এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মোঙ্গলদের ইউরোপ আক্রমণের কারণ 

    AR Barki লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩১ মে ২০২৬ | ৩৪ বার পঠিত
  • ত্রয়োদশ শতাব্দীতে (১২৩৬-১২৪২ খ্রিষ্টাব্দ) চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা যখন ইউরোপে আক্রমণ চালায়, তখন তার পেছনে কোনো একক কারণ ছিল না। এটি ছিল তাদের বিশ্বজয়ের পরিকল্পনা, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং অর্থনৈতিক কৌশলের একটি জটিল মিশ্রণ।
     
    মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান বিশ্বাস করতেন যে, তেনগ্রি (আকাশের দেবতা) মঙ্গোলদের সমগ্র পৃথিবী শাসনের অধিকার দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর সন্তানদের সাম্রাজ্য বিস্তারের যে নির্দেশ দিয়ে যান, তাতে "সূর্য যেখানে অস্ত যায়" (অর্থাৎ পশ্চিম দিক) সেই পর্যন্ত ভূখণ্ড জয় করার কথা বলা হয়েছিল। চেঙ্গিস খানের নাতি বাতু খান এবং সেনাপতি সুবুতাই মূলত এই আদেশ বাস্তবায়ন করতেই ইউরোপের দিকে অগ্রসর হন।
     
    মঙ্গোলরা যখন মধ্য এশিয়া এবং রাশিয়ার স্তেপ (তৃণভূমি) অঞ্চল জয় করছিল, তখন যাযাবর কুমান (Cuman) উপজাতিরা মঙ্গোলদের কাছে পরাজিত হয়ে হাঙ্গেরিতে পালিয়ে যায় এবং সেখানে আশ্রয় নেয়।
     
    মঙ্গোলদের যুদ্ধরীতি অনুযায়ী, তাদের শত্রুদের যারা আশ্রয় দেবে, তারাও মঙ্গোলদের শত্রু বলে গণ্য হবে। বাতু খান হাঙ্গেরির রাজা চতুর্থ বেলা-কে চিঠি দিয়ে কুমানদের সমর্পণ করার দাবি জানান। হাঙ্গেরি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে মঙ্গোলরা হাঙ্গেরি তথা ইউরোপ আক্রমণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
     
    মঙ্গোল সেনাবাহিনী ছিল মূলত অশ্বারোহী নির্ভর। প্রতিটি মঙ্গোল যোদ্ধার সাথে একাধিক ঘোড়া থাকত। ফলে তাদের বিশাল ঘোড়ার পালের জন্য প্রচুর সবুজ ঘাসের বা চারণভূমির প্রয়োজন হতো। হাঙ্গেরির সমভূমি (Great Hungarian Plain) ছিল ঘোড়া চারণের জন্য আদর্শ জায়গা।
     
    এছাড়া ইউরোপের সমৃদ্ধ শহরগুলো লুণ্ঠন করা এবং সেখান থেকে দাস ও কারিগর সংগ্রহ করাও মঙ্গোলদের অন্যতম অর্থনৈতিক লক্ষ্য ছিল।
     
    মঙ্গোলদের চমৎকার গোয়েন্দা ব্যবস্থা ছিল। তারা আক্রমণের আগেই ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। তারা জানতে পেরেছিল যে:
     
    * ইউরোপের রাজ্যগুলো (যেমন- পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য) নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত।
    * পোপ এবং পবিত্র রোমান সম্রাটের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল।
     
    এই রাজনৈতিক বিভাজনকে মঙ্গোলরা বড় সুযোগ হিসেবে দেখে এবং বুঝতে পারে যে ইউরোপীয়রা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে পারবে না।
     
    মঙ্গোলরা ইতিমধ্যেই রাশিয়া (রুশ প্রিন্সিপালিটিগুলো) জয় করেছিল। রাশিয়ার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং পশ্চিম দিক থেকে যেন কোনো পাল্টা আক্রমণ না আসে, সেজন্য ইউরোপের শক্তিশালী রাজ্যগুলোকে (বিশেষ করে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরি) গুঁড়িয়ে দেওয়া তাদের সামরিক কৌশলের অংশ ছিল।
     
    ১২৪১-১২৪২ সালের মধ্যে মঙ্গোলরা পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে ভিয়েনার দোড়গোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল।
     
    কিন্তু ১২৪১ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গোলিয়ার প্রধান খাগান (সম্রাট) ওগেদাই খানের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে, নতুন খাগান নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাতু খান আকস্মিকভাবে ইউরোপ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেন।
     
    ফলে পশ্চিম ইউরোপ এক প্রকার অলৌকিকভাবে মঙ্গোল ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যায়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন