• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • আমার অ্যামেরিকা আবিষ্কারঃ ট্রাম্পিজমের উৎস সন্ধানে

    ন্যাড়া লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ৪০৩ বার পঠিত | ৪/৫ (১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • চোখের সামনে অ্যামেরিকার রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলে যেতে দেখছি। ট্রাম্পে এসে সে বদলের চূড়ান্ত হল। অবশ্য চূড়ান্ত কিনা জানা নেই। ট্রাম্পের থেকেও বড় ট্রাম্প, কোন ট্রাম্পতর আসবে কিনা কে জানে। আসার সম্ভাবনা টাকায় প্রায় ষোল আনা।
    সারা পৃথিবীতেই গেল কয়েকবছর ধরেই ডানপন্থী রাজনীতির রমরমা বেড়েছে। ডানপন্থী মানে ঠিক অর্থনৈতিক ডানপন্থা নয়। বরং অর্থনৈতিক দিক থেকে মুক্ত বাজার, ফ্রি ট্রেড ইত্যাদি শিকাগো স্কুলের ডানপন্থী অর্থনীতির থেকে উল্টোদিকে - বেশি শুল্ক, নিজের বাজারে বিদেশী মাল ঢোকার বেরিয়ার তৈরি করা ইত্যাদি। অনেকেই শুনি বলছেন এ নাকি পনেরো-বিশ বছর ধরে গ্লোবালাইজেশনের ধ্বজা ওড়াবার পরে ম্যাঙ্গো পাবলিকের হাতে যে আড়াই ইঞ্চি মাপের পেন্সিলের বেশি কিছু পড়ে নেই - এই উপলব্ধির ফল।
    অ্যামেরিকা ভৌগোলিক কারণেই মোটামুটি নির্বিঘ্নে, আঠেরো-উনিশ আর বিশের শতকের প্রথম ভাগ অব্দি ইউরোপের ডামাডোলের বাইরে নিজের মতন বাড়তে পেরেছে। নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি, ঝাড়পিট সবই ছিল, কিন্তু ওই - নিজেদের মধ্যে। এই ভৌগোলিক ইন্সুলারিজমের কারণেই অর্থনীতিতেই বল, সমাজনীতিতেই বল, রাজনীতিতেই বল নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পেরেছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে তো সবচেয়ে বেশি। কিছু পরীক্ষা উতরেছে। অধিকাংশই উতরোয়নি। কিন্তু এর ফলে জাতটার একটা বিশিষ্ট চরিত্র তৈরি হয়েছে।
    অ্যামেরিকার পোয়াবারো হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অ্যামেরিকা অনিচ্ছুক খেলুড়ে। কিন্তু নেবে যখন পড়েছিল, তখন সর্বস্ব পণ করে নেবেছিল। এ নিয়ে প্রচুর গবেষণা, লেখাপত্র আছে। কাজেই এ ব্যাপারে মুখ না খোলাই ভাল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অ্যামেরিকার ঘরের হাল কীরকম বদলাল - সেটা খুব কৌতুহলোদ্দীপক।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যারা জোয়ান, যুদ্ধে গেছিল - কেউ ফিরেছে, কেউ ফেরেনি - তারা সবাই বড় হয়েছে দুয়ের দশকের শেষ ভাগের মহামন্দার সময়। সেই অভিজ্ঞতার অভিঘাতে তারা ঝুঁকি বাঁচিয়ে চলা জেনেরেশান। রিস্ক অ্যাভার্স। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অ্যামেরিকায় অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রাচুর্য এল। সঙ্গে জিও-পলিটিকাল পাওয়ার। এর ফল ভোগ করল এদের ছেলেপুলেরা। যথেচ্ছ পয়সা দেশের। চাকরি প্রচুর, নেওয়ার লোক কম। ফলে, ডিম্যান্ড-সাপ্লাইয়ের খেলায়, মাইনে ভাল। শুধু স্কুল পাশ করেই যে চাকরি পাওয়া যায়, তাতে শুধু গ্রাসাচ্ছাদনই চলে না, দিব্যি মধ্যবিত্ত জীবন উপভোগ করা যায়। পণ্যের উৎপাদনও যথেচ্ছ। দেশটা আস্তে আস্তে বদলে যেতে থাকল।
    এর সঙ্গে সরকার ভারী প্রকল্পে পয়সা খরচ করতে শুরু করল। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সারা দেশকে হাইওয়ে দিয়ে মুড়ে দেবার প্রকল্প নেওয়া হয়। শেষ হয় পঁয়তিরিশ বছর পরে ১৯৯২ সালে, ২০১৯ সালের হিসেবে ৩৭ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করে। এর ফলে পঞ্চাশের দশক থেকেই শহর-কেন্দ্রীকতা কমতে থাকে। লোকে শহরতলিতে গিয়ে সংসার পাতে, যদিও চাকরি করতে হয়ত শহরেই যেতে হবে। যেতে হবে গাড়ি চালিয়ে। ফলে গাড়ি ও তৎসহ অন্য শিল্পের রমরমা বেড়ে গেল। গাড়ির ওপর অবসেশন জাতীয় অবসেশন।
    এই হাইওয়ে প্রকল্পের যে সব ভাল তা নয়। কিন্তু এর কুফলের বেশিটাই গিয়ে পড়ল কালো, সংখ্যালঘু আর অর্থনৈতিক দিকে দিয়ে কমজোরি কমিউনিটিগুলোর ওপর। হাইওয়ে গেল ইনার সিটির ভেতর দিয়ে। ইনার সিটি - যেখানে এই কমিউনিটিগুলোর বাস। উচ্ছেদের ফলে কমিউনিটি ভেঙে গেল। অন্যদিকে সাদা মধ্যবিত্তরা সরে গেল শহরতলির ছিমছাম জীবনযাপনে। এ আরেকরকম সাদা-কালোর  সেগ্রিগেশন। ২০১০ সালের এক গবেষোণায় হার্ভার্ডের এক পিএইচডি ছাত্র  ১৯৪৮-২০০৮ অব্দি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের অ্যানালিসিস করে দেখিয়েছেন যে, যে সব লোকালয়ের ভেতর দিয়ে এই ইন্টারস্টেট হাইওয়ে গিয়েছে, সেগুলো গড়ে ৫% রিপাব্লিকানদের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। এ এক বিরাট সুইং। কাজেই ট্রাম্প যখন মফস্বলের হাউজওয়াইফদের (হোমমেকার নয়, ট্রাম্প হাউজ-ওয়াইফই বলেছিলেন) কাছে সহানুভূতি চান এর মধ্যে স্রেফ রেসিজমের ওপরেই কিছু থাকে। ট্রাম্প নিজেও হয়ত জানেন না।
    বেবি বুমার জেনেরেশানই - ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪-র মধ্যে যাদের জন্ম - শেষ প্রজন্ম যারা শুধু হাইস্কুল পাশ করেও মধ্যবিত্ত জীবনযাপনের মতন একটা কাজ জুটিয়ে নিতে পেরেছিল। এই প্রজন্মই দেখেছে ক্রমশঃ চাকরির বাজারে কম্পিটিশান বেড়েছে, কম ওয়েজের কাজ হয় চলে যেতে শুরু করেছে মেক্সিকোয়, সেন্ট্রাল অ্যামেরিকায়, এশিয়ায় আর নইলে ইমিগ্র্যান্টদের হাতে। অথচ এরকম অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে যে মানসিক আর সামাজিক স্থিতিশীলতার দরকার - সেটাও তারা সময়মতন সংগ্রহ করে উঠতে পারেনি। সাতের দশক ছেড়ে দিলে আট, নয় আর একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম সেরা সময়। কিন্তু ম্যাক্রো ইকনমি দিয়ে মাইক্রো ইকনমি অনুভব করা যায়না। অর্থনীতির যেমন সেরা সময়, ঠিক তেমনই এই সময় থেকে আয়ের অসাম্য লাগামছাড়া বাড়তে শুরু করে। ফলে যে লোকটার কারখানা বন্ধ হয়ে ওয়েল্ডিঙের কাজ চলে গেছে কারণ সে জিনিস মেক্সিকোতে তৈরি অনেক সস্তার, তার কাছে পুরনো কোম্পানির আয় বাড়লে বা দেশের জিডিপি বাড়লে কোন স্পেশাল সান্তনা নেই। সে এখন লোকাল গাড়ি সারাইয়ের দোকানে আধা মাইনেতে ওয়েল্ডিং করে। কোন হেলথ বেনিফিটও নেই, রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটও নেই। সে প্রথম যখন ট্রাম্পের কাছে গ্লোবালাইজেশনের কুফল শুনছে, শুনছে ট্রাম্প ইমিগ্রান্টদের আটকে দেব, কারখানা বাইরে যেতে দেবে না, সে সেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করছে। 
    এই মধ্যবিত্ত থেকে ক্রমশঃ তলিয়ে যেতে থাকা মানুষগুলোকে না রিপাব্লিকান, না ডেমোক্র্যাট - কোন পলিটিকাল এস্ট্যাব্লশমেন্টই নিজেদের ভাবেনি। এর সঙ্গে আর একটা জিনিস বুঝতে হবে। অ্যামেরিকানরা ধর্মভিরু লোক। তারা চার্চে যায়। তাদের সবাই যে ইভেঞ্জেলিকাল তা নয়, কিন্তু বহু অংশই। আবার তারা ইউনিয়নেও চাঁদা দেয়। এরাই সুইং ভোটার। এদের ইভেঞ্জেলিকাল টাল্লি দেখে ডেমোক্র্যাটরা ধরে নেয় এর রিপাব্লিকানদের ভোটার। আবার রিপাব্লিকানরা ধরে নেয় এরা তো ঘরের লোক, ভোট দেবেই। এদের নিয়ে ভাবার কিছু নেই। ঠিক সময়ে প্রো-লাইফের কলকাঠি নাড়লেই হবে।
    এরকম সময়ে প্রায় নিয়ম-বহির্ভূত হয়ে এলেন ট্রাম্প। এদের বোঝালেন, দেখ তোমরা তলিয়ে যাচ্ছ কারণ ডেমোক্র্যাটরা তোমার কাজ সব বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরা বাইরের থেকে লোক আনছে যাতে তারা অল্প পয়সায় কাজ করে, যা কাজ আছে তাও তোমাদের হাত থেকে নিয়ে নেয়। এবং এটা যে বললেন, সেটা এরকম যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বললেন না। বললেন যে ভাষা গিয়ে বুকে গিয়ে ধাক্কা মারে। জাগিয়ে তুললেন সুপ্ত রেসিজম, যে রেসিজম চাপা দেওয়া ছিল গেল পঞ্চাশ বছর ধরে অনেক মনীষীর কাজ। রেসিজম আর মনের গভীরের ভয়কে সওয়ার করে নিজের জায়গা পাকা করলেন। কাজেই যারা ভাবেন ট্রাম্প সমর্থক মানে রেসিস্ট, তারা সর্বৈব যে ভুল করছেন তাইই নয়, সম্পূর্ণ ভুল পথে হাঁটছেন। রেসিজম ট্রাম্পিজমের খিচুড়িতে আছে, ভালমতনই আছে। কিন্তু সেটাই একমাত্র উপাদান তো নয়ই, প্রধানও নয়।
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ৪০৩ বার পঠিত | ৪/৫ (১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
আরও পড়ুন
আঁধি - Jahar Kanungo
আরও পড়ুন
ভগীরথ - Vikram Pakrashi
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হুলো | 212.7.216.22 | ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১১:২২100430
  • রোসো, কাকা আসছে।

  • dc | 122.174.71.224 | ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১১:৪৭100433
  • অন্তত ২০২০ র ফল দেখাচ্ছে যে শুধু রেসিজম দিয়ে ট্রাম্পিজম ব্যাখ্যা করা যায় না। ২০২০ ভোটের আগে অবধি আমিও ভাবতাম, রেসিজম, জেনোফোবিয়া, মিসোজিনি এসবের জ্গাখিচুড়ি হলো ট্রাম্পিজম। কিন্তু "লিবারাল"  মিডিয়ার সর্বাত্মক চেষ্টার পরেও যখন ট্রাম্প সেকেন্ড হায়েস্ট ভোট পায়, যখন এটা পরিষ্কার যে কোভিড এসে না পড়লে ট্রাম্প হাসতে হাসতে জিততো, তখন এটা মেনে নিতে অসুবিধে নেই যে ট্রাম্পিজমের পেছনে আরও কারন আছে। 

  • | ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১১:৫৮100437
  • পড়তে ভাল লাগল। মোটামুটি মো-শা জুটিও খানিকটা এই লাইনেই খেলছে। 


    এই সুশান্ত সিং রাজপুত নিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং জিনিষ খেয়াল করছিলাম ফেসবুক ট্যুইটার জুড়ে। কাউস্বামী রিয়াকে নিয়ে হিস্টিরিয়া তৈরীর সময় বা তার কিছু আগে থেকেই বিভিন্ন মহিলা, যাদের একটা ভাল অংশ অর্থ্করী কোনও কাজের সাথে তেমন যুক্ত নন তাদের মধ্যে রিয়া চকরব্র্তীর প্রতি বিদ্বেষ  একেবারে যে কোনও স্বাধীন মেয়ের প্রতি অন্ধ বিদ্বেষ ফেটে পড়ছে। বেশ কিছু গ্রুপ তৈরী হয়ে গেছে সুশান্ত এর তথাকথিত 'খুন'এর বিচার চেয়ে। এই গ্রুপে টিপিকাল আইটিসেলের ফেক যেমন আছে, তেমনি আমাদের বান্ধুর বন্ধুর সাথে মিউচুয়াল লোকজনও আছে আবার মিউচুয়ালদের ফেকও আছে। কিন্তু মহিলাদের সংখ্যা o তাদের প্রিচিঙের ধরণ বেশ উদ্বেগজনক। (কাল আবার দেখলাম এর মধ্যে একটা ইজরায়েল অ্যাঙ্গেলও এনে ফেলেছে )।  ২০২১ এর প্রাক্কালে এই বাবদে তাড়িপার প্রচুর পয়সা ঢালছে সেটা যেমন ঠিক, তেমনি একটা  ভাল সংখ্যক মহিলা কোনও ইন্সেন্টিভ ছাড়াই এদিকে ঝুঁকছে এটাও ঠিক। 

  • | ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১২:০০100438
  • *দৃশ্যত কোনও ইন্সেন্টিভ ছাড়া। 

  • চিঁড়ে চ্যাপটা | ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩:৩৮100449
  • করোনা আসায় অতি কষটে সৃষ্টে শুধু প্রেসিডেন্ট টা পাওয়া গেছে আর হেসেখেলে মারিয়ুয়ানাটা পাওয়া গেছে 


    করোনা না এলে বাইডেন খুড়োর দাঁত গুলো আর দেখতে হতো না 


    মারিয়ুয়ানা নিয়ে চুপটি করে থাকতে হতো 

  • সম্বিৎ | ১৯ নভেম্বর ২০২০ ০১:২৬100464
  • এই লেখাটার রেফারেন্সে বোধি ভাটে যা লিখেছে তার রেলেভ্যান্ট অংশ তুলে দিলামঃ
     


    এই প্রবন্ধের রাজনৈতিক পজিশন টা নিয়ে হয়তো লক্ষ্য করেছো, আজ্জো অনেক দিন ধরে বলেছে।ইশান ও ট্রাম্প জেতার পরে এই লাইনেই আনন্দবাজারে প্রবন্ধ লিখেছিল। ২০১৬ তে। শিকাগোতে আগে সোনালি মাথা ছিল, এখন কালো কালো মাথা ইত্যাদি। শকিং লেখা। ইশানের কাছে আশাই করা যায় না। জাস্ট মুহুর্তের প্রতিক্রিয়ায় লেখা।  আকার সংগে বড় এস আর আমার সংগে তর্ক ও হয়েছে। আজকের ন্যাড়ার প্রবন্ধ, ইশান, আকাদের এই পজিশন টা - হোয়াইট ওয়ার্কিং ক্লাস গ্লোবালাইজেশন দ্বারা চিটেড বোধ করেছে, তাই তারা ট্রাম্প এর মধ্যে মেসাইয়া খুঁজে পেয়েছে, এই পজিশন টার ঐতিহাসিক ভিত্তি একেবারেই দুর্বল, কিস্যু হয় নি। 


     

    আমি জানি না, ওদের মত ক্লিয়ারলি প্রোগ্রেসিভ প্রতিভাবান ইনটেলেকচুয়াল রা এটাকে, কেন, জাস্ট কেন, বেসিকালি ডেমোক্রাট আর লেবার লেফ্ট এর বিরুদ্ধে কনকটেড পজিশন টাকে আনক্রিটিকালি মেনে নিয়েছে। বা অন্তত সেটাকে নিয়ে তর্ক করার অপশন বেছে নিয়েছে। অন্যের দেশে আছি এই চোরা হীনমন্যতা ছাড়া আর কোন কারণ নেই। এবং এই হীনমন্যতা টা তাদের উপরে ইমিগ্রান্ট হিসেবেই সে দেশের পপুলার কালচার চাপিয়েছে। অথবা স্থানীয় লোকদের চাকরি জেতে দেখে সিম্প্যাথাইজ করেছে। সেটা অবশ্য একটা খুব ই মানবিক রিয়াকশন । এবং আমাদের এই বাল আইটি সারভিসের আইডিওলোজির থেকে বেরোনোর একটা চেষ্টা। কিন্তু যুক্তিহীন, কারণ শস্তার কালার্ড ইমিগ্রান্ট লেবার কে ক্যাপিটাল পুষবে, আউটসোর্স করবে, স্থানীয় মানুষকে কর্মহীন করবে, আউটসোর্স করবে, দেশপ্রেমী হয়ে ওয়ার এফর্ট কে সমর্থন করবে, আর লোক কে খ্যাপাবে, এই লজিকালি ইনকোহেরেন্ট জিনিসগুলো কে একটা জিনিস দিয়েই মেনে নেওয়া হয়, লজিক অফ প্রফিট। প্রফিট যেন এমন একটি অবুঝ সবুজ কাঁচা অপু, যাকে বাড়তে না দিলে অনর্থ হবে।  


     

    aভালো চাকরির খোঁজে তারা সেদেশে গিয়ে কোন অন্যায় তো করেই নি, সে দেশের ইকোনোমিকে সমাজ কে রক্ষনশীল ভুত দের হাত থেকে রক্ষা করেছে। আমাদের দেশ তাদের ভালো কাজ দিতে পারে নি, তারা গেছে বেশ করেছে। ক্যাপিটাল যত্র তত্র ঘুরে বেড়াবে, লেবার যাবে না, e হয় না। ফাল্তু যুক্তি। এতে কালো চামড়া হিসেবেই আমাদের সাবস্ক্রাইব করার কোন অর্থ নেই। আমাদের বাম ট্রেনিং টা কালার ব্লাইন্ড বা বলা যেতে পারে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি জমানা থেকে বেরোতে পারে নি।  ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর প্রবন্ধরচনা যোগ্য সামাজিক ইতিহাস এক জিনিস না।  আমরা যারা আউটসোর্সিং এর দ্বারা লাভবান তারা কি রাজনৈতিক ভাবে দলে দলে আন্দোলন করেছি, ভাই অসংখ্য লোকের চাগরি খেয়ে আমাদের চাগরি দ্যান, হ্যা ভালো করে পড়াশুনো করে ছি কাজের দাবী করেছি। আমরা যারা সারভিস সেক্টরে র উন্নতি তে গত পঁচিশ বছরে উন্নতি করেছি, পয়সার মুখ দেখেছি, তারা কি পিটিশন দিয়েছিলাম, পরিযায়ী শ্রমিক রা, যারা মূলতঃ স্মল ম্যানুফ্যাকচারিং ধরে রেখেছে, তাদের ভাই একটু হাঁটান, বসে বসে চর্বি হবে, দেশ আলস্যে ভরে যাবে? হ্যাঁ আমাদের একটা সামগ্রিক দায় আছে, এই সব সরকারকে আমরাই ভোট দিয়ে এনেছি, কিন্তু ঘটনা হল, মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেক সময়েই পলিসির ফসল সেটা  তো বুঝতে হবে।  সুতরাং আমেরিকায় ট্রাম্পের সমর্থনের বাড়ার পেছনে যুক্তি একটাই, সরল ও গোল গাল শ্বেতাংগ রা ভয় পেয়েছেন, তাঁদের রেস হেজেমনি নষ্ট হবে, এবং এই ভয় টা তাঁরা প্রথমবার পান নি, পেলে ইনস্টিটিউশনাল রেসিজম বলে শব্দ যুগল তৈরী হোতো না।  


     

     এই পজিশন টা কে আমেরিকান রাজনৈতিক বিতর্কে হিলি বিলি কান্ট্রি পজিশন বলা হয়। আমি এই পজিশন টার ঠিক উল্টো দিক থেকে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম, বৈজয়ন্ত রাই ছেপে ছিল,, তাতে আমার মূল বক্তব্য ছিল, এটাকে মেনে নিতে হলে মেনে নিতে হয় যে ম্যানুফাকচারিং বুমের সময়ে ইমিগ্রেশন এর সমস্যা, রেসিজম এর সমস্যা ছিল না, আমেরিকার নিও কলোনিয়ান এজেন্ডা ছিল না, তার হেজেমনিক পজিশনে মিলিটারি অ্যাগ্রেসন এর কোন ভূমিকা ছিল না।  সারা বিশ্বের যে কোনো রংগের প্রতিভাবান দের জন্য আমেরিকার বা জেনেরালি শ্বেতাংগ  সমাজ খুব মুক্তমনা ছিল। এসব আজগুবি তত্ত্ব তে সাবস্ক্রাইব করছো দেখে খুব ই দুঃখ পেলাম। কথায় কথায় পার্সোনালি খচে গিয়ে যাতা বলা র একটা স্টাইল হয়েছে আজকাল গুরুতে, আশা করি সে ভাবে রিয়াক্ট করবে না। করলেও অবশ্য কাঁচকলা।

  • সম্বিৎ | ১৯ নভেম্বর ২০২০ ০২:২০100465
  • বোধির সমালোচনার জবাবে কতকগুলো ব্যাপার ক্লিয়ার করে দেওয়া ভাল -


    ১। কোন ইডিওলজিকাল পজিশান থেকে এই লেখাটা লেখা হয়নি। ইডিওলজি দিয়ে প্রবন্ধ লেখা যায় না, প্রবন্ধ লিখতে লাগে তথ্য আর যুক্তি।  যদিও লেখাটাকে আমি প্রবন্ধ বলছি না - আলোচনা বলছি কারণ এখানে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা থাকলেও হাইপোথিসিস আছে বেশি। এবং এখানে স্পষ্ট কোন রাজনৈতিক পজিশন আমি নিচ্ছি না। বরং বলছি যে রেসিজমকে ট্রাম্পিজমের প্রাইম-মুভার বলে ধরাটা বিপজ্জনক কারণ রাজনৈতিকভাবে সেটার মোকাবিলা করা হলেও ট্রাম্পিজম যাবে না। তাই বোধির "এই প্রবন্ধের রাজনৈতিক পজিশন টা নিয়ে হয়তো লক্ষ্য করেছো" সমালোচনাটা রঙলি প্লেসড।


    ২। "হোয়াইট ওয়ার্কিং ক্লাস গ্লোবালাইজেশন দ্বারা চিটেড বোধ করেছে, তাই তারা ট্রাম্প এর মধ্যে মেসাইয়া খুঁজে পেয়েছে, এই পজিশন টার ঐতিহাসিক ভিত্তি একেবারেই দুর্বল, কিস্যু হয় নি।" এই সমালোচনার সপক্ষে কোন তথ্য নেই, যুক্তি নেই। কাজেই সমালোচনা হিসেবে এটাকে ফেলে দেওয়া গেল। যদি পার্সেবল তথ্য বা যুক্তি আসে (চারটে বই ও লেখকের নামের অধিক), তব দেখা যায়গা।


    ৩। "অন্যের দেশে আছি এই চোরা হীনমন্যতা ছাড়া আর কোন কারণ নেই।" - এইটা আর এরপরে যা আছে তা সম্পূর্ণতই স্ট্রম্যান। তৎসহ আমার, ঈশানের ও আজ্জোর সাইকো-অ্যানালিসিস।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন