এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • " বাপনে দিয়া হোগা মিউজিক"-২

    শিবাংশু লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ জুলাই ২০১৪ | ২৫৯৬ বার পঠিত
  • একটা ছবি তৈরি হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে, নাম ' ফান্টুস'। বড়ো কত্তা সুর দিয়েছিলেন এই ছবিটিতে। অনেকের মনে থাকবে " ইয়েহ দর্দভরা অফসানা"। তিনি প্রায় একই সময়ে এই ছবিটি আর 'প্যাসা'র সুরও করছিলেন। 'প্যাসা'তে বড়োকত্তার অনুমতি নিয়ে গুরু দত্ত পঞ্চমকে বলেছিলেন হার্মোনিকায় ব্যাকস্কোর তৈরি করতে। পঞ্চমের তখন ষোলো বছর বয়স। তিনি তো রীতিমতো পুলকিত হয়ে প্রত্যেকদিন নানা সুরের প্যাটার্ন তৈরি করছেন। দিনের শেষে সেগুলো বাবাকেও শোনান। ১৯৫৬তে 'ফান্টুস" মুক্তি পায়। তা বড়োকত্তা পুত্রকে নিয়ে ছবিটি দেখতে গেছেন। তখনই পঞ্চম রীতিমতো হতভম্ব ; একটি গান " অ্যায়, মেরি টোপি পলট কে আ" গানটি অবিকল পঞ্চমের সুরে গাইছেন রফিসাহেব। ছবি চলাকালীন তিনি কয়েকবার বাবার মুখের দিকে তাকালেন। কিন্তু পিতা নির্বিকার। বাড়ি ফিরে তিনি পুত্রকে বললেন, "আমি জানি তুমি কী ভাবছো। হ্যাঁ, আমি ঐ গানের সুরটা তোমার থেকে নিয়েছি। এতে তোমার গর্বিত হওয়া উচিত যে আমি তোমার দেওয়া সুর গ্রহণ করেছি। কিন্তু মনে রেখো ঐ সুরটা খুবই হাল্কা ধরণের কম্পোজিশন, তাই খুব বেশি পুলকিত হবার কারণ নেই। যেদিন তোমার করা কোনও সিরিয়স রচনা আমার সুর করা ছবিতে আমি ব্যবহার করবো, তখনই জানবে তুমি নিজের জোরে সঙ্গীত পরিচালক হবার যোগ্যতা অর্জন করেছো। "
    ------------------------
    পিতা শুরুতেই পুত্রকে একটি উপদেশ দিয়েছিলেন। হাতে কোনও কাজ থাক না থাক, প্রতিদিন অন্ততঃ চার-পাঁচটা সুর তৈরি করবে। শুধু তৈরি করা নয় ; নোটেশন ইত্যাদিও তৈরি রাখবে, যাতে দরকার পড়লে সিচুয়েশন বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারও করা যায়। এই উপদেশটি পুত্র সারাজীবন অত্যন্ত নিষ্ঠাসহকারে অনুসরণ করে গেছেন। ফলতঃ পরবর্তীকালে পঞ্চমকে প্রয়োজনমতো উপযুক্ত সুর খুঁজে পেতে অধিক অধ্যবসায় করতে হয়নি। যেমন আমরা দেখি প্রায় একই সময়ে কত্তার 'প্যাসা' ছবিতে পঞ্চম একটা গানে এককভাবে সুর করেছিলেন। জনি ওয়াকারের ঠোঁটে.... তেল মালিশ.. " সর জো তেরা চকরায়ে...' রফি সাহেবের কণ্ঠে। ষোলো বছরের কিশোরের সুর করা গানটি বিনাকা গীতমালায় দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলো। ১৯৬১তে 'ছোটে নবাব' পর্বের পর ১৯৬৩ সালে 'তেরে ঘর কে সামনে' ছবিতে পিতার সহকারী হিসেবে আরো একটি গানের সুর করেন স্বাধীনভাবে। আশাজির কণ্ঠে " দিল কি মঞ্জিল কুছ অ্যায়সি হ্যাঁয় মঞ্জিল"।
    ------------------------------
    বম্বেপর্বের প্রথমদিকে বড়োকত্তা গায়নের সুর নিয়ে যতোটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, অ্যারেঞ্জমেন্ট নিয়ে ততোটা থাকতে পারতেন না। এর একটা কারণ তাঁর প্রাথমিক সুরসন্ধান বা সাধনা ছিলো একান্তভাবেই 'বাঙালি'। সর্বভারতীয় মাঠে বিভিন্ন দেশী তথা আন্তর্জাতিক সুরের ক্রমাগত দেয়ানেয়ার কৌশলটি তখনও তাঁর অধিগত হয়নি। দ্বিতীয়ত, তাঁর প্রধান প্রতিযোগীযুগল, শংকর-জয়কিশন আর লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, পরস্পরের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতেন। বেস মেলোডি ও অ্যারেঞ্জমেন্ট তাঁরা আলাদা আলাদাভাবে করে তার পর মিলিয়ে নিতেন হিসেবমতো। কিন্তু কত্তা ছিলেন একা আর এবং 'রাজপুত্র'। সমান সমান না হলে অন্য কারুর থেকে সাহায্য প্রার্থনা করতেন না। এই জন্য তাঁর মনে কিছু অপূর্ণতার দ্বিধা থেকেই যেতো। প্রথমদিকে কয়েকবার তিনি এই কাজটি করতে গুরু ভীষ্মদেবের থেকে সাহায্য নিয়েছিলেন। কিন্তু ভীষ্মদেবও ক্রমশঃ গুরুত্বপূর্ণ হতে থাকা দুটি বাদ্যযন্ত্র, ট্রাম্পেট ও স্যাক্সের ব্যবহারে খুব স্বচ্ছ্ন্দ হতে পারছিলেন না। যদিও তখন কত্তার অর্কেস্ট্রায় অল্টো স্যাক্সের সর্বকালের জাদুকর মনোহারি সিং ও ট্রাম্পেটে ফারনান্ডেজ মজুত রয়েছেন। তখনও অবশ্য রাজ সোদা-কিশোর সোদা আসেননি। বড়োকত্তা বুঝতে পারছেন বিন্যাস বদলাতে হবে, কিন্তু পথ নিশ্চিত নয়। পঞ্চম কিছু বলার চেষ্টা করেন, কারণ অর্কেস্ট্রার নেতৃত্ব তাঁর হাতে। কিন্তু রীতিমতো বকুনি খেয়ে চুপ করে যান। এটা ১৯৬৩তে বিমল রায়ের 'বন্দিনী' ছবির কালক্রম। একদিন সকালে " অবকে বরস ভেজো ভইয়া কো বাবুল"র রিদম প্যাটার্ন নিয়ে কিছু বলতে গিয়ে বেশ ধমক শুনেছেন। তবু তার পরেও "ও জানেওয়ালে হো সকে তো"র অন্তিম রিওয়াজের সময় ইন্টারল্যুডে মনোহারিজির অল্টো স্যাক্সে পঞ্চম যখন কয়েকটি ছোটো ঝংকার যোগ করলেন, বড়োকত্তা রেগে আগুন হয়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে নিরুদ্দেশ। এদিকে রেকর্ডিং ইঞ্জিনিয়র বিপাকে। তাঁকে সেদিন রেকর্ড করতেই হবে। তিনি ছিলেন বড়োকত্তার অনুগত। পঞ্চমকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে স্যাক্সের ঝংকারগুলি ছাড়াই তিনি রেকর্ডিং 'ওকে' করে ফেললেন। দিনের শেষে রাগ একটু পড়লে কত্তা ফেরেন স্টুডিওতে। তখন তাঁকে ফাইন্যাল টেকটি শোনানো হয়। তা শুনে তো কত্তা একেবারে শিশুর মতো আহ্লাদিত। তবে সেই সময় একটি বিবর্তন নীরবে রূপ নিচ্ছিলো। বড়োকত্তার অর্কেস্ট্রার দুই মূল অ্যারেঞ্জার শিল্পী বাসুদেব চক্রবর্তী ও মনোহারি সিং, কিন্তু অন্তর থেকে অনুরাগী ছিলেন পঞ্চমের সুরবিন্যাসের প্রতি। তাঁরা কোনও রকম উচ্চ বাচ্য না করে বড়োকত্তার গানের অর্কেস্ট্রেশন, প্রিল্যুড, ইন্টারল্যুড, রিদম প্যাটার্ন বা অন্তরা, পঞ্চমের প্রভাব অনুযায়ীই করতে শুরু করে দিলেন। কত্তাও তাতে বেশ নিশ্চিন্ত। যেরকম নতুনত্ব তাঁর চিন্তায় আসছে সেটা প্রায় অবিকল যন্ত্রীরা ধরে ফেলছে। কোনও রকম ভাবে উচ্চকিত না হয়ে রিহ্যার্স্যাল রুমে পঞ্চম নিজের রাজত্ব স্থাপন শুরু করে দিলেন। ঠিক এই রকম সময়েই হলো একটি দুর্বিপাক। বড়োকত্তা হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে একেবারে অবসন্ন হয়ে পড়লেন। দেব সাহেবের দু'টি ছবির সঙ্গীতগ্রহণ তখন অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে। একটি 'তিন দেবিয়াঁ' আর অন্যটি প্রবাদপ্রতিম 'গাইড'।
    -----------------------------------------------
    'গাইডে'র কথায় পরে আসছি। কিন্তু ' তিন দেবিয়াঁ'র কাজ শেষ করার জন্য তাড়া ছিলো। 'গাইডে'র ব্যাপারে দেব আনন্দ জানিয়েছিলেন যতোক্ষণ না কত্তা কর্মক্ষম হ'ন, ততোদিন তিনি অপেক্ষা করবেন। ফলে 'তিন দেবিয়াঁ' শিগগির শেষ করতেই হবে। পঞ্চমের আজীবন, সম্ভবতঃ ঘনিষ্টতম বন্ধু বাদল ভট্টাচার্য বলেছিলেন 'তিন দেবিয়াঁ' র সঙ্গীত পরিচালনা আসলে পঞ্চমই করেছিলেন। এই নিয়ে মনে হয় বেশি গবেষণার অবকাশ নেই। পরবর্তীকালে পঞ্চমের যেসব রচনা আমরা শুনেছি তার ভিত্তিতে অনায়াসেই বলা যায় 'তিন দেবিয়াঁ'র গানগুলিতে পঞ্চমের ছাপ কতোটা প্রকট। এখানে ঐ ছবির তিনটে গান রাখছি, "খ্বাব হো ইয়া কো-ই হকিকত", "ইয়ার মেরা তুম হো গজব" আর " লিখা হ্যাঁয় তেরি আঁখোমেঁ"। সারা ছবিটির ব্যাকস্কোর শুধু নয়, প্রতিটি গানেই জ্যাজ আর সুইঙের কাজ স্পষ্ট পঞ্চমপন্থী। এছাড়া শোনা যায়, পঞ্চমের ট্রেডমার্ক রাগ খমাজে গজল " এয়সে তো না দেখো"; যা শুনে 'হায় হায়' করা ছাড়া আর কোন উচ্চারণ করা যায়না। সুরের চলন থেকে যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয় তবে এই গানগুলিতে পঞ্চম ও তাঁর সহযোগীদের পিতৃত্ব দৃঢ়ভাবে মুদ্রিত আছে।
    -----------------------------
    অসুস্থতা কাটিয়ে বড়োকত্তা যখন আবার স্টুডিওতে ফিরে এলেন, ততোদিনে ফ্লোরে পঞ্চমের আধিপত্য বেশ প্রবলভাবেই প্রতিষ্ঠিত। তাঁর নিজের হাতে কাজ নেই, তাই পিতার সহযোগী হিসেবেই নিজের সৃষ্টিশীলতা উজাড় করে দিচ্ছেন। যদিও একেবারে 'নিজের' মতো করে করা সুরগুলি সঙ্গত কারণেই পিতার শ্রবণ পরিধির বাইরে রাখতেন।

    'গাইড' ছবির সুরযোজনার মান হিন্দি ছায়াছবির জগতে একটি জলবিভাজক বলা যেতে পারে। শুধু কত্তার নবজন্মই নয়, তৎকালীন চিত্রগীতে কত্তার এই অবদানটি মানচিত্র পাল্টে দিলো। শ্রোতাদের জন্য পিতাপুত্রের প্রতিভার এই সম্মিলনটি ছিলো একটি একান্ত আশীর্বাদ। যেমন গারা-রাগিনী নির্ভর " তেরে মেরে সপনে" গানটিতে স্ট্যাকাটো যতি আনা হলো। শুধু তাই নয়, মনোহারিজির অল্টো স্যাক্স নিরবচ্ছিন্ন ভাবে অনুসরণ করলো রফিসাহেবের পেশকারিকে। কত্তার হিন্দি গানের জগতে প্রথম এলো স্যাক্সের এই আধিপত্য। একই লক্ষণের পুনরাবৃত্তি "দিন ঢল জায়ে" তে, যেখানে দ্বিতীয় অন্তরার পর স্যাক্সের একটি তুমুল টুকড়া, যা গানটির চরিত্রটিকেই বদলে দিলো। এছাড়া "গাতা রহে মেরা দিল" তো বস্তুতঃ পঞ্চমেরই কীর্তি। এই গানটির প্রথম ও তৃতীয় ইন্টারল্যুডটিতে রয়েছে টানা স্যাক্সের টুকড়া, 'ডেফিনিটিভ' ( জানিনা, বাংলায় ঠিক কী বলা যায়)। ভাবা যায়, "পিয়া তোসে নয়না লাগে রে" বা " মোসে ছল কিয়ে যায়", কী বিশাল অর্কেস্ট্রার রেঞ্জ। এর আগে কত্তার কোন গানের রেকর্ডিঙে এই মাপের যন্ত্রী আয়োজন দেখা যায়নি। যথারীতি যার নেতৃত্বে একম অদ্বিতীয়ম পঞ্চম, দ্য প্রিন্স।

    'তিসরি মঞ্জিলে' এসে পৌঁছোনের আগে পর্যন্ত এই ছিলো পঞ্চমের সুরের পৃথিবী। বাপ নে বহুত কুছ দিয়া থা উনকো, সির্ফ মিউজিক সে বড়কে, লেকিন উওহ ভি বাপ কা ইজ্জত উতনাহি বড়ায়া।
    -------------------------------------
    " কুছ হটকে করনে কি জরুরত হ্যাঁয়", বড়ো কত্তা এরকমই ভেবেছিলেন পুত্রের সম্বন্ধে। তিনি বুঝতে পারছিলেন পিতার সহকারী হিসেবে খুব বেশিদিন কাজ করলে পঞ্চমের স্বকীয়তা শেষ হয়ে যাবে। তাঁকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। পিতার থেকে আলাদা হয়ে, নিজের পথে এগিয়ে যাওয়ার সবুজ লন্ঠন প্রত্যাশা করছেন তিনি। পিতা সম্মত হলেন।

    একদিন স্টুডিওতে বসে আড্ডা মারার সময় পঞ্চম ও তাঁর দুই বিশ্বস্ত সহযোগী মনোহারিজি এবং কের্সি লর্ড ভাবছিলেন কী করে একটা 'হটকে' অভিঘাত আনা যায়। তাঁর পিতা ও গুরু সারাজীবন লোকসুর নিয়ে কাজ করেছেন। সেই ষোল পিস বেহালা, তার পর বাঁশি এবং তার পর একবার বা দুবার অন্তরার সুর পুনরাবৃত্তি; ব্যস, স্থায়ী শুরু হয়ে গেলো। তিনি ভাবলেন, নাহ, এবার ব্র্যাসকে সামনে আনতে হবে।

    তৈরি হলো গান, " ও হসিনা জুলফোঁওয়ালে"। এই গানটির যন্ত্রানুষঙ্গ ছিলো যথারীতি লাইভ এবং মোট আশি জন যন্ত্রী। তার মধ্যে চল্লিশ জন বিভিন্ন গোত্রের ভায়োলিনে। ক্রমাগত নোট আর বীট বদলে যাচ্ছে। সব নিয়ে সামলাতে হচ্ছে ড্রাম আর ভায়োলিনের পুরো সেট, সঙ্গে ট্র্যাঙ্গল আর ট্রাম্পেট। বোসা-নোভা স্টাইল লীড অ্যাকস্টিক গিটার আর স্যাক্স। সরল মেলোডির একশোজনের অর্কেস্ট্রার উপর এর সিকিভাগ চাপও পড়েনা।
    ভিজ্যুয়ালটিও একেবারে অনন্য। ক্যামেরা ধরছে প্রচুর ক্রেন শট আর সমস্ত নাচিয়েদের পুরো তিনশো ষাট ডিগ্র্রি মিড আর ক্লোজ ফলো আপ। এই গানটির চিত্রগ্রহণও সমান জটিল। পঞ্চমের দেওয়া সুরের ইজ্জত রাখত পেরেছিলো।
    ----------------------------
    কিন্তু পঞ্চমের নিজের প্রিয় ছিলো " আজা আজা ম্যঁয় হুঁ প্যার তেরা "। এর লীড গিটারটি ধরেছিলেন দিলীপ নাইক। অসম্ভব জোরালো হাত। প্রিল্যুডে যে তিনবার চক্রবৎ ঝংকার রয়েছে এই গানে, এখনও তার জুড়ি খুব কমই শোনা যায়। আশাজির সঙ্গে কনসার্টে কোন নতুন গিটারিস্ট বাজাতে চাইলে তিনি তাদের এই এই পিসটি বাজিয়ে শোনাতে বলতেন। কিতনা দম হ্যাঁয়, ইসি মেঁ পতা চল জায়গা। শুধু কি গিটার ? মাথা খারাপ করা রিদম, ঘোর লাগা চ্যান্টিং, আআজাআজাআ...স্ট্যাকাটো ভাইব্রাফোন, পিকোলো আর স্যাক্স। অরিজিন্যাল 'এ দিল মাঙে মোর' গান, দম ফুরিয়ে যায়, গান ফুরায় না। " আজা আজা 'অন্তরা শেষ হচ্ছে কোমল নিষাদে, যার সঙ্গে লোকে তুলনা করে সলিলের " আ জা রে পরদেশী'র 'আজা রে'কে। কিন্তু পঞ্চমের 'আজা' ছিলো শ্বাসরোধী দ্রুত তালে বাঁধা এবং সরলরৈখিক মেলোডির থেকে বহুদূর প্রায় ক্যাকোফোনি ছোঁয়া। তবু নিঃসন্দেহে, অ্যাডভান্টেজ পঞ্চম !

    পঞ্চম চিন্তিত ছিলেন রফিসাহেব কীভাবে গানটির মুকাবলা করবেন। কিন্তু বেশ কিছুবার মহলা দিয়ে রফিসাহেব মন্ত্রটি ধরে ফেলেন। আশাজিকে ঠিক সুর লাগাবার কৌশল জানতে দিদি লতার শরণ নিতে হয়েছিলো। তিনবার টেক হয়েছিলো গানটি। শাম্মি কাপুর, যাঁর সঙ্গীতের কান তাঁর বড়োভাইয়ের মতো-ই নিপুণ, বলেছিলেন, " দিস সং উইল গো টু বিকাম আ ট্রেন্ডসেটার"।
    --------------------------------
    এ ছাড়া আরো দু'টি গান, বিশেষতঃ " তুমনে মুঝে দেখা" আর "দিওয়ানা মুঝসা নহি", এখনও মানুষ খুব মন দিয়ে শোনে। এতো গেলো গানের কথা। একটি সাসপেন্স ছবির ব্যাকস্কোর সম্ভবতঃ গানের থেকেও অতিরিক্ত মনোসংযোগ দাবি করে। কারণ সঠিক শব্দ যোজনা থেকেই দৃশ্যের চমকগুলি পরিস্ফুট হয়। এ কাজেও পঞ্চম একশোয় একশো। বহুদিন পরে কের্সি লর্ড ২০০৯ সালে বলেছিলেন, পঞ্চম ও তাঁর সহযোগীরা 'তিসরি মঞ্জিলে' যে পর্যায়ের কাজ করেছিলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। প্রসঙ্গতঃ, লর্ড পরিবারের তিনজনই, কাওয়াস (কাকা)কের্সি এবং বর্জোর, এই ছবির সঙ্গীতের সঙ্গে ওতোপ্রোত জড়িত ছিলেন।
    --------------------------
    'তিসরি মঞ্জিল' ছবির সঙ্গীত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পঞ্চমকে এক ধাক্কায় শীর্ষস্থানে শংকর-জয়কিশন আর ও পি নইয়ারের স্তরে তুলে দিলো। তবে পঞ্চমের সঙ্গীতজীবনে অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী প্রভাব এনে দিয়েছিলো যে ঘটনাক্রমটি, তা হলো বাসুদেব চক্রবর্তী ও মনোহারি সিংএর সঙ্গে তাঁর অতুলনীয় আজীবন বোঝাপড়া। এই দুজনের সঙ্গে ছিলেন আরো একজন, মারুতি রাও কীর। এই ত্রিমূর্তিকে বাদ দিয়ে আমরা পঞ্চমকে ভাবতে পারিনা।

    গীতিকার গুলশন বাওরার স্মৃতিচারণে পড়েছিলুম পঞ্চম প্রসঙ্গে সেই সময়ের বম্বে চিত্রজগতে সঙ্গীতের অন্যতম মুকুটহীন সম্রাট জয়কিশনের মূল্যায়ণ। সময়টা ছিলো 'তিসরি মঞ্জিলে'র অল্প আগে-পরে। একদিন তিনি জয়কিশনজির সঙ্গে কোথাও আড্ডা দিচ্ছিলেন। কথাবার্তার ক্রমে তিনি জয়'জির কাছে জানতে চাইলেন সেই সময়ের কোন সঙ্গীতকারকে তিনি তাঁদের প্রতিযোগী মনে করেন ? যে নামগুলি গুলশনজি বললেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন, কল্যাণজি-আনন্দজি, লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, রবিসাহেব, আরো কয়েকজন। জয়'জি বলেছিলেন, নাহ, এরা কেউ নয়। কারণ, এরা সবাই আমাদেরই স্টাইল ধরে চলে। কিন্তু, একটা ছেলে, শচীনদার পুত্র, নাম রাহুল, সেই শুধু ভবিষ্যতে শংকর-জয়কিশনের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। গুলশনজি তখনও পঞ্চমের সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না। তাই জানতে চাইলেন কেন জয়'জি এরকম ধারণা করলেন। উত্তর এলো, এই ছেলেটা সুর আর শব্দ নিয়ে এতো রুচিশীল, অনন্য, তুলনাহীন কাজ করছে যে আগামীদিনে নিজের অধিকারের বলেই ও ট্রেন্ডসেটার হবে। বাকি সবাই ওর স্টাইল অনুসরণ করা ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না।
    ----------------------------------
    বহুদিন পরে, 'অমর প্রেম' তৈরি হবার পরে, একদিন মীরা দেববর্মণ স্বামীকে বললেন, তোমার এতো আশঙ্কা ছিলো, পঞ্চম বড়ো বিদেশি ধাঁচে সুর করে, যেটা কোনওদিনই তোমার পছন্দ হয়নি। 'অমর প্রেমে'র গান শুনে কী বলবে? কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বড়ো কত্তা বললেন, " তাতে হইসেডা কী ? অর বাপডা কে, সেইডা মনে আসে তোমার"। সঙ্গীতের মহীরূহ কখনও পঞ্চম সম্বন্ধে তাঁর মনোভাব এতো স্নেহসিক্তভাবে কারুর কাছে আগে প্রকাশ করেননি।
    ------------------------------------------

    'বহারোঁ কে সপনে' থেকে 'অমর প্রেম', পঞ্চমের আরেক পর্বের যাত্রা। কখনও সময় হলে তাই নিয়ে আড্ডা দেবো। আপাততঃ এতো দূরই থাক।

    আলোচনায় উঠে আসা কয়েকটি গানের লিং এখানে রইলো। 'তিসরি মঞ্জিলে'র অন্য গানগুলির লিং আগের পর্বে দিয়েছি, তাই এখানে আর দিলুম না।

    শব্বা খ্যয়ের.....

    অ্যায় মেরে টোপি পলট কে আঃ


    লিখা হ্যাঁয় তেরেঃ


    আরে ইয়ার মেরাঃ


    খ্বাব হো ইয়া কো-ই হকিকতঃ


    এয়সে তো না দেখোঃ


    গাতা রহে মেরা দিলঃ


    তেরে মেরে সপনে অবঃ


    দিন ঢল জায়েঃ


    তুম নে মুঝে দেখাঃ


    দিওয়ানা মুঝসা নহিঃ

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ জুলাই ২০১৪ | ২৫৯৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • PM | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ০৬:৪৭74596
  • উত্তম সিং এর এই ক্লিপ-টা দেখার সময় শিবাংশুদার এই লেখাটার কথা মনে পড়লো।

    উত্তম সিং এউ মিউসিসিয়ান হিসেবে হাতে খড়ি বড় কত্তার কাছে, ওনার সাথে ৫ বছর কাজ করেছেন। পরে আর ডির সাথেও বহু কাজ করেছেন প্রধান ভাইওলিনিস্ট হিসেবে। পরবর্ত্তী কালে সুরকার হিসেবেও কাজ করেছেন উত্তম (দিল তো পাগল হ্যায়, গদর এক প্রেমকথা ইত্যাদি)।

    যেহেতু উনি দুজনের সাথেই অনেকদিন কাজ করেছেন ওনার বক্তব্য প্রানিধানযোগ্য-

  • PM | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ০৬:৪৮74597
  • lcm | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ০৮:১৫74598
  • উত্তম সিং-এর বক্তব্য একদম ঠিক।

    তো, এই ডকু ফিল্ম-টায়


    ১০ঃ০২ থেকে ১১ঃ১৮ শিবকুমার শর্মা বলেছেন, আর ঠিক তার পরেই আশা ভোঁসলে-র গপ্পো আছে, শেষে আবার শিবকুমার
  • PM | ১৬ অক্টোবর ২০১৭ ০৬:৫২74599
  • শিবাংশু বাবু যদিও এই লেখায় বলেননি তবু বহু লোক-ই নানা জায়গায় বলে থাকেন "রূপ তেরা মস্তানা" গানটা আদতে নাকি ছোটো কত্তার সৃষ্টি, কারন বড়কত্তার আগের সৃষ্টির সাথে রুপ তেরার কম্পোসিসনের কোনো মিল নেই। আমিও ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম, লর্ড এর এই ক্লিপটা দেখার আগে পর্য্যন্ত। এই ভদ্রলোকও দুজনের সাথেই কাজ করেছেন-- উনি আর মনোহারী বাবু দুজনেই বলছেন রূপ তেরার কম্পোসিসনে বা অ্যারেন্জমেন্ট এ পন্চমের কোনো হাত ছিলো না--



    "বাপনে দিয়া হোগা মিউজিক" এইটা খুব ই অর্থহীন ছিলো, কিন্তু তার পরিবর্ত্তে "বেটেনে দিয়া হোগা মিউজিক" এই বক্তব্যটা দাঁড় করানোর চেষ্টা টা ও ঠিক নয়।

    চরম দুঃসময়ে, প্রায় তলিয়ে যাওয়া সময়ে পরলোকগত বড় কত্তার সুরের সাহচর্য্যে ছোটোকত্তার পুনর্জন্ম হয়েছিলো কিভাবে সেটা বিধু বিনোদের এই ছোট্টো ক্লিপটা দেখলে বোঝা যাবে-



    আরেকটা জিনিষ ও দ্রষ্টব্য। শেষ পর্য্যন্ত বড় কত্তার অতি প্রাকৃত সুর ( রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে --আদতে যা কোনো পল্লীগীতি) ই ছোটো কত্তাকে পুনর্জন্ম দিলো-- কোনো অত্যাধুনিক রিদম বা অ্যারেন্জমেন্ট নয় যা নাকি ছোটোকত্তার ট্রেডমার্ক আর প্রকৃত অর্থেই যা ইন্ডাস্ট্রিতে বিপ্লব এনে দিয়েছিলো এককালে। কিন্তু এই অনবদ্য স্কিল তাঁকে বাঁচাতে পারে নি যখন ১৯৮৫ র সাগর ছবিতে এর শেষ সফল সুরারোপের পর থেকে ১৯৯৪ ( 1942 এর আগে ) পর্য্যন্ত ওনার কোনো সুর মানুষের মনে ধরে নি, ঐ সময়ের চুড়ান্ত গড়পরতা মধ্যমানের সুরকারদের মধ্যেও। বিধুবিনোদের ক্লিপটা দেখলে মনে হবে ঐ রিদম আর অ্যারেন্জমেন্ট এর চক্করে পড়েই ছোটোকত্তা রুট থেকে সরে গেছিলেন ক্রমশঃ--- উপলক্ষ্যের পেছনে দৌড়তে গিয়ে লক্ষ্য টাই ভুলে গেছিলেন ---আবার মুলে ফিরলেন বাবার আর সুরের হাত ধরে 1942-Love Story তে -- নিজের অসামান্য প্রতিভাকে পুনরাবিষ্কার করলেন। যেসে ফেরা নয়-- যাকে বলে দুন্দুভী বাজিয়ে ফেরা ঃ) আরো কিছু বছর বাঁচলে হিন্দি ছবির সুরের দুনিয়াটা হয়্তো অনেক অন্যরকম হতো।

    SD সেই অর্থে কোনো বিপ্লব আনেননি কোনো দিন, কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত্য (মিলি) কখনো সুরের ভাড়ারে কম পড়ে নি বরং সুরের দুনিয়ায় রাজত্ব আর পুজা দুই-ই করে গেছেন-- রাজকীয়তার সাথে - একনিষ্ঠতার সাথে।
  • lcm | ১৬ অক্টোবর ২০১৭ ০৮:৫৬74600
  • রূপ তেরা মস্তানা নয় - আরডি-র সুর ছিল, কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা।
  • গবু | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০২:৪৫74603
  • আবার একটা দারুন ভালোলাগা লেখা।

    ইয়ে, আগের পার্টের লিংকটা দিয়ে শুরু করলে ভালো হতো বোধ হয়।
  • PM | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০৬:০১74604
  • পিয়াসার "সর জো তেরা চকরায়ে" আর আরাধনার "রূপ তেরা মস্তানা" এই দুটো গান নিয়ে পরবর্ত্তী কালের বিতর্ক নিয়ে লর্ড অন্য আরেকটি সাক্ষাতকারেও বলেছেন .... সাথে জোরের সাথে বলেছেন দুটোর কোনোটাতেই RD র ভুমিকা ছিলো না। পিয়াসার কম্পোসিসনের সময় RD যে ধারে কাছে ছিলেন না ( তখন শুধু ছুটি তে মুম্বাই আসতেন) এটাও কনফার্ম করেছেন।

    মনোহারী বাবু আরাধনা নিয়ে সাক্ষাতকারে কি বলেছেন দেখা যাক-

    "লোকে যে বলে আরাধনার কিছু গানে RD সুর দিয়েছিলেন ( রূপ তেরা সমেত) আর অমর প্রেমের সুর দিয়েছিলেন SD, তা মোটেই ঠিক নয়। তবে হ্যাঁ মুল সুর হবার পরে গয়্না পড়ানোর কাজে/ ঘষা মাজার কা্জে অনেকেই কনট্রিবিউট করেছেন কোর টীমের--- তার মধ্যে এমন কি কিশোর কুমার নিজেও আছেন। কিন্তু মুল কম্পোজিসন যে যার গানের নিজেই করেছেন শুধু অমর প্রেমে SD র নিজের গলায় যে গানটা আছে সেটা উনি নিজেই কম্পোজ করেছিলেন"

  • PM | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০৮:৪৯74601
  • এল্সিএম -- আমি রূপ তেরা নিয়েও কিন্তু এটা শুনেছি। যদি লর্ড এর ইন্টার্ভিউ টা শোনেন তাহলে দেখবেন--উনিও এই রিউমারটা শুনেছেন---উনি মনোহারি বাবুর সাথে ওটা রিকন্ফার্ম ও করেছেন সন্দেহ নিরসনের জন্য।

    আচ্ছা এবার আরাধনার অন্য গান নিয়েও শোনা যাক---

    অমরুত রাও বড় কত্তা আর ছোটো কত্তার সাথে কাজ করেছেন তবলায় গাইডের সময় থেকে। উনি কি বলছেন দেখা যাক। ইন্টার ভিউয়ার কিভাবে প্রোভোক করছে দেখুন ওনাকে নানা ভাবে, আরাধনার গানে আসলে কে সুর দিয়েছেন সেটা জানার জন্য--

    প্রশ্নঃ আরধনার সব গানে আপনি ছিলেন?
    রাওঃ হ্যাঁ
    প্রশ্নঃ দাদা নিজে আরধনার সব গান কম্পোস করেছিলেন ?
    রাওঃ হ্যাঁ, উনি সুর করতেন আমি ঠেকা দিতাম একা। সুর হবার পরে
    মিউসিক দেবার সময় আমি, মনোয়ারি, বাসু, মারুত রাও, পন্চমদা সকলে মিলে বসতাম, দাদার সামনে মিউসিক (অ্যারেন্জামেন্ট) কম্পোস হতো দাদা ওকে করলে মিউসিক ফাইনাল হতো।
    প্রশ্নঃ আরাধনার গানেও এই রকম হয়েছিলো?
    রাওঃ হ্যাঁ
    প্রশ্নঃ আরাধনার গানের সময় দাদার শরীর ঠিক ছিলো?
    রাওঃ হ্যাঁ,
    প্রশ্নঃ শরীর পুরো ঠিক ছিলো?
    রাওঃ হ্যাঁ, ফার্স্ট ক্লাস ছিলো
    প্রশ্নঃ সব গানে দাদার শরীর ঠিক ছিলো?
    রাওঃ হ্যাঁ,



    এই সিরিজটার ই ২য় খন্ডে আবার ওনাকে প্রশ্ন করা হয় আরাধনার সব গানে দাদার সুর কিনা-- আবার উনি কনফার্ম করেন।



    এইবার বলুন, কোরা কাগজ আসলে রাহুলের সুরারোপিতো এর ভিত্তি কি ? সুরের চলন দেখে হওয়া দৃঢ় বিশ্বাস? নাকি আরধনার সময় কত্তার শরীর খারাপ ছিলো তাই ছেলে সুর করে দিয়েছিলেন এই রিউমার। এই মনে হওয়া/রিউমারটাকি সুর করার সময়ে যিনি তালে ঠেকা দিতেন, যিনি সুরটাকে তৈরী হতে দেখেছেন তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞ্তার থেকে বেশী ভরসাযোগ্য?
  • de | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ১০:৩৮74602
  • অপূর্ব লেখা - আগেরটার মতোই সুরেলা -
  • PM | ০৩ আগস্ট ২০১৮ ০২:১৮74606
  • আরাধনার সুর আর্ডি দিয়েছিলেন --- শিবাংশুবাবু, কল্লোলদা আর বাকি সকলে মন থেকে একেবারে মুছে ফেলুন প্লিস। মোতি লালওয়ানি অসামান্য কাজ করেছেন এই নিয়ে। ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে এই লিন্ক টা এখানে রাখলাম যাতে ভবিষ্যতে এই নিয়ে এখানে আর কেউ কোনো কনফিউসন না রাখেন।



    এখানে অন্যদের সাথে পরিচালক শক্তি সামন্তের ইন্টারভিউ আছে। শাক্তি বাবুর কথা থেকে কয়েকটা ইন্টারেস্টিং তথ্য উঠে আসছে--

    ১। SD সম্পুর্ন সুস্থ্য ছিলেন---আর উনি ই সুর দিয়েছিলেন সব গানের

    ২। কিশোর কুমারের সিলেকসনেও আরডির কোনো ভুমিকা ছিলো না। রফি সাহেব লন্ডনে অনেকদিনের জন্য চলে যাওয়ায় একান্তই ঘটনাচক্রে কিশোর কুমারকে নেন বড় কত্তা শক্তিবাবুর উপোরোধে
  • কল্লোল | ০৩ আগস্ট ২০১৮ ০৩:০৩74607
  • শক্তি সামন্ত প্রথম কথাটাই ঠিক বলেন নি। ওনার পছন্দের সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর জয়কিষন। ওঁরা হয় সময় দিতে পারেন নি, অথবা খুব বেশী টাকা চেয়েছিলেন। তাই শচীনকত্তা।
    একটা অফিসিয়াল ইন্টারভ্যুতে শক্তি সামন্ত বা অন্য কেউ কি করে এ কথা বলবেন, যে আরাধনার দুটো গান রাহুলের করা।
    সপনো কি রানী আর রুপ তেরা মস্তানা শচীনকত্তার সঙ্গীত ঘরানার গানই নয়। অন্য গানগুলো অবশ্যই শচীনকত্তার।
    রাহুল তো বাবার সহকারী হিসাবে কাজ করতেন। তিন দেবিয়াঁর প্রত্যকটা গান রাহুলের। গান শুনলেই বোঝা যায়। তখন শচীনকত্তা অসুস্থ ছিলেন।
  • PM | ০৩ আগস্ট ২০১৮ ০৩:১৬74608
  • বাপ এর সুর থেকে বেটার অনুপ্রানিত হাওয়া কিন্তু তার পরে নিজের মতো করে অনন্য প্রেসেন্টেসন করার আর একটা উদাহরন থাক---

    ১৯৫১ সালে কোম্পোস করা বড় কত্তার " ঠান্ডি হাওয়ায়ে" সুর ভেঙ্গে তৈরী হলো অনবদ্য " সাগর কিনারে"



  • কল্লোল | ০৩ আগস্ট ২০১৮ ০৫:১৪74609
  • এই গানটার আরও গল্প আছে - শোনো


    এ তো হতেই থাকে।

    চার্লির লাইমলাইটের থিম মিউজিক।
    এর 1.25 থেকে শোনো।

    এবার রাহুলের বোম্বে টু গোয়া


    এবার এটার অনুপ্রেরণায় এক অনন্য সৃষ্টি - সলিল চৌধুরী।
  • কল্লোল | ০৪ আগস্ট ২০১৮ ০৪:১৩74610
  • এটা হঠাৎ পেয়ে গেলাম।
    শচিনকত্তা

    raahul
    <
  • কল্লোল | ০৪ আগস্ট ২০১৮ ০৪:৪৬74611
  • হয়তো ততো প্রাসঙ্গিক নয়, তবু আজ রবীন্দ্র জৈনকে শ্রদ্ধা জানাতে - ওঁর প্রথম সিনেমার গান, একেবারে শচিনকত্তার ঘরানায়
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন