• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে

    Swarnendu Sil লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ২৪৪৭ বার পঠিত
  • এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে সাথে আমার রাজনৈতিক ভাবনা চিন্তাও জড়িত অবশ্যই, কারণ আর সব কিছুর মতই বিজ্ঞানও রাজনীতি মুক্ত বা রাজনীতি বহির্ভূত বিষয় নয়।

    আমি মনে করি কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিকারক।
    এ কথা আমি ভাঙ্গর আন্দোলনে যখন পরিবেশ সংক্রান্ত কথাবার্তা প্রথম উঠে আসছে তখনো লিখেছিলাম। ভাঙ্গরের 'পরিবেশকর্মী'-দের কথাবার্তায় যে পরিমাণে মিথ্যে উঠে এসেছে, সেই পরিমাণে আদৌ উঠে আসেনি কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্রিটিকগুলো, যেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে সত্যি। বিদ্যুৎ মানুষের প্রয়োজন, এইটা ধরে নিয়েই বলছি ( এইটা ধরে নেওয়ার কারণ আমার এখনও পর্যন্ত তাইই মনে হয়, যদিও বিদ্যুতহীন উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পর্কিত মতামত সিরিয়াস হলে আমি পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দেওয়ার খুব পক্ষপাতী নই ) --- বিদ্যুৎ উৎপাদন এমন কেন্দ্রীভূত ভাবে হতেই হবে তা আদৌ নয়, মানে কয়েকটা সেন্টারে, মানে পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে ও তা দেশজোড়া ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, এই মডেলই একমাত্র মডেল নয়। এই মডেল চলে কারণ এতে

    ক) শিল্পাঞ্চল, মানে যেখানে প্রচুর বড় কারখানা ইত্যাদি সেখানে বিদ্যুৎ যোগানের সুবিধে
    খ) শহরাঞ্চলের সুবিধে
    গ) তাপবিদ্যুৎ, পরমাণু বিদ্যুৎ, বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ( যার জন্যে বড় বাঁধ লাগে ) সেগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সুবিধে

    অর্থাৎ এককথায় বললে মুনাফা করার সুবিধে, পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা ও পুঁজিপতি শ্রেণি ও সুবিধাভোগী শ্রেণির সুবিধে।

    ক্ষতি কি কি?

    উপরের ওই তিনটে পয়েন্ট-এ চোখ বোলালেই ক্ষতি বোঝা যাবে।। শিল্পাঞ্চল, শহর এবং ওই তিন ধরণের বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা দূষণ ছড়ায় ও পরিবেশের যা ক্ষতি করে, তা অপূরণীয় বস্তুত। সবকটারই যাকে 'কার্বন ফুটপ্রিন্ট' বলে তা প্রচুর ( মানে প্রচুউউউউরই ) বেশী, অন্যান্য দূষণও সেই অনুপাতেই।

    এছাড়াও এই মডেলে রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন আসলে বেশ ধীর গতিতে এগোয়, গ্রামে কম বিদ্যুৎ পৌছনো, বিদ্যুতের হাল খারাপ থাকা ইত্যাদি হয়েই থাকে। কারণ এই মডেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন যত লার্জ স্কেলে করা যাবে ও ট্রান্সমিশন যত হাই ভোল্টেজে করা যাবে তত সুবিধে, খরচার দিক থেকেও, এনার্জি এফিসিয়েন্সির নিরিখেও, কারণ নইলে এনার্জি লস বেশী হয়, ফলত খরচাও বেশী হয়। কিন্তু ওই হাই ভোল্টেজ থেকে বাড়ীর ভোল্টেজে নামিয়ে আনতে প্রথমে ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন ও ধাপে ধাপে নেমে এসে শেষত ট্রান্সফর্মার লাগে। সেসব বসানো ও তার মেইনটেন্যান্স সবই করতে হয়, যা অল্প জায়গায় ঘনবসতি থাকা শহরাঞ্চলে করার থেকে গ্রামে করা শক্ত, গ্রামের সংখ্যাও বেশী, তুলনামূলক প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গ্রাম থাকে।

    -----------------------

    সাধারণ গরিব মানুষের সুবিধে আছে কিছু? আছে। এসবের খুদকুঁড়ো হিসেবে বাড়িতে বিদ্যুৎ যোগানেরও উন্নতি হয়, তা শুধু শহরাঞ্চলে নয়। গ্রামে 'লো ভোল্টেজের সমস্যা' কমবেশি ভারতে সর্বত্র, সেসবের খানিক উন্নতি হয়। রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন হলে আগে বিদ্যুৎ ছিল না এমন অঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌঁছয়। আর ( গ্রামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী) কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্ভব হয়। এখনও ভারতে গ্রামাঞ্চলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বেশ খানিকটা অংশ জমিতে জল দেওয়ার পাম্প চালাতে ব্যবহার হয়।

    লাভ-ক্ষতির ব্যালেন্স?
    ক্ষতির দিক এ অনেক বেশী, এমনকি লাভ বলে মনে হওয়া অনেকগুলোও আসলে ক্ষতি, যেমন ধরুন এই যে জমিতে জলের পাম্প ব্যবহারের ফলে ভারতে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জল চাষের কাজে ব্যবহার হয়, তাতে জলস্তর নেমে যায়। সেজন্যে ভারতে প্রায় সর্বত্র ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক, অন্যান্য সমস্যা যেমন জমি খরাপ্রবণ হয়ে পড়া, ভূমিক্ষয় ইত্যাদির কথা যদি বাদও দেন।

    এবার তাহলে আপনি প্রশ্ন করবেন আমি ভাঙ্গরের আন্দোলন নিয়ে ক্রিটিকাল কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খানিকটা আগেই লিখেছি।

    ১) এই বিষয়গুলো আদৌ তুলে আনা হয়নি, খুব আবছাভাবে একজন দুজন খানিক বলেছেন।
    মূল প্রচারে থেকেছে যেসব কথা তা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল ও মিথ্যে।

    তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্র -- আপনার বাড়ীর পাশের হাই ভোল্টেজ লাইনের তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্র থেকে আপনার ক্ষতির আশঙ্কা যা, তার চেয়ে আপনার ব্যবহারের মোবাইল ফোন থেকে, কাছাকাছি বসা মোবাইলের টাওয়ার থেকে আপনার ক্ষতির সম্ভাবনা তার চেয়ে ঢের বেশী। বাড়ীর অনেক ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতিই, যেমন ধরুন পাম্প থাকলে পাম্পের মধ্যের আর্মেচারের যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটটা, ও তার থেকে যে দূরত্বে আপনি যান প্রতিনিয়ত, সেটার তড়িৎচুম্বক ক্ষেত্রটা ওই দূরত্বে প্রায় ততটাই শক্তিশালী যতটা ওই অনেক উঁচুতে থাকা হাই ভোল্টেজ লাইনের জন্য আপনার বাড়িতে তড়িৎচুম্বকক্ষেত্রটা। পৃথিবীর নিজের চৌম্বকক্ষেত্রের মান ওই হাই ভোল্টেজ লাইনটা আপনার বাড়িতে যা চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করে তার চেয়ে বেশী নয় শুধু, অর্ডার অফ ম্যাগনিচুউডে বেশী, মানে একটা ডিজিট বেশী লাগে মানটা লিখতে। ভূচৌম্বক ক্ষেত্রের তারতম্য যা হয় স্বাভাবিকভাবেই, সেই তারতম্যের মাত্রার কাছাকাছি শক্তির তড়িৎচুম্বক ক্ষেত্র আপনার বাড়িতে তৈরি হবে ওই লাইনটার জন্যে, যাতে কিসস্যু হয় না। ক্যান্সার, বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া কিম্বা ক্ষেতের ফসল, জলের মাছ মরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিছক ডাহা মিথ্যে-- এমন কোন সংযোগ কথাও প্রমাণিত হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কিছু কিছু পেপারে এরকম ইঙ্গিত যেটুকু যা করা হয়েছে সেগুলোর মেথডোলজিকাল সমস্যা আছে, সেসব বহু আলোচিতও। WHO র তড়িৎচুম্বকক্ষেত্র সংক্রান্ত গাইডলাইনে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যাবে, যা নেট এ ফ্রিতে পড়া ও ডাউনলোড করেও রাখা যায়।

    [ জানাবোঝার গোলমাল হতে পারে তাই বলে রাখি, তড়িৎচুম্বক ক্ষেত্র থেকে ক্ষতির আশঙ্কা শুধুই ক্ষেত্রের শক্তির মাত্রার( field strength) ওপর নির্ভর করে না, আর একটি জরুরী বিষয় হল ফ্রিক্যুয়েন্সি, অর্থাৎ ক্ষেত্রটা কতবার তার পোলারিটি উলটোচ্ছে, মানে চুম্বকের উপমায় ভাবতে পারেন কতবার উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু উলটে যাচ্ছে। হাই ভোল্টেজ লাইনে ভোল্টেজই শুধু অনেক বেশী, ফ্রিক্যুয়েন্সি আপনার বাড়ীর এসি লাইনের যা, তাইই। নিজেই মিলিয়ে নিতে পারেন সেটা ৫০ হার্জ, অর্থাৎ সেকেন্ডে পঞ্চাশ বার পোলারিটি উলটোয়। এইটা কিছুই না। মোবাইল ফোন থেকে ক্ষতির আশঙ্কা বহুগুণ বেশী, যদিও সেইটার ক্ষেত্রের শক্তির মাত্রা আরও অনেক অনেক অনেক গুণ কম। কারণ তার ফ্রিক্যুয়েন্সি অনেকটা বেশী। আপনার ফোন এ ডেটা কানেকশনের ওই যে 3G, 4G ইত্যাদি দেখেন বা শোনেন, ওই G টা গিগাহার্জের G। এক গিগাহার্জের অর্থ সেকেন্ডে ১০০ কোটি বার পোলারিটি উলটোয়। ]

    SF6-- SF6 ও আদৌ বিষাক্ত গ্যাস নয়, তাই লীক যদি করেও তার থেকে ওখানের মানুষজনের বিন্দুমাত্র ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। SF6 এর সিলিন্ডারের মুখে মুখ দিয়ে SF6 শোঁ করে টেনে নিলেও কিসসু হয় না, শুধু SF6 ভারী গ্যাস, তা আপনার গলায় স্বরতন্ত্রীর আশেপাশে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ স্বরতন্ত্রীর কম্পাঙ্ক পালটে যায় বলে আপনার গলার আওয়াজ পালটে যায় কিছুক্ষণের জন্য, তারপর আপনিই স্বাভাবিক হয়ে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই। এইটাকে মজার খেলা হিসেবে লাইভ টেলিভিশন শো তে করাও হয়েছে একাধিকবার, ইউটিউবেই সেসবের ভিডিও পাওয়া যায়। SF6 বেশ পোটেন্ট গ্রীনহাউস গ্যাস, কার্বন ডাই অক্সাইডের থেকে অনেকটা বেশী পোটেন্ট। কিন্তু প্রথমত গ্রীনহাউস গ্যাসের জন্য সমস্যা একটা গ্লোবাল সমস্যা, অর্থাৎ সারা পৃথিবীর, ভাঙ্গরের মানুষদের আলাদা করে সেজন্য ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই। আর দ্বিতীয়ত সার্কিট ব্রেকারে যে পরিমাণ SF6 ব্যবহার হয়, তা এতই অল্প এলাকার কার্বন এমিশনের তুলনায় যে কার্বন ডাই অক্সাইডের থেকে অনেকটা বেশী পোটেন্ট হওয়া সত্ত্বেও ওই সাবস্টেশনের সব SF6 লীক করে বাতাসে মিশবে ধরে নিলেও সাবস্টেশনটা না হয়ে যতটুকু গ্রিন হাউস গ্যাস বাঁচানো যাবে, ভাঙ্গরের ওই আন্দোলনরত গ্রামগুলোতে সোলার কুকারের প্রচলন করলে তার চেয়ে অনেক অনেক অনেকগুণ বেশী গ্রীনহাউস গ্যাস এফেক্ট কমানো যাবে।

    আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের, গ্রাম-শহর নির্বিশেষেই বিজ্ঞান সংক্রান্ত জানাবোঝার অবস্থা বেশ করুণ। তাই সেই দেশে শিক্ষিত শহুরে লোককে এইসমস্ত মিথ্যে গুজব প্রচার করতে দেখলে বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে গা জ্বালা করে। দেশের শিক্ষার বেহাল অবস্থার ফলে মানুষের জানাবোঝার অভাবের সুযোগ নিয়ে তাঁদেরকে মিথ্যে বলে ভুল বোঝানো আমার কাছে চূড়ান্ত অনৈতিক কাজ, সে লক্ষ্য যাইই হোক না কেন। আমি এ নিয়ে ক্রিটিকাল মূলত প্রায় সবটাই সে জন্যেই।

    এবার আসি বিকল্প কি চাই, সেই প্রসঙ্গে। কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা না থাকলে ন্যাশনাল গ্রিডেরও প্রয়োজন থাকবে না। বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন মডেলের সুবিধে ও সমস্যাগুলো পুরো উলটো উলটো। গ্রামে গ্রামে গ্রামের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সেখানেই উৎপাদন হবে ও ব্যবহৃত হবে, এই মডেল চালাতে গেলেই বড় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেজন্যে বড় বাঁধ বা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনটাই না দরকার পড়বে, না লাভজনক হবে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, ছোট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এসবই দরকার পড়বে ও চলবে, তাতে গ্রীনহাউস গ্যাস এমিশন ও অন্যান্য দূষণ ও পরিবেশগত ক্ষতি সবই একলাফে বহুগুণ কমবে।
    বিদ্যুৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে বলে বেশিদূর ট্রান্সমিশনের প্রশ্নই নেই, তাই ট্রান্সমিশন লসও অনেক কম ও লস কমাতে হাই টেনশন লাইনও লাগবে না, দেশজোড়া ন্যাশনাল গ্রিডও না। গ্রিড নেই তাই শহর ও শিল্পাঞ্চল প্রচুর বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে তাই গ্রাম অন্ধকারে এও হবে না। এত ঢাকঢোল পিটিয়ে রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন করে কাজের কাজ অল্প হওয়ারও প্রশ্নই নেই, উলটে গ্রামেই বিদ্যুৎ থাকবে, জোরালো বাতি জ্বলবে, লো ভোল্টেজের টিমটিমে আলো নয়। বরং শহর ও শিল্পাঞ্চলের বিদ্যুৎ যোগানোই সমস্যা হবে, কারণ শিল্পাঞ্চল তো বটেই, এমনকি বড় কিম্বা মাঝারি শহরেরও যা বিদ্যুৎ চাহিদা, সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ সেখানেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে বিদ্যুৎ স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব নয়। গ্রাম-শহরের বৈষম্য কমে আসবে। বিদ্যুৎ ব্যবসাও বন্ধ হবে।

    কিন্তু এছাড়াও একটা কথা আছে। কি চাই লিখলাম, কিসের বিরোধিতা করি তাও। কিন্তু পুঁজিবাদ এমনই কেন্দ্রীভূত একটা ব্যবস্থা ( বস্তুত টিকে থাকা যেকোন সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থারই এই ধর্ম আছে) যাকে একটু-আধটু পালটে নিতে গেলে সেইটা আরও খারাপ হয়। অনেকটা পালটে ফেললে যা নতুন একটা স্টেবল ও সুফলদায়ী ব্যবস্থা হবে, কিন্তু অল্প পালটে খানিকটা সুবিধে করব ভাবলে তা আগের চেয়েও খারাপ হবে। কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন উঠে গেলে একরকম, কিন্তু সেইটা একই রকম থাকবে ও ভাঙ্গরে সাবস্টেশনটা হতে দেব না, এতে লাভ কিছুই নেই, বরং ক্ষতি। যুক্তি এসেছে এই সাবস্টেশন বিদ্যুৎ ব্যবসার জন্যে, এতে সাধারণ মানুষের কোন লাভ নেই। মুশকিলটা হল গোটাটা একটা সংযুক্ত নেটওয়ার্ক। আর বিদ্যুৎ উৎপাদন উদ্বৃত্ত হলে সেটাকে না বেচে আলাদা করে লাভ কিছু নেই, উলটে ক্ষতি, কারণ ওই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দূষণ যা হওয়ার হয়েইছে, এখন বিদ্যুৎটা কাজে না লাগলে সেটা গোটাটাই পুরো বেকার। তাছাড়া বিদ্যুৎ বেচে যদি মুনাফা হয়, তাহলে বিদ্যুৎ বেচার জন্যে মুনাফাখোররা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ, নতুন ট্রান্সমিশন সাবস্টেশন এসবের জন্যে অপেক্ষা করবে না, দরকারে গ্রামকে অন্ধকার রেখেই তারা বিদ্যুৎ বেচবে। একটা সাবস্টেশন হতে না দিয়ে তা আটকানো যাবে না, বরং আরও বেশী কিছু গ্রামে টিমটিমে আলো আরও বেশিদিন থাকবে। সাদা বাংলায়, ভাঙ্গরে সাবস্টেশনটা হলে আশেপাশের এলাকায় টিমটিমে বিদ্যুৎ বাতি একটু জোরালো হত। লোডশেডিং কমত কিনা অবশ্য বলা শক্ত, কারণ লোডশেডিং load shedding শব্দেই পরিষ্কার যে এটা ট্রান্সমিশন ব্যবস্থার কোন ত্রুটির জন্য হয় না, বিদ্যুতের যোগানের তুলনায় চাহিদা বেশী হয়ে যাচ্ছে তাই ইচ্ছে করেই এক একটা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে load ঝেড়ে ফেলা হয়।

    এছাড়াও রাজারহাট হওয়ার পর থেকেই ফেজ ৩ এবং অন্যান্য নানা রকম প্রোজেক্টে ভাঙ্গর অঞ্চলে প্রোমোটাররা বহুতল বাড়ি বানাতে আগ্রহী। মূলত জোর করে জমি নেওয়া ইত্যাদি নিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রধানত সেসব নিয়ে, সাবস্টেশনের জমির পরিমাণ মাত্র ১৩ একর, মানে ৩০০ মিটার x ৩০০ মিটারের চেয়ে কম জমি। সাবস্টেশন ও লাইনগুলোর জন্যে খুঁটি ইত্যাদি হলে ওই অঞ্চলে বহুতল নির্মাণ বেআইনি হত, ফলত পুঁজির স্বাভাবিক নিয়মেই প্রোমোটার ও জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কমে আসত।

    ক্ষতির মধ্যে তারগুলোর নিচে তাদের রাইট অফ ওয়েতে চাষ বা কোন কিছু করা বেআইনি। এখন পশ্চিমবাংলাতেই বহু জায়গায় এমন তারের নিচেই মানুষ দিব্যি চাষ কলাবাগান সবই করেন, বেআইনি হলেও, ফলত এইটা প্রবল ক্ষতি এমন আদৌ নয়, করা দিব্যি যায়, না করা উচিৎ, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা একদম এড়াতে। যদি নাও করেন, তাহলে সেই সব জমির ক্ষতিপূরণের দাবীতে আন্দোলন হতে পারত, কিন্তু আন্দোলনে 'প্রাণঘাতী পাওয়ার গ্রিড দুর হঠো' এই স্লোগান ও এই স্পিরিটই থেকেছে। বস্তুত এই সমস্ত জমির জন্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রেকমেন্ডেশন এর আগে একটা কেসে আদালতের এক বেঞ্চই দিয়েছিল, ফলত ক্ষতিপূরণ পাওয়া ততটা সমস্যার না হওয়ারই কথা। প্রসঙ্গত পাওয়ার গ্রিড গোটা দেশজোড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন নেটওয়ার্কটাকে বলে। তাই ভাঙ্গরে কেন, কোন একটা জায়গাতেই 'পাওয়ার গ্রিড' বসানো যায় না। ভাঙ্গরে যা বসার কথা ছিল তাকে বলে ট্রান্সমিশন সাবস্টেশন, এখনও তাইই বসছে। যদিও ইতিমধ্যেই আন্দোলনের নেতারা ' পাওয়ার গ্রিড অপসৃত। তার জায়গায় বসবে সাবস্টেশন, আন্দোলনের জয়। '-- ইত্যাদি বলে আর এক দফা মানুষকে ভুল বোঝানোর খেলায় নেমেছেন।

     

  • আরও পড়ুন
    বয়স - Swarnendu Sil
    আরও পড়ুন
    বার্ড - Sambaran Sarkar
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ২৪৪৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • sch | 232312.160.451212.140 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৮ ০৯:৫৪63852
  • @swarnendu
    কয়েকটা জিনিস নিয়ে একটু জানার আগ্রহ আছে। decentralised production হলে গ্রামে গ্রামে power plant কেন? প্রত্যকের বাড়িতে solar panel লাগালে ক্ষতি কি ? এইরকম মডেল কিন্তু সাগর দ্বীপে ছিল. তাতে প্রচুর সমস্যা ছিল - বছর তিনেক আগে গ্রিড পাওয়ার আসায় সব্বাই খুশী। একদম ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স

    আপনি কি assess করে দেখেছেন

    ১) ওই সব অঞ্চলে কি উইন্ড পাওয়ার সম্ভব? মানে সেই ধরণের পরিবেশ বা হাওয়ার গতিবেগ আছে?

    ২) capital investment এ ওইসব অঞ্চলে গ্রিড পাওয়ারের জন্য কস্ট ( সাবস্টেশান আর দিস্ট্রিবিউশান লাইন নিয়ে) আর ছোটো ছটো সোলার প্ল্যান্টের কস্ত - কি রকম হিসেব হবে? কোনো আইডিয়া? আমার একদম ধারণা নেই

    ৩) সোলার প্ল্যান্ট এর ক্ষেত্রে যা জানি তারা

    ক) হয় একটা গ্রিডে কানেক্ট থাকে - সেই গ্রিডে সারাদিন প্রচুর সোলার পাওয়ার দেয় আর রাতে নর্ম্যাল গ্রিড থেকে অল্প নর্ম্যাল সাপ্লাই নেয়। এটা করতে গেলে তো সেই গ্রিড লাগবেই

    খ) নাহলে ব্যাটারী সিস্টেম থাকে - ব্যাটারিতে রাতের সাপ্লাই দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাটারি রিপ্লেসমেন্ট লাগে ৩-৪ বছর অন্তর। আর জায়গাও লাগে অনেকটা। জায়গার কম্পারিজন আর কস্টের কম্পারিজন কোথাও আছে? হয়েছে?
  • নেতাই | 566712.225.450112.74 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৮ ১১:১৬63853
  • ১। উইন্ড মূলত সাতটি রাজ্যেই বেশী আকর্ষনীয়। কস্ট এফেকটিভ।
    ২। গ্রিড আইসোলেটেড সোলার প্ল্যান্ট কোথাও আছে? থাকলেও খুব কম জায়্গায় থাকবে। কারণ-
    ক-রিলায়াবিলিটি প্রায় নাই। (ব্যাটারি বাদ, ৩ নং দেখুন)
    খ-পাওয়ার কোয়ালিটি খারাপ
    গ-ইনারসিয়া নাই।
    ঘ-পার ইউনিট খরচা বেশী

    ৩) ব্যাটারী সিস্টেম এনার্জি এফিসিয়েন্ট নয়। আর খরচ সাপেক্ষ। সোলার এমনিতেই কয়লার থেকে বেশী খরচের (এদানিং অনেকটা কমেছে)। তাই ব্যাটারি জুড়ে কস্ট কমপ্যার করার দরকার নেই।
  • sch | 232312.160.451212.140 (*) | ২০ আগস্ট ২০১৮ ১২:৩৮63854
  • নেতাই বাবু আপনি যা বললেন তাতে তো দেখা যাচ্ছে decentralised power generation with alternate source - ব্যাপারটা feasible না। এতোটাই কি সিম্পল? তাহলে স্বর্ণেন্দু বাবু বললেন কেন?
  • নেতাই | 566712.225.450112.74 (*) | ২১ আগস্ট ২০১৮ ০৬:৩৩63855
  • বেশী আর বলার নেই। কয়েকটা পয়েন্ট শুধু-
    ১। আজকে যা feasible নয়, উন্নততর প্রযুক্তির সাহায্যে কাল তা feasible হতেই পারে।
    ২। পরিবেশ, পরিস্থিতি, সামাজিক বা রাজনৈতিক কারনে খরচের ব্যাপারে কম্প্রমাইজ করাই যায়। করা হয়।

    এমনিতে বিগত দশ-পনের বছরে সোলার বা উইন্ড পেনিট্রেশন অনেক বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। decentralised power generation একটু অন্য ব্যাপার। তবে আগামী দিনে লোকে এই মডেল অ্যাডপ্ট করতে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
  • sswarnendu | 1234.164.784512.89 (*) | ২১ আগস্ট ২০১৮ ০৭:৪৪63856
  • sch ও নেতাই,

    অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যগুলোর জন্যে দুজনকেই।

    উত্তর নেতাই লিখেই দিয়েছেন। ওনার শেষ কমেন্টের দুটো কমেন্টই স্পট অন। শুধু কার্বন এমিশন কমানোর জন্যই কয়লা ও সোলার বা উইন্ড যেকোনটার থেকেই অনেক বেশী খরচের ( পার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ হিসেবেই শুধু, বিশাল decommissioning cost বাদ রেখেই বললাম) পরমাণু বিদ্যুৎ ও কিন্তু ভারত সরকার তো বটেই, অনেক দেশই অ্যাডপ্ট করতে চেয়েছিল, ভারত সরকার এখনও সেই অ্যাজেন্ডা থেকে আদৌ ঘোষিতভাবে সরে আসেনি। বলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে খরচ একমাত্র বিষয় নয়, হওয়া উচিৎও নয়।

    sch এর "আপনি কি assess করে দেখেছেন" এর উত্তর হল না। শুধু আমি কেন, খুব কম্প্রিহেন্সিভলি এইটা কেউই করে দেখেননি। সেইটার মূল কারণ হল এই মডেলটা নিয়েই আদৌ ভাবিত নয় এখনও কেউই। হলে অ্যাসেস ও করা হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। ফিজিবল নয় তাই অ্যাসেস করা হয়নি এমন খুব নয়। নেতাই সেইটা বলতেও চাননি মনে হল। তবে উনি সঠিকভাবেই লিখেছেন ( এবং আপনিও, সাগরের উদাহরণে ) যে আজকে শুধুই সোলার স্ট্যান্ড অ্যালোণ পয়ার সোর্স হিসেবে রিলায়েবল নয়। অদূর ভবিষ্যতেও হবে না, কারণ সোলারের ধরণই তাই, যতক্ষণ সূর্যালোক ততক্ষণই পাওয়ার।

    কিন্তু একটা প্ল্যানড ব্যবস্থা রিলায়েবল হতে পারে এ সম্ভাবনার কথা আজকাল অনেকেই লিখছেন, সেসবের যুক্তিটা হল এই যে এই সোর্সগুলো খানিকটা কমপ্লিমেন্টারি। যেমন ধরুন উইন্ড। আকাশে সূর্য নেই অবস্থায় হাওয়া সাধারণত বেশী । সাগরেই সোলার এর সাথে উইন্ড ডেভেলপ করলে অনেকটাই কমপ্লিমেন্টারি হত, কারণ সন্ধ্যেতে সি ব্রিজ টা ব্যবহার করা যেত। এছাড়াও টাইডাল পাওয়ার।

    নেতাই এর শেষ মন্তব্যের শেষ লাইনও একদমই স্পট অন। decentralised power generation শুধুই renewable energy র penetration বাড়ান নয়। যেমন ধরুন গ্রামে একটা বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় এমনভাবেই যে তাতে এই সময়ের প্রসঙ্গটা অসুবিধে নয়। ক্ষেতে জল দেওয়ার পাম্পের বিদ্যুৎ আমাদের দেশে দিব্যি সোলারে চালানো যায়, খড়কাটার মেশিনও ( কারণ সকালে কেটে রাখা যায়), আবার উইন্ড মিলে ধান ঝাড়া , গম পেষা ইত্যাদি নেদারল্যান্ডস এ এখনও চালু অল্প যে কয়েকটা উইন্ডমিল আছে তাতে দিব্যি করা হয়। আমি গ্রামে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের কথা আদৌ বলতে চাইনি। 'প্ল্যান্ট' বলতে যা বুঝি আমরা, তেমন কিছু বলতে গ্রামে উইন্ড ও ছোট হাইড্রো প্ল্যান্ট, কোস্টাল অঞ্চলে টাইডাল ওয়েভ প্ল্যান্ট ইত্যাদির বাইরে প্ল্যান্ট বসানোর দরকার সম্ভবত হবে না। সোলারের প্ল্যান্ট জমিতে বসালে জমির ক্ষেত্রফলের হিসেবে বেশ এক্সপেন্সিভ, তাই ছাদ বা চালে প্যানেল বসানোই অনেক বেটার।

    আসল প্রশ্ন যেটা বলতে চাইছি তা হল বিদ্যুৎ ব্যবহার ( বা বিদ্যুতের চাহিদা ) কিন্তু আমরা যেরকম ভাবি তেমন হোমোজেনাস এন্টিটি নয়। তাই ব্যবহার বেশ varied, তাই decentralised power generation মডেল আসলে safe source গুলোর variability ও usage এর variability র সমন্বয় সাধনের প্ল্যানিং এ জোর দেওয়া।

    আর গ্রিড চাইলেই কালকেই তুলে দেওয়া সম্ভব নয়, মানে ক্যাপিটালিজমের বিরোধিতার প্রশ্ন নয় শুধু, এমনিই করা যাবে না। কিন্তু আসতে আসতে মাইক্রোগ্রিড ইত্যাদিতে ট্রান্সজিশন ও ক্রমশ পুরোদস্তুর decentralised model এ যাওয়া। প্রসঙ্গত মাইক্রোগ্রিড নিয়ে এমনিই পুঁজিপতিরাই রিসার্চ স্পন্সর করছে, GE রই প্রজেক্ট আছে, আরও কার কার আছে জানি না সঠিক। মাইক্রোগ্রিড মানে অল্প এলাকায় মধ্যে প্রায় স্ট্যান্ডঅ্যালোন গ্রিড। প্রয়োজনে পাশাপাশি অন্য মাইক্রোগ্রিড থেকে পাওয়ার সরবরাহ করা যাবে, কিন্তু গোটাটা কানেক্টেড একটা বড় গ্রিড এমন নয়। ( ভুল বোঝার সম্ভাবনা এড়াতে বলি, অনেকগুলো মাইক্রোগ্রিড এ ওর সাথে কানেক্টেড, এইভাবে গোটা নেটওয়ার্কটা শেষত অঙ্কের ভাষায় যাকে পাথ কানেক্টেড বলে তাইই হবে, কিন্তু সেই কানেকশনগুলো প্রয়োজন পড়লে, ওইগুলোর মাধ্যমেই পাওয়ার আসবে এমন নয়। এইভাবে বিদ্যুৎ বেশিদূর নিয়ে যেতে গেলে ট্রান্সমিশন লস অত্যন্ত বেশী হবে )।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন