এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বাঙালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন! 

    Muhammad Sadequzzaman Sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ৭৯২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • ৩.০৮.২০২৩ 

    রোগের নাম ক্যালকেনিয়াম স্পার! বহু তত্ত্ব তালাশ করে নাম পাওয়া গেছে। পায়ের গোড়ালির অস্বাভাবিক হাড় বৃদ্ধিকে এই নামে ডাকে ডাক্তারেরা। আমি এর শিকার। মুশকিল হচ্ছে এর জুতসই কোন চিকিৎসা নাই। ভারি কাজ করা যাবে না, লম্বা সময় দাঁড়ায় থাকা যাবে না, লম্বা হাঁটা যাবে না, নরম জুতা পড়তে হবে, ব্যায়াম করতে হবে ইত্যাদি। সহজ সরল নিয়ম, মেনে চললেই সুস্থ। কিন্তু আমার এই সহজ সরল নিয়ম মেনে চলা মুশকিল। আমাকে দাঁড়িয়েই থাকতে হবে, প্রয়োজনে ভারি কাজ করতে হবে, ওজন নিতে হবে। বিদেশে অমন ফরমা ধরে কাজ পাওয়া মুশকিল। এর মধ্যে আবার ডাক্তার বলছে লম্বা সময় বসেও থাকা যাবে না। সুকুমার রায়ের বাবুরাম রাম সাপুড়ের সাপের মত কাজ খুঁজতে হবে আমাকে। এদিকে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ পত্র কিনে আমার ফুত্তুর হওয়ার আর বেশি দেরি নাই। আমাকে তখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হল। আমাকে সত্য সত্যই রোমানিয়া ছাড়তে হবে। দুই দিন আগে আমি আকাশে উড়ছিলাম, কার্ড হাতে আমার, আমি সব জয় করে ফেলব। কিন্তু পা- টা এমন ভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে কে জানত? কেউ জানত না, আমিও জানতাম না। শেষ বারের মত ডাক্তারের কাছে গেলাম। বললাম আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ও বলল তোমার দুর্ভাগ্য, কিচ্ছু বলার নাই তোমাকে। আমি বললাম এমন হতে পারে যে আমি দেশে এর ভাল চিকিৎসা পাব? পা সুস্থ হয়ে যাবে? বলল তোমাদের দেশের ডাক্তারদের খবর  আমি জানি না। আমি আমার জ্ঞানে যা বুঝেছি তা তোমাকে বলেছি। আমি বললাম যদি অপারেশন করে কেটে ফেলে দিয়েই বাড়তি হাড়? ও যেন লাফ দিল চেয়ারে একটা! আঁতকে উঠে বলল অসম্ভব, তুমি এমন কোন কাজ কর না। এখন হাঁটছ, পরে হাঁটা চলা বন্ধ হয়ে যাবে! এরপরে নানা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় কি কি জানি বলল, যার অর্থ আমার কাছে হচ্ছে আর যাই হোক, কাটাকাটি করা যাবে না! সব শেষে ও আমাকে আরেকটা পরামর্শ দিল। বলল সহজ একটা জিনিস বুঝ, তুমি ডায়বেটিক হলে কী করতা? ওষুধ খেয়ে ভাল হয়ে জেতা? তোমাকে আজীবন নিয়ম মেনে চলতে হত, আর তাতেই তুমি সুস্থ। এই ক্ষেত্রেও তোমার এমনই। নিয়ম মেনে চল, সুস্থ থাক! এরপরে আর কিছু বলার থাকে না। শুরু হল আমার জীবনের ভিন্ন গল্পের সূচনা। 

    প্রথমেই আমি ডিপ্রেশনে চলে গেলাম। কয়েকদিন গেছে আমি জানি না চাঁদ সূর্য উঠেছিল কি না সে কয়দিন। আমাকে দেখে মানুষ আঁতকে উঠছিল। সবার প্রশ্ন কী হয়েছে? উত্তর আমারও জানা নাই, দিব কি! আমার কাছে রোমানিয়ার অস্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়াটা বিশাল বড় কিছু বলে মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এর বাহিরে আমার জীবন বলতে কিছু নাই। মনে হচ্ছিল আমি এখান থেকে চলে যাব মানে আমি মরেই যাব হয়ত! কেন এমন মনে হচ্ছিল আমি জানি না। বেশ কয়েকবার মনে হয়েছে জীবন রেখেই করব কী! মরে গেলেই তো সব শেষ, কীভাবে ফিরব আমি দেশে তা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। ভাল কোথাও শুনতে কষ্ট হচ্ছিল আমার। মৃত্যুর খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম এইটা খুব বুঝতে পারছিলাম। স্বপ্নে টানা আম্মা আব্বাকে দেখতে থাকলাম। যেন উনারা আমার অপেক্ষাই বসে রয়েছেন। 

    এর ভিতরে কাছের বন্ধু বুঝে না বুঝে, আমার ভিতরে কী চলছে তা না বুঝেই আমাকে বুঝাতে লাগল আমাকে কেন থেকে যেতে হবে। কোন কাজ না করে, দেশ থেকে টাকা এনে হলেও আমাকে রোমানিয়ায় থাকতেই হবে! যে রোমানিয়াকে আমি স্বর্গের কাছাকাছি কিছু একটা ভেবে প্রচণ্ড মন খারাপ করে মৃত্যুর চিন্তায় বিভোর সেখানের বিজ্ঞাপন আমাকে সুখ দেয়নি। আমি বলেও বুঝাতে পারিনি। ও আমার ভাল চেয়েই বলছিল, টাকা ও নিজেই দিবে এমনও বলছে। কিন্তু আমি তখন অন্য জগতে বাস করছি। 

    হুট করেই মুক্তি মিলল এই পরিস্থিতি থেকে।  মনে হল আরে, আমি কেন রোমানিয়াকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কেন মনে হচ্ছে এ না হলে আমার জীবন শেষ? আমি কী দূর্বা ঘাসের উপরে এক ফোঁটা শিশির দেখার জন্য সব ত্যাগ করতে পারি না? আমি রঙিন প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো দেখে মুগ্ধ হতে পারি না? আমার কেন রোমানিয়া না হলে চলবে না? আমি রোমানিয়ার জন্য জীবন দিতে চাচ্ছি, আমি এর চেয়ে ঢের উন্নত দেশে গেলে কী করব? আমি তো হাত পা কেটে ফেলে দিতে হলেও রাজি হয়ে যাব! এ কোন শরীফ? এ সাথে তো আমার পরিচয় নাই! মনে হল নিজেকে আবিষ্কার করলাম আবার। মনে হল আমি এই কারণে এই দেশে আসি নাই, আমি নিজেকে ভেসে যেতে দিয়েছিলাম, যেখানে গিয়ে ঠেকি। যদি ভেসে আমাকে দেশে ফিরে যেতে হয় তাহলে আমি কেন মন খারাপ করব?  টাকা উপার্জন? আমি কবে কোনদিন টাকা উপার্জনের জন্য হামলে পড়েছিলাম? মনে পরে না। সবাই যখন ব্যাটন হাতে রেসের ময়দানে তখন আমি রেস থেক নাম কেটে চলে আসছি আমাদের টিনশেড বাড়িতে। সবাই যখন এভাবে জীবন যাবে বলে উপদেশ দিত তখন আমি চিন্তা করতাম আব্বাকে তো দুইদিন আগেই গোসল করিয়েছি, আবার কবে করালে স্বাভাবিক হবে ব্যাপারটা? নখ গুলো কাটা দরকার না? আচ্ছ, আজকে কী রাতে রুটিই খাবে না কি নুডলস পাস্তা কিছু একটা বানাব? 

    আমার মনে পড়ল মহিউদ্দিন মোহাম্মদের লেখা একটা প্রবন্ধের কথা যেখানে তিনি  লিখছেন, “আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে ‘পার ক্যাপিটা জিডিপি' একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ সূচকটি দিয়ে বুঝা যায়— কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকরা যথেষ্ট উৎপাদনশীল কি না। সিঙ্গাপুরের ‘পার ক্যাপিটা জিডিপি' ৬৪,০০০ মার্কিন ডলার, এর অর্থ হলো একজন সিঙ্গাপুরিয়ান নাগরিক বছরে ৬৪,০০০ মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা উৎপাদন করেন। আবার চেক রিপাবলিকের ‘পার ক্যাপিটা জিডিপি' ২৩,০০০ মার্কিন ডলার, এর অর্থ হলো একজন চেকোস্লোভাকিয়ান নাগরিক, একজন সিঙ্গাপুরিয়ান নাগরিকের চেয়ে, পণ্য ও সেবা উৎপাদনে বছরে ৪১,০০০ মার্কিন ডলার পিছিয়ে আছে। এ পরিসংখ্যান অনুসারে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি চেক রিপাবলিকের অর্থনীতির চেয়ে অধিক সফল ।
    কিন্তু কে অধিক সুখী? একজন সফল সিঙ্গাপুরিয়ান নাকি একজন ব্যর্থ চেকোস্লোভাকিয়ান? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সিঙ্গাপুরিয়ানের চেয়ে একজন চেকোস্লোভাকিয়ান অধিক সুখী জীবনযাপন করেন। সিঙ্গাপুর ঘুরে আমার নিজেরও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। সবাই শুধু কাজ আর কাজ করছে। কোনো আনন্দ নেই, উপভোগ নেই। এটি একটি সংকটময় পরিণতি। আমি কি আমার সন্তানকে বলবো, সফল সিঙ্গাপুরিয়ান নয়, একজন সুখী চেকোস্লোভাকিয়ান হও? অথবা সুখী চেকোস্লোভাকিয়ান নয়, একজন সফল সিঙ্গাপুরিয়ান হও?” (আধুনিক গরু-রচনা সমগ্র/ মহিউদ্দিন মোহাম্মদ)। আমি জানি আমি চেক নাগরিক না, বাংলাদেশ আর চেক এক জিনিস না। কিন্তু সুখের প্রশ্নে তো এক! আমার সুখ কোথায়?  
    নিজেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে ভাসলাম বেশ কিছুক্ষণ। তখন আমি জানি আমি কী করব। 

    বাড়িতে জানালাম আমি ফিরছি। সব খুলে বললাম। বাড়ি থেকে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তের দায় আমাকেই নিতে বলল। আমি যা করব তাতেই রাজি সবাই। এতে সুবিধা এক যে আমার উপরে বাড়ি থেকে কোন চাপ নাই। সমস্যা হচ্ছে এতে করে এও বলা হয় এরপরে আফসোস করলে সেই দায়ও তোর! কিন্তু আমি সেই সময় পার করে ফেলেছি। 
    বিপত্তি বাঁধল বিমানের টিকেট নিয়ে। এই দুনিয়ায় সব অনলাইন হয়ে গেছে। আমরা পরে রয়েছি প্রস্তর যুগে। নানা এজেন্সির খোঁজ করলাম গুগল ঘেঁটে। কিন্তু উঁহু, কাজ হয় না। কেউ উল্টা পাল্টা দাম চায়, কেউ বলে দেয় টিকেট ফিকেট ওরা করে না। গেলাম দূতাবাসে। এর আগেও গিয়েছিলাম, জানিয়েছিলাম আমি কী করতে যাচ্ছি। এবার যাওয়ার সময় আমাদের দূতাবাসের রিসেপশনে যে একজন রোমানিয়ান মহিলা কাজ করে তার সাথে কথা বললাম। ওঁর নাম সুজানা। এবার আমার মুগ্ধ হওয়ার পালা। সুজানা আমাকে অবাক করল। বলল আরে আমি নিজেই তো একজন ডাক্তার! বলে আমার সব কাগজপত্র দেখল। বলল তোমাদের কমিউনিটি জানে না যে আমি ডাক্তার। ওরা ইচ্ছা করলে প্রাথমিক চিকিৎসা আমার কাছ থেকে নিতে পারে। বলে আমার ওষুধ পরিবর্তন করে দিল, বলল আগের ওষুধ গুলো দামী, এগুলা ওইটারই অন্য কোম্পানির, দাম কম। এরপরে আমি বললাম আমার দ্বিতীয় বিপদের কথা, টিকেট কাটতে পারছি না। বলল সমাধান আছে, বলে নিজের এটিএম কার্ড দিয়ে দিল আমাকে! বলল টাকা ভরে টিকেট কেটে ফেল! বলে নিজেই আমার টিকেটের বুকিং দিয়ে ফেলল। আমি চললাম টাকা ভরতে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত ওই কার্ড দিয়ে টিকেট কাটা হয়নি। পরে আমি তুর্কি এয়ারের অফিস থেকে নগদ দিয়ে টিকেট কিনেছিলাম। ৩১ জুলাই টিকেট, ১ তারিখ ভোরে নামব দেশে। আমি এবার অত্যাবশ্যকীয় প্রশ্নটা করলাম, জিজ্ঞাস করলাম, বিমানে খাবার দিব তো? বলল হ্যাঁ খাবার দিবে! আমি আগের মত পরিস্থিইতে পড়তে চাইনি আর, তাই ঝুঁকি নেইনি। 

    বাড়ি থেকে বলা হল তুই না ফিরলে সমস্যা না কিন্তু ফেরার পথ বন্ধ করিস না। আমি তদাস্তু বলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিলাম। ফেরা হবে কি না জানি না। তবে রাস্তা এখনও আছে ফেরার। 
    যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসতে থাকল। একজন দুইজন করে অনেকেই জেনে গেছে যে একজন, এই ক্যাম্পের ইতিহাসে প্রথম কেউ দেশে ফিরে যাচ্ছে। ভারতীয়রা অবাক হয়ে জানতে চাচ্ছে কাহিনী কী? কেউ পরামর্শ দিল আমি যেন ভুলেও দেশে চিকিৎসা করার কথা না ভাবি, গিয়েই সোজা ভারতের ভিসা নিয়ে সব চিকিৎসা ভারতে করাই! ভারতের চিকিৎসার উপরে বিশ্বাস আমাদের অনেকটা অলৌকিক কিছুর প্রতি বিশ্বাসের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ যদি বলে ভারতের চিকিৎসা আসলে এমন কিছু না, আমাদের বিএসএমএমইউতেও এমন চিকিৎসা পাওয়া যায়, তাহলে কেউ হয়ত কোপ দিয়ে কল্লা ফালায় দিতে পারে! কঠিন ইমান ভারতের চিকিৎসার প্রতি! 

    বিমানে উঠার আগের দিন একজন একটা বস্তা নিয়ে হাজির! দেশে নিয়ে যেতে হবে! হইছে না কাম! আমি অতি ভদ্রলোক, মুখের উপরে বলতেও পারছি না যে আমি পারব না। আবার আমি জানি এত গুলো জিনিস কোনমতেই নিতে পারব না আমি। যাই হোক, নিজের কিছু জিনিস ফেলে, কিছু জিনিস নিয়ে নিলাম। আমার লাগেজ একটা, সব নিতে হলে আরেকটা লাগেজ  লাগে। কিনব? প্রশ্নই উঠে না। আমাদের ক্যাম্প ভর্তি লাগেজে। কীভাবে? এতদিন যতজন গেম মেরে চলে গেছে তারা প্রত্যেকেই তাদের লাগেজ ফেলে গেছে। আমিই এগুলার খোঁজ রাখিনি। অনেকেই দেখলাম তিন চারটা করে লাগেজের মালিকানা দাবী করছে। আমার দিব্য দৃষ্টি খুলে গেল। একজনকে বললাম আমার একটা লাগেজ লাগবে। আমার বিশ্বাস ছিল ক্যাম্পে আমার একটা আলাদা জায়গা আছে সবার মাঝে, আমি চাইলে কেউ না করতে পারবে না। সত্যই তাই। চলন সই একটা লাগেজ পেয়ে গেলাম। 

    আরেকটা বিষয় অবাক করল। সবাই পকেট থেকে যত দেশের টাকা ছিল সব আমাকে দিয়ে দিতে থাকল। নিয়া জান ভাই, এখানে এগুলার মূল্য নাই, আপনে খরচ করে ফেইলেন! একজন বলল টাকাটা ওঁর বাড়ির একজনের একাউন্টে পাঠায় দিতে। একজন বলল ঢাকায় নেমে টাকা কই পাবেন, এই পাঁচশ টাকা হাতে রাখেন, সকালের নাস্তা করবেন! এঁদেরকে আমি কীভাবে বুঝাই আমার একটা ডেবিট কার্ড আছে যা দিয়ে আমি রোমানিয়ায় বসেই শপিং করতে পারি, আর দেশে পৌঁছে আমার টাকার অভাব হবে? আমি নিতে চাই নাই প্রথমে। পরে বুঝলাম এইটা প্রবাসীদের সংস্কৃতি! এমনই করে থাকে সবাই। একজন বলল আরেকটা অদ্ভুত গল্প। বলল ভাই, এখানে আমরা আসছি অল্প কয়েকদিন হয়। মধ্যপ্রাচ্যে থাকার সময় তারা যে দেশে ফিরে যায় তার বিমানের টিকেট কেটে দেয় আর বিনিময়ে নিজের বাড়ির জন্য শপিং করে মালপত্র পাঠায় ওই লোককে দিয়ে! আমি জানতাম না এমন গল্প। পরে আরও কয়েকজন নিশ্চিত করল যে এইটাই স্বাভাবিক গল্প। 

    সোমবার ফ্লাইট। তাই আমাকে বিদায় জানাতে ক্যাম্পে তেমন কেউ ছিল না। যারা ছিল তাদের মধ্যে একজনের চোখ কী ছলছল করে উঠেছিল? না কি আমারই চোখ ভিজে যাচ্ছিল? কিন্তু কেন? এই সেই কুখ্যাত ক্যাম্প, যেখানে বৃষ্টিতে আমাদের রুমে নোংরা পানি ঢুকে সয়লাব হয়ে গেছিল। এখানেই বদমায়েশ কোম্পানি দুই মাস ধরে গরম পানি বন্ধ করে রেখেছে। এখানেই শীতের সময় হিটার বন্ধ করে দিত। এই ক্যাম্পের একটা স্ক্রুরর প্রতিও কোন প্রেম থাকার কথা না আমার। অথচ বুকের ভিতরে মোচড় দিয়ে উঠল কয়েকবার! অদ্ভুত মানুষের মন। 

    বিমান এক ঘণ্টা লেট। ইস্তাম্বুলে এক ঘণ্টা বিশ মিনিট ট্রানজিট। আমি বুঝলাম এক ঘণ্টা লেট আমাকে ইস্তাম্বুলে বিপদে ফেলবে। প্রায় বিপদে পরে যাচ্ছিলাম। বিশাল বড় এই বিমান বন্দরের এক প্রান্তে আমাদের নামিয়েছে আর অন্য আরেক প্রান্তে আমার ঢাকার বিমান তৈরি হচ্ছে ডানা মেলার জন্য। দুর্বল পা নিয়ে যতদূর দ্রুত যাওয়া সম্ভব চললাম আমি। পৌঁছে দেখে অর্ধেক যাত্রী উঠে গেছে বিমানে। আমি উঠার হয়ত পাঁচ মিনিট লাগছে, এরপরেই ঘোষণা শুনলাম, সব যাত্রী উঠে গেছে, এবার উড়াল দিবে আমার সোনার বাংলার উদ্দেশ্যে। বিমানে উঠেই অসম্ভব একটা ভাল লাগা কাজ করল।  সোজা ঢাকায় যেহেতু যাবে তার মানে হচ্ছে প্রায় সব যাত্রীই বাঙালি। পিছন থেকে একজন বলল দেখি, একটু যেতে দিন, এমন বাক্য যেন জীবনেও শুনিনি আমি। বিদেশে এমন হয়? আমার সামনে এক বোরকা পরা মহিলা, আমিও বললাম, খালা যাইতে দেন! তিনিও আমাকে বললেন, ব্যাগটা তুলে দেও! কারও ব্যাগ তুলে দিয়ে এমন তৃপ্তি আগে কোনদিন পাই নাই! 

    সাত ঘণ্টা ইস্তাম্বুল থেকে ঢাকা, সব মিলিয়ে দশ ঘণ্টায় আমি বুখারেস্ট থেকে ঢাকা। ভোরে নেমে একটা অবিশ্বাস্য কাণ্ড হল। হেঁটে ইমিগ্রেশনের দিকে এগিয়ে গেলাম। একটা বুথের সামনে চার পাঁচজন দাঁড়িয়ে। আমিও লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার পালা আসতেই এগিয়ে গেলাম। জিজ্ঞাস করল কই থেকে আসছি? বললাম রোমানিয়া। সিল মেরে বলল জান! গেলাম লাগেজ নেওয়ার জন্য। শুনেছি ট্রলি পাওয়া যায় না আমাদের বিমান বন্দরে। দেখলাম বেল্টের পাশেই সারিসারি ট্রলি। একটা নিয়ে দাঁড়ালাম। দাঁড়াতেই দেখি আমার লাগেজ দেখা যাচ্ছে ধুকধুক করতে করতে আসতেছে আমার দিকে। টেনে নিয়ে রউনা হলাম স্ক্যান মেশিনের দিকে। একজন ডাক দিয়ে বলল কই থেকে? বললাম, রোমানিয়া। বললেন স্ক্যান করতে হবে হব না, ওইদিক দিয়ে চলে জান! মাত্র পনেরো মিনিটে আমিই বাহিরে নিজেকে আবিষ্কার করলাম। অনিয়মের প্রতি আমাদের এত বিশ্বাস যে কেউই আসেনি বিমান বন্দরে। কারণ ধরেই নিয়েছে আরও দুই তিন ঘণ্টা পরে আমি বের হব। আমার এক বন্ধু বিমান বন্দরে এসে এদিক সেদিক ঘুরছে, ভুলেও যে দিক দিয়ে আমার বের হওয়ার কথা তার আশেপাশে আসেনি। কারণ ও নিশ্চিত দুই ঘণ্টার আগে ওইখানে যাওয়ার কোন মানে নাই। যাই হোক, সব কিছুর শেষ আছে। আমার চার মাস দশ দিনের রোমানিয়া সফরের ইতি হয়েছে। আমি এখন শেরপুরে বসে বসে লিখছি বাঙালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের গল্প! 

    জানি না জীবন আমাকে কোন দিকে নিয়ে যাবে। জানি না আমি কোন ভুল করছি কি না। আমি জানি যে আমি কী করছি। আমি জানি কৃষ্ণ সাগর দেখার থেকেও জরুরি হচ্ছে অন্ধকার করে আসা মুশলধারে বৃষ্টিতে চুপ করে দাঁড়িয়ে ভেজা। আমি জানি সবার পথ এক না। অন্যের রচিত পথে হাঁটতে যাওয়াটাই ভুল, এর চেয়ে বড় কোন ভুল আর হয় না। আমার পথটাই আমার। বাকি সব বিলকুল ঝুটা!   
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ৭৯২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ও নাম! - Suvasri Roy
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:87b:8018:e48b:57e2:1abd:1dd1 | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০১:৫৪522078
  • অনেক কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু তারই মধ্যে দিয়ে নিজের নিজেকেও খুঁজে পেয়েছেন। এটা পড়ে সত্যিই বড় ভালো লাগলো। একটা যেন 'আশ্রয়' এর অনুভূতি হলো। ভালো থাকুন, ভালো হয়ে উঠুন।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০১:৫৭522079
  • স্বদেশ আপনাকে বুকে টেনে নিক। জাফর ইকবালের লেখায় পড়েছিলাম দেশের বৃষ্টির শব্দ না শুনতে পেয়ে তিনি আর বিদেশে থাকতে পারেন নি, দেশে ফিরেছিলেন। সামান্য একটা জিনিস, টিনের চালে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ, এই সামান্য যে কত অসামান্য, ওঁর লেখা পড়ে বুঝেছিলাম। আমরা বেশিরভাগই এইসব অমূল্যকে ভুলে বাজীকরের বাজনার দিকে দৌড়োই বলেই হয়তো আমাদের বেশিরভাগের জীবনে এত অযথা সংকট। 
    এই সাইটে বহুকাল নিয়মিত যাতায়াত করি। বহু ভালো মন্দ লেখা পড়ি, আলাপ আলোচনা গল্প কবিতা প্রবন্ধ পড়ি, তর্কবিতর্ক পড়ি। কিন্তু আপনার লেখার মত অকপট শক্তিশালী ভানহীন উদারচিত্ত ঝরঝরে লেখা আর পড়িনি আগে। এত নিরভিমান এত সৎ লেখাও পড়িনি আগে। আপনি সুস্থসবল হয়ে হাত খুলে লেখালিখি করুন, অনেক কিছু আপনার দেবার আছে মানবজাতিকে।
     কিছু মনে করবেন না, এইসব বলার অধিকার হয়তো আমার নেই, একজন মুগ্ধ পাঠক হিসেবে বলে ফেললাম। ভালো থাকবেন। অনেক ভালো হোক আপনার। 
  • r2h | 192.139.20.199 | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০২:০৩522080
  • খুব ভালো লাগলো।
    লেখাটা পড়ে, এই ভাবনাটার সঙ্গী হয়ে।

    উৎপাদনশীলতার হিসেবে মানুষকে মাপা, আপস্কিল, প্রতিযোগিতা, এইসবের থেকে ব্যতিক্রমী ভাব্না খুবই বিরল।
  • যোষিতা | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০৪:১২522081
  • জীবন নতুন করে শুরু হলো।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০৬:৫৯522082
  • একটি পর্যায় শেষ হল। যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিন, সুস্থ হয়ে উঠুন, সুস্থ থাকুন। আপনার পরের অভিযান, পরের লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:3447:1f04:d003:38f5 | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০৭:০৯522083
  • জাফর ইকবালের ঐ বাংলাদেশে টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দের কথা গতকালও এক সহকর্মীকে বলছিলাম। 
     
    শরীফ, ভাল হয়ে ওঠ। দেশে ফেরায় খুশি হয়েছি। তোমার মত মানুষকে দেশের প্রয়োজন 
  • বিপ্লব রহমান | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০৭:৪৩522084
  • শেরপুরে হাতির অভায়রণ্য হইছে,  এইবার দেখতে যামু। 
     
    ওয়েলকাম ব্যাক।  গেম মারা চইলবে cool
  • Amit | 163.116.203.87 | ০৪ আগস্ট ২০২৩ ০৮:০৮522085
  • সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন। আশা করি কয়েকটা দিন একটু রেস্ট আর সাবধানে থাকলে পায়ের সমস্যা অনেক কমে যাবে। লেখাগুলো খুব ​​​​​​​ভালো ​​​​​​​লাগতো। ​​​​​​​ প্রতিটি ​​​​​​​পর্বের ​​​​​​​জন্যে ​​​​​​​বসে  ​​​​​​​থাকতাম। 
     
    সবকিছু হয়তো প্ল্যান মাফিক হলোনা  এবার আপনার। শরীরটা বড়ো বেশি ভোগালো। কিন্তু একটা নতুন দেশ নতুন লোকজন কালচার সব দেখা তো হলো। এগুলোই পরে মনে থেকে যাবে। আর যদি কখনো আবার বিদেশে যেতেও হয় আপনাকে ,  তখন এই অভিজ্ঞতা বা চেনাশোনা সবকিছু কাজে আসবে হয়তো। 
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ০৫ আগস্ট ২০২৩ ০১:২৭522111
  • সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এতখানির প্রাপ্য আমি কি না জানি না। যারা নিয়মিত পড়েছেন তাদেরকে আবারও ধন্যবাদ। বিদেশ, প্রবাস জীবন এগুলা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না আমার। বিদেশে না গেলে সম্ভবত ধারণা তৈরিও হয় না। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন খুব কাছ থেকে দেখা, তাদের সাথেই উঠা বসা, এক সাথে কাজ করা, এটাই আমার জীবনের সেরা সম্পদ হয়ে থাকবে। তাঁদের নিয়ে আরও কিছু লেখার ইচ্ছা আছে। যারা গেম মেরে চলে গেছে তাঁদের নিয়েও লেখার ইচ্ছা আছে। অনেকের সাথেই যোগাযোগ আছে এখন আমার। ইতালিতে আছে বেশ কয়েকজন। কষ্ট করছে কিন্তু তবুও কেন জানি তারা ভাল আছে বলে। সম্ভবত উপার্জন বেশি করছে রোমানিয়া থেকে, আর সেটাকেই ভাল থাকার অর্থ করছে। তাঁদের কথা লেখব হয়ত। পরিচিত আরও কয়েকজন ব্যাগ গুছিয়ে বসে আছে, গেম মেরে চলে যাবে। আমাকে টানাটানি করেছে অনেকেই। সবাই মিলে গেলে বিপদ আপদ সামাল দেওয়া সহজ হবে, চলেন ভাই! আমি পারিনি। আমার দ্বারা আসলেই সম্ভব না গেম মারা। এগুলাও লেখব হয়ত। দালালদের গল্প লিখব, লেখার ইচ্ছা আছে। টাকা পয়সা লেনদেন নিয়েও লেখার ইচ্ছা আছে, মাফিয়া শব্দটা যে শুধু শুনেই এসেছি আজীবন, আর সেখানে তাদের অবাদ বিচরণ তা নিয়েও যা জানি তা লিখব হয়ত। 
    যাই হোক, জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন থাকার পরে ফেরত এসেছিলেন, আমি চার মাস দশদিনেই ফেরত চলে আসছি। ছুটি নিয়ে আসছি, কিন্তু সম্ভবত আর যাওয়া হবে না। তাই জাফর ইকবালের তুলনা দিয়েন না আমার সাথে। তিনি কিংবদন্তী। আমি নিতান্তই ছোট্ট মানুষ। আমি আমার এলাকার থানার ওসিকেও চিনি না। ঢাকা, সারা দেশ অনেক বড় ব্যাপার। আমার জগত জুল ভার্নের মত। ঘরে বসে দুনিয়া ভ্রমণ! আপাতত অনেক বই জমে গেছে, পড়ব। লেখার যেগুলা ইচ্ছা আছে সেগুলা লেখব। পায়ের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। হয়ত ভারত যেতে পারি (যদি ভিসা দেয়!) 
    অনেককে ব্যক্তিগত ভাবে ধন্যবাদ দিতে পারলে ভাল লাগত। আমার লেখাকে অনেকেই ভাল বলছেন। এইটা আমার জন্য কত বড় পাওয়া তা বলে বুঝাতে পারব না। শখের বসে লেখি। যা মনে আসে তাই লেখি। কোনদিন ভাল মন্দ হিসাব করিনি। কিন্তু যখন ভাল বলে তখন ভালই লাগে। ধন্যবাদ আপনাদেরকে। অসংখ্য ধন্যবাদ।
  • ইন্দ্রাণী | ০৫ আগস্ট ২০২৩ ০৫:২১522113
  • সকলের মতো আমিও আপনার এই যাত্রার সঙ্গী ছিলাম এতদিন। আগাগোড়াই পড়েছি। ভেবেছি। চিন্তায় পড়েছি।
    সুস্থ হয়ে উঠুন। লিখুন আরো। 'জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা।"
  • kaktarua | 99.246.49.217 | ০৭ আগস্ট ২০২৩ ২২:৪৩522239
  • প্রতিটা পর্বের অপেক্ষায় থাকতাম। এই জগৎ সম্বন্ধে কোনো ধারণাই ছিল না। লিখতে থাকবেন। ভালো থাকবেন।
  • | ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৫:১৩522266
  • হ্যাঁ ইন্দ্রাণী যা বলেছে, জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা। এ অভিজ্ঞতাও আপনার কোনও কোনওদিন ঠিক কাজে আসবে। সুস্থ থাকুন, লিখতে থাকুন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন