• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • kolkaata tumi kaar

    Ranjan Roy
    ব্লগ | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৩ | ১১৩ বার পঠিত

  • বাঙাল থেকে বং: কোলকাতার এক সঙ
    আদৌ রিমিকি ঝিমিকি ঝরে ভাদরের ধারা নয়, এ যেন আকাশগঙ্গা নেমেছে। কোলকাতা জলমগ্ন, বাইপাসের ধারে কালিকাপুরে নৌকো চলছে।আমরা গূহবন্দী। কাজেই আড্ডা, চা, তেলেভাজা, মুড়ি, ফের চা, ফের তক্কাতক্কি, ফের লাল সবুজ। হাতজোড় করি, এমনদিনে রাজনীতি ছেড়ে অন্য কিছু নিয়ে কথা হোক।
    কিল্তু ইলিশ নাকি হাজার টাকা? চিংড়িও আটশ৹ ছাড়িয়েছে ?কোলকাতার এই হাল? কে দায়ী? লাল হলুদ, নাকি মেরুন সবুজ?
    সত্তর পেরোনো নন্দীকাকিমার খ্যানখেনে গলা: যেদিন থেকে এই জার্মানগুলো হাঁড়িকুড়ি, ক্যাঁতা নিয়ে পিলপিল করে শ্যালদায় নেমেছে সেদিনই চিত্রগুপ্তের খাতায় আমাদের কোলকাতার নাম উঠে গেছে।
    ঃ আজাইরা তর্ক কইরেন না বৌদি!
    খেঁকিয়ে উঠলেন মজুমদারকাকু,ঃ আমাদের কোলকাতা? ক্যান, কইলকাতা আমাগো না? চৌত্রিশ বছর ধইরা বঙ্গদেশরে চালাইল কেডা?বঙ্গের গৌরব জ্যোতিবসু ঢাকার বারদি গ্রামের পোলা না?কুন হালার ঘটি লীডারের নাম দ্যাশের প্রধানমন্ত্রী পদের লাইগ্যা শুনছেন কুনো দিন?
    ঃ সেই কতাই তো হচ্চে! রেফুজিগুলোকে মাতায় তুলে বামদলগুলো অ্যাদ্দিন গদি আঁকড়ে থেকে কোলকাতার ভুষ্টিনাশ করে ছেড়েছে। তাই সাবর্ণ চৌধুরিদের লতায় পাতায় আত্মীয় ভবানীপুরের দিদি ঝ্যঁটা ধরেছেন। কোলকাতাকে সাফসুতরো করবেন।
    ঃ হ:, লন্ডন বানাইবেন! আইজ ত ঢাকুরিয়া লেক।
    আবার হাতজোড় করি, নো পলিটিক্স প্লীজ! নো আমরা ওরা! আজকের নতুন বিষয়: কোলকাতা তুমি কার?
    দুপক্ষের থেকে একজন করে বলবেন; কেউ ফোড়ন কাটবেন না, শুধু আমি মাঝেমধ্যে ক্ল্যারিফিকেশন চাইতে পারি। কেউ কেউ মুখ বেঁকালেন। কিন্তু কথায় কাজ হল।প্রথমে মজুমদারকাকু। জবাব দেবেন নন্দীকাকিমা।
    বাঙালের আমরা ওরা:
    :ওরা কখনো আমাগো একই দ্যাশের মানুষ মনে করে নাই। স্যাম্পল দ্যাখেন:
    বাঙাল মনুষ্য নয় ওড়ে এক জন্তু,
    লম্ফ দিয়ে গাছে ওঠে লেজ নাই কিন্তু।
    অথবা,
    এই কমিক গানটা:
    বাঙালো, ভাত খাইলো, ভাঁড় ভাঙিলো, পয়সা দিল না।
    : আপনারা ছেড়ে দিতেন?
    : হ:, কুন হালায় ছাইড়া দিব? আমরা কইতাম:
    বাঙ্গাল বাঙ্গাল করিস না, বাঙ্গাল তোর পিতা,
    পূজার সময় কিনে দিবে একজোড়া জুতা।
    অথবা,
    বাঙ্গাল বাঙ্গাল করস ক্যান, বাঙ্গাল তোর কেডা?
    আমরা থাকি মাছেভাতে, পান্তা খায় তর জ্যাডা!
    ( এরপর উনি যা যা বললেন সে সব আমি খানিকটা সম্পাদনা করে তার সুবোধ সংস্করণ নীচে দিয়ে দিলাম।)
    ঃ ছোটবেলা থেকেই মনের মধ্যে পা টিপে টিপে ঢুকে গেছে একধরণের হীনমন্যতা, সংখ্যা লঘু হওয়ার ভয়। পাড়ায়, স্কুলে, ফুটবল মাঠে জানতে পেরেছি আমরা বাঙাল,আমরা উদ্বাস্তু। আমরা এসেছি, তাই কোলকাতা শহর কল্লোলিনী তিলোত্তমা হয়ে উঠতে পারল না।আমাদের জন্য বরাদ্দ শেয়ালদা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আর আমেরিকা থেকে পাঠানো গুঁড়ো দুধ।
    আমাদের নিয়ে ওদের কবি ছাপার অক্ষরে ছড়া লেখে, সেগুলো অনায়াসে শিশুপাঠ্য বইয়ে ছাপা হয়।
    : আমরা ভাল লক্ষ্মীছেলে, তোমরা ভারি বিশ্রী,
    তোমরা খাবে নিমের পাঁচন, আমরা খাবো মিশ্রী।
    ভীড়ের মধ্যে নিজেকে লুকোতে পারিনে। জিভের আড় পুরোপুরি ছাড়েনি, আমার প্রাকূত ভাষা, ধরা পড়ে যাই।দুই বিনুনি করা সুন্দরীরা আমার কথা শুনে হেসে ফেলে; মনের কথা মনেই থেকে যায়।
    বাংলা নাটকে সিনেমায় বাঙাল হল কমিক চরিত্র। সিওর সাকসেস। মুখ খুললেই দর্শকের হাসি।ভানু বন্দোপাধ্যায়েরা কখনই নায়ক হতে পারেন না, মাসিসা মালপোয়া খামু বলাটাই আমাদের নিয়তি।
    ধীরে ধীরে আমি থেকে আমরা হই; তারপর আমরা আর ওরা।
    ভয় সংকোচ সব কখন যেন রাগের চেহারা নিতে থাকে। শেকড় হাতড়ে বেড়াই। মৈমনসিংহ সম্মিলনী, বরিশাল সম্মিলনী করি। ঘেট্টো বানাই। হালতু, বাপুজিনগর, নেতাজিনগর, আজাদগড়, বিজয়গড়, বিদ্যাসাগর; তালিকা বেড়েই চলে। ঢাকুরিয়া ব্রিজের উত্তরপাড় থেকে কোলকাতা, আর দক্ষিণপাড় থেকে ৸নেই কোলকাতা৸, মানে আমাদের রাজত্বি।আমরা দরমা, কাঠের ফ্রেম, টিন আর খাপরা দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকি, হ্যারিকেনের আলোয় লেখাপড়া করি, প্রায় লাংগল চষা মাঠে ফুটবল খেলি, আর অমুকের ব্যাটা হয়ে তমুকের মাইয়ার লগে প্র্যাম করি।
    এরমধ্যে একটা ব্যাপার ঘটে যায়।
    ফুটবল মাঠে মোহনবাগানকে চিরশত্রু আখ্যা দিই। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল হয় যে ওদের হয়ে পায়ের জাদু দেখিয়ে গোল করলেন যে চুনী গোস্বামী তিনি মৈমনসিংহের লোক।পরিশীলিত গলায় রাবীন্দ্রিক উচ্চারণে গান গেয়ে কয়েক দশক মাতিয়ে রাখা জর্জ বিশ্বাস বা আবোলতাবোল ও ফেলুদার সুকুমার সত্যজিৎ ও তাই। ৸সুনন্দর জার্নালের নারাণ গাঙ্গুলি বা নীরার জন্যে অপেক্ষায় থাকা সুনীল গাঙ্গুলি? খুশি হই যে এরাও বাঙাল।আর সুচিত্রা সেন ? অর্ধশতক আগে ঘটিদের লা ফেম ফ্যাতালে? আরে,উনি তো যশোরের রমা সেন!
    কিন্তু এতে কিছু যায় আসে না। একজন আবুল কালাম রাষ্ট্রপতি হলে, বা একজন ইউসুফ ভাই মুম্বাইয়ের শেরিফ হলেই কি মুসলমানদের বর্ডারের ওপারে পাঠাও বলতে মুখে আটকায়?
    আমরা বুঝে গেছি যে মহামানবেরা কারোরই নন; ওঁরা নিজেরাই একটা আলাদা জাত।
    তবু আমরা গর্বে ফুলে উঠি, আইকন বেছে নিই। মানচিত্র ধরে শিলাইদহ কোথায় আবিষ্কার করি, ধানসিঁড়ি নদীর উৎস খুঁজতে থাকি।
    এইভাবেই কেটে যায় স্বাধীনতা পরবর্তী দুটো দশক।সত্তরের দশকে পালটে গেল অনেক কিছু। অনেক খনার বচন মিথ্যে হয়ে গেল। অনেকেই কথা রাখল না।কিন্তু এইপর্বেই ইস্টবেঙ্গল আমাগো চিরশত্রু হালার মোহনবাগানকে পাঁচবার হারিয়ে দিল, একবার তো পাঁচশূণ্য! সেই ধাক্কা ওরা আজও সামলে উঠতে পারেনি।
    প্রথমে ভেবেছিলাম বাংলাদেশ মানে বাঙালদের দেশ। শিগ্গিরই ভুল ভেঙে গেল। টের পেলাম ওপার আর এপারের মাঝখানে অনেকখানি চর জেগে উঠেছে। ওটা আমাদের পাশের বাড়ি, বাপের বাড়ি নয়।ফলে কোলকাতাকে আমরা আরো আঁকড়ে ধরলাম।
    এদিকে গঙ্গা দিয়েও অনেক জল গড়িয়ে গেছে। কোলকাতা গায়েগতরে অনেকখানি ছড়িয়ে গেছে। একদিকে কেষ্টপুর রাজারহাট, অন্যদিকে সোনারপুর নরেন্দ্রপুর। যাদবপুর নাকতলা টালিগঞ্জ এখন আর যাযাবর রিফিউজিদের গজিয়ে ওঠা কলোনি নয়, বরং কোলকাতার নতুন বর্দ্ধিষ্ঞু পাড়া।
    একাত্তর থেকে আসা শরণার্থীর ঢলে কোলকাতার পথেঘাটে বাঙাল কথার অসংকোচ ফুলঝুরি আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগে সহমর্মিতাবশে নিকষঘটিদের বাঙাল শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের চেষ্টায় ধীরে ধীরে বাঙালদের এথনিক ভাষা কৌলিন্য পেল।পূববাংলার পল্লীগীতি এখন ইন থিং।হুসেনশাহি পরগণার লোকগাথা নিয়ে লেখা ৸মাধব মালঞ্চি কইন্যা৸ সুপারহিট নাটক।পূববাংলার কথ্যভাষায় তৈরি সিরিয়াল বা টেলিফিল্ম দেখে কেউ আর আশ্চর্য হয় না।গড়িয়াহাটের মোড়ে হন্ডা সিটি থেকে নামা এক ওষ্ঠরঞ্জিতা, ভ্রুপল্লবঅংকিতা মধ্যবয়সিনী অনায়াসে কোন পরিচিতকে খাস শ্রীহট্টের উপভাষায় ডেকে ওঠেন, : সোমেশ নাহি রে বা?
    অর্থাৎ, আজকে আর ৸সধবার একাদশী৸র বাংগাল ৸বাগ্যদরির বাগ্যদর৸ কে কোলকাতার ঘটি না হতে পারার কষ্টে আত্মবিলাপ করতে হবে না: সাহেববারির বিস্কুট খাইছি,মাগীবারি গেছি, বৌ ব্যইগ্যদরি দিয়া আমার রক্ষিতার পায়ে হাত দিয়া দিদি ডাকাইছি তবু কলকাত্তাই হইতে পারলাম না।
    আজকে রাঢ়বাংলার তিলোত্তমারা অনায়াসে পূববাংলার গলায় বরমালা পরিয়ে দেন।আমরা আর তোমরা কখন মিলেমিশে এক হয়ে গেছে, এখন আমরাই কোলকাতা!
    ঘটির চোখে আমরা ওরা:
    ঃতেলে জলে মিশ খায়না, বাঙাল ঘটি একসঙ্গে থাকতে পারে না।
    ঃ কিন্তু কাকিমা, আজকাল যে বিয়ে হচ্ছে?
    ঃ হ্যাঁ, খোঁজ নিয়ে দ্যাকো, বেশিরভাগের ডিভোর্স হয়ে গ্যাচে। ক্যানো? ক্যালোর ব্যালোর বন্দ কোরে একটু আমার কতা শোন্।
    এদের সম্বন্ধে ভাটপাড়ার বাচষ্পতিমশাই বাঙ্গালজাতির ইতিহাস গ্রন্থে কী লিখেছেন পড়ে শোনাচ্ছি।
    : বাঙাল এক স্বতন্ত্র জাতি। ইহারা মুখ্যত: তিনপ্রকার। বাস্তবাঙাল, ভ্যাদভেদে বাঙাল ও কাষ্ঠবাঙাল।
    (তাই শিলাইদহে ইহাদের পর্য্যবেক্ষণ করিয়া রবিবাবু লিখিয়াছিলেন:
    ত্রম্ব্যকের ত্রিনয়ন ত্রিকাল ত্রিগুণ, শক্তিভেদে ব্যক্রিভেদে দ্বিগুণ বিগুণ।)
    এখন ইহাদের গুণাগুণ সম্যকরূপে অবহিত হউন।
    প্রথম, বাস্তুবাঙাল।
    ইহারা সকলেই নাকি প্রাচীন পূর্বপাকিস্তানে, অধুনা বাংলাদেশে জমিদার ছিল। তাই আজ বাস্তুচ্যুত হইয়া হা বাস্তু! যো বাস্তু! করিয়া গরিলার ন্যায় বুক চাপড়াইয়া কাঁদে। লক্ষ্যণীয়, ইহারা উদ্যোগী পুরুষসিংহ বটে! তাই কলিকাতা মহানগরীর উপান্তে অনায়াসে জমি জবরদখল করিয়া উদ্বাস্তু উপনিবেশ গড়িয়া তুলে এবং অতি অল্পদিনে স্থানীয় রাজনেতার পিএ পদপ্রাপ্ত হয়। ইহারাই বর্তমান ঠিকাদার মাফিয়া জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ।
    দ্বিতীয়, ভ্যাদভেদে বাঙাল।
    ইহারা সর্বদা নিজেদের বাঙাল পরিচয় লুকাইয়া রাখিতে সচেষ্ট, কেবল ঘটিদের সহিত বিবাহাদি সম্পর্কস্থাপনের প্রয়াসে ধরা পড়িয়া যায়। ইহাদের ময়ূরপুচ্ছ দাঁড়কাক বলিলে কম বলা হয়।

    তূতীয়, কাষ্ঠবাঙাল।
    ইহারা তামসিক স্বভাবের, অত্যন্ত কোপন ও দাংগাবাজ।
    একবার এক ঘটি উহাকে দূর ব্যাটা বাঙাল! বলায় সেই কাষ্ঠবাঙাল সাতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়া তাহাকে গলা টিপিয়া হত্যা করে এবং মূতদেহ মাটির পনের ফুট নীচে পুঁতিয়া ফেলে।তাহাতেও ক্রোধ শান্ত না হওয়ায় পনের দিন পরে গর্ত খুঁড়িয়া কংকালের বুকের উপর বসিয়া গলা টিপিয়া বলে: আর কখনো বাঙ্গাল বলিবি?
    বুঝলি, ওরা হল মোচলমানদের কাছাকাছি।ওদের রান্নাবান্নাগুলো দ্যাখ।সব তেলমশলা রসুনপেঁয়াজ দেওয়া মাছের পদ। আমাদের সুক্তনি, আমাদের বাটিচচ্চড়ি, বাটনাচচ্চড়ির ধারেকাছে আসে? আর পোস্তবাটার কথা ছেড়েই দিলাম।
    আমরা একটু খ্রীষ্টানদের কাছাকাছি।দ্যাখ না, কোলকাতার আর্মানি গির্জে, সেন্ট পিটার্স, সেন্ট পলসের মত পূববাংলায় কিছু আছে? আর ব্রাহ্মদের যত উপাসনা মন্দির, বালিকা বিদ্যালয় সব কোলকাতায়।রবি ঠাকুর খ্রীষ্টানদের প্রেয়ারেরও অনুবাদ করেছেন। শুনবি?
    তুমি আমাদের পিতা, তোমায় পিতা বলে যেন জানি,
    তোমায় নত হয়ে যেন মানি,
    তুমি কোর না কোর না রোষ।
    ঃ কিন্তু কাকিমা, রবীন্দ্রনাথ তো বাঙাল জমিদার। পদ্মাপাড়ে নৌকোয় বসে কত ০০০। ওখানে পতিসরে সমবায় ব্যাংক০০০।
    ঃ ছাড় তো!টিঁকতে পারলেন ওদেশে? সেই শিয়ালদহ থেকে শ্যালদা হয়ে আমাদের রাঢ়বাংলার বোলপুরে এসে থিতু হতে হল।
    আর পদ্মাপাড়ে ?শোন, যত অশ্লীল গান সব বাঙালদের দেশে বসে লিকেচেন। শুনবি?
    ঝড়ে যায় উড়ে যায় গো, আমার বুকের কাপড়খানি।
    ঃ কাকিমা! ওটা বুকের নয়, মুখের কাপড়খানি।
    ঃ লেখাপড়া তো কল্লি নে! মুজতবা আলী পড়, প্রথমে বুকের ছিল, পরে আমাদের দেশে এসে বেম্মদের শাসন মেনে মুখের হল।
    আর আমার মুখ খোলাস নি!
    সিনথেসিস: অং বং ডং
    ইতিমধ্যে হৈ হৈ করতে করতে ঘরে ঢুকেছে জনাকয় ওয়াই জেন ছেলেমেয়ে। ওদের মধ্যে রয়েছে মজুমদারকাকুর নাতনি, নন্দীকাকিমার নাতি ও আমার ভাইপো।
    ঃ কী ব্যাপক বূষ্টি হয়েছে , মাক্কালী!
    ঃ তবে কোন চাপ নেই, জল নেমে যাচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি।
    ঃ তোরা ভিজিসনি তো? ছিলি কোথায়?
    ঃ আইনক্সে ভাগ্ মিলখা ভাগ্ দেখতে গেছলাম। সিনেমাটা যা হয়েছে না, ফ্যান্টাবুলাস্!
    আমার মাথায় টিউবলাইট জ্বলে ওঠে।
    ঃ একটা কথা বল তো! এই কোলকাতাটা কাদের?
    ওরা গোলগোল চোখ করে আমার দিকে তাকায়। কাদের আবার? আমাদের।
    ঃ তোরা কী? বাঙাল না ঘটি?
    ঃ এত চাপ নিচ্ছ কেন, ওসব কিচ্ছু না; আমরা হলাম বং।
    এসব অংবংচং আবার কী? সত্যজিত রায়ের ছড়ায় এক ডং এর কথা ছিল যে সবুজচুলো পাপাঙ্গুলের মেয়ের জন্যে কাঁদতে কাঁদতে বঙ্গীবনে সেঁধিয়ে ছিল।এদের কোন রোগে ধরল?
    ঃ তোরা বোধহয় ফেলুদা সিরিজ ইংরিজিতে পড়িস?রবীন্দ্রসংগীতকে টেগোর্স সং বলিস! ঠিক করে বলত বং এর ইউ এস পি কী?
    ঃ আমাদের ইউ এস পি হল বিশ্বায়ন। ইংরেজি হল বিশ্বভাষা। তাই বাঙালীর সংক্ষিপ্ত রূপ হল বং। কেন, বং কানেকশন দেখনি? যেমন, গুজরাতিরা গুজ্জু, মালয়ালিরা মাল্লু, সর্দার হল স্যাড্; ব্যস্, এই হল গল্প।
    এতক্ষণ স্পিকটি নট্ মজুমদারকাকু মুখ খুল্লেন:
    বিশ্বায়ন ঘন্টা ওই বাজে ঢং ঢং,
    গুজ্জু নাচে, মাল্লু নাচে, সঙ্গে নাচে বং।
    নন্দীকাকিমা মুচকি হেসে বল্লেন: আমেন!
    ৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹৹
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৩ | ১১৩ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ranjan roy - Ranjan Roy
আরও পড়ুন
Wong Kaar-Wai - Samit
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • Ranjan Roy | 132.178.210.228 (*) | ০৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৩:১৪46139
  • কৌশিক,
    ধন্যবাদ। আসলে এটা এবারের পূজোসংখ্যা "আউট্লুক"এর জন্যে অর্ডারমাফিক হাল্কা চালের লেখা। ভাবলাম, হারিয়ে যাবে; তাই খেরোর খাতায় ধরে রাখার চেষ্টা।
  • I | 24.99.211.162 (*) | ০৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৫:০১46140
  • যদ্দুর জানি সুচিত্রা সেন পাবনার মেয়ে। উইকিতে চেক করে আর একবার নিশ্চিত হলাম।
  • sm | 122.79.37.5 (*) | ০৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৫:০৮46141
  • লেখা টা খুব ভালো লাগলো। গরম চায়ের সঙ্গে পেআঁজির মত মুচমুচে,স্বাধে ভরপুর,সাধাসিধে,মনকাড়া আড্ডার আমেজ আনা লেখা। আরো দুচার পিস বের হবে নাকি? অপেক্ষায় রইলাম।
    কাঠ বাঙাল (লেখার মত নয়) হয়ে ও ঘটিদের একটু টেনে খেলানোর জন্য ধন্যবাদ।
  • Ranjan Roy | 132.178.210.228 (*) | ০৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৫:৪১46142
  • বড় আই,
    একদম ঠিক।
    এটা চিন্টুবাবুর পিতৃদেব লেখাটা ছাপা হওয়ার আগেই আমাকে জানিয়ে ছিলেন। আমি এটা ও আরও দুটো ভুল ফোনে পত্রিকার লোকজনকে জানিয়ে বলেছিলাম ঠিক করে নিতে। ওরা কথা দিয়েও রাখেনি।(ঃঃঃঃ
  • kaushik | 127.211.91.74 (*) | ০৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৯:৫৫46138
  • আপনার লেখা বরাবরই ভালো লাগে, নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু তাই বোধহয় আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম। তবে ওভারঅল পড়ে বেশ আনন্দ পেলাম।

    ভালো থাকবেন।
  • ranjan roy | 132.167.125.133 (*) | ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৩:৪২46145
  • তির্য্যক ও ব্রতীন,
    আগেই বলেছি--- এটা পূজোসংখ্যা OUTLOOK এর জন্য অর্ডারি লেখা। ১২০০ শব্দ বলেছিল, ১৫০০ হয়েছে। এর বেশি কী করে টানবো?
    আর এতে খানদানি ঘটিদের কন্ট্রিবিউশন আছে।
    বাঙাল জাতির তিন প্রকার নিয়ে পুরাণকথাটি ভবানীপুরের ১০০ বছর পুরনো বনেদি ঘটি পরিবার শ্রীল শ্রীযুক্ত১০৮ সুব্রত মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের ( অর্থাৎ আমাদের আড্ডার গুরু সর্বজনপ্রিয় অতিথি বৎসল কাবলিদা) ও তস্য আবাল্যসুহৃদ আবেশদার কাছ থেকে শোনা।
    এই ঋণস্বীকার না করলে ধম্মে সইবে না।
    এবং এই পাঁচদিনের আড্ডা জমেছিল রামোজি রাও স্টুডিওতে , হায়্দ্রাবাদে। যেখানে ফোকটে থাকা খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল হুগলীর খানদানি ঘটি সুমেরু মুখুজ্জের কল্যাণে।

    আর আমি বাঙাল হইয়াও মোহনবাগানের সমর্থক, চুণী গোস্বামীর খেলা দেখিয়া।ঃ))
    আমি কি তবে ভ্যাদভেদে বাঙাল?
  • | 127.194.84.97 (*) | ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৪:৫৮46146
  • রঞ্জন দা, দিল পে নেহি লেনে কা । ঃ)))
  • তির্যক | 24.139.222.45 (*) | ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৫:৩৯46143
  • বেশ ভালো লেখা। চিরকালীন ঘটি-বাঙাল দ্বন্দ্ব কে বেশ একটা অ্যানালিটিক্যাল রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মনে হয় লেখক 'ঘটি-পুরাণে' কিছুটা দুর্বল, তাই নন্দীকাকিমার বয়ানটা তেমন জোরদার নয়, বরং কিছুটা আরোপিত মনে হচ্ছে !
    আর একটু হোক ! এত তাড়াতাড়ি জল নেমে গেলে চলবে !
  • | 127.194.83.81 (*) | ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ ১২:৫১46144
  • নট ব্যাড। তবে একজন বাঙাল লিখলে যেমন হয় তাই হয়েছে। অর্থাৎ বাঙাল দের "টেনে খেলানো" হয়েছে। একজন গর্বিত জাত ঘটি যেমন ন্যাড়াদা এই লেখা টা লিখলে কেমন হতো সেটা দেখার আশায় রইলাম।
  • ranjan roy | 132.167.125.133 (*) | ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ ১২:৪৫46147
  • আরে নহী ইয়ার!!
  • Pubদা | 202.193.171.150 (*) | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৯:১৭46148
  • দারুন ভালো লাগলো রঞ্জনদা ঃ)
    পূব্বপুরুষের হিসেব অনুযায়ী মোহন সমর্থক নিজেকে বোধহয় ঐ ভ্যাদভেদে আর বাস্তু বাঙালের মাঝামাঝিই ফেলব - তবে বং কখনই হতে পারব না ঃ)
  • debu | 180.213.132.253 (*) | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ ১০:৩৪46149
  • এটাও থাক এখানে কলকাতা ৩০০ (kolkata300.com )
  • সুকি | 212.160.18.63 (*) | ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ ১২:০৭46150
  • আগেই পড়েছিলাম, ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম।
  • ranjan roy | 24.99.228.213 (*) | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৬:১২46151
  • সবাইকে ধন্যবাদ!
  • ওপু | 24.96.118.225 (*) | ০৮ আগস্ট ২০১৪ ০২:৫০46152
  • ভালো লাগলো খুব।
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত