নিখিল ব্যানার্জী বললেন, ' কাবেরী বোস ... কিন্তু ... ' সাগর বলল, ' ঠিক বোঝাতে পারব না স্যার। কিন্তু আমার মনে হয় ও পারবে ... জান দিয়ে চেষ্টা করবে ... সেটা ঠিক কি কারণে বলতে পারছি না ... ' ----- ' হুমম্ ... দেখা যাক, বলছ যখন ... তোমার অনুমান তো ভুল হবার ... ...
লালমোহনবাবুর একেবারে সম্প্রতিক খবর যারা জানেন না, তাঁদের জানিয়ে রাখি, লালমোহনবাবু তাঁর সাধের এম্বেসেডার গাড়িটি প্রাণে ধরে বিক্রি করতে পারেননি বটে, তবে একটা হন্ডা সিটি আর একটা এসইউভি গাড়ি কিনেছেন। হন্ডা সিটি গাড়িটাই সবসময় চড়েন। এসইউভি গাড়ি সম্পর্কে তাঁর অভিমত হল, ওটা চড়লে বয়সটা কমে গেছে বলে মনে হয়। তখন তিনি চক্রাবক্রা শার্ট আর প্যান্ট ... ...
আজ সকালে বেশ সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখার মধ্যে দিয়ে ভোর হলো। মনেমনে আমি যেন আমার বিশ্বদর্শন করে আসলাম। আমার শৈশব, কৈশোর যৌবন সব যেনো এক চিত্রপটে আঁকা কল্প চিত্র। আজ ও চোখ বুঝে আমি যখন তখন সেই কল্প রাজ্যে স্বচ্ছন্দে হারিয়ে যেতে পারি। তখন আমাদের ওই জায়গাগুলোকে
আলোয় আঁধাররাস্তার ধারে উত্তর পল্লীর এই পার্কটা এলাকার বৃদ্ধদের জন্য সংরক্ষিত। অন্যরা সচরাচর এখানে ঢোকে না, অন্ততঃ বৃদ্ধরা যতক্ষণ থাকেন। দু একটা স্থানীয় ক্লাব উদ্যোগ নিয়ে বেশ কয়েকটা বসার জায়গা বানিয়ে দিয়েছে। এই অঞ্চলের বয়স্করা কিছুটা হলেও ভাগ্যবান। বাড়িতেই যেখানে অনেকে বাতিলের খাতায় চলে গেছেন, সেখানে সমাজ যে তাঁদের বাতিল করেনি এই মানসিক শান্তিটুকু অন্ততঃ এই পার্কেতে এলে তাঁরা ... ...
জীবন তরঙ্গপর্ব ৪৮ নয়ন চলে আসার পরে ও বাড়িতে ওই ছিল ওদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নাতনীর জন্য ঠাকুমার এই কালেকশনে অসিত আর নীলিমা দুজনেই খুব খুশি। ছেলের যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে ঠাকুমা কাজ অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, নাতনীরও যে ছেলেটিকে খুবই পছন্দ হয়েছে সেটাও জানা হয়ে গিয়েছিল। এবার প্রয়োজন ছেলের বাড়ির সম্মতির। ছেলের বাড়ির সাথে কথা বলার আগে নীলিমা মেয়েকে একান্তে জিজ্ঞেস ... ...
লক্ষহীন পঁচিশ লক্ষ —————— সুপ্রিয়া চৌধুরী —————— প্রমাণ তো দিয়েছো কত শত শত বার আর তো চাই নি প্রমাণ তোমাদের কাছে !! বুঝিয়ে দিয়েছো মান হুশের আর লেশ মাত্র নেই বেঁচে ! তবু বার বার, আর কতবার, আর কতটুকু নামবে
আমার মধ্যে তুমি নেই, কোনোদিনই তো ছিলে না। তবু - ভাবের ঘরে সিঁদ কেটেই ভোকাট্টা হয়ে ভাসার সান্ত্বনা। সাগরের ঢেউ গুনে গুনে ক্লান্ত, মন্দিরের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর পাহাড়ের বাহার দেখে বিভ্রান্ত
"তোমরা আমায় ভোট দাওআমি তোমাদের পরিযায়ী শ্রমিক বানাব।" উড়িষ্যার খুব ছোট্ট শহর অঙ্গুল। খুব বেশি হলে ১৫ কিলোমিটার শহরটার চারদিকের পরিধি। গত দেড় বছর ধরে আমার এই শহরে প্রতি মাসে বা দুই মাসে একবার আসতেই হয়, অফিসের কাজে। এই শহরের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন খনি ও স্টিল বা অন্যান্য প্ল্যান্ট। পুরো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা। উড়িষ্যার অঙ্গুল ছাড়াও আমায় সম্বলপুর, বালাসোর, ভুবনেশ্বর, কটক ইত্যাদি ... ...
নগ্নতা আমার প্রিয়,জীবনের বেঁচে থাকার উপাদানগুলির একটা,অন্তত জানি, নারীর নগ্নতা আমি ভালবাসি।বাকি নগ্নতাগুলিকে ভালোবাসা ও বিবমিষার মাঝেওয়ান টু টেনের স্কেলে কোথাও একটা বসিয়ে দেওয়া যায়,কিন্তু আমি তাদের নিয়ে অত ভেবে দেখিনি কোনোদিন।
মোঘল সীমান্ত বলতে ম্যাপে আঁকা লাইন বোঝাত না। সীমান্ত নির্দেশকারী ম্যাপে আঁকা লাইন আধুনিক ধারণা। মোঘল হিন্দুস্থানে সীমান্ত মানে এলাকা। তাই ঔরঙ্গজেবের কাছেও সালতানাত বাড়ানো মানে অন্য রাজা বাদশাহের এলাকা দখল। আকবরের আমলের পনেরোটা সুবায় বিভক্ত ছিল মোঘল সালতানাত। শাজাহানের আমলে দাক্ষিণাত্যে সীমান্ত প্রসারের ফলে বেড়ে হয় উনিশ। সেটা আরো বেড়ে ঔরঙ্গজেব আলমগীরের আমলে ... ...
অব্যক্তসৌমর একটা চাকরির খুব দরকার ছিল। বাবা রিটায়ার করে যা পেয়েছিলেন তার প্রায় সবই তাঁর চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে। রিটায়ার করার কিছুদিন পরেই লিভারে ক্যানসার ধরা পড়ে। মা আর ছেলেতে মিলে সাধ্যমত সবরকম চেষ্টাই করেছে। কিন্তু এ রোগ তো সারার নয়। বছর দেড়েকের বেশি বাঁচান যায়নি।এরপর ফ্যামিলি পেনসনের কটা টাকাই ছিল মা ছেলের সম্বল। তাই বি এর রেজাল্টটা হাতে পেতেই যেখানেই সুযোগ পেয়েছে ... ...
জীবন তরঙ্গ পর্ব ৪৭ ট্রেন শেয়ালদায় ঢুকতে ঢুকতে নটা বেজে গেল। অনেকটা দেরি হয়ে যাওয়ায়, নয়ন আর বাড়ি না গিয়ে সরাসরি অফিসের দিকে রওনা হল। ডিপার্টমেন্টে তখনো কেঊ আসেনি। নয়ন নিজের জায়গায় গিয়ে বসল। বাড়িতে ফোন করে ফিরে আসার খবরটা মাকে জানিয়ে দিল। শিলিগুড়িতেও পৌছন সংবাদ জানাল। রত্নাকর চা আর টোস্ট টেবিলে রেখে গেল। অফিসে ঢোকার সময় ওকে বলে এসেছিল। সকাল থেকে কিছু খাওয়া ... ...
হেরে জেতা নাকি জিতে হারা ———————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ———————— কেউ বা হেরেও জেতে আবার কেউ বা জিতেও হারে শুরুর থেকেই হোক্ না শুরু এবার প্রতিকারে। অহংকারেই ডুবলো তরী ভাবলে হবেই
এরিক ভন দানিকেনের দাবি ছিল, পৃথিবীর বাইরে এলিয়েন নামক প্রাণীরা আছে। এবার সেই দাবিকে ভর করে আর এক বিজ্ঞানী এলিস সিলভারের চাঞ্চল্যকর তত্ত্ব:-"বিজ্ঞানী এলিস সিলভারের চাঞ্চল্যকর দাবি: মানুষ পৃথিবীর জীব নয়।"তাঁর 'হিউম্যান আর নট ফ্রম আর্থ: এ সায়েন্টিফিক ইভ্যালুয়েশন অফ দ্য এভিডেন্স' বইটিতে রীতিমতো যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, 'মানুষ পৃথিবীর জীব ... ...
আহা আমেরিকা বলে কথা। তাদের নিয়ে এত সমালোচনা? ওরা যা করবে সেটা সব ঠিক আছে। তোমরা তো বাবু কালা আদমি। না একটু একটু ফর্সা। পুরো ফর্সা তো ন ও। তারপরে আবার এখন তিন নম্বরে আসছো অর্থনীতিতে। তোমাদের তো ঘাড় মটকানো যাচ্ছে না। কিন্তু ব্যবস্থায় চটকে দি। আমাদের এখানে থাকতে গেলে যেমন করে হোক ... ...
প্রজার নীতি ভাবনা নেই কিছুতেই। যে যেমন ইচ্ছে তেমন চলছে। আগেকার দিনে ছেলেমেয়েদের শাস্তি "রাতের ভাত বন্ধ"। এখনকার দিনে জলচল বন্ধ করে দেওয়া। রাস্তাঘাটে বেরোতে না দেওয়া। দোকানে জিনিসপত্র কিনতে না দেওয়া, এসব চলছে। সাধারণ মানুষ মাথা পেতে নিয়েও নিচ্ছে। কি করবে বলুন। বেরোতে তো হবে। চাঁদা দিতে হবে। তোলা দিতে হবে। পারলে জীবনটাও দিতে হবে। যেমন দেখুন গাড়ি রাখার জায়গা দেয় নি? পেটাও। দোকান বন্ধ করে দাও, চাঁদা দেয় নি। ভোট দাও নি? ঘর থেকে বেরোতেই ... ...
উলেমাদের কথা শুনে বা তাঁদের দিয়ে বলিয়ে ঔরঙ্গজেব সবার মাথা কেটে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন, কেউ কোন কথা বলতে পারত না তাঁর উলেমা নির্ভর বিচারবিধির - এ কথাটাও ঠিক নয়। যথেষ্ট বিতর্ক করার অবকাশ ছিল, কাফি খান খান তাঁর মন্তেখাব আল লুবাব বইতে এরকমই একটা অন্য গল্প
"শকুনির পাশাতে যে কূট কৌশল নিহিত আছে তা আমারই, আপনার পাশাতে যে কূটতর কৌশল আছে তাও আমার। ধর্মরাজ, এই তৃতীয়দ্যূতসভায় বস্তুত আমিই উভয় পক্ষ। আপনি আর শকুনি নিমিত্তমাত্র।" (—তৃতীয় দ্যূতসভা, পরশুরাম _________ আমাকে গানের ওপারে দাঁড় করিয়ে, মানে ঐ গান-পয়েন্টে রেখেও যদি
এ্যান ইভিনিং ওয়াক আজ বিকেলে একটু বেড়িয়েছিলাম, জামাইষষ্ঠীর বাজার দেখতে। গরমে একেই শরীর নাজেহাল, তার ওপর পাব্বনের আগুনে গরম বাজারের তাপ শরীরে এসে লাগলে পরিস্থিতি আরও ঘেঁটে যেতে পারে ভেবে আমি গোড়ায় একটু আপত্তি তুলে গাইগুই করতেই ওপার থেকে জবাব আসে – এই অজুহাত দেখিয়ে এতোকাল তো কাটিয়ে দিলে। এখন সেই পুরনো চালে কাজ হবেনা। চলো! আমি রেডি হচ্ছি।এ একেবারে সরাসরি রণে আহ্বান। এরপরেও লেজ গুটিয়ে ... ...
একলা পথের পথিক, তপনকর ভট্টাচার্য দেবাশিস সরকার সম্প্রতি হাতে এলো তপনকর ভট্টাচার্যের লেখা ‘চিলেকোঠা’, ‘নাচ ও পিস্তল’ এবং ‘জন্মদিন’ শিরোনামাঙ্কিত তিনখানা গল্পগ্রন্থ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘নান্দীমুখ’ পত্রিকার ‘তপনকর ভট্টাচার্য সংখ্যা’। গত চার চারটি দশক ধরে অক্লান্তভাবে লিখে চলেছেন নির্জন পথের দিশারী যে মানুষটি, তাঁকে নিয়ে একটি ক্রোড়পত্র প্রকাশ খুবই জরুরী ছিল। বস্তুত উল্লিখিত ক্রোড়পত্রটি তপন করের সাহিত্যকীর্তির ওপরে এক বহুকৌণিক বিচ্ছুরণ ... ...