• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • নকশিকাঁথা (৪)

    বিশ্বদীপ চক্রবর্তী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৭ আগস্ট ২০২১ | ৫১০ বার পঠিত
  • নকশিকাঁথা – উপন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি অভিবাসী জীবনের না জানা সময়

    ১৮৯০ এর দশক। তখন আমেরিকা এক সন্ধিক্ষণে। কালো মানুষেরা সদ্যই স্বাধীন। কিন্তু আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বিভিন্নভাবে তাদেরকে আবার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্প বিপ্লবের শেষ পর্যায়ে এসে মধ্যবিত্ত সাদা মানুষের আমেরিকা নিজেদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য পেরিয়ে ধর্ম এবং সংস্কৃতির খোঁজ শুরু করেছে। বিবেকানন্দের আমেরিকা বিজয়, হিন্দু ধর্মের জন্য আমেরিকার কৌতূহল এবং পৃষ্ঠপোষকতার খবর আমাদের জানা আছে। কিন্তু এই আগ্রহ শুধু ধর্মের ক্ষেত্রে নয়। পণ্য এবং বিনোদনের জগতেও ছিল। তারই হাত ধরে এমনকি বিবেকানন্দ আসার আগেও আমেরিকায় এসে গেছিল চুঁচুড়া, তারকেশ্বর, চন্দনপুর, বাবনানের কিছু লোক তাদের চিকনের কাজের পসরা নিয়ে। হাজির হয়েছিল উত্তর আমেরিকার সমুদ্রতটে। ছড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকার বিভিন্ন শহরে, সংসার পেতেছিল কালোদের সমাজের অংশ হয়ে। শুধু চিকনদারেরা নয়। শতাব্দীর শেষের দিকে বৃটিশ জাহাজ থেকে পালিয়ে নিউ ইয়র্কে নেবে যাচ্ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে আসা মাঝি-মাল্লারাও। মধ্য আমেরিকার শিল্পাঞ্চলে কাজের অভাব ছিল না কোন।

    বড় অদ্ভুত এই সময়। একদিকে দ্রুত শিল্পের বিকাশ ঘটছে, দেশ বিদেশ থেকে মানুষ এসে জড়ো হচ্ছে আমেরিকায়। আবার পাশাপাশি কালোদের উপর নিপীড়ন বাড়ছে, এশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে সব নিয়মকানুন। বাবনানের চিকনদার আলেফ আলি আর পাঁচকড়ি মণ্ডল, সিলেটের গোবিন্দ সারেং কি আক্রাম, বেদান্ত সোসাইটি গড়ে তুলতে আসা অভেদানন্দ - এমনি আরও অনেকের জীবন জড়িয়ে যাবে অনেক রঙের মানুষের দেশ আমেরিকার এক উথালপাথাল সময়ে, বুনবে নানা রঙের নকশিকাঁথা।



    গত কয়েক বছরে অনেকের বাড়িতেই থেকেছেন। জোজো, মিসেস ফিলিপস, ফ্র্যান্সিস লেগেট এরকম আরও কত জন তাকে আতিথ্য দিয়েছে। দেখেছেন তাদের প্রাচুর্য। কারোর বিত্তের অভাব নেই, কিন্তু চিত্ত খাঁ খাঁ করছে। মুখে খই ফুটছে, ভেতরে ফাঁপা। ঠিকঠাক জানে না কি চাইছে, কিন্তু কিছুর যে অভাব আছে সেটা রীতিমত বুঝতে পেরেছে এদের মধ্যে কিছু মানুষ। তা না হলে এরকমভাবে এক গরিব দেশ থেকে আসা ফকিরের চারপাশে জোনাকির মত জ্বলবে কেন সবাই।
    মনের দরজা খুলছে, তাই ঘরেও অবারিত দ্বার। প্রথমে অবাক লাগত, এখন এই প্রাপ্তি তার নিজের দেশের জন্য ভেবে সাদরে গ্রহণ করেন বিবেকানন্দ। এদের প্রাচুর্যের একাংশও যদি হতদরিদ্র দেশের মানুষগুলোর জন্য পাওয়া যায়, তাহলে দেশ ছেড়ে এখানে তিন বছর ধরে থাকাটা সার্থক। সেকথা মাথায় রাখেন বলেই সবার ডাকে সাড়া দেন তিনি। তবু অ্যাবে থিয়েটারে সারা বার্নহার্ডের সাজঘরে বিশাল ছড়ানো আরাম কেদারায় বসে কৌতুক চাপা মুশকিল হচ্ছিল।
    এখানে কদিনের জন্যই বা অভিনয় করতে এসেছেন সারা? শুনেছেন, মার্কিন দেশের বিভিন্ন শহরে নাটক নিয়ে ঘুরবেন উনি। এদেশে নাকি ছিয়ানব্বুই সালের অনেকটা সময়ই কাটাবেন। কিন্তু জোজো বলছিল সারা বার্নহার্ডের সঙ্গে এই থিয়েটারের চুক্তি কেবল সপ্তাহ পাঁচেকের, মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাবে নাটকের দল। অথচ এই কক্ষের আসবাব, দেওয়াল জোড়া কারুকার্য করা আয়না, রূপসজ্জার জন্য ছড়িয়ে থাকা অজস্র সরঞ্জাম, হেলায় ছড়িয়ে রাখা মণিমুক্তোখচিত হার, সর্বোপরি প্রতিটা দেওয়ালে অভিনেত্রীর বিভিন্ন অভিনয়ের ছবি, এমনকী কোন এক শিল্পীর আঁকা প্রতিচ্ছবিও। নিজেকে কতটা ভালবাসলে কেউ সমস্ত দেওয়াল নিজের ছবি দিয়ে মুড়ে রাখতে পারে? সে না হয় যার যেমন ধারা। কিন্তু এমন একজন মানুষের এক ফকিরের সঙ্গে দেখা করার সাধ কেন রে বাবা? সারার সঙ্গে মারগারেট বা জোসেফাইন এমন কী বেথের কোন মিল পেলে অবাকই হবেন বিবেকানন্দ।
    ইজিয়েল নাটকের চরিত্রের সঙ্গে বরং মিল থাকবে সারার। যদিও কাহিনি বুদ্ধদেবকে নিয়ে, ভারতীয় দুধে ফরাসি জল মিশেছে প্রচুর। ভেবেই হাসি পাচ্ছিল বিবেকানন্দের। পশ্চিমে এক ধরনের লোক দেখেছেন যারা শুধু এক্সোটিক কিছুর খোঁজ করে যাচ্ছে, সেটা খাঁটি না হলেও তাদের দ্বিরুক্তি নেই। না হলে সারার যে চরিত্র, রাজনর্তকী ইজিয়েল, সেটা এলো কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে? বুদ্ধের জীবনে এরকম ঘটনার কথা তার নিজের জানা নেই। বোধিবৃক্ষের নিচে বুদ্ধের কোলে বসে রইল ইজিয়েল সারাটা সময় জুড়ে, বুদ্ধের তপস্যাভঙ্গ করার সাধ! গল্পের গরু গাছে ওঠানো একেই বলে। বুদ্ধদেব তাকে কোলে বসিয়েই ত্যাগ তিতিক্ষার কথা শুনিয়ে গেলেন। রাবিশ!
    ইজিয়েল নিশ্চয় খুব ভাল অভিনেত্রী, এত তার নামডাক। কিন্তু এরকম গাঁজাখুরি কাহিমি দর্শকের কাছে নিয়ে আসার কী কারণ কে জানে! এখন ভাবনার কথা, সেই অভিনেত্রী তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে বার্তা কেন পাঠালো। বোধগম্য হচ্ছিল না কিছুতেই। যার আত্মশ্লাঘা এত বেশি, যে নিজেকে আত্মপ্রতিকৃতিতে মুড়ে রাখে, তার হঠাৎ করে সন্ন্যাসীর দর্শন লাভের ইচ্ছা! ভাবতে ভাবতেই সচকিত হয়ে উঠলেন বিবেকানন্দ। নিরালা ঘর। নাটকে ইজিয়েল বুদ্ধের তপস্যা ভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়েছে, এখানে হাতের কাছে এক সন্ন্যাসীকে পেয়ে তার উপরে চড়াও হবে না তো? যদি এই সারা সোজা এসে তার কোলে বসে তাহলেই তো চিত্তির! কী করবেন বিবেকানন্দ? খুবই চিন্তার ব্যাপার। অনেকটা সময় অপেক্ষা করেছেন, এখন যদি চলে যান সেটাই যথার্থ হবে। ওদিকে জোজো তার জন্য অপেক্ষায় আছে। সাত পাঁচ ভেবে স্বামী বিবেকানন্দ কেদারা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
    তখনই ঝোড়ো হাওয়ার মত ঘরে ঢুকলেন সারা। এখনো ইজিয়েলের পোশাকেই। বাপরে! কী সেই পোশাক! পরনে একটি কাঁচুলির মত বক্ষ আচ্ছাদন, যদিও তার উপরে পুঁতি দিয়ে এমন ধারা কাজ যে তা কোন ভারতীয় নর্তকীর বক্ষবন্ধনী আর বলা যায় না। একটি লাল ফিনফিনে শাড়িকে অদ্ভুত ভাবে জড়িয়েছেন যার না আছে আঁচল, না আছে কুঁচি। তাঁর ফটফটে সাদা চামড়ার খুব কম অংশই এই আচ্ছাদনে আবৃত করা গেছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে গেছে শরীরের যত্রতত্র রুদ্রাক্ষের মালায় জড়িয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা। দুই স্তনের মাঝখানে এক বিশালাকার পদ্মফুল যদি মেনে নেওয়া যায়, মাথার চুলে গোঁজা ধুতরো ফুলের কোন কার্যকারণ পাওয়া নেহাতই মুশকিল। চেহারায় বেশ ছোটখাটো, বয়েস পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। তবে ক্ষীণতনুর কারণে বালকের অভিনয়ে দিব্যি মানানসই লাগতে পারে। সারা এসে যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, তার পিছনেই সেরকমই একটি নাটকের ছবি টাঙানো ছিল। দাঁড়িয়ে থাকার জন্য স্বামীজির এমন লম্বা চওড়া চেহারার সামনে এমনিতেও বালিকা ছাড়া আর কিছু বোধ হচ্ছিল না। তবে মহিলার চোখের দৃষ্টির ঔজ্জ্বল্য উপেক্ষা করার নয়। এক সাহসী বিশ্বজয়ী অভিনেত্রী তো। সেটা এমনি এমনি হয় না। হোক না অদ্ভুত পোশাক, এই রকম ব্যক্তিত্বকে উড়িয়ে দিতে পারা যায় না। তবু বিবেকানন্দ রসিকতা করার লোভ সামলাতে পারলেন না।
    ভগিনী, আপনার এই ভারতীয় পোশাকের পরিকল্পনা কে করেছেন?
    তাঁর স্মিত হাসির পিছনে যদি কোন ব্যঙ্গ লুকিয়েও থাকে সারা সেটা ধর্তব্যের মধ্যেই আনলেন না। বরং পোশাকের কথা মনে করিয়ে দেওয়ায় নিজের ইজিয়েল রূপে প্রবেশ করলেন। অথবা এই বুদ্ধিমতী মহিলা বিবেকানন্দকে পরখ করে দেখতে চাইলেন।
    শুনেছি আপনি সত্যিকারের যোগী, আমার পোশাক তো তাহলে আপনাকে বিব্রত করতে পারে না।
    কৌতূহলী করে।
    তাহলে কি যোগীরও নারী শরীরে কৌতূহল থাকে? আমার তো ধারণা ছিল হিন্দু সাধকরা ইন্দ্রিয়কে জয় করেছেন।
    উচ্চৈঃস্বরে হাসলেন বিবেকানন্দ। তাঁর স্বচ্ছ ধারালো চোখে কোন ছায়া ঘনাল না, কণ্ঠস্বর তেমনি ভাবগম্ভীর এবং দৃঢ়। আপনার শরীর নিয়ে আমার কোন কৌতূহল ছিল না, জানতে চেয়েছিলাম এই পোশাক আপনি কোথায় পেলেন।
    সারার চোখ এবার আনন্দে চকচক করে উঠল। আমি অনেক খুঁজে এই পোশাকের প্রতিটা উপকরণ সংগ্রহ করেছি। প্যারিস আর লন্ডনের বিভিন্ন মিউজিয়ামে গিয়ে হিন্দু নারীর পোশাক দেখেছি, রাজদরবারের নর্তকীর সাজ সজ্জার ছবি দেখেছি। তারপর এই পোশাকের কথা ভেবেছি। তবে এর প্রতিটা উপকরণ সংগ্রহ করতে আমাকে অনেক কসরত করতে হয়েছে।
    ইস্ট ইন্ডিয়া গিয়েছিলেন বুঝি?
    একটু ছায়া ঘনাল সারার চোখে। না, এখনো যাওয়া হয়নি। সারাকে যেতে হলে যে আয়োজনের দরকার তার অনেক খরচ। সারা কোন সাধারণ মহিলার মত হিন্দুস্তান যেতে পারে না।
    বিবেকানন্দ খুব আমোদ বোধ করছিলেন। তাহলে এইসব আবর্জনা কোথা থেকে সংগ্রহ করলেন?
    এরকমভাবে সারার সঙ্গে কেউ বোধহয় কথা বলেনি কক্ষনো। এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়েছিলেন সারা। রাগে তাঁর নাকের পাটা ফুলে উঠেছিল। মিষ্টি বালিকোচিত ডিম্বাকার মুখে রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। কোনমতে নিজেকে সামলে উঠে বললেন, কেন? এর মধ্যে ভুল কী আছে? এইসব তো আপনার দেশের লোকই নিয়ে এসেছে এদেশে। এই যে চিকনের কাজের পোশাক, সেসব হিন্দু ব্যাপারিদের কাছ থেকে সরাসরি কিনেছে আমার লোক।
    সারা যত রেগে উঠেছেন, বিবেকানন্দ ততই ধীর। বোন আমার, প্রথমত কোন ভারতীয় মহিলা এমন ভাবে শাড়ি পড়ে না। ধুতরো ফুলের বিচি খেয়ে গ্রামে গঞ্জে অনেকে আত্মহত্যা করতে পারে, চুলে কোনদিন কাউকে লাগাতে দেখিনি। তবে ঠিকই আছে, নাটকটি তো নেহাতই কাল্পনিক। পোশাক হয়তো তার সঙ্গে মানানসই।
    ইজিয়েল নাটকটি সারার নিজের খুব প্রিয়। ইদানীং সর্বত্র হিন্দুস্তান এবং হিন্দুদের নিয়ে বেশ একটা কৌতূহল তৈরী হয়েছে। সারা সেই কথা মাথায় রেখে এমন একটি বিষয় ফেঁদেছিলেন, অনেক অর্থও ব্যয় করেছেন এর পিছনে। কিন্তু দর্শকের কাছ থেকে এখনো সেরকম সমাদর পায়নি। কোন রকমের ব্যর্থতাই তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন, বিবেকানন্দের কথায় সেই আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ল। রাগে মাথার চুল থেকে ধুতরো ফুল ছুড়ে ফেলে দিলেন। তাঁর পিঙ্গল চোখ অগ্নিবাণ ছুড়ছিল। শাড়ির মত যে আবরণটি শরীরে জড়ানো ছিল সেটিকে একটানে খুলে ফেললেন সারা। নিজেকে ছুড়ে দিলেন রক্তবর্ণ নরম কেদারায়।
    সারার গলায়, বাহুতে, পায়ে ও কোমরে বড় বড় রুদ্রাক্ষের মালা, পরনে একটি বক্ষবন্ধনী এবং গলায় মোটা হার। শাড়ি নামের পোশাকটি কোনমতে ঝুলছে কোমর থেকে। তিনি মুখ সোফায় গুঁজে ফুলে ফুলে কাঁদতে থাকলেন।
    এ তো মহা বিপদ! এমন সামান্য কথায় ইনি যে এরকমভাবে ভেঙে পড়বেন একবারও মনে হয়নি বিবেকানন্দের। তার উপর যেভাবে অর্ধনগ্না হয়ে শুয়ে আছেন, কেউ এলে কী মনে করবে কে জানে। জোজোকে সঙ্গে আনতে পারলে ভাল হত। বলেওছিলেন, সে-ই রাজি হয়নি। বলল, থিয়েটারের পানশালায় বসে অপেক্ষা করবে। বিবেকানন্দ নিজেকে সংযত রেখে দুই পা এগিয়ে সারার মাথায় হাত রাখলেন, বোন আমার! আমি কিন্তু আপনাকে আঘাত করার জন্য কোন কথা বলিনি। আমি সত্যের পূজারী, তাই যেটা আমি মনে করেছি সেটা আপনাকে জানালাম মাত্র। এদেশের নাটক বিষয়ে আমার জ্ঞান সীমিত। আমার মতামতের কী বা মূল্য। আপনার এত বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই।
    সারার জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপ হয়তো এমনই নাটকীয়। মুখ সরিয়ে যখন তাকালেন বিবেকানন্দের দিকে, তখন কান্না কোথায়, উনি তো দুলে দুলে হাসছেন! মুহূর্তে তাঁর মুখটা খুব নরম হয়ে গেল। চোখ রং বদলে আঙুরের রসের মত স্বচ্ছ। স্বামীজি, আপনি কি বুদ্ধার মত সব ইন্দ্রিয় জয় করেছেন? আমি নিশ্চিত সারাকে এই অবস্থায় পেলে যে কোন পুরুষ তার হাত সারার মাথায় রাখত না। আপনি দেবতার অবতার।
    সারার কথায় একটা দৃঢ় বিশ্বাস ফুটে উঠল। কে বলবে একটু আগেই সারা কাঁদছিল কিংবা কান্নার ভান করছিল! বিবেকানন্দও চমৎকৃত হলেন। এই মহিলা তাঁকে পরীক্ষা করছিলেন মাত্র! একটু আগেই মনে মনে নিজেকে দুষছিলেন কেন ডাক শুনে যেচে এই পাগলের পাল্লায় পড়তে এসেছেন। এখন মনে হল যে সত্যিই এক সাহসী আত্মবিশ্বাসী মহিলার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। নিজের দেশে এমন কারো সঙ্গে কোনদিন সাক্ষাৎ হওয়া সম্ভব ছিল না। এমন কি গত তিন বছরে আমেরিকায় বহু মহিলার আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। বস্তুত তাঁর বেদান্তবাদের সাফল্য ও বিস্তারের পিছনে অনেক নারীর অবদান। কিন্তু তাঁদের কারো সঙ্গেই যেন সারাকে মেলানো যায় না। সারা নিজগুণে অনন্যা।
    শুধু আমি নই সারা, প্রতিটি মানুষই তো দেবতার অংশ।
    কোন মানুষ যখন পরম বিশ্বাসের সঙ্গে এমন কথা বলতে পারে, সেটা শ্রোতাকে খুব সহজেই স্পর্শ করে। বিবেকানন্দের কথায় সারা এক মুহূর্ত ভাবলেন, কাপড়টি পুঁটলির মত শরীরে জড়াতে জড়াতে অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন?
    নিশ্চয়। এবার নিশ্চিন্ত হয়ে গুছিয়ে বসলেন বিবেকানন্দ। বেদান্ত কী বলেছে? আমরা বাইরে থেকে যা দেখি, সেটা শুধুই দেখনদারি। ভিতরটা দেখতে পেলে বুঝতাম সবই তো এক। একটা ফুল, পাথর কিংবা ঝরনাধারার পার্থক্য শুধু বহিরঙ্গে। একটা কোমল, একটা কঠিন, আরেকটা বহমান। কিন্তু সেটা ব্রহ্মণেরই বিভিন্ন রূপমাত্র।
    তার মানে আমি কোমল আর আপনি কঠিন। কিন্তু ভিতর থেকে আমরা আসলে এক। মিটিমিটি হাসছিল সারার পিঙ্গল চোখ।
    অবশ্যই। আমার এবং আপনার এই বাইরের রূপ সরিয়ে দিলে যা থাকে তাই ব্রহ্মণ। ব্রহ্মাতেই আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের চেতনা। যার বহিরঙ্গে আছে আমিত্ব, কিন্তু এইভাবেই ব্রহ্মণ বহুর মধ্যে ছড়িয়ে আছেন। একের মধ্যে বহু, বহুর মধ্যে এক।
    সারা বড় বড় চোখ তুলে শুনছিলেন মন দিয়ে।




    এই সময় হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলেন এক ভদ্রলোক। পরনে কালো স্যুট, তার উপরের ওভারকোটে বরফের ছিটেফোঁটা দেখে মনে হয় এখুনি বাইরে থেকে আসছেন। তাঁর ধারালো মুখ, নাক টিয়াপাখির মত টিকাল। সযত্ন চর্চিত গোঁফে দু একটা সাদা ছিটে, দুধারে পেতে আঁচড়ানো মাথার চুলেও সাদার ছোপ। যে বেগে উনি ঢুকেছিলেন, সারাকে আলুথালু অবস্থায় আর একজন পুরুষের সামনে দেখে একদম থমকে গেলেন। কী করবেন বুঝতে না পেরে হাতের টুপিটি মাথায় চড়ালেন আবার।
    সারা একটুও অপ্রতিভ বোধ করেন নি। বরং সাবলীল ভঙ্গিতে কেদারা থেকে উঠে আগন্তুককে বাহুবন্ধনে জড়ালেন। নিকোলাই, তোমার সঙ্গে কি স্বামী বিবেকানন্দের পরিচয় হয়েছে?
    না তো, নিজের বিবশ ভাব কাটিয়ে কোনমতে বললেন নিকোলাই।
    ইনি হচ্ছেন স্বামী বিবেকানন্দ, এক হিন্দু সন্ন্যাসী। আমি এই দেশে পা দিয়েই ওঁর কথা শুনেছি। গত তিন বছর এই দেশে হিন্দুধর্মের প্রচার করছেন।
    বেদান্ত। ভুল শুধরে দিলেন বিবেকানন্দ। তারপর দ্রুত পায়ে উঠে এসে করমর্দন করলেন নিকোলাইয়ের সঙ্গে।
    আমি নিকোলাই টেসলা। আমিও নাম শুনেছি আপনার। কী সৌভাগ্য আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেল।
    জানো নিকোলাই, উনি আজ আমার ইজিয়েল নাটক দেখেছেন। বিবেকানন্দের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি হাসলেন সারা। কিন্তু পছন্দ হয় নি।
    এই রে! সারার নাটক পছন্দ না হলে কিন্তু কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করে তাদের জন্য।
    ইনি সব জয় করেছেন, কিছুতেই ওনাকে টলানো যায় না। আচ্ছা স্বামীজি আপনাকে কখনো কেউ কিছুতেই বিব্রত করতে পারে না?
    পারে তো। অম্লান বদনে বললেন বিবেকানন্দ। পেট ব্যথা – সেটা হলেই আমি বেহাল।
    ঘরের মধ্যে সম্মিলিত হাসি ছড়িয়ে পড়ল।
    পেটের কথা যখন তুললেন, আমি আর নিকোলাই এখন ডিনার করতে ম্যানহাটানের বিখ্যাত রেস্তোঁরা ফ্রঁসঁ টাভার্নে যাচ্ছি। আপনিও আসুন না আমাদের সঙ্গে।
    হ্যাঁ হ্যাঁ আমি যখন দেরি করে এসেছি তখন এই শাস্তিটা তো আমার প্রাপ্যই।
    সারা নিকোলাইইয়ের দিকে চেয়ে ভ্রুভঙ্গি করলেন। নিক, কী কথা বলছো?
    আরে আমি তো মস্করা করছিলাম মাত্র। আসলে উনি তো হিন্দু সন্ন্যাসী, শুনেছি ওঁদের খাবার ব্যাপারে অনেক বাছবিচার থাকে, যত্র তত্র খাওয়ার আমন্ত্রণ ওনাদের করা যায় না।
    সে ব্যাপারে কোন চিন্তা নেই। আমি সেই ধরনের ছুঁৎমার্গী সন্ন্যাসী নই। কিন্তু আজ আমার জন্য এক শিষ্যা অপেক্ষায় রয়েছেন। আমাকে তাঁর বাসায় যেতে হবে। আরও কিছু আমন্ত্রিত আছেন, বেদান্তের আলোচনা হবে।
    কিন্তু স্বামীজি আমাদের বেদান্তের আলোচনাটা তো নিকোলাই এসে ভেস্তে দিল। আপনাকে কথা দিতে হবে যে সারা আপনাকে ডিনারে নিমন্ত্রণ জানাবে, আর আপনি না করতে পারবেন না।
    অবশ্যই। যখন আমার পেটে ব্যথা থাকে না, তখন আমি খেতে খুব ভালবাসি। হো হো করে হাসলেন বিবেকানন্দ। সেই হাসিতে ক্লেদ নেই, কোন অহমিকা নেই। শুধুই শিশুর সারল্য।
    সারা এবং নিকোলাই খুব চমৎকৃত বোধ করছিলেন। এই যুবক সত্যিই সবার থেকে আলাদা। কখনো কখনো মনে হয় অশেষ জ্ঞানী, সাধারণ মানুষের ধয়া ছোঁয়ার বাইরে। আবার পরক্ষণেই এমন ভাবে কথা বলেন যেন এক সরল বালক।
    অসাধারণ এক মানুষ, তাই না নিকোলাই? বিবেকানন্দের বেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেমন আচ্ছন্নের মত শোনাচ্ছিল সারার গলা।
    বিবেকানন্দ লম্বা লম্বা পা চালিয়ে ততক্ষণে পানশালায় এসে গেছেন। জো ম্যাকলয়েড সেখানে বিবেকানন্দের অপেক্ষায়। সে মেয়ে ভাবনায় ডুবে আছে, হাতের পানীয় যেমন কে তেমন পড়েছিল।
    জোজো, আমার অনেকটা দেরি হল কি?
    চমক ভাঙতেই উদ্ভাসিত মুখে তাকাল জো। একঝাঁক ব্লন্ড চুলে আগলে রাখা লম্বাটে মুখে তার ধারাল রোমান নাক এক বিশিষ্টতা দেয়। বিবেকানন্দ কাছে এলেই তাতে যুক্ত হয় এক পরম শক্তিময় দ্যুতি। মনের গ্লানি, দ্বিধাদ্বন্দ কেটে যায় সূর্যকিরণের সামনে ভোরের কুয়াশার মত। তার আয়ত পেস্তা চোখ ঝিকমিক করে ওঠে। কেমন লাগল সারাকে?
    এক মুহূর্ত ভাবলেন বোধহয়। তারপর হাসতে হাসতে বললেন, কুজ্ঝটিকা, প্রহেলিকা, স্বল্পবসনা, মায়াবিনী। তবে আমরা শ্রী রামকৃষ্ণের চ্যালা চামুন্ডারা আদতে মা কালীর সাধক। প্রলোভনে সহজে টসকাই না।
    হাসিতে ঝিকঝিক করে উঠল জোসেফিনের দুই চোখ। বিবেকানন্দকে কৌতুক করতে দেখলেই তার মন কেমন আনন্দে ভরে ওঠে। যতই সাধক হোন, মানুষের শরীর তো। বেদান্ত সোসাইটির প্রতিষ্ঠার জন্য সারা দেশে চরকির মত ঘুরে বেরাচ্ছেন। মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার চিন্তার অন্ত থাকে না। জো বারবার বলে, দেশ থেকে তোমার গুরুভাইদের কাউকে আনিয়ে নাও, একা এত চাপ নিও না। বিবেকানন্দ তাকে নিশ্চিন্ত করেছেন। আমার এখনো অনেক কাজ বাকি, যার জন্য এসব করছি তিনিই আমাকে সুস্থ রাখবেন। তবে আমাকে তো দেশে ফিরতে হবে, তাই শরতকে আসতে বলেছি। সারদানন্দের হাতে বেদান্ত সোসাইটি সঁপে দিয়ে তবে ফিরতে পারব। বিবেকানন্দ দেশে ফিরে যাবেন সেই কথায় মনে মেঘ ঘনিয়ে উঠছিল। কিন্তু সে কথা সরিয়ে জো উঠে দাঁড়াল। মনে আছে তো, আজ বেশ কয়েকজন আসছেন আমাদের ওখানে তোমার মুখে বেদান্তর কথা শুনতে।
    একটা কথা জিজ্ঞেস করবো জোজো? নিজেকেই যেন এই প্রশ্নটা করছেন বিবেকানন্দ। তুমিও তো দেখলে আজ সারাকে। নাটকে দেখলাম উনি কতরকম হিন্দুস্তানি বেশ ভূষণ শরীরে চড়িয়েছিলেন। সব কিছুই আলাদা আলাদাভাবে হিন্দুস্তানের, কিন্তু যেভাবে তার ব্যবহার করেছেন সেটা নেহাতই হাস্যকর।
    কী বলতে চাইছেন বিবেকানন্দ সেটা এখনো জোসেফাইনের বোধগম্য হচ্ছিল না। সেটা ঠিক। কিন্তু একটা দেশের পোশাক সম্বন্ধে এত দূর দেশে বসে কতটুকু বুঝতে পারবে কেউ। এটা পুরোপুরি ওঁরও দোষ নয়।
    ঠিক তাই। এই যে আমি বেদান্তের কিছু কথা বলি, লোকে বক্তৃতা শুনতে আসে। কেউ একবার, কেউ বারবার। কিন্তু এ যেন সমুদ্র তীরে নুড়ি কুড়ানোর মত। সমুদ্রের ব্যাপ্তি, তার আসল সৌন্দর্যের কোন বোধ কি আমি দিতে পারছি? নবীন সন্ন্যাসীর কণ্ঠে সংশয়, যেন আজই তিনি শিকাগোর রাস্তায় পা দিয়েছেন। ধর্ম মহাসভায় এখনো নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন নি। সেইরকম দ্বিধা গলায় বেজে উঠল।
    জোসেফিন বিবেকানন্দের যতটা শিষ্য, ততটাই বন্ধু। সামনে তোমার অনেক কাজ, যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র। আজ যারা নুড়ি কুড়াচ্ছে, তাদের কেউ কেউ কাল সমুদ্রে স্নান করবে। একটা কথা জানো তো? অনেক হিন্দু সন্ন্যাসীই তো এসেছেন এই দেশে, বেদান্তও তোমার রচনা নয়। কিন্তু আমরা এই দেশের লোক ঈশ্বরকে যেমন মানি, তেমনি শ্রদ্ধা করি কাজকে। কর্ম আর ধর্মকে তুমি যেভাবে এক সুতোয় বেঁধেছো সেটা এই দেশের লোকের মর্মে স্পর্শ করতে পেরেছে। যা কিছু হিন্দু, তার প্রতি একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তোমার কথা, তোমার দেখানো রাস্তা হঠাৎ এসে হঠাৎ চলে যাবে না কোথাও। এটা আমাদের ভিতরকার হয়ে যাবে।
    চোখ উৎসাহে জ্বলজ্বল করে উঠল বিবেকানন্দের। তুমি এটা বলছো জোজো?
    বিবেকানন্দ যখন তার দিকে এমন বিশ্বাসের চোখে তাকান, জোসেফাইনের ভিতরটা কেমন টালমাটাল করে ওঠে। মনে থাকে না বিবেকানন্দ সন্ন্যাসী, গভীর বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছুই আশা করতে পারবে না। সারাজীবন। ফিসফিস করে বলল জো, একদম। আমি অন্তর থেকে জানি।


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৭ আগস্ট ২০২১ | ৫১০ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prativa Sarker | ০৯ আগস্ট ২০২১ ০৯:০৮496586
  • ব্রহ্মণ কি ব্রহ্মা, না ব্রহ্ম ?  এখানে একবার তাঁকে ব্রহ্মা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটা কি যথাযথ? 

  • বিশ্বদীপ | 99.185.57.231 | ১১ আগস্ট ২০২১ ০১:৩৩496643
  • ব্রহ্মা নয় ব্রহ্ম। বানান ভুল ছিল। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন