• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • আমাদের সময়ের নায়কেরা- ০১

    Biplob Rahman
    বিভাগ : ব্লগ | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ | ৫৭ বার পঠিত
  • এক

    ‘৯০ এর ছাত্র-গণআন্দোলনের শেষ প্রান্তে চরম দীনতার অনুসঙ্গে খানিকটা ঘটনাচক্রেই ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। এর আগে নির্ঘাত কোনো না কোনো কাগজে বা সাময়িকপত্রে তার চমৎকার সব ছড়া পড়ে থাকবো।…

    সে সময় জেনারেল এরশাদ কবিকূলকে কিনতে শুরু করলে দেশের শীর্ষ কবিরা এর প্রতিবাদে গঠন করেন জাতীয় কবিতা পরিষদ। রাজকবিদের বিরুদ্ধ স্রোতের বাইরে পরিষদ আয়োজন করে ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দুদিন টিএসসির সড়কে ‘জাতীয় কবিতা আন্দোলন’, পরে তা ‘জাতীয় কবিতা উৎসব’এ রূপ নেয়। দুই বাংলার প্রধান কবিরা ছাড়াও সারাদেশ থেকে খ্যাত-অখ্যাত সব ধরণের কবি ও ছড়াকাররা এই মঞ্চে স্বরচিত কবিতা পাঠ ও ছড়া আবৃত্তির সুযোগ পান।

    এমনই মঞ্চে মোহাম্মদ রফিক পাঠ করেন সেই আগুন ঝরানো কবিতা :

    ”সব শালা কবি হবে
    পিপিলিকা গোঁ ধরেছে উড়বেই
    বন থেকে দাঁতাল শুওর
    রাজ আসনে বসবেই।”…

    আমি নিজেও তখন এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ক্ষুদে এক কর্মী। আমারও মাথায় তখন কবিতা ও লিটল ম্যাগের ভূত…ওই বয়সে যা হয় আর কি! …তো সব মিলিয়ে কবিদের আয়োজনটিকে ঘিরে আমারও উৎসাহের কমতি ছিলো না।

    এক সন্ধ্যায় মঞ্চের একপাশে দাঁড়িয়ে কবিতা আবৃত্তি শুনছি। নেত্রকোণার কবি ইয়াছিনুর রহমান (এখন দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি), আমাদের প্রিয় ইয়াছিন ভাই, আমার কাছে এসে বললেন, এই বিপ্লব, ১০০টা টাকা দে তো!

    আমি আমতা আমতা করে বললাম, কি যে বলেন, না-বলেন, আমি এতো টাকা পাবো কোথায়?

    শুনেছি, ইয়াছিন ভাইকে অনেকে আড়ালে ‘পাগলা ইয়াছিন’ বলে ডাকেন। এইবার তার পাগলামী মাথায় চড়ে। শুদ্ধ ভাষা বেমালুম ভুলে গিয়ে তিনি ময়মনসিংহের খাস বাংলায় ক্ষেপে গিয়ে বলেন, তোরা ঢাহার লুকজন এতো গরিব ক্যান? মনে লয়, বেকতিরে ধইরা ধইরা থাপড়াই!

    আমি পকেট ঝেড়ে-ঝুড়ে তাকে ৪০-৪২ টাকা দিয়ে আশ্বস্ত করি। বিনয় করে জানতে চাই, এতো টাকা দিয়ে কী করবেন?

    আর বলিস না, কবিতা পরিষদ নিয়ম করছে, মঞ্চে উঠতে হইলে ১০০ ট্যাহা চাঁন্দা দিতে হইবো। অহন সুকুমার দা’র তো ট্যাহা নাই। হের জন্য ট্যাহা পাই কই? চল আমরা হের লাইগ্যা ট্যাহা জোগাড় করি।…

    আমি রাজি হই, দুজনে মঞ্চের আশে-পাশে, টিএসসির ঝুপড়ি চায়ের দোকন ঘিরে জমে ওঠা ছোট ছোট জটলার ভেতর বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত, সদ্য পরিচিত, এমনকি প্রায় পরিচিত মুখ খুঁজে বেড়াই। এদিকে দ্রুত সময় বয়ে যাচ্ছে। সময় নেই, একদম সময় নেই। ….

    ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়াকে ইয়াসিন ভাই মঞ্চের সামনের দিকে চেয়ারে বসিয়ে রেখেছেন। তার হাতে লেখা সদ্য একটি ছড়া। ইয়াসিন ভাই তাকে অভয় দিয়েছেন, দাদা, আপনি একটু বসুন। আমি এই এক দৌড়ে যাবো আর আসবো; আপনার ফিসটা জমা দিয়ে আসি। যখন-তখন মঞ্চে আপনার নাম ঘোষণা হবে। আপনি ততক্ষণে ছড়াটার আবৃত্তি একটু প্রাকটিস করে নিন–ইত্যাদি।

    ভাগ্যিস সেদিন সময় মতো টাকার জোগাড় হয়েছিলো। ইয়াসিন ভাই সত্যি সত্যি ছুট লাগালেন টিএসসির দোতলার ঘরটিতে, সেখানে ছড়াকারের নামে ১০০ টাকা জমা দিয়ে মানি রিসিট নিয়ে আবার দৌড় মঞ্চের দিকে। তার পিছু পিছু ছুটছি আমিও। আমরা এক টুকরো কাগজে সুকুমার বড়ুয়ার নাম লিখে মানি রিসিটসহ চিরকুটটি ধরিয়ে দেই একজন ভলেন্টিয়ারের হাতে। ওই ভলেন্টিয়ার উপস্থাপকের লিস্টে ছড়াকারের নাম তুলে দেন।

    এরপর আমরা ফিরে আসি মঞ্চের এক কোণে। ইয়াসিন ভাই একশলা স্টার সিগারেট ধরিয়ে আমাকেও একটা সিগারেট দেন। তার উত্তেজনাটুকু ততক্ষণে আমাকেও স্পর্শ করেছে। ফেব্রুয়ারির শীতেও হাইনেক সোয়েটারের ভেতর আমি ঘামতে শুরু করি।

    আর মঞ্চে যখন ঘোষণা হয়, ‘এবার ছড়া পড়বেন, আমাদের সবার প্রিয় ছড়াকার, সুকুমার বড়ুয়া’…তখন ইয়াসিন ভাই সিগারেট ফেলে শিশুর মতো খুশীতে হাততালি দিতে থাকেন। আমার কানের কাছে মুখ নামিয়ে এনে বলেন, অহন একডা বাঘের বাইচ্চা মঞ্চ মাত করবো, বুঝলি?

    আমি বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম–ড্রামের শব্দ শুনি। …

    দুই

    ‘৯০ এর আন্দোলনের পরে কবিতা, লিটল ম্যাগ, ছাত্র রাজনীতি — সব ছেড়ে আমি শুরু করি সখের সাংবাদিকতা। বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকায় রিপোর্টিং। পেশাদার হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা। এক-একেকটি লেখার বিল দেড়শ থেকে দুশ টাকা। আর প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করতে পারলে পকেটে আসবে দেড় থেকে দুহাজার টাকার কড়কড়ে নোট!

    ছাত্র রাজনীতি ছাড়লেও মধুর কেন্টিন, টিএসসি, হাকিম চত্বরের মায়া তখনো ছাড়তে পারিনি। ফাঁক পেলেই চলে যাই সেই সব জায়গায়। হঠাৎ হঠাৎ দু-একজন পরিচিত জন পেয়ে যাই। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আমাদের মনে পড়ে যায়, বসুনিয়া, আরিফ, মুরাদ, ডাক্তার মিলন, দীপালি সাহা, রাজু …আরো কতো সব তাজা প্রাণ চোখের সামনে ঝরে পড়ার ইতিকথা।…

    সে সময় কেউ একজন আমাকে খবর দিয়ে থাকবে, সুকুমার বড়ুয়ার বড়ই দুর্দিন। তিনি নাকি চরম আবাসিক সংকটে পড়েছেন। আমি সিদ্ধান্ত নেই, তার ওপর ‘সাপ্তাহিক খবরের কাগজে’ একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করার। কিন্তু ছড়াকারকে পাই কোথায়?

    লেখক শিবির অফিসে গিয়ে সদ্য ঢাকায় আসা উঠতি ছড়াকার রবীন আহসানকে ধরি। রবীনের মুখে প্রায়ই সুকুমার বড়ুয়ার উচ্ছসিত প্রসংশা শুনতাম। সে সবিস্তারে বর্ণণা করতো, তার কোন ছড়া শুনে সুকুমার দা কী কী মন্তব্য করেছেন– এই সব। ওর কাছেই শুনেছি, রবীনের ছড়ার খাতা দেখে নাকি সুকুমার বড়ুয়া মন্তব্য করেছিলেন :

    “বরিশালের ছড়াকার
    লেখনিতে কড়াধার!”

    রবীন আমাকে জানায়, সুকুমার দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে কাজ করেন। ছাত্র অবস্থায় ওই ইন্সটিটিউটের ক্যান্টিনে ভাত-তরকারির লোভে আমরা প্রায়ই ভীড় করতাম। তাই ইন্সটিটিউটের ছোট্ট চত্বরটি আমার চেনা ছিলো। …

    সেখানে গিয়ে দারোয়ান মামুকে সুকুমার বড়ুয়ার নাম বলতেই তিনি তাকে ডেকে দেন। আমি একটি সচিত্র সাক্ষাৎকারের জন্য সময় প্রার্থণা করলে বিনয়ী ভদ্রলোকটি কাছের শিব বাড়ি মন্দির এলাকায় তার আবাসস্থলে আসার অনুরোধ জানান। সুকুমার বড়ুয়া তখন পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের স্টোর কিপার। …

    পরদিন বিকেলে বাংলা একাডেমীর পাশে শিব বাড়ি মন্দির এলাকায় নানান অপরিসর গলি-ঘুঁপচির ভেতর ব্রিটিশ আমলে তৈরি লাল ইটের নীচু ছাদের কিছু সার সার ঘুপচি ঘর আবিস্কার করি। যেনো রেলওয়ে বস্তিরই একটু ভদ্র সংস্করণ।

    এরই একটি এক কামরার ঘরে সুকুমার বড়ুয়া, তার স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া ছোট দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাস করেন। ঘরের ভেতরে বিকেল বেলাতেও অন্ধকার তাড়াতে জ্বালতে হয় সেডবিহীন একটি ঘোলা বাল্ব। ঘরের অর্ধেকটা জুড়ে একটি প্রামাণ আকৃতির খাট। বাকী অর্ধেক মেঝেতে তেল চিটচিটে ছেঁড়া একটি শীতল পাটি বিছানো।…সর্বত্র দারিদ্রের করাল গ্রাস।

    টিনের থালায় পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে বানানো ঝাল মুড়ি, ছোট এক গ্লাস আদা-চা দিয়ে সুকুমার দা আমাকে আপ্যায়ন করেন।

    আমি তার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার কথা, ঢাকার রাস্তায় রাস্তা স্বামী-স্ত্রীর পাঁপড় ভেজে বিক্রি করে জীবন চালানোর সংগ্রাম, তারপর পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি হিসেবে চাকরি লাভ, পাশাপাশি ছড়া লেখালেখি…ইত্যাদি সব টুকরো কথা দ্রুত নোট নিতে থাকি। …

    সুকুমার দা বলেন, ব্রিটিশ আমালের এই গুদামঘরগুলো এরই মধ্যে পূর্ত অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। যে কোনো সময় এগুলো ধ্বসে পড়ে জগন্নাথ হল ট্রাজেডির মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বার বার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তারা আমাদের কোনো বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়নি। আর আমার যে বেতন! এই বেতনে তো বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে দু-বেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই মুশকিল। তাই অন্য কোথাও তো ঘর ভাড়া নেওয়ার কথা ভাবতেই পারি না! আমরা স্বামী-স্ত্রী, দুই বুড়োবুড়ি মিলে এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মরতে হলে এখানেই ঘর ধ্বসে মরবো। আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই!...

    আমি শেষ বিকেলে আলোয় ছোট্ট অটো ক্যামেরায় সুকুমার বড়ুয়ার কয়েকটি ছবি তুলি। এর মধ্যে একটি ছবি ছিলো, হাতপাখার মতো করে তার সব কয়েকটি ছড়ার বই এক হাতে ধরা। পরে এই ছবিটিই ‘সাপ্তাহিক খবরের কাগজে’ প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে ব্যবহার করি।

    সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরে আসার সময় ভাঙা রেকর্ডের মতো আমার মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে ওই ঘুপচি পড়ো ঘরে বসে তার লেখা সেই বিখ্যাত ছড়া– ‘ঠিক আছে ঠিক আছে’ :

    “অসময়ে মেহমান
    ঘরে ঢুকে বসে যান
    বোঝালাম ঝামেলার
    যতগুলো দিক আছে
    তিনি হেসে বললেন
    ঠিক আছে ঠিক আছে।

    রেশনের পচা চাল
    টলটলে বাসি ডাল
    থালাটাও ভাঙা-চোরা
    বাটিটাও লিক আছে
    খেতে বসে জানালেন
    ঠিক আছে ঠিক আছে।

    মেঘ দেখে মেহমান
    চাইলেন ছাতা খান
    দেখালাম ছাতাটার
    শুধু কটা শিক আছে
    তবু তিনি বললেন
    ঠিক আছে ঠিক আছে।”

    তিন.

    ওই প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কয়েকটি পত্রিকার কপি সুকুমার বড়ুয়ার কর্মস্থলে গিয়ে তার হাতে গুঁজে দিয়ে আসি। আন্তরিকভাবে জানতে চাই, তার বাসা বরাদ্দ বিষয়ক আবেদনের ‘নথিটি উর্দ্ধ দিকে ধাবিত’ হয়েছে কি না? বাচ্চারা কেমন আছে? বউদির খবর কী? জবাবে সুকুমার দা অস্পষ্টভাবে মাথা নাড়েন। হতাশায় তার গলা ধরে আসে। সাপ্তাহিকের এক হাফ-সাংবাদিক হিসেবে আমার নিজেকে বড়ই অসহায় বলে মনে হয়।…

    আরো কিছুদিন পড়ে ওই সাপ্তাহিকের অফিসে সন্ধ্যা বেলায় ঢুঁ মারতে গেলে সম্পাদক আমাকে একটি চিরকুট দেন। সেখানে একটি ফোন নম্বর ও ম্যাসেজ লেখা :

    “জরুরি ভিত্তিতে এই নম্বরে (অনুরোধে) ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়াকে ফোন করতে হবে।” …

    না জানি কি খবর, আমি নানান সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে সেই এনালগ ফোন নম্বরে টেলিফোন ঘোরাই। ওপাশে ফোনটি বার বার বেজে লাইন কেটে যায়। কেউ রিসিভার তোলে না! আন্দাজ করি, এটি হয়তো পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের ফোন নম্বর হবে। সিদ্ধান্ত নেই, পরদিন আবার দিনের বেলা ফোন করবো।…

    পরদিন সকাল ১০-১১ টার দিকে একটি টেলিফোনের দোকান থেকে ওই নম্বরে ফোন করে সুকুমার দাকে ডেকে দিতে অনুরোধ করি। একটু পরে অপর প্রান্তে তার গলা শুনি। নিজের পরিচয় দিতেই সুকুমার দার উত্তেজিত গলা শুনি :

    “ও সাংবাদিক বিপ্লব ভাই! আপনার নিউজে খবর হইছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেইকা কইছে, আমারে এক মাসের মধ্যে বাড়ি বরাদ্দ দিবো। আপনে দোয়া রাইখেন!”

    আমি ফোন রেখে আপন মনে মুচকি হাসি। ওই সাপ্তাহিকের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে, এমনটি ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না। একবার ভাবি, এটি হয়তো নেহাতই একটি কাকতালীয় ঘটনা। আবার ভাবি, নাহ, আমার নিউজে কাজ হলেও হতে পারে। আমাদের সাপ্তাহিকীটির সার্কূলেশন তো খুবই ভালো। …

    এর বেশ কিছুদিন পর কি একটা কাজে নীলক্ষেত ফুটপাথ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। হঠাৎ দেখি, সুকুমার দা। আমি জানতে চাই, দাদা, আপনার বাসার খবর?

    জবাবে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন। তখনই মুখে মুখে ছড়া বানিয়ে বলেন:

    “স্যার, স্যার, স্যার,
    তিরিশ বছর চাকরি করে,
    পেলাম কোয়ার্টার!”

    জানতে পারি, সুকুমার দা তখন নীলক্ষেত এলাকায় গড়ে ওঠা তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারিদের কোয়ার্টারে বাসা বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি তখন ভালোই আছেন।

    চারএরপর আমার কর্ম ব্যস্ততা বাড়ে। একের পর এক সাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক, কাগজ বদল করতে করতে আমার চাকরি পাকা হয়। সাংবাদিক হিসেবে আমি সরকারি বেতন স্কেল পাই। পুরস্কারের পাশাপাশি আমার খানিকটা খ্যাতিও জোটে। আর আমি ক্রমশই নির্লজ্জর মতো ভুলে যেতে থাকি প্রথম যৌবনবেলার নায়কদের কথা।…

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাইলেই কী সব ভোলা যায়? সেদিন গুগুল করে খুঁজে পাই সংবাদপত্রে তার খবর। ছোট্ট একটি খবরে একটানে আমার মনে পড়ে যায় সব, প্রিয় সেই ছড়াকার...স্মৃতি বড়োই নাছোরবান্দা হে!
    ---
    কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেলেন সুকুমার বড়ুয়া
    নিজস্ব প্রতিবেদক

    বাংলা একাডেমী পরিচালিত কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১০ লাভ করেছেন বিশিষ্ট ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া। শিশুসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। বাংলা একাডেমীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কারের তহবিলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছেন কবীর চৌধুরী ও তাঁর পরিবার।
    ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বিনজুরিতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছড়া রচনায় ব্যাপৃত রয়েছেন। বিষয়-বৈচিত্র্য, সরস উপস্থাপনা, ছন্দ ও অন্তমিলের অপূর্ব সমন্বয় তাঁর ছড়াকে করেছে স্বতন্ত্র। প্রাঞ্জল ভাষায় আটপৌরে বিষয়কেও তিনি ছড়ায় ভিন্নমাত্রা দেন। তাঁর প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থের মধ্যে পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন উল্লেখযোগ্য।

    দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২২ অক্টোবর ২০১১।

    বিভাগ: ব্লগাড্ডা, রিপোর্টারের ডায়েরি, মুক্তমনা
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ | ৫৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • I | 24.99.145.112 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৬:৩৮46106
  • বড্ড ভালো লাগল। ঝরঝরে লেখা। আস্ত একটা মানুষের মত মানুষ।
  • aranya | 154.160.5.25 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৬:৪১46107
  • ঠিক আছে, ঠিক আছে-টা দারুণ তো। সুকুমারের বইগুলো পড়ার ইচ্ছে রইল
  • ন্যাড়া | 76.228.162.56 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৬:৫৮46108
  • বিপ্লবের এই লেখাগুলো খুব চমৎকার হচ্ছে। আমরাও কি এরকম মানুষ - গুণী-অগুণী - দেখিনি? কিন্তু জীবন আর জীবিকায় সব হারিয়ে গেছে। চতুর্দিকেই আয়না - শুধুই আমার মতন মানুষ দেখি।
  • Kaushik Ghosh | 126.203.98.61 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৭:০০46109
  • বেশ লাগল বিপ্লব ভাই!
  • Biplob Rahman | 127.18.231.45 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৭:২৫46111
  • আপনারা আগ্রহ নিয়ে পড়ছেন, আমি খুশী। সঙ্গে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ। তবু জানিয়ে রাখি, ব্যক্তি আক্রমণ ছাড়া যে কোনো সমালোচনা মাথা পেতে নেবো। :)

    # শঙ্খ’কে আলাদা করে সাধুবাদ লিংকটির জন্য। রণ দা’র ওই ব্লগ পাতায় এর আগে বেশ কয়েকবার ঢুঁ দিয়েছি, কিন্তু সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াগুলো কি এক আশ্চর্য কায়দায় নজর এড়িয়ে গেছে!

    আর রণ দা আমার ঘনিষ্টজন হলেও কখনোই এই ছড়াগুলোর অস্তিত্ব জানান দেননি! নাকি দিয়েছেন, হয়তো আমিই মিস করে গেছি। ... :(
  • aranya | 154.160.5.25 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৭:৫০46112
  • ন্যাড়ার লেখা দেখে মনে পড়ল - অন্যরকম মানুষ খুঁজতাম বটে এককালে। নকশাল নেতা আজিজুল হক-কে নিয়ে একটা অখাদ্য ছড়া লিখেছিলাম, এখনও মনে আছে, উনি তখন জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, কৃষ্ণনগর-কলকাতা যাওয়া আসা করেন -

    কলকাতা থেকে কৃষ্ণনগর - লোক গিজগিজ লোকাল ট্রেন
    অপিস, কাছারী, হকার, ভিখিরি, মাঠে সেঞ্চুরী কে হাঁকালেন
    সব একই মুখ, জানালার ধারে অন্যরকম একটি লোক
    অসুস্থ দেহ, ক্লান্ত তবুও অম্লান হাসি - আজিজুল হক
  • cb | 99.231.121.124 (*) | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৭:৫৪46113
  • মনটা এত ভালো হয়ে গেল
  • h | 127.194.247.226 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৩:৪৪46115
  • ভালো লাগলো।
  • Sibu | 118.38.17.78 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৩:৪৮46116
  • হানু ওয়ান-লাইনার দিচ্ছে আজকাল! হল কি?
  • sb | 132.169.213.1 (*) | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ ১২:২০46114
  • বিপ্লব রহমান
    লিখে যান,লিখে যান
    ছ্ড়াকার সুকুমার
    সত্যিই ক্ষুরধার
  • Biplob Rahman | 212.164.212.20 (*) | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ ০২:৩৬46117
  • সঙ্গে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। চলুক।
  • দেবজিৎ দে । | 57.15.200.218 (*) | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৫৪46118
  • সুন্দর উপস্থাপন । মুখখানি দেখিতে চাহে মন ।
  • বিপ্লব রহমান | 52.110.142.227 (*) | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:০৬46119
  • প্রতিভা প্রতিভাত হতে বাধ্য ় সুন্দর বর্ণনায় কবিদের বাস্তব জীবনকে তুলে ধরেছেন ় সুকুমার বড়ুয়ার পরিচয় পেয়ে জ্ঞান বাড়ল ় ধন্যবাদ ়
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত