• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

    Saikat Bandyopadhyay
    বিভাগ : ব্লগ | ০৫ আগস্ট ২০১৯ | ১২৬ বার পঠিত
  • মোদীজির সাফল্যের কাছে এভারেস্টও বেঁটে মতো, মারিয়ানা খাতও নেহাৎই ডোবা। মঙ্গলে উপগ্রহ পাঠানোও মাছি-মারার মতই সহজ, হালের চন্দ্রযান তো এমনকি গণেশের প্লাস্টিক সার্জারির চেয়েও সোজা। নিত্যনতুন কর্মকান্ডে তিনি আমাদের আশ্চর্য করেই চলেছেন। এর আগে এইভাবেই মোদীজি নতুন নোটে জিপিএস চিপ লাগিয়ে সন্ত্রাসবাদের সাড়ে-সব্বোনাশ করে দিয়েছিলেন। সে এতই কার্যকরী হয়েছিল, যে, সন্ত্রাসবাদীরা জিপিএস ট্র্যাকিং এর জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাতে প্রচুর সৈনিক, অনেক অসামরিক মানুষ, কয়েকটি প্লেন, ইত্যাদি নানা জৈব ও অজৈব পদার্থ মারা গেছে ঠিকই, কিন্তু জবাবে মোদীজির নেতৃত্বে পাকিস্তানের মাটিতে অনেক পাইনগাছে এবং একটি কাক মারা হয়েছে, এ কথাও মনে রাখা জরুরি। একেই আপনারা মোদীজির নৈতিক জয় বলতে পারেন।

    মোদীজির কোনো ক্লান্তি নেই, তাই এই বিরাট সাফল্যের পরের ধাপ ৩৭০ বিলোপও কয়েক মাসের মধ্যেই এসে গেছে। হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির ফরোয়ার্ড দেখলেই আপনারা সেসব সম্পর্কে বিশদে জানতে পারবেন। চাদ্দিকে নানা বার্তা দৌড়চ্ছে, যার মূল কথা হল, এতদিন কাশ্মীর পাকিস্তানে ছিল, মোদীজি তাকে ধরে-বেঁধে ভারতবর্ষে এনে ফেলেছেন। এখন থেকে কাশ্মীরে ভারতের পতাকা উড়বে (নিশ্চয়ই আগে উড়তনা)। এখন সুপ্রিম কোর্টের আওতায় চলে এল কাশ্মীর (আগে গিলানির ফাঁসির আদেশ দিতে ঘেমে-নেয়ে একশা হয়েছে, আফজল কে কোনোমতে দিতে পেরেছিল)। জিহাদিদের শাসন থেকে আজ চিরমুক্তি, আজ কাশ্মীর দিবস। যেভাবে নোটে চিপ লাগিয়ে সন্ত্রাসমুক্তি হয়েছে, সেভাবেই ৩৭০ তুলে দিয়ে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি হল। মেসেজের নিচে জ্বলজ্বলে হ্যাশট্যাগ দিয়ে আবার লেখা থাকছে #সশক্তভারত। এ কোনো বাংলা শব্দ নয় (আইটি সেলের করবার, সবাই কপিপেস্ট মারছে), তবু পড়লেই বুঝতে পারবেন, যে, এতদিন, এমনকি মোদীবাবুর ৫ বছরেও ভারত অশক্ত ছিল, এবার "সশক্ত" হয়ে গেছে।

    সশক্ত হয়ে আপনি এবার কী করবেন? সাধারণ জ্ঞান না থাকলে চারদিকে অন্তত কান পাতুন। শুনবেন নাগাড়ে ৩৭০ আর ৩৫এর চাষ হচ্ছে। পাড়ার বড়দা-বড়দিরা, অবিরত জ্ঞান ঝাড়ছেন, আপনার কটি হাত, কটি নতুন পা, আর কটি ব্র্যান্ড-নিউ ন্যাজ গজালো সেই নিয়ে। মোদ্দা কথা হল, এবার আপনার জীবনে অপার সুখ-শান্তি নেমে এল, তার জন্য আর স্বপনে কিংবা শ্মশানে যেতে হবেনা। এবার থেকে বাঙালি ছোঁড়ারা যতখুশি কাশ্মীরি কন্যা বিয়ে করতে পারবে (যেন এতদিন কাশ্মীরি কন্যারা বাঙালি বিয়ে করতে না পেরে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিল)। বাঙালি মেয়েদেরও কোনো ভয় নেই, শালওয়ালা পেলেই টপ করে পাকড়ে নিতে পারবেন, বিয়ে-থা হলে আপনাকে আর কাশ্মীরি হয়ে যেতে হবেনা। আরও গুরুত্বপূর্ণ যেটা, সেটা হল, বাঙালি মধ্যবিত্তরা স্রেফ ৩৭০ এর অভাবে এতদিন শ্রীনগর উপত্যকায় রিটায়ারমেন্ট হোম বানাতে পারছিলেননা, এখন সেই সমস্যা মিটল। এবার ডাল লেকের পাড়ে-পাড়ে দেখবেন, ঘোষ-বোস-মিত্তিরদের বাগানবাড়ি। রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই আলুপোস্তর সুবাস আসবে নাকে। মোড়ে-মোড়ে হবে রসগোল্লার দোকান (সে অবশ্য হলদিরাম দেবে)। চালাও পানসি বেলঘরিয়ার বদলে এখন নতুন প্রবাদ হবে, ঘোরাও হাউসবোট ডাল লেকে। এইসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বাঙালি মরে যাচ্ছিল, আজ এল তার আকাশে ওড়ার দিন। এখন স্রেফ এক দেশ, এক আইন।

    এই শুনে আবার মিনমিন করে সিকুলার লিবারালদের মতো প্রশ্ন করতে যাবেননা কিন্তু, যে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যে-টাজ্যে তো নানারকম বিধিনিষেধ এখনও আছে, বা, আসামে একটি বিদঘুটে পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব যাচাই হচ্ছে, যা ভারতের আর কোথাও হয়না, তাহলে এক-দেশ, এক-আইন টা হল কীকরে? তাহলেই দেশপ্রমিকরা আপনাকে ধুইয়ে দেবেন। "হোয়াট্যাবাউটারি করবেন না তো"। এ অবশ্য আপনারই শিক্ষা। আপনি লিবারাল হয়ে জন্মেছেন, প্রশ্ন উঠলেই নাক-কুঁচকে চতুর্দিকে এইসব লব্জ ঝেড়েছেন নির্বিচারে, এখন সেসব ফেরত পাবেন না বললে হবে? আজ কাশ্মীর দিবস, পে-ব্যাক ডে। কাশ্মীর ভারত ফেরত পেয়েছে, আপনিও তাই ফ্রিতে ফেরত পাচ্ছেন আপনার লব্জ। এ হল মুক্তির দিন। জয় ভারত, সশক্ত ভারত।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৫ আগস্ট ২০১৯ | ১২৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • dc | 236712.158.676712.114 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ০৩:৪৭49275
  • বিদেশমন্ত্রী করলে তো আর কথাই নেই, গোটা পাঁচেক বড়ো দেখে আইল্যান্ড আর গোটা দুয়েক ছোট দেখে দেশ কিনে ফেলবো।
  • Amit | 236712.158.23.211 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ০৫:২৩49276
  • ভেবেছিলুম dc কে আর কাঠি করবো না, কিন্তু আমার ছ্যাঁচোড় স্বভাব যাবে কোথায় ? না করলে একটু পরে কেমন মনটা খাঁ খাঁ করে। তবে ওনার সাথে অন্য কেও সেচ্ছায় কাঠি খেতে চাইলে আমার কোন আপত্তি নাই। :) :)

    তো ডিসি যে ইডিয়াল সলুশন দিলেন, কালকে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন আবার চেগে উঠলে সেখানেও গণভোট নেওয়া উচিত তো- ? নাকি জোর করে ওদের পব র সাথে ধরে রাখা উচিত -? নাকি "আমার সোনার বাংলা ভেঙে গেলো" বলে নাকি সুরে কান্না জোড়া হবে এখানে -? নাকি আবার সব কিছুর আলাদা আলাদা প্রেক্ষিত দেখানো হবে ?

    আমাকে দুষবেন না আবার, সেই পার্ক সার্কাস এর ঘটনার পর থেকে দিদির আমলে কিন্তু প্রেক্ষিত একটা খুব দরকারি জিনিস।

    নাকি ওখানেও স্টেটাস কুও চলুক। যদ্দিন না আশে পাশে রেজিম চেঞ্জ হচ্ছে বা ন্যাশনালি বা ইন্টারন্যাশনালি অনুকূল পরিস্থিতি হচ্ছে - ?

    (এই অনুকূল কিন্তু সেই ছবিতে লুঙ্গি পড়া খালি গায়ে থাকা মাল টা নয় )।
  • dc | 237812.69.453412.170 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ০৫:৩২49277
  • এখানে দুইটা কথা আছে। একটা আইডিয়াল সলিউশান, আরেকটা প্র্যাক্টিকালি কি হচ্ছে। যদি প্র্যাক্টিকাল জানতে চান, তাহলে কোন কথা নাই। আর যদি আইডিয়াল জানতে চান তো আমি সবসময়েই গণভোটের পক্ষে। একটা জায়গায় যারা থাকে তাদের মতামত তো জানতে চাওয়াই যায়, তার জন্য গণভোট কেন নেওয়া হবে না? আর নানান ইস্যুতে অনেক সময়ে গণভোট তো নেওয়া হয়ও, যেমন ধরুন ব্রেক্সিট, বা তার কদিন আগে স্কটল্যান্ড (নাকি অন্য কোন ল্যান্ড) ব্রিটেনে থাকবে কিনা সেই ইস্যুতে গণভোট হয়ে গেল।
  • S | 237812.69.453412.26 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ০৭:৪০49278
  • বিজেপি যেভাবে বিহেভ করছে তাতে মনে হচ্ছে যে এটাই শেষ ইলেকশন বা বিজেপি ছাড়া আর কেউ কখনই ক্ষমতায় আসবেনা। কালকে কং ক্ষমতায় এসে উত্তর প্রদেশ ভাগ করে কতগুলো ইউটি বানালে বিজেপির কি প্রতিক্রিয়া হবে দেখবো। উত্তর প্রদেশে ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন সবসময়ই খারাপ, তাছাড়া গোবাহিনীরা রয়েইছে। ওখানে কং কোনওদিনই ভালো ফল করবেনা, উল্টে ইউটি বানালে বিজেপির অনেকগুলো সীট কমে যাবে। কিন্তু বিজেপি জানে যে বদমায়েশিটা ওরা করতে পারছে, সেটা কঙ করবেনা।

    প্ল্যানটা খুবই স্পষ্ট।
    ১) ৩৭০(৩) অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের অর্ডারে ৩৭০ রদ করা হলো। নইলে ৩৫(এ) সড়ানো যেতো না।
    ২) লাদাখকে আলাদা করে সেখানে প্রচুর হিন্দুদের ঢোকানো হবে।
    ৩) জম্মুতে অলরেডি ৬৩% হিন্দু। সেখানে আরো হিন্দু বাড়বে।
    ৪) কাশ্মীরের মুসলিমদের কোনঠাসা করে হয় বর্ডারের ওপাশে চলে যেতে বলা হবে নইলে স্বাধীন কাশ্মীরের স্বপ্ন ভুলে জোড় করে অ্যাসিমিলেট করানো হবে। এর ফলে হিংসা আরো বাড়বে বই কমবে না।
    ৫) পুরো আইওকে হিন্দু প্রধান হয়ে গেলেই আবার পুরো রাজ্য এক করা হবে (অমিত শাহ অলরেডি হিন্ট দিয়েই রেখেছে)।
    ৬) প্লেবিসাইট করা হবে। সেখানে অবশ্যই ভারতের দিকেই ভোট পরবে।
    ৭) কাশ্মীরের ভারতভুক্তির কাজ সম্পন্ন হবে। মোদি-শাহ ক্রেডিট পাবে। বিজেপির ভোট বাড়বে বহুগুন।
    ৮) ভারতের আর কোনও রাজ্যই মুসলিম প্রধান থাকলো না। এইবারে সংবিধান থেকে ঐ সেকুলার কথাটা তুলে দিলেই চলে। অলরেডি বিজেপি নেতারা বলেই দিয়েছে যে কোনও দেশই নাকি সেকুলার থাকতেই পারেনা কখনও।
    ৯) এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের মাইনরিটিদেরকে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনে পরিণত করা হবে। অনেকেই ভয়ে এবং হতাশ হয়ে পাকিস্তানে/বাংলাদেশে/অন্য দেশে মুভ করে যাবে। বিজেপির কার্য সম্পন্ন হবে। এর পরের আরেসেসের প্রেসিডেন্টকে আমরা দেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে জানবো।

    ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের নাম নিয়ে আরেসেস-বিজেপির ইন্টারেস্ট সার্ভড হচ্ছে।
  • Amit | 236712.158.9007812.99 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ০৮:৪০49279
  • S যেটা লিখলেন, প্রতিটা পয়েন্ট এ সহমত। সমস্যা হলো ধরেন, এই প্রতিটা ইস্যু নিয়ে আজকে যদি গণভোট হয়, প্রতিটাতে বিজেপি থামপিং মেজরিটি তে জিতবে। ডেমোক্রেটিক মডেল এ আটকানো যাবে কি করে? যেখানে অপসিশন কে দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  • S | 237812.69.453412.44 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১০:০৭49280
  • একদম। হিটলারের আমলেও জার্মানীতে নিস্চই আমাদের মতন কিছু লোকজন ছিলো যাঁরা জানতেন যে দেশের সব্বনাশ হচ্ছে, কিন্তু কিছুটি করতে পারেননি কারণ মেজরিটি তখন বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর।
  • Amit | 237812.68.565623.109 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১০:১২49281
  • সেটাই।
  • Amit | 237812.68.565623.109 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১০:১৫49282
  • আজকাল স্কুল কলেজের গ্রুপ এ যখন কথা হয়, রোজ ফ্রুস্ট্রেশন এসে যায় পুরো।

    দেশটা পাল্টে গেছে ।
  • S | 237812.69.453412.44 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১০:১৯49283
  • গুচ ছাড়া আমার কোনও সোশাল মিডিয়া কেন সোশাল লাইফও নেই। অতেব।
  • Amit | 236712.158.23.209 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১২:৩৪49264
  • আলোচনা টা চালানো যাক, যদিও দেবু বাবুর ধমকের পর একটু ঘাবড়ে আছি। :) :) মাইরি বলছি আমি সকালে উঠে গণশক্তি পড়িনি।

    আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না একটা ইডিয়াল ডেমোক্রেটিক দেশের জেনারেল মডেল বা আইন ঠিক কি কি রকম হওয়া উচিত ? এটা ঠিক যে কাশ্মীর এর লোকেদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই ৩৭০ তুলে দেওয়া হয়েছে। উল্টোদিকে এটাও ঠিক যে গত ৭০ বছরে কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যান পাওয়া যায়নি। জাস্ট মোদী ভজনা বা মোদী ব্যাশিং এ না গিয়ে একটু টো টি পয়েন্ট আলোচনা এগোলে কেমন হয় ?

    গণতন্ত্রে আলোচনা সব সময়েই ওয়েলকাম। কিন্তু এরকম একটা বিষয়ে আলোচনা টা ঠিক কোন পথে চালানো যেত বা এগোতে পারতো -?

    একটা এনালজি দি বরং - ? আমার কনফুসিওন টা বোঝাতে। গুরুজনেরা হেল্প করলে বড়ো উপকার হয়। আমি তো আর রাস্তায় নেমে বিপ্লব করার লোক নয়, নিতান্ত স্বার্থপর লোক, নেট দুনিয়াতে এসব হাবি জাবি লিখে জাস্ট টাইম পাস করছি। আর বেশ লোভী, নিজের ভালো টা সবার আগে দেখি। তাই আপনারা গালাগাল দিলে নিশ্চয় দিতে পারেন। :) :)

    ১। একেক রাজ্যের জন্য কি এক এক আইন থাকবে বেসরকারি কোম্পানি র বা কন্ট্রাক্ট যাবার এর মতো ? যে যেমন স্যালারি নেগোটিয়াতে করলো জয়েনও করার সময় ? অন্য কারোর সেটা জানার বা দোড়াদোড়ির দরকার ই নেই ? জাস্ট কয়েকটা বেসিক জিনিস, যেমন হেলথ ইন্সুরেন্স, ডেথ ইন্সুরেন্স এগুলো জেনেরিক করা হলো সবার জন্যে , বাকি সব যে যেমন তার মতো বুঝে নাও। অন্য কেও সেটা নিয়ে কোনো কথা বলবে না। ব্যাস।

    এর সাথে ৩৭০ বা ৩৭১ ধারা এর মিল পাচ্ছি। এই রাজ্য গুলো ইন্ডিয়া তে জয়েনও করার সময় যেমন নেগোটিয়াতে করেছে, সেটা ই থাকবে। কারোর কিচ্ছু বলার নেই। আড়ালে হিংসে করে যাও, কিন্তু সামনে সামনি কিছু বলা যাবে না। এটা টিপিকাল ক্যাপিটালিস্ট মডেল বা বাজার অর্থনীতি।

    ২। নাকি হওয়া উচিত সরকারি কোম্পানি র মতো ? এক গ্রেড এ যারাই জয়েনও করছে সবার এক মাইনে- ? সব বেনিফিট থেকে শুরু করে সব কিছু এক। কেও যদি স্পেশাল কোনো এক্ট এ জয়েনও করে , তাকে একটা দুটো প্রমোশন এর সময় বাকি দের সাথে একুয়াল করে দেওয়া হবে। আলাদা বেনিফিট চিরকালের জন্যে রাখা হবে না। এই নয় যে দু একটা ছোট খাটো পারফরমেন্স বোনাস দেওয়া যাবে না দু একজন কে , কিন্তু সেটা বাকিদের থেকে আকাশপাতাল কিছু তফাৎ হবে না। হলেও সেটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়।

    এইটা টিপিকাল সমাজতান্ত্রিক মডেল। যেটা হয়তো ইন্ডিয়া এডপ্ট করেছে। মানে মুখে বলে করেছে।

    এবার প্রশ্ন হলো দুটো মডেল এর কনফ্লিক্ট। ধরেন প্রথম মডেল এ যারা কম মাইনে পাচ্ছে, তারা খেপে গিয়ে আন্দোলন এ নামলো। এর মধ্যে আলোচনা কি ভাবে, কোন রাস্তায় করা সম্ভব ? যারা বেশি মাইনে পাচ্ছেন , তারা নিশ্চয় চাইবেন না তাদেরকে কম দেওয়া হোক । অন্য দিকে যারা কম পাচ্ছেন , তারা কখনোই চাইবেন না যারা বেশি পাচ্ছেন , তারা চিরকাল বেশি পান। তাহলে দু পক্ষই নিজের গো ধরে বসে রইলেন রাস্তা অবরোধ করে। ধরে নেয়া যাক কেও কারোর কথা শুনতে রাজি নন।

    এদিকে যারা বেশি মাইনে পাচ্ছেন , তারা অন্য রিভাল কোম্পানি থেকে কিছু গুন্ডা এনে মারামারি করতে শুরু করে দিলেন। এখানে চাকরি গেলে ও ওখানে নিশ্চিত অফার আসবেই হাতে। সেটা ঠেকাতে এই কোম্পানি থেকে কিছু পুলিশ এনে তাদের ঠেকানো হলো, সেই ঠেকাতে গিয়ে দু একজন নিরীহ লোক ও মার্ খেলেন। হবেই , কল্যাটারাল ড্যামেজ আটকানোর কোনো রাস্তা আছে বলে জানা নেই।

    উল্টোদিকে যারা কম মাইনে পাচ্ছেন, তারা ও পোস্টার নিয়ে ছয়লাপ করে দিলেন, তার মধ্যে অশ্লীল ইঙ্গিত ও আছে। এটাও কি ভাবে ১০০ % ঠেকানো যাবে জানা নেই, কিছু ছোটোলোক চিরকালই ছিল , থাকবে।

    এবার আমার বোকা প্রশ্ন গুলো হলো : এ রকম হলে কি করা উচিত ? সেই অবরোধ কোন পথে তোলা হবে , বা তোলা কি আদৌ দরকার -? রাস্তা বন্ধ থাকলে কি ক্ষতি ?

    আমার স্বল্প বুদ্ধিতে দু একটা রাস্তা যা খুঁজে পাচ্ছি সেগুলো হলো :

    ১। আস্তে আস্তে মাইনে এডজাস্ট করা হবে ? কিন্তু তার একটা নির্দিষ্ট পাথ ফরওয়ার্ড থাকবে বা থাকা দরকার - ? এটাও কি আলোচনায় থাকা দরকার যে যারা বেশি মাইনে পাচ্ছেন , তাদেরকে জানানো যে তারা এই কোম্পানি তেই আছেন, ইচ্ছে করলেই চাকরি ছেড়ে চেয়ারগুলো তুলে অন্য কোম্পানি তে যেতে পারেন না ?

    ২। জোর করে অবরোধ তোলা হবে ? পুলিশ দিয়ে খেদিয়ে ? যদি তাই হয়, কোন দলকে আগে সরানো উচিত - ?

    ৩। নাকি আলোচনা চালানো হবে অনন্তকাল ? কোনো ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়াই ? টাইম পাস চলুক , মিটিং চলুক। ওদিকে গুন্ডারা সামান্য কয়েকটা লাস ফেললে ফেলুক ? পুলিশ ও দু একটা গুঙ্গা কে মারলে মারুক - ? এটা চলবে নেক্সট ১০০-২০০-৫০০ বছর ?

    টাইম লাইন টা এমনি জাস্ট বলা। আমরা তো ৩০-৫০ বছরেই ফোট হয়ে যাবো। :) :)

    ৪। নাকি অবরোধ চলছে , চলুক? গুন্ডাবাজি চলছে চলুক। কোনো আলোচনার দরকারি নেই। কারণ আলোচনার কোনো ফ্রেমওয়ার্ক নেই। চালিয়ে কোনো লাভ নেই টাইমপাস ছাড়া।

    এবার গুরুজনেরা বলুন কোন পথে এগুনো ভালো, আরো ভালো হয় যদি তারা বলেন এটা তাদের নিজের কোম্পানি তে হলে তারা নিজেরা কোনটা প্রেফার করবেন ? বা কিভাবে হ্যান্ডেল করবেন ?

    ওয়ান সাইজে ফিটস অল নিশ্চয় নয়, কিন্তু আরো রাস্তা থাকলে সেগুলো কি ? বা এগুলোর মধ্যে কোন রাস্তা কাশ্মীরে র মডেল এ ফিট করা যেত - ?

    অন্য দেশের উদা থাকলে সেগুলো ও দেয়া হোক। অন্য কোথায় এসব এর শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। ছিট্ মহল হয়ে গেছে কিন্তু। PM -দা লিখে দিয়েছেন।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত