বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • অতিদক্ষিণদের বিরোধিতাকেও প্রতিবর্তী ক্রিয়ার স্তরে নামিয়ে আনা যায়? 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০১ আগস্ট ২০২২ | ১৪৯৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৬ (৫ জন)
  • অমিতাভ গুপ্ত একটা অসম্ভব ভালো লেখা লিখেছে রোব্বারের আনন্দবাজারে। য্দিও লেখাটার প্রতিপাদ্যের সঙ্গে আমি একমত নই, তার পরেও, বৈদ্যুতিন এবং সামাজিক মাধ্যম জুড়ে অজস্র চর্বিতচর্বণের মধ্যে, এ ধরণের বৌদ্ধিক লেখা পড়লে মগজের আরাম হয়। লেখাটা লম্বা, তবে তার যৌক্তিক মোটামুটি এইরকমঃ 
    ১। ফেসবুক, বা সামগ্রিকভাবে সামাজিক মাধ্যমে অতি-দক্ষিণপন্থী দৃশ্য-শ্রাব্য-পাঠ্য বস্তুর সংখ্যা বাম-অতিবাম-মধ্য এদের যোগফলের চেয়েও বেশি। 
    ২। এর একটা কারণ হল সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদম অতি-দ্ক্ষিণপন্থীদের সহায়তা করে বেশি (কেন, লেখক ব্যাখ্যা করেননি)। 
    ৩। এর আরও একটা সম্ভাব্য কারণ আছে। একটা স্টাডিতে দেখা গেছে অতি-দক্ষিণপন্থায় বিশ্বাসীদের বৌদ্ধাঙ্ক, অর্থাৎ আইকিউ তুলনামূলকভাবে কম। সোজা বাংলায় বললে বোকাদের অতিদক্ষিণপন্থার দিকে টেনে আনা সোজা। কারণ, বুদ্ধি কম মানে পড়াশুনো কম, বহির্জগতে বীক্ষণ কম, চিন্তাভাবনার ক্ষমতা কম।
    ৪। কিন্তু সম্ভবত এর চেয়েও বড় কারণ (লেখক বড়-ছোটো লেখেননি, ওটা আমার আন্দাজ) হল, আরও একটা গবেষণায় দেখা গেছে, ইমোশনাল কোশেন্ট, বা আবেগাঙ্ক কম থাকলে দক্ষিণপন্থী হওয়ার সম্ভাবনা তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাড়ে। "আবেগাঙ্ক যার যত কম, নিজের আবেগের উপরে নিয়ন্ত্রণও তার ততই কম। সে সহজে রেগে যায়, ভয় পায়, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হয়ে যায়। দক্ষিণপন্থী রাজনীতির তো এই রকম লোকই দরকার, মুসলমানরা সংখ্যায় বেড়ে হিন্দুদের সব অধিকার কেড়ে নেবে বললে যারা ভয় পেয়ে যাবে; বিশ্বাস করবে যে, হিন্দুদের ঘরের মেয়েদের ফুসলে নিয়ে যাওয়াই সব মুসলমানের উদ্দেশ্য।"
    ৫। এইখান থেকে লেখক একটা প্রতিপাদ্যে পৌঁছচ্ছেন।  মানুষের মাথা দুভাবে কাজ করে। "সিস্টেম ওয়ান আর টু। সিস্টেম টু সে সব কাজ করে, যার জন্য আলাদা করে মগজ খাটাতে হয়। সিস্টেম ওয়ান আমাদের বিবর্তনের সূত্রে পাওয়া ধন— যে ভয়, যে সতর্কতা, যে তৎপরতার জোরে প্রজাতি হিসেবে মানুষ বেঁচে থাকল, এগিয়ে গেল ক্রমশ, সেগুলো সিস্টেম ওয়ান দিয়েই পরিচালিত হয়।" দূরে ঘাসের ভিতর হালকা নড়াচড়া দেখে হিংস্র প্রাণীর অস্তিত্ব টের পেলে কী করা উচিত, সেটা সিস্টেম ওয়ানের কাজ, সিস্টেম টুর জন্য অপেক্ষা করতে হলে, বাঘের পেটে যেতে হত। 
    লেখকের প্রতিপাদ্য হল, অভাব, বিপন্নতা, এইসব বস্তু মানুষের বৌদ্ধাঙ্ককে নিচু স্তরে নামিয়ে আনে। তখন দক্ষিণপন্থী রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করা অত্যন্ত সোজা। বা ওটাই স্বাভাবিক প্রবণতা। বিপন্নতা থাকলে লোকে ওদিকে গড়াবেই। ফলে অতিদক্ষিণপন্থী আইটিসেলের সে সহজ খাদ্য। এর মোকাবিলা পাল্টা আইটিসেল দিয়ে হবেনা। "জেতার একমাত্র উপায়, সবার উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে পারে যে রাজনীতি, তার কথা বলা— যত ক্ষণ না সবার জীবনের প্রাথমিক প্রয়োজনগুলো মেটে, সেই রাজনীতিকে জিরোতে না দেওয়া।" 

    এই সবকটা ধাপের মধ্যে এক থেকে চারের আলোচনা অতি উপভোগ্য। কিন্তু পঞ্চম ধাপে একটা স্ববিরোধ আছে। লেখক সেটা ছুঁতে-ছুঁতেও ছোঁননি। কী সেটা? আমরা বলতে পারি "ওরা কেড়ে খেলনা কেন" স্ববিরোধ। নামটা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্পের। মন্বন্তরের সময়ের পটভূমিকায় লেখা। তারও যে ন্যারেটিভ, সেটা লেখকের কাছাকাছিই। দুর্ভিক্ষের সময় একদল লোককে নিয়ে বিদ্রোহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিদ্রোহ বলতে মজুতদারের গুদাম লুট করে খাওয়া। তাতে উৎসাহী কিছু পাওয়া গিয়েছিল। যারা কিছু খেতে-টেতে পাচ্ছিল, তাদের একাংশ, উদ্দীপ্ত হয়ে বিদ্রোহ করতে আগ্রহী হয়েছিল। কিন্তু বিদ্রোহটা আর হলনা। কেন? লেখকের ব্যাখ্যা, মোটামুটি অমিতাভর ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলে যায়। দুর্ভিক্ষ চলছিল, অনটন তীব্র হল, আর ভুখা লোকেদের উদ্দীপনা নেমে এল শূন্যে। উদ্দীপনাহীন, কেবল প্রতিবর্ত প্রতিক্রিয়ায় চেয়ে-চিন্তে খেয়ে চলা লোকেদের পক্ষে বিদ্রোহে সংগঠিত হওয়া অসম্ভব। তাদের আবেকাঙ্ক আর বৌদ্ধাঙ্ক সে জায়গায় আর থাকেনা। 

    তাহলে অমিতাভর প্রতিপাদ্যে স্ববিরোধটা কোথায়? বিকল্প রাজনীতির ধারণায়। যদি লোকের উদ্দীপনার মাত্রাই এই জায়গায় থাকে, যে তার পক্ষে আওয়াজ তোলাই অসম্ভব, তবে বিকল্প রাজনীতির কথাটা বলবে কে? কয়েকটা খেতে পাওয়া, তেলচুকচুকে লোক? তাতে কেই বা কান দেবে, কেনই বা দেবে। দেবার কথা নয়। এইজন্যই মানিকের গল্পের বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়। মানিকের গল্পে কোনো স্ববিরোধ নেই। অমিতাভর প্রতিপাদ্যে আছে। পরিস্থিতি যদি এই মাত্রাতেই পৌঁছয়, তবে তার মধ্যে থেকে একটা বিকল্প রাজনীতি গড়ে উঠবে, এটা আদপেই সম্ভব না।

    আসলে এটা কোনো নতুন সমস্যাও না। সামাজিক মাধ্যম এসে কোনো চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটায়নি তা নয়, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যম একটা অতিবাস্তব পৃথিবী তৈরি করছে (ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যম, সবাই মিলে), এটা গত শতকের রাজনীতি থেকে চরিত্রগত ভাবে আলাদা, কিন্তু প্রাথমিক সমস্যাটা এখনও একই আছে। একটা সমাজে ক্ষমতার দর্শন, একরকম করে শোষণের পক্ষে, এবং উল্টোদিকে যারা একজোট হলে পৃথিবীটা অন্যরকম করে ফেলতে পারে, তারা বিক্ষিপ্ত এবং এই কারণেই ক্ষমতার দর্শনের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, এটা নতুন না। দুইজন দাড়িওয়ালা জার্মান লোক এবং পরবর্তীতে গ্রামশি ব আলথুজার এই সমস্যাটা নিয়ে বিস্তর কাজ করেছেন, সেসব আমরা সকলেই জানি। সেসব সমালোচনার ঊর্ধ্বে এও না, চর্বিতচর্বণের কোনো কারণও নেই। এখানে যে বক্তব্যটা বলার জন্য প্রসঙ্গটা উত্থাপন করা হল, যে, সিস্টেম ওয়ান বনাম টু, এই দিত্ব আগেও ছিল, সেটা নিয়ে ভাবাও হয়েছে। তত্ত্ব নয়, প্রয়োগের স্তরেও। শুধু লেনিনের 'কী করিতে হইবে'ই দেখা যাক। খুঁজে এখন আর উদ্ধৃতি দিতে পারছিনা, কিন্তু সেখানে লেনিনের একটা সুবৃহৎ প্রতিপাদ্য ছিল, যা ভাষান্তর করলে এরকম দাঁড়ায়ঃ বিপ্লবীরা যখন শ্রমিকের সিস্টেম টুর কাছে আবেদন করেন, সেটা শুধু প্রচারই থাকে। যতই বলুন, পুঁজিবাদ আপনাদের শোষণ করে ভুষ্টিনাশ করছে, আপনারা একজোট হলেই পুঁজিবাদের অন্ত হবে, কেউ কান দেবেনা। কখন দেবে? যখন সেটা বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যাবে। বাস্তবেও তাইই হয়েছিল। রাশিয়ার শ্রমিক এবং কৃষকরা যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়তে গেল, তারা অনুভব করল, এটা একটা মারণকল, তারা অন্যের লড়াই লড়ছে। তাদের পেটে খাবার ছিল, হাতে অস্ত্র ছিল, মানিকের কৃষকদের দশা হয়নি, ইচ্ছে করলে যে তারা যুদ্ধ করে জিততে পারে, এটাও তারা বুঝল, এবং বস্তুত বিপ্লব হয়ে গেল। এটা লেনিন ওই বইয়ে লিখে যাননি, কারণ বইটা অনেক আগের। সিস্টেম ওয়ান-টুর কথাও লিখে যাননি, ওসব তিনি জানতেন না। কিন্তু সেই ভাষায় অনুবাদ করলে ব্যাপারটা কীরকম দাঁড়ায়? যুদ্ধের আগে শ্রমিকের কাছে "পুঁজিবাদীরা কিন্তু তোমাদের চুষে খাচ্ছে" এই বক্তব্যের আবেদন ছিল সিস্টেম টুর কাছে আবেদন। যুদ্ধে সেই একই আবেদন হয়ে দাঁড়াল সিস্টেম ওয়ানের কাছে। চুষে খাওয়া এবং মরে যাওয়াটা জলজ্যান্ত হয়ে গেল। তখনই ওটা বদলে গেল আদিম প্রতিবর্তক্রিয়ার তাড়নায়। সত্যি মরার ভয়, এবং সত্যি বেঁচে থাকার তাড়না। "পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন", সিস্টেম ওয়ানের কাছে অনুদিত হল  "মরো অথবা মারো"তে। আন্দাজ করতে পারি, পেত্রোগ্রাদে বসে রাশিয়া সরকারের প্রধান কেরেনস্কির খুবই অসহায় লেগেছিল। যেমন আমাদের লাগে। যে, এই ব্যাটারা যুক্তি-তর্ক-আপোষ কিছুই বোঝেনা। শুধু বোঝে পুঁজিবাদ শোষণ করছে, আর সোভিয়েতের হাতে সব ক্ষমতা চাই। 

    এটা সোভিয়েত বিপ্লবের ইতিহাস হচ্ছেনা। সেসব মান্ধাতার আমলের ঘটনা আমরা চোখেও দেখিনি। আর বিপ্লব টিপ্লব ঝট করে ঘটেওনা। কিন্তু কথা হল, একদম হাল আমলের ভোটের রাজনীতিতেও কি কাছাকাছি জিনিস আমরা দেখিনি? এই ধরুন পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন? সেই নির্বাচনে তৃণমূলের অভাবনীয় জনাদেশের রহস্যটা কী? বহু জায়গায় এ নিয়ে বহু কথা হয়েছে। অনেকে বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলি যে আসলে তৃণমূলের বি-টিম হয়ে নেমেছিল, এরকম একটা তাত্ত্বিক অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন মহিলা এবং সংখ্যালঘুদের মমতার পক্ষে এককাট্টা হয়ে ভোট দেবার কথা। এর ঠিক-বেঠিক নিয়ে তর্ক, কূটকচালি প্রচুর হয়েছে, হবেও। কিন্তু এই চক্করে যে মৌল বিষয়টা বাদ পড়ে যায়, গেছে, তা হল, অতি-দক্ষিণপন্থীরা কিন্তু সমস্তরকম ব্রহ্মাস্ত্র নিয়েই নেমেছিল সেই নির্বাচনে। সিস্টেম ওয়ানের কাছে তাদের আবেদনও কম কিছু ছিলনা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুন্ডামি, তোলাবাজি, দুর্নীতির অভিযোগও কিছু কম ছিলনা। তাহলে বিজেপি হারল কেন? কারণ একটাই, তাদের লড়তে হয়েছিল, আরেকটা সিস্টেম ওয়ান প্রক্রিয়ার সঙ্গে। ভয়। মানুষ ভয় পেয়েছিল। সবাই নিশ্চয়ই নয়, বিজেপির পক্ষের লোকেরা তো নয়ই। কিন্তু একটা বড় অংশের লোক ভয় পেয়েছিল। 

    এই ভয়টা কীসের? সংখ্যালঘুদের ভয়টা সহজবোধ্য। হিন্দি বলয়ে বিজেপির যে কাজ কারবার, তাতে মহিলাদেরও ভয় না পাবার কোনো কারণ নেই। কন্যাশ্রী ইত্যাদি না থাকলেও সেই ভয়টুকু থাকতই। কিন্তু পরিচিত এই দুটো বর্গের বাইরে, আরও অজস্র মানুষ ছিলেন, যাঁরা বর্গের সীমানা অতিক্রম করেই ভয় পেয়েছিলেন। সেই ভয় নানা ধরণের। খুল্লমখুল্লা সাম্প্রদায়িকতার ভয়। বাঙালির অস্তিত্ব উবে যাবার ভয়। এন-আর-সির ভয়। এইরকম নানা কিছু। পশ্চিমবঙ্গে একটা সুপ্ত সাম্প্রদায়িকতা চিরকালই ছিল, যা অনেকেই বলেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে বাঙালির আত্মপরিচয়ের গৌরব, দেশছাড়া হবার ভয়, তীব্র অসাম্প্রদায়িক বোধ, এরও একটা ফল্গুধারাও ছিল, এবং কখনই উবে যায়নি। এই দ্বিতীয় অংশের মানুষ, যাঁরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে খাপছাড়া ভাবে আছেন, ছিলেন, তাঁরা নানা স্তরে ভয় পেয়েছিলেন। "বিজেপি এসে যাবে" এটা তাঁদের কাছে ফাজলামি ছিলনা, সত্যিকারের ভয়ের ব্যাপার ছিল। ফলে এক অংশের মানুষের কাছে বিজেপি-বিরোধিতাটা আর চিন্তাভাবনার পর্যায়ে ছিলনা, প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্তরে এসে দাঁড়িয়েছিল।

    এই ভয়ও অবশ্যই ইতিহাস বর্জিত নয়। প্রতিবর্ত ক্রিয়াও তো বহুক্ষেত্রেই অর্জিতও হয়। কিন্তু কথা হল, অতি-দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে, মানুষের প্রাথমিক তাড়নাকে কাজে লাগানো যায়। যায়না তা নয়। সিস্টেম ওয়ানকে অতি-দক্ষিণপন্থার হাতে ছেড়ে দেওয়াটা একেবারেই কাজের কথা না। কিন্তু সেটা কেবল রাজনৈতিক সঠিকত্বের চর্চায় হবেনা। আরও প্রাথমিক জায়গায় ঢুকতে হবে। প্রাথমিক জায়গা মানে দুটো। এক, লোকে, মানে যাকে বলে টার্গেট অডিয়েন্স, কীসে চেগে ওঠে, দেখতে হবে। একদম নির্মোহভাবে, দরকারে নিজেদের অ্যাজেন্ডার বাইরে গিয়ে। দুই, এই হাইপার-রিয়েল, অতিবাস্তব দুনিয়া, বাস্তবকে বোঝাবুঝির চিত্রটা বদলে দিয়েছে। অনেক কিছু ঘেঁটে দিয়েছে। অনেক সব্বোনাশও করেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনটাকে মেনে নিতে হবে। যেমন ধরুন, "আচ্ছে দিন"ই হোক, বা "খেলা হবে", বা " বাংলা নিজের মেয়েকে চায়" -- এসব স্লোগান যেই তৈরি করে থাকুন, তিনি, যেমন স্রেফ নিজের অ্যাজেন্ডায় আটকে থাকেননি, একই সঙ্গে, মাধ্যম কেমন স্লোগান খাচ্ছে, এটাও ভেবেছিলাম। দক্ষিণপন্থী আদর্শের লোকজনের বৌদ্ধাঙ্ক কম হতে পারে, আমি জানিনা সত্যিই কম কিনা, কিন্তু স্ট্র‌্যাটেজিস্টদের বৌদ্ধাঙ্ক ঈর্ষণীয়। সেটাকে একদমই নিচু চোখে দেখা তো নয়ই, বরং টেক্কা না দিতে পারলে কিছু হওয়া মুশকিল। দিতে পারলে, সিস্টেম ওয়ানও বামপন্থীদের চলাচলের একটা পরিসর হয়ে উঠতে পারে। 

    পুঃ লিখতে গিয়ে মনে পড়ল, যে, এসব অবশ্যই নতুন ব্যাপার না। ধরুন, আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি ওবামা জিতেছিলেন কীভাবে। সেও তো স্ট্র‌্যাটেজি। বদলে যাওয়া পৃথিবীতে মাধ্যমকে কুশলীভাবে ব্যবহার করার। কিন্তু এখন আর এত লিখতে পারছিনা। তাছাড়া একটু রেফারেন্সও দেখতে হবে। ওটা পরে কোনো এক সময়ের জন্য তোলা থাকল।  

    অমিতাভর লেখার লিংকঃ https://www.anandabazar.com/editorial/essays/essay-dark-side-of-social-media-and-fake-news/cid/1359794
  • আলোচনা | ০১ আগস্ট ২০২২ | ১৪৯৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • π | ০১ আগস্ট ২০২২ ০৯:৪৪510645
  • লেখাটা আমারো খুব ভাল লেগেছিল। এই লেখার ওই পালটা ভয় তৈরির প্রতিপাদ্যও ইন্টারেস্টিং। কিন্তু ওই ভয়ের কথা যে পয়েন্ট থেকে আসছে, ইমোশনাল কোশেন্ট, তার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আবেগ নিয়ন্ত্রণাধীন না থাকার কারণে সহজেই ভীত,  বিচলিত করে তুলতে পারা সহজ, এরকম কিছু। কিন্তু ই কিউ র সংজ্ঞা তো শুধুই তাই নয়। এমপ্যাথির অভাবও  বোধহয় একটা বড় ফ্যাক্টর।  দক্ষিণপন্থীদের ই কিউ কম,  এই স্টাডির ব্যাখ্যায় কি কেবল ভয়ের কথাই এসেছে, এমপ্যাথি আসেনি?  আর এম্প্যাথির অভাব দিয়েও কি সংখ্যালঘুফোবিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না? 
     
    আর এই লেখা অনুযায়ী যদি ভয়ের ফ্যাক্টর দক্ষিণপন্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে ধরা যায়, তাহলে আবার  ভয়, ই কিউ, দক্ষিণপন্থী,  এই সমীকর‍্ণ ভেঙ্গে যায়।  
    সেক্ষেত্রে এই প্রশ্নই এসে যায়, বামপন্থী,  দক্ষিণপন্থী - এই খোপে ভাগ কি ঠিক খাপে খাপ আদৌ হয়?  
    মনে হয়না। বিজেপির পক্ষে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে যদিওবা দক্ষিণপন্থী ধরা যায়, বিপক্ষে ভোট দেওয়া মাত্রে বামপন্থী কিম্বা দক্ষিণপন্থী - বলা যায় না।
    এমনিতেও অর্থনৈতিক, সামাজিক নানা মাপকাঠিতে এই সংজ্ঞার রকমফের আছে। ই কিউ এর স্টাডিতে কীভাবে এই সংজ্ঞা এসেছে, সেটাও জানতে পারলে ভাল হত।
  • Swati Ray | 117.194.35.137 | ০১ আগস্ট ২০২২ ১০:৫৬510647
  • রাইট উইং আটিট্যুড বলতে কি সাধারণত ধরা হয় সেটা এই স্টাডি তে বলা ছিল - https://www.gwern.net/docs/psychology/2019-vanhiel.pdf 
    তবে সব স্টাডি  এই একই বেসিস এ নাও হতে পারে। 
     
    আমার মনে হয় ভয় জিনিসটা দুটো লেভেল এ কাজ করে। একটা কোর যেটা বর্তমানে হাড়ে হাড়ে ফেস করছি , অন্যটা অনাগত ভবিষ্যতের এন্টিসিপেটেড ভয়। প্রথমটার ভিত্তিতে লোককে মোবিলাইজ করা কঠিন কারণ ততদিনে ভয়টা চেপে বসেছে ,  কিন্তু একবার সংগঠিত করতে পারলে সেটার ক্ষমতা অনেক বেশি , সঙ্গে জুড়ে থাকা ইমোশন  বেশি বলে । কিন্তু অন্যটা মোবিলাইজ করা তুলনায় সহজ , যেটা গত ভোটে হয়েছিল .  কিন্তু আবার তার পাওয়ার কম। যেহেতু তখনও গায়ে লাগেনি তাই লোকে অল্পেই হাল ছেড়ে দেয়।    তাই মোবিলাইজ করার স্ট্রাটেজির সঙ্গে সঙ্গে আরও দরকার সেটা সাস্টেইন করার স্ট্রাটেজিও। 
  • একক | ০১ আগস্ট ২০২২ ১১:১০510648
  • গত বছর পাঁচেক দেখচি,  রাইট উইং পারসোনালিটি ট্রেইট কে ইকিউ এর সংগে জুড়ে গবেষণাপত্র ইদিক উদিক। ইমোশন পত্রিকাতেও বেড়িয়েছিল।
     
    প্রথমত ব্যাপারগুলো থিওরি হিসেবেই নড়বড়ে। তাচ্চেও বড় কথা এর উদ্দেশ্য কী?  আজ বলছি পারস্নালিটি ট্রেইট,  কাল বলব ডিসঅর্ডার, চালাকিটা বোঝা যাচ্চে, ইস্লামোফবিয়া থেকে ধর্মবিস্বাশ সব ক্ষেত্রেই এই ছকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর তাল করচে একদল। কিন্তু  তাই দিয়ে রাইট উইং হঠানো যাবে?  অথরইটেরিয়ান হওয়া যদি অসুবিধের হয় এনারকিস্ট গুলো ফাংশনালি সুস্থ এ গ্যারান্টি কোন মডেল দিয়েচে???  
     
     
    কাল নিজেদের বন্দুক ঘুরে নিজেদেরই বুকে আসবে। 
     
    যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষ শুধু আগ্নেয়াস্ত্র বানিয়েই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনেনা, বিজ্ঞান আর রাজনীতির যে কক্টেল সাপ্লাই এর চেষ্টা হচ্চে,  এ জিনিস ছুঁচোবাজি হয়ে  লেফট  ও লিবারাল দের পেছনেও ঢুকবে, এবং শেষমেস একদল গাবসেদ্ধ সেন্ট্রিস্ট ছাড়া কিচু পড়ে থাকবে না।
  • guru | 115.187.51.196 | ০১ আগস্ট ২০২২ ১৪:২৭510657
  • সৈকতবাবু খুবই ভালো লিখেছেন এই ব্যাপারটি |
     
    সত্যি ভোটের সময়ে একটা  ইমোশনাল স্লোগান ও টার্গেট ভোটার ঠিক করে নিতে পারলে সত্যি আজকাল ভোট পাওয়া সম্ভব |
     
    আসলে সাধারণ মানুষকে একটি শত্রু চেনাতে হয় যার বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট করে ভোট করে নিতে হয় | এই কাজটি বিজেপি সত্যি সত্যি খুব সফলভাবেই করতে সক্ষম হয়েছিল ২০২১ সালে তাদের পরিচিত হিন্দু বনাম মুসলিম ছক দিয়ে | তার পুরস্কার প্রায় ৮০ টি সিট জেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে মধ্যপন্থী বাম ও কংগ্রেস কে পুরোপুরি মুছে ফেলা |
     
      কিন্তু উল্টোদিকে দিদিও সক্ষম হয়েছিলেন পুরো খেলাটাই বাঙ্গালী বনাম অবাঙালী ছকে খেলতে | শেষপর্যন্ত দিদি জিতে গেছেন কেননা বিজেপি এখনো এই রাজ্যে পুরোপুরি নিজের সংঘটন গড়ে তুলতে পারেনি | কিন্তু লড়াইটা দীর্ঘমেয়াদী হতে যাচ্ছে কেননা বিজেপি এবং আরএসএস সবসময় দীর্ঘমেয়াদী লড়াই লড়ে | এখন যেমন আরএসএস এর প্রায় প্রতি হোয়াটস্যাপ গ্রুপেই বিজেপি আর আরএসএস দিদিকে ছদ্মবেশী মুসলীম বলে টার্গেট করছে | অতএব দিদির কাজটি সহজ হতে যাচ্ছেনা ভবিষয়তে | এই বিষয়ে সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ হলেন বাংলাদেশের শেখ মুজীব যিনি ১৯৭১ সালে ইলেকশন জিতেছিলেন খুব সহজে বাঙালী মুসলমান বনাম অবাঙালী মুসলমান এই সমীকরণ কাজে লাগিয়ে | কিন্তু পুরোপুরি যে শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি ১৯৭৫ তার প্রমাণ |
  • সুতপা দেব | 42.110.145.218 | ০১ আগস্ট ২০২২ ১৪:২৮510658
  • আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত।লেখাটা পড়ে যেমন ভালো লেগেছিলো অন্য প্রেক্ষিতে ,আবার অনেক জায়গায় 'কেনো', 'কিন্তু' ..'তবে'  মনের মধ্যে ঘোর পাক খেয়েছিলো, আপনার লেখায় তার উত্তর পেয়েগেছি।বিশেষ করে' বুধ্যঙ্ক ' এই ধারণা র সঙ্গে একে বারেই সহমত নয়।বিজ্ঞাব চর্চায় ও তো রাজনীতি চিরকালীন,কালোদের বা নারীদের বুদ্ধি নিয়ে অনেক গবেষণা বেরিয়েছে যেটা আদতে রাষ্ট্রশক্তির হুকুম তামিল করতে।তবে লেখাটা এ ভাবনার খোরাক আছে।আর এই মুহূর্তে আমরা বাধ্য  হই শিবসেনার পক্ষে দাঁড়াতে,সেখানে লেখাটা অনেক প্রাসঙ্গিক।আপনাকে ধন্যবাদ এত ভালো একটা লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
  • Sumit Roy | ০১ আগস্ট ২০২২ ১৮:৫৬510661
  • আমার মতে, অমিতাভ বাবুর উদাহরণে মুসলিম আউটগ্রুপের দ্বারা হিন্দু ইনগ্রুপে দক্ষিণপন্থীদের তৈরি পারসিভড থ্রেটের ব্যাপারটা আর আপনার ব্যাখ্যাত "নারী, মুসলিম, অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালী, NRC-ভীত, বাঙ্গালি অস্তিত্ব সংকটে ভীত" ইনগ্রুপের কাছে আসা "সাম্প্রদায়িক, বহিরাগত, বিজেপি, হিন্দুত্ববাদী, NRC চাওয়া" আউটগ্রুপের লোকেদের একচুয়াল থ্রেটের ব্যাপারটা এক নয়। দ্বিতীয়টাও অনেকটা দক্ষিণপন্থী মেকানিজমই, তাও এক নয়। একইভাবে লেনিনের বলা অস্ত্রধারী কৃষক-শ্রমিকের যুদ্ধ নামক মারণকলের থ্রেট বা পেত্রোগ্রাদে রুটির লাইনে দাঁড়ানো লোকেদের পাওয়া থ্রেট, বা ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুভাষীদের দ্বারা সরকারী চাকরি দখল হয়ে যাবার থ্রেট এক নয়। পার্থক্যটা আপনার লেখাটি থেকেই পাচ্ছি। লেনিন বলছেন, মানুষ তার নিজের জীবনের সাথে রিলেট করতে পারে এমন থ্রেটকে গ্রহণ করবে বুঝবে। মানে একই কথা একটা সময় থিওরিয়া পর্যায়ে ছিল, যা সিস্টেম টু লেভেলে, কিন্তু বিশেষ সময়ে তা গৃহীত হলো, আপনার মতে তখন এটা সিস্টেম ওয়ান হয়ে গেল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে একচুয়াল থ্রেট একচুয়াল থ্রেটই আছে, পার্থক্য হলো মানুষ তা সীমিত পরিসরে হলেও বোঝার অবস্থায় এসেছে। অমিতাভ বাবুর সিস্টেম ওয়ানের থ্রেটটা ওরকম না। সেক্ষেত্রে তিনি বুঝিয়েছেন মানুষের ভেতরে থাকা সংস্কারকে কাজে লাগিয়ে প্রোপাগান্ডা স্ট্র্যাটেজি, সাইকোলজিকাল ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে নিম্ন বুদ্ধ্যঙ্ক-আবেগাঙ্ক ওয়ালা লোকেদের মধ্যে পারসিভড থ্রেট হিসেবে তা চাপিয়ে দেয়া হয় ও এভাবে ইনগ্রুপ বায়াস ও আউটগ্রুপ হ্যাট্রেড বৃদ্ধি করা হয়। অমিতাভ বাবু দুটো রেফারেন্স দিয়েছেন দক্ষিণপন্থীদের নিয়ে, আমি আরও একটি দিচ্ছি, গবেষণা মতে নিম্ন আইকিউ ও ইকিউ এর মত দক্ষিণপন্থীদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অধিক মাত্রায় অনুভূত হুমকি বা পারসিভড থ্রেট। রেফ - https://www.researchgate.net/publication/263716878_Threat_and_Right-Wing_Attitudes_A_Cross-National_Approach, মানে দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে পারসিভড থ্রেটও বেশি। এদিকে সম্পদ কমে গেলে যে কনফ্লিক্ট বাড়ে তা সোশ্যাল কনফ্লিক্ট থিওরি মতে সম্পদ কমার জন্যই, বুদ্ধ্যাঙ্ক-আবেগাঙ্ক রিলেটেড না সেটা, পরে সম্পদ বেড়ে গেলে বা সম্পদ শেয়ারের ব্যবস্থা করে গেলে তা আবার ঠিক হয়ে যায়। তবে, হ্যাঁ, সম্পদ থাকলেও তা কমে গেছে, তা নিয়ে কনফ্লিক্ট বাড়বে এরকম হাইপাররিয়ালিটি সৃষ্টির মাধ্যমে থ্রেট তৈরির ব্যাপারটা পারসিভড থ্রেটই তৈরি করে। কিন্তু নিম্ন-বুদ্ধ্যঙ্ক-আবেগাঙ্কের সংস্কার ব্যবহার করে পারসিভড থ্রেট তৈরি মাধ্যমে সিস্টেম ওয়ান মেকানিজম ব্যবহার করা, আর বিশেষ পরিস্থিতিতে একচুয়াল থ্রেট দেখিয়ে মানুষকে মোবিলাইজ করার ফেনোমেনা এক না। এটিকে আমি সিস্টেম ওয়ান না বলে ওয়ান এন্ড হাফ বা দেড় বলতে চাই। এই ইনগ্রুপ, আউটগ্রুপ, পারসিভড থ্রেট, একচুয়াল থ্রেটের কথা আমি আনছি টাজফেল-টার্নারদের সোশ্যাল আইডেন্টিটি থিওরি থেকে। অমিতাভ বাবুর কথাগুলো আসলে ওই পারসিভড থ্রেট ও কনজারভেটিভ ম্যানিপুলেশনের ব্যাপারটার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য আমার মতে। বিজেপির বিরুদ্ধে আইটি সেল বলতে বোধ করি ওরকম মানুষের সংস্কারকে কাজে লাগিয়ে প্রোপাগান্ডা স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করার চিন্তারই সমালোচনা করেছেন। একচুয়াল থ্রেট যা আসলে সিস্টেম টু দিয়ে বুঝতে হয় তা বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষকে সত্যিকারের রিয়ালিটির সামনে চোখ খুলিয়ে অনুধাবন করানোর ব্যাপারটাকে তিনি এর মধ্যে ফেলতেন বলে মনে হয়না, এখানে সেই নিম্ন বুদ্ধ্যঙ্ক-আবেগাঙ্কের ব্যাপার স্যাপারও নেই, এটা সকল বুদ্ধ্যঙ্ক-আবেগাঙ্কের লোকেদেরই চোখে আসবে।

    অন্য দিকে আপনি যে দুটো দিকের পার্থক্য করেছেন, আমার মতে সেই সিস্টেম দেড় ও দুই মেকানিজমের ব্যাপারে আমার কিছু বলার আছে। একচুয়াল থ্রেট-ভিত্তিক গোষ্ঠী-দ্বন্দ্ব নিয়েই বিপ্লব আসলে শুরু হয়, যেমনটা পেত্রোগ্রাদে হয়েছিল, ৫২-তে ঊর্দুভাষীদের চাকরি দখলের থ্রেটে হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটাকেই জাতীয়-স্বার্থভিত্তিক দ্বন্দ্বে পরিণত করতে হয়, এটার জন্য থিওরিয়া সাজাতে হয়। এটা না হলে বিপ্লব ভেঙ্গে পড়ে। এই কারণেই ৭১ এর পর বাংলাদেশের অবস্থা করুণ, রাষ্ট্র কিভাবে কাজ করবে চলবে তা নিয়ে থিওরিয়া পর্যায়ে কিছুই হয়নি, একই কারণে গণজাগরণ মঞ্চ ফেইল করেছে, একই কারণ আরব বসন্ত ফেইল করেছে। থিওরিয়ার ব্যাপারটা শুধু থাকা না, বিপ্লবীদের মধ্যেও এটলিস্ট ভাল একটা পারসেন্টেজের মধ্যে (ধরুন এট লিস্ট ১০%) তা ভালোভাবে না রাখা গেলে বিপ্লবেরকে একটা সময় সফল মনে হলেও তা আল্টিমেটলি ফেইল করে যায়। বর্তমান বাংলাদেশে অন্তত ৩০-৪০% মানুষ ভাল খেতে পায়, কিন্তু এরাও শোষণের শিকার, কিন্তু স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে এরাও কোন রকম বিদ্রোহ করবে না, কারণ ওই চেতনার অভাব, আর সেই চেতনা যারা তৈরি করতে পারত সেই বুদ্ধিজীবী সব সরকারপক্ষের দালাল, মানে অরগানিক ইন্টেলেকচুয়াল নেই। বিএনপি কোনরকম থিওরিয়া গঠন করতে ব্যর্থ, ইসলামিস্টরা বা অতিদক্ষিণপন্থীরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে পারেনা বা নারী ইস্যুর বাইরে যেতে পারেনা, তারাও ব্যর্থই থাকবে। এই অবস্থায় পাবলিক ভুক্তভোগী হবার পরও যেকারণে বিপ্লব হয়না তার কারণ হলো গ্রামসির ওই অরগানিক বুদ্ধিজীবীর অভাব, সিস্টেম টু এর মেকানিজমের প্রবণতার অভাব, শ্রেণী চেতনার তৈরির পূর্বশর্ত হিসেবে যে একরকম উপরিকাঠামোর বিপ্লবের দরকার তার গাইডলাইনের অভাব। তাই আমার মতে দুটোর মধ্যেই একটা ভারসাম্য দরকার। আর বিকল্প রাজনীতি বলতে এখানে যে রিসোর্স বৃদ্ধির ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম উন্নয়ন টাইপ রাজনীতির কথা বলা হয়েছে তা সবসময়ই শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনীতি হিসেবেই কাজ করে এসেছে। পাবলিককে ইনগ্রুপ ধরে শোষকপক্ষ ও এলিটদের আউটগ্রুপ ধরে তাদের একচুয়াল থ্রেট দেখিয়ে এই বামপন্থী রাজনীতি করা সম্ভব, এক্ষেত্রেও মেকানিজম একই। মানে হ্যাট্রেড তৈরিতে ও মোবিলাইজ করতে কেবল পারসিভড থ্রেট লাগে না, একচুয়াল থ্রেটেই হয়, আর সেটাও সবসময় সিস্টেম দুই মেকানিজমেই যে কাজ করবে তা নেসেসারি না।
  • অমিতাভ গুপ্ত | 116.193.143.22 | ০১ আগস্ট ২০২২ ২১:২৮510665
  • সৈকতদাকে ধন্যবাদ, লেখাটার জন্য। প্রথমে একটা কথা পরিষ্কার করে নিই— যে দুটো স্টাডির কথা উল্লেখ করেছি, তার কোনওটাতেই কিন্তু বুদ্ধ্যঙ্ক এবং আবেগাঙ্ক কম থাকা আর দক্ষিণপন্থায় বিশ্বাসী হওয়ার মধ্যে ওয়ান-টু-ওয়ান ম্যাপিং থাকার দাবি করা হয়নি। আমিও কোনও মতেই দাবি করিনি যে, আইকিউ বা ইকিউ কম থাকাটা দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী হওয়ার নেসেসারি বা সাফিশিয়েন্ট কন্ডিশন। অর্থাৎ, আইকিউ/ইকিউ কম থাকলেই কেউ দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী হবে, অথবা কেউ দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী হলেই তার আইকিউ/ইকিউ কম, কোনওটাই দাবি করার নয়। দাবি এইটুকুই যে, দুটোর মধ্যে বেশ স্ট্রং কোরিলেশন আছে। 
     
    তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (অন্তত আমার মতে) এইটা: সিস্টেম টু-র উপর নিরন্তর চাপ পড়তে থাকলে মানুষের বুদ্ধ্যঙ্ক কমে, এবং তারা দক্ষিণপন্থী প্রচারের সামনে ভালনারেবল হয়ে যায়। এই দাবির প্রথম অংশ, অর্থাৎ সিস্টেম টু-র উপর চাপ ও তার ফলে ঘটা ইগো ডিপ্লিশন আচরণবাদী অর্থনীতির তত্ত্বে অত্যন্ত সুপরিচিত। আগ্রহী পাঠক সেন্থিল মুলাইনাথন ও এলডার শাফির-এর লেখা স্কেয়ারসিটি নামের বইটা দেখে নিতে পারেন। অত্যন্ত সুখপাঠ্য বই, পড়লে ভাল লাগবে। দাবির দ্বিতীয় অংশটা মূলত আমার। তার পিছনে এম্পেরিকাল স্টাডি নেই, বুঝতেই পারছেন— আমি নিতান্ত সাংবাদিক, আচরণবাদী অর্থনীতির গবেষক নই। কিন্তু, দাবিটা হাওয়ায় ভাসমান নয়— মুলাইনাথন ও শাফির যে উদাহরণগুলো দিয়েছেন, এই দাবিটা সম্পূর্ণত সেই ছকে বসে যেতে পারে। বইটা পড়লে এই বিষয়ে সংশয় থাকবে না।
     
    সৈকতদার লেখার মূল প্রতিপাদ্য হল, দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে সিস্টেম ওয়ানকে কী ভাবে ব্যবহার করা যায়, তার পথ খোঁজা। সেই কথায় ঢোকার আগে বলি, ‘দক্ষিণপন্থী’ বলতে এই লেখায় আমি মূলত সোশ্যালি কনজার্ভেটিভ রাজনীতির কথা বলেছি— বিজেপি যে রাজনীতি করে— অর্থনৈতিক দক্ষিণপন্থার কথা নয়। ফলে, তার প্রতিস্পর্ধী অবস্থান— আমার মতে— বামপন্থী অবস্থান নয়, সামাজিক ভাবে উদারবাদী অবস্থান। এই কথাটা আলাদা করে উল্লেখ করলাম, কারণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক, দুই গোত্রের দক্ষিণপন্থার সঙ্গে লড়াইয়ের অস্ত্র এক নয়। ভারতের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে অস্ত্র খোঁজা অবান্তর, কারণ ক্যাপিটালিজ়মের নামে এখানে যা চলে, যা চলছে, তা নিখাদ ক্রোনিইজ়ম। কিন্তু, আপাতত সেই প্রসঙ্গে ঢুকব না।
     
    কথাটা হল, নিরন্তর অভাব বা অন্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে সিস্টেম টু-র উপরে চাপ, এবং তার ফলে ঘটা ইগো ডিপ্লিশন এবং বুদ্ধ্যঙ্ক হ্রাসের কথাটাকে যদি মেনে নিই— গবেষণা বলছে যে, মেনে নেওয়াই উচিত— তা হলে এমন স্ট্র্যাটেজির সন্ধান করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের সিস্টেম ওয়ানকে একই ভাবে উদ্দীপ্ত করবে, দক্ষিণপন্থী প্রচার যেমনটা করে। এই ক্ষেত্রে আমি সৈকতদার অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। ‘বিজেপি এসে যাবে’, এই ভয় ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল কি না, যথার্থ সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণা ছাড়া তা নিশ্চিত করে বলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। কিন্তু, রাজ্যের ভোটিংয়ের ইতিহাস যদি স্মরণে রাখি, তবে বলতেই হয় যে, এই রাজ্যে অ্যান্টি ইনকাম্বেন্সি চিরকালই অতি কম। একটা টিপিং পয়েন্টে না পৌঁছনো অবধি শাসকদের পক্ষেই ভোট পড়ে। বিজেপির রাজনীতি সম্ভবত সেই টিপিং পয়েন্টে পৌঁছতে পারেনি। তবে, সৈকতদার পয়েন্টের মতো আমার এই কথাটাও কনজেকচার মাত্র। আদালতে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে বললে পারব না।
     
    কিন্তু, তাতে সিস্টেম ওয়ানের দখল নেওয়ার বিকল্প স্ট্র্যাটেজি খোঁজার কাজটা গুরুত্ব হারায় না। এক জন হিন্দু নাগরিকের জন্য বিজেপি ঠিক কোন ভীতি তৈরি করতে পারে, যেটা তাকে একেবারে আদিম ভয় পাইয়ে দেবে? মেয়েরা যদি বিজেপি-কে দেখে আদিম ভয় পেত, তা হলে কি উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সগৌরব প্রত্যাবর্তন ঘটত? অসমের ডি-ভোটার তালিকা দেখে কি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দু ভয় পাবে? বাঙালিত্বের পরিচিতি কি হিন্দুত্বের পরিচিতির মতো জোরদার, যাতে বাঙালি পরিচয়কে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালি তার হিন্দু পরিচয়ের উপরে রাখতে পারে? আমার কাছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও নেতিবাচক। কিন্তু, তার মানে এই নয় যে, বিকল্প স্ট্র্যাটেজি খোঁজা ছেড়ে দিতে হবে। 
     
    তবে, শুধু সিস্টেম ওয়ানের উপর পাল্টা দখলদারি স্থাপনের চেষ্টায় লেগে থাকলে রাহুল গান্ধীর নরম হিন্দুত্বের মতো হবে ব্যাপারটা। ওটা মূলত বিজেপির মাঠ। সেখানে নেমে, তাদের খেলাতেই, তাদের হারানো খুব কঠিন। সেই চেষ্টা চলুক। কিন্তু পাশাপাশি খেলাটাকে বদলে দেওয়ার চেষ্টাও করতে হবে। 
     
    এক বার ভাবলাম, ‘খেলা হবে’ লিখে শেষ করি। তার পর, নিজেকে সামলে নিলাম। থাক!
  • Ranjan Roy | ০১ আগস্ট ২০২২ ২৩:৩১510670
  • সৈকত এবং অমিতাভবাবু
      দুজনকেই ধন্যবাদ এই কঠিন উদভ্রান্ত সময়ে কিছু চিন্তার খোরাক দেবার জন্যে। 
    অমিতাভ,
     আপনার রেকো করা বইটি অবশ্যই পড়ব। অনেক দাম, তাই কিন্ডল ভার্সন কিনলাম।ঃ)))
  • Sara Man | ০২ আগস্ট ২০২২ ০৯:২২510675
  • অমিতাভ বাবু, খবরের কাগজে আপনার লেখাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার সিস্টেম টুয়ের ওপরে চাপ তো পড়ে, তবে বুদ্ধ‍্যংক অসাড় না হয়ে যায়, সে বিষয়ে এবারে সত‍্যি বলছি  সচেতন হব। আপনার মন্তব্যের শেষ অংশের চারটি প্রশ্নের শেষ দুটি আমার কাছে ইতিবাচক। কারণ আমার ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা অসমের ডি ভোটার তালিকাকে ভয় পায়, আর বাঙালি ধর্ম ভিত্তিক জাতি নয়, ভাষা ভিত্তিক জাতি - একথা তারা বেশিরভাগই বিশ্বাস করে। অতি সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে তারা বাম অপশনটির বিষয়ে মনের মধ্যে কাটাছেঁড়া করছে। তবে কনফিউজড। দুর্নীতিগ্রস্ত লোকগুলি বাঁদিক থেকে এসেছে, আবার বাঁদিকে জাঁকিয়ে বসবে - এই আশঙ্কা তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। 
  • Sara Man | ০২ আগস্ট ২০২২ ১১:০৭510681
  • অনেকেই ভাবছেন ভোটের প্রশ্নটা অবাঙালি আর বাঙালি অস্মিতায় দাঁড়িয়ে আছে। আমার কাছে বিষয়টি একটু আলাদা। একটি ছাত্রী আমাকে বলেছিল - ম‍্যাডাম ঠাকুরদা, ঠাকুমা ওদিক থেকে এসেছে। ঠাকুরদা আর নেই, ঠাকুমা আছে। কাগজ চাইছে ম‍্যাডাম, আপনি ভাবুন শুধু। আমার যে  অনুভূতি হয়েছিল, সেটা বলছি,  পঞ্চাশের কোঠার একটি লোক, নব্বইয়ের কোঠার আর একটি লোকের কাগজ দেখতে চাইছে, সব কিছু জেনে শুনে, এটি ঐ ছাত্রীর ভারতীয় অস্মিতায় আঘাত করেছে। 
    এবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আসি। এস এস সি তালিকাগুলি দেখে আমার অনেক প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী আর জুনিয়র কলিগরা বারংবার এই প্রশ্নটাই করছিল - 'ম‍্যাডাম এরা কারা বলুন তো?', 'দিদি আপনার চেনা কেউ পেল?' ব‍্যাপারটা হচ্ছে, চাকরি যারা পায়, অ্যাকাডেমিয়া সচরাচর তাদের আইডেনটিফাই করতে পারে। কিন্তু সেমি এডুকেটেড, সুপারিশ- বলীয়ানদের অচেনা ঠেকছিল। এই ঘটনাটিতে বাঙালি মেধার অস্মিতাতে আঘাত লেগেছে। 
    এই দুই ভাবে আহত চারাগাছগুলি দিন বদলের কারিগর। কোথায় এরা সালোক সংশ্লেষের পথ খুঁজবে, তার উত্তর আমার জানা নেই। দিন বদলের অপেক্ষায় আছি শুধু।
  • Sumit Roy | ০২ আগস্ট ২০২২ ১২:০৭510685
  • যাই হোক, অমিতাভ বাবুর একটা কথা খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে... "দক্ষিণপন্থী রাজনীতির তো এই রকম লোকই দরকার, মুসলমানরা সংখ্যায় বেড়ে হিন্দুদের সব অধিকার কেড়ে নেবে বললে যারা ভয় পেয়ে যাবে; বিশ্বাস করবে যে, হিন্দুদের ঘরের মেয়েদের ফুসলে নিয়ে যাওয়াই সব মুসলমানের উদ্দেশ্য।" কেন বারবার এসব কথা ছড়ানোর দরকার হয়, সে প্রসঙ্গে কিছু মাথায় এলো। ১৭শ শতকে তুরস্কে একজন ইহুদী র‍্যাবাই এর কথা জানা যায়, তার নাম ছিল সাবাতাই জেভি। সে নিজেকে শেষ জমানার মসিহা বলে ঘোষনা করে, এবং অনেক ফলোয়ার জোগাড় করে। এতে তৎকালীন ওটোম্যান সুলতানের প্রধান মন্ত্রী আহমেদ কোপ্রুলু তার উপর চটে যায়। সাব্বাতাই জেভিকে কোপ্রুলু পাকড়াও করেন আর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার শেষে তাকে দুইটা চয়েস দেওয়া হয়- ১/ তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে ২/ সাব্বাতাই ইসলাম গ্রহণ করবে। সাব্বাতাই দ্বিতীয় পন্থাটা বেছে নেয়। সে ইসলাম গ্রহণ করে নিজের জীবন বাঁচায় এবং এর ফলে শাসকবর্গের দ্বারা বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত হয়। পরবর্তীকালে সাব্বাতাইয়ের উপর শাসকবর্গের সন্দেহ বজায় থাকায় তাকে নির্বাসনের শাস্তি দেওয়া হয়। এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে সাব্বাতাইয়ের যেসব ফলোয়ার ছিলো তারা দেখলো যে তাদের মসিহা তাদেরই চোখের সামনে ধর্ম পরিবর্তন করলো এবং অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিল। এতে সাধারণভাবেই সাব্বাতাইয়ের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যায় সাব্বাতাইয়ের অনেক ফলোয়ার তার ধর্মান্তরের মধ্যেই ঈশ্বরের এক জটিল পরিকল্পনা খুঁজে পায়। ফলে সাব্বাতাইয়ের মতো সাব্বাতাইয়ের ফলোয়াররাও গণহারে ইহুদি ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়, কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে ইহুদি ধর্মের প্র‍্যাক্টিস তারা চালিয়ে যেতে থাকে। তুরস্কে এই ধর্মান্তরিত গ্রুপকে বলা হয় ডনমেহ বা ধর্মান্তরিত। এরা নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে এতই গোপনীয়তা এদের সংখ্যাটা যে আসলে কত তার কোন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার আছে। মানুষকে অনেক সময় চোখের সামনে প্রমাণ তুলে ধরলেও তারা সেটা অগ্রাহ্য করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা ইলেকশন র‍্যালিতে বলেছিল যে, সে যদি প্রকাশ্যে কোন লোককে গুলি করে হত্যাও করে তারপরও তার ভোট ব্যাংক কমবে না। ট্রাম্পের মেইন ভোট ব্যাংক হচ্ছে হোয়াইট মেল গোষ্ঠী যাদের মূল ভয় হচ্ছে মুসলমান আর মেক্সিকান। ভারতে বিজেপি সরকার গুজরাতে যতই হিন্দু বিহারিদের উপর অত্যাচার চালাক বা আসাম সরকার এনআরসি লিস্ট বানাইতে গিয়ে যতই হিন্দু খুন করুক না কেন সাধারণ নয়টা পাঁচটা চাকরি করা হিন্দু মধ্যবিত্তের কাছে তারাই হিন্দু জাতের ত্রাণকর্তা কারণ সে "মোচলমানদের" হাত থেকে তাদেরকে বাঁচাবে। তেমনি বাংলাদেশে বর্তমান সরকার দল যতই নারী নিপীড়ণ ধর্ষণ করুক তারাই নারীবাদি দল হিসাবে সবার কাছে পরিচিত থাকবে, হেফাজতরে তেল মেরে যতই মাথায় ওঠাক তাও তারা সেক্যুলার হিসেবেই পরিচিত থাকবে। এরকম চোখের সামনে প্রমাণ দেখেও তাকে অগ্রাহ্য করার টেন্ডেন্সিটা তৈরি হয় ভীরু মানুষদের মধ্যে, যাদের বিশ্বাস স্থাপন ছাড়া আসলে কিছুই করার নেই। সাব্বাতাই জেভির ফলোয়াররা যেমন ওটোম্যান সাম্রাজ্যে অসহায় ভীতু ছিল আধুনিক দুনিয়ায় অ্যাংরি হোয়াইট মেল আর চাড্ডি হিন্দুরা ভয়ে আছে আর বাংলাদেশে ভয়ে আছে সরকারদলীয় সেকুলাররা বুদ্ধিজীবী-প্রগতিশীলরা। এই ভয়টারও একটা সাইকো-অ্যানালাইটিক ভিত্তি আছে। মিডটার্ম ইলেকশনে ভোটারদেরকে নিজের দিকে টানার জন্য ট্রাম্প নিত্যদিন "মেক্সিকো থেকে আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে ধাবমান রিফিউজিদের একটা দলের কথা বলেছে। যেখানে অনেক ইয়াং শক্তিশালী পুরুষ আছে যারা ট্রাম্পের ভাষ্যমতে- "will enjoy you (american people) in your front yard" এই enjoyment বা মজা নেওয়ার আইডিয়াটা জাক লাকাঁর loss of jouissance আর castration complex এর সাথে জড়িত। ট্রাম্প, ইন্ডিয়ার বিজেপি আর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দলও দেখা যায় অনেক বেশি পরিমাণে মুসলমান-মেক্সিকানদের sexual prowess নিয়া কথা বলে। মুসলমানদের কাছে নিজেদের sexual dominance হারানোর এক ভয় সাবকনশাসলি এই উগ্র ডানপন্থী মুভমেন্টগুলার মধ্যে কাজ করে। এই সাবকনশাস ফিয়ারগুলো নিয়ে এরকম আলোচনা জরুরি...
     
  • guru | 115.187.51.196 | ০২ আগস্ট ২০২২ ১৩:০৮510690
  • @সুমিতবাবু এই কথাটা খুব ভালো বলেছেন | আচ্ছা আমার তো মনে হয় মানুষের এই সাবকনশাস ফিয়ারগুলো যাতে তার মাথাতে আরো বেশি বেশী করে গেড়ে বসে সেই জন্যই রাজনৈতিক দলগুলি মাঝেমাঝেই নানান ড্রামা করে | অবশ্য এখন মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি যেইরকম ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশে মানুষের নিজেদের ভয় জয় করে অন্যরকম ভাবার সুযোগ কি আদৌ আছে ? উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তো তাই বলেনা | আমার তো কোনো আশা দেখিনা | আপনি এতে কি বলেন ? 
  • Sumit Roy | ০২ আগস্ট ২০২২ ১৩:২৮510692
  • @guru

    আমার প্রথম কমেন্টটা দেখুন। 
  • Subhadeep Ghosh | ০২ আগস্ট ২০২২ ১৪:২২510697
  • সৈকতবাবু ও অমিতাভবাবু দুজনকেই অনেক ধন্যবাদ এরকম অভিনব ভাবে বিষয়টিকে দেখার জন্য। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অমিতাভবাবুর অ্যান্টি ইনকাম্বেন্সি ও টিপিং পয়েন্ট সংক্রান্ত বক্তব্যের সঙ্গে আমি অনেকটা একমত। আরেকটা ব্যাপার হল বেঙ্গলের বৌদ্ধিক চর্চার যে দীর্ঘ ইতিহাস আছে তা তথাকথিত বেঙ্গল রেনেসাঁস থেকে বামপন্থী পড়াশোনা সবটা ধরেই, তাতে বাঙালি মানসে বিজেপি একটা বিজাতীয় বা অপরিচিত ব্যাপার বলে প্রতিভাত হয়। এই ব্যাপারটাও যথেষ্ট কাজ করেছে বলে মনে হয় ২০২১-এ ।
  • সেকুলার ভন্ড | 143.244.57.90 | ০৩ আগস্ট ২০২২ ০০:৫৬510699
  • সেকুলার ভন্ড | 143.244.57.90 | ০৩ আগস্ট ২০২২ ০১:০২510700
  • মুসলিমরা ভারত এবং হিন্দুদের উপর তাদের কয়েকশো বছরের আগ্রাসন, genocide, নির্বিচার নারীধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তকরণ, হাজার হাজার মন্দির ধ্বংস.... এই সবের জন্য এখনও পর্যন্ত কি ক্ষমার চেয়েছে?
    আর ইংরেজরা তো চলে গেছে, মুসলিমরা এখনও আমাদের দেশে কি করছে?
  • সেই সব সিস্টেমেরা  | 136.226.50.82 | ০৩ আগস্ট ২০২২ ০২:০৭510702
  • একটু অবান্তর হলেও বলে যাই, এই যে সিস্টেম ওয়ান আর সিস্টেম টু নামগুলো ডানিয়েল কনমানের থিংকিং ফাষ্ট এন্ড স্লো বইতে ২০১১ তে প্রথম এলো। 
    অবশ্যই তার মানে তো এই নয় যে মগজ তার আগে ওভাবে ভাবতো না!  
    আসলে, বইটার উল্লেখ এত আলোচনার মধ্যে কোথাও আশা করেছিলাম। মাঝে মধ্যেই বইটা উল্টে পাল্টে মনে হয় - এটা একটা গ্রাউন্ডব্রেকিং কাজ! 
  • অবান্তরকাকু | 2601:5c0:c280:4020:b03e:fc86:a075:73c9 | ০৩ আগস্ট ২০২২ ০৪:৫১510703
  • অবান্তর কথাই যকন হতেচে - বিহেভরিয়াল ইকনের বিভিন্ন 'থিয়োরি' নামক গপ্পো দেখলেই এই কার্টুনটি মনে পড়ে। 
     
    ঐ অ্যাকোক যা বলেচেন, এইসব বুঝেই বা কি ঘন্টাকচু হবে? আমরা লেফটুইং অতেব হাই-ইকিউ + হাই আইকিউ + আরো কিসব ... এই আত্মশ্লাঘা ছাড়া? কিস্যু হবে না। জর্মন দাড়িবুড়ো কিন্তু এও কয়েছিলেন, The philosophers have hitherto only interpreted the world in various ways. The point, however, is to change it.”.
     
    আসলে যা হওয়ার তা হবে, কেওটিক সিস্টেমের মতোন, আর সে হয়ে যাওয়ার পরে এই এক-গাদা পোস্ট-হক এনালিসিস নামবে, অমুক কারণে উহারা ভোট পায়নি। আসলে সবাই জানে, মানুষ কি চায় -- সে নিরঙ্কুশ মেজরিটি হয়েও ন্যাকাকান্না / ভিক্টিম-প্লে করতে চায়, এবং যে কোনো মূল্যে সুপ্রিমেসি পেতে চায়, তা সে লিঙ্গুইস্টিক হোক, এথনিক হোক, রিলিজিয়াস হোক ... ব্যাস। তারপর তো "যার টাকা নেই তার চাকা নেই" (~অ্যাকোক)। 

    এর মানে অবিশ্যি এই নয় যে প্যাটার্ণ খোঁজা বৃথা ... খোঁজা উচিত এবং পারসেপশন তৈরীই যে আসল খ্যালা সেটা বুঝে খেলে যাওয়া উচিত, এই। 

    Image
  • dc | 2401:4900:1cd0:3604:942:84ba:33cd:f9ad | ০৩ আগস্ট ২০২২ ০৭:৫৮510704
  • ওপরের কার্টুনটা ব্যাপক হয়েছে laugh
     
    শেষের উত্তরটা পড়ে মনে হলো, যদি বলতো, উই হ্যাভনট ফিনিশড স্টাডিইং দ্য কোভ্যারিয়েন্স ইয়েট? 
  • বিপ্লব রহমান | ০৪ আগস্ট ২০২২ ০৮:৪৭510723
  • আমিতাভ গুপ্তের লেখাটি সত্যিই খুব ভাবাচ্ছে,  এই ভাবে বুদ্ধাংক দিয়ে রাজনীতির বিচার-বিশ্লেষণ বিষয়ে কোনো গবেষণার কথা জানতাম না। ফেসবুকের পরিসংখ্যানও চমকে ওঠার মতো। 
     
    সৈকত দাকে ধন্যবাদ, পুরো ভাবনাটি উস্কে দেওয়ার জন্য। তবে রুশ বিপ্লবের শর্টকাট সমীকরণ বেশ কিছুটা আরোপিত মনে হয়েছে। 
  • Ayantika Saha | ০৪ আগস্ট ২০২২ ১৬:৪৯510732
  • লেখক অমিতাভ গুপ্তের এই কলামটির নিয়মিত পাঠক আমি | ওনার তথ্যপূর্ণ লিখনশৈলীতে "শিবুদা" খুব আকর্ষণীয়, তাই শিবুদার মুখে behavioral economics এর তত্ত্বগুলি খুব চটপট মাথায় ঢোকে | সৈকত বাবুর বিশ্লেষণটিও গুরুত্বপূর্ণ |
  • Ranjan Roy | ০৫ আগস্ট ২০২২ ২৩:২১510799
  • "ডানিয়েল কনমানের থিংকিং ফাষ্ট এন্ড স্লো বইতে ২০১১ তে প্রথম এলো"।
     
    --হ্যাঁ, সিস্টেম ১ এবং ২ ধারণাগুলো অবশ্যই ওই  আইকনিক বইয়ের ফসল। মনে হয় তারপর থেকে বিহেভিয়রাল ইকনমিক্সের আলোচনায় এগুলো নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে। তাই হয়ত এখানে কেউ আলাদা করে নাম নেন নি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন