কাবলিদাকে নিয়ে লেখা খুব শক্ত। স্মৃতি-টিতি সব জড়িয়ে যায়। ভবানীপুরের বাড়িটার কথা মনে পড়ে। একতলায় দরজা। যেটায় বেল দিলে কাবলিদা নাকি উপর থেকে দড়ি টেনে দরজা খুলে দিত। নাকি বললাম, কারণ আমাকে কখনও দেয়নি। আমি যেতাম মূলত হুল্লোড়ের দিনে। যাবার আগে সবসময়েই সেখানে অন্য কেউ হাজির হত। দরজা খোলাই থাকত। গুরুর ভাট হত সিঁড়ি দিয়ে উঠে দোতলায়। সেখানে নানা ধাপে নানা ঘর। কাবলিদার বাড়ি বললেই, মাঝখানে বসার জায়গাটা মনে পড়ে, যেখানে সবাই দল পাকিয়ে বসত। আর মনে পড়ে গান। এমন একটাও ভাট হয়নি ওই বাড়িতে, যেখানে একটাও গান গাইনি। একটা তো অতি অল্প বললাম, অন্তত দশটার কমে থেমেছি বলে মনে ... ...
টুকরো ১। কাজের বাড়ির বাইরে পা দিয়ে শ্যামা এক সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হয়ে যায়। বন্দির দশা কাটলে যেমন হয়। ও জানে বৌদিরা ঠিক কী চায়। তাই কাজের বাড়িতে প্রবেশের আগে শ্যামা গায়ে আঁচল দিয়ে নেয়। সেই সঙ্গে খুলে রাখে পায়জোড়। ছমছম শব্দ করে বাড়ির মধ্যে চলাফেরা করা কোনো বৌদিই পছন্দ করে না। এবং পায়জোড়ের সঙ্গে সঙ্গে ও খুলে রাখে ওর যাবতীয় ছমকছল্লোপন, ছয়ল ছবিলি চলন, ভ্রূভঙ্গিমা, নখরাবাজি। বাসন মাজতে মাজতে ছেলের স্কুলের কথা বলে। ছেলের মাস্টারের কথা বলে। সবজি ধুতে ধুতে শাশুড়ির পিন্ডি চটকায়। ঘর মুছতে মুছতে পাশের বাড়ির বৌদি বা কাকিমার কিপটেমি বা বেহুদা হরকত আলোচিত হয়। ও ... ...
ইন্দ্রাণীর গল্পে পোষা কুকুরের নাম কালীচরণ। ঠিক পোষা না, পোষ্যপ্রতিম। পড়ে আমার অলম্বুশের কথা মনে পড়ল। অলম্বুশ আমার খরগোশ ছিল। কদিন আগে মারা গেছে। কবে ঠিক জানিনা। শীত পড়ে গেছে, পিছনের বাগানে কে আর যায়। বাড়িতে কেউ ছিলওনা, একদিন দরজা খুলে দেখি, অলম্বুশ পাশ করে শুয়ে আছে। ঘুমিয়ে না। মৃত্যুর একটা ভঙ্গী আছে, যা দেখলেই বোঝা যায়, ঘুম নয়, নিয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা, সেইভাবে। কবে থেকে কে জানে। সেদিনও হতে পারে, আগেরদিনও, বা এক সপ্তাহ। ঠান্ডায় শরীর পচেনা এখানে।অলম্বুশ অবশ্য পোষা না। এমনকি প্রিয় কেউও না। বরং জ্বালিয়েছে প্রচুর। পিছনের বাগানে গরমকালে সব্জি-টব্জি ফলানো হত। টমেটো, কুমড়ো, আর কী-কীসব। আমি ঠিক ... ...
স্ট্যান স্বামী ঠিক কে, আমাদের আর মনে নেই। বিশেষ কেউ না, এই মোদী জমানায় বহু লোকই তো বন্দী ছিলেন আছেন ও থাকবেন, তাঁদের মধ্যে একজন। ভীমা-কোরেগাঁও নামক এক ভীষণ দেশবিরোধী-সন্ত্রাসবাদী-মাওবাদী, আরও কীকী যেন ষড়যন্ত্রে আরও অনেকের সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরও অনেকের মতো স্ট্যান স্বামীর কম্পিউটারেও পাওয়া যায় মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ। পারকিনসন রোগে আক্রান্ত স্ট্যান স্বামী হাত কেপে যেত বলে জল খেতে পারতেন না। তাই জেলখানায় তিনি স্ট্র চেয়ে ছিলেন। কিন্তু তাঁকে স্ট্র দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবং আদালতে বিচারপতি আইন মেনে স্ট্র দেওয়া যায় কিনা তা বোঝার জন্য দিনের পর দিন মামলা পিছিয়ে দিতে ... ...
শ্রী অরিজিৎ সিং এর গাওয়া রামপ্রসাদী শুনলাম। এমনিতে কিছু বলার নেই, সুরেলা গলা, নড়েচড়েও খুবই ভাল, কিন্তু গান শুনে এবং দেখে মনে হল, রামপ্রসাদী নয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্থেম হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা গেল, প্রথমেই সবুজ ধান্যক্ষেত্র, যেখানে চাষবাস হয়েছে। তারপর আলপথ দিয়ে হেঁটে এলেন নায়ক ও নায়িকা, যেমন সূর্যমুখী ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে একদা আসতেন শারুক্ষান। তবে পিছনে লারেলাপ্পা নয়, বাজছে সংস্কৃতিমনস্ক কৃষিকাজ-সম্পর্কিত গান, "মন রে কৃষিকাজ জানোনা"। অর্থাৎ, ক্ষেত সবুজ হলে কী হবে, অশিক্ষার ফলে চাষবাস কিন্তু মোটেও ভালো হচ্ছেনা। এই না-জানায় নায়ক-নায়িকা খুশিও একেবারেই না। বরং ব্যর্থ মাস্টারের মতোই খুবই তিতিবিরক্ত। চাষবাসের নামে হচ্ছে টা কী? সঙ্গে আছে আফশোষ, একটু ... ...
লাতিন আমেরিকান রূপকথার জন্ম এক বাঙালির হাতে। সে অনেক কাল আগের কথা। তখন বাঙালিরা তারকা হত, আর আর্জেন্তিনিয়ানরা হত ভক্ত। এরকম একজন বাঙালি তারকার নাম ছিল রবীন্দ্রনাথ, আর তাঁর এক বিখ্যাত আর্জেন্তিনিয় মরশুমী ভক্তের নাম ছিল ভিক্তোরিয়া ওকাম্পো। তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত জয়ধ্বনি দিয়েও কিছুতেই রবীন্দ্রনাথের মন পাননা। একদিন রেগেমেগে কথাটা বলেই ফেললেন। তখন বুয়েনস আইরেস থেকে জাহাজে করে তাঁরা রিও এসেছেন। রিওর এক পার্কে সেদিন রবীন্দ্রনাথ আর এক বাঙালির সঙ্গে বসে, সামনে একটি শিশু খেলা করছে। শিশুটি একটি বল ছুঁড়ল, সোজা ওকাম্পোর গায়ে। যেন বলের উপরেই রাগ, ওকাম্পো দুম করে তাতে এক লাথি কষিয়ে, রবীন্দ্রনাথকে সোজাসুজি বললেন, "নাথ, এক ... ...
কলকাতা চলচ্চিত্রোৎসবের উদ্বোধন দেখলাম। উৎসবের চেয়ারাধিকারী রাজ চক্কোত্তি এক নিঃশ্বাসে বললেন রেট্রোস্পেকটিভে এবার মহান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের 'দিওয়ার' এবং 'কালা পাথর' সহ চারটি ছবি, এবং মহান পরিচালক জাঁ লুক গোদারের চারটি ছবি দেখানো হবে। প্রথমে ভাবছিলাম, মুড়ি-মুড়কি-কোহিনুরের একই দর, এইরকম উত্তরাধুনিকতার চর্চা হচ্ছে, কিন্তু পরে বোঝা গেল, তা নয়, আসলে এটি একটি বলিউডি বিচিত্রানুষ্ঠান, যার দুটি কাজ, এক শাহরুক খান এবং অমিতাভ বচ্চনকে উচ্চে তুলে ধরা, এবং দুই, শাহরুকের নতুন সিনেমার প্রচারে সাহায্য করা। প্রথম থেকে শেষ অবধি এই দুই বলিউডি নায়কের জয়ধ্বনি শোনা গেল। সঞ্চালিকা ও সঞ্চালক, সারাক্ষণ এই দুজনের কথা বলে গেলেন। একবার বাদশা, একবার পাঠান। একবার বাংলার ... ...
ভারতবর্ষের চালু দন্ডবিধি কিংবা এমনি আইন-টাইনও যদি খুঁটিয়ে পড়েন, তো দেখবেন, তাতে নানা জটিল ধারা-উপধারা সাপের ফনার মতো মাথা উঁচিয়ে আছে। এই সিডিশন আইনই ধরুন। রাজদ্রোহী কে? মন শক্ত করে বসুন। যে বা যারা, উচ্চারিত শব্দ কিংবা লেখায়, কিংবা কোনো চিহ্ন দিয়ে, কিংবা অন্য কোনোভাবে ভারতের আইনসঙ্গত সরকারের প্রতি ঘৃণা কিংবা অবজ্ঞা দেখায়, কিংবা দেখানোর চেষ্টা করে, কিংবা মমতার অভাব (disaffection) দেখায়, কিংবা দেখানোর চেষ্টা করে, সব্বাই রাজদ্রোহী। এই আইনটা পড়ে আপনি কী বুঝবেন? ১। এটা মোটেই গণতান্ত্রিক নয়। ২। এতে নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা, অধিকার ইত্যাদি দেবার পরিবর্তে, রাষ্ট্রকে সেই অধিকার দেয়, যাতে সে স্রেফ যাকে-খুশি জেলে বন্দী করতে পারে। নাগরিকত্ব আইনেও ... ...
শারুকের নতুন রিলিজ হওয়া গান নিয়ে হেবি হইচই দেখে, হুজুগে বাঙালি, আমিও শুনতে গেলাম। গিয়ে দেখি প্রথমেই চমক। সূর্যকরোজ্জ্বল এক সমুদ্র সৈকতে সবাই ধাঁইধপাধাপ হেবি নাচছে। সঙ্গে স্প্যানিশ গান। "এন এস্তা নোচে লা ভেদা এস কমপ্লেতা"। অর্থাৎ কিনা, "এই রাতে জীবন হল সম্পূর্ণ"। সেটা ওঁরা গাইছেন ফটফটে দিনের আলোয়। ভাবুন একবার, মালা সিনহা ভরদুপুরে ছাদে উঠে সূর্যের দিকে তাকিয়ে গাইছেন, "নিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশে"। কিংবা তাপস পাল, রোদে পুড়ে ঘামতে ঘামতে গান ধরেছেন, "আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে"। লোকে ধুইয়ে দিত একদম। কিন্তু এ হল বলিউডের সর্বশ্রী শারুক। তায় স্প্যানিশ। পুকুর চুরি, দিনকে রাত, সব চলবে।আর এই স্প্যানিশের ... ...
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বড় ম্যাচের প্রাক্কালে অনভিপ্রেত এক বিতর্কে আক্রান্ত আর্জেন্তিনা শিবির। সমস্যা গুরুতর, আর্জেন্তিনা দেশটার নাম যে ঠিক কী, সেটাই জানা যাচ্ছেনা। আমরা সবাই জানি, যে, স্প্যানিশ-ভাষীরা হাসি পেলেও হাহা করে হাসেনা, "JA JA" করে হাসে, কারণ, J এর উচ্চারণ হ। একই ভাবে আমরা এও জানি তারা কাশি পেলে খক-খক করে কাশেনা, গাঁক-গাঁক করে কাশে। কারণ, ওদের G এর উচ্চারণ ওই 'খ' ধরণের। তো সেই হিসেবে দেশটার নাম হওয়া উচিত আর্খেন্তিনা। কিন্তু এই নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। প্রচুর বাঙালি আর্জেন্তিনিয়ান থাকলেও তাঁরা কেউই কখনও বুয়েনাস আইরেস যাননি, স্প্যানিশ ভাষার মূর্ধন্যও দেখেননি, তাঁদের পক্ষে কিছু বলা সম্ভব না। একমাত্র ... ...