• বুলবুলভাজা  খবর  টাটকা খবর

  • এক দেশ এক আইন -- আসাম পর্ব

    admin লেখকের গ্রাহক হোন
    খবর | টাটকা খবর | ০৭ আগস্ট ২০১৯ | ২২০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেবার পর, যখন দাবী করা হচ্ছে "এক দেশ এক আইন", ঠিক তখনই আসামের এন-আর-সি-তাড়িত মানুষজন দেশের মধ্যে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য এক অদ্ভুত অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছেন। সারা দেশের আইন তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বন্যাপীড়িত আসামের বাংলাভাষীদের উপর নিজের নাগরিকত্ব পুনঃপ্রমাণের যে চাপ, তাতে তাঁরা মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন, হারিয়ে যাচ্ছেন, আত্মহত্যা করছেন, সরাসরি আহত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন। বন্যা হোক, বা ঘরদোর ভেসে যাক, কোনো ছাড় নেই। কারণ, বাকি দেশের আইন তাঁদের উপর প্রযোজ্য নয়। কোনো এক আসাম চুক্তি, সরকারি এবং আইনী সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের নতুন করে প্রমাণ করতে হচ্ছে নিজের নাগরিকত্ব, যা গোটা দেশে কাউকে কখনও করতে হয়নি।

    আসামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম আজাদ তাঁর ফেসবুকের একটি লেখায় জানাচ্ছেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যাওয়া গাড়িগুলি দিনে অন্তত একটি করে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। বিগত চার দিনে অন্তত চার জন মারা গেছেন এবং শতাধিকজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এ শুধু ঘটনাচক্রে হয়ে গেছে এমন না, আজাদ লিখেছেন, যাতায়াত এবং পরিবহনের ব্যবস্থাটিই এরকম অমানবিক, যে, শুধু শুনানিতে হাজির হতে গেলেই কিছু দুর্ঘটনা, কিছু মানুষের বেঘোরে মৃত্যু এবং আরও অজস্র ক্ষয়ক্ষতি অনিবার্য। পুরো পরিকল্পনাটিই এইভাবে তৈরি।

    এই পুরো পদ্ধতিটিই চলছে অমানবিক এবং আধা-বেআইনী ভাবে। সর্বোচ্চ আদালত খুব স্পষ্ট করে বলেছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়েছেন, তাঁদের পুনঃপ্রমাণের নামে আবার হেনস্থা না করতে, শুনানির নামে বহু দূরে টেনে না নিয়ে যেতে। প্রয়োজনীয় শুনানির ক্ষেত্রেও অন্তত ১৫ দিনের অগ্রিম নোটিস দেওয়ার কথা। কিন্তু এসব কিছুরই ধার না ধেরে, গ্রামের বিরাট সংখ্যক লোককে দিনের-দিনই শুনানিতে হাজিরা দিতে ডাকা হচ্ছে। মানুষগুলি ইতিমধ্যেই বন্যাদুর্গত। শুনানির জায়গাও ৪০০ বা ৬০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে হাজির মতে হবে ২৪ ঘন্টার বা আরও কম সময়ের মধ্যে। পুরো পদ্ধতিটিই এমন, যাতে করে সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহার অসম্ভব। তাই জোগাড় করতে হচ্ছে অন্য কোনো গাড়ি। গ্রামেগঞ্জে এত অল্প সময়ে গাড়িও খুব প্রতুল এমন নয়। তার ভাড়া উঠছে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা অবধি। সেই গাড়িতে গাদাগাদি করে উঠছেন মানুষজন। ড্রাইভার তারপর বিদ্যুৎগতিতে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে। সেখানে না যাবার কোনো উপায় নেই। কারণ, শুনানিতে হাজির না হলে মাথার উপর ঝুলছে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে চিরতরে বাদ যাবার খাঁড়া। আর এইভাবে যাতায়াত করলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটতে বাধ্য। যা অবধারিত, তাইই হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। পুরো ব্যবস্থাটিই এমন, যাতে ক্ষয়ক্ষতি, মৃত্যু বা আঘাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।

    আজাদ তাঁর লেখায় নিজের দেখা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। রাত একটায় খানাপাড়ায় দেখা গেল একটি অটো ভ্যান। তাতে গরুছাগলের মতো গাদাগাদি করে আছে মানুষজন। বাচ্চা, বুড়ো, মহিলা, শিশু। সকাল নটার মধ্যে তাদের পৌঁছতে হবে শিবসাগরে। দূরত্বের হিসেবে যা সাড়ে তিনশো কিলোমিটার। রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটবে এই গাড়ি, সেই কড়ারেই ভাড়া হয়েছে। ফলে রাস্তার ডিভাইডারে বা রাস্তার ধারের গাছে ধাক্কা মারার সম্ভাবনা যে প্রচুর, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। 

    এই পদ্ধতিতেই চলছে নতুন আসামের নাগরিকত্ব তালিকার প্রস্তুতি। বন্যায় বাড়ি-ঘর ভেসে গেলেও লোকে কোনোক্রমে বাঁচাচ্ছেন নাগরিকত্বের প্রমাণ, কোনো এক কাগজের টুকরো। তারপর কোনো একদিন হঠাৎ ডাক পেয়ে ভাড়া করা ম্যটাডোরে গাদাগাদি করে দৌড়চ্ছেন বহুদূরের কোনো এক কেন্দ্রে অগ্নিপরীক্ষা দিতে। রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটছে। মাথার উপর ঝুলছে অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবার খাঁড়া। ভারতবর্ষের মধ্যে একটি রাজ্যে, কেবলমাত্র একটি রাজ্যেই নাগরিকত্বের এরকম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে মানুষকে। মূলত একটি বিশেষ ভাষাভাষী মানুষকে। আর অন্যদিকে ৩৭০ ধারার অবলোপ ঘটিয়ে চলছে "এক দেশ এক আইন" এর জয়ধ্বনি।

  • বিভাগ : খবর | ০৭ আগস্ট ২০১৯ | ২২০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন