এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • নকশিকাঁথা (২২)

    বিশ্বদীপ চক্রবর্তী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ | ৪৭৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • নকশিকাঁথা – উপন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি অভিবাসী জীবনের না জানা সময়


    ১৮৯০ এর দশক। তখন আমেরিকা এক সন্ধিক্ষণে। কালো মানুষেরা সদ্যই স্বাধীন। কিন্তু আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বিভিন্নভাবে তাদেরকে আবার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্প বিপ্লবের শেষ পর্যায়ে এসে মধ্যবিত্ত সাদা মানুষের আমেরিকা নিজেদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য পেরিয়ে ধর্ম এবং সংস্কৃতির খোঁজ শুরু করেছে। বিবেকানন্দের আমেরিকা বিজয়, হিন্দু ধর্মের জন্য আমেরিকার কৌতূহল এবং পৃষ্ঠপোষকতার খবর আমাদের জানা আছে। কিন্তু এই আগ্রহ শুধু ধর্মের ক্ষেত্রে নয়। পণ্য এবং বিনোদনের জগতেও ছিল। তারই হাত ধরে এমনকি বিবেকানন্দ আসার আগেও আমেরিকায় এসে গেছিল চুঁচুড়া, তারকেশ্বর, চন্দনপুর, বাবনানের কিছু লোক তাদের চিকনের কাজের পসরা নিয়ে। হাজির হয়েছিল উত্তর আমেরিকার সমুদ্রতটে। ছড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকার বিভিন্ন শহরে, সংসার পেতেছিল কালোদের সমাজের অংশ হয়ে। শুধু চিকনদারেরা নয়। শতাব্দীর শেষের দিকে বৃটিশ জাহাজ থেকে পালিয়ে নিউ ইয়র্কে নেবে যাচ্ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে আসা মাঝি-মাল্লারাও। মধ্য আমেরিকার শিল্পাঞ্চলে কাজের অভাব ছিল না কোন।


    বড় অদ্ভুত এই সময়। একদিকে দ্রুত শিল্পের বিকাশ ঘটছে, দেশ বিদেশ থেকে মানুষ এসে জড়ো হচ্ছে আমেরিকায়। আবার পাশাপাশি কালোদের উপর নিপীড়ন বাড়ছে, এশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে সব নিয়মকানুন। বাবনানের চিকনদার আলেফ আলি আর পাঁচকড়ি মণ্ডল, সিলেটের গোবিন্দ সারেং কি আক্রাম, বেদান্ত সোসাইটি গড়ে তুলতে আসা অভেদানন্দ - এমনি আরও অনেকের জীবন জড়িয়ে যাবে অনেক রঙের মানুষের দেশ আমেরিকার এক উথালপাথাল সময়ে, বুনবে নানা রঙের নকশিকাঁথা।

    ২২


    ঝড়তুফানে মাঝদরিয়ায় জাহাজ টালমাটাল হলে, মাল্লারাও এদিক-ওদিক ছিটকে পড়ে। বলা মুশকিল পরমুহূর্তে কি হতে চলেছে। তবু তো এত বছর সামলে নিয়েছে। কিন্তু এমনি ঝড় যদি জীবন উজাড় করতে হাজির হয়, তার কি উপায়! জানা নেই। অন্ধকার দুর্গন্ধময় ঘরে মাথার নিচে দু’হাত রেখে এইসব আকাশ-পাতাল ভাবছিল গোবিন্দ। বাসি,পচা মাংসে যেমন গন্ধ ছাড়ে, তেমনি বাসে ভারি হয়ে আছে ঘরের আনাচ-কানাচ। নসিবের চক্করে সব ইন্দ্রিয়গুলো বোদা না হয়ে গেলে, এই ঘরে টেকা মুশকিল হত। বলতে বলতেই একটা ইঁদুর দৌড়ে বুকের উপর দিয়ে চলে গেল, তবু গোবিন্দর শরীর অমনই নিথর। একটা ইঁদুরে কি এল গেল! একটাই ভাবনা, এই চরকিপাক থেকে কি আদৌ বেরোতে পারবে কোনোদিন?

    সেদিন যদি হিথক্লিফের কথাটা শুনত! লোকটা বারবার বলেছিল আমেরিকান মার্চেন্ট শিপে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেখানে টাকাও ভাল, ব্রিটিশ স্টিম কোম্পানিতে যেমন জন্তু জানোয়ারের মত খাটায়, মোটেই সেরকম না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনটে বছর আমেরিকান জাহাজে ঘুরে সহজেই ন্যাচারালাইজ করে নিতে পারবে। এ তো আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার সামিল। কিন্তু ঘাড়ে যে কি জিন চাপল! একদিন যে লোক জাহাজে চেপে দেশ ঘোরার জন্য লস্কর হয়েছিল, আরও তিন বছরের জন্য সমুদ্রের নোনা বাতাস তাকে আর টানতে পারেনি। ঢের হয়েছে দরিয়া থেকে দরিয়ায় ভেসে বেড়ানো! বন্দরের স্থায়ী জীবন কি ভাবে যে উস্কেছিল সেদিন! আসল কথা, বেথেলহেমের নিজের বাসাবাড়ির খোয়াবের হাতছানি কাটিয়ে উঠতে পারেনি গোবিন্দ।

    টোনিয়ার মু-বলা ভাই অস্কার থাকে বেথেলহেমে। কাজ করে সাকুনা আয়রন কোম্পানিতে, সেখানে লোহার রেল বানানো হয়। পঁচিশ বছরের পুরোনো কারখানা, কোনো ভুঁইফোড় জায়গা নয়। ইদানীং চারদিকে যেভাবে রেল রোড ছড়িয়ে যাচ্ছে, কাজ দিন-কে-দিন বাড়তির দিকে। গেলে গোবিন্দ পস্তাবে না, সেটা টোনিয়া বুক বাজিয়ে বলেছিল।

    টোনিয়ার কথায় দম ছিল। ভাইকে দেওয়ার জন্য হাতচিঠি করে দিল, সেই পরচি নিয়ে সোজা পেন্সেলভেনিয়ার বেথেলহেমে হাজির গোবিন্দ। অস্কার চিঠি পড়ে তার বিশাল থাবার মত হাত বাড়িয়ে দিল, সিস্টাস টোনিয়া তোমাকে পাঠিয়েচে যকন, আমি তোমাকে আমার গ্যাং-এ নিয়ে নিচ্চি ব্রাদার।

    নিজের নসিবে বিশ্বাস করতে পারেনি গোবিন্দ। ব্যস, এমনি সিধা সব কিছু? কামাইয়ের বন্দোবস্ত এতই কি সহজ স্বপ্নের এই দেশে? মুখ ফুটে বলেছিল, কাজ করার আদেশনামা লাগবে না?
    চোখে চোখ রেখে হাসল অস্কার। সেসব আচে বুঝি? থাকলে কি আর আমার কাচে আসতে হত? দেখো গোবিন, কাগজ কাগজের জায়গায়, আসল কতা কাজ। কাজ উটে গেলে এসব কে আর দেকতে যাচ্চে। বড় করে হাসল অস্কার। বিশাল চেহারা লোকটির, কিন্তু গলায় টোনিয়ার মতই কিচির মিচির আওয়াজ। হাসে যখন কি অদ্ভুত! সেই স্বর গমগম করে, ঠোঁটের ভিতরের লাল মাড়িসুদ্ধ বেরিয়ে আসে। চেহারা দেখে যদি ভয় লাগে কোনো, ওর চোখ দেখে সে ভয় কেটেও যাবে। শিশুর মত সরল ওই চোখ দেখে গোবিন্দর মত পোড় খাওয়া মানুষও কেমন আবেগপ্রবণ হয়ে গেছিল। সবকিছু এমন খাপে খাপে হয়ে যাচ্ছে, কি ভাষায় অস্কারের খোশামুদি করবে বুঝতে পারছিল না।

    তোমার মত আরও কজনা আচে এখেনে, সব তোমার মত জাহাজ পলানো। থাকার জায়গা সেখেনেই মিলে যাবে।
    যদি বিদেশ বিভুঁইতে আর কোন দ্বিধা রয়ে গেছিল, সব কেটে গেল তার মত আরও জাহাজ পালানো দুই লস্করের সাক্ষাৎ জেনে। খোঁজ দিল ওই অস্কারই। আব্দুল কৈউম আর দামোদর পুড়পুড়ে।
    সে দু’জনা গোবিন্দের মতই এক ব্রিটিশ জাহাজ – এস এস গোরখা থেকে পালিয়ে হাজির হয়েছিল মাস ছয়েক আগে। লেহ উপত্যকার এই বেথেলহেম টাউনে, সাকুরা আয়রন কোম্পানির কারণে, খেটে খাওয়া লোকেদের আনাগোনা বাড়ছিল। জাহাজের ফার্নেসে কাজ করা লোক, লোহা গলানোর চুল্লিতে স্টোকারের চাকরি পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি।

    কাগজ দেখতে চায়নি তোমাদের? এই ধন্দটা গোবিন্দর কাটছিল না কিছুতেই।
    ওদের বাসা ব্র্যাডলি স্ট্রিটের উপর দুই কামরার এক বাড়িতে। আব্দুল কাশ্মীরের লোক, দামোদর বম্বের। গোবিন্দকে পেয়ে বেজায় খুশি। সেটা শুধু হিন্দুস্তানের লোক বলে নয়, এই দুই কামরার বাড়িতে যত বেশি লোক থাকবে, খরচ কমবে – সেটাও একটা কারণ। জীবনে আর কিছুর যখন সহায় নেই, দলভারি হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। এরা শহরের হাল-হদিশ জেনে গেছে এই ক’দিনেই। আগে থাকত এমনিধারা আরেক বাড়িতে, সেখানে আরও ছয়জন দেশের লোক। জায়গার অকুলান বলে এই বাড়িটা ভাড়া নিয়েছে। বাড়ির মালিক এলা এলিজাবেথ ব্ল্যাকম্যান এক নিগ্রো মহিলা। সে আবার বাড়ির যাবতীয় কাজ করে দেয়। টাকা দিতে হয় সব কিছুর জন্যই, অন্তত চারজন না হলে খরচ কুলানো মুশকিল। এইসব কারণে গোবিন্দর অভ্যর্থনা বেশ সাড়ম্বরেই হল।

    গোবিন্দর প্রশ্নে আব্দুল বিজ্ঞের মত বলেছিল, আমেরিকায় জাহাজঘাটাতেই যা কাগজ নিয়ে কড়াকড়ি, বুঝলে গোবিনদা? একবার ভিতরের দিকে ঢুকে গেলে এরা কাজ দেখে, কাগজ নয়।
    আব্দুল কাশ্মীরের লোক, এত বছর আগুনে পুড়েও তার চেহারা টসকায়নি। ধারালো নাক, বাদামী চোখ – চেহারায় জৌলুস দিয়েছে। ষোল বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল, সেখান থেকে কিভাবে পৌঁছে যায় বম্বে, তারপর জাহাজের খোলে। দেশ দেখার সাধ ফুরালে জাহাজঘাটা থেকে গা ঢাকা দিয়েছিল বাল্টিমোরে। সঙ্গী দামোদর পুড়পুড়ে।

    দামোদর পোড় খাওয়া লোক। সে জাহাজে চড়েছিল শখে নয়, পেটের তাগিদে। জাহাজে চিরদিন থেকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না কখনোই। প্রথমে লন্ডনে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে এমনধারা জাহাজ পালানো নাবিকের সংখ্যা অনেক। ধরপাকড়, কড়াকড়িটাও বেশি। পালাতে গিয়েও সুবিধা হয়নি, ধরা পড়ে গেছে। এবার তাই আব্দুলের সঙ্গে বাল্টিমোরে নেমে যত দূরে যাওয়া যায় – সেই খোঁজ করেছিল। এসে ঠেকেছে বেথেলহেমে।

    ছ’মাস কেটে গিয়ে একটা নিশ্চিন্ত জীবনের মোড়ক পেয়েছে এতদিনে। বয়সে দু’জনেই গোবিন্দর থেকে ছোট, জাহাজিও ছিল অনেক কম দিন। কিন্তু জাহাজ পালিয়ে এই দেশে টাকা কামানোর সুলুক সন্ধানে ওরা গোবিন্দর চেয়ে পোক্ত। শুধু এখানে বাসা গেড়ে বসেছে বলেই নয়। গোবিন্দ যেমন জাহাজ পালিয়েছে ঘটনার চক্করে, ওরা সেরকম নয়। অনেক হিসেব-নিকেশ করে, লন্ডনে পালাতে গিয়ে বিফল হয়ে, এখানের বন্দরে নেমে কাজের কি হিসাব-কিতাব সব বুঝে, তবেই সটকেছিল। ওদের কথা শুনে গোবিন্দে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল, অনিশ্চিতের দিন কাটল তবে।

    এতদিন গোবিন্দ এক কাপড়ে কাটিয়েছে। হাতের পয়সা জমিয়ে রেখেছিল, কে জানে কবে রোজগারপাতি জোটে। কিন্তু সে আর চলে না। শোয়ার জন্য একটা বিছানাও দরকার, শুধু ঘর পেলে তো হয় না। দামোদর আর আব্দুলের সঙ্গে গিয়ে সেসব যত সস্তায় কেনা যায় তার ব্যবস্থা হল। শহরের হাল হদিশেও এরা বেশ দর। সঙ্গে এলাও ছিল। এলাকাটায় নিগ্রোদের বাস, দোকানপাট তাদেরই। এলা থাকার জন্য সুবিধা।

    এলার বয়েস বছর তিরিশেক, কিন্তু বেশ মালদার। পেন্সেলভেনিয়ায় কিছু নিগ্রো ক্রীতদাস ছিল এককালে, সবাই তেমন নয়। এলার বাবার নিজের জমি ছিল। এলা নিজেও একখানা দোকান দিয়েছে, আর এমনি দু’খানা বাড়ি ভাড়া খাটায়। বেশ চালাক-চতুর মেয়ে, চোখেমুখে কথা কয়। আব্দুলের সঙ্গে তার দহরম মহরম বেশ জমে উঠেছে এই ক’দিনেই। এই তিনজনে মিলে গোবিন্দের সাদাসিধে জীবনের যা যা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করে দিন শেষ হবার আগেই গোবিন্দকে বেথেলহেমের বাসিন্দা বানিয়ে দিল।

    আল্লার এত মেহেরবানি গোবিন্দ আগে কখনো পায়নি।
    সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে, জাহাজ থেকে নাবার পর থেকেই গোবিন্দর কাজ আল্লার বান্দারা তুলে দিয়েছে অনেক। কত রকমের সাহায্য যে পেয়ে যাচ্ছে অচেনা সব লোকদের কাছ থেকে। জাহাজিদের মধ্যে একটা স্যাঙাতি গড়ে ওঠে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সুবাদে। সে বোঝা যায়। কিন্তু এত জাত বেজাতের লোক তার গায়ে পড়ে এমন উপকার করছে ভাবলেই কেমন গা শিউরে ওঠে গোবিন্দর। আল্লার কেরামত ছাড়া এমন হয় না।

    পরের দিন থেকেই কাজে লেগে গেছিল গোবিন্দ। আব্দুল আর দামোদর - দু’জনেই অস্কারের গ্যাং-এর মজদুর। লোহা গলানোর চুল্লিতে কয়লার জোগান দেওয়া আর আগুন উস্কে দেওয়ার কাজ। এমন কিছু নতুন নয় জাহাজিদের জন্য। গোবিন্দ কারখানার কাজে দু’দিনেই সড়গড়। সারাদিন কারখানায় কাজ, সন্ধ্যাবেলায় খাবারের জোগান দেখা। নিত্যকার জীবন। ছুটির দিনে লেহ নদীতে নৌকা বেয়ে এই জলের মানুষগুলোর উৎসব হত। গোবিন্দ খেপলা জাল বানিয়ে মাছও ধরেছিল বেশ ক’দিন। আব্দুল আর দামোদর মাছের দেশের লোক নয়। কিন্তু জাহাজিরা কোন জিনিসটা না খায়? তার উপর গোবিন্দ মাছ ধরলে ভোজটা বিনে পয়সায়। অতএব গোবিন্দর মাছ ধরায় আব্দুল আর দামোদরের উৎসাহ কিছু কম ছিল না।

    এমন নির্মেঘ আকাশে যে ঝড় উঠতে পারে, তার কোনো আঁচ আগে থাকতে পাওয়া যায়নি। রোজকার মত খাবার বাঁধাছাঁদা করে, কারখানার ভোঁ বাজার আগেই নির্দিষ্ট গেটে পৌঁছে গেছিল। সেখানে যে তাদের আপ্যায়নের জন্য পুলিশ ঘাপটি মেরে আছে, সেটা কি করে জানবে? যখন দেখল, তখন আর গা-ঢাকা দেওয়ার ফিকির ছিল না কোনোই।
    লস্কররা পালালে জাহাজের কোম্পানিগুলো হাতে হাত দিয়ে বসে থাকে এমন তো নয়। না হলে এতদিনে জাহাজকে জাহাজ উজাড় হয়ে যেত। কখনো পাকড়াতে ছয়মাস, এক বছর লেগে যেতে পারে, কিন্তু তিন বছর অবধি খুঁজে বের করে ফেরত নিয়ে যাওয়া তাদের এক্তিয়ারে। এর জন্য পুলিশের কোনো ওয়ারেন্টও দরকার হয় না। পুলিশ যে জাল পেতে রেখেছিল, তারা কি করে জানবে? শুধু তারা তিনজন নয়, অন্য অন্য দেশের আরও কিছু লোককে ধরা হল। সবাই বিদেশী মাল্লা। সাকুল্যে গোবিন্দের মত জনা বারো লোককে ধরে এনে সোজা এলিস আইল্যান্ডের ডিটেনশন সেন্টারে। নামেই ডিটেনশন সেন্টার, কিন্তু আস্তাবল এর থেকে ভাল হয় বুঝি। অন্ধকার দুর্গন্ধ ঘরে বিচালি পেতে শুয়ে শুয়ে গোবিন্দ ভাবছিল, এই যদি কপালে ছিল – তাহলে আল্লা তাকে নিয়ে এমন খেলল কেন? আরও আগে এটা হতে পারত। সে কাজ পেল, মাথার উপরে ছাদ পেল, জীবনটা যখন একটু সুস্থির হতে শুরু করেছে, এমনভাবে টেনে নামানোর সাজিশ কেন?

    ঘটনার এমন উল্টো টানে আব্দুল আর দামোদর সমান হতবাক। আব্দুলের জন্য ব্যাপারটা আরও মর্মান্তিক। পুলিশে ধরে নিয়ে যাচ্ছে শুনে এলা ছুটতে ছুটতে হাজির। বাড়ি ভাড়া মার যাওয়ার ভয়ে নয়, আব্দুলের এই বিপদ যে তারও। ক’দিনেই এমন জমে গেছিল দু’জনের। এমন তুখোড় মেয়েটা এই ঘটনায় একদম বোবা হয়ে গেছে, চোখ ছলছল করে দাঁড়িয়ে আছে। জালে ঘেরা গাড়ির বাইরে দাঁড়ানো এলাকে আবদুল সান্ত্বনা দিতে ছাড়েনি, কিন্তু তাতে কি হয়? একবার যদি আব্দুলকে আবার ব্রিটিশ শিপে চড়িয়ে দেয়, এই দেশের কোনো বন্দরে এসে লাগতে লাগতে বছর ঘুরে যাবে। অন্য কোনো দেশেও তো পাঠাতে পারে। সেটা এলাও বোঝে, আব্দুলও জানে। জানলেও মন কি মানে? সেই থেকে এক কথা আব্দুলের মুখে, গোবিন্দদা একটা পথ তো বাতলাও। আমাকে যে বেথেলহেমে ফিরতেই হবে।

    তার কোনো হালহদিশ গোবিন্দ দেখছিল না। তাদের ধরে এনে এইখানে ফেলেছে, কাল সকালেই জাহাজের ক্যাপ্টেন এসে নিয়ে যাবে। কোনো কিছুতেই বাঁচাতে পারবে না তাদের। একমাত্র সহায় আল্লার দোয়া। এই আস্তাবলে কোথায় বা ওজু করে, মক্কা কোনদিকে তাও গোবিন্দ জানে না। কিন্তু এত নিবিষ্টতার সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় এর আগে বোধহয় করেনি কোনোদিন।

    খবর পেয়ে বন্দরে উপস্থিত দুটো ব্রিটিশ জাহাজের ক্যাপ্টেন এসে হাজির হয়েছিল সকালবেলায়। তার মধ্যে একজন গুঁফো আর মুশকো, তাঁর ভাবভঙ্গী এমন, যে এই তো পেয়েছি এবার, জাহাজে আয় একবার! দেখে নেব। ওদের কাছে বিভিন্ন ব্রিটিশ জাহাজ থেকে পালানো লস্করদের তালিকা ছিল, নাম মিলিয়ে যাচাই করে নিল। প্রথমে কথা হল ওদেরকে ছ’জন ছ’জন করে দুটো জাহাজে বেঁটে দেওয়া হবে।

    এইসময় কৈউম ধুয়ো তুলল, সে যাবে না। ব্রিটিশ জাহাজের অমানুষিক অত্যচার তার মনে আছে, বেঁচে থাকতে আর সেই পথ মাড়াবে না। এই আস্তাবলেই থাকবে দরকার হলে।
    এ কথা শুনে ডিটেনশান সেন্টারের কেরানি বাবুটি আঁতকে উঠেছে, সেটা কি করে সম্ভব!
    সম্ভব কি অসম্ভব তোমরা দেখে নাও, আমি ওদের জাহাজে জান থাকতে আর যাবো না। চাও তো আমার জান নিয়ে নাও এখানেই। এমন একগুঁয়ে ঘাড়ত্যাঁড়া ভঙ্গিতে কথা বলল, যে আর সবাইও অমনই খেপে উঠল। কৈউমের দেখাদেখি সবাই বেঁকে বসল। জেলে পাঠাতে হয় পাঠাও, কিন্তু মহারানীর দেশের জাহাজে আর যাচ্ছি না।

    দলে ভারি হলে সুবিধা হয়। সেটা সবাই বুঝে যেতেই, হাঙ্গামা বেঁধে গেল। মুশকো লোকটা এই মারে তো সেই মারে, পারলে এখানেই ধোলাই দেয়। দেশি লস্করদের উপর অত্যাচারে হাত পাকানো ক্যাপ্টেন এমন অনেক আছে। কথায় কথায় ডাণ্ডা নিয়ে লস্করদের ঠান্ডা করে। অন্য ক্যাপ্টেন বরং ঠান্ডা মাথার লোক। তার আবার মনে পড়ে গেল, যে চাইলেও এদের সবাইকে জাহাজে নিয়ে যাওয়া যাবে না।

    কেন ক্যাপ্টেন এমহার্ট? এদের দু’টো কথাতেই টস্কে গেলে? হেঁড়ে গলায় খেঁকিয়ে উঠল মুশকোটা।
    না, টস্কাইনি ক্যাপ্টেন নিকেল্ড্যাম। এস এস হেলেরিক জাহাজের ক্যাপ্টেন এমহার্ট নির্বিকার মুখে বলল। গোবিন্দ জানে এই রকম ধরণের লোকগুলো আসল হাড়ে বজ্জাত হয়। তেমনি চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, আপনি ১৮৯৪ সালের মার্চেন্ট শিপিং অ্যাক্টের লস্কর লাইনের কথাটা ভুলে গেছেন বোধহয় ক্যাপ্টেন নিকেল্ড্যাম?

    এমহার্ট ব্রিটিশদের বহু ব্যবহত ডিভাইড এন্ড রুলে বিশ্বাসী। না হলে সব কিছু আইন মেনে চলার লোক সে আদতে নয়। লস্কর লাইন অনুযায়ী, কোনো ব্রিটিশ শিপ কোম্পানি অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ৩৮ ডিগ্রি নর্থের ওধারে কোনো আটলান্টিক বন্দরে হিন্দুস্তানি লস্করকে নিতে পারবে না। অতএব বারো জনের মধ্যে এই তিন হিন্দুস্তানিকে তারা নিতে পারে না।
    আর সব মাল্লারা ছিল অন্য অন্য দেশের। কেউ চিনা, কেউ আরব, কেউ বা পারস্যের। ব্যাপারটা এই দিকে ঘুরে গেল দেখে, তাদের হাঙ্গামা নেতিয়ে পড়ল। এমহার্ট লোকটা চালু নিঃসন্দেহে। বারোটা না হোক, নয়জন লস্কর তো পাওয়া গেল। কিন্তু এই তিনজনের এখন হবেটা কি?

    কেন, রেখে দাও এই ডিটেনশান সেন্টারে। মার্চের পর আবার কোনো ব্রিটিশ জাহাজে তুলে নেওয়া হবে।
    এমহার্টের এই সোজাসাপ্টা হিসেবে কেরানিবাবুটি গলল না। খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে বলল, সেটা বললে তো হবে না। এইখানে আমরা বড় জোর বিশদিন রাখতে পারি, ছয়মাস নয়। সেটা তোমরাও ভাল করে জানো। নিয়ম অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে মার্চ হিন্দু লস্করদের ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট বন্দরের বোর্ডিং হাউজে রাখার কথা, তার তো নড়চড় হবে না।

    নিকেল্ড্যাম আঁতকে উঠল। পাগল নাকি? সে খরচ দেবে কে? এরা আমার জাহাজে ছিল না, আমি একটা পয়সা বরাদ্দ করতে পারব না।
    আচ্ছা, আচ্ছা বিশ দিন তো রাখতে পারো বললে। আগে সাতদিন রাখো না হয়। এমহার্টের পাকা মাথা। তড়বড় করে কিছুই করে না। এখানে রাখো ক’দিন, আমরা ততদিনে কোম্পানির বড় সাহেবদের সঙ্গে কথা বলে দেখি তাদের কি আদেশ।

    বাকি ন’জনকে নিয়ে দুই ক্যাপ্টেন ফিরে গেল, গোবিন্দরা তিনজন পড়ে রইল ওই আস্তাবলে।
    গোবিনদা, এটা ভাল হল না মন্দ?
    কৈউম তেড়েফুঁড়ে উঠল, ব্রিটিশদের জাহাজে যেতে হচ্ছে না, মন্দ কি করে হবে দামোদর? ছ’মাস যদি বোর্ডিং হাউজে রাখে, পালানোর কিছু না কিছু ফিকির ঠিক বেরিয়ে আসবে।
    কিন্তু যদি না রাখে? দামোদর নাছড়বান্দা। সে বেচারা এর আগেও একবার লন্ডনে পালাতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। সে যে জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে কিছু করে উঠতে পারবে, ভরসা পাচ্ছে না বেচারা।

    এই চিন্তাটা গোবিন্দেরও হচ্ছিল। যদি ব্রিটিশ কোম্পানির জাহাজ খরচ না উঠাতে চায়? এদিকে এরাও বলছে বিশ দিনের বেশি রাখবে না। তাহলে কি জেলে নিয়ে পুরবে তাদের? কে জানে সেই জেল এই আস্তাবলের চেয়ে সরেস না আরও দুরবস্থা তকদিরে লেখা আছে।
    ইদানীং গোবিন্দর একটা খারাপ হলে, তার গায়ে গায়ে একটা ভাল কিছু ঘটে যায়। এই আস্তাবলের বদবুর মধ্যে পড়ে আছে, এর থেকে খারাপ তো কিছু হয় না। আল্লাতালা তার বরাতে এবার ভাল কিছু ঢালতে চলেছে। এমনটাই মনে হচ্ছিল। আশায় বাঁচে চাষা।

    দামোদর এসব আশা করে না। অন্ধকারে তার হেঁচকি তুলে কান্না অনেকবার শোনা গেছে। মাঝেমঝেই তার নিজের ভাষায় কার কার নাম ধরে ডেকে ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদে যাচ্ছে বেচারা। অন্ধকার মানুষকে আড়াল দেয়, তখন মনের শোক উজাড় করে কেঁদে ককিয়ে কেউ যদি শান্তি পায়, তাতে ওরা কেন বাধা দেবে? গোবিন্দ এমন করে পাশ ফিরে পড়ে রইল, যেন কিছুই কানে যাচ্ছে না।

    আব্দুল বিরক্ত হচ্ছিল। তার মনোঃকষ্ট আরও বেশি। এ তো শুধু জাহাজ পালানো থেকে ধরা পড়েছে বলে নয়। তার বয়েস কম, একবার ধরলে দশবার পালাবার হিম্মত রাখে। কিন্তু এলার জন্য ছটফট করছিল। ভাবটা জমেছিল বেশ। একবার এলার সঙ্গে বিয়ে হলে, একলাফে কোথায় উঠে যেত। এলার সঙ্গে কথাও হয়েছিল, ব্যবসা ফাঁদার ছক কেটেছিল দু’জনে। এলার দুটো বাড়ি আছে, দোকান আছে। রোজকার খাওয়ার চিন্তা থাকবে না। সে মেয়েও চালাক-চতুর। দু’জনে মিলে ব্যবসা শুরু করবে একটা। কোথায় কি শুরু করবে – ইদানীং সেসব কথায় ফানুস ওড়াত। সবকিছু এক নিমেষে পণ্ড হয়ে গেল।
    তিনজনের তিন ভাবনা নিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে রইল ওরা ক’টা দিন।

    সাতদিন গেল, ব্রিটিশ জাহাজের ক্যাপ্টেনরা আর ফেরত এল না। এল সেই কেরানিবাবুটি। সে মহা বিরক্ত। বলল, দেখো বাপু। তোমাদের এই দেশে এভাবে থাকা চলবে না। তোমাদের জাহাজেই ফিরে যেতে হবে।
    ওরা ভেবড়ে গেল। এই যে বলল, ব্রিটিশ জাহাজে মার্চ মাসের আগে নিতে পারবে না! তাহলে? ওরা যাবে কোথায়?
    ওরা নিতে আসবে না বোঝাই যাচ্ছে। তোমরা যদি আমেরিকান জাহাজে কাজে যেতে চাও, সেটা হতে পারে। এখান থেকে সিধে জাহাজে পাঠিয়ে দিতে পারি।

    ওরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে দেখে ধমকে উঠল লোকটা। ভাবছটা কি অত, এমন যেন কোনো কিছু তোমাদের হাতে? আমার গলায় এসে ঝুলেছ, তাই আমাকেই ব্যবস্থা করতে হয়েছে। ভাগ্যি মানো, এমন ব্যবস্থা করছি তোমাদের জন্য। আমেরিকান লাইনে তোমাদের নাম লিখিয়ে উঠে যাবে জাহাজে। এস এস আমেরিকান প্রাইডের ক্যাপ্টেন তোমাদের নিয়ে যাবে কাল। দেখো বাপু আর কোনো ঝামেলা যেন না হয়।

    সেই আবার জাহাজে? দমে গেল গোবিন্দ। মাটির আশ হয়েছিল বড়।
    আব্দুল এই প্রস্তাবে খুশি। আমেরিকান জাহাজে, মানে এটা হবে তাদের হোম বেস। একপাক মেরে এসে এখানেই এনে ফেলবে আবার। অন্তত মাস ছয়েকের মধ্যে তো পাক্কা ফিরে আসবে। একবার শুধু এলাকে যদি খবরটা পৌঁছে দেওয়া যেত!



    ক্রমশঃ

  • ধারাবাহিক | ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ | ৪৭৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৫৬502200
  • ব্যাপক জমেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন