ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  সিনেমা

  • বনাম ‘সমাজতন্ত্র’ : আন্দ্রে ভাইদার শেষ দুটি ছবি 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | সিনেমা | ২৬ এপ্রিল ২০২২ | ৩৪৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • আন্দ্রে ভাইদা ( Andre Wajda) পোল্যাণ্ডের  প্রধান চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে অন্যতম ( ১৯২৬-২০১৬)। ক্যানাল (১৯৫৭) এবং অ্যাশেজ অ্যাণ্ড ডায়মণ্ডস (১৯৫৭) ছবিগুলি মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেতে থাকেন। এখানে আমরা তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের শেষ দুটি ছবি নিয়ে আলোচনা করব।
     
    Walesa,Man Of Hope, Poland ,2013, 119 min Dir: Andre Wajda
    https://mubi.com/films/walesa-man-of-hope
    গত শতাব্দীর আটের দশকের প্রথম দিক থেকেই, এমনকি বাংলা  সংবাদপত্রেও, দুটি নাম ঘোরাফেরা  করতে থাকে পোল্যাণ্ড প্রসঙ্গে। প্রথমটি হল স্বাধীন একটি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন যার নাম ‘সলিডারিটি’। দ্বিতীয়টি  সলিডারিটির  নেতা লেখ ওয়ালেসার নাম। একটি কম্যুনিস্ট দেশে সরকার বিরোধী  আন্দোলন কীভাবে সম্ভব হচ্ছে, এমনকি সামরিক শাসন  জারি করার পরও, সেটা নিয়ে আমাদের বিস্ময়ের অন্ত ছিল না।  এই লেখ ওয়ালেসাকে নিয়েই একটি বায়োপিক বানিয়েছিলেন আন্দ্রে ভাইদা যিনি নিজেও ছিলেন সলিডারিটির সমর্থক। এই ছবিতে  ওয়ালেসার উথানকে যেভাবে দেখানো হয়েছে তাতে একজন সাধারণ ডকশ্রমিক কীভাবে নিজেকে নেতৃত্বের  পর্যায়ে উন্নীত করেছেন শুধু শ্রমিকের অধিকারকে রক্ষা করার জন্য  সেটা খুব যত্ন করে দেখানো হয়। একই সঙ্গে এই ছবি প্রশ্ন তুলে দেয় পোল্যাণ্ডের মত পূর্ব ইওরোপের দেশগুলিতে যেটা চালু ছিল সেটা কি আদৌ সমাজতন্ত্র?  সোভিয়েত ইউনিয়নের  স্যাটেলাইট হয়ে, একই রাজনৈতিক মডেল অনুসরণ করে, এই দেশগুলি  সমাজতন্ত্র তো দূরের কথা, শ্রমিক শ্রেণীর  ক্ষমতায়নের প্রাথমিক শর্ত পর্যন্ত পূরণ করতে পারে নি।
    ওরিয়ানা ফ্যালাচি ( Oriana Fallaci) একজন জবরদস্ত মহিলা সাংবাদিক ছিলেন যিনি পৃথিবীর প্রায় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন যার মধ্যে ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসের আরাফত, আয়াতোল্লা খোমেনি, গদ্দাফি, দেং জিয়াও পিং – কেউ বাদ ছিলেন না। সলিডারিটি এবং লেখ ওয়ালেসা বিখ্যাত হয়ে ওঠার সাত মাসের মাথায় তিনি তার যে সাক্ষাৎকারটি নেন তার একটি  পুনর্নিমাণ করেছেন আন্দ্রে ভাইদা অভিনেতাদের দিয়ে। সেই সাক্ষাৎকারটির অংশ গোটা ছবি জুড়েই আসে, পাশাপাশি চলতে থাকে লেখ ওয়ালেসার অভিজ্ঞতা ও জীবনসংগ্রামের পুনর্নিমাণ। লেখ ওয়ালেসা এবং তাঁর স্ত্রী দানুতার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন দুই পোলিশ অভিনেতা। ছবির প্রথম দিকে ফুটেজের মাধ্যমে দেখানো হয় পোল্যাণ্ডের ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসের ঘটনা ।সেই সময়  কম্যুনিস্ট পার্টির সরকার  নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ঘটায় । মাংসের দাম বাড়ে ১৭,৬ শতাংশ, আটা  এবং রাইয়ের ময়দা ১৬ শতাংশ, দুধ ৮ শতাংশ, জ্যাম এবং মার্মালেড ৩৬.৮ শতাংশ, রোস্টেড কফি দানা ৯২.১ শতাংশ।তারপরও সে খাবার লাইন দিয়েও পাওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে শুরু হয় আন্দোলন। দানুতা তখন গর্ভবতী। বস্তুত  লেখ এবং দানুতার বিবাহিত জীবনের প্রথম এগারো বছরের মধ্যেই ছটি সন্তান। ১৪ই ডিসেম্বর লেখ বোঝেন  যে শহরের অবস্থা ভালো নয়, আন্দোলনে উত্তাল এবং পুলিসও কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করতে উদ্যত। লেখ ঘরে থাকতে পারেন না , উদ্যত ট্যাংকের সামনে আন্দোলনকারীদের  সামলানোর  চেষ্টা করেন, বহু মানুষ  আহত হন, গ্রেপ্তার হন, এমনকি গুলিতে মারা যান। লেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু যেহেতু একজন পুলিস অফিসার  সাক্ষ্য দেয় যে লেখ ওই হাঙ্গামা থামানোর চেষ্টা করছিলেন, তাই  তাকে মুচলেকা লিখিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। লেখ ছিলেন ইলেকট্রিশিয়ান।১৯৭৬ সালে   শিপইয়ার্ডে কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ বাধে। নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিককে   কাজ করতে দেখে তিনি  প্রতিবাদ করেন ডাইরেকটরের ঘরে গিয়ে। এছাড়াও প্রায়ই  বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মীদের বসে থাকতে হয় কাজ না করে। কিন্তু সেই ঘাটতি মেটানোর দায় শ্রমিকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ যাতে তারা উৎপাদন কম হওয়ার দায় নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে নিজেদের বেতন কমিয়ে শাস্তি দেয়। ভরা সভায় লেখ উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পরাস্ত হয়। তাতে অবশ্য লেখের চাকরি যায়।এই সময় পোলিশ বুদ্ধিজীবীদের একাংশ শ্রমিকদের সমর্থনে গোপন পত্রিকা প্রকাশ, অনশন প্রভৃতি শুরু করে এবং শ্রমিক সুরক্ষা কমিটি ( KOR) গঠন করে। এই পত্রিকা  গোপনে নিয়ে যাওয়ার সময় লেখ ধরা পড়েন । নতুন যে কাজ জুটিয়ে ছিলেন  তিনি সেটাও চলে যায়। লেখ সেটা অবশ্য বাঁচাতে পারতেন স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যপদ ছেড়ে দিলে। ্তবে তিনি সেটা করেন নি। ভেঙ্গে পড়া দানুতাকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু একটা কাজ জুটিয়ে নেবেন তিনি, নাহয় লোকের গাড়ি সারাবেন (এই কাজটা তিনি জানতেন)। লেখ কিন্তু নিজেই জানতেন একটা স্বাভাবিক নেতৃত্বদানের ক্ষমতা তার আছে। ক্ষেত্রবিশেষে তিনি আপোষপন্থী, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব বিবেচনার ওপর আত্মবিশ্বাসী, ক্রোধে পরিপূর্ণ কিন্তু মানবিক। ১৯৮০ সালে এক প্রৌঢ়া মহিলাকে ডক কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করলে  স্বাধীন ইউনিয়ন  ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  ওয়ালেসাকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বললে  প্রথমে রাজি না হলেও পরে এড়িয়ে যেতে পারেন না দায়িত্ব। ধর্মঘট শুরু হলে শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ রাজি হয় শ্রমিকদের দাবি মেনে বরখাস্ত করা মহিলাকে সসম্মানে ফেরাতে, শ্রমিকদের মজুরি ২০০০ পোলিশ মুদ্রা বাড়াতে, এবং ১৯৭০ সালের শহীদদের স্মরণে একটি স্মারক তৈরি করার অনুমতি দিতে। কিন্তু ততক্ষণে ট্রাম, বাস শ্রমিকরাও তাদের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করে দিয়েছে। এইসময় লেখ ইউনিয়নের নাম  দেন সলিডারিটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছোনোর জন্য লেখ ইতিমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবকে কাজে লাগান। সরকার তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। লেখ সেখানে রাজনৈতিক  বন্দীমুক্তি সহ বেশ কিছু দাবি আদায় করে আনতে সক্ষম হন। এদিকে সলিডারিটির সদস্যসংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছোয়। লেখের নেতৃত্বের একনায়কত্বমুখী ঝোঁক নিয়ে কিছু প্রশ্ন ওঠে ইউনিয়নে। বুদ্ধিজীবীরা ভিড় করতে থাকেন  আশেপাশে। সাক্ষাৎকারে লেখ বলেন,’’ আমি যদি তাদের না নিই, তারা ঠিক ফন্দিফিকির বের করে কাছে পৌঁছে যাবে। তাহলে থাক তারা। বুদ্ধিমান লোকজন আশেপাশে থাকা ভালো। আমি তো কোনো বইপত্র পড়িনি। শুরু করলেও বইয়ের পাঁচ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছোতেই বোর হয়ে গিয়েছি। কিন্তু বুদ্ধিজীবীরা ঘন্টার পর ঘণ্টা তর্ক করে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছোন আমার ঐ একই সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে পাঁচ  সেকেণ্ড লাগে।“ আসলে লেখ ওয়ালেসা এরকমই। খানিকটা গান্ধীর মত ভূতগ্রস্ত যিনি বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বর তাকে মানুষের লড়াইতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তিনি পারদর্শী  যা ক্ষেত্রবিশেষে অনেকের কাছে আপোষমুখী মনে হয়েছে। কিন্তু প্রবল জনপ্রিয়তায় তিনি উতরে গেছেন সব বাধা।
    ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮১। জেনারেল জেরুজালেস্কি সামরিক শাসন জারি করলেন পোল্যাণ্ডে। লেখ ওয়ালেসা সহ সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক মতবাদের মানুষকে কয়েদ করা হল রাতদুপুরে। লেখ যাবার আগে দানুতাকে বললেন, ভয় পেও না দানুতা। তুমি যদি ভয় পাও তাহলে আমি শেষ হয়ে যাবো। আমাদের বাচ্চাগুলো শেষ হয়ে যাবে।
    দানুতা বললেন, না, ভয় পাচ্ছি না আর।
    লেখ দানুতার কানে কানে বললেন, আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি।
    এভাবেই লেখ ওয়ালেসাকে ধরেছেন আন্দ্রে ওয়াইদা। আমার আপনার মত একজন ভয় পাওয়া মানুষ, যে ভয়কে জয় করতেও পারে মাঝে মাঝে। সেই সাহস তাঁকে আরেক পা এগিয়ে দেয়। লেখকে এইদফায় অবশ্য আলাদাভাবে একটি  নির্জন জায়গায় রাখা হয়। এগারো মাস পরে সামরিক শাসন প্রত্যাহৃত হলে লেখ মুক্তি পান। ১৯৮৩ সালে লেখ নোবেল পান। পুরস্কার আনতে অবশ্য তাঁর তরফে যান দানুতা। কারণ লেখ আশংকা করেছিলেন  যে তিনি বাইরে গেলে সরকার হয়ত তাঁকে আর ফিরতে দেবে না। ১৯৮২ সালে সরকার নিষিদ্ধ করেছিল সলিডারিটিকে। কিন্তু লেখ এবং তার অনুগামীদের দমিয়ে রাখা যায় নি। ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দফায় দফায়  সলিডারিটির সঙ্গে  গোলটেবিল আলোচনার মাধ্যমে পোল্যাণ্ডে অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয় সরকার। নির্বাচনের ফল কী হয়েছিল তা সহজেই অনুমেয়। বস্তুত, পোল্যাণ্ড থেকেই পূর্ব  ইওরোপে তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতন শুরু হয়। টানটান  চিত্রনাট্যে রুদ্ধশ্বাস গতিতে ছবিটি এগিয়ে চলে। লেখের হাতে দানুতা আংটি আর ঘড়ি পরিয়ে দেন, যে ঘড়ি আর আংটিটা প্রতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বা কোনো বিপজ্জনক কাজে বেরোনোর আগে লেখ খুলে যেতেন আর বলতেন, ‘যদি আর ফিরে না আসি।‘ মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তাঁর বক্তৃতার একটি লাইন ‘ স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার’ , এই উচ্চারণেই ছবি শেষ হয়।
     
    Afterimage, Poland,2016, 99 min Dir : Andre Waida
    https://mubi.com/films/afterimage

    এই ছবি  পোল্যাণ্ডে কম্যুনিস্ট শাসন জারি হওয়ার অব্যবহিত পরের চার বছর সময়কালে (১৯৪৮-১৯৫২) পর্যায়ে একজন আভাঁ-গার্দ চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক স্ত্রেমিন্সকি ( Wtadystaw Strzeminski) যে চরম বিপর্যয় এবং প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন, সেই সংক্রান্ত বায়োপিক।
     ১৯৪৮ সাল। পোলিশ ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স পার্টির প্রথম কংগ্রেস সমাপ্ত। স্ত্রেমিন্সকি  তাঁর ফ্ল্যাটের  প্রশস্ত ঘরটিতে বসে যখন ক্যানভাসে রঙ বোলাতে যাবেন  ঠিক তখন গোটা ঘরটা লাল আভাতে ডেকে যায়। স্ত্রেমিন্সকির ঘরের জানলাগুলো ঢেকে দিয়ে টাঙ্গানো হয়েছে বিশাল এক লাল ব্যানারে স্তালিনের মুখচ্ছবি। স্ত্রেমিনস্কি রাগের চোটে ক্রাচ দিয়ে ( প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি একটি হাত ও  একটি পা হারান) জানলার মধ্য দিয়ে ব্যানারের একদিক ছিঁড়ে দেন। তাকে পুলিস ধরে নিয়ে যায়। তিনি তখন পোলিশ আর্ট স্কুলের শিল্পকলার ইতিহাসের অধ্যাপক যাঁর  ক্লাস শুনতে ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও অনেকে জড়ো হয়। তিনি মার্ক শাগাল, কান্দিনস্কি, এবং মেলভিচের সঙ্গে কাজ করেছেন। নিরাপত্তা অফিসার তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে দেশ কিন্তু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় স্ত্রেস্মিন্সকির মত মানুষদের নিয়ে সমস্যা সরকারের কারণ তাঁরা  সরকারের বিরোধী। স্ত্রেমিন্সকি উত্তরে জানান যে তিনি সরকারের বিরোধী নন,শুধু শিল্পকলা সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করেন। কয়েকদিন পরেই  আর্ট স্কুলে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসেন। সেখানে মন্ত্রীর ভাষণে  শিল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে যখন শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থে  তার উপযোগিতাকে তুলে ধরা হয় এবং বলা হয়  শিল্পীদের একমাত্র অনুসরণীয় আদর্শ এই  সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদ ( Socialist Realism) তখন স্ত্রেমিনস্কি তার প্রতিবাদ করেন। তাঁর মতে শিল্প হচ্ছে ফর্মের গবেষণাগার। সেখানে নতুন ফর্মের জন্ম দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগিতা নয়, শ্রেষ্ঠত্বই নতুন শিল্পের জন্য শ্রদ্ধা আকর্ষণ করতে পারে।কিন্তু রাজনীতি আর শিল্পের মধ্যে সীমারেখাটা মুছে দেওয়াই যখন কাজ হয়ে দাঁড়ায় এবং সেটাও সংকীর্ণ গোষ্ঠীগত স্বার্থে  তখন সেটা যে তিনি মানতে পারবেন না সেকথা মন্ত্রীর মুখের ওপর স্ত্রেমিনস্কি জানিয়ে দেন। ফলস্বরূপ, অচিরেই অধ্যাপনার কাজটি হারান  স্ত্রেমিনস্কি। তাঁর গুণমুগ্ধ কিছু  ছাত্রছাত্রী  তাঁর বাড়িতে এসে ক্লাস করতে থাকে। স্ত্রেমিনস্কির জন্য মন্ত্রীর কাছে দরবার করতে এসে ব্যর্থ হন তাঁর কবিবন্ধু। মন্ত্রীর এক কথা, এইসব আভাঁ গার্দিজম, ফর্ম নিয়ে পরীক্ষা সমাজতন্ত্রের কোন কাজে লাগবে ?
    স্ত্রেমিন্সকির জীবন কঠিন হতে থাকে। মিউজিয়ামের জন্য তিনি যে বিখ্যাত নিও-প্লাস্টিক রুম বানিয়েছিলেন তার চুক্তি বাতিল করে তাকে বিনষ্ট করা হয়।   ডেকোরেটরের অধীনে আর্টিস্টের কাজ একটি ছাত্র তার জন্য জুটিয়ে দিলেও তাঁকে সেই কাজেও টিঁকতে দেওয়া হয় না। তাঁর শিল্পী সংঘের কার্ড বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে তিনি ফুড কুপন ও ভাতা থেকে বঞ্চিত হন। তাকে জানানো হয় সহজ হিসেব -- সমাজতন্ত্রে কাজ না করলে খেতে পাওয়ার অধিকার নেই।   স্ত্রেমিন্সকির স্ত্রী ভাস্কর কাতারজিনা কবরো ( Katarzina Kobro) আলাদা থাকতেন এবং এই সময় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় ছিলেন।যে মহিলা স্ত্রেমিন্সকিকে  খাবার দিয়ে যেত  সে  টাকা বাকি পড়ায়  খাবার দিতে অস্বীকার করে।টাকা না পেয়ে যখন সে পাত্রের   সুপটা ঢেলে ফেরত নিয়ে চলে যায় এবং স্ত্রেমিন্সকি পাত্রের  গায়ে লেগে থাকা সুপ খিদের চোটে চাটতে থাকেন জিব বের করে সেই দৃশ্যটি ভয়াবহ। এ সমস্ত কিছুকেই তিনি  কিন্তু  অবশ্যম্ভাবী বলে প্রায় নীরবে মেনে নিয়েছিলেন। তাঁকে অবশ্য প্রথমেই নিরাপত্তা অফিসার বলে দিয়েছিলেন যে তিনি  যে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকে তাঁকে একটা রাস্তা বেছে নিতে হবে। যে রাস্তা তিনি বেছে নেবেন তার ওপরই ভাগ্য নির্ধারিত হবে তাঁর। হ্যাঁ, স্ত্রেমেনস্কি, অনেক আগে, ১৯১৯ সালে নিজেও ভাবতেন যে শিল্পের উদ্দেশ্য হল বিপ্লবের কাজে লাগা । পরে তিনি তাঁর মত পাল্টান। ভাবতে থাকেন শিল্পের কাজ নিজের মধ্যে সঙ্গতিকে ( harmony) আবিষ্কার করা।এই মত থেকে সরে আসার কোনো কারণ তিনি খুঁজে পাননি, অন্তত বাইরের কোনো চাপে। তবে নিরাপত্তা অফিসারের কথা মত দুর্দৈব নেমে আসতে থাকে তাঁর জীবনে। একবারই  তাঁকে চিৎকার করে উঠতে দেখা যায় যখন আর্টিস্টের কার্ড না থাকায় তাকে  আঁকার উপকরণ বেচতে অস্বীকার করে সেই দোকান যেখান থেকে তিনি ত্রিশ বছর ধরে কেনাকাটা করছেন।
    স্ত্রেমেনস্কির কিশোরী কন্যাটি হোমে থেকে মানুষ হয়। তাঁর এক গুণমুগ্ধ ছাত্রী  তাঁর প্রতি প্রেম নিবেদন করেও  ব্যর্থ  হলে তাঁকে ত্যাগ করে। স্ত্রেমেনস্কি তখন চেষ্টা করেন শিল্প সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী লিখে যেতে ‘ থিওরি অব ভিসন’নামে একটি বইতে। তাঁর মতে আমরা চোখ দিয়ে যা দেখি তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কিন্তু সেই দেখাটার একটা প্রতিক্রিয়া আমাদের ভেতর থেকে যায় যাকে তিনি ‘ আফটারইমেজ’ বলছেন।এই যে আমরা দেখি এবং তার আফটারইমেজ এটি প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা, শিল্পীর ক্ষেত্রে তো বটেই। কিন্তু বইটি তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারবেন কিনা সেই সন্দেহ দেখা দেয়। ততদিনে তিনি বেশ অসুস্থ।কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছে তার। এই সময় একদিন রাস্তায় শুয়ে পড়েন তিনি। এক পরিচিত মহিলা দেখতে পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ডাক্তাররা জানান অ্যাডভান্সড স্টেজ অব টিউবারক্যুলোসিস। বেশি কিছু করার নেই।তবে বইটি সম্পূর্ণ করার তাড়নায়  স্ত্রেমিনস্কি  জোর করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। একটি শোরুমে  কাজ করার সময় (ঘর ভর্তি ম্যানিকিনকে জামাকাপড় পরানোর কাজ)   তিনি আর পারেন না। ম্যানিকিনগুলিকে আঁকড়ে ধরে পড়ে যান। শায়িত স্ত্রেমেন্সকির পাশে ঝুলতে থাকে একটি ম্যানিকিনের বিচ্ছিন্ন  হাত। শোরুমের কাচের বাইরে তখন ধাবমান ট্র্যাফিক আর জনতা,  যারা জানতেও পারছে না ভেতরে মারা যাচ্ছেন বিংশ শতাব্দীর পোল্যাণ্ডের তর্কযোগ্যভাবে  শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী।
    এই তবে ছিল পূর্ব  ইওরোপের  সোভিয়েত ধাঁচের ‘সমাজতন্ত্র’ ?  অথচ পিটার উলেনের লেখায় আমরা পড়েছি ১৯১৯ থেকে ১৯২৪ সাল, লেনিনের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত খোদ রাশিয়ায় বিভিন্ন ধাঁচের নিরীক্ষামূলক শিল্প আন্দোলনের আন্দোলনের কথা, ফিউচারিস্ট,সুপ্রিম্যাটিস্ট  আন্দোলন সমেত। মেলভিচের বিমূর্ত অয়েল পেন্টিং ‘ হোয়াইট অন হোয়াইট’ বা ‘ ব্ল্যাক স্কোয়ার’  এই সময়েই আঁকা। এই সমস্ত কিছুকেই পরবর্তীকালে স্তালিনের আমলে ‘সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদ’ নামক একক ধাঁচার নির্মাণে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় যাকে নকল করে পূর্ব ইওরোপের দেশগুলি। আসলে গণতন্ত্র সম্পর্কে খণ্ডিত এবং যান্ত্রিক  ধারণা নিয়ে চলায় বিংশ শতাব্দীতে সমাজতন্ত্রের ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কস যখন কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো লিখেছেন তখন ইওরোপে গণতন্ত্র আদৌ বিকশিত হয় নি।মার্কস সেই বিকাশ দেখেও যেতে পারেন নি। তিনি যতটুকু দেখেছিলেন তা ছিল সাংবিধানিক গণতন্ত্র।  গণতন্ত্র বলে আমরা আজ যা বুঝি সেটা বিংশ শতাব্দীর তিনের দশকের আগে প্রস্ফুটিত হয় নি‌ এবং তা বুর্জোয়াদের উপহার নয়, শ্রমিক শ্রেণীর, নারীদের, কৃষ্ণাঙ্গদের অনেক আন্দোলনের ফসল। সেসব না বুঝে গোটাটাকেই ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ বলে বাতিল করে,  সর্বহারার একনায়কত্বের নামে পার্টি তথা মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর একনায়কত্ব কায়েম করাই ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন  এবং পূর্ব ইওরোপের সমাজতন্ত্রের পতনের অন্যতম কারণ। আমাদের দেশের দলীয় মার্কসবাদীরা অবশ্য সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত, প্রতিবিপ্লব—এইসব সহজ সূত্রের মাধ্যমেই এই জটিল অঙ্কের সমাধান করার চেষ্টা করে এসেছেন। আসলে তাঁরা নিজেরাও এইসব নিয়ে বেশি ভাবিত ছিলেন না। ফলে সীমিত ক্ষেত্রে হলেও একই ভুল তাঁরা এখানেও করেছেন ।ক্ষমতার বাইরেই থাকুন আর ভেতরে, স্ট্রাকচারাল কোনো নতুন তাত্ত্বিক নির্মাণের পথে তাঁরা হাঁটতে পারেন নি , চানও নি।  সাংগঠনিক , তাত্ত্বিক ও দার্শনিক স্তরে  মৌলবাদী নীতির বিরোধী না হলে সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব নয় – সেটা পুর্ব ইওরোপের মানুষ যাপিত জীবন দিয়ে বুঝেছিলেন। আমাদের সেটা  বোঝার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাত্ত্বিক বিতর্ক করার দরকার নেই। পূর্ব ইওরোপের সাহিত্য ও সিনেমা  থেকে আমরা অনেক সহজেই বুঝে যাই  এই মৌলিক সত্য। সেখানকার সিনেমার যে পরীক্ষামূলক আঙ্গিক দেখে আমরা অভ্যস্ত , আন্দ্রে ভাইদার এই ছবিদুটিতে সেরকম কিছু নেই। অনেকটাই সহজ  উপস্থাপন। কিন্তু একবারও মনে হবেনা যে এই ছবিগুলির পরিচালক বৃদ্ধ, জীবনের অন্তিম লগ্নে পৌঁছে গেছেন। আসলে জীবনের মানে যে স্বাধীনতা, এই দুটি সাম্প্রতিক ইতিহাসের চরিত্রর মত আন্দ্রে ভাইদা নিজের জীবনেও  শেষ দিন পর্যন্ত শিল্পের মুকুরে সেই অভিজ্ঞানই বুঝি খুঁজে ফিরেছেন।
    তথ্যসূত্রঃ
    (১) Readings and Writings, Semiotic Counter strategies, Peter Wollen, Verso.
    (২) মার্কস ও স্বর্গের সন্ধানে, সুদীপ্ত কবিরাজ, অনুষ্টুপ

     
  • | রেটিং ৫ (১ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ২৬ এপ্রিল ২০২২ | ৩৪৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ২৬ এপ্রিল ২০২২ ২৩:০৩506935
  • শিল্পের উদ্দেশ‍্য, যদি কিছু থাকে, এবং সমাজতন্ত্রের প্রয়োগের ব‍্যর্থতা, --দুটো বিষয়েই সার্থক আলোচনা।ছষ
  • Sandipan | 103.24.86.141 | ২৬ এপ্রিল ২০২২ ২৩:৫৪506938
  • @Ranjan Roy অনেক  ধন্যবাদ  মতামত  প্রদানের  জন্য।
  • ar | 173.48.167.228 | ২৭ এপ্রিল ২০২২ ০৭:১৮506945
  • আচ্ছা, প্রথম ছবিতে পোপ জন পল টুর ব্যাপারে কিছু বলেছে? অনেক আগে কোথায় একটা পড়েছিলাম, NYT মনে হয়, যে পল - দুইএর হঠাৎ পোপ হওয়া, পোপ-্লেচ ওয়ালেচা মেলবন্ধন, চার্চের সলিডারিটি মুভমেন্টকে সমর্থন, আর পোল্যান্ডে কম্যুনিষ্ট সরকারের পতন, সব এক সূত্রে বাঁধা। মানে ইটালীর বাইরে প্রথম কাউকে পোপ রূপে অভিষিক্ত করার উদ্দেশ্য, মূলত রাজনৈতিক, ধর্মীয় নয়।
  • Sandipan Majumder | ২৭ এপ্রিল ২০২২ ০৯:৪০506948
  • @ar  হ্যাঁ, প্রথম  ছবিতে  পোপ জন পল টুর টিভি সম্প্রচার দেখানো হয়েছে। একবার লেখ ওয়ালেসার বাড়িতে রেইড চলছে। লেখ তখন জেলে। লেখের স্ত্রী  দানুতা সিকিউরিটি পুলিসকর্মীদের গালাগালি  করছেন আর কাগজপত্র  লুকোচ্ছেন। হঠাৎ  তাঁর  মনে পড়ল টিভিতে পোপের ভাষণের সম্প্রচার  দেখানোর  কথা।দৌড়ে  গিয়ে তিনি টিভি খুলে  টিভির সামনে হাত জোড় করে বসে পড়লেন। তার চোখমুখের  উত্তেজনা  দেখে বোঝা যাচ্ছিল  সেটা আন্তরিক, শুধু পুলিসকে বিভ্রান্ত  করার জন্য নয়। এক পুলিসকর্মী দানুতার দেখাদেখি  হাঁটু মুড়ে বসতে যাচ্ছিল। সহকর্মীর কড়া চাউনি  দেখে সে থমকে যায়।
    এছাড়াও  একবার লেখরা কয়েকজন  কারখানার  মধ্যে আটকে পড়েছেন। তাদের জন্য পুলিস যে কোনো মুহূর্তে  কারখানায়  ঢুকবে। মাথার ওপর চক্কর কাটছে এমনকি সামরিক  হেলিকপ্টার।  লেখ সহকর্মীদের  নির্দেশ  দিলেন রিলিজিয়াস  মাস ডাকতে কারখানার  গেটেই। হাজার হাজার  মানুষের  অংশগ্রহণে  সরকারি  পরিকল্পনা  ভেস্তে গেল। পোল্যান্ডে ক্যাথলিক  চার্চের প্রভাব ছিল,সলিডারিটি আন্দোলনের  পাশেও চার্চ ছিল। এব্যাপারে  চার্চ,পশ্চিমী রাষ্ট্রগুলো-- এদের স্বার্থ নিশ্চয়  ছিল। কিন্তু বাঁচার জন্য সলিডারিটির হাতে চার্চ,আন্তর্জাতিক  সংবাদমাধ্যম, পশ্চিমী দেশের সাহায্য কিছুই  অপাংক্তেয়  ছিল না। নয়তো  কবেই লেখ ওয়ালেসাকে স্রেফ খতম করে দেওয়া ছিল কর্তৃপক্ষের কাছে নস্যি।  সেরকম নির্দেশ যে সোভিয়েতের  কাছ থেকে আসছিল তার পরোক্ষ উল্লেখ  আছে এখানে।
  • ar | 173.48.167.228 | ২৮ এপ্রিল ২০২২ ১৭:২৯506980
  • @সন্দীপন মজুমদার,
    উত্তরের জন্য ধন্যবাদ। ছবিটি দেখার ইচ্ছা রইল। ধর্ম সদাই a way of life তা নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা একটি রাজনৈতিক অবস্থান। একদিকে আমরা সেপারেশ্যন অব চার্চ অ্যান্ড স্টেট বলে গলা ফাটাচ্ছি, অন্যদিকে পছন্দের (রাজ)নীতিকে ধর্মীয় মোড়কে পুরে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছি না। আপনি যেমন বললেন, "বাঁচার জন্য সলিডারিটির হাতে চার্চ,আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, পশ্চিমী দেশের সাহায্য কিছুই অপাংক্তেয় ছিল না। " আবার, ধর্ম যে বহু মানুষকে সঙ্গবদ্ধ করার বড় হাতিয়ার, সেটাও নিশ্চয় সলিডারিটির নেতাদের মাথায় ছিল। আপনার লেখাটা পড়ে সিভিল রাইটস মুভমেন্ট্কালে অ্যাফ্রিক্যান আমেরিক্যান চার্চের ভূমিকার কথা মনে পড়ে গেল। সেই সংক্রান্ত পছন্দের কোন ছবি থাকলে সেটা নিয়েও লেখার অনুরোধ রইল।
    ধন্যবাদ,
  • Sandipan Majumder | ২৮ এপ্রিল ২০২২ ২০:০৮506992
  • @*ar,  অসংখ্য  ধন্যবাদ। আপনার  সুচিন্তিত  মন্তব্য মনে রাখবো। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন