এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বাঙালের রোমানিয়া গমন! 

    Muhammad Sadequzzaman Sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৭ মে ২০২৩ | ১০০০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • ৩০/০৪/২০২৩ 
     
    রোমানিয়া নতুন শ্রম বাজার হিসেবে চালু হতেই বাংলাদেশসহ ভারত নেপাল শ্রীলঙ্কার মানুষজন ঝাঁপিয়ে পড়েছে আসার জন্য। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষ একে ইউরোপ ঢুকার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছে। ফলাফল আমিও চলে আসছি। আসার পর থেকেই দেশ থেকে অজস্র মানুষের নানা রকমের ম্যাসেজ পাচ্ছি। সবাই জানতে চাচ্ছে, আসতে চাচ্ছে ক্যামন অবস্থা, কেমন অবস্থা রোমানিয়ার। পরিস্থিতি বুঝাতে আমার চোখে যা দেখছি তাই লেখার চেষ্টা করছি। 
     
    পরিস্থিতি বলার আগে বলা উচিত আসলে রোমানিয়ার অবস্থা। বাংলাদেশের মানুষ কোন অজ্ঞাত কারণে রোমানিয়াকে বিশাল কিছু ভাবছে। সত্য হচ্ছে রোমানিয়ার অর্থনীতি বাংলাদেশের থেকে ভাল না। পূর্ব ইউরোপের দেশ। এদের নিজেদের নানা সমস্যা আছে। ইউরোপ বলতে যে দৃশ্য চোখে ভাসে এখান তার কিছুই নাই। যে জিনিস আপনে জার্মানিতে পানির মত সহজে পাবেন এখানে তার কোন দেখাই পাবেন না। শ্রমিক বান্ধব না এরা। অথচ সবাই প্রথমেই মনে করে আরে ইউরোপের একটা দেশ, এখানে কী আর মধ্য প্রাচ্যের মত করে আচারন করবে? সত্য হচ্ছে তেমন আচারনই করে এখানে অনেক জায়গায়। এই সব দেখার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান আছে কি না তাও জানি না। থাকলে তারা সম্ভবত দিন রাত ঘুমায় কাটায়! 

    সূক্ষ্ম রেসিজিমের স্বাদ পেয়েছি। কেমন? ঠিক একই কাজ করি আমি আর আমার রোমানিয়ান কলিগ। সমান পরিশ্রম, একটু বেশিই হয়ত করি। কিন্তু তারা ঠিক ঘড়ি ধরে আট ঘণ্টা কাজ করে বাড়ি ফিরে যায় আমাদের করতে হয় নয় ঘণ্টা! আমি কোন একজন সাদা চামড়ার মানুষকে দেখি নাই এমন কাজ করতে। এমন আচারন আমাদের সাথেই করতে পারে। আমাদেরকে যে বস্তির মত একটা ক্যাম্পে রাখছিল ওইখানেও ওরা কোনদিন কোন রোমানিয়ান বা সাদা চামড়ার কাওকে রাখবে না। সাদা চামড়া বলছি ইচ্ছা করেই। যদি শুধু আমাদের সাথে বা বাঙালীদের সাথে এমন করতে তাহলে বুঝতাম আমাদের এজেন্ট ভাল না, ভুলভাল বলে এনে এখন এই রকম করছে আমাদের সাথে। কিন্তু তা না, ভারতীয়রা আসছে, নেপালিরা আসছে, শ্রীলংকান আসছে, সবার সাথেই এমন আচারন করছে! 
    শ্রীলংকান একটা মেয়ে আমি প্রথমে যে হোটেলে কাজ করতাম সেখানে কাজ করত। মেয়েটা রীতিমত হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করা একজন দক্ষ কর্মী। ওকে বলে আনছে ইংরেজি জানলেই চলবে। আর এখানে এনে জিজ্ঞাস করছে রোমানিয়ান ভাষা জান? ও বলছে না! এখন হোটেলের রুম ক্লিন করে! ও গিলতেও পাড়ছে না ফেলতেও পাড়ছে না পরিস্থিতিতে আছে। টাকা খরচ করে আসছে, এখন কী করবে? ফিরে যাবে? 

    টাকার কথাও বলা উচিত। এখানে যা বলে আনে তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। ট্যাক্স কাটবে, আরও কী কী কাটবে বলে দেখবেন টাকা পাচ্ছেন দেশের টাকায় চল্লিশ হাজার! সাত আট নয় লাখ টাকা খরচ করে চল্লিশ হাজার কামাই করবেন? তাও ভিনদেশে? রোমানিয়া নিয়ে চিন্তা করার আগে আরও ভাল করে ভাবেন। 

    আমি আমার কথা আগেও বলছি এখনও বলছি, আমি টাকা কামাই করতে আসি নাই, এইটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সত্য কথা। আগেরদিনের পর্যটকেরা যেমন বের হয়ে পড়ত আমিও তেমনই বের হয়ে পড়ছি। আমি রাজবল্লভপুরের টিনশেড বিল্ডিং বাড়িতে থেকেই জীবন শেষ করতে চাই নাই। ওইখানে থেকে শান্তিতে এই জীবন পার করে দিতে পারতাম অনায়াসে। এক পেট নিয়ে চিন্তা নাই। এক বেলা খাওয়া তো নৃ ফাউন্ডেশনও খাওয়ায়! কাজেই আমি কেন পরে আছি, কেন গেম মেরে পালিয়ে যাচ্ছি না তা বলে লাভ নাই। আমার কোনমতেই অবৈধ হওয়া যাবে না। কারণ তাহলে আমি যে যেভাবে দুনিয়াটা দেখতে চাই তা পারব না। 

    রোমানিয়ার সব খারাপ? না। রোমানিয়ার মানুষ ভাল। আমি দেশ এখনও দেখি নাই একটুও। কিন্তু এই কয়দিনে মানুষ দেখছি। যারা আমাদের উপরে ছড়ি ঘুরাচ্ছে, অন্যায় করছে তারা যেমন আছে তেমনই এমন মানুষের দেখাও পেয়েছি এই অল্প সময়ে যে যা ভুলে গেছিলাম বহুদিন আগে, সহমর্মিতা, মানবতা, মানবিকতা, যা আমাদের কাছে হাস্যকর লাগে তার দেখে পেয়ে মুগ্ধ হয়ে গেছি। আমরা তো কেউ অযাচিত সাহায্য করতে এলে প্রথমে চিন্তা করি, মতলব কী? ওর লাভ কী? যদি খুঁজে পাই যে কোন লাভ নাই তাইলে হালায় বেকুব না কি বলে তার বিচার বুদ্ধির উপরে প্রশ্ন এনে ইতি টানি প্রসঙ্গের। 

    অনেকেই ভাল কোম্পানি পেয়েছে। ভাল আছে তারা। কিন্তু আমি যা দেখছি তাই বললাম। এখন আমি একটা ওষুধ কোম্পানিতে আছি। এই কোম্পানির মাথায় আছে ইরাক, সিরিয়ার কিছু মানুষ। যারা এত বছরেও ইউরোপিয়ান হয়ে উঠতে পারে নাই। অথচ তাদের কোম্পানিতে কাজ করা রোমানিয়ানরা আমাদেরকে বুকে টেনে নিয়েছে আপন করে! এদের জন্যই ভাল আছি। উপরের লোকজনের সাথে কথাবার্তা হয় সামান্য। যাদের সাথে কাজ করি, কাজ করাই তারা অসম্ভব ভাল, এইটাই এখন পর্যন্ত ভাল কিছু ঘটেছে আমার রোমানিয়া আগমনের পরে।
     
    রোমানিয়া কনসুলেট অফিস খুলেছিল ঢাকায়। ঢাকার মহামান্য দালালেরা তাদের সাথে এমন আচারনই করছে যে এরা সবাই কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ নিয়ে ফিরে গেছে। শোনা গেছে দালালরা সুটকেস ভর্তি ডলার নিয়ে অস্থায়ী দূতাবাসের লোকজনের হোটেল রুমে গিয়ে হাজির হয়েছিল! টাকায় কাজ না হওয়াতে এমপি, মন্ত্রীদের দিয়ে ফোন দিয়ে ভিসা দিতে হবে এমন থ্রেট দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে! যা হয়েছে তা হচ্ছে রোমানিয়ার দুয়ার মনে হচ্ছে বন্ধই হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। 
     
    ০৬/০৫/২০২৩ 

    নিস্তরঙ্গ জীবন। ওষুধ বানাই, বানানোর পরে ওষুধের মেশিনপত্র পরের ব্যাচের জন্য ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করে রাখি। রুমে ফিরে একটু বিশ্রাম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি রান্নাবান্নায়। খাও, ঘুম, সকালে আবার উঠা, নাকে মুখে পাউরুটির দুই তিনটা স্লাইস গুঁজে দিয়ে হাজির ওষুধ উৎপাদনের মূল জায়গায়। আজকে কী বানাব? আজকে কাশির সিরাপ, বিশ হাজার বোতল! আমি উৎসাহ পাই না কী কী দিয়ে বানাবে তাতে। আমার আগ্রহ কই যাবে এই ওষুধ? কতদূর? দক্ষিণ এশিয়ার দিকে যাবে? না, যাবে লিবিয়া, সিরিয়া, জর্ডান! নাম গুলো দেখেও দারুণ লাগে। আমি এখানে যে শিশিতে ওষুধ ভরে দিব তা খেয়ে সুস্থ হবে লিবিয়ার কোন এক শিশু, বৃদ্ধ- বৃদ্ধা, তরুণ- তরুণী! 

    এখানে আসার পরে, এই নিস্তরঙ্গ জীবনে মানুষের দেখা পাইছি। রোমানিয়ানরা অসাধারণ মানুষ সবাই। আমি অন্তত এখন পর্যন্ত কাউকে দেখিনি যাকে মনে হয়ছে এই লোকটা মানুষের ছদ্মবেশে আছে! সবাই এত আন্তরিক যে আপনি চাইলেও পারবেন না তাদের সাথে আন্তরিক না হয়ে। দুই একটা ঘটনা বললে বুঝতে সুবিধা হবে। 

    আমরা যেদিন এখানে আসি তারপরের দিন ঈদ ছিল। আমাদেরকে ছুটি দেয় কোম্পানি। অথচ আমাদের আগের কোম্পানিতে যে বাঙালীরা কাজ করছে তারা ছুটি পায় নাই। ওদেরকে বলা হয়েছিল যদি কেউ ঈদের দিন বেতন কাটার ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে থাকে তাহলে তাদের প্রত্যেকের দশ দিনের বেতন কাটা হবে! অথচ ওই কোম্পানির মালিক মুসলিম, ইরাকি মুসলিম! 

    আমরা আসার পরে নিয়ম হচ্ছে আমাদেরকে খাওয়ার জন্য কিছু টাকা কোম্পানি দিবে। যে কারণেই হোক এই টাকাটা আমরা পাই নাই। পরেরদিনই সবার কানে পৌঁছে গেল যে আমরা টাকা পাইনি। এবং ওরা ধরেই নিল যে আমরা হয়ত না খায়া আছি! হয়ত আমাদের পকেটে পর্যাপ্ত টাকা নাই। আমাকে একজন ডেকে আলাদা করে জিজ্ঞাস করল, আমি খেয়েছি কি না! দুপুরে লাঞ্চে কি খাইছি? আমি প্রথমে বুঝি নাই, পরে যখন বুঝলাম তখন আমার মাথায় হাত! আমি বললাম যে ঘটনা সত্য, আমাদের টাকা দেয় নাই এখনও, কিন্তু আমরা না খেয়ে কেউ নাই। আমারা ঠিক আছে, সমস্যা নাই। আমাকে আরেকজন বলল, সাদেক, তোমাদের কী লাগবে বল, তুমি বলতে লজ্জা পেয়েও না। টাকা লাগলে বল, কিছু কিনে দিতে হলে বল! আর হ্যাঁ, এই সব ফেরত দিতে হবে না! 
    আমি আমার জীবনে এমন পরিস্থিতিতে পড়ি নাই। বললাম, আরে না, এমন কোন পরিস্থিতিতে পড়ি নাই আমরা। তোমাদের এমন প্রস্তাবের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। 

    আমি রুমে ফিরে সবাইকে বললাম যে আজকে এই কাণ্ড হয়েছে। তারাও জানালেন তাদের সাথেও মোটামুটি এমন কিছু না কিছু হয়েছে। আমরা আমাদের মত ভুলে গেলাম। কাহিনী শুরু হল পরেরদিন সকাল থেকে। একজন হাজির, হাতে বাজার! আমার এই জীবনে এমন দিন আসে নাই কোনদিন যে কেউ আমি না খেয়ে আছি ভেবে খাবার এনে হাজির হবে আর আমি সেই খাবার নিব! কিন্তু আমি নিলাম। ওই যে আন্তরিকতা! ওরা এত আন্তরিক, আমি না নিলে ও কষ্ট পাবে! একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি। আরেকজন হাজির! সসেজ, পাউরুটি, জ্যাম, জেলি, টিন ফুড! আরেকজন আমার হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বলল, দৌড় দিয়ে রুমে রেখে আস তো! ভিতরে চাল! ওকে আমি বলছিলাম আমাদের প্রধান খাবার হচ্ছে বয়েল রাইস! 

    আমি এদের এই কাণ্ড জীবনে ভুলব না। ওরা সাহায্য করতে চেয়েছে। আমি তাতেই মুগ্ধ। কিন্তু এরপরে যা করল তা আমার ধারণার বাহিরের জিনিস। আমরা বাঙাল মন এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমি নিতে লজ্জা পাচ্ছিলাম, আমার ভিতরে নানা দ্বিধা কাজ করছিল। অথচ ওরা কিন্তু এরপরেই ভুলে গেছে। এখন কাজের ক্ষেত্রে ঝাড়ি দিচ্ছে, হাসছে, ঠাট্টা করছে, ডেকে নিয়ে চুপি চুপি জুস খেতে দিচ্ছে, পেপসির বোতল এনে দূর থেকে ইশারা দিচ্ছে যেন এক ফাঁকে এক ঢোক মেরে দিই। মাস পড়ার দুইদিন আগেই দশ দিনের বেতন পেয়ে গেছি। যার কারণে সবাই জানে এখন আমাদের কাছে টাকা আছে। এরপরে কেউ একটা শব্দও করেনি এই সব নিয়ে। আমরা বিব্রত বোধ করব এমন কিছুই ওরা করবে না। 

    যাকে একটু কঠোর মনে হয়েছে। মনে হয়েছে এই একজনই আমার জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলবে এখানে, তিনি হচ্ছে সিইও। তিনি আসলেই কঠোর। কিন্তু তারও অন্য চেহারা দেখলাম। পায়ে একটু ব্যথা পেয়েছিলাম। যতখানি ব্যথা পেয়েছি তা এমন কিছু না। আমি রুমে চলে আসছিলাম ছুটির লোভে। সিইও যখন শুনলেন আমি ব্যথা পেয়ে রুমে চলে গেছি তিনি নিজে চলে আসলেন আমার রুমে। সাথে বরফ, কিছু ওষুধ, যা আমাদের কোম্পানিরই। ওষুধ নিজে খাইয়ে গেলেন, বিশ্রাম নিতে বললেন, রাতে আবার আসবেন বলে চলে গেলেন। রাত না, একটু পরেই আরেকজনকে দিয়ে বাহির থেকে ক্লফেনাক জেল, আরেকটা কিসের জানি মলম, ওষুধ কিনে পাঠালেন। নির্দেশনা আসল যে এই ক্রিম এখনই লাগাতে হবে, ওষুধ এখনই খাইতে হবে! এদিকে আমি বিব্রত! আমি তো জানি এইটা বেশি কিছু না। তিনি রাত না, সন্ধ্যায় এসে হাজির। খোঁজ খবর নিলেন! 

    পরেরদিন যথারীতি সবার কাছে পৌঁছে গেছে খবর যে আমি ব্যথা পেয়েছি আর রুমে চলে গেছিলাম। যার যার কাছে যা যা আছে তাই নিয়ে হাজির। এখনই খাও এইটা, ঠিক হয়ে যাবে! আমি বললাম এইটা খাইছি সকালে। তিনি ঘুরে ফিরে আরেকটা কি জানি এনে হাজির, এইটা এখনই খাও! আমি আর না করতে পারি নাই। দুম করে খেয়ে ফেলছি। পরে দেখি খালি ঝিমঝিম করে মাথা! 

    তো, এদেরকে আমি ভাল বলব না তো কাকে বলব? আমার রুমমেট? যিনি নিজের স্ত্রীর ভাইকে রোমানিয়া নিয়ে আসছেন, দালালকে ফোনে বলছেন আপনি আমার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিছেন না? তাইলে এক লাখ আমাকে দিবেন না? আচ্ছা, পঞ্চাশ হাজার তো দিবেন! মানুষের মত দেখতে আমার রুমমেট দালালের কাছ থেকে টাকা নিতে না পেরে এখন স্ত্রীর সাথে প্রতিনিয়ত ঝগড়া করছে! উনার শালা রোমানিয়া আসলে উনি কোন যোগাযোগ করবেন না, নাম্বার ব্লক করে রাখবেন ইত্যাদি বলা শেষ! দারুণ না? 
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৭ মে ২০২৩ | ১০০০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ০৭ মে ২০২৩ ২৩:৩২519515
  • দৈনিক খাওযা দাওয়ার কেমন খরচ রোমানিয়ায়?
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ০৮ মে ২০২৩ ০১:১৪519531
  • যোষিতা দি, আমাদের এখানে দশ দিনে ১০০ লেই দেয় খাওয়ার জন্য। ত্রিশ দিনে ৩০০ লেই। এইটা সাত হাজার টাকার মত। এইটা দিয়ে টেনেটুনে হয়ে যায়। আমার হতে চায় না। হিসাব করে খাওয়া দাওয়ার কথা চিন্তা করলেই জ্বর আসে! 
  • যোষিতা | ০৮ মে ২০২৩ ০৫:১১519534
  • এটা তো মডার্ণ ডে স্লেভারি!
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ০৮ মে ২০২৩ ২১:৫৯519576
  • যোষিতা দি, হুবহু দাস প্রথার কপি পেস্ট। আরেকটু বললে বুঝেবেন। এখানে কোম্পানি লোক আনছে, এরপরে বিক্রি করে দিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানিতে। বিক্রি বা ভাড়া দিচ্ছে আমাদের। বেতন নির্ধারণ করছে রোমানিয়ানদের মত করে, বেশিটুকু নিয়ে নিচ্ছে মূল কোম্পানি, আর নাম মাত্র মূল্যে কাজ করছে শ্রমিকেরা। আমি এবং অন্য সবাই যারা পালিয়ে যাচ্ছে না, তাদের চিন্তা হচ্ছে যেভাবেই হোক কোম্পানির সাথে থাকা। এতে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট কার্ডটা পেতে সুবিধা হয়। কার্ড পাওয়ার পরে এখানেই ভাল বেতন কিংবা অন্য কোম্পানিতে চলে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।  
     
  • যোষিতা | ০৯ মে ২০২৩ ১১:৫৫519618
  • ঠিক ডিসিশন বলেই মনে হচ্ছে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১২ মে ২০২৩ ০০:৩০519701
  • সাদেক ভাই 
     
    সে দেশের মানুষগুলি ভালো ! আমার পক্ষপাতিত্ব অবশ্যই আছে রোমানিয়ার প্রতি - তবে এদের জামাই ষষ্ঠী না থাকলেও শ্বশুরবাড়িতে সত্যিকারের সমাদর পেয়েছি । দিনে দশ লেই ( আমাদের হিসেবে দু পাউনড) খুবই কম।  আমার স্ত্রী শুনে ভীষণ দুঃখ পেলেন- বললেন এটাতো  স্লেভারি । জানুয়ারিতে দেখে এসেছি পাউরুটির দাম আট লেই । লুকা নামের দোকানেএকটু সস্তা । ইংরেজি সিনেমার খোঁজ দিয়েছিলাম আপনাকে তবে টিকিটের দাম অসম্ভব বেশি । আমাকে ফোন করবেন । ভাল থাকবেন। 
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ১৪ মে ২০২৩ ০০:২৯519778
  • হীরেন দা, সিনেমা দেখতে যাইতেই পারি নাই। টিকেটের দাম বেশি আমাকে সম্ভবত সিনেমা দেখা থেকে ফিরায় রাখতে পারবে না। প্রয়োজনে দুই মাসে একটা দেখব, তবু দেখব! আসলে এর মধ্যে খুব চাপে পড়ে গেছি। সময় বের করতে পারছি না। তবে সম্ভবত সামনে চাপ কমবে। কোম্পানিতে কী একটা অডিট হবে, আমাদেরকে দৌড়ের উপরে রাখছে। এ আরেক কাহিনী। লিখব সময় করে। আর হ্যাঁ, পাউরুটি সাত আট লেই! আমি যে চাল খেয়ে দেশি স্বাদ পাচ্ছি মোটামুটি, ওইটার দামও সাত লেই। দশ কেজি কিনি এক সাথে, সত্তুর টাকা নাই। যখন টাকায় হিসাব করি তখন মাথা ঘুরান্তি মারে! লুকার খোঁজ করব অবশ্যই। আমরা কোফল্যান্ড, লিডিলে বাজার করি। আর ওবর থেকে বাজার করি। 
     
    বৌদিকে শুভেচ্ছা জানাবেন। বলবেন কার্ড পাওয়া পর্যন্ত বা ওদের সাথে চুক্তি পর্যন্ত এই স্লেভারি করে যেতে হবে। তবে আমি কিন্তু জেনে বুঝেই আসছি, তাই ঘাবড়ানোর কিছু নাই। আমার যেহেতু বাড়িতে টাকা পাঠাতে হচ্ছে না, তাই মাসে সিনেমা দেখে, টুকটাক খাওয়া দাওয়া করে, একটু আধটু ঘুরেফিরে চলতে পারব এই টাকায়। আমার কিন্তু কোন বাড়তি খরচ নাই। নাই মানে নাই। আমি আজ পর্যন্ত একটা টান সিগারেট খাই নাই, শক্ত পানীয়ও না। তাই বাড়তি খরচের ভয় নাই। বলবেন, আমি ভাল আছি, দেশটা অসম্ভব রকমের সুন্দর। অনেক কারণের মধ্যে এই কারণটাও একটা বড় কারণ যে আমি পালাচ্ছি না। আপনি ভাল থাকবেন। সুযোগ পেলে অবশ্যই ফোন দিব,।  
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১৪ মে ২০২৩ ০৭:২৯519784
  • নব্বই সালে দেশের পি এইচ ডি ডিগ্রি নিয়ে মার্কিন মুলুকে এসে যখন পোস্ট-ডক করেছি, সেই সময়ের জীবন মনে করিয়ে দিচ্ছেন - সেই সব স্লেভারির দিন। সবুজ কার্ড - রং সবুজ নয়, ডাকবাক্স খুলে ঐ জাদুকাগজ পাওয়া নিশ্চিত হওয়ার কাগজ পাওয়ার বিকেল আমরা দুজন কোনদিন ভুলবনা। সেই বিকেলে আমরা জেনেছিলাম, স্লেভারি থেকে  মুক্তির চিঠি নিশ্চিত হয়ে গেছে আমাদের। এর পর সবুজ কাগজ হাতে পেয়ে প্রথম কাজ যা করেছিলাম - দেশ ছাড়ার পর প্রথমবার দেশের প্লেনের টিকিট কেটেছিলাম। পাঁচ বছরের সেই ব‍্যবধানের পর দেশে ফিরে দেখেছিলাম ঐ সময়ের মধ্যে ভারতবর্ষ বদলে গিয়েছিল। আমেরিকায় ফিরে এসে আমাদের জীবনও বদলে গিয়েছিল।
     
    (এখন অবশ্য এখানে পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে, স্লেভারির ছবিটা জায়গামত নজরে পড়েছিল সম্ভবত:। নাম-মাত্র খরচে পোস্ট-ডক নিয়ে আসার ব‍্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে শুনেছিলাম। আজ যাঁরা আসছেন, আই টির লোকজনেরাই বেশি, তাঁদের দেখে মনে হয়, অনেক বার্গেইন পাওয়ার নিয়ে আসতে পারছেন।)
  • z | 64.62.219.54 | ১৪ মে ২০২৩ ০৭:৩৯519787
  • খুব ভালো লাগছে। 
  • যোষিতা | ১৪ মে ২০২৩ ১৭:২০519800
  • উঁহু, ঠিক তেমন নয়, আমি তো প্রায় ট্র্যাফিকড হয়ে গেছলাম অ্যামেরিকায়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন