড়ের মহাত্ম! কেউ কেউ তার শৈশবের স্মৃতি খুলে বসলো, কিভাবে সে ষাঁড়কে খাবার দিয়েছিলো কিংবা কেউ কেউ বলল, মানত করে ষাঁড়কে ঘাস খাওয়ানোর পর তার মানত পূর্ণ হবার আধিলৌকিক কাহিনী! কিন্তু সব থেকে ভালো ব্যাপার ছিল, এইসব বাকোয়াজি, চিৎকার কেউই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল না! মাঝখানে মাঠের মধ্যে ষাঁড়টা পরে থাকলো আর আকাশে কয়েকটা শকুন ড্রোনের মতো ঘোরাঘুরি করে টের পেয়ে গেলো মানুষই একে ছিঁড়ে খাচ্ছে! কিন্তু লগডাউন ভেঙে জামায়েত হওয়া এইসব মানুষদের আবেগকে ছুঁড়ে ফেলতে না পেরে  স্থানীয় নেতারা এসে বলল, আপনারা যা-ই করেন্না কেন মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লোভস্‌ পিন্দে করবেন! তারপর তারাও এই গ্রামের কল্যাণে এই ষাঁড়ের অবদান এবং যারতার ক্ষেতের বেড়া ভেঙে ঢুকে পরার যে অবাধ পাসপোর্ট ভিসা এই ষাঁড়ের ছিল সেই মহাত্ম বর্ণনা করে ক্ষান্ত হলেন! সাংবাদিকেরা ছিল সবচে ব্যস্ত! তারা চারদিকে এতো নিউজের ভিড়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলতে লাগলো এবং তারা  জানলো যে, করোনা ভাইরাস থেকে গ্রামকে বাঁচানোর জন্য ষাঁড় কমিটি  থেকে ষাঁড়ের গলায় মন্ত্রপড়া ঘণ্টা বেঁধে দেয়া হয়েছিল সপ্তাখানেক আগে! ফলে সারা গ্রাম ষাঁড়টা ঘুরে বেড়াতো আর তার ঘণ্টার শব্দে করোনা ভাইরাস ঘাঁটি গাড়তে পারতো না গ্রামের কোথাও! কিন্তু দুপুরের দিকে যখন সূর্য তার তাপ দিয়ে সবাইকে কাহিল করে ফেলতে শুরু করলো তখন ভিড়ের মধ্যে একজন  মাথা ঘুরে পরে যাবার কিছুক্ষণের  মধ্যে শোনা গেলো প্রতিপক্ষ নাকি বান নিক্ষেপ করে লোকটাকে ফেলে দিয়েছে এমন গুঞ্জন এবং তার জ্ঞান না ফেরায় মুহূর্তের মধ্যে হাঙ্গামা লেগে গেলো! ফলে সঙ্গে বয়ে আনা দাউ সড়কি বল্লম কিংবা তীর জাতীয় দেশীয় অস্ত্রের এস্তেমাল শুরু হল আর সাংবাদিকেরা পুলিশের কাছে এসে বলল, এখন কি হবে? পুলিশ বলল, ইয়া নফ্‌সি ইয়া নফ্‌সি করেন আর ছবি তুলেন! কিছুই করার নাই! 


    সন্ধ্যায় রক্তারক্তি শেষ হলে হাঁসপাতালের বারান্দা ভরে উঠলো রক্তাক্ত ষাঁড়প্রেমী যোদ্ধাদের ভিড়ে! তাদেরকে দেখতে এলো জাতীয় ষাঁড় কমিটির নেতারা এবং তারা দুইপক্ষেকে আশ্বাস দিয়ে গেলো উচ্চতর তদন্ত হবে এই ঘটনার! কিন্তু ষাঁড়টার কোন ব্যবস্থা হল না, মুচিদের দলটা আবার এসে একটা বাগানের আড়ালে দাঁড়িয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো সমাজ সেবার দায়িত্বটা তারা তুলে নেবে নাকি কর্পোরেশন? সাংবাদিকেরা সারা দেশে এই সংবাদের ডজন ডজন ফটেজ ছড়িয়ে দিলো! সেইসব ফুটেজে দেখা যায় উল্লাসিত তরুণেরা হল্লা করে জানাচ্ছে, খুনোখুনির সময় সকলেই তারা মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লোভস্‌ পরে মারামারি করেছে যাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন না ঘটে! ফলে আসামি হিসেবে একদল মুখোশধারী মানুষের নামে মামলা দায়ের করা হল এবং গ্রামটার নাম হল, ষাঁড়গ্রাম!


    ১৯ এপ্রিল ২০২০

  • বিভাগ : গপ্পো | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৪১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন