• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • করোনার দিনগুলি - প্রথম কিস্তি

    ডা. ঐন্দ্রিল ভৌমিক লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২২ মার্চ ২০২০ | ২৮৭১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • করোনার দিনগুলি #১

    খুপরিতে বসে রোগী দেখছিলাম। করোনা মহামারীর ভয়ে সুগার, প্রেশারের ধারাবাহিক রোগীরা আসা প্রায় বন্ধ করেছেন। অধিকাংশই জ্বর, সর্দি কাশির রোগী। তাছাড়া দু-চারজন এমারজেন্সি রোগী।

    রোগীরা শুধু জ্বর, সর্দিকাশিতেই ভুগছেন না। তার চেয়ে বেশি ভুগছেন আতংকে। সকলেই প্রায় বলছেন, 'ডাক্তার বাবু, করোনার জন্য রক্ত পরীক্ষা করলে হয় না!'

    আমি ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার তাঁদের ওষুধ দিচ্ছি কম, সাহস দেওয়ার চেষ্টা করছি বেশি।

    সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেদের। অনেকেরই রুটি- রোজগার বন্ধ।

    স্থানীয় শপিং মলের সামনে ফুচকা বিক্রি করে এক যুবক। তিনি বলছিলেন, 'ডাক্তার বাবু, মল বন্ধ থাকায় গত সাতদিন বেচা- কেনা একদম তলানিতে। শেষ তিনদিন ধরে বিচ্ছিরি কাশি হওয়ার পর দোকানও খুলতে পারছি না। মা আর বোনকে নিয়ে কি করে সংসার চালাবো জানিনা'।

    আরেকজন বললেন, 'ডাক্তার বাবু, টোটো চালাই। দিন আনি দিন খাই। প্যাসেঞ্জার প্রায় নেই। এদিকে লোকজন চাল-ডাল কিনে বাড়িতে মজুত করতে শুরু করেছে। আজ চালের দাম দু টাকা বেড়ে গেছে। একবেলা ভাত খাচ্ছি। জানি না কতদিন খেতে পারব'।

    কথায় আছে 'আপনি বাঁচলে বাপের নাম'। অনেকেই লক ডাউনের ভয়ে খাদ্য দ্রব্য বাড়িতে মজুত করতে শুরু করেছেন। ফেসবুকেও দেখলাম অনেকেই পোস্ট করেছেন বেশি পরিমাণে জিনিসপত্র মজুত করে রাখার জন্য। কিন্তু তাই করতে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এক শ্রেণীর মানুষের নাগালের বাইরে না চলে যায়।

    আমার সমস্যা সেই তুলনায় সামান্য। সারাদিন রোগী দেখে ঘরে ফিরে দুই মেয়ের সাথে খেতাম। দু-জনের মাঝখানে শুয়ে গল্প শোনাতাম।

    সারাদিন জ্বরের রোগী দেখে বাড়ি ফেরার পর আমি আপাতত কোয়ারান্টাইনে। একলা ঘরে একলা খাটে থাকছি। মেয়েদের সাথে পাঁচ ফুট দূর থেকে কথা বলছি।

    কিন্তু এই একলা ঘর আমার দেশ না। আমি বিশ্বাস করি একদিন মহামারী পরাজিত হবে। আমি আবার দুই মেয়ের মাঝখানে শুয়ে রূপকথার গল্প শোনাতে শোনাতে ঘুমিয়ে পড়ব। মেয়েরা আধো ঘুম ভাঙিয়ে বলবে, 'বাবা, ঘুমাচ্ছো কেন! তারপর কি হল বলো'।

    আমি বিশ্বাস করি সেই দিন আমরা সকলেই দেখতে পারব। আমরা সবাই। এই মহামারী আমাদের আরো ভালো মানুষ করে তুলবে।



    করোনার দিনগুলি #২

    এমনিতে রোগী দেখার সময়ে আমি বিশেষ ফোন ধরি না। কিন্তু পীযূষদা যখনই ফোন করুক তখনই ধরি। রাত সাড়ে দশটায় পীযূষদা ফোন করল।

    একজন রেনাল কলিকের রোগী ব্যথায় ছটফট করছিল। আমি সাহস যোগাচ্ছিলাম, ‘দাঁড়াও, ইনজেকশনটা দিয়ে দিলেই দশ মিনিটের মধ্যে ব্যথা কমে যাবে।’

    সাবধানে ভভেরানের অ্যাম্পুল ভাঙার চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় ফোন বেজে উঠল। কাটতে গিয়ে দেখলাম ডাঃ পীযূষ কান্তি পাল।

    ফোন ধরতেই পীযূষদা বলল, ‘কিরে ঐন্দ্রিল, কি করছিস?’

    বললাম, ‘কি আর করব, এখনও খুপরিতে। রোগী দেখছি।’

    ‘এত রাতেও মহামারীর মধ্যে রোগী দেখছিস! এর জন্য লোকজন ডাক্তারদের রক্তচোষা বলে। যা যা, এবার বাড়ি যা। এত পয়সা নিয়ে কি করবি? সেই তো করোনায় মরে যাবি।’

    বললাম, ‘পীযূষদা, এক মিনিট ধরো। একটা ইনজেকশন দিয়ে দি।’

    ইনজেকশনটা ঠুকে আবার ফোন ধরলাম। ‘বলো, কান্দি আর খড়গ্রামের কি খবর?’

    পীযূষদা বলল, ‘ভালো খবর। খড়গ্রামে তো অনেক বাড়িতেই লোকজন বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে। তাঁরা ঘুরছে, ফিরছে। বাচ্চা কাঁদলেই আমার কাছে দেখাতে আনছে।’

    আমি বললাম, ‘কি হচ্ছে বলতো। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে দাবানলের মতো করোনা ছড়িয়ে পড়ার কথা। ছড়াচ্ছে না কেন। কোনো নিরীহ করোনা ভাইরাস কি ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে নোবেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ক্রস ইমিউনিটি তৈরি করেছে?’

    ‘এটাও তো হতে পারে, প্রথম অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই সুস্থ সবল মানুষেরা যারা দিনের বেশির ভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে থাকে তারা আক্রান্ত হবে। এবার তাদের ইমিউনিটি জোরদার হওয়ায় বেশিরভাগেরই সাধারণ ভাইরাল জ্বর ছাড়া কিছু হবে না। আই সি এম আর এখনও যারা বিদেশ থেকে এসেছে এবং যারা সরাসরি বিদেশী ব্যক্তির সাথে কন্টাক্টে আসছে তাদেরই রক্ত পরীক্ষা করছে। যার ফলে এক বিরাট অংশ আন ডায়াগনোজড থেকে যাচ্ছে। এরপর যখন এই সব সুস্থ সবল মানুষেরা বাড়িতে অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের মধ্যে রোগ ছড়াতে শুরু করবে তখনই এর ভয়াবহতা বোঝা যাবে।’

    ‘ঘটনা যাই হোক, আর দিন দশেকের মধ্যেই বোঝা যাবে করোনার দাঁত আর নখে কত ধার।’

    ‘হ্যাঁ, বড়জোর দু-সপ্তাহ। এই দু-সপ্তাহেই আমরা বুঝে যাব, এযাত্রা আমরা বেঁচে গেলাম কিনা। তুই না রোগী দেখছিলিস। এখনও গল্প চালিয়ে যাচ্ছিস। এরপর রোগী ক্যালাবে।’

    রোগীর দিকে তাকালাম। নিরীহ চেহারা। আমার সাথে গায়ের জোরে পারবেন না। তিনি ঘাড় নেড়ে জানালেন, ‘ব্যথা একটু কমেছে। আপনি কথা বলে নিন।’

    আমি পীযূষদাকে বললাম, ‘ইনজেকশন দিয়েছি। এখন দশ মিনিট পর্যবেক্ষণ।’

    পীযূষদা বলল, ‘ভালো থাকিস, জ্যান্ত থাকিস। শুভ রাত্রি।’

    ফোন রাখার পর রোগী ভদ্রলোক বললেন, ‘আচ্ছা ডাক্তারবাবু, কাল যে আকাশ থেকে প্লেনে করে করোনার অ্যান্টি ভাইরাস ছড়াবে, তাতে তো এই করোনা পুরোপুরি ল্যাজে গোবরে হবে?’

    ‘অ্যান্টি ভাইরাস? সেটা আবার কি?’

    ‘সেকি আপনি জানেন না। রবিবার জনতা কারফিউ এর দিনে প্রধানমন্ত্রী সকলকে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছেন। যাতে ওই অ্যান্টি ভাইরাস গায়ে লেগে জীবাণু মরে যায়।’

    আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছিলাম না। যে যার মতো জনতা কারফিউকে ব্যাখ্যা করছে। অনেকেই দেখলাম একটা পোস্ট শেয়ার করেছেন, ১৪ ঘণ্টার জনতা কারফিউ করোনার ট্রান্সমিশন চেনকে ভেঙে ফেলবে। কারণ মানব দেহের বাইরে ভাইরাসের জীবন চক্র ১২ ঘণ্টার বেশি নয়। এসব অদ্ভুত মনগড়া তথ্য এনারা কোথা থেকে আমদানি করেন কে জানে?

    নিজের বিচার বুদ্ধি বজায় রেখে কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক কি হওয়া যায় না? নিজেকে বড় সমর্থক প্রমাণের জন্য গো মূত্র খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে নিজের মুর্খামি ছাড়া আর কিছুই প্রমাণ হয় না।

    তবে এখনও যে আশা বেঁচে আছে তার প্রধান কারণ ডাঃ চিরঞ্জিৎ বিশ্বাসের মতো যুবকেরা। বেচারা মালদা- মধ্যমগ্রাম প্রায় ডেলি প্যাসেঞ্জারি করে চাকরি আর বাড়ি সামলাচ্ছে। তার মধ্যেই রাত জেগে লিখে ফেলেছে বাংলায় করোনা মহামারি প্রতিরোধের নানা পদ্ধতি নিয়ে চমৎকার একটি পুস্তিকা। গতকালই সেটা ছাপা হয়ে চলে এসেছে আমার কাছে। বেচারা চিরঞ্জিৎ নিজের সন্তানকে চোখে দেখেনি এখনও। ফোনে বলেছে, ‘দাদা, মঙ্গলবার একদিন ছুটি আছে। আমি নিজেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে বইটা বিতরণ করব। ডাক্তার যদি নিজের হাতে করে দেয়, লোকে নিশ্চয়ই পড়বে, কি বলুন?’

    যারা বিশ্বাস করেন গো মূত্র খেয়ে করোনা সারবে না তারা যোগাযোগ করুন আমার বা চিরঞ্জিতের সাথে। পুস্তিকাটি জেরক্স করে ছড়িয়ে দিন অন্যদের মধ্যেও।

    সত্যি জানুন। কাউকে সমর্থন করা মানেই নিজের মস্তিষ্ক তার কাছে বন্ধক দেওয়া নয়। জনতা কারফিউ পালন করুন। কিন্তু ঘণ্টা, থালা বাজানোর দরকার নেই। যদি চিকিৎসকদের সম্মান জানাতে চান, ওনাদের সুরক্ষার দাবী তুলুন। সরকার থেকে প্রত্যেক চিকিৎসককে নিজেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র দেওয়া হোক। চিকিৎসকেরও জীবনের দাম আছে।


    করোনার দিনগুলি #৩

    ভদ্রমহিলা থাকেন মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায়। সত্তরের উপর বয়স। ছোটো খাটো চেহারা। এখনও সোজা হয়ে গটগটিয়ে হাঁটেন।

    আগে একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর বসে নেই। একটি কেজি স্কুল খুলেছেন। সেখানে নিজেও বাচ্চাদের পড়ান।

    এমনিতে ওনার কোনও বড় সড় অসুখ নেই। মাঝে মাঝে জ্বর বা অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে দেখাতে আসেন। একাই আসেন। উনি বিয়ে থাওয়া করেননি। ভাইয়ের সাথে থাকেন।

    শনিবার ধুম জ্বর নিয়ে দেখাতে এসেছেন। সঙ্গে এসেছে ভাইয়ের ছেলে। সে অনুযোগ করল, দেখুন না, এই জ্বর নিয়েও গতকাল পিসিমা একাদশী পালন করছেন।

    ভদ্রমহিলা হাসলেন। বললেন, আমার কিছু হবে না। আমার ভয় তোদের জন্য। এখন আমার বেশি কাছে টাছে আসিস নে।

    আমি বললাম, নিজের জন্য ভয় পাবেন না কেন? মহামারীর ভয়ে লোকে কাঁটা হয়ে আছে। তাছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ভয় তো আপনাদের মতো বয়স্ক মানুষদেরই।

    ভদ্রমহিলা বললেন, দ্যাখো ডাক্তার, আমি মহামারী বেঁচে ফেরা লোক। তুমি শক্ত করে আমার হাতটা একবার ধরো। তারপর অবশ্য নিজেও সাবান দিয়ে হাতটা ধুয়ো। ওতেই মহামারী পালিয়ে যাবে। তোমারা থাকতে মহামারীর ভয় কি?

    আমি বললাম, আপনি মহামারী দেখেছেন?

    তাহলে একটা গল্প শোনো। আমার তখন উনিশ বছর বয়স। যশরে থাকতুম। দেখতে শুনতেও খারাপ ছিলুম না। পড়াশুনাতেও ভালো ছিলুম। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় যশোর জেলায় দ্বিতীয় হয়েছিলুম। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের সেনারা পূর্ব বঙ্গে হত্যা লীলা শুরু করল। আমাদের বাড়ি ইন্ডিয়া বর্ডারের চেয়ে খুব বেশি দূরে নয়। তাই আমরা প্রথম দিকে ততটা ভয় পাই নি।

    কিন্তু মে মাসের পর পরিস্থিতি খারাপ হোল। শোনা গেল খান সেনারা আমাদের গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। বাবা অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় পড়লেন। বিশেষ করে আমাকে নিয়ে। কারণ কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছিল, সুন্দরী হিন্দু যুবতীরা যে বাড়িতে আছে সেই বাড়িতেই খান সেনাদের প্রথম পা পড়ে।

    আমার মা ছোটো বেলাতেই মারা গেছেন। বাবা আমাকে আর দুই ভাইকে নিয়ে ইন্ডিয়ায় আসতে চাইলেন। কিন্তু বড় দাদা রাজি হোল না। সে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়বে। এক রাত্রে সে গৃহত্যাগ করল। আর কোনও দিন তার কোনও খোঁজ পাইনি।

    বাবা, আমি আর ছোটো ভাই বর্ডার পার হয়ে বনগাঁ উদ্বাস্তু শিবিরে এলাম। সেখানে প্রায় নারকীয় পরিস্থিতি। ভারত সরকারের রেশনে কোনও রকমে দুবেলার পেট চলে যায়। কিন্তু পয়ঃপ্রণালীর অবস্থা খারাপ। অত্যধিক ভিড়ে জন্তুর মতো আমাদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

    কয়েকদিনের মধ্যেই কলেরা মহামারীর মতো উদ্বাস্তু শিবিরে ছড়িয়ে পড়ল। খান সেনাদের চাইতে সে কম নির্দয় নয়।

    অসহায় মানুষগুলো দলে দলে মরতে আরম্ভ করল। মাত্র একদিনের বমি পায়খানায় বাবা মারা গেলেন। কিন্তু আমার তখন শোক করার মতোও অবস্থা নেই। আমি নিজেই কলেরায় আক্রান্ত হয়ে বেহুঁশ পড়ে আছি। মাথার মধ্যে একটাই বোধ কাজ করছে। ভাইটার কি হবে।

    সেই ঘোরের মধ্যে মনে হোল কে যেন আমার একটা হাত আঁকড়ে ধরেছে। আমার মাথাটা তার কোলে তুলে পরম মমতায় আমার ঠোঁটের মধ্যে অমৃত ঢেলে দিচ্ছে।

    আমি আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠলুম। মেডিকেল কলেজ থেকে অনেক তরুণ ডাক্তার এসেছিলেন। তারা আমাদের ওআরএস বানানো শেখালেন। বড় বড় গামলায় ওআরএস বানানো হত। দিব্যি শিখে নিজেই ওআরএস বানিয়ে অনেককে সুস্থ করে তুললুম। আমি তরুণ ডাক্তারদের মুখ ভালো করে দেখতুম। এদের মধ্যে কে আমার জীবন দাতা? একজন সুদর্শন, লম্বা তরুণ চিকিৎসককে দেখে সন্দেহ হয়েছিল। লজ্জায় মুখ ফুটে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।

    তারপর বারাসাতের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আমার আশ্রয় মেলে। আমি কলেজেও ভর্তি হই। কিন্তু ওই অলৌকিক স্পর্শ আমি কোনও দিনও ভুলতে পারিনি।

    সঙ্গে আসা ছেলেটি তাড়া দিল, চল পিসি। আরও রোগী বসে আছে।

    ভদ্রমহিলা যাওয়ার সময় বললেন, মহামারীকে আমি ভয় পাই না। কারণ জানি শেষ পর্যন্ত মহামারীই মানুষের কাছে পরাজিত হবে। ওই অলৌকিক স্পর্শই মহামারীকে পরাজিত করবে। আমরা যারা বেঁচে থাকব, তারা মানুষ হিসাবে আরও ভালো হয়ে উঠবো।


  • বিভাগ : আলোচনা | ২২ মার্চ ২০২০ | ২৮৭১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
গল্প - Moulik Majumder
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • একলহমা | ২২ মার্চ ২০২০ ২২:০৪91700
  • চোখ জল এসে গেল‌।
  • r2h | 172.68.146.229 | ২২ মার্চ ২০২০ ২২:১৩91701
  • ' তার মধ্যেই রাত জেগে লিখে ফেলেছে বাংলায় করোনা মহামারি প্রতিরোধের নানা পদ্ধতি নিয়ে চমৎকার একটি পুস্তিকা।' - এটা কি বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে? তাহলে একটা সফ্ট কপি/ স্ক্যানড কপি/ ইবুক বা পিডিএফ ছড়িয়ে দেওয়া যায়; এখানেও তুলে দেওয়া যায়।
  • π | ২২ মার্চ ২০২০ ২২:১৭91702
  • হ্যঁ। পাঠাচ্ছি।
  • | ২২ মার্চ ২০২০ ২২:৪৬91703
  • আহা গো...
  • পাঠক | 172.69.135.51 | ২৩ মার্চ ২০২০ ০১:৫৪91706
  • আমরা যারা বেঁচে থাকব, তারা মানুষ হিসাবে আরও ভালো হয়ে উঠবো। - সত্যি হোক, সত্যি হোক।
  • Rana | 162.158.159.67 | ২৩ মার্চ ২০২০ ১৯:৪১91714

  • হক কথা।। এই দুর্দিনের সময় ddoctor রা-ই ভগবানের মুর্তি হয়ে দেখা দেন।
  • বিপ্লব রহমান | ২৩ মার্চ ২০২০ ২০:৪৬91717
  • এপারে করোনা চিত্র প্রায় একই।

    দিন মজুররা বলছেন, করোনায় নয়, তারা বোধহয় উপোস করেই মারা যাবেন! পাগলের মতো লোকে চালডালশাবান কিনছে। যেন দুর্ভিক্ষ আসছে, এমন ভাব। নিত্যপণ্যের দামও চড়ছে।  বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমান আদালত, সরকারি হুঁশিয়ারি শুধু টেলিভশনের পর্দায়। ...

    সাথে মুর্খামীও কিছু কম নেই। সরকার জন সমাগম নিষেধ করলে কি হবে? করোনা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ  ওয়াজ মাহফিল জায়গায় জায়গায় হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ সমবেত হচ্ছেন। খোদ মক্কা-মদীনাসহ সৌদি আরবে মসজিদে নামাজ স্থগিত করলেও আমাদের সরকার বাহাদুরের সে ঘোষণা দেওয়ার হিম্মত কই?

    নিজে প্রজন্ম ৭১ বলে যশোরের পিসির কথাগুলো বুকের মধ্যে যেন শেল হয়ে গেঁথে গেল। 

    তার নাম পরিচয় যদি প্রকাশে উনি আপত্তি না করেন, তবে জানাবেন? বিশেষ করে তার হারিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা বড় ভাইয়ের নাম-পরিচয়, ত্রাণ শিবিরে নিহত পিতা, তারও পরিচিতি জানা চাই। এমন কতো লক্ষ প্রাণ, আর আত্মত্যাগেই না স্বাধীন বাংলা, সবই মুক্তিযুদ্ধের অকথিত ইতিহাস। তাদের সেল্যুট জানাই।  

    করোনার দিনগুলি উড়ুক

  • দেবব্রত ঘোষ মলয় | 202.142.71.172 | ২৪ আগস্ট ২০২০ ২১:০২96616
  • আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। নিজেও একটা লিটল ম্যাগাজিন করি। লকডাউন সংখ্যাও হয়েছে। কিন্তু এইরকম একটিও লেখা পাই নি। আমি পুরোটাই পড়ব। আর আপনাকে কুর্নিশ। শুভেচ্ছা গুরু চন্ডালিকে। 

    দেবব্রত ঘোষ মলয়

    সম্পাদক, ইলশেগুঁড়ি

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন