• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • স্প্লিন্টারের অনন্ত নক্ষত্র

    শিবাংশু লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | ২৯৮ বার পঠিত
  • মুগ্ধতা মানে কী? একটা মানসিক অবস্থান? আরোগ্যহীন আত্মসমর্পণ? যুক্তিরহিত জেদ? অথবা গ্যাসবেলুনের প্রতি শিশুর অনন্ত মোহের আর্তি?
    ----------------------------------------------
    তাঁকে প্রথম 'পড়ি', সাড়ে চার দশক তো হয়েই গেলো। তাঁকে নিয়ে আমার প্রথম ছাপা লেখা, তাও প্রায় ততোদিন হলো। সেটা ছিলো নিশ্ছিদ্র মুগ্ধতার ঋতু। প্রশ্নহীন, অনুগত, অভিভূত বাঙালি কিশোর। চার দশক আগে কৃত্তিবাস পত্রিকার নবসংস্করনে কিছু ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন ছাপা হতো। সেখানে একজন লিখছেন,' কেউ কি এই দুটো লাইনের ইংরেজি অনুবাদ করে দিতে পারবেন? " তুমি তা জানো না কিছু, না জানিলে, আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে"। ভালো লাগলে একটি কাব্যগ্রন্থ উপহার দেওয়া হবে।' কে চেয়েছিলেন এই ইংরেজি অনুবাদ ? কোন বিদেশিনী প্রিয়ার জন্য? জানা হয়নি কখনও। কিন্তু খ্যাপার মতো লাইনগুলোকে খুঁজে বেড়ানো ইতিউতি। কোন কবি, কোন বই? বাবা বা মা'কে জিগ্যেস করলে তৎক্ষণাৎ জানা যেতে পারতো, কিন্তু আমাদের ঐ বয়সে আমরা বাবা-মা'র কাছে এই প্রশ্ন করার মতো স্মার্ট ছিলুম না। নিজে নিজেই সত্যান্বেষীর মতো গবেষণা। সাধু ভাষা, অতএব বৃত্তটা ছোটো হয়ে গেলো। অমিয়, বুদ্ধদেব, সঞ্জয়, প্রেমেন্দ্র, জীবনানন্দ, কে? সুধীন্দ্র তো নিশ্চয় নয়। তখন কাব্যসমগ্রের যুগ নয়। কৃশকায় কবিতার বই, আলাদা করে হাতে নিয়ে খুঁজতে হয়। বই তো রয়েছে হাতের কাছে, কিন্তু কতো খোঁজা যায়? এই সময় পিতৃবন্ধু প্রয়াত শুদ্ধসত্ত্ব বসুর 'একক' কাগজে প্রকাশিত একটি লেখা চোখে পড়লো। শুধু একটি লাইন, " আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে।" কবি জীবনানন্দ ছিলেন প্রবন্ধটির বিষয়। ব্যস, বৃত্তটি অনেক ছোটো হয়ে গেলো । 'ঝরা পালক' বাদ গেলো। বনলতা দিয়ে শুরু করি, নেই। সেই সময় শীর্ষেন্দু 'যাও পাখি'তে ঘুরে ফিরে ট্রিগার করছেন বনলতা দিয়ে। "সব নদী ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন।" এবার পিছিয়ে যাই, সাতটি তারার অন্ধকারে, নেই। এই বই, সেই বই , আন্দাজ করে করে, আমার জীবনানন্দের প্রথম নিবিড় পাঠ শুরু হলো, এভাবেই। ধূসর পান্ডুলিপি যেদিন খুঁজে পাই, সেদিন থেকে আমার কবিতার সঙ্গে অশান্তিময়, তীব্র, অমোঘচেতন, সহবাসলুব্ধ দাম্পত্যের সূচনা হয়েছিলো। ছাপা বাংলা অক্ষরের প্রতি এতো বিবশ, ভরাকোটালের টান যে অনুভব করা যায়, কখনও ভাবিনি। মুগ্ধতা? হবেও বা। একটা মাত্র অনুভূতির নাম দিয়ে সেই দরিয়াধসান প্লবতা'কে ধরা যাবেনা।
    ------------------------------------------
    প্রায় পাঁচ দশক আগে শ্রদ্ধেয় শঙ্খ ঘোষ'কে এক অগ্রজ বন্ধু উত্তেজিত ধিক্কার দিয়েছিলেন। অপরাধ? কেন শঙ্খ দান্তে বিষয়ক একটি প্রবন্ধে জীবনানন্দের নাম উল্লেখ করেছেন ? দান্তের সন্দর্ভে কেন উল্লেখিত হয়েছে," জ্ঞানের বিহনে প্রেম নেই।" কেন শঙ্খের মনে হয়েছে, " তবুও নদীর মানে স্নিগ্ধ শুশ্রূষার জল, সূর্য মানে আলো/ এখনও নারীর মানে তুমি, কত রাধিকা ফুরোলো" এই আশ্বাসের পরে জীবনানন্দ দান্তের গভীরতার বৃত্তকে স্পর্শ করতে পারছেন? কিন্তু বন্ধু তা মানেন না। অথচ সে প্রবন্ধে বিষ্ণু দে'র উল্লেখ ছিলো, তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। শঙ্খ বলছেন সেই বন্ধু'র চিন্তার গভীরতা, কাব্যপ্রাণতা প্রশ্নের ঊর্দ্ধে। কিন্তু তিনি তো প্রগতিশীল গোষ্ঠীর মানুষ। মার্ক্সবাদী নিরিখে তখনও জীবনানন্দ জলচল হ'ননি। পরিচয় পত্রিকায় কবির প্রয়াণের পর মনীন্দ্র রায় লিখেছিলেন, "বেঁচে নেই বলে তিনি কিছুটা সদয় ব্যবহার তো পানই, উপরন্তু স্মৃতিপূজার হিড়িকে তাঁর বিষয়ে চারদিক থেকে সত্য মিথ্যা এত প্রশস্তিপত্র রচিত হতে থাকে, যার ভেতর থেকে কবির আসল চেহারা আবিষ্কার করা অন্ধের হস্তিদর্শনের মতো-ই পন্ডশ্রম হয়ে ওঠে।" এক মৃত কবির প্রতি এক সহযাত্রীর অকরুণ, নির্মম, ক্ষুব্ধ, হয়তো কিছুটা ঈর্ষাকাতর এক আক্ষেপ। 'প্রগতিশীল' বা 'প্রতিক্রিয়াশীল', যে শিবিরেরই হোন না কেন, সজনীকান্ত বা সুধী প্রধান, জীবনানন্দ সবার টার্গেট। অথচ বিষ্ণু দে যখন 'একালের কবিতা' সম্পাদনা করেন, রবীন্দ্রনাথের পনেরোটি কবিতার সঙ্গে জীবনানন্দের চোদ্দোটি লেখা নির্বাচিত হয়। আবার বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কাব্যসংকলনে শেষ পর্যন্ত জীবনানন্দের উনিশটি কবিতাকে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও রং বাছাই চলে । বিষ্ণু দে প্রত্যাখ্যান করেন 'বোধ' বা 'আট বছর আগের একদিন'। অন্যপক্ষে বুদ্ধদেবের কাছে 'তিমিরহননের গান' গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
    --------------------------------
    আমার বামপন্থী বন্ধুরা, যাঁদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা ছিলো, বিশেষ পছন্দ করতেন যখন আমি মঙ্গলাচরণ, রাম বসু, দিনেশ দাস,বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা মণিভূষণকে নিয়ে আলোচনা করতুম বা আমার লেখালেখির মধ্যে তাঁরা আসতেন। সাতের দশকের শেষ বা আটের দশকের শুরু, এই সময়টা ছিলো বাংলা কবিতার যাত্রাবদল জংশন। সমর সেন কবে শেষ, সুভাষের 'শিবির' পরিবর্তন হয়ে গেছে। বীরেন্দ্র আর মণিভূষন ছাড়া আর কোনও গ্রহণযোগ্য স্বর নেই। আদেশ আসতো রবীন্দ্রনাথ আলোচনা করার সময় উত্তরাধিকারী হিসেবে এই সব কবিরা যেন সমুচিত মর্যাদা পা'ন। অন্য পরে কা কথা? মনে পড়ছে এই রকম একটা সময়ে একটি আলোচনা সভায় আমাকে রবীন্দ্রনাথ ও 'প্রচন্ড পঞ্চাশে'র কবিদের নিয়ে দীর্ঘ চর্চা করতে হয়েছিলো। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন নবনীতা দেবসেন এবং বিশিষ্ট বামপন্থী প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ নারায়ণ চৌধুরী । ঐ লেখাটির পিছনে ছিলো প্রভূত পরিশ্রম। কারণ প্রচন্ড পঞ্চাশের কবি'রা তখনও পূর্ণরূপে সৃষ্টিশীল এবং তাঁদের লেখা নিয়ে বিশিষ্ট আলোচকেরা তখন সক্রিয় হয়ে ওঠেননি। এই সব কবিরা সতত 'বিতর্কিত' এবং 'কবিতা' ছাড়াও বহু রকমের অ্যান্টিকে অভ্যস্ত। সতর্ক পাঠক ছাড়া কোনটা 'কবিতা' হয়ে উঠছে আর কোনটা নিছক চমক, বুঝে ওঠা ভার। নিজের অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ভাবনাচিন্তা থেকেই নানা মন্তব্য, টিপ্পনি করতে হয়েছিলো আমাকে। বলেছিলুম, প্রচুর আপাত হল্লাবাজি সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের মুষ্টি থেকে কল্লোল, কৃত্তিবাস বা কৌরব কেউই শেষ পর্যন্ত বেরোতে পারেনি। কিন্তু প্রচন্ড পঞ্চাশের কবি'রা কবিতা 'লেখার' প্ররোচনা মূলতঃ জীবনানন্দ থেকেই পেয়েছিলেন। সেখানে রবীন্দ্রনাথের ছায়া পূর্বগামিনী। যদিও হাংরির কবিতা আমার আলোচ্যের মধ্যে ছিলোনা, কিন্তু বাকিরাও তো অনেকে ছিলেন। বস্তুতঃ সেই মূহুর্তে সুনীল গাঙ্গুলি'কে বাদ দিলে বাংলা কবিতার মূলস্রোতটা সেই সব কবিই নিয়ন্ত্রণ করতেন। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আপত্তি ছিলোনা, কিন্তু জীবনানন্দ এবং বাকি কবিদের প্রসঙ্গে আমার অবস্থান নিয়ে নারায়ণবাবু একমত হলেন না। আমি তখন সদ্যোতরুণ, নারায়ণবাবুর সঙ্গে তর্কে প্রবৃত্ত হবার এলেম বা স্মার্টনেস অর্জন করে উঠতে পারিনি। কিন্তু নবনীতা তাঁর পিতৃবন্ধু নারায়ণবাবুর বক্তব্যের সূত্রে আমার যাবতীয় অবস্থান'কে সরব সমর্থন জানালেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে পরদিন তাঁর প্রবাসের আড্ডায় এই আলোচনা আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমন্ত্রণও জানিয়ে ছিলেন। সেই আড্ডাতেও মুখ্য বিষয় ছিলেন জীবনানন্দ। তখনও আমার কাছে জীবনানন্দ প্রবাদপ্রতিম উজ্জ্বল মাছ এবং আমি মুগ্ধ হয়ে বলে যাই, ফিরে এসো, ফিরে এসো চাকা।
    ------------------------------------------------------

    সব অনুসন্ধিৎসু মানুষই একটা বয়সে, মোটামুটি পঁচিশ থেকে চল্লিশ, বন্ধহীন আত্মবিশ্বাসে ঘেরা থাকেন। তাঁদের পুথিগত প্রস্তুতি এই বয়সের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যায়। জাগতিক কার্যকরী উদ্যমগুলিও সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করে। গণনাত্মক যুক্তিবোধের সরলরৈখিক বৈজয়ন্তী তাঁদের পাথেয় হয়ে ওঠে। জীবনের খুবই উজ্জ্বল সময়কাল এটা। কিন্তু এই পর্যায়ে দু'টি মানসিক অবস্থানের জন্য সময় বা রুচি'র অভাব দেখা যায়। মুগ্ধতা ও বিস্ময়বোধ, বাহুল্য বোধ হয়। 'সমস্তকে রেখেছি মস্তকে' এই স্পর্ধার নিত্য উদযাপনে মানুষ বিভোর হয়ে থাকে। সবার মতো আমারও হয়তো এসেছিলো সে সময়। যে কোনও রকম মুগ্ধতাকে ত্যজ্য ঘোষণা করার মধ্যেই গৌরব। এই কবিতার মধ্যে কী আর আছে ? এই গান'টি নেহাৎ মামুলি। এই ছবিটি নিছক রিপিটেশন। হট্টরোলে মুখরিত সেই প্রচারবিহ্বল মনোজগতে নিঃশব্দের পর্দাঘেরা নিবিড় জীবনানন্দের প্রতি ব্যক্তির মুগ্ধতা ছুটি নেবে। ক্র্যায়োজেনিক সংরক্ষণে নিজের মধ্যেই তার নির্বাসিত ঘুম। তারপর কোনওদিন জেগে উঠে নতুন করে কবিতা পড়তে শেখা, আবার অন্যভাবে পড়া শুরু করা।
    -------------------------------------------
    শঙ্খের বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু জানতে চেয়েছিলেন তিনি কী পেয়েছেন জীবনানন্দের কবিতায়? শঙ্খ বলেছিলেন , সেই অল্পবয়সে তাঁরা কেউ কেউ পেয়েছিলেন " খোলা হাওয়ার আশ্বাস, নিজের কাছে পৌঁছোতে পারার আশ্বাস।" কিন্তু তাঁদের মধ্যে অস্বস্তি জাগাতো সেই সময়ের বর্গীকরণের সাহিত্য বিচার। জীবনানন্দের এক সময়ের উচ্ছ্বসিত গুণগ্রাহী বুদ্ধদেব বসু 'মহাপৃথিবী' বা 'সাতটি তারার তিমির' পর্যায়ের কবি'কে প্রায় ভর্ত্সনা করে বলেছিলেন তিনি 'অপরিচিত' পথে চলে যাচ্ছেন। সতর্ক করেছিলেন, " কারু নির্দেশ পালন করবার রীতি নেই কবিমানসের ভিতর, কিম্বা তার সৃষ্ট কবিতায়"। তাঁর কি ভয় ছিলো, জীবনানন্দ কোনও বিশেষ 'গোষ্ঠী'র প্রতি আনুগত্য বোধ করছেন? কিন্তু এ জাতীয় সরল বর্গবিন্যাসে কবিকে ধরে ফেলতে চাওয়া বুদ্ধদেবের মতো একজন ধীমান ব্যক্তির কাছে অপ্রত্যাশিত বোধ হয়। জীবনানন্দ সেই কবি যাঁর মনে হয়েছিলো, " মাটি পৃথিবীর টানে, মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি/ না এলেই ভালো হতো অনুভব করে।" আবার আসার পরে দেখলেন " পৃথিবীর গভীর, গভীরতর অসুখ এখন"।অথচ এ কথা স্বীকার করার মধ্যে কোনও দ্বিধাবোধ করলেন না, "এসে যে গভীরতর লাভ হলো/ শিশিরশরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে।" সামগ্রিকভাবে কবি'কে পেতে গেলে পাঠককে উপনিষদে রুদ্রের উভয়মুখ স্মরণ করতে হবে। নয়তো বাজারচলতি ছাপ, নির্জনতার কবি, নিয়তিবাদের কবি, বুর্জোয়া অবক্ষয়ের কবি। নেতিবাদী শব্দব্যবহার তাঁর কবিতায় যত্রতত্র পাওয়া যায়। কিন্তু 'না'য়ের আসাযাওয়া যেন ফিদা হুসেনের ফ্ল্যাট তুলিতে চওড়া কালো রেখার অবয়ব আঁকার খেলা। সম্ভবতঃ জীবনের শেষ কবিতায় রূপকের প্রতিবিম্ব আসছে, " মুখে রক্ত তুলে যারা খচ্চরের পিঠ থেকে পড়ে যায়" অথবা" মৃত্যুর গহ্বরে বসে ব্যথা পাওয়ার অনুষঙ্গ। এসব নিদর্শন থেকে কবি'কে মৃত্যুবিমুগ্ধ আখ্যা দেওয়ার লোক কিছু কম নেই। কিন্তু এই ' হে হৃদয়' কবিতাটিই শেষ হলো, " ইতিহাস খুঁড়লেই রাশি রাশি দুঃখের খনি/ ভেদ করে শোনা যায়/ শুশ্রূষার মতো/ শত শত/ শত জলঝর্ণার ধ্বনি।" পাঠককে চিনে নিতে হবে এই কবিকে। কারণ সঞ্জয় ভট্টাচার্য জীবনানন্দের উক্তিকে একটু বদলে লিখেছিলেন, " সকলেই পাঠক নয়, কেউ কেউ পাঠক।"
    -------------------------------
    কবিতা কারা পড়ে? কেন পড়ে? বোদলেয়ারের লেখায় রয়েছে, বুদ্ধিমান হলেই যে কেউ কবিতার প্রতি আকর্ষণবোধ করবে তা নয়। কবিতাকে কাছে টানার ইচ্ছে বুদ্ধিমান বা হৃদয়বান যে কোনও মানুষের মধ্যে নাও থাকতে পারে। অবসরযাপন, সাময়িক প্রতিক্রিয়া বা নিছক বিনোদন, এর ব্যতিরেকে যাঁরা কবিতার কাছে যেতে চান, তাঁদের মধ্যে এক ধরনের আর্ত সন্ধান ঈপ্সা জেগে থাকে। একক ও পারিপার্শ্বিক, মানুষ, মানব, প্রকৃতি, সময়, সব কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে পাঠকের ঐহিক ও আত্মিক অবস্থানকে খুঁজে যাওয়ার কাজটা কেউ কেউ কবিতার পথ ধরে করতে চান। তাঁরাই কবিতার 'কেউ কেউ পাঠক।' কবিতা সামগ্রিকতার শিল্প। বিচ্ছিন্ন, বিখন্ড, বিযুক্ত জিজ্ঞাসা থেকে কবিতাকে স্পর্শ করা যায়না। জীবনানন্দ এই সামগ্রিক ইতিহাস, সময়, প্লাবন, ভঙ্গুরতার মানবিক অন্তর্যান। শৈলেশ্বর ঘোষ লিখেছিলেন, " জীবনানন্দের সৃষ্টি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিলো, জীবনসত্যের অনুসন্ধানই কবিতার অভিযাত্রার মূল লক্ষ্য। জীবনের আলোকিত পিঠে যখন গ্রহণ লাগে, তীব্র হয়ে ওঠে অস্তিত্বের সঙ্কট-তখনও জীবনসত্যকে টের পাওয়া যায়। পরিচিত পৃথিবীর মধ্যে থেকেই জেগে ওঠে অপরিচিত এক পৃথিবী। প্রতিটি বস্তু তার রূপ ও মাত্রায় পরিবর্তন ঘটায়। আর আমার মনে হয় কবিতাতেই এই পরিবর্তিত মাত্রা ও রূপ প্রথম ধরা পড়ে।"
    ----------------------------------------------------
    গ্রাম থেকে শহরে প্রথম পড়তে আসা একরাম আলি'র স্মৃতিকথায় পাই," ... প্রথম এবং প্রথমেই যে কবির নাম আমি শুনি, ঘটনাচক্রে তাঁর নাম জীবনানন্দ দাশ। যে রুগ্ন নকশাল ছেলেটি কলেজের মাঠে বসে মাথা একটু ওপরে তুলে ( তার কণ্ঠার ওঠানামা আজও চোখে ভাসে) উচ্চারণ করেছিলো, "হাজার বছর ধরে পথ হাঁটিতেছি আমি পৃথিবীর পথে", তার নাম সাদেক হোসেন। কলেজে সে ভর্তি হয়নি ; বিপ্লবসাধনের জন্য সে বেরিয়ে পড়েছিলো। এবং শেষবার নিরুদ্দেশ হবার আগে সে আমাকে তার প্রিয়তম বইটি উপহার দেয়। তাই আমি মনে করি , 'জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা' আমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। ..... তখনও বুঝিনি, কিন্তু আজ বুঝি যে, আমার সমবয়স্ক সেই সদ্য-তরুণ আমার হাতে কোনো গ্রন্থ তুলে দেয়নি; গ্রন্থরূপে আসলে সে দিতে চেয়েছিলো একটি পতাকা।"

    বাংলা পাঠক জীবনানন্দ পড়ছেন প্রায় ষাট বছর ধরে, দুই প্রজন্মের অধিক। একজন কবির পক্ষে দীর্ঘসময়। কিন্তু পাঠক এখনও যেভাবে জীবনানন্দে লগ্ন হয়ে আছেন তাতে মনে হয় এই মূহুর্তে তিনি কবির থেকে অধিক নন্দিতপতাকা হয়েই বিরাজ করছেন। একজন ক্রান্তদর্শী কবির রচনা বারম্বার আবিস্কৃত হয়। কিন্তু মাঝখানে সময়ের বিরাম লাগে। নতুন যুগের নতুন পাঠক পরিবর্তিত প্রেক্ষিতে কীভাবে কবি'কে গ্রহণ করবেন, সেই বিন্দু থেকেই আবার তাঁর জেগে ওঠা। এখনও পর্যন্ত জীবনানন্দ'কে বাঙালি পাঠক সম্পূর্ণভাবে পড়ে উঠতে পারেননি। সেতো রবীন্দ্রনাথকেও পারেনি। কবিতা'কে স্তরে স্তরে বিশ্লেষণ করে তার রহস্য উন্মোচনের উচ্চাকাঙ্খী উদ্যম অনেক সময়ই কোথাও পৌঁছে দেয়না। সময়ের সঙ্গে দেখার চোখ পাল্টায়, পড়ার মন বদলায়। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনও মুগ্ধতার উত্তরাধিকার এগিয়ে দিতে মন চায়না। তাদের সামগ্রিক জীবনবিশ্বাসে জীবনানন্দকে তারা নিজের মতো করে খুঁজে পাবে নিশ্চয়। যেভাবে আমরা পেয়েছিলুম। শৈলেশ্বর যেমন বলেছিলেন, " বাংলা কবিতায় জীবনানন্দ সেই কবি যিনি স্বপ্ন থেকে জেগে উঠেছিলেন, জেগে ওঠা কষ্টকর, জেগে থাকা আরো কষ্টকর। চিৎকার করে উঠেছিলেন, " কেন আমাকে জাগাতে চাও..." আধুনিক এ সভ্যতার শরীরে হৃদয়ের অবস্থান খুঁজেছিলেন তিনি।"
    -------------------------------------------
    নিখিল ও নীড় জনমানবের সমস্ত নিয়মে
    সজন নির্জন হয়ে থেকে
    ভয় প্রেম জ্ঞান ভুল আমাদের মানবতা রোল,
    উভয় প্রবেশ করে আমাদের চেতনার লোকে;
    অনন্তসূর্যের অস্ত্র শেষ করে দিয়ে
    বীতশোক হে অশোক সঙ্গী ইতিহাস,
    এ ভোর নবীন বলে মেনে নিতে হয়;
    এখন তৃতীয় অঙ্ক অতএব; আগুনে আলোয় জ্যোতির্ময়।

     

  • বিভাগ : ব্লগ | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | ২৯৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শিবাংশু | 127.197.255.41 (*) | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৬:৩২68800
  • আজ জীবনানন্দের জন্মদিন,
    কিছু অক্ষম অক্ষরের এলোমেলো ঘাসপাতা রইলো এখানে....
  • Rit | 213.110.243.21 (*) | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৬:৪৩68801
  • শিবাংশু দা,
    এতো কমে মন ভরল না। সেই শক্তি বা বিনয়কে নিয়ে লেখাগুলোর মত চাই।
  • Nina | 83.193.157.237 (*) | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২৫68802
  • মন ভরে গেল--------
  • মনোজ ভট্টাচার্য | 24.96.13.197 (*) | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৬:২৪68803
  • শিবাংশুবাবু,

    অপূর্ব ! আপনার জীবনানন্দের ওপর শ্রদ্ধাঞ্জলি পড়ে এক কথায় এই মন্তব্য দেওয়া যেতে পারত ! কিন্তু তাহলে কি আর আপনার বা আমারই মন ভরত ! তাঁর পতাকা আপনার হাতে রয়েছে বটে – কিন্তু এককালে যে আমরাও সেটা বইবার চেষ্টা করেছিলাম ! হ্যাঁ – অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি

    এককালে – রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে কল্লোলের যাত্রী হয়েও – পরবর্তী যে কজন কবির প্রভাব ছিল – তাঁর মধ্যে জীবনানন্দের সহজ অথচ গভীর শব্দ চয়নে – তাঁর প্রভাবে – সবাই প্রভাবিত হয়েছিলাম আমরা । শুধু যে প্রকৃতির কবি – ঠিক তা নয় – পৃথিবীর সহমর্মী ! সেই নতুন ধারাই এক নব আন্দোলনের সূচনা !

    বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনায় আধুনিক কবিতার সংকলনে জীবনানন্দের কবিতাগুলো দেখে – সব যে বুঝতে পেরেছিলাম – তাও নয় – তখন বনলতা সেনের ঝড় বইত । আর কোথায় – কফি হাউসে । হ্যাঁ তখন ত কবিতার সংস্কৃতির ঝড় ওখানেই বইত । কফির কাপে আর ধোঁয়া উঠত না – তবু আলোচনাও ত শেষ হবার নয় ।
    আপনার অনেক উদ্ধৃতিই তুলে ধরার ক্ষমতা রাখে । কিন্তু সব কোট করলে ত আরেকটা প্রবন্ধ হয়ে যাবে। সে লেখার মত আমার বিদ্যাবুদ্ধি বা ধৈর্য আর অবশিষ্ট নেই ! তবু লোভ সম্বরণ করা মুস্কিল ! – সকলেই পাঠক নয় – কেউ কেউ পাঠক ! – ঠিক তেমনিই সকলেই বোদ্ধা নয় – কিছু বুদ্ধুও আছে আমার মত!

    এ ভোর নবীন বলে মেনে নিতে হয়;
    এখন তৃতীয় অঙ্ক অতএব; আগুনে আলোয় জ্যোতির্ময় !

    মনোজ ভট্টাচার্য
  • Swati | 194.64.190.57 (*) | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৭:১৯68804
  • উঁহু, সত্যিই মন ভরলো না। সবই হল, কিন্তু জন্মদিনের পায়েসটাই যেন বাদ রয়ে গেল......
  • ranjan roy | 24.99.61.64 (*) | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৫:৫৩68806
  • এই ভালো। যতটুকু মুগ্ধতার ছিটেফোঁটা পাওয়া যায়। কখনও হিমালয়ের কোলে জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়া উদাসী মেঘের মত। চুঁইয়ে পড়া কোমল আলোর মত। মাঝে মাঝে শিবাংশুর যখন মন খারাপ হবে বা প্রাত্যহিক দৈনন্দিন জদ্দোজহদের সীমা ছাড়িয়ে মন উড়াল দেবে তখন এমনই সব অনুভূতির স্বাদ যেন আমরা পাই।
    বিষাদকে ভাগ করে নিতে বা ভাগ দিতে ভুলবেন না, শিবাংশু!
  • শিবাংশু | 127.201.149.148 (*) | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ১০:৪৪68805
  • কবির সঙ্গে পথচলা একটা চ্যালেঞ্জ নিঃসন্দেহে। এই মনে হয় হাত ধরে ফেলা গেলো, পরমূহুর্তে বোঝা যায় যা ধরা পড়লো তা আসলে হিলস্টেশনে জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া মেঘের মতো। দেখা দেয়, ভিজিয়ে যায়, কিন্তু ধরা দেয়না। তার উপর যদি সেই কবি'র নাম হয় জীবনানন্দ দাশ। চার-পাঁচ দশক ধরে তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত চড়াই উৎরাই, সে গল্পে তিনি যতোটা আছেন তার থেকে অধিক আছি আমি নিজে। স্বয়ং শঙ্খ ঘোষ তাঁকে নিয়ে নিজের গল্প বুনে চলেন। আরো কতো এলেমদার, তালেবর মনমাতালের দল নিজেদের মতো করে খুঁজে যাচ্ছে জীবনানন্দ আসলে কে, আসলে তিনি কী?

    এপাড়ায়-ওপাড়ায় বন্ধুরা এই লেখাটি নিয়ে বলছেন যথেষ্ট হইলো না। একেবারে ঠিক। এই লেখাটিতে 'আমার জীবনানন্দ' ধরনের কোনও উদ্যম একেবারে নেই। নেহাৎই কিছু ছেঁড়া অক্ষরনিচয়, কোথাও পৌঁছে যাবার কোনও কথা ছিলোনা যার। সতেরো-ই ফেব্রুয়ারির কিছু ব্যক্তিগত মুগ্ধতাযাপন মাত্র।

    জটিলেশ্বর একটি গানে লিখেছিলেন, " তুমি আখর না চেনালে, আজও কিছুই লেখা হতোনা।" কখনও সময় পেলে সেই আখর চেনার গল্প হয়তো লেখা হবে।

    যাঁরা পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন, সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
  • | 24.96.175.179 (*) | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৫:০৯68808
  • *জীবনানন্দের
  • | 24.96.175.179 (*) | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৫:০৯68807
  • ঠিক কম না, আমার কেমন অসম্পূর্ণ লাগল লেখাটা।

    যাই হোক, জীববনান্দের গদ্য নিয়ে কেউ বিশেষ লেখে না কেন? সেই ইন্দো কবে এট্টুসখানি লিখেছিল। q
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন