এই সেই বাড়ি, যেখানে ডায়পার পরে রবীন্দ্রনাথ হামাগুড়ি দিয়ে বেড়িয়েছেন চত্বর থেকে চত্বরে। হাঁটু ছড়ে গেছে, ট্রাইসেপ টনটন করেছে, বেবি ফ্যাট ঝরে গেছে। কিন্তু কালো বলে কেউ তাঁকে কোলে তোলেনি। বড় হয়ে ক্ষোভে, দুঃখে, অভিমানে রবীন্দ্রনাথ বাড়ি ছেড়েছিলেন। খালি পায়ে হেঁটে চলে গিয়েছিলেন শিয়ালদহে, কাটিয়েছেন উদ্বাস্তু জীবন। তখন জায়গাটাকে শিলাইদহ বলা হত। বাংলার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথই প্রথম উদ্বাস্তু। এক নম্বর প্লাটফর্মে বসে মনের সমস্ত ক্ষোভ উজাড় করে রবীন্দ্রনাথ লেখেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস গোরা। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, যে, ফরসা হলেই ছহী হিন্দু হওয়া যায়না। যতই পুজো কর, আচারবিচারের ভড়ং কর, শেষমেশ জানতে পারবে তুমি বিধর্মী। এখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় আরেক কালোপুরুষের ... ...
ঠিক কবে থেকে গান শুনতে শুরু করি খেয়াল নেই। যতদূর মনে পড়ছে সালটা হবে ১৯৮৩/৮৪। তখন ছোটকাকা বেলুড়ের বাড়িতে থেকে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে পড়ে। কাকার ছিল খুব গান শোনার নেশা। সকাল ছটায় চয়ন। ৬ঃ৩০ এ বর্ণালী। আমার তখন কতই বা বয়েস - ১০/১১। তখন থেকে আস্তে আস্তে পরিচিত হতে শুরু করলাম আমাদের এই সব অসাধারণ শিল্পীদের সাথে। তখন অবশ্য আমার পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ওনার ওমন ব্যারিটোন ভয়েসের জাদুতে আমি মুগ্ধ। কাকা কিন্তু মান্না দে-র ভক্ত। আমাদের খুনসুটি লেগেই থাকতো। কাকা বলতো ধর এই গানের আসরটা যদি একটা বিয়ে বাড়ির নেমতন্ন এর পদ সমুহের মতো হয়ঃ- তাহলে ... ...
সব মরণ নয় সমান। আফগানিস্তান নিয়ে দুনিয়া চিড়বিড়িয়ে অস্থির, ওদিকে শিশিরের শব্দের মতো চুপচাপ এসব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতেই থাকে সৌদি টৌদিতে। ২০১৬ তেই সেখানে শুভ নববর্ষের সূচনা হয়েছিল একসঙ্গে জনা পঞ্চাশ লোকের গণজবাই দিয়ে। এদের মধ্যে জনা চারেককে মারা হয়েছিল গুলি করে, বাকিদের স্রেফ মুন্ডু কেটে খাল্লাস। খতমের লিস্টিতে এক দিকে যেমন রয়েছেন 'সন্ত্রাসবাদী'রা, অন্যদিকে আছেন জনপ্রিয় শিয়া নেতা আল-নিমর, যিনি আর কিছু না, স্রেফ সংখ্যালঘু শিয়াদের সমানাধিকার চেয়েছিলেন। না, তালিবানদের কাণ্ড না, রীতিমত সৌদি আদালতের নির্দেশেই এই মুন্ডু কাটার কারবার।আঁতকে ওঠার কিছু নেই, ও দেশে ক্ষতিকর লোকেদের ধরে প্রকাশ্যে মুন্ডু কেটে নেওয়াই দস্তুর। এই পবিত্র কাজের জন্য দেশের রাজধানীতে রয়েছে ... ...
কুড়ি কুড়ি বছরের পরে - ফের যদি দেখা পাই, কাবুল-কান্দাহারে
বিশ্বজুড়ে আজকাল যখন তখন কেউ না কেউ বক্তব্য রাখছেন। কাজের হোক, অকাজের হোক। কি আসে যায়! বড়, মেজ, সেজ, ন, ফুল, ছোট, আরোও ছোট, এমনকি কুট্টি সাইজের নেতারা তো বক্তব্য রাখেনই। চিরকাল তাই হয়ে আসছে। আজকাল মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সকলেই মানে রাম, শ্যাম, যদু, মধু, আমার আপনার মতো সকলেই যারপরনাই সামাজিক হয়ে উঠেছেন। সকালে বড়দা বললেন তো তাঁর কথাকে সমর্থন বা প্রতিবাদ করে মধুবাবু বা বিবি একটা আধটা ফ্যাঁস বা ফোঁস করলেন। ব্যস্ হয়ে গেল। ফুলদিদি লাফালাফি করে মিডিয়ার পালে জোরালো হাওয়া ঠেলে দিলেন। ব্যস, মিডিয়াকে দেখে কে তখন? রমরমিয়ে বাড়ছে TRP। সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম ওদিকে। ... ...
ঝাল মুড়ি আপনারা সবাই খেয়েছেন। পার্কে, রাস্তায়, চিড়িয়াখানা, খেলার মাঠে সকলেই বোধহয় ঝাল মুড়ি খেয়ে থাকবেন। বিকেলবেলার জলখাবারে সুন্দর করে মাখানো এক বাটি ঝালমুড়ি অনেকেরই জিভে জল এনে দেয়। ঝালমুড়ির কথা মনে হলে, মনে পরে যায় স্কুল ও কলেজ জীবনের কথা। স্কুল ও কলেজ জীবনে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে ঝালমুড়ি খাওয়ার মজাই আলাদা। ... ...
জানলা খোলা ছিল, দেবযানী চা খেতে বসেছিল, কিছু পুরানো স্মৃতি মনের কোনে উঁকি দিচ্ছিল। অমলের জন্যও চা এনেছিল। জানলা দিয়ে ভিজে হাওয়া উড়ে আসছিল।
সকাল ৮:৩০ এ ক্লাস শুরু হয়েছে খিলখিলের। নিজের ৯টা থেকে অফিস। যদিও বাস ধরার তাড়া নেই। তাও রেডি তো হতে হবে। প্রায় দেওয়ালের সাথে মিশে গিয়ে অরিন্দম টাওয়ালটা জড়িয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে কোনোমতে সুরুৎ করে ছোট ঘরটায় ঢুকে গেল। ডাইনিং টেবিলে খিলখিলের স্কুল চলছে, চশমা আঁটা তরুনী দিদিমণি সিভিক সেন্স পড়াচ্ছেন। ... ...
In a heady evening of taking sides, when the hapless news junkie in me had to be laid to rest, I am rooting for Atique Rahimi, as against Khaled Hosseini, knowing fully well it is stupid to compare novelists practically exiled from their country for last four tumultuous decades. There is hope in Hosseini, which I cannot handle in literature on a good day. It is probably the over exposure to the reader's digest model all around in 70s and 80s. It is mostly meaningless in our times finally, years after Baudelaire and should I say Charles Wilson.Rahimi uses Dostoyevsky's ... ...
'তালিবান তাড়াইতে বাঙালী কি করিতে পারে' - এই আলোচনাও হোক। শেষ পাতে রবীন্দ্রসঙ্গীত।
বাংলা কবিতায় ঘুরে ফিরে এসেছে উদ্বাস্তু বাঙ্গালী জীবনের হাহাকার।
শিকড়ের সন্ধানে / চলেছি ছিন্নমূল / তিতাসের তীর ছেড়ে / আম-জাম-হিজলের হাত ছেড়ে
স্বাধীনতা দিবস বলে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে, এ সব কথা নৈমিত্তিক জীবনে এখন অর্থহীন। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় এই দিনটির অর্থ ছিল। বাবা সকাল সকাল ঘুম থেকে তুলে স্নান করিয়ে ভাল জামা পরিয়ে স্কুলে পাঠাতেন। ভাল মনে আছে, অন্য দিন ছেঁড়া হাই চপ্পল পরলেও এই একটা দিন কালো বুট পরে স্কুলে যেতাম। তার আগে বাবা সন্দুর করে পালিশ করে রাখতেন জুতো জোড়াখানা। একবার স্বাধীনতা দিবসের দু’দিন আগে স্কুলের বড়দিভাই ডেকে বললেন, ‘শোন তোকে একটি কবিতা পাঠ করতে হবে। যা মেয়েদের স্কুলে গিয়ে ক্লাস ফাইভের বাংলা বইটা নিয়ে আয়।’ পড়তাম প্রাইমারি স্কুলে। আর মেয়েদের হাইস্কুলে যেতে হবে শুনে বুকটা ধড়াস ... ...
মেঘালয় পর্যটনে গেছিলাম। সেখানে রাজা আলীর সঙ্গে পরিচয় হল। এক ঝাঁক অবিন্যস্ত চুল, নীল শার্ট পাজামা পরিধানে। যেন নদীর জলের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পরেছে। দেখে ২০-২২ বছরের লাগে।রাজা আলী বাংলাদেশী, ডাউকি নদীর কূলে কুলের আচার বেচে।ডাউকি নদী ভারতে মেঘালয় রাজ্যের শিলং মালভূমির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে নদীটি উৎপন্ন হয়েছ। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং দিয়ে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। নান্দনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ডাউকি নদী ও এর আশপাশের এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি লীলাভূমি। নদীর জল খুব স্বচ্ছ। একটা নদীর জল ঠিক কতটা স্বচ্ছ হতে পারে? ... ...
১. শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোস্তাক আহমেদকে নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে। বঙ্গবন্ধুর পিতা যেদিন মারা যান সেদিন মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর পিতার কবরে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, এখন আমার কি হবে? বিব্রত মুজিব মোস্তাককে স্বান্তনা দিয়ে বলেছিলেন, শান্ত হও মোস্তাক। পিতা-মাতা আজীবন কারো বেঁচে থাকে না। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠবন্ধু ছিলেন খন্দকার মোস্তাক। হত্যার মাত্র একদিন পূর্বেই বাড়ি বয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হাঁসের মাংস খাইয়ে এসেছিলেন মোস্তাক। খন্দকার মোস্তাকের প্রতি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস এতটাই অটল ছিল যে সন্তানদের বলেছিলেন, আমার যদি কখনো কিছু হয়ে যায়, তোমরা মোশতাক কাকার কাছে চলে যেও। ২.স্বাধীনতার পর কলকাতা থেকে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ঢাকায় এসেছিলেন শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা ... ...
দুশো-সাত ফুট বাঁশ / পেছনে লাগিয়ে উড়ছে / স্বাধীনতা / দেশের / আনাচে কানাচে
বহুদিন আগে, আনন্দবাজার পত্রিকার উত্তর সম্পাদকীয় বিভাগে কবীর সুমন একটি সিনেমায় পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে গানটির শুরুতে একটি হু লা লা ব্যবহার নিয়ে লিখেছিলেন, একজন সঙ্গীত পরিচালকের উদ্দেশে - হাওয়া টা পাগল, আপনি বা আমি পাগল নই। এবং আরো অনেক কিছু। আমি নিশ্চই একা নই। অনেকেই ভাবছেন, কেনো এরম ভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন অঞ্জনবাবু। উনি তো অঞ্জন চৌধুরী নন। OTT র সুবিধা হলো যে সবাই দেখবে। আজ না হয় কাল দেখবে। পছন্দ না হলেও ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে দেখবে। লোকের সাথে কথা বলতে গিয়ে মুখেন মারিতং জগৎ করতে গেলেও দেখবে। চানাচুরের মত। সকাল বিকেল এক গরস করে না হলে চলে না। তাই যদি ... ...