কলকাতার প্রাচীন পুজোগুলোর মধ্যে যেসব পুজো তাদের ইতিহাসে ও ঐতিহ্যে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম শোভাবাজার এর রাজা নবকৃষ্ণ দেবের পুজো। যদিও শোভাবাজার নাম নিয়ে পণ্ডিত মহলে অনেক বিতর্ক আছে, এক দল মনে করেন পূর্বে এই স্থানের নাম ছিল পাবনার বাজার - পরবর্তীকালে রাজবাড়ীর দুর্গোৎসব বা অন্যান্য কারণে আনন্দ উৎসবে এই অঞ্চলের জাকজমক বা শোভা বৃদ্ধির কারনে ক্রমে লোকমুখে এই অঞ্চলের নাম হয় শোভাবাজার। অন্য মতে এই অঞ্চলের কলিকাতার বিশিষ্ট বণিক শোভারাম বসাকের বাগানবাড়ি ছিল যার থেকে নাম হয় শোভাবাজার। ... ...
ধরুন নিদিষ্ট এক একটা সাধারণ একক আমাদেরএক ও অভিন্ন সেই চিরন্তন অবিনাশীচাঁদ যার শুক্লপক্ষ আর কৃষ্ণপক্ষপূর্ণতা আর ক্ষয়ের দুটা দিকই আছে -এর সাথে আপনার শহর বা নাগরিক জীবন,নটিপাড়া, চায়ের দোকান আর সেইআপনার দিনের শেষ সিগারেট শলাকাদৈনিক পত্রিকা সমেত ছোট শহরের দিকেছোটা রাতের গাড়ি এবং আপনার মোবাইল ফোনসেগুলো আপনার সময় ও মনোযোগ কতটুকুনস্যাৎ করেছে জানি না, তবুও এসব নৈমিত্তিকতায়আমি একদিন আমার পেয়িং গেস্টটি তারপুং সঙ্গীটির অপ্রত্যাশিত আগমনে উপস্থিত বুদ্ধি জোরেভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দ্রুত কথা ঘুরিয়ে সেল ফোনেরঅপর প্রান্তটিকে পরে কথা বলবার প্রতিশ্রুতিদিয়ে লাইনটা কেটে দিলেন, আমাকে খেয়াল করবারঅবকাশ স্ত্রী লোকটির ছিল না যদিও দম্পতিরটিরসঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক থেকেও ভালো সে দিকেখেয়াল রেখেই ... ...
জামিল খুব মনোযোগ দিয়ে অফিসের কাজ করছে, বৃহস্পতিবার যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করা যায়, উইকেন্ড বলে কথা। আজ বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তনুজাকে নিয়ে এলাকার জনপ্রিয় কফিশপে গিয়ে একটা ভালো সময় কাটাবে।এর মধ্যে জামিলের মোবাইলে কল আসে, পরিচিত ছোটভাই বুলু ফোন করেছে, জামিল ফোন রিসিভ করে।
অপার সৌন্দর্য কিংবা অসম্ভব কিছু যেমন মানুষকে এক্কেবারে বোবা করে দেয় - বাকশক্তিরহিত, তেমনই খানিকটা বোবা হয়ে আছি 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' শেষ করে। বইটি এর আগেও পড়েছিলাম। কৈশোরে। কিন্তু এবারে কিছুদিনের অখণ্ড অবসরে বইটি পড়ে ভুলে গিয়েছি পূর্ব-পঠনের স্মৃতি। এবারে এটি আঘাত করেছে হৃদয়ের আরো গভীরতম, সুদূরতম, নিভৃততম অলিন্দে। বইটির পটভূমিকা বাঁশবাঁদি গ্রাম যাকে প্রায় হাঁসুলীর রুপ নিয়ে ঘিরে রেখেছে কোপাই নদী। সে গ্রামের কয়েক ঘর কাহারদের জীবন ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই মহাকাব্যিক উপন্যাস। তাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বিরহ, ভয়-উল্লাস আর ভাঙা-গড়া নিয়েই। ... ...
জানি তো ফিরবেনাকুলে তো ভিড়বেনাভেঙেছে মাস্তুল, ডুবেছে শিপ। তবুও সন্ধ্যায়বন্ধ জানালায়হঠাৎ ছায়া, বুক কী ঢিপঢিপ। এখনও পড়ে মনেরামনবমী দিনেতোমার জামা আর সিঁদুরে টিপ। তোমার বাণী যত কীভাবে অবিরতছড়িয়ে দিত ওই দুইটি লিপ। সত্যি ফিরবেনা?শিকে কি ছিঁড়বেনা?কখনও কোনোদিন, আর দিলীপ? পু: জীবনানন্দের পরে এমন মরমী কবিতা আর হয়নি। কেউ যদি বুঝতে না পারেন, তো মানেবইএর অংশ হিসেবে বলে দিলাম। ... ...
Give me back my childhood, yes .. my childhood আমি খুব সাধারণ মাপের লোক, আজকের চলতি ভাষায়, একদম ‘আম আদমি’। আলাদা করে সেরকম কিছু বলার মতন রং বে রঙ্গের ঘটনা নেই। তবে, অনেকের মতন আমার ছোটোবেলা বেশ আনন্দে কেটে গিয়েছিল, সেই কথাটাই একটু, সাহস করে আজ বলব। বড় হয়ে আনন্দেই আছি, তবে অতটা, না, সত্যি কথা বলতে বাধা কোথায়। অনেকদিন ছোটোবেলার শিশুটাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলাম, তাকে ইচ্ছে মতন খেলতে দি নি, ছুটোছুটি করতে দি নি, কেন যানি এতদিন বড় সেজে বসে ছিলাম। ... ...
১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৮.. কলকাতা আজ বিশ্বকর্মা পূজোভোর চারটেয় ঘুম ভেঙ্গে গেছেজানালের দিকে চেয়ে বসে আছি..কখন ভোরের আলো ফুটবে. হাতে বেশী সময় নেই. স্কুল খোলা..আটটার মধ্যে বেরোতে হবে..তার আগে চান খাওয়া. যত তারাতাড়ি সম্ভব ছাদে গিয়ে আকাশে ঘুড়িটা ওড়াতে হবেসারা বছর পয়সা জমাই আজকের দিনটার জন্য.কাল বিকেলে কিনলাম ১০টা মাঝারি ঘুরি.. ৫টা বড় ঘুরি আর মাঞ্জা সুতর লাটাই..নিজে মাঞ্জা দিলে ভাল হত যেমন খোকন..বাবলুরা দিল..কিন্তু অত সময় কোথায়.আমাদের লেক প্লেসের বাড়ির ছাদটা বেশ বড়. সাত আট জন একসাথে ঘুড়ি ওড়াতে পারে. আসলে এটা আমাদের ছাদ বলাটা ঠিক হবেনা. এটা সবার ছাদ..যে কেউ যখন খুসি আস্তে যেতে পারে. আজ কমকরে দশ জন ... ...
না, বাঘ ভাল্লুক স্ত্রীর এক্কেবারে পছন্দ না। সাফারি বাদ। ওরা শহর দেখতে আরম্ভ করলো। নিউইয়র্ক স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, সেন্ট্রাল পার্ক, নাইট ক্লাব, সিঙ্গাপুর, লা ভেগাস, লন্ডন প্যারিস সিডনি মেলবোর্ন আরো কত কি।
নেড়াদা এমনিতে বেশ চালাক চতুর লোক। পাড়ায় সবাই বেশ সমীহ করে। পল্টু জগার কথা তো বলার নেই। নেড়াদা বললে ওরা চাঁদও নিয়ে এনে হাজির করবে এমন। অফিসেও নেড়াদা লিডার গোছের। কেবল বাড়িতেই এখনো সেভাবে নেড়াদার প্রভাব গড়ে ওঠে নি। সে কথা থাক। তবে নেড়াদা বরাবর এমন চালাক চতুর ছিল না। ... ...
গত বছর লিখেছিলাম চাষাদের নিয়ে। অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের চাষা রা নয়। পশ্চিমবঙ্গে কৃষকরা হয় খুব রাজনীতি বোঝে, না হয় রাজনীতি চাষাদের খুব বোঝায়।বিশ্বাস করুন কৃষকদের নিয়ে লেখার ইচ্ছে একদম নেই। এই শ্রেণীর মানুষরা খুব স্বার্থপর বুঝলেন। শুধু নিজের কথা ভাবে। শুনুন ..এরা নেশা করে না। মদ খেয়ে বাওয়াল করে আন্দোলন করে না। চক্রবর্তীদের মেয়ে বা রাজপুতদের ছেলে নিয়ে এদের মাথাব্যথা নেই। এরা তৈমুর এর হাগুর গন্ধ জানতে চায় না কিম্বা কাশ্মীরের RDX নিয়ে মাথা ঘামায় না। দুধ থেকে সোনা বেরোনো নিয়ে এদের মাথাব্যথা নেই। হাইড্রক্সি ক্লোরোমুনন্ন আর জামাতি নিয়ে এরা নিস্পৃহ। এমনকি মন্দির মসজিদ কোথায় হবে সেটা নিয়েও রক্ত গরম করে ... ...
অরণ্য ভয় পেতেও পারে, বাঘেরা নির্ভয়তবুও সেই কান্তার মাঝে ললিতের আশ্রয়!কাল রাত্রে এসেছিলো বাঘ, নিমন্ত্রণে নয়গুহার মুখে নিশ্চিত তার প্রামান্য হৃদয়!বিদ্যুৎ চমকে যেন জ্যোৎস্না; চুপিসারে -দেখা দিলো হলুদ আগুন, গুহার অন্দরে!ঈশ্বরের বসত বাড়ি যেন সে পারিজাতবিন্দু বিন্দু করে আগুন ঝরেছে সারারাত!দখিন রায় গুহার মাঝে রাস্তা তৈরি করেসন্তর্পনে আস্থার সাথে গহীন অন্ধকারে -অলীক স্বপ্ন সঙ্গে যায়; নিস্তেজ হয়ে ফেরা -যেই না চাক ভেঙ্গে পড়ে, উষ্ণ মধুর ধারা!মিথস্ক্রিয়ার বহ্নি প্লাবনে কন্দর ভেসে যায়হনন নাকি আত্মহনন অন্তিম সে চূড়ায়!এখানে সৃষ্টি নিত্য করে সুতীব্র চিৎকার,এই দিব্য আশ্রয়েতেই লীলা বারংবার!! ... ...
এবার নাকি রুনু গুহনিয়োগির 'সাদা আমি কালো আমি' অবলম্বনে হিন্দিতে রাজনৈতিক ওয়েবসিরিজ। চারু মজুমদার চরিত্রে নওয়াজ সিদ্দিকি। জ্যোতি বসু চরিত্রে, পরেশ রাওয়াল কিংবা বোমান ইরানি। একটা বাংলা ভারসানও নাকি হবে। নির্ঘাত ডাব-টাব। সত্যি-মিথ্যে জানিনা, ডিজিটাল আনন্দবাজারে পড়লাম। প্রথম রিঅ্যাকশনে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু হিন্দি সিনেমার উপর রাগ করে আত্মহত্যা করতে হলে অনেক আগেই করা উচিত ছিল। তা যখন করিনি, এবারও ক্ষান্ত দিলাম। পরের চিন্তাই মাথায় এল, এবার একখানা ফিলিম বানিয়ে ফেলি। কত আর খারাপ হবে। খারাপ হলেই বা কী। যত খিস্তি, তত ভিউ। একদম ইংরিজিতে বানাব। ভারতের ইংলিস মিডিয়াম বিপ্লবী থেকে আমেরিকান আঁতেল, সব্বাই দেখবে। ... ...
"সূচনায় সাবর্ণ পরিবার" বাংলায় ইংরেজ পদার্পণের সাথেই শুরু হয় বর্তমান কলকাতার নগরায়ন, ভেসে আসে সাবর্ণ রায়চৌধুরীর নাম যার থেকে কলিকাতা সুতানুটি ও গোবিন্দপুর তিনটি গ্রাম ইজারা নিয়ে কলিকাতা নগরের পত্তন করেন জোব চার্ণক। যদিও কোলকাতায় জোব চার্ণক এর পদার্পণের অনেক আগেই কলকাতার দুর্গাপুজোর সূত্রপাত এই রায়চৌধুীরি পরিবারের হাত ধরে। সময়টা আজ থেকে প্রায় ৪৩০ বছর আগে, বাংলার রাজনীতিতে তখন বারো ভু্ঁইয়ার রাজত্ব। কলিকাতা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল তখন ছিল যশোর অধীনস্ত বারো ভুঁইয়ার অন্যতম রাজা বসন্ত রায়ের অধীনে। ... ...
কি চাওয়া যায় / প্রেমের কাছে / ভালোলাগার ভালবাসার / একলা কোন অবসরে
তোমাকে প্রথম যেদিন আমি দেখেছিলাম, সেদিন তুমি মাক্স পড়ে ছিলে। আর সময়ই বা কতক্ষণ ছিল, খুব হলেও দশ থেকে পনেরো সেকেন্ড। তোমরা আসলে আর চলে গেলে। আমি তোমার নামে কিছু কথা আগেই শুনেছিলাম, তাই একটু হলেও কৌতুহল ছিল তোমাকে দেখার জন্য। যখন তোমরা ঘরে ঢুকলে ব্যাগপত্র রাখার জন্য, তখন আমি একবার শুধু তোমার দিকে তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিই এই ভেবে যে, কেও যেন দেখে না ফেলে। কিন্তু, আজ যতটুকু তোমার সাথে কথা বলে তোমায় জানতে পারলাম, তাতে তোমার প্রতি আমার আগ্রহ বাড়তে থাকে। আমি যখন জেঠিমার সাথে কথা বলতে বলতে তোমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি, দেখি তোমার কোনো ইচ্ছাই ... ...