এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা  শনিবারবেলা

  • মধুবাতা ঋতায়তে

    শারদা মণ্ডল
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩৩৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • শুরু হয়েছে শারদা মণ্ডল-এর নতুন ধারাবাহিক স্মৃতিচারণ "মধুবাতা ঋতায়তে"। আজ পর্ব-২…
    ছবি - Imagen 3


    ম্যাপ পয়েন্টিং
    আমাদের ভূগোলের ম্যাপ পয়েন্টিং শিখিয়েছিলেন মানসীদি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ভূগোল বিষয়ে তাঁর হাতেই মানুষ হয়েছি। এমন নেশা ধরিয়ে দিলেন, মানচিত্র চর্চা এ জীবনে ছাড়তে পারলামনা। ম্যাপ বই তো ছিলই। তিনি আমাদের একটা লম্বা সাদা খাতা করাতেন। তার নাম ম্যাপ খাতা। যে ক্লাসে সিলেবাসে যে দেশ বা মহাদেশ থাকত, ম্যাপ খাতায় তার সীমানার প্রতিটি খাঁজ মুখস্থ করে খাতার পাতায় আঁকতে হত। আজ যখন ক্লাসে পড়াতে গিয়ে বোর্ডে ম্যাপ আঁকি, মানসীদির কথা মনে পড়ে। লম্বা ছিপছিপে কাঁধে আঁচল টানা, কপালে লাল টিপ দিদি ম্যাপ আঁকছেন। ব্ল্যাকবোর্ডে চকের অনায়াস বিচরণে ফুটে উঠছে নিখুঁত মানচিত্র। আমার ক্লাসে আমিও আঁকি, কিন্তু মনে হয়, আঁকাটা ঠিক দিদির মতো নিখুঁত হয়না।

    একদিন সন্ধ্যায় চলভাষে প্রতিবেশিনীর গলা ভেসে আসে, বৌদি কাল মেয়ের ভূগোল পরীক্ষা। ম্যাপ পয়েন্টিংটা কিছুতেই ঠিক হচ্ছেনা। একটু দেখিয়ে দেবেন? বললাম, নিশ্চয়ই। মেয়েকে পাঠিয়ে দাও। অতঃপর ম্যাপ হাতে চিন্তিত মুখে বালিকার প্রবেশ।



    •সবই করছি আন্টি। ইস্কুলে খালি নম্বর কেটে দিচ্ছে।
    •তাই নাকি? দেখি তো! ম্যাপটাতো বেশ পরিচ্ছন্ন আর্টিস্টিক হয়েছে। এস এবার এটাকে নির্ভুল করে সায়েন্স করে তুলি। বই তে কী আছে? ব্রহ্মপুত্র নদ, অরুণাচল প্রদেশের এই খাঁজটা দিয়ে ভারতে ঢুকেছে। কিন্তু তুমি যে খাঁজে রেখেছ, ওটা ভূটানের। এই দেখ, গোদাবরীর মোহনায় বদ্বীপ আছে। এই জায়গায় সীমানাটা উত্তল প্রকৃতির। কিন্তু তুমি অবতল জায়গা দিয়ে ওকে বঙ্গোপসাগরে ফেলেছ।
    •(বালিকা অনুযোগের সুরে বলে) ঐ একটুখানিই তো সরে গেছে। আমি বলি,
    •তা বটে, ঐ একটুখানি স্কেল হিসেবে দুশ কিলোমিটার হবে। বলো দেখি নম্বর দেওয়া যায়? তুমি দিতে? টিচার হলে?
    •(বালিকা ভুরু কুঁচকে বলে) নাঃ, একেবারেই না। আরও মিনিট দশেক বিভিন্ন টিপ্স দেওয়ার পর বালিকা লাফিয়ে ওঠে।
    •বুঝেছি আন্টি, ম্যাপ পয়েন্টিংএ আমাকে আর কেউ হারাতে পারবেনা। সোৎসাহে সে বলে চলে,
    নিয়ম একঃ যে জিনিসটা পয়েন্টিং করব তার সম্পর্কে ভৌগোলিক তথ্যগুলো মাথায় রাখতে হবে।
    নিয়ম দুইঃ যে দেশ বা মহাদেশের ভিতর পয়েন্টিং করা হচ্ছে, তার সীমানার প্রতিটি খাঁজ, ভাঁজ মনে রাখতে হবে।
    নিয়ম তিনঃ সীমানার অভ্যন্তরে কোনো বিন্দু নির্দিষ্ট করতে হলে সুবিধামতো অন্য দুটি বা তিনটি সীমান্ত বিন্দু থেকে তার দূরত্বের আন্দাজ রাখতে হবে।


    বলি, সাব্বাশ। সপ্তাহ খানেক পরে চলভাষে বালিকার গলা ভেসে আসে। আন্টি, এবারে ম্যাপ পয়েন্টিং এ ফুল মার্কস। অভিনন্দন জানিয়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকি। সেই কবে গ্রীক দার্শনিক এরাটস্থেনীস শুধু ভৌগোলিক নীরিক্ষণের দ্বারা পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয় করেছিলেন, কোনো প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই। তারপরে দুহাজার বছরে হয়তো যন্ত্রের আতিশয্যে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা কমেছে। কিন্তু মনের ধার বেড়েছে বই কমেনি। বাচ্ছারা খুবই বুদ্ধিমান। শুধু একটু ধরিয়ে দেওয়ার লোক চাই।

    মনে পুরোনো দিনের কথা আসে। আমার কন্যা স্কুলে যাবে। তার ভবিষ্যত ভালো হবে, অনেক আশা নিয়ে বেসরকারী ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে তাকে ভর্তি করেছি। পড়ানোর অনেক খরচ। সকালে খুব তাড়াহুড়োয় স্কুল ব্যাগে বই গোছাতে বসি। রুটিনে আজ ভূগোল আছে দেখে স্কুল অ্যাটলাসটা ব্যাগে পুরে দিই। মেয়ে খুব বিরক্ত হয়। মা, তুমি দেখছ ব্যাগটা এত ভারি, কাঁধ, পিঠ ফেটে যায়, এর মধ্যে এত মোটা ফালতু ম্যাপ বইটা ঢুকিয়েছ? তাকে বৃথাই বোঝাই ভূগোল ক্লাসে লাগবে বাবু। মা তোমাকে নিয়ে পারা যায়না, আমাদের ম্যাপ ফ্যাপ লাগেনা। ক্লাসে ম্যাপ দেখিয়ে পড়ানো হয়না। ব্যাগ থেকে টান মেরে বইটা বার করে দিয়ে মেয়ে স্কুল বাসে উঠে যায়। জানলা দিয়ে হাওয়া আসে, খাটের ওপর ম্যাপ বই এর পাতা ওড়ে। বুকের ভিতর মোচড় দেয়। স্বরূপপ্রাণাজী, মানসীদি আপনারা কোথায়? আকাশ থেকে দেখছেন? গতকাল আমি কলেজের ক্লাসে ম্যাপ আঁকা ঠিক হয়নি বলে, স্টুডেন্টদের খুব বকাবকি করেছি। আমি ভুল করেছি, ভীষণ ভুল করেছি। ওদের কলেজের লেভেলে তুলে আনতে গেলে, আমাকে স্কুলের পড়া থেকে শুরু করতে হবে।

    মানচিত্রবিদ্যার অ আ ক খ

    স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে ছেলেমেয়েরা আমার ভূগোল অনার্সের ক্লাসে ভর্তি হয়। কলেজের আর পাঁচটা ছেলেমেয়ের তুলনায় তাদের মুখগুলি বেশ কচি। বালিকা বিদ্যালয় পেরিয়ে আসা মেয়েরা কোএডুকেশন কলেজে কী জানি কি হবে, ভেবে আলাদা বেঞ্চে একটু জড়োসড়ো হয়ে বসে। কলেজে স্কুলের থেকে স্বাধীনতা বেশি, তাই ভেবে কোনো ছেলের চোখে দুষ্টুমি ঝিকিয়ে ওঠে। কেউ আবার চশমা আঁটা সিরিয়াস। কেউ বা আগে থাকতেই ভেবে বসে আছে, কলেজে লেখাপড়া কিছুই হবেনা। বাংলা মিডিয়ামের স্টুডেন্ট ভাবে অনার্সের সব বই কি ইংরেজি? একবার ভর্তির সময়ে এক অভিভাবিকা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ম্যাডাম, আমার ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম। এ কলেজে বাংলায় পড়ানো হবেনা তো? আজ এত বছরের অভিজ্ঞতায় মুখের দিকে তাকালে ছাত্রছাত্রীদের মন পড়তে পারি। নানা সংশয়ে ভরা মুখগুলোকে প্রথম ক্লাসে হেসে জিজ্ঞেস করি,



    •তোমরা ভূগোল বেছে নিলে কেন গো?
    •ভূগোল পড়তে ভালোলাগে ম্যাম।
    ওমা তাই বুঝি? তাহলে বলোতো, দুনিয়ার বাকি লোকের থেকে ভৌগোলিকেরা কিসে আলাদা?


    প্রশ্ন শুনে কোনো চোখে কৌতুক খেলা করে, কোনো চোখ আকাশ পাতাল এক করে ভাবতে বসে। নিজেই উত্তর দিই,
    - Only geographers are map makers and the rest of the world is map user. শ্রেণী কক্ষে পলকে খেলে যায় বিস্ময়ের ঢেউ। তবে হ্যাঁ আজ এই স্যাটেলাইট টেকনোলজি আর সফ্টওয়্যার বিস্ফোরণের যুগে মহাকাশ বিজ্ঞানী আর সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররাও মানচিত্র নির্মাণে হাত লাগিয়েছেন। তবে সেখানে এক ধরণের অসুবিধা আছে। নশো কিলোমিটার ওপর থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ আমাদের চেনা ক্যামেরার মতো ছবি তুলতে পারেনা বরং নানাধরণের ডিজিটাল সিগন্যাল পাঠায়। ল্যাবরেটরিতে সেই সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে তার ওপরে কৃত্রিম রং চাপানো হয়। নদীর জল আর পাকা রাস্তা থেকে আলো বা সূর্যের অন্য তড়িৎ চুম্বকীয় রশ্মির প্রতিফলন তো আর এক হবেনা। তাই ল্যান্ডস্কেপ অনুযায়ী সিগন্যাল আলাদা হবেই। তার ওপর নির্ভর করে কম্পিউটার রং গুলোও চাপায় আলাদা আলাদা। এইভাবে একরকমের ইমেজ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ, যে এইসব কৃৎকৌশল জানেনা, তার মনে হবে এযেন, নানা রঙের ছোপ দেওয়া হিজিবিজি কাগজ। কিন্তু পৃথিবীর প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ধরণের কার্যকারণ বিশ্লেষণ করে ফাইনাল মানচিত্রীকরণ আর তার সঠিক ব্যাখ্যা করে তথ্য বিশ্লেষণ, এ কৌশল ভৌগোলিক ছাড়া পৃথিবীতে আর কারোর জানা নেই। শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের চোখে অজান্তে গর্ব ফুটে ওঠে। কিন্তু এবারে প্রশ্ন হল মানচিত্র একই সঙ্গে হতে হবে সহজ, সর্বজনবোধ্য, নির্ভুল ও দৃষ্টিনন্দন। আবার তাকে ছাপানো বই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সব মাধ্যমে ইউজার ফ্রেন্ডলিও হতেই হবে।

    কূটতর্ক

    পর পর ক্লাসে মানচিত্রবিদ্যার কূট তর্কের অবতারণা হয়। মহাভারতে আছে দ্রৌপদী পূর্বজন্মে পাঁচটি শ্রেষ্ঠ গুণে গুণান্বিত পতি চেয়েছিলেন, তাই তাঁকে পঞ্চপতি বরণ করে নিতে হয়। কারণ একক মানুষ পঞ্চশ্রেষ্ঠগুণের অধিকারী হতে পারেনা। মহাকাব্য শুধু তো গল্প নয়। বাস্তবের রূপক। মানচিত্রও সর্বদিকে নির্ভুল হতে পারেনা। যেমন ধরা যাক যদি নিরক্ষরেখাকে মাঝখানে রেখে চৌকো আকৃতির বিশ্ব মানচিত্র আঁকি, তাহলে নিরক্ষীয় অঞ্চল ভালো দেখায় বটে, কিন্তু দুই মেরু অঞ্চল দুই সীমানায় বেঢপ হয়ে দাঁড়ায়। আবার উত্তর মেরুকে কেন্দ্রে রেখে গোলাকার মানচিত্র অঙ্কন করলে সেটা নিরক্ষরেখাতেই শেষ হয়ে যায়। কারণ বাকি দক্ষিণ গোলার্ধের বেড় যেহেতু নিরক্ষরেখার থেকে ছোট সে অংশটা আড়ালে থেকে যায়। পরিস্থিতি আর উদ্দেশ্য বিচার করে যে অংশটা দরকার সেটা ঠিক রেখে বাকি অংশের ভুল মেনে নিতে হয়। যেমন সড়ক মানচিত্র আঁকতে গেলে দৈর্ঘ্যটা ভুল হলে চলেনা। কিন্তু সেটা ঠিক রাখতে গেলে দেশের আয়তন উনিশ বিশ হয়ে যেতে পারে। আবার ধরা যাক ভারতবর্ষের আকৃতি বরফির মতো। দক্ষিণ আমেরিকার চিলি দেশটা একটা লংকার মতোই লম্বাটে। স্পেন দেশটা অনেকটা যেন বর্গক্ষেত্রের মতো। এমন ধারা আলাদা আকৃতির সঠিক অঙ্কনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অঙ্ক কষতে হয়। অঙ্ক কষার ঝামেলা কি কম! বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে এমন একটা জ্যামিতিক আকৃতির খোঁজ পাওয়া যায়না, যার সঙ্গে পৃথিবীর আকৃতি সঠিক ভাবে মিলে যায়। পৃথিবী গোল বটে, কিন্তু মেরুতে চাপা, বিষুবরেখা বরাবর ফোলা। মেরু ব্যাস, নিরক্ষীয় ব্যাসের থেকে ছোট। তাহলে কি উপগোলক? না তাও নয়। কোথাও পাহাড় তো কোথাও গভীর সমুদ্র খাত। গড় সমুদ্র পৃষ্ঠও চন্দ্র সূর্যের আকর্ষণ, জোয়ার ভাঁটা, কোরিওলিস বল প্রভৃতি কারণে সর্বত্র এক নয়। শেষ পর্যন্ত মেনে নিতেই হয় পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মতো। তাই কোন মানচিত্রের জন্য কোন অঙ্ক কষতে হবে তা বুঝতে গেলে, জানতে হয় অভিক্ষেপ শাস্ত্র (Theory of Map Projection)।

    মানচিত্র সজ্জা

    মানচিত্র তো কেবলমাত্র দেশ বা মহাদেশের সীমান্ত সূচীত করেনা। সেখানকার ভূপ্রকৃতি, নদনদী, স্বাভাবিক উদ্ভিদ, জনবসতি, অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, পরিকাঠামো, পরিষেবা সব কিছু দেখায়। দেখানোর জন্য দরকার হয় সর্বজনগ্রাহ্য রং আর চিহ্নের ব্যবহার। যেমন নিয়মমতো কৃষিক্ষেত্রে হলুদ, জলে নীল আর জনবসতিতে লাল রং ব্যবহার হয়। আমি আমার ইচ্ছে হলেই এগুলো অদল বদল করতে পারিনা। আর শুধু এঁকে দিলেই কাজ শেষ হয়ে যায়না। হেডিং, স্থান নাম, চিত্রসূচী অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ, স্কেলের অনুপাত সব কিছু আইন মোতাবেক লিখে দিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাছবিচার না করে সব তথ্য দেখায় যে মানচিত্র তা হল টোপোগ্রাফিকাল ম্যাপ। আবার বাকিগুলো বাদ দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে মানচিত্র বানালে, তা হয় বিষয় ভিত্তিক মানচিত্র বা থিম্যাটিক ম্যাপ।

    ক্ষুদ্রতম মানচিত্র একক

    তবে মানচিত্রে দেখাব ভাবলেই সব জিনিস দেখানো যায়না। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। যেমন ধরা যাক, কোনো ম্যাপের স্কেল হল এক সেন্টিমিটারে পাঁচশ মিটার। অর্থাৎ কিনা কাগজে এক সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য ভূপৃষ্ঠে পাঁচশ মিটারের সমতুল্য। তবে হিসেব অনুযায়ী কাগজে এক মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ভূপৃষ্ঠে পঞ্চাশ মিটারের সমতুল্য হবে। এবারে মানচিত্রের উপরে যদি একটি বিন্দু অঙ্কন করি, তার ক্ষেত্রফল কমবেশি এক স্কোয়ার মিলিমিটার হয়ে দাঁড়ায়। হিসেব মোতাবেক ভূপৃষ্ঠে ঐ পরিমাণ এলাকার মাপ হয় পঞ্চাশ মিটার গুণিতক পঞ্চাশ মিটার, অর্থাৎ কিনা ঐ নির্দিষ্ট ম্যাপটিতে এক বিন্দু পরিমাণ এলাকার মাপ ভূপৃষ্ঠে আড়াই হাজার স্কোয়ার মিটার হয়ে দাঁড়ায়। তার অর্থ হল ঐ ম্যাপে আড়াই হাজার স্কোয়ার মিটারের থেকে ছোট কোনো বস্তু এঁকে দেখানো যায়না। সেই কারণেই একটা A4 সাইজের কাগজে যদি ভারতের ম্যাপ আঁকি, তবে সেখানে একটি পৃথক নদী আঁকা সম্ভব, কিন্তু একটি পৃথক নলকূপ আঁকা সম্ভব নয়। প্রতিটি মানচিত্র নির্মাণে এই ক্ষুদ্রতম মানচিত্র একক নির্ণয় করতে হয়।

    জরিপ

    মানচিত্রে যে এতরকম বিষয়ের সঙ্কুলান করা হয়, সেগুলো যাতে ঠিক ঠিক জায়গায় বসে, তার জন্য নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়ের দরকার হয়। অবস্থান নির্ণয় করতে গেলে নানাবিধ যন্ত্রপাতি সহযোগে জরিপ কাজের দরকার। ইংরেজ আমলে সারা ভারতবর্ষ জরিপ করে টোপোগ্রাফিকাল মানচিত্র অঙ্কন করা হয়েছিল। সেই মহা জরিপকার্যের নাম হল Great Triangulation Survey বা সংক্ষেপে GTS। এই জরিপ সমাধা করার জন্য বেশ কিছু ইটের টাওয়ার তৈরি করা হয়েছিল। এখনো তার কিছু কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। ছোটবেলায় খড়দহ পেরিয়ে পানিহাটিতে বড়মামার বাড়ি যেতাম। পথের উপর এমন টাওয়ার দেখেছি। লোকে বলতো সুখচর গীর্জা। কলকাতায় চিড়িয়া মোড়ের কাছে বি টি রোডের ওপরেও একটা এমন টাওয়ার আছে। এগুলো দেখলেই চেনা যায়, কারণ ৭৫ ফুট উঁচু চৌকো থাম তো আর চট করে দেখা যায়না, আবার আজকের ঘিঞ্জি রাস্তার ওপরে ওগুলো কেমন যেন বিসদৃশ। কিন্তু ভাবলে অবাক লাগে অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে এই থামগুলোর সাহায্যে আমাদের দেশের মাটির কতইনা মাপজোখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে জি টি এস এর দু'শ বছর পূর্ণ হল। এই উপলক্ষ্যে ভারত ও ব্রিটেনের সহযোগিতায় বেশ কিছু মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান, সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। আলিপুরের জাতীয় গ্রন্থাগারের ভাষা ভবনে এই জি টি এস টাওয়ারগুলি নিয়ে একটি চমৎকার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক এসেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ আর সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ ছিলেন যৌথ দায়িত্বে। দু'শ বছর আগেকার সেই instrumental survey - এর যন্ত্র বসানোর একটা বড় তেপায়া স্ট্যান্ড ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে সংরক্ষিত আছে, যে কেউ ইচ্ছে হলে দেখে আসতে পারে।

    রিমোট সেন্সিং জিওগ্রাফিকাল ইনফর্মেশন সিস্টেম (GIS)

    আজকাল কিন্তু বেশিরভাগ মানচিত্রই আগেকার মত কাগজের ওপরে হাতে ধরে আঁকা হয়না। প্রাথমিক মানচিত্র স্ক্যান করে কম্পিউটারে সফ্ট কপি বানানো হয়। ঐ ডিজিটাল ম্যাপ ছোট ছোট পিক্সেল দিয়ে তৈরি। অমন ম্যাপকে আমরা বলি রাস্টার ম্যাপ। এবারে জি আই এস সফ্টওয়্যারের সাহায্যে ডিজিটাইজ করে সেটিকে ভেক্টর ম্যাপে পরিণত করা হয়। এই ভেক্টর ম্যাপের মধ্যে যেকোনো ধরণের প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক তথ্য যুক্ত করা সম্ভব। যুক্ত করার পরে পছন্দমতো যে কোনো রকম মানচিত্র কম্পিউটারে তৈরি করা যায়, দরকারে প্রিন্ট আউটও বার করা যেতে পারে। এই পুরো ব্যবস্থাটি কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মানচিত্র আঁকার কৌশলকে বলে রিমোট সেন্সিং। কিন্তু এই শব্দটার অর্থ কী? মানুষের আছে পঞ্চ ইন্দ্রিয়। এর মধ্যে ত্বক আর জিভ যে কোন জিনিষকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে তার সম্পর্কে তথ্য আহরণ করে। এরা হল সেন্সার। কিন্তু নাক কান আর চোখ? খবর জানতে গেলে তারা দূর থেকেই জেনে নেয়, ওসব ছুঁয়ে টুয়ে দেখার ব্যাপার নেই - তাই এরা হল গিয়ে রিমোট সেন্সার। ম্যাপ আঁকতে গেলে মাটিতে নেমে মাপার ফিতে, মেসারিং স্টাফ, তেপায়া স্ট্যান্ড, লেভেলিং যন্ত্র, হেন তেন, চৌষট্টি জিনিষ ঘাড়ে নিয়ে নামতে হয়। মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে কাজ হয়, একে বলে সার্ভে। কিন্তু বাবা স্যাটেলাইটের ছবি দিয়ে যদি কাজ সেরে নিই, তাহলে তো দূর থেকেই চটপট কাজ হয়ে গেলো। তাই এ হল রিমোট সেন্সিং সার্ভে। এই রিমোট সেন্সিং আর জিওগ্রাফিকাল ইনফর্মেশন সিস্টেম (GIS) আজ মানচিত্রবিদ্যার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ভারতবর্ষের সেনাবাহিনী থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রতিটি সেক্টর এই সিস্টেমের অংশ।

    নিজে মানচিত্র তৈরি

    ওপরের কথাগুলো শুনে মনে হতে পারে, মানচিত্র নির্মাণ একটা ভীষণ কঠিন আর ভজকট ব্যাপার। কিন্তু আজও যখন অভিযান হয়, দুর্গম প্রদেশে না থাকে কম্পিউটার, না থাকে ইন্টারনেট সংযোগ অথবা প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ। চাঁদের পাহাড়ে শঙ্করকে মনে পড়ে? সঙ্গী আলভারেজকে হারিয়ে তাকে নিজের মানচিত্র বানিয়ে, দিক ঠিক করে বাঁচার পথ খুঁজে নিতে হয়েছিল। ভূগোল অনার্সের ক্লাসে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমাদের ফিল্ড সার্ভেতে যেতে হয়। সেবার অন্ধ্রপ্রদেশের আরাকু উপত্যকায় গিয়ে কি সমস্যা! গ্রামে গেছি প্রশ্নপত্র বানিয়ে, গ্রামবাসীদের সাক্ষাৎকার নিতে। প্রশ্নের সঙ্গে আছে সম্ভাব্য উত্তর তালিকা। যিনি যেমন উত্তর দেবেন, সেই অনুযায়ী ডেটা টেবিল বানানো হবে। তার ওপরে ভিত্তি করে বারগ্রাফ, পাইগ্রাফ ইত্যাদি নানা লেখচিত্র আঁকা হবে। সেই লেখচিত্র বসানো হবে গ্রামের মানচিত্রের ওপরে। এমনভাবে তৈরি হবে আমাদের নিজেদের তৈরি থিম্যাটিক ম্যাপ। কিন্তু গোল বেঁধেছে যে মানচিত্রটা এখানে আসার আগে গ্রামের বলে যোগাড় করা হয়েছিল, সেটার সঙ্গে গ্রামের মিল পাওয়া যাচ্ছেনা। স্থানীয় লোককে জিজ্ঞাসা করেও কোনো সুরাহা মিলছেনা। অথচ ম্যাপ না হলে রিপোর্ট সম্পূর্ণ হবেনা। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল কুছ পরোয়া নেই। ম্যাপ আমরা নিজেরাই বানিয়ে নেব। চারজন ছাত্রছাত্রী আর আমি পাঁচজনের দল বানিয়ে গ্রামের পথে রওনা হলাম ম্যাপ মেকিং অভিযানে। পাহাড়তলির ছোট গ্রাম। কাঁচা রাস্তা ধরে চলেছি। দুজনকে কাজ দিলাম রাস্তার দুধারের ভূমির ব্যবহার বা land use দেখে আঁকার। তৃতীয়জনকে আগে দশ পা হাঁটিয়ে দেখে নিলাম কত মিটার হচ্ছে। তার কাজ হল প্রতিটি ভূমির ব্যবহার যেখানে বদল হচ্ছে সেখানে গুণে গুণে কত পা হল সেটা বলা, যাতে লিখে রাখা যায়। চতুর্থজনের কাজ হল পথের প্রতিটা বাঁকে কম্পাস দিয়ে রিডিং নেওয়া, আর কৌণিক পরিমাপটা লিখে রাখা। এমনভাবে চলে তিন ঘন্টায় আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরে এলাম। হোটেলে ফিরে ঘন্টা দেড়েকের প্রচেষ্টায় আরাকুর গ্রামের চমৎকার ম্যাপ তৈরি হয়ে গেল। নিজের দলের হাতে তৈরি ম্যাপ দেখে স্টুডেন্টদের সে কি আনন্দ!

    কর্কটক্রান্তি

    একবার জেনারেল কোর্সের ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি গ্রামে মাটির পুতুলের ওপরে সার্ভে করতে গিয়েছিলাম। সমীক্ষা, জরিপ সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পরে ওদের নিয়ে মায়াপুর বেড়াতে গেলাম। প্রধান সড়কের উপর একপাশে দেখি এক বিবর্ণ সিমেন্টের ফলক। নিজেরাই ধুলো ঝেড়ে পড়ে নিই, তাতে লেখা, এই স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বিস্তৃত রয়েছে। মানে আমরা এখন কর্কটক্রান্তির ওপরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। পুরো দল আনন্দে আত্মহারা। স্থানীয় মানুষের চোখে বিস্ময়, এক বাস ভর্তি উন্মাদ একটা ময়লা হয়ে যাওয়া সিমেন্টের ফলকের চারপাশে নাচানাচি করছে। জড়িয়ে ধরে ছবি তুলছে। হায়রে আমার স্বদেশ। গ্রিনিচে মূলমধ্যরেখার ওপরে পা দেওয়ার জন্য পর্যটকদের ডলার গুণতে হয়। আর এদেশে প্রায় দুহাজার কিলোমিটার ধরে বিস্তৃত রয়েছে কর্কটক্রান্তি রেখা। আসলে প্রকৃতি সব অমূল্য জিনিস আমাদের এত বেশি বেশি দিয়েছেন, আমরা সব মূল্যহীন করে ফেলি। মনীষীরাও সব সময় ত্যাগ তিতিক্ষা শিখিয়ে গেছেন। তাই দেশের সরকারও সামান্য পয়সা রোজগারের ফিকিরকে গুরুত্ব দেননা। বছর দুয়েক আগে আবার ও পথে গিয়েছিলাম ছাত্রছাত্রী নিয়ে। এবারে দেখলাম গুগল ম্যাপে জায়গাটার লোকেশন দেখাচ্ছে। গিয়ে দেখি বন বাদাড়ের মাঝে কাত হয়ে পড়ে আছে ফিনফিনে টিনের ফলক। সিমেন্টের ফলকটি উধাও। হয়তো রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে ওটি বলি হয়েছে। আমাদের মত পাগল দিওয়ানা ছাড়া আর কারোর পক্ষে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

    মানচিত্র নির্মাণে এক একটি কূটতর্ক এক একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যার সমাধান করতে করতে সংশয়ী ছাত্র ছাত্রীরা হয়ে ওঠে সহযোদ্ধা। ছেলে কি মেয়ে, বাংলা না ইংলিশ মিডিয়াম সব পরিচয় ভেসে যায়। উচ্চ শিক্ষার যুক্তিজালের ধারালো ছুরিতে শান দিয়ে দিয়ে কচি মুখগুলো এতোদিনে ঝলমলিয়ে ওঠে। এক শিক্ষক দিবসে তারা উপহার দেয় বর্গাকৃতি রাংতা মোড়া বাক্স। খুলে দেখি থার্মোকলের এক সুন্দর ভারতবর্ষ। আহা, চোখে জল আসে, আমার কুঁড়ি ফোটা ভূবিজ্ঞানীদের নিজের হাতে তৈরি। এযে কোহিনূরের থেকেও দামী।

    একবার ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো আমাদের এক কর্মশালায় ডেকেছিলেন। অনুষ্ঠান নিউ টাউনের রবীন্দ্র তীর্থে। ভালো ফাইল, পেন উপহার পেলাম। দুপুরে এলাহি খাওয়া দাওয়া। সবকিছু সরকারী খরচে। অফিসারেরা জানালেন শিক্ষকদের এমন খাতির যত্ন তাঁরা করছেন মানচিত্রবিদ্যা সম্পর্কে কিছু সরকারী প্রকল্প যাতে আমরা ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিই। শুনে একই সঙ্গে চমৎকৃত ও কৌতূহলী হই। প্রোজেক্টরের কৌশলে সামনের পর্দায় ফুটে ওঠে কিছু অবিশ্বাস্য ভবিষ্যৎ। কল্পনা করা যাক, আমি বেশ দিল্লি গেছি। কুতুবমিনার বেড়াতে যাব, কিন্তু রাস্তা চিনিনা। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা অন করে ফোনটাকে সোজা করে ধরে ঘুরে গেলাম এক পাক। আমার ঘোরার সাথে সাথে ইসরোর কৃত্রিম উপগ্রহ গুলো ফোন ক্যামেরার সাহায্যে বুঝে নিল আমি কোথায় আছি। এবারে ফোনের স্ক্রিনে চলে আসবে কার্টুন চরিত্র, যে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছনো পর্যন্ত আঙুল দিয়ে দেখাবে কোন দিকে যাব। আর কোথা থেকে বাস বা ট্যাক্সি ধরব, কোথায় খাব, কোথায় ওষুধ বা অন্যকিছু দরকারী জিনিস কিনব সে সবও বলে দেবে। আবার ধরা যাক, আমি ভ্রমণ পিয়াসী, এদিকে অসুস্থতার কারণে বেরোনোর উপায় নেই। বন্ধুরা মুর্শিদাবাদের হাজার দুয়ারী প্রাসাদ দেখতে যাচ্ছে। আমার ভীষণ মন খারাপ। তখনও মুস্কিল আসান হবে ইসরো। কি করে? খাটে শুয়ে শুয়ে সোজা ঢুকে পড়ব ইসরোর ওয়েবসাইটে। বলব আমাকে হাজার দুয়ারী ঘোরাও। কার্টুন গাইড আমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা দেবে। হাজার দুয়ারীর গেট দিয়ে ঢুকে প্রতিটি অলিগলি দেখাবে, তার সম্পর্কে তথ্য, ইতিহাস সব জানাবে। বন্ধুরা চোখে দেখে হয়তো অনেক কিছুই মিস করবে। কিন্তু এই ভার্চুয়াল ট্যুরে আমি সব জেনে যাব। কোনো আপশোষ থাকবেনা। আবার এমনও হতে পারে - পশ্চিম বঙ্গের মাছ-ধরা ডিঙ্গি সমুদ্রে ভুল করে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গেলো। তারপর দুই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নাকানি চোবানি। এগুলো এড়াতে এমন ব্যবস্থা হতে পারে, নিজের দেশের সীমানায় পৌঁছনোর কিছু আগে থেকেই মৎস্যজীবীদের ফোনে বিপদ সঙ্কেত বেজে উঠবে। এইসব প্রকল্পই মানচিত্রবিদ্যার চরম উৎকর্ষের নিদর্শন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের দরকার কেন? এই বিশাল ভারতবর্ষে আছে হাজার দুয়ারীর মতো লাখো জায়গা যেখানে মানুষ বেড়াতে যেতে চায়, অথবা রাস্তা খোঁজে। গুটিকয়েক বিজ্ঞানীর পক্ষে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করা দুর্ঘট। এছাড়াও চাই অভিনব কিছু আইডিয়া, যা আগে কেউ ভাবতে পারেনি। এজন্য ভারত সরকার চান নবীন প্রজন্ম এই কাজে এগিয়ে আসুক।

    চুপি চুপি আরও দুটো খবর জানিয়ে রাখি। প্রথমতঃ ইসরোর ভুবন প্রোগ্রাম আর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ব বিভাগের ইউ. এস. জি. এস. আর্থ এক্সপ্লোরে অ্যাকাউন্ট করলে সারা পৃথিবীর উপগ্রহ চিত্র খুলে যায়। সেখান থেকে যেকোনো স্থানের মানচিত্র সম্বন্ধে ধারণা করা সম্ভব। ঐ উপগ্রহ চিত্র এতটাই পুঙ্খানুপুঙ্খ সেখান থেকে আমি আমার গ্রামের বাড়ির তিন শিবের মন্দির পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছি।

    দ্বিতীয়তঃ মাপজোকের জন্য দৈর্ঘ্য মাপার রুলার, দিক নির্ণয়ের কম্পাস, কোনো কিছু অনুভূমিক কিনা বোঝার জন্য স্পিরিট লেভেল, ভূপৃষ্ঠের নতি বোঝার জন্য ক্লাইনোমিটার, কোনো স্থানে শব্দের প্রাবল্য মাপার নয়েজ মিটার, উচ্চতা মাপার অল্টিমিটার এত কিছু নিয়ে ঘোরা তো অসুবিধে। তাছাড়া প্রতি মুহূর্তে সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ও প্রয়োজন হয়। তাই আমি গুগল প্লে স্টার থেকে মুঠোফোনে এই সব অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিয়েছি। এখন দরকার মতো অ্যাপের আইকনে ট্যাপ করলেই মুঠোফোনটা ঐসব যন্ত্রের মতো আচরণ করে, রিডিং ও দেয়। তাই ইচ্ছেমতো স্থানীয় মানচিত্র তৈরি করা এখন খুবই সহজ।

    তাহলে কি ভাবছেন গো পাঠক বন্ধুরা? মানচিত্রবিদ্যা নিয়ে একটু নাড়াচাড়া তো করাই যায়, তাই না?



    চলবে...
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩৩৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শু | ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ১২:১৯542112
  • আপনার লেখা বরাবরই ভালো লাগে, এটাও তাই। অনেক পুরোনো কথা মনে করিয়ে দিলেন। গ্রাম থেকে টাউনে এসে যখন হাইস্কুলে ভর্তি হই, স্কুলের দৌলতে সিলেবাসের বই ছাড়াও ফ্র্যাঙ্ক স্কুল এটলাস নাম আরেকটি বই জুটেছিল। ক্লিশে হলেও বলতে হয়, সে বই এক অন্য দুনিয়া আমার সামনে এনে দিয়েছিলো।

    btw, ভুবনের খোঁজ দেওয়ার জন্যও অনেক ধব্যবাদ :-)
  • Sara Man | ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:০৯542118
  • ধন্যবাদ 'শু', আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো।
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৪১542294
  • অসাধারণ। কত জানালেন। কত জানতে ইচ্ছে করে এই বয়সেও। ইউ এস জি এস এর লিংক দেবেন? আমার গ্রামে জোড়া শিবের মন্দির যদি দেখতে পাই! অনেক পুরনো ছবি দ্বীপের নাম টিয়ারঙ মন পড়লো - তার গান " আমি চান্দের সাম্পান যদি পাই"। ভুগোল ও ম‍্যাপ মন যে এমন উচাটন করে দিতে পারে
  • Sara Man | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ১২:০৬542297
  • নমস্কার হীরেন বাবু বহু লেখায় আপনার বিদগ্ধ পাণ্ডিত্যের পরিচয় পাই। আপনি USGS Earth Explorer লিখে গুগলে সার্চ করুন, Sign in option পেয়ে যাবেন। ভালো থাকবেন।
  • Nirmalya Nag | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:৪৮542311
  • কৃষ্ণনগরের কর্কটক্রান্তির ফলকের দুরবস্থার কথা জেনে খুব খারাপ লাগল। ক'দিন আগে মিজোরামে চমৎকার ফলক দেখে এসেছি ওই রেখার। একটা লিংক দিচ্ছি নিজের তোলা ছবির, তবে এখানে দেখা যাবে কি না নিশ্চিত নই।
     
    https://photos.app.goo.gl/bzjcBiGaN7mbYXE36
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৩৫542313
  • usgs এর ছবি
     
    গুগল আর্থএর ছবি
     
    দুটো ছবি তেই কলকাতার nift কে দেখানো হয়েছে।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৪০542314
  • Usgs এ একাউন্ট করে উপগ্রহ চিত্র দেখলাম। একাউন্ট করার সময় প্রচুর প্রশ্ন করল। আবার কিসব টোকেন জেনারেট করতে হল। ভেবে ছিলাম এতে আরো স্পষ্ট ছবি পাবো। কিন্তু উপরের ছবিতে যতটা জুম করে দেখিয়েছি তার থেকে আর বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। আরও ভালো ও স্পষ্ট ছবি পাওয়ার কি উপায় আছে কোনো?
     
    অন্যদিকে নিচের ছবিটা গুগল আর্থ থেকে পাওয়া উপগ্রহ চিত্র। অনেক স্পষ্ট ও ভালো বোঝা যাচ্ছে তুলনায়। কিন্তু আমেরিকা বা জাপানে যত স্পষ্ট উপগ্রহ চিত্র পাওয়া যায়, ততটা স্পষ্ট নয়। ম
  • | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ২১:২২542315
  • কি চমৎকার ব্যপার স্যাপার। আহা আমি তো বেড়াতে গেলে বিশেষত হিমালয়ের দিকে ম্যাপ সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। লেহ শহরে লাদাখ বুক স্টোরের মালিক বলছিলেন ট্রেকাররা এখনো প্রিন্টেড ম্যাপ নিয়েই যায়। ৪ জনের টিম হলে চারজনেই এক এক কপি করে নেয়। কোথাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে যাতে ফিরতে পারে।
     
    ভারতে সার্ভে শুরু করে ব্রিটিশরা মোটামুটি ১৮০২ নাগাদ। তখন অবশ্য ভারত নামে কন দেশ অফিশিয়ালি ছিল না, ছিল কিছু রাজ্যের সমষ্টি। প্রথম সার্ভেয়ার বলতেই মনে পড়ে জর্জ এভারেস্ট, যাঁর নামে পীক ফিফটিনের নামকরণ হয় এভারেস্ট। যদিও অঙ্ক কষে এটা যে সর্বোচ্চ তা বের করেছিলেন রাধানাথ শিকদার। এভারেস্টের ইন্টারেস্টের জায়গা ছিল দ্য গ্রেট আর্ক। এভারেস্টের করা জরিপের কাজ নিয়ে দারুণ ইন্টারেস্টিং বই জন কীয়ের লেখা দ্য গ্রেট আর্ক।
     
    আবারো বলি খুবই ভাল লাগছে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ এপ্রিল ২০২৫ ২২:১৪542317
  • নির্মাল‍্য
    আপনার লিংক ধরে মিজোরামের কর্কট রেখাটি দেখলাম! জানতাম না কিছুই কেবল পুরনো দিনে দেখা ছবির কথা মনে পড়ে ট্রপিক অফ ক্যান্সার ! হেনরি মিলার - প্যারিসের হুল্লোড়
  • :|: | ১৩ এপ্রিল ২০২৫ ০৪:১২542324
  • "গ্রিনিচে মূলমধ্যরেখার ওপরে পা দেওয়ার জন্য পর্যটকদের ডলার গুণতে হয়।"
    এইটি ইন্টারেস্টিং। জিবি পাউন্ড বা ইউরো না -- ডলার।
  • ভট্টাচার্য হরনাথ | ১৩ এপ্রিল ২০২৫ ১০:১৯542332
  • আমি অন্য বিষয় এর ছাত্র।কিন্তু ভ্রমণপিয়াসী।তাই ছোট থেকেই ম্যাপ নিয়ে আগ্রহ।সরকারি কাজ করার অঙ্গ হিসেবে একবার কয়েক দিনের ট্রেনিং হয় বহরমপুর এ এই বিষয়ে।তবে আপনার লেখাটি পড়ে আগ্রহ বেড়ে গেলো।।
    অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।আরো লেখা পড়তে চাই।
  • Sara Man | ১৩ এপ্রিল ২০২৫ ১২:৩২542338
  • ধন্যবাদ নির্মাল্য বাবু, আপনার ছবিটা দেখলাম। একবার ইন্ডিয়ান মিটিওরোলজিকাল সোসাইটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আমেদাবাদে কর্কটক্রান্তি রেখার মনুমেন্টের ছবি শেয়ার করা হয়েছিল। তখন আমি কৃষ্ণনগরের ছবিটা ওখানে দিলাম। অবাক কান্ড, IMD অফিসারেরা জানতেনই না যে পশ্চিমবঙ্গে ফলক আছে।
     
    দময়ন্তীদি এবং হরনাথ বাবু আপনাদের অনেক ধন্যবাদ জানাই
     
    ডলারের কথা যিনি লিখেছেন তাঁর নামটা জানতে পারলাম না। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। গুরুচণ্ডা৯ তে এই সংশোধনীগুলি পাই বলেই নিজেকে ধারালো করার সুযোগ হয়, এইজন্যই এই প্ল্যাটফর্মটা আমার এত ভালো লাগে। রয়্যাল অবজারভেটরির ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখলাম, বড়দের ২৪ পাউন্ড আর ছোটদের ১২ পাউন্ড করে টিকিট। এটা আমার আগেই দেখে নেওয়া দরকার ছিল।
     
    রমিত, আমি একটু পড়াশোনা করে দেখছি। তারপর বলব।
  • Sara Man | ১৪ এপ্রিল ২০২৫ ০১:০৮542355
  • রমিত, ভারত সরকারের নীতি অনুযায়ী ইমেজগুলো একটু আবছা করে দেওয়া হয়, পুরো রেজোলিউশন কমন পাবলিককে দেওয়া হয়না। আর USGS, Google Earth থেকেই ইমেজ নিয়ে নিজের কাজে লাগায়।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ এপ্রিল ২০২৫ ১২:২৩542367
  • ফ্রান্সে আমাদের বাড়ির প্রতিবেশী দুকোপিনি সায়েব বললেন গ্রীনিচে দুটো মেটাল স্ট্রিপ বসিয়ে তার মাঝে একটু আলো লাগিয়ে দিয়ে ইংরেজ একটা লাইন টেনে বহু অর্থ উপর্জন করে। এই তো আমাদের কাছের শহর আরাস যান পথেই পাবেন মেরিদিয়ান সাইন। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে যত ইচ্ছে ছবি তুলুন, টিকিট কাটতে হবে না! গল্প নয়। দেখলাম রাস্তার ধারে মাইল ফলকের মতো সেটি জানানো আছে! সেটিই অরিজিনাল মেরিদিয়ান (দা ভিঞ্চি কোডে পাবেন) কিন্তু দুর্বুদ্ধি ইংরেজ এবং পরে (১৮৮২ ) আমেরিকানরা মিলে এই কাল্পনিক লাইনটি ম্যাপের বাঁ দিকে, চ্যানলের পশ্চিম পারে ঠেলে দিয়ে টাকা আদায়ের খুড়োর কল খুলে দিলে।
  • reeta bandyopadhyay | ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ২২:২৩542398
  • কি তথ্য সমৃদ্ধ লেখা।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ২৩:৫৭542402
  • সহমত! তারিফ জিতনি ভি কী জায়ে কম হ‍্যায়
  • Sara Man | ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ২৩:৫৮542403
  • ধন্যবাদ রীতা ম্যাডাম।
  • কৌশিক সাহা | ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ০০:৩৩542433
  • সুন্দর লেখার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
     
    একটি তথ্যগত অসঙ্গতি রয়ে গিয়েছে। এই কথাটি ঠিক নয়।
    "আমার ঘোরার সাথে সাথে ইসরোর কৃত্রিম উপগ্রহ গুলো ফোন ক্যামেরার সাহায্যে বুঝে নিল আমি কোথায় আছি। "
     
    আপনার ফোনের transmitter ISROর GRNS উপগ্রহ মণ্ডল অব্দি বার্তা বা তথ্য পৌঁছে দেবার মত শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ওই উপগ্রহ অন্য তরঙ্গদৈর্ঘে ground stationএর সঙ্গে বার্তা বা তথ্য বিনিময় করে। আপনার বা ভারতবর্ষে স্থিত যে কোনও ফোনের জন্য উপগ্রহ মন্ডলি কেবল তাদের অভ্যন্তরীণ ঘড়িতে মাপা সময় এবং ঊপগ্রহ কক্ষে তাদের অবস্থান বিন্দুর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ সম্বলিত বার্তা কিছুক্ষণ পরপর পাঠাতে থাকে। ফোন অন্তত চারটি উপগ্রহ থেকে এমন বার্ত পেলে গোলাকার পৃষ্ঠের ত্রিকোণমিতির সাহায্য ভূপৃষ্ঠে নিজের অবস্থান বিন্দুর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণ করতে পারে। এবার ইন্টারনেট থেকে download করা ডিজিটাল মানচিত্রের ওপর নির্ধারিত বিন্দুর অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশে আপনার অবস্থান এঁকে দেয়। ফোনের অভ্যন্তরীণ inertial sensor আপনার হাঁটা চলা জনিত ত্বরণ এবং ঘূর্ণন বল মেপে সমাকলন করে আপনার চলার ও ঘুরে যাওয়ার গতি দিক ও নূতন অবস্থান নির্ণয় করে। কিছুক্ষণ পরপর ফোন উপগ্রহের পাঠানো বার্তা থেকে আপনার অবস্থান হিসেব করে নিজের গণনা করা অবস্থানের সাথে মিলিয়ে নিয়ে কোন ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নেয়। অতএব আপনার চলা বা ঘোরার হিসেব আপনার ফোন করে, উপগ্রহ নয়।
    নানা যান্ত্রিক গোলযোগ কারণে, বিশেষতঃ আভ্যন্তরীণ পারমাণবিক ঘড়ির ত্রুটির জন্য ISROর GNSS উপগ্রহমণ্ডল এখনও ফোনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারেনি। আপনার ফোন মার্কিন GPS, রুশ GLONASS, ইউরোপীয় GALILEO এবং চৈনিক BAIDU উপগ্রহ মণ্ডল ব্যবহার করে।
     
    ভবদীয়
  • কৌশিক সাহা | ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ০০:৪৪542434
  • @হীরেন সিংহরায়
    মাননীয়,
    ফরাসীরাও কিন্তু Paris মানমন্দিরের মধ্য দিয়ে আঁকা Paris Meridian সূচক রেখা Rose Line দেখিয়ে বেশ টু €/$/£/¥ কামিয়ে আসছে। Da Vinci Code উপন্যাসের একটি অকুস্থল বোধহয় ওই Rose Lineএর তলায়।
    এই সূত্রে আমরা Tintinএর Red Rackham's Treasureএর গল্প মনে করতে পারি। ওর মধ্যে Paris আর Greenwich Meridianএর গণ্ডগোল নিয়ে বেশ মজার ব্যাপার আছে।
    নমস্কারান্তে
  • কৌশিক সাহা | ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ০০:৫৮542435
  • @হীরেন সিংহরায়
    কী জ্বালা! আপনার পদবীকে auto correct বারবার সিংহভাগ লিখে দিচ্ছে। যদিও আমি সবিনয়ে মানি গুরুচণ্ডাৡর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বহুলাংশে সত্য।
     
    আপনার দেওয়া ছবিটি, যতদূর মনে পড়ে, ফ্রান্সের মধ্যভাগ দিয়ে যাওয়া একটি দ্রাঘিমা রেখার দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য করা জরিপের অংশ। এই মাপের এক ভগ্নাংশ হিসাবে দৈর্ঘ্য মাপনের একক রূপে এক মিটারের সংজ্ঞা প্রথমবার লিখিত হয়েছিল। পরে পারমাণবিক মাপজোকের ভিত্তিতে এক মিটার এককের সংজ্ঞা লেখা হয়।
    নমস্কারান্তে
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ০০:৫৯542436
  • আমাদের গ্রামের কাছ দিয়ে যেটি গেছে সেটি পার হতে পয়সা লাগে না। প‍্যারিস শহরে আছে মেরিডিয়ান লাইন (ড‍্যান ব্রাউন যাকে রোজ লাইন বলেছেন) যা চেনা যায় একটি চাকতি দিয়ে ( Arago). সেখানে খরচা তো লাগে নি।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ০১:০৭542437
  • আমাদের গ্রাম থেকে আরাস যাবার পথের লাইনটি ফরাসি মেরিডিয়ান রেখা বলে আমাদের প্রতিবেশী মসিও দুকোপিনি জানিয়েছেন। তিনি স্থানীয় স্কুলে অংকের শিক্ষক ছিলেন! মিটারের মাপ বোধহয় অন‍্য - ডানকার্ক থেকে বার্সেলোনার কি একটা আর্ক থেকে যেন।
  • Sara Man | ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:৪৬542442
  • কৌশিক বাবু আপনি খুব সুন্দর বিষয়টি বুঝিয়েছেন। কিন্তু ইসরোর বিজ্ঞানীরা যে প্রযুক্তি বিদ্যমান, তা বোঝাতে চাননি। যে প্রযুক্তি ভবিষ্যতে হতে পারে, সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। যেমন ধরুন ফোন ক্যামেরা অন করে আপনি যদি চারপাশটা দেখেন, তখন সেটি কোথাকার ছবি বুঝে, ধরা যাক স্ক্রিনে টম এন্ড জেরি এসে দিক নির্দেশ করতে থাকল - এইরকম আর কি।
  • sch | ০৪ জুলাই ২০২৫ ১৮:০১732288
  • " মোবাইল ফোনের ক্যামেরা অন করে ফোনটাকে সোজা করে ধরে ঘুরে গেলাম এক পাক। আমার ঘোরার সাথে সাথে ইসরোর কৃত্রিম উপগ্রহ গুলো ফোন ক্যামেরার সাহায্যে বুঝে নিল আমি কোথায় আছি। " =এটা তো এখন গুগল ম্যাপ বা ম্যাপল এ direction হিসেবে দেখায়। 3D view ও দেয়
    আর ভার্চুয়াল টুর তো আপনি গুগল আর্থের 3D view থেকে পেতেই পারেন।
    আসলে GIS আসার পর থেকে geography র একটা নতুন দিগন্ত খুলে গেছে। এখন GIS না জানলে ইঞ্জিনিয়ারিং এর অনেক শাখাতে কাজ করাই সম্ভব না। আমি মনে করি যারা geography -পড়ে তারপর GIS এ শিফট করেন তাদের অনেক অনেক সম্ভাবনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন