এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মোঘল সাম্রাজ্য? খায় না মাথায় দেয়?

    upal mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ জুন ২০২৪ | ১৪৭ বার পঠিত
  • মোঘল সীমান্ত বলতে ম্যাপে আঁকা লাইন বোঝাত না। সীমান্ত নির্দেশকারী ম্যাপে আঁকা লাইন আধুনিক ধারণা। মোঘল হিন্দুস্থানে সীমান্ত মানে এলাকা। তাই ঔরঙ্গজেবের কাছেও সালতানাত বাড়ানো মানে অন্য রাজা বাদশাহের এলাকা দখল। আকবরের আমলের পনেরোটা সুবায় বিভক্ত ছিল মোঘল সালতানাত। শাজাহানের আমলে দাক্ষিণাত্যে সীমান্ত প্রসারের ফলে বেড়ে হয় উনিশ। সেটা আরো বেড়ে ঔরঙ্গজেব আলমগীরের আমলে একুশটা হয়ে প্রায় সারা দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিশাল এলাকায় প্রসারিত হয়।

    আবুল ফজলের বিখ্যাত লব্জ ছিল, ''চল চল, এগিয়ে চল / এগোলেই জয় হবে তব"। মুঘল সালতানাত বেড়ে চলা মানে আরো চলমানতা আরো সীমান্তের প্রসার। আর এই সীমান্তও এখনকার মতো আঁটসাঁট নয় মোটেই, নয় ম্যাপে আঁকা এলাকা, ম্যাপের ব্যবহারের বদলে দিক আর দূরত্বের সাধারণ ধারণায় সীমান্ত নির্ধারিত হয় ফলে এক রাজ্য বা সাম্রাজ্যের এলাকায় অন্যটা ঢুকে বসে থাকে।

    জোস গমন্স মুঘল সাম্রাজ্যকে মৌর্য সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন (Mughal Warfare, Jos Gommans page 201-202)। দুটোই ছিল খোলামেলা আলগা বিশাল অঞ্চল জুড়ে যার মধ্যে মধ্যে রয়েছে কড়া নিয়ন্ত্রনে রাখা উন্নত কৃষিবহুল এলাকা ঘিরে তৈরি কেন্দ্রীয় প্রভাবক্ষেত্র (nuclear power zones) - পাশাপাশি আকর্ষিত, অনুর্বর পতিত জমিন, সীমান্তবর্তী বিশাল অঞ্চল যেখানে সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে, যেখানে চলে ভ্রাম্যমান মূলবাসীদের রাজ। যেহেতু সীমান্ত অনির্দিষ্ট তাই সাম্রাজ্য বলতে বোঝাত প্রাচীন বাণিজ্য পথের নেটওয়ার্ক আর প্রভাবক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে তাদের সংযোগে থাকা বিশাল অঞ্চল।

    তবে অনেক পরের প্রাক আধুনিক মোঘল যুগেও অবস্থা একই রকম ছিল আর ফিরিঙ্গীরা এসে ম্যাপে সীমান্ত এঁকে, কার্যকরী রাষ্ট্র উপহার দিয়ে সব ঠিকঠাক করে দিচ্ছে এরকম মোটেই নয়।মোঘল যুগে রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নতির ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ অবশ্যই অনেক বাড়ে। সে পথ দিয়ে শাহী কোষাগারের প্রচুর টাকাপয়সা দেওয়া নেওয়া, মূলত ঘোড়ার ব্যবহার করে সালতানাতের কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ বাড়ে আর হাজার হাজার ঘোড়া, উট, হাতি, বলদ চলাচল যেতে থাকে বাণিজ্যের প্রয়োজনে। আগেই জানা গেছে, এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর আকবরের প্রবর্তিত টাকায় রাজস্ব সংগ্রহ নীতি ফলে অভূতপূর্ব মাত্রায় মুদ্রা সঞ্চালন ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে। চাষিরা ফসল বিক্রি করে টাকায় রাজস্ব দিতে আরম্ভ করে শুধু নয়, গ্রামীণ বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য পথের যোগাযোগও বাড়ায় মাল কেনা বেচার নেটওয়ার্কও বেড়ে ছিল। গ্রামে জিনিসপত্র বেশী পেয়ে, সেখানে চাষিরা ফসল বিক্রি শুধু নয় আরও বেশী মাল কেনে। সব মিলিয়ে মুদ্রা সঞ্চালন বেড়ে কৃষি, হস্ত শিল্প, বাণিজ্যের উন্নতি ঘটায়। কিন্তু সীমান্তের অনবরত প্রসার হলেও সেই সীমান্ত অনির্দিষ্ট ঢিলেঢালাই থেকে যায় বা সালতানাতের ভেতরকার কেন্দ্রীয় প্রভাবক্ষেত্র অথবা তার বাইরের ঢিলেঢালা প্রভাবের অঞ্চলের সম্পর্ক একই থেকে যায়।

    এই অর্থনীতির উৎপাদন ব্যবস্থা আর বাণিজ্যের বিকাশের শর্তাবলী নিয়ে, সে অর্থনীতিতে পুঁজিবাদের বিকাশের সম্ভবনা নিয়ে, পণ্যের মূল্য নির্ধারণের নিয়মের অধীনে পুরো ব্যবস্থাটা নির্ভরশীল ছিল কিনা এ সব বড় বড় ব্যাপার নিয়ে। কিংবা নিম্নবর্গের দৃষ্টিতে, কৃষি নির্ভর মোঘল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রায়তরা টাকায় রাজস্ব দিতে গিয়ে আসলে মারা পড়ছিল কিনা সেসব নিয়ে অনেক কিছু জানা বোঝা চলছে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন