এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • আমিও কি হিটলিস্ট-এ?

    সুভানু ভট্টাচার্য লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১১ অক্টোবর ২০০৯ | ৮১৮ বার পঠিত
  • গত সপ্তাহে মাওবাদী সন্দেহে ধরপাকড় শুরু হবার পর আমরা এই বিষয়ে লেখা চেয়েছিলাম। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে কটি লেখা পাওয়া গেছে, এটি তার মধ্যে একটি। প্রসঙ্গটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, অতএব, এ বিষয়ে যে কোনো মতের লেখাই আমরা প্রকাশ করব।

    যে দেশে জন্মেছি, বড় হয়েছি, যে দেশকে ভালবেসেছি (বা বলা ভাল, ভালবাসার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছি) এবং যে দেশ আমায় কদিন আগেই ভোটাধিকার দিয়েছে, সেই দেশের শাসনযন্ত্রের সাম্প্রতিক অপরূপ উদ্যোগগুলোর তারিফ না করে কি থাকা যায়? সুনাগরিক হতে গেলে রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কর্তব্যটা আছে না, সেই তাগিদেই কিছু লিখতে বসা। কেউ আবার হুট করে দেশদ্রোহী বললে খুব খারাপ লাগবে কিন্তু!

    রোজ সকালে খুঁটিয়ে খবরের কাগজ পড়ার সময় হয়ত পাইনা, কিন্তু অল্পস্বল্প পড়ে যা বুঝছি, সেটা হল রাজ্য সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনাবান মাথারা মনে করেছেন এবং সাধারন জনগণকে, মিডিয়ার সাহায্যে বুঝিয়েও দিয়েছেন যে মাওবাদীরা খুব খারাপ লোক। তাদের সায়েস্তা করতে তাঁরা ‘The Unlawful Activities Prevention Act (UAPA)’ নামক একটি একুশে আইন নাহয় হঠাৎ ফিরিয়েই আনলেন, এ নিয়ে কিছু লোকের এত চেঁচামেচি করার কি আছে বুঝিনা বাপু। মানবাধিকারের নাম করেই বা চেঁচানোর কি মানে বুঝিনা। কোন অধিকারটা কখন কে পাবে, সে তো সরকার বাহাদুরের দয়া!

    সিভিল সোসাইটি (নাগরিক সমাজ) অভিযোগ করছে,জনগণের কমিটির গ্রেফতার হওয়া নেতা ছত্রধর মাহাতো-কে নাকি অনৈতিক ভাবে পুলিশে ধরেছে! অদ্ভুত তো, নীতি কোনটা, তা তো সরকার ঠিক করে দেবে, তাইনা? তারা এও বলছে যে, জনগণের কমিটি নাকি জনগণের ওপর রাষ্ট্রের (পুলিশি) অত্যাচারের প্রতিবাদেই গঠন করা হয়েছিল। শোনো কথা! রাষ্ট্র ভাল লোকেদের ওপর এমনি-এমনি খাঁড়ার ঘা কেন নামিয়ে আনতে যাবে? পুলিশ যাদের ধরেছে, তারা নিশ্‌চয়ই দেশদ্রোহীতা করেছিল। যে সব গ্রামবাসীদের ধরা হয়েছে তারা নিশ্‌চয়ই মাওবাদী চর। তারা নিশ্‌চয়ই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদেরতো স্রেফ গুলিকরে মেরে ফেলা উচিত। এদের প্রতি দরদ দেখানো নাগরিক সমাজ ও আলবাত্‌ দেশদ্রোহী। দরকার মনে করলে পুরো সিভিল সোসাইটিকে লাইনে দাড় করিয়ে গুলিকরে মারা উচিত। যে সিভিল সোসাইটি না বুঝে রাষ্ট্রের কার্যকলাপকে চ্যালেঞ্জ করছে, রাষ্ট্রের তাগিদেই তাদের সরিয়ে দেওয়া জরুরী কারণ তারা শুধু অদরকারি-ই নয়, বিপজ্জনক ও।

    এছাড়া আবার কিছু দুষ্টু লোক নাকি মাওবাদীদের নৈতিক সমর্থন দিচ্ছেন এবং মাওবাদীদের নিয়ে সহজ, সরল, প্রচলিত সত্যটাকে অস্বীকার ও করে চলেছেন। কি সাহস, ভাবা যায়? একটি গণতান্ত্রিক দেশে, যেখানে বাকস্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার - কে, কাকে, কখন, কোন ব্যাপারে সমর্থন করবে, সেটাতো সরকারের ঠিক করে দেওয়ার কথা! এবং দেশবাসীর উচিত সেটাকে মাথা পেতে মেনে নেওয়া। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা অধ্যাপক থেকে শুরু করে পিপলস মার্চ-এর প্রেস মালিক, প্রকাশক ও কর্মী, কৌশিক সেনের মত নাট্যকার থেকে শুরু করে, নিষিদ্ধ নয় কিন্তু সরকারী বয়ান অনুযায়ী ‘ মাওবাদী ঘনিষ্ঠ ’ কোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জনৈক ব্যক্তি, সুজাত ভদ্রর মত মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে পারার মোড়ে বা অর্কুটে আড্ডায় গরম-গরম কথা বলা সুজয়দার মতন যেকোন বিরোধী কন্ঠকে তো এই মুহুর্তে যেন-তেন- প্রকারেণ চেপে দেওয়া আবশ্যক, তা সে মাওবাদী তক্‌মা দিয়ে গ্রেফ্‌তার করেই হোক বা পুলিশের লাঠি - বন্দুক দিয়েই হোক, নাকি! অনেকে হয়ত এখন মনে করতে শুরু করেছে যে এটা ‘ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ’ , কিন্তু তারা যেন শিগ্গিরি সামলে যায়, নচেৎ বলাই বাহুল্য, খুব তাড়াতাড়িই বৃহত্তর স্বার্থের জন্য, তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে।

    এবার একটা ব্যক্তিগত অক্ষমতার কথা বলি। এতটা যখন পড়েই ফেলেছেন, তখন আশা করি আর দু লাইন বেশি পড়তে বিরক্ত হবেন না! ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে আমি প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাই। যেদিন ভোটার পরিচয়পত্র প্রথমবার হাতে পেয়েছিলাম, সেদিন নিজেকে বেশ কেউকেটা মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল অ¡মার ভোটটা কত দামী। রাষ্ট্র আমার কথা, মতামত শুনতে আগ্রহী। কিন্তু কয়েকদিন চিন্তাভাবনা করার পর সরকারী বা বিরোধী কাউকেই ভোট দেওয়ার ব্যাপারে মন সায় দিলনা। বুথে গিয়ে শেষমেশ ভোটটা এক অচেনা নির্দল প্রার্থীকে দিয়ে এলাম। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সংসদীয় গণতন্ত্রের নাগরিক হয়ে স্বীকার করছি যে সম্পূর্ণ অনাস্থাবশত: গতবার আমি নিজের ভোটটা নষ্ট করেছি, এবং হয়ত আগামীবার-ও তাই করতে বাধ্য হব। এইসব দায়ে আমিও কি রাষ্ট্রের হিটলিÙট-এ উঠে গেলাম?

    অক্টোবর ১১, ২০০৯
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ১১ অক্টোবর ২০০৯ | ৮১৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন