• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • পুরনো পথ সাদা মেঘ: বুদ্ধদেবের পথে পথ চলা

    Arin Basu
    বিভাগ : ব্লগ | ০৪ জুলাই ২০১৭ | ৩২ বার পঠিত
  • প্রথম পর্ব, প্রথম অধ্যায়:

    পুরনো পথ সাদা মেঘ - বুদ্ধের পথে পথ চলা

    প্রথম খণ্ড
    প্রথম অধ্যায়
    শুধু হাঁটার জন্যই হাঁটা

    (img)
    স্বস্তি নামে একজন তরুণ ভিক্ষু বাঁশগাছের ছায়ায় হাঁটু মুড়ে বসে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ধ্যান করছিল। এই বাঁশবন মঠে দেখতে দেখতে তার ঘন্টাখানেক ধ্যান হয়ে গেল, আরো কয়েকশো ভিক্ষুও অন্যান্য বাঁশগাছের ছায়ায় নয়ত তাঁদের নিজের কুটিরে ধ্যান করছিলেন।

    মহাগুরু গৌতম, লোকে যাঁকে বুদ্ধদেব নামে জানে, তিনি এই মঠটিতে প্রায় চারশো শিষ্য সহ বসবাস করতেন। বহু জনসমাগম হলেও জায়গাটি এমনিতে খুবই শান্তিপূর্ণ। এই মঠটিকে ঘিরে প্রায় চল্লিশ একর জমি, সেখানে মগধের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানান রকমের বাঁশগাছ নিয়ে এসে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এখান থেকে আর আধ ঘন্টা হেঁটে গেলেই মগধের রাজধানী রাজগৃহ; সাত বছর আগে মহারাজ বিম্বিসার এই বাঁশবন নামে মঠটি বুদ্ধদেব ও তাঁর শিষ্যদের দান করেন।

    স্বস্তি চোখ মুছে হাসল। তার দুই পা টনটন করছে, সে ধীরে ধীরে পা দুটি ছড়াল। এখন তার একুশ বছর বয়েস; তিনদিন আগে বুদ্ধদেবের অন্যতম শিষ্য শ্রদ্ধেয় সারিপুত্ত তাকে সন্ন্যাস দিয়েছেন। সন্ন্যাস নেবার কালে তার ঘন বাদামী চুল কেটে ফেলতে হয়েছিল।

    ---
    বুদ্ধদেবের এই সংঘে এসে স্বস্তির ভালই লাগছিল। এখানে কত ভিক্ষু, তাঁরা সব কত উচ্চবংশজাত, এঁরা সব একসঙ্গে থাকতেন। যেমন, শ্রদ্ধেয় নন্দ, যিনি সম্পর্কে বুদ্ধদেবের ভাই, তারপর দেবদত্ত, অনুরুদ্ধ, আনন্দ, এঁরা সবাই ছিলেন। স্বস্তি অবশ্য এঁদের দূর থেকে দেখে চিনত, এঁদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি। মলিন বসনেও এঁরা যে অভিজাত বংশের সন্তান, বুঝতে ভুল হত না।
    স্বস্তি মনে মনে ভাবল, "এই সব বড় ঘরের মানুষদের সঙ্গে আমার আলাপ পরিচয় সখ্যতা হতে বহু দেরী"। অথচ বুদ্ধদেবও তো রাজার সন্তান, তাঁর সঙ্গে স্বস্তির কখনো মনে হয়নি যে তিনি তার ধরাছোঁয়ার বাইরে বহুদূরে। সে আমলের সমাজব্যবস্থায় স্বস্তি ছিল যাকে বলে "অচ্ছ্যুৎ"। দশ বছর ধরে সে কেবল মোষ চরিয়েছে, ইদানীং হপ্তা দুয়েক সে অন্যান্য সাধুদের সঙ্গে বসবাস ও ধ্যান করতে শুরু করেছে। এখানে সকলে তার সঙ্গে খুব সদব্যবহার করেন, সকলের মুখে স্মিত হাসি, যখন দেখা হয় সবাই কেমন বিনম্র হয়ে নত হন, তবু কেন যেন স্বস্তি স্বস্তি পায় না। স্বস্তির নিজের ধারণা তার সহজ হতে ঢের দেরী।

    এই সব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আপন মনে তার হৃদয়ের গভীর হতে মুখে বেশ চওড়া হাসি উদ্ভাসিত হল। স্বস্তি বুদ্ধদেবের ১৮ বছর বয়সী পুত্রসন্তান রাহুলের কথা ভাবছিল। রাহুল দশ বছর বয়স থেকে এখানে থাকে, দু-সপ্তাহ হল স্বস্তি আর রাহুলের ভাব হয়েছে। রাহুলই স্বস্তিকে শিখিয়েছে কি করে ধ্যানের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি নজর রাখতে হয় । রাহুল ভিক্ষু না হতে পারে, সে কিন্তু বুদ্ধদেবের বাণী বুঝতে পারত; তাকে সন্ন্যাসী হতে গেলে বিশ বছর বয়স অবধি অপেক্ষা করতে হবে।
    ---
    স্বস্তি ভাবছিল দু-সপ্তাহ আগের কথা। বুদ্ধদেব গয়ার কাছে তাদের উরুভেলা গ্রামে এসেছেন, তাকে সন্ন্যাস নেবার উপরোধ করতে। বুদ্ধদেব যখন তাদের বাড়িতে এসেছিলেন স্বস্তি সেই সময় তার ভাই রূপকের সঙ্গে মোষ চরাতে বেরিয়ে গিয়েছিল; বাড়িতে ছিল তার দুই বোন, বলা আর ভীমা। বলার বয়স ষোল, আর ভীমার বয়স বারো। বলা বুদ্ধদেবকে দেখেই চিনতে পেরেছিল; বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে এক দৌড়ে স্বস্তিকে ডাকতে যাবে, বুদ্ধদেব বললেন তার প্রয়োজন নেই। বললেন তিনি রাহুল আর অন্যান্য ভিক্ষুদের সঙ্গে নিজে নদীতে গিয়ে স্বস্তিকে খুঁজে নেবেন। দেখতে দেখতে বেলা পড়ে এল, রূপক আর স্বস্তি নৈরঞ্জনা নদীতে মোষেদের গা ধুইয়ে দিচ্ছে, এমন সময় বুদ্ধদেব ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হল। বুদ্ধদেবকে দেখা মাত্র স্বস্তি আর রূপক নদীর তীর বেয়ে দৌড়ে গিয়ে তাঁর কাছে করজোড়ে দাঁড়াল।

    "তোমরা সব কত বড় হয়ে গেছ", বুদ্ধদেব স্মিত হেসে স্বস্তি ও রূপককে বললেন। স্বস্তির তখন বাক্যহারা। বুদ্ধদেবের শান্ত আনন, তাঁর প্রাণভরা হাসি, তাঁর গভীর চোখের দৃষ্টি দেখে তার চোখে জল এসে গেছে। ধানজমি যেমন দেখতে হয়, সেই রকম করে তাঁর পরিধানের গেরুয়া পরিধানের বস্ত্র সেলাই করা, সেই দশ বছর আগে সে যেমন দেখেছিল তেমনি বু্দ্ধদেব আজও নগ্নপদ। আজ থেকে দশ বছর আগে এইখানেই তার সঙ্গে বুদ্ধদেবের দেখা হয়েছিল। সেই সময় সে আর বুদ্ধদেব নৈরঞ্জনা নদীতীরে বোধিদ্রুমের ছায়ায় একসঙ্গে কত না সময় কাটিয়েছে।

    স্বস্তি আড়চোখে বুদ্ধদেবের পশ্চাৎ-অনুসরণকারী বিশজন ভিক্ষুদের দেখল, তাঁরাও বুদ্ধদেবেরই মতন নগ্নপদ, তাঁরাও গেরুয়া পোষাক পরে রয়েছেন। আরেকটু খুঁটিয়ে দেখে যে বুদ্ধদেবের জোব্বাটি তাঁর শিষ্যদের তুলনায় হাতখানেক লম্বা। বুদ্ধদেবের গা ঘেঁষে স্বস্তির বয়সী আরেকটি ছেলে দাঁড়িয়ে ছিল, সে স্বস্তির দিকে তাকিয়ে হাসল। বুদ্ধদেব স্নেহভরে তাঁর দুই হাত স্বস্তি আর রূপকের মাথায় রাখলেন, তারপর বললেন রাজগৃহে যাবার পথে তিনি তাদের দেখবার জন্য এসেছেন। বললেন তাঁরা অপেক্ষা করবেন যতক্ষণ-না স্বস্তি আর রূপক মোষেদের গা ধুইয়ে দেয়, তারপর তাঁরা সবাই একসঙ্গে মিলে স্বস্তিদের কুটিরে যাবেন।

    যেতে যেতে স্বস্তি আর রূপকের সঙ্গে বুদ্ধদেব যে যুবকটি তাদের দেখে মিটমিট করে হাসছিল, সে তাঁরই পুত্রসন্তান , তার নাম রাহুল, বুদ্ধদেব পরিচয় করিয়ে দিলেন। স্বস্তির থেকে রাহুল তিন বছরের ছোট, তবে দুজনে মাথায় মাথায়। রাহুল একজন শমনের, নবীন, যদিও তার পোষাক-আষাক অন্যান্য ভিক্ষুদের মতনই। রূপকের হাতে ভিক্ষাপাত্র ধরিয়ে দিয়ে রাহুল, স্বস্তি আর রূপক, তার দুই নবলব্ধ বন্ধুর কাঁধে দু হাত দিয়ে হাঁটছিল। বাবার কাছে রাহুল স্বস্তি আর রূপকের এত গল্প শুনেছে যে এরা আর তার কাছে অজানা অচেনা ছিল না। দুই ভাইয়েরও রাহুলের আন্তরিকতা দেখে তাকে ভাল লেগে গেল।

    বাড়ি পৌঁছনর সঙ্গে সঙ্গেই বুদ্ধদেব স্বস্তিকে ভিক্ষুসংঘে যোগ দিয়ে তাঁর কাছে ধর্ম অধ্যয়ন করার আমন্ত্রণ জানালেন। দশ বছর আগে যখন স্বস্তি বুদ্ধদেবকে প্রথম দেখেছিল তখন সে বুদ্ধদেবের কাছে অধ্যয়ন করার আর্জি পেশ করেছিল, বুদ্ধদেবও তাকে শিষ্য করতে রাজি হয়ে যান। এখন স্বস্তির ২১ বছর বয়স তাই বু্দ্ধদেব তার কাছে এসেছেন; বুদ্ধদেব তাঁর প্রতিজ্ঞা বিস্মৃত হননি।

    রূপক মোষগুলোকে তাদের মালিক রামভুল বাবুর কাছে জমা দিতে গেল। স্বস্তিদের বাড়ির দাওয়ায় একটি ছোট চারপাইয়ের ওপর বু্দ্ধদেব বসলন, বাকী ভিক্ষুরা তাঁর চারপাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। স্বস্তিদের খড়ের চালের মাটির ছোট কুটির, সেখানে কি সকলের জায়গা হয়? বলা স্বস্তিকে বলল, "দাদা, তুমি বুদ্ধদেবের শরণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যাও। এখন রূপকের গায়ে যা শক্তি তুমি যখন মোষ চরাতে শুরু করেছিলে তোমারও তত ছিল না, আর আমি বাড়িঘর সব সামলে নিতে পারব। তুমি তো দশ বছর ধরে আমাদের পালন করলে, এখন আমরা বেশ বড় হয়ে গেছি, নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরা করে নিতে পারব।"

    স্বস্তিদের কুটিরের একদিকে বৃষ্টির জল ধরে রাখার একটা জালা ছিল। তার একধারে ভীমা বসে ছিল। ভীমা তার বড় দিদির দিকে কিছু না বলে চেয়ে রইল। ভীমা মেয়েটি ভারি মিষ্টি। স্বস্তির সঙ্গে যখন বুদ্ধদেবের প্রথম দেখা হয়, তখন বলার বয়স ছয়, রূপকের তিন, ভীমা কোলের শিশু মাত্র। বলা তখনই বাড়িতে রান্না করত, আর রূপক মাটিতে খেলা করে বেড়াত।

    তাদের বাবা মারা যাবার ছ'মাসের মাথায় তাদের মা মারা যায়। তখন এগার বছরের স্বস্তির ওপর ঘর সামলানোর দায়িত্ব এসে পড়ল। সে মোষ চরাবার একটা কাজ পেয়েছিল, যেহেতু কাজটা সে মন দিয়ে করত, যা পেত তাতে মোটামুটি সকলের খাওয়া-খরচাটুকু চলে যেত। এমনকি ভীমার জন্য মোষের দুধও নিয়ে আসত স্বস্তি।

    ভীমা টের পেল যে স্বস্তি তার কাছে জানতে চায় সে কি ভাবছে। ভীমা হাসল। ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়াল সে, তারপর নীচুস্বরে বলল, "দাদা, তুমি বুদ্ধদেবের শরণ নিয়ে যাও।" বলেই মুখ ঘুরিয়ে চোখের জল চাপার চেষ্টা করল। স্বস্তির মুখে ভীমা বহুবার শুনেছিল যে সে বুদ্ধদেবের কাছে শিষ্যত্ব নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, কাজেই সে মন থেকেই চাইছিল যে দাদা বুদ্ধদেবের সঙ্গে চলে যাক, তবুও যখন সেই ক্ষণ উপস্থিত, মনের দুঃখ সে চেপে রাখতে পারল না।

    ঠিক সেই সময় রূপক গ্রাম থেকে ফিরে এসে ভীমার কথা, "দাদা, বুদ্ধদেবের সঙ্গে চলে যাও", শুনতে পেল। সেও স্বস্তির দিকে তাকিয়ে একই কথা বলল, "দাদা, তুমি বুদ্ধদেবের সঙ্গে চলে যাও।" পুরো পরিবারটিতে স্তব্ধতা নেমে এল। রূপক বুদ্ধদেবকে সম্বোধন করে বলল, "প্রভু, আমরা সবাই চাই আপনি আমাদের দাদাকে আপনার কাছে অধ্যয়ন করার অনুমতি দেবেন। আমি সংসার সামলানোর মতন বড় হয়ে গিয়েছি।" তারপর রূপক স্বস্তির দিকে ফিরে বলল, "তবে দাদা, বুদ্ধদেবকে বোল যেন তিনি তোমাকে মাঝে মাঝে আমাদের কাছে আসতে দেন।"

    বুদ্ধদেব উঠে দাঁড়ালেন, তারপর ভীমার চুলে স্নেহভরে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, "বাছারা, তোমরা এবার রাতের খাবার খেয়ে নাও। কালকে সকালে আমি আবার স্বস্তির কাছে আসব; তারপর স্বস্তিকে নিয়ে রাজগৃহের পথে রওয়ানা দেব। আজ রাতে অন্যান্য ভিক্ষুদের সঙ্গে আমি বোধিবৃক্ষের নীচেই রাত্রিযাপন করব।"

    বুদ্ধদেব দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় স্বস্তিকে ডেকে বললেন, "কাল সকালে তোমাকে বিশেষ কিছু নিয়ে আসতে হবে না। যা পরে আছ, ওই কাপড়েই বেশ চলে যাবে।"

    সেদিন চার ভাইবোন বহু রাত অবধি জেগে রইল। স্বস্তি বাবার মতন তার ভাই-বোনেদের কিছু উপদেশ দিল, কিভাবে তারা মিলেমিশে থাকবে, বাড়িঘরের দেখভাল করবে, এইসব। তারপর চার ভাইবোন অনেকক্ষণ ধরে পরস্পর পরস্পরকে আলিঙ্গন করে রইল। বড় দাদার হাত ধরে ভীমা আর কান্না চাপতে পারল না, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। একটু পরে দাদার মুখের দিকে তাকিয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে সে হাসল, স্বস্তির যেন মন খারাপ না হয়। সাঁঝবাতির নিভু নিভু আলোতে দেখা যায় কি যায় না, সেই আধো অন্ধকারে স্বস্তি ভীমার মুখে হাসি দেখে আস্বস্ত বোধ করল ।

    পরের দিন খুব ভোরবেলা স্বস্তির বন্ধু সুজাতা তার সঙ্গে দেখা করতে এল। গত সন্ধ্যেয় নদীর তীর দিয়ে যাবার সময় সুজাতা বুদ্ধদেবকে দেখতে পেয়েছিল, তিনিই সুজাতাকে বলেছিলেন যে স্বস্তি সংঘে যোগ দিতে চলেছে। সুজাতা এই গ্রামের মুখিয়ার মেয়ে, সে স্বস্তির থেকে বয়সে দু বছরের বড়, এবং সেও স্বস্তির মত বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির পূর্বে গৌতমকে দেখেছিল। সুজাতা স্বস্তিকে একটা ছোট শিশিতে করে জড়িবুটির ওষুধ দিল। তারপর তারা একটু গল্প করতে না করতেই বুদ্ধদেব সশিষ্য হাজির।

    স্বস্তির ভাইবোনেরা দাদাকে বিদায় দেবে বলে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। রাহুল তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতন গল্প করছিল, তাদের শক্ত হতে বলল বারবার করে, তারা যেন একে অপরকে দেখে, সে যখনই উরুভেলার কাছাকাছি আসবে ওদের সঙ্গে দেখা করে যাবে, এইসব বলল। সুজাতা আর অন্যান্যরা বুদ্ধদেব ও ভিক্ষুদের সঙ্গে নদীর তীর অবধি এল, তারপর সেখানে দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব, ভিক্ষুদের, রাহুলকে, স্বস্তিকে জোড়হাত করে প্রণাম করে ফিরে গেল।

    একদিকে মহা-আনন্দ, অন্যদিকে মহা-ভয়, দুয়ে মিশে স্বস্তির বিহ্বল দশা। তার রীতিমতন পেট গুড়গুড় করছে। এই প্রথম সে উরুভেলা গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাবে। বুদ্ধদেব বললেন রাজগৃহ পৌঁছতে তাঁদের দিন দশেক লাগবে। বেশীর ভাগ লোক আরো তাড়াতাড়ি পৌঁছয়, কিন্তু বুদ্ধদেব ও তাঁর শিষ্যরা খুব ধীরে ধীরে আয়েস করে হাঁটতে হাঁটতে যান। যেই স্বস্তির হাঁটার গতি শ্লথ হয়ে গেল, তার বুকের ধকধকানিও অনেকটা কমে গেল। সে সর্বান্তকরণে নিজেকে বুদ্ধ, ধর্ম, আর সংঘের মধ্যে ডুবিয়ে দিল, এই তার পথ। নিজের বাস্তুভিটে আর মানুষজন যাদের ফেলে এসেছে, তাদের দিকে একবার শেষবারের মতন তাকিয়ে দেখল, অরণ্যের ছায়ায় ছায়ায় সুজাতা আর তার ভাইবোনেরা বিন্দুর মতন দেখতে দেখতে কোথায় মিলিয়ে গেল।

    স্বস্তির মনে হল বুদ্ধদেব যেন হাঁটার ব্যাপারটিকে নেহাত উপভোগ করবেন বলেই হাঁটতে থাকেন, কোথাও পৌঁছতে হবে বলে তিনি হাঁটেন না। ভিক্ষুরাও তাই। গন্তব্যে পৌঁছতে হবে বলে কারো তাড়া নেই, কারো কোন উদ্বেগ নেই। প্রতিটি মানুষ শান্ত হয়ে, সমানভাবে, ধীরে ধীরে পা ফেলে হাঁটছে। যেন সবাই মিলে বেড়াতে বেরিয়েছে। সারাদিন কতটা পথ তো তারা হাঁটেন, কারো চোখেমুখে শ্রান্তির লেশমাত্র নেই।

    তাঁরা প্রত্যেকদিন কাছাকাছি যে গ্রাম পেতেন, সেখানে থেমে, খাবারের জন্য বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করতেন। বুদ্ধদেবকে সমুখে রেখে এক সরল রেখা বরাবর সবাই হাঁটতে হাঁটতে যেতেন। সবার শেষে রাহুল, তার পেছনে স্বস্তি। সবাই ধীর পদক্ষেপে, নীরব আভিজাত্যে, প্রতিটি পা মেপে, প্রতিটি শ্বাস পর্যবেক্ষণ করতে করতে হেঁটে যেতেন। কচ্চিৎ কদাচিৎ হয়ত থামতেন, তখন গ্রামবাসীরা, যে যেমন পারত, তাঁদের ভিক্ষাপাত্রে খাবার দিয়ে যেত। কোন কোন গ্রামবাসী আবার রাস্তার ধারে নতমস্তকে শ্রদ্ধাবনত হয়ে বসেও পড়ত। ভিক্ষুরা ভিক্ষা-গ্রহণকালে সকলের মঙ্গলার্থে প্রার্থনা করতেন।

    ভিক্ষা শেষ হয়ে গেলে, তাঁরা ধীরে ধীরে গ্রাম পেরিয়ে, খাবার গ্রহণ করার জন্য কোন গাছের ছায়ায় বা প্রান্তরে আসতেন। সবাই মিলে গোল হয়ে বসতেন। যেটুকু খাবার পাওয়া যেত তাকে সকলে সমান ভাবে ভাগ করে নিতেন। কাছাকাছি কোন একটি নদী থেকে রাহুল একঘড়া জল বয়ে আনত, এনে বুদ্ধদেবের কাছে রাখত। বুদ্ধদেব পদ্মপাণি হয়ে কর জোড় করতেন, তখন সে বুদ্ধদেবের হাতে জল ঢেলে দিয়ে পরিষ্কার করে দিত। এক এক করে সকলের হাত সে এইভাবে ধুইয়ে দিত, সবশেষে স্বস্তির পালা। স্বস্তির তখনো কোন ভিক্ষাপাত্র ছিল না, তাই রাহুল তার নিজের পাত্র থেকে কিছুটা খাবার একটা কলাপাতায় ঢেলে বন্ধুর জন্য রেখে দিত। খাওয়া শুরু করার আগে ভিক্ষুরা করজোড়ে প্রার্থনা করতেন, তারপর নিঃশব্দে অন্নগ্রহণ করতেন। অন্নগ্রহণ করার সময় তাঁরা প্রতিটি গ্রাসের প্রতি মনোনিবেশ করতেন।

    খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষ হলে, কোন কোন ভিক্ষু হাঁটা-ধ্যান চর্চা করতেন, কেউ কেউ বসে ধ্যান করতেন, আবার অন্যেরা একটু ঘুমিয়ে নিতেন। দুপুরবেলার গ্রীষ্মের ঝাঁঝ একটু কমে এলে, তাঁরা আবার পথে নামতেন, চলতে চলতে সন্ধ্যের আঁধার নেমে আসত। রাতের বিশ্রাম নেবার জন্য নিরুপদ্রব অরণ্যই শ্রেষ্ঠ। তেমন জায়গা যতক্ষণ না পাওয়া যেত তাঁরা চলতে থাকতেন। প্রত্যেক ভিক্ষুর নিজস্ব তাকিয়া ও বালিশ থাকত, অনেকে পদ্মাসন হয়ে মাঝরাত্রি পর্যন্ত কাটিয়ে দিতেন, তারপর নিজের পরিচ্ছদ পেতে তার ওপর ঘুমিয়ে পড়তেন। প্রত্যেকের দুটো করে জোব্বা থাকত, একটি শরীরের আচ্ছাদন, অন্যটিকে শীত আর ঝোড়ো হাওয়ার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। স্বস্তিও অন্যদের মত ধ্যানে বসে থাকত অনেক রাত অবধি, তারপর গাছের শিকড়কে বালিশ করে ঘুমিয়ে পড়ত।

    ঘুম থেকে উঠে স্বস্তি দেখত বুদ্ধদেব ও অন্যান্য ভিক্ষুরা ধ্যানে বসে আছেন, তাঁদের প্রশান্ত মুখমণ্ডল থেকে শান্ত জ্যোতি নির্গত হচ্ছে। দিকচক্রবালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিক্ষুরা যে যার পোষাক গুটিয়ে নিয়ে, ভিক্ষাপাত্র হাতে নিয়ে পদব্রজে বেরিয়ে পড়তেন। সেদিনের যাত্রা শুরু হত।

    এই করে দিনে পথ চলে, রাতে বিশ্রাম নিয়ে, দশদিন পরে তাঁরা সকলে মগধের রাজধানী রাজগৃহে পৌঁছলেন। সেই প্রথম স্বস্তি একটি বড় শহর কেমন হয় দেখতে পেল। জনাকীর্ণ রাজপথে দ্রুত ছুটে চলেছে ঘোড়াগাড়ি, চারপাশে মানুষের হাসি-অট্টরোলে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ। এ সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে ভিক্ষুগণ হেঁটে চললেন, যেভাবে তাঁরা শান্ত নদীতীর বা গ্রামের ধানজমির আলের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতেন, সেইভাবে শান্ত মনে হাঁটতে লাগলেন। কয়েকজন শহুরে নাগরিক চলতে চলতে থেকে তাঁদের দেখতে লাগল, কেউ কেউ আবার বুদ্ধদেবকে চিনতে পেরে আভূমি প্রণত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করল। ভিক্ষুরা চলতেই থাকলেন। চলতে চলতে শহরের অনতিদূর বাইরে তাঁরা বাঁশবন মঠে পৌঁছলেন।

    বুদ্ধদেব ফিরে এসেছেন, বাঁশবন মঠে এই বার্তা দ্রুত রটে গেল। নিমেষের মধ্যে চারশো ভিক্ষু জড়ো হলেন তাঁকে সম্বর্ধনা দেবেন বলে। বুদ্ধদেব বিশেষ কিছু বললেন না, শুধু সকলের কুশল জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁরা নিয়মিত ধ্যান করছিলেন কিনা খোঁজ খবর করলেন। বু্দ্ধদেব স্বস্তিকে সারিপুত্তের হাতে সঁপে দিলেন; সারিপুত্ত রাহুলেরও আধ্যাত্মিক গুরুদেব। সারিপুত্ত বাঁশবন মঠে নবীন সন্ন্যাসীদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন; প্রায় জনা পঞ্চাশ তরুণ সাধু, সব তিন বছরের কম মঠবাসী, এমন সকলের অধ্যাপনার দায়িত্ব তাঁর। কৌণ্ডিন্য নামে অপর এক সন্ন্যাসী ছিলেন এই মঠের মঠাধ্যক্ষ।

    রাহুলকে বলা হল স্বস্তিকে মঠের নিয়মকানুন বুঝিয়ে দিতে। কেমন করে হাঁটতে হয়, কেমন করে বসতে হয়, কেমন করে দাঁড়াতে হয়, কেমন করে অন্যদের অভ্যর্থনা করতে হয়, কেমন করে হাঁটার ও বসে থাকার ধ্যান করতে হয়, কেমন করে নিজের নিশ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি নজর রাখার ধ্যান করতে হয়। রাহুল স্বস্তিকে কি করে সাধুর পোষাক পরতে হয়, ভিক্ষার রীতিনীতি, প্রার্থনা করার কায়দাকানুন, ভিক্ষাপাত্র কি করে সাফ করতে হয়, সেসবও শিখিয়ে দিল। তিনদিন ধরে স্বস্তি রাহুলের পাশ থেকে একটুও নড়েনি যাতে সে এসব দ্রুত শিখে নিতে পারে। রাহুল যদিও মনপ্রাণ দিয়ে স্বস্তিকে সব শিখিয়ে দিয়েছিল, স্বস্তি খুব ভালভাবে বুঝতে পেরেছিল যে এসবে ধাতস্থ হতে তার বছরের পর বছর লেগে যাবে। এসব শেখা টেখা হয়ে যাবার পর একদিন সারিপুত্ত স্বস্তিকে তাঁর কুটিরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ভিক্ষু হবার প্রথা প্রণালী সব বুঝিয়ে দিলেন।

    কে ভিক্ষু? ভিক্ষু সেই জন, যিনি সংসার ত্যাগ করেছেন বুদ্ধদেবের শরণ নিয়ে, ধর্মকে পথ অবলম্বন করেছেন জাগ্রত হবেন বলে, যিনি সে পথে সংঘকে আশ্রয় করেছেন পথের দিশারী রূপে। ভিক্ষুর জীবন অতি সহজ সরল। অন্নগ্রহণের নিমিত্ত ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করেন, তাই তাঁর মধ্যে নম্রতা স্বাভাবিক ভাবেই আসে; তাছাড়া ভিক্ষা করতে গিয়ে সমাজের সকলের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ হয়, মানুষকে ধর্মের পথ, বোধির পথ, ভালবাসার পথ, যে পথের সন্ধান বুদ্ধদেব দিয়েছেন সে সব কথা আলোচনারও সুযোগ হয়।

    দশ বছর আগে, বোধিবৃক্ষের তলায়, স্বস্তি আর তার বন্ধুরা স্বয়ং বুদ্ধদেবের মুখ থেকে প্রেম করুণা বোধি আর জাগ্রত হবার পথের কথা শুনেছিল, তাই সারিপুত্তের কাছে এ সব কথা সে সহজেই বুঝতে পারল। সারিপুত্তের মুখ গম্ভীর হলে কি হবে, তাঁর চোখে মুখে মিষ্টি হাসি, বিগলিত করুণা। সারিপুত্ত স্বস্তিকে বললেন ভিক্ষুসংঘে তার যোগদানের সময়ে একটি দীক্ষা অনুষ্ঠান হবে, সেখানে স্বস্তিকে কি কি আবৃত্তি করতে হবে সব শিখিয়ে দিলেন।

    সারিপুত্ত নিজে সেই দীক্ষা-অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করলেন। তাতে প্রায় জনা বিশেক ভিক্ষু অংশ নিয়েছিলেন। স্বস্তির দেখে বড় আনন্দ হল যে সেই অনুষ্ঠানে স্বয়ং বুদ্ধদেব ও রাহুল উপস্থিত ছিলেন। সারিপুত্ত একটি গাথা গাইলেন, তারপর স্বস্তির মাথা থেকে বেশ খানিকটা চুল কেটে নিলেন। তারপর রাহুলের হাতে ক্ষুর ধরিয়ে দিলেন, রাহুল স্বস্তির বাকী চুল কেটে মাথা চেঁচে দিল। সারিপুত্ত স্বস্তিকে তিনটি পরিধেয় বস্ত্র দিলেন, একটি ভিক্ষাপাত্র দিলেন, ও একটি জল পরিশ্রুত করার পাত্র দিলেন। ভিক্ষুর পোষাক কি করে পরতে হয় রাহুল আগেই শিখিয়ে দিয়েছিল, কাজেই স্বস্তির পরতে অসুবিধে হল না। সে বুদ্ধদেব ও অন্যান্য ভিক্ষুদের সামনে বারংবার নতজানু হয়ে সম্মান প্রদর্শণ করতে লাগল।

    সেদিন, আরেকটু বেলা বাড়ার পরে স্বস্তি জীবনে প্রথমবার ভিক্ষুরূপে ভিক্ষা করতে বেরোল। বাঁশবন মঠের সাধুরা রাজগৃহতে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বেরোতেন। স্বস্তি যে দলে, তার অধ্যক্ষ ছিলেন সারিপুত্ত। কয়েক পা যাবার পর স্বস্তি নিজেকে মনে করাল যে এই যে সে অন্ন ভিক্ষা করতে বেরিয়েছে, এও এক প্রকার মার্গ-যান। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করতে করতে সে ধীরপদে একমনে পা ফেলে হাঁটতে লাগল। সে আগে আগে চলল, তার পেছনে রাহুল। স্বস্তি জানে যে সে ভিক্ষু হতে পারে, কিন্তু রাহুলের তুলনায় তার অভিজ্ঞতা যৎসামান্য। সে প্রাণপণে বিনম্রতা ও সদগুণের অধিকারী হবার প্রতিজ্ঞা করে এগোতে লাগল।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৪ জুলাই ২০১৭ | ৩২ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • pi | 127.194.81.255 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৭ ০৫:০১61251
  • ভাল লাগছে ...
  • অভিষেক | 52.110.187.117 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৭ ০৫:০৬61252
  • লেখককে ধন্যবাদ! আগ্রহ থাকলো পরের পর্বগুলোর জন্যে।
    এ কী অনুবাদ না লেখকের আপন রচনা?

    প্রথমটা হলে বলবো খুব ভালো দ্বিতীয় হলে বলবো তথাগতের হাত ধরে লেখা অবশ্যই শেষ করুন! সময় লাগুক।
  • Je | 184.198.14.195 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৭ ০৯:৩৫61253
  • Old Path White Cloud - Walking in the Footsteps of the Buddha ভীষণ ভাল হচ্ছে। এরকম অনুবাদ বাঙ্গলাতেও করাটাও এক্টা বড় কাজ।
  • d | 144.159.168.72 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৭ ১০:০৬61250
  • বাহ ভাল লাগল পড়তে। এটা এগোবে তো?
  • অনির্বাণ | 144.219.227.30 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৭ ১১:১৫61254
  • ভালো লাগল। পরের পর্বের জন্যে অপেক্ষা করছি।
  • Arin Basu | 213.100.212.170 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৭ ১২:৩৯61255
  • আপনাদের ভাল লেগেছে জেনে খুবই উৎসাহিত বোধ করছি।
    অবশ্যই এগোবে।
    আজকে দ্বিতীয় পর্ব।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত