
শব্দ সরে সরে যায়। আলো-ও তেমনি করে সরে যায়। কখনো খুব তাড়াতাড়ি, কখনো ধীরে, অতি ধীরে। অমল ধবল পালে মন্দ মধুর হাওয়া। সব তরঙ্গের এই নিয়ম। সেই কি যেন লিখেছিলেন রেসনিক-হ্যালিডে সাহেব। ডপলার এফেক্ট। জীবনও ঠিক সেই ভাবে ছুটে চলে। পুরো জীবন জুড়েই যেন শুধু ডপলার এফেক্ট। ... ...

দুগ্গাপূজা নিয়ে অত বলাবলির বা কি আছে, অত আনন্দেরই বা কি আছে। সেসব বলবে পাল্লিনের মত কচিকাঁচারা। আমায় কেন, বৃদ্ধ মানুষ ! শুধু ছোটবেলায় একবার লাল জামা কিনে দেওয়া হয় নি বলে গড়িয়ে গড়িয়ে কেঁদেছিলাম। নালেঝোলে মেখে, মাটি চেটে, মেঝের শানে ঠাঁই ঠাঁই করে মাথা ঠুকে গুগলু বানিয়ে তবে ক্ষান্ত দিইছি। আর ক্যাপ ফোটানোর একটা ব্যাপার ছিল। ক্যাটকেটে কালো পিস্তলগুলো সব, নারকেল তেলের গন্ধমাখা। তায় আবার রোল ক্যাপগুলো কিছুতেই ফাটতে চাইত না। আর সেবার কে যেন একটা ঝিনচ্যাক রূপোলী পিস্তল কিনে দিল। দেবদূত-ফেবদূত কিছু একটা ভেবেছিলাম, লোকটাকে। ... ...

সকাল থেকে এই নিয়ে সতেরোবার রিং। এবারও নিঘ্ঘাত হসপিটাল থেকে। তিনমাস আগে থেকে বলে রেখেছি এই উইকেণ্ডের অন কলে আমি আর কোনমতেই নেই - তবু কারুর না কারুর বদহজম, কারুর ফলস লেবার আর ওয়াটার ব্রেক করলে তো কথাই নেই - হসপিটালে ছোটো রে তক্ষুনি। অন্য কাউকে পাঠিয়ে লাভ নেই, এক বছরের রুগি-ডাক্তারের সম্পক্ক। ... ...

"ফলো দ্য ইয়েলো ব্রিক রোড"-ডরোথি,কাকতাড়ুয়া, টিনের সেপাই, সিংহমশাই সবাই হাঁটছেন ইয়েলো ব্রিক রোড ধরে, এই গানখানি গাইতে গাইতে। পথের শেষে সব পেয়েছির দেশ-সব্বার মন:স্কামনা পূর্ণ হবে অজ দেশের উইজার্ডের জাদুদন্ডের ছোঁয়ায়। গন্তব্যে পৌঁছে অবশ্য মিথগুলি ভেঙে যেতে থাকে... বছরকয়েক আগের টাইম পত্রিকায় প্রায় এই লেখার মতই শিরোনাম ছিল একটি আর্টিকেলের।মনে পড়লো।তবু হেডিং বদলাতে ইচ্ছে হ'ল না। আসলে, ইয়েলো কেকের সমস্ত গল্পেই ইয়েলো ব্রিকের গানটাই থিম সঙ। ... ...

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনের U/A সার্টিফিকেটের পরেই স্ক্রিন জুড়ে দেখা যায় বোর্ডে বাঁধা সারিসারি বেলুন। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ এবং অরেঞ্জ। সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধ। হরাইজেন্টাল সুতো দিয়ে নয়, আসলে তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে যুক্তি ও ব্যাকরণের অর্ডারে। অচিরেই ফট করে একটি আওয়াজ হবে, এবং ব্রেনে শব্দটি রেজিস্টার হবার আগেই প্রথম সারির ষষ্ঠ বেলুনটি দুমফটাস। আরও এক সেকেন্ড অপেক্ষার পরেই ফেটে যাবে ঠিক তার নিচের সবুজ বেলুনটি। ক্যামেরা প্যান করবে, বেলুনের বোর্ডকে ফোকাসে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডে পর্দার বাঁদিকে দেখা যাবে আউট অফ ফোকাস, ঝাপসা অস্পষ্ট শহর কলকাতা। একটি হলুদ ট্যাক্সি। একটি সাদা অ্যাম্বাসাডার। ... ...

আমার ধার্মিক জেঠুর কড়া পাহারায় ভাই বোনেরা সন্ধ্যেবেলায় নাম করতে বসতাম। সার সার বসে আমরা হাতজোড় করে গাইতাম "অপরূপ সে গুরু রূপ....'। চোখ বন্ধ করে অপরূপ সেই কোনো এক মুখ মনে করার সময় ভেসে উঠতো শুধু একজনেরই মুখ। জ্বলন্ত অথচ শান্ত মুখ, চোখে কি অদ্ভুত মায়া, কোঁকড়া চুলের রাশ কাঁধের ওপর, দু হাত আড়াআড়ি করে রাখা সাদা আলখাল্লায় ঢাকা চওড়া বুকের ওপর। মাথার পেছনে সুর্য্যের ছটা। যীশুর এই অনন্যসুন্দর ছবিটি জেঠুর শোবার ঘরের দেওয়ালেই টাঙ্গানো ছিল। সেই শুরু। ... ...

গ্রুপ থিয়েটারের বড়দা নান্দীকারের দুইটি ছোটো নাটক - "পাতা ঝরে যায়" এবং "বড়দা"। প্রথমটি বুদ্ধদেব বসুর লেখা। দ্বিতীয়টি মুন্সী প্রেমচন্দের ছোটো গল্প অবলম্বনে। প্রথমটিতে যুগ্ম অভিনয়ে রুদ্রপ্রসাদ এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। দ্বিতীয়টিতে একক অভিনয়ে গৌতম হালদার। "পাতা ঝরে যায়" নাটকটি মঞ্চস্থ করার কি খুব দরকার ছিল? দুই বৃদ্ধবৃদ্ধার শেষ জীবনের স্মৃতিচারণ যেখানে ছেলেমেয়ে অনেক দূরে। ... ...

সেদিন উত্তর-পূর্বাঞ্চল মোটের উপর শান্তই ছিল। শুধু একজনই মারা যান গুলিতে। আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের উপর বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যান যিনি, তিনি লেখিকার আপনজন। -- সম্পাদক। তোমার সঙ্গে আর দেখা হবে না। কথা তো ছিল না এমন। পুজো আসে, পুজো যায়। আমাদের বয়স বাড়ে।বিজয়ার প্রণাম সারি ফোন অথবা ইমেলে। আমাদের জানা থাকে, পরের বিজয়ায় প্রণাম করার লোক আরো কমে যাবে। আমরা প্রস্তুত থাকি। এবারে তৈরী ছিলাম না। আমাদের আর দেখা হবে না। এরকম তো কথা ছিল না। ... ...

আলোচনাটা নতুন নয়। পুরনো ঘামাচি জানেন তো? পোচোণ্ডো গরমে বাড়ে, বিষ্টি পড়লে কমে যায়? এও তেমন। বছরে বার কয়েক মিডিয়া পোশ্নো তুলবে "আপুনি কবে z। |বেন এজ্ঞে ?" টোনি ব্লেয়ার ক্রমহ্রাসমান পক্ককেশে হাত বুলিয়ে বলবেন "যেতে পারি, ...কিন্তু এখনি যাবো না..."। কয়েক সপ্তাহ আগে এই যাওয়া-না-যাওয়ার খেলা এক বিশ্রী রূপ নিয়েছিলো -- লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন সাংসদ ব্লেয়ারকে চিঠি লেখেন - "অনেক হয়েছে, আপুনি এবার আসেন"। খবরে প্রকাশ এই চিঠির পিছনে হাত গর্ডন ব্রাউনের, মানে প্রাইম মিনিস্টার ইন ওয়েটিং। ... ...

কাদের বাড়ি বর্ডারের কাছে? আমি বর্ডার দেখতে চাই শুনে ক্লাসে হাত উঠল জনা পাঁচেকের। মুখগুলো দেখে যখন খানিকটা শক্তপোক্ত কাউকে খুঁজছি, যাওয়ার জন্য নির্ভর করা যাবে ভেবে, তখন ক্লাসেই ভীড়ের মধ্যে থেকে কেউ একজন বলল, "স্যার, সাবিনার বাড়ি বর্ডারের একদম কাছে, যেতে হলে ওর সঙ্গেই যান।' ... ...

লেখক সোভি সামুর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ছাত্র। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পরবর্তী সময়ে পালেস্তিন অঞ্চলের রাজনৈতিক অর্থনীতি ও "অর্থনৈতিক উন্নয়ন"। স্নাতক স্তরে সোভি জার্মানির এর্লাংগেন- ন্যুরেমবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ২০০০-২০০১ সালে পালেস্তিনে বিরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছরের জন্য পড়তে আসেন (সাধারণত এই ব্যবস্থা কে অ্যাব্রড স্টাডিজ ইয়ার হিসেবে পরিগনিত করা হয়)। ... ...

এই লেখার সহিত জীবিত বা মৃত ব্যক্তির/ব্যক্তিসমূহের সাদৃশ্য খোঁজা বৃথা, আর পাঁচটা বাংলা পপুলার সায়েন্স-ঘেঁষা প্রবন্ধের ন্যায় এটাও মূলত: না বুঝে, বা হাপ বুঝে টুকে দেওয়া একটা জিনিস। এই লেখা পড়ে ক্যাওস বা কেঅস কোনোটাই শেখা যাবে না। লেখা পড়ে ক্যাওস পাকলে লেখক দায়ী থাকবেন না। সব দোষ সম্পাদকের, কারণ দোষ ফেলে রাখতে নেই। ... ...

কারণ ওপেন সোর্স সফটওয়্যারকে তলিয়ে দেখতে গেলে এই ফিলোজফিটা প্রয়োজন। আর প্রয়োজন একটু পিছিয়ে তাকানোর - কোথা থেকে, কি ভাবে এই ওপেন সোর্স, বা ফ্রী সফটওয়্যার, বা একটি বহু-প্রচলিত নাম "গ্নু" (ইংরিজীতে GNU) বাজারে এলো। ... ...

বলা হয় সাধারণভাবে হিন্দুরা খুব একটা সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন নয়। ওপর ওপর দেখতে গেলে কথাটা সত্যি বলেই মনে হয়। সেমেটিক ধর্মগুলির মতো হিন্দু ধর্ম কোনো "একটা" আচরণবিধির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। অজস্র শাখা-উপশাখায় বিভক্ত হিন্দুরা নানান রকমের আচারবিধির মধ্য দিয়ে ধর্ম পালন করেন। ... ...

রূপকথায় রাজা-রাণী'র গল্প থাকে। অবধারিত না হলেও, মাঝে মাঝে। রাখাল ছেলে,গরীব ব্রাক্ষ্মণ,রাজবাড়ীর দাসী,মানুষের ভাষায় কথা-বলা পাখি,তিন প্রান্তরের কাছ-ঘেঁষা মাঠ---এরাও রূপকথার নানা চরিত্র হয়। তবে রাজা-রাণী থাকবেই। ... ...

মৃত্যু - যাতনা প্রকৃত বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব। তবু আমি তোমাকে তার কিছু বর্ণনা দিচ্ছি। আল্লাহ'র শপথ করে বলছি, আমার কাঁধের উপর যেন, বাযোয়া নামক বিশাল পাহাড়টি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার আত্মা যেন সূচের ছিদ্র দিয়ে টেনে বার করা হচ্ছে। আমার পেট যেন কাঁটায় ভরপুর। আর আসমান ও যমীন যেন একত্রে মিশে গেছে আর আমি তাতে পিষ্ট হচ্ছি। ... ...

গোলমালটা ঠিক কিভাবে শুরু হল বলা খুব কঠিন। কলম্বিয়ান ছেলেটা একটা পাইথন পুষেছিল, সেটাও কারণ হতে পারে। এভাবে বললে অবশ্য ডাক্তারকেও দোষ দেওয়া যায়, কারণ কালো ইঁদুরের বদলে সাদা ইঁদুর খাওয়ানোর প্ল্যানটা ডাক্তারেরই ছিল। নেট ঘেঁটে দেখেছিল, যে, কালোর চেয়ে সাদা ইঁদুরের পুষ্টিগুণ নাকি বেশি। ... ...

শরীরের সুড়ঙ্গ ধরে ঢুকে যাছে, ঠোঁট ফাঁক করে কষ বেয়ে নেমে আসছে ফেনা ফেনা। বস্তুটা যে কি তাও যদি ভালো করে জানতাম। যারা কমলালেবু খায় তারা একে বলে প্রেম। বাকিরা কেউ বলে ছ্যাঁচড়ামো, কেউ বলে উদ্ভিদ, কেউ বলে হ্যারি পটার। বইমেলার ধুলোর গন্ধ ময়দান ছেড়ে বাইপাসে পালাচ্ছে। তাই দেখে উড়ন্ত এলোজাহাজ ঐ নেমে গেল গভীর বিকেলে। এই ধোঁয়া ধোঁয়া অন্ধকারের ইমেজে মিশে যাচ্ছে সেই সন্ধিক্ষণ। নাকি আমার বিভ্রান্তি সবটাই। দিবাস্বপ্ন। হ্যালুসিনেশন। ... ...

মাঝে মাঝে এমন হয় যে, গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে চোখ দুটো না খুলেই যখন অন্ধকারের গায়ে কান পাতি, নিস্তব্ধ রাতের ভিতরের কোন একটা উৎস থেকে খুব মৃদু ভাবে তবলার বোলের মত শব্দ ভেসে আসতে থাকে। একটা বা দুটা আঙুল দিয়ে খুব আদুরে ভঙ্গিতে যদি বাজানো হয় - সেটা ঠিক তেরে কেটে ধিন হয় না, বদ্ধ ঘরের দরজার এপাশ থেকে ভেতরের গুম-গুম শব্দ শুনতে পেলে যেমন লাগে, অনেকটা সেরকম। ... ...

যা চলে, তাই গাড়ি - না, ভুরু কুঁচকে তাকানর কিছু নেই এতে। আরে না, তা বলে গালে হাত দিয়ে ভাবতেও বলছি না। বলার কিছু নেই, শোনার কেউ নেই, তবুও কাগজে ছেপে তো আর পরিবেশ দূষণ করছি না যে হুট করে কেউ চেপে ধরবে। এই অনবাদী, বাস্পীয় মায়াভূমি বিস্তারে বহু যোজন। আমি লিখব - চালাব - কখনো দাঁড়িয়ে যাব চড়ুই পাখি দেখে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলে উঠব - যা চলে তাই গাড়ি। ... ...